গাজায় মার্কিন ঘাঁটি, নতুন দখলদারিত্বের আশঙ্কা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ১২ ১০:৫১:১১
গাজায় মার্কিন ঘাঁটি, নতুন দখলদারিত্বের আশঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার সীমানায় একটি বড় ধরনের সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইলি অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ‘শরিম’ জানিয়েছে, এই ঘাঁটি নির্মাণে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় হতে পারে। এতে হাজারেরও বেশি সেনা ও ভারী অস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির বরাতে ইরানি গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলকে সরাসরি সহায়তা করার পাশাপাশি এটি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আগ্রাসনের ইঙ্গিত হতে পারে।

শরিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমেরিকার এই ঘাঁটি নির্মাণের ফলে ওয়াশিংটন ইসরাইলি সেনাবাহিনীর সরাসরি সমন্বয় ছাড়াই গাজা অঞ্চলে স্বাধীনভাবে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব কৌশল অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষমতা পাবে। গত সপ্তাহে ইসরাইলের সেনাবাহিনীর সঙ্গে মার্কিন একটি প্রতিনিধি দল সম্ভাব্য স্থানের বিষয়ে আলোচনা করেছে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় চলমান যুদ্ধ ও গণহত্যার কারণে যখন বিশ্বব্যাপী ইসরাইলবিরোধী ক্ষোভ তীব্র হচ্ছে, তখন এই সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের খবর প্রকাশ ইঙ্গিত দেয় যে, ইসরাইল হয়তো আন্তর্জাতিক চাপ এড়িয়ে তার লক্ষ্য পূরণে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহার করছে। তারা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ কার্যত ইসরাইলি দখলদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে আরও দুর্বল করবে।

অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এটি এক দখলদারিত্বকে আরেক দখলদারিত্ব দিয়ে প্রতিস্থাপন করার চেষ্টা মাত্র। ইসরাইলি সেনাদের পরিবর্তে এখন মার্কিন বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে ব্যাহত করবে। হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা মুসা আবু মারজুক আল জাজিরাকে বলেছেন, “আমরা এমন কোনো বাহিনীকে মেনে নিতে পারি না, যা গাজায় দখলদার সেনাবাহিনীর বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।”

উল্লেখ্য, নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব জমা দেয়, যেখানে ‘ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (ISF)’ নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা ছিল। এই বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, কাতার ও মিশরের নেতৃত্বে অন্তত দুই বছর গাজায় অবস্থান করবে বলে প্রস্তাবে বলা হয়। এর ঘোষিত উদ্দেশ্য হলো গাজার পুনর্গঠন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তবে সমালোচকদের মতে, প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো গাজাকে অস্ত্রশূন্য করা এবং প্রতিরোধ আন্দোলনের কাঠামো ধ্বংস করা।

মধ্যপ্রাচ্যের বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজার পাশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ কেবল নিরাপত্তার অংশ নয়; এটি আসলে মার্কিন-ইসরাইলি প্রভাববলয়কে স্থায়ী করার কৌশল। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ইরান, লেবানন ও সিরিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন-ইরান সংঘাতের মঞ্চ তৈরি করবে।

তারা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ মূল সমস্যাগুলো যেমন ইসরাইলি দখলদারিত্ব, যুদ্ধাপরাধের দায়বদ্ধতা এবং ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার পুরোপুরি উপেক্ষা করছে। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, গাজায় মার্কিন সামরিক উপস্থিতি শেষ পর্যন্ত নতুন ধরনের দখলদারিত্বের সূচনা করতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

-রাফসান


চীনের ৫ দফা প্রস্তাব! ইরান যুদ্ধ থামাতে বেইজিং-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক চুক্তি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ২১:২৮:১৭
চীনের ৫ দফা প্রস্তাব! ইরান যুদ্ধ থামাতে বেইজিং-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক চুক্তি
ছবি : সংগৃহীত

রান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ৩২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের শান্তি আলোচনার উদ্যোগের পর এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে এশীয় পরাশক্তি চীন। বেইজিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর পারস্য উপসাগরে শান্তি পুনরুদ্ধারে একটি ‘পাঁচ দফা’ প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে।

শান্তি পুনরুদ্ধারে চীন ও পাকিস্তানের ৫ দফা প্রস্তাব

১. যেকোনো মূল্যে বর্তমান যুদ্ধাবস্থা থামাতে হবে এবং এই সংঘাত যাতে অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

২. ইরানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রেখে যত দ্রুত সম্ভব আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু করতে হবে। এই প্রক্রিয়া সফল করতে চীন ও পাকিস্তান সব পক্ষকে মধ্যস্থতায় সহায়তা করবে।

৩. সাধারণ মানুষ এবং অ-সামরিক স্থাপনা বা লক্ষ্যবস্তুর ওপর যেকোনো ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

৪.বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নৌ-চলাচল পথ নিরাপদ ও বাধাহীন রাখতে হবে।

৫. জাতিসংঘ সনদের মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যাপকভিত্তিক শান্তি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এই শান্তি প্রস্তাব এমন এক সময়ে এল যখন ওদিকে ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি না খুলেই যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। চীন ইরানের অন্যতম বড় অংশীদার হওয়ায় এবং পাকিস্তান ঐতিহাসিকভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায়, এই ‘পাঁচ দফা’ প্রস্তাবকে যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর একটি বড় কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বেইজিংয়ের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা।


এবার ইরাকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৭:৫৪:০৫
এবার ইরাকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা!
ছবি : সংগৃহীত

ইরাকের ভূখণ্ডে এবার সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরে ইরাকের সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থিত সংগঠন পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ইরাকের কৌশলগত বিভিন্ন অবস্থানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে।

পিএমএফ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জুর্ফ আল-নাসর এলাকায় তাদের ‘ব্রিগেড ৪৫’-এর ওপর তিনটি পৃথক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই পশ্চিম আনবার প্রদেশের কারমা এলাকায় ‘ব্রিগেড ৩১’-কে লক্ষ্য করে চতুর্থ হামলাটি পরিচালিত হয়। তবে অত্যন্ত শক্তিশালী এই আক্রমণ সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পিএমএফ মূলত ২০১৪ সালে আইএসআইএস জঙ্গিদের দমনে গঠিত হয়েছিল এবং ২০১৬ সাল থেকে এটি ইরাকের নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর একটি অংশ হিসেবে কাজ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই ইরাকের সরকারি বাহিনীর ওপর এই হামলা নতুন করে যুদ্ধের ডালপালা মেলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসকে লক্ষ্যবস্তু করার অর্থ হলো ওই অঞ্চলে ইরান-পন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্ত ঘাঁটিগুলো গুড়িয়ে দেওয়া। এই ঘটনার পর ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে মার্কিন-ইসরায়েলি এই আগ্রাসন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথে চীন-পাকিস্তান জোট! হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের নাটকীয় পিছুটান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৭:৩১:৪৫
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথে চীন-পাকিস্তান জোট! হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের নাটকীয় পিছুটান?
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোলাজ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের পঞ্চম সপ্তাহে এসে এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের বলেছেন যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও তিনি এই যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস বর্তমানে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, শক্তি প্রয়োগ করে নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার অভিযান তাদের পূর্বনির্ধারিত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের সময়সীমাকে ছাড়িয়ে যাবে। তাই ট্রাম্প এখন সরাসরি প্রণালি খোলার চেয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং নৌবাহিনীকে পুরোপুরি বিধ্বস্ত করার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি মনে করছেন, সামরিকভাবে ইরানকে দুর্বল করার পর কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি প্রায় অচল করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। 'গ্যাসবাডি'র তথ্যমতে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে গ্যাসোলিনের দাম গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আলোচনায় বড় অগ্রগতি হয়েছে, তবে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন—যদি অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি ‘ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’ না করা হয় এবং কোনো শান্তি চুক্তি না হয়, তবে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেলকূপ এবং খার্গ দ্বীপ পুরোপুরি ধ্বংস (Obliterate) করে দেবে।

নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ধারাবাহিক হামলার ফলে তেহরানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা ও আইআরজিসি (IRGC) কমান্ডার নিহত হওয়ায় ওয়াশিংটনের পক্ষে বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে কার্যকর কোনো আলোচনা বা চুক্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এর ফলে তেহরান বড় কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা সমন্বয় করার ক্ষমতাও হারিয়েছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেইজিং সফরে গেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘অর্থবহ আলোচনা’ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে এবং উভয় পক্ষই পাকিস্তানের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, বেইজিং ও ইসলামাবাদ এই পরিস্থিতিতে কৌশলগত যোগাযোগ আরও ‘শক্তিশালী’ করবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় যৌথভাবে কাজ করবে। চীন শুরু থেকেই যুদ্ধে তেহরানকে কোনো সামরিক সহায়তা না দিয়ে বরং বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে।

/আশিক


যুদ্ধ থামাতে যেসব শর্ত দিল ইরান, বাড়ছে উত্তেজনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৫:০৪:৩৮
যুদ্ধ থামাতে যেসব শর্ত দিল ইরান, বাড়ছে উত্তেজনা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক চাপের মুখে ইরানের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জাতীয় ঐক্যের প্রতিফলন এবং এই সংকট মোকাবিলার প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

সোমবার প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে দেশের বর্তমান অবস্থা, জরুরি সেবার ধারাবাহিকতা এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরে, বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জনজীবনে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই পরিস্থিতিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং বলেন, সংকটকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বজায় রাখা এবং জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তার মতে, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং জনসম্পৃক্ততা একসঙ্গে কাজ করলে যুদ্ধকালীন চাপ মোকাবিলা করা সম্ভব।

তিনি আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শুধুমাত্র তখনই, যখন তা ইরানের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং কৌশলগত স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করবে। বাহ্যিক চাপ বা রাজনৈতিক প্রভাবের ভিত্তিতে কোনো আপসের পথ গ্রহণ করা হবে না বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকাও এই বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পায়। প্রেসিডেন্ট তাদের ‘বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধ’কে জাতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য তাদের প্রশংসা করেন।

একই সঙ্গে, গত এক মাস ধরে দেশজুড়ে যে ব্যাপক জনসমর্থন ও ঐক্যের প্রকাশ ঘটেছে, তা তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তার মতে, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ কেবল রাজনৈতিক বার্তাই নয়, বরং একটি শক্তিশালী সামাজিক ভিত্তি তৈরি করে, যা দীর্ঘস্থায়ী সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর।

-রাফসান


যুদ্ধের ধাক্কায় দুবাই-আবুধাবি শেয়ারবাজারে বড় পতন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৪:৫৩:১৮
যুদ্ধের ধাক্কায় দুবাই-আবুধাবি শেয়ারবাজারে বড় পতন
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের ফলে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেয়ারবাজারে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে দুবাই ও আবুধাবির পুঁজিবাজার মিলিয়ে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ বাজারমূল্য হ্রাস পেয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাজারগুলোর মধ্যে ইউএইকে স্থান দিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুবাইয়ের প্রধান সূচক প্রায় ১৬ শতাংশ এবং আবুধাবির সূচক প্রায় ৯ শতাংশ কমেছে। Dubai Financial Market General Index–এর বাজারমূল্য কমেছে প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার, অন্যদিকে বৃহত্তর ADX General Index–এর মূল্য হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

একই সময়ে উপসাগরীয় অন্যান্য বাজারেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কাতার ও বাহরাইনের শেয়ারবাজার যথাক্রমে প্রায় ৪ শতাংশ ও ৭ শতাংশ কমেছে, তবে সৌদি আরব ও ওমানের বাজারে উল্টো প্রবৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যা আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈচিত্র্যের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বাজারেও এই অস্থিরতার প্রতিফলন স্পষ্ট। S&P 500 সূচক একই সময়ে প্রায় ৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর যুদ্ধসংক্রান্ত অনিশ্চিত বার্তা এবং বাজারে অনিশ্চয়তার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

যদিও হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে, ইউএই তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে দেশটির অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে বিবেচিত বিমান ও পর্যটন খাত বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, যার একটি বড় অংশ দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

উল্লেখযোগ্যভাবে, পর্যটন ও ভ্রমণ খাত গত বছর ইউএই অর্থনীতিতে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলার অবদান রেখেছে, যা মোট জিডিপির প্রায় ১৩ শতাংশ। ফলে এই খাতে ধাক্কা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষক হাইথাম আউন মনে করেন, বর্তমান বাজার পতনকে স্থায়ী সংকট হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তার মতে, এটি মূলত বিনিয়োগকারীদের আস্থায় স্বল্পমেয়াদি ধাক্কার প্রতিফলন, যা দীর্ঘমেয়াদে ইউএইর অর্থনৈতিক ভিত্তিকে তেমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।

একইভাবে বারডিন হিকক উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দুবাই ও আবুধাবির বাজারে শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখা যেতে পারে। তার মতে, বাজারের মৌলিক কাঠামো যেমন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, তারল্য এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা অক্ষুণ্ণ রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।

উল্লেখ্য, ইউএই গত কয়েক বছরে অর্থনীতির বৈচিত্র্য আনতে আর্থিক খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো দেশটির তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে, যা মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম পুঁজিবাজার হিসেবে ইউএইকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

সাম্প্রতিক Global Financial Centres Index–এ দুবাইয়ের অবস্থান সপ্তম স্থানে উঠে এসেছে, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে ঘোষিত ১০ বছর মেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় দুবাইকে ২০৩৩ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ চারটি আর্থিক কেন্দ্রের একটি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, বর্তমান পরিস্থিতি ইউএই অর্থনীতির জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এর আর্থিক কাঠামো ও বিনিয়োগ পরিবেশের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

সূত্র: আল জাজিরা


মার্কিন যুদ্ধবিমান ঠেকাতে আকাশ বন্ধ স্পেনের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৪:৪১:৩৩
মার্কিন যুদ্ধবিমান ঠেকাতে আকাশ বন্ধ স্পেনের
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্পেন। দেশটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহার বন্ধ ঘোষণা করেছে, যা ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোবলেস এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নিশ্চিত করেছেন যে, দেশটি শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে ইরান সংশ্লিষ্ট কোনো সামরিক কার্যক্রমে স্পেনের আকাশসীমা কিংবা যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে না। তিনি এই সংঘাতকে ‘গভীরভাবে অবৈধ’ এবং ‘মূলত অন্যায্য’ হিসেবে বর্ণনা করে স্পেনের অবস্থানকে নীতিগত ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করেন।

এর আগে স্পেন সরকার ঘোষণা দিয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র তার সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত সামরিক স্থাপনাগুলোও এই অভিযানে ব্যবহার করতে পারবে না। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই যুদ্ধকে ‘বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেন যে, এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপ বৃহত্তর বৈশ্বিক সংকটের সূচনা ঘটাতে পারে।

স্পেনের এই অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাদ্রিদের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্বিবেচনার হুমকি দিয়েছেন। স্পেনের রোতা ও মোরোন ঘাঁটি ব্যবহার করতে না পারায় যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে ১৫টি সামরিক বিমান প্রত্যাহার করতে হয়েছে, যা অপারেশনাল সক্ষমতায় তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বামপন্থী সরকারের নেতৃত্বে স্পেন ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সরব সমালোচক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সাধারণভাবে উত্তেজনা হ্রাসের আহ্বান জানিয়েছে, সেখানে স্পেন সরাসরি ইরানে সামরিক হামলার বিরোধিতা করে একটি পৃথক অবস্থান গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী সানচেজ পূর্বে সতর্ক করে বলেছেন, মানব ইতিহাসের বড় বড় বিপর্যয় অনেক সময় এই ধরনের সামরিক সিদ্ধান্ত থেকেই শুরু হয়েছে এবং যুদ্ধ কিংবা বোমা হামলা কোনো স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারে না। এই বক্তব্য স্পেনের পররাষ্ট্রনীতির একটি নৈতিক অবস্থানকে প্রতিফলিত করে, যেখানে কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গাজা সংকট নিয়েও স্পেন দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইলের কড়া সমালোচক। গত অক্টোবরে স্প্যানিশ পার্লামেন্ট ইসরাইলের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিলে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় এবং ইসরাইল তার রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করে নেয়।

-রফিক


মধ্যপ্রাচ্যে অসংখ্য মার্কিন প্যারাট্রুপার, ইরানের 'খারগ দ্বীপ' কি দখল করবে যুক্তরাষ্ট্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৪:২৬:৪০
মধ্যপ্রাচ্যে অসংখ্য মার্কিন প্যারাট্রুপার, ইরানের 'খারগ দ্বীপ' কি দখল করবে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই একটি নতুন ও আরও জটিল পর্যায়ে প্রবেশ করছে, যেখানে সামরিক কৌশল, ভূরাজনৈতিক হিসাব এবং শক্তির ভারসাম্য একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত হয়ে পড়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা যখন ধীরে ধীরে তীব্রতর হচ্ছে, ঠিক সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বড় পরিসরের সেনা মোতায়েন পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স–এর বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এলিট সামরিক ইউনিট ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন–এর হাজার হাজার প্যারাট্রুপার মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে শুরু করেছে। উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ থেকে পাঠানো এই বাহিনী মূলত অঞ্চলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা জোরদারের একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

বিশ্লেষকদের মতে, এই মোতায়েন কেবল প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং সম্ভাব্য আক্রমণাত্মক অভিযানের প্রস্তুতির দিকেও ইঙ্গিত দেয়। এর আগে গত ১৮ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে, যা প্রয়োজনে ইরানের ভেতরে স্থল অভিযান চালানোর সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

এই সেনা সমাবেশে শুধু প্যারাট্রুপারই নয়, বরং নৌবাহিনী, মেরিন কর্পস এবং বিশেষ অভিযান বাহিনীর সদস্যরাও যুক্ত হচ্ছেন। ইতোমধ্যে প্রায় ২,৫০০ মেরিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের সদর দপ্তর, একটি ব্রিগেড কমব্যাট টিম এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট ইউনিটও এই মোতায়েনের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এই সেনাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি, যা ইঙ্গিত দেয় যে অপারেশনাল পরিকল্পনাগুলো এখনো সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। যদিও এখনো ইরানে সরাসরি স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবুও এই প্রস্তুতি ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে।

কৌশলগত আলোচনায় উঠে এসেছে কয়েকটি সম্ভাব্য লক্ষ্য, যার মধ্যে অন্যতম হলো ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ। এই দ্বীপটির মাধ্যমে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি সম্পন্ন হয়, ফলে এটি দখল করা গেলে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছে এবং একটি ‘যুক্তিবাদী শাসনব্যবস্থা’র সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানকে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে হবে, অন্যথায় ইরানের তেল অবকাঠামো ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অপারেশন এপিক ফিউরি–এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ১১ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং তিন শতাধিক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যা সংঘাতের তীব্রতা ও ব্যাপ্তি স্পষ্ট করে।

সূত্র: রয়টার্স


তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই টার্গেট! কেন খারগ দ্বীপ দখলের ঝুঁকি নিচ্ছেন ট্রাম্প?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৩:০২:১৩
তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশই টার্গেট! কেন খারগ দ্বীপ দখলের ঝুঁকি নিচ্ছেন ট্রাম্প?
ইরান খারগ দ্বীপে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো জোরদার করেছে। ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সাম্প্রতিক সামরিক ইঙ্গিত বিশ্বরাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। পারস্য উপসাগরের উত্তরে অবস্থিত ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নিতে সেখানে মার্কিন সেনাবাহিনী পাঠানোর বিষয়ে তিনি যে আভাস দিয়েছেন, তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।

দীর্ঘ সময় ধরে এই দ্বীপটি ইরানের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত, কারণ দেশটির মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই এই দ্বীপের ওপর নির্ভরশীল। গভীর জলসীমার সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে এখানে বিশ্বের বৃহত্তম তেলের ট্যাঙ্কারগুলো অনায়াসে ভিড়তে পারে, যা প্রতিটি ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল পরিবহন করতে সক্ষম। এই বিশেষ গুরুত্বের কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন এখন খারগ দ্বীপকে তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে।

এই সামরিক পরিকল্পনার বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজাত ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার প্যারাট্রুপার এবং ৫ হাজার শক্তিশালী নৌ-সেনা (মেরিন) ব্যবহারের জল্পনা চলছে। তাত্ত্বিকভাবে বলা হচ্ছে, মার্কিন কমান্ডোরা রাতের অন্ধকারে আকাশপথে অতর্কিতে হানা দিয়ে মাত্র ২০ বর্গকিলোমিটারের এই ছোট দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। তবে এই অভিযান সহজসাধ্য হবে না, কারণ মার্কিন জাহাজগুলোকে প্রথমেই ইরান নিয়ন্ত্রিত সংকীর্ণ হরমুজ প্রণালির কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

এর পাশাপাশি ইরানের অসংখ্য লুক্কায়িত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রের নজরদারি এড়িয়ে পারস্য উপসাগরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া হবে এক অগ্নিপরীক্ষার মতো। ইতিম্যেধ ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনো মার্কিন বাহিনী সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ চালানো হবে।

বিশেষজ্ঞরা এই সম্ভাব্য অভিযানকে ইউক্রেনের স্নেক আইল্যান্ডের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করছেন। ২০২২ সালে রাশিয়া সেই দ্বীপটি দখল করলেও ইউক্রেনীয় মূল ভূখণ্ড থেকে অবিরাম গোলাবর্ষণের মুখে তা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। একইভাবে, খারগ দ্বীপ দখল করা গেলেও মূল ভূখণ্ড থেকে ধেয়ে আসা তীব্র ইরানি গোলাবর্ষণ অনির্দিষ্টকাল ধরে মোকাবিলা করা পেন্টাগনের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও প্রাণঘাতী হতে পারে।

এছাড়া পারস্য উপসাগরে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ রয়েছে, যেমন লারাক ও কেশম দ্বীপ। এর মধ্যে লারাক দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে অবস্থিত এবং কেশম দ্বীপটি খারগ দ্বীপের চেয়ে প্রায় ৭৫ গুণ বড়, যেখানে ইরান মাটির নিচে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি তৈরি করে রেখেছে বলে ধারণা করা হয়। এই দ্বীপগুলো ইরানের জন্য একটি শক্তিশালী সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করে যা মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম।

পরিশেষে এটি লক্ষ্য করা গুরুত্বপূর্ণ যে, খারগ দ্বীপে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান নিয়ে বর্তমানে এত বেশি আলোচনা হচ্ছে যে, এটি কোনো সুদূরপ্রসারী ধোঁকাবাজি বা ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনার একটি মনস্তাত্ত্বিক কৌশলও হতে পারে। যুদ্ধের এই পঞ্চম সপ্তাহে ট্রাম্প সোমবার আবারও জানিয়েছেন যে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।

অনেকের ধারণা, খোদ ট্রাম্প নিজেই একটি দ্রুত চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন এবং এই সামরিক হুমকিগুলো মূলত সেই চুক্তিতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার জন্য ব্যবহার করছেন। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী স্থল অভিযানের পথ বেছে নেয় নাকি আলোচনার মাধ্যমে কোনো একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

তথ্যসূত্র- বিবিসি


ইসরাইলি সংসদে ফিলিস্তিনিদের ফাঁসি আইন পাস: বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১২:২০:৩২
ইসরাইলি সংসদে ফিলিস্তিনিদের ফাঁসি আইন পাস: বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া!
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের সংসদ নেসেটে সোমবার (৩০ মার্চ) অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার একটি বিতর্কিত আইন পাস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থি মিত্রদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে ৬২-৪৮ ভোটে এই আইনটি পাস হয়। আইনটি পাসের পর কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরকে সংসদ কক্ষে শ্যাম্পেন পান করে উদযাপন করতে দেখা যায়।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই আইন অনুযায়ী অধিকৃত পশ্চিম তীরে কোনো ইসরায়েলিকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের জন্য ফাঁসিই হবে স্বাভাবিক শাস্তি। গাজায় চলমান সামরিক অভিযান এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলার মধ্যেই এই আইনটি পাস হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইসরায়েলের নাগরিক অধিকার সমিতি ইতিমধ্যেই এই আইনের বিরুদ্ধে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে।

ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে অভিহিত করে জানিয়েছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূমির ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। হামাস এই আইনটিকে একটি বিপজ্জনক নজির হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের জীবনকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলবে। গাজা-ভিত্তিক ফিলিস্তিনি মানবাধিকার কেন্দ্র (PCHR) একে ‘আইনের আড়ালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে নিন্দা জানিয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর থেকেও এই বৈষম্যমূলক আইনটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ইসরায়েলের বাধ্যবাধকতাকে চরমভাবে লঙ্ঘন করে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আইন মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে আরও উসকে দেবে এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়নের একটি নতুন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

সূত্র: আল জাজিরা

পাঠকের মতামত: