বিশ্ব পরিচিতি
ফ্রান্স: সভ্যতা, প্রজাতন্ত্র ও মানবমুক্তির দীপ্ত ইতিহাস

ইউরোপের হৃদয়ে অবস্থিত ফ্রান্স কেবল একটি রাষ্ট্র নয়, এটি একটি দর্শন, একটি ধারণা, একটি সাংস্কৃতিক প্রতীক। এটি এমন এক জাতি যার ইতিহাসে জ্বলজ্বল করছে মানবমুক্তি, গণতন্ত্র, দর্শন ও শিল্পের দীপ্তি। প্রাচীন গল জাতির রোমানীকরণ থেকে শুরু করে ফরাসি বিপ্লব, নেপোলিয়নের সাম্রাজ্য, দুই বিশ্বযুদ্ধের উত্তাল ইতিহাস এবং ইউরোপীয় ঐক্যের নির্মাণ—ফ্রান্সের প্রতিটি অধ্যায় মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় এক অবিচ্ছেদ্য মাইলফলক। এই দেশটি যেন এক জীবন্ত জাদুঘর, যেখানে প্রতিটি শহর, প্রতিটি রাস্তাঘাট, প্রতিটি স্থাপত্য মানুষের চিন্তা ও আত্মমর্যাদার ইতিহাস বহন করে।
ভৌগোলিক পরচয় ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য
ফ্রান্স পশ্চিম ইউরোপের বৃহত্তম রাষ্ট্র, যার আয়তন প্রায় ৫৫১,৬৯৫ বর্গকিলোমিটার। উত্তরে ইংলিশ চ্যানেল ও বেলজিয়াম, পূর্বে জার্মানি, লুক্সেমবার্গ ও সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণে ইতালি, স্পেন ও ভূমধ্যসাগর, আর পশ্চিমে বিস্তৃত আটলান্টিক মহাসাগর—এই অবস্থান ফ্রান্সকে ইউরোপের বাণিজ্য ও সংস্কৃতির সংযোগস্থলে পরিণত করেছে।

ছবি- ইউরোপেরমানচিত্রে ফ্রান্স
দেশটির ভূপ্রকৃতি বৈচিত্র্যময় ও মনোমুগ্ধকর। দক্ষিণ-পূর্বে আলপস পর্বতমালা, যেখানে ইউরোপের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মঁ ব্লঁ (মন্ট ব্লাঙ্ক) ৪,৮০৯ মিটার উচ্চতায় রাজসিকভাবে দাঁড়িয়ে আছে। দক্ষিণ-পশ্চিমে পিরেনিজ পর্বতমালা স্পেন সীমান্তকে রক্ষা করছে, আর কেন্দ্রে রয়েছে উর্বর সমভূমি ও নদী অববাহিকা যা কৃষি ও জনজীবনের প্রাণ। সেন, লোয়ার, গারোন ও রোন নদী ফ্রান্সের কৃষি, বাণিজ্য ও পরিবেশ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড।

ছবি-ইউরোপের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মঁ ব্লঁ (মন্ট ব্লাঙ্ক)
ফ্রান্স শুধু ইউরোপীয় মূলভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিভিন্ন “ওভারসিজ টেরিটরি”—যেমন মার্টিনিক, গুয়াডেলুপ, রিইউনিয়ন, নিউ ক্যালেডোনিয়া ও ফরাসি পলিনেশিয়া—যা দেশটিকে একটি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উপস্থিতি প্রদান করেছে।
রাষ্ট্রীয় প্রতীক ও মৌলিক তথ্য
ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় পতাকা তিন রঙের—নীল, সাদা ও লাল। এই ত্রিবর্ণ পতাকা স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শের প্রতীক, যা ১৭৮৯ সালের বিপ্লবের পর রাষ্ট্রীয় চিহ্নে পরিণত হয়।
ছবি-ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় পতাকা
রাষ্ট্রীয় প্রতীক ‘La Marianne’, স্বাধীনতা ও প্রজাতন্ত্রের নারীমূর্ত রূপ, যা ফরাসি জাতিসত্তার প্রতীক হিসেবে সর্বত্র ব্যবহৃত হয়।

ছবি-রাষ্ট্রীয় প্রতীক ‘La Marianne’
রাজধানী প্যারিস, যা শুধু প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, বরং শিল্প, সাহিত্য ও প্রেমের বিশ্বনগরী।ফ্রান্সের সরকারি ভাষা ফরাসি (Français), এবং রাষ্ট্রীয় মুদ্রা ইউরো (€)।দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৬৮ মিলিয়ন (২০২৫), এবং মানব উন্নয়ন সূচকে (HDI ২০২৩) স্কোর ০.৯০৩, যা একে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশের কাতারে স্থান দিয়েছে।বর্তমান রাষ্ট্র কাঠামো একটি আধা-রাষ্ট্রপতি শাসিত প্রজাতন্ত্র, যেখানে রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন এবং প্রধানমন্ত্রী সংসদীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।
ইতিহাস: রাজতন্ত্র থেকে প্রজাতন্ত্রে
ফ্রান্সের ইতিহাস ইউরোপের রাজনৈতিক বিবর্তনের সঙ্গে একীভূত। প্রাচীন গল জাতির ভূমি প্রথম খ্রিস্টপূর্ব শতকে রোমানদের অধীনে আসে। রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর পঞ্চম শতকে ফ্রাঙ্ক জাতি এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করে, যেখান থেকে “France” নামটির উৎপত্তি।
মধ্যযুগে চার্লেম্যাগনের ক্যারোলিঞ্জীয় সাম্রাজ্য ইউরোপের ঐক্যের ধারণা তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে ক্যাপেট ও বোরবোঁ রাজবংশ ফ্রান্সকে রাজতান্ত্রিক শক্তিতে পরিণত করে। কিন্তু ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লব সবকিছু পাল্টে দেয়। রাজা ষোড়শ লুই ও রাণী মেরি আঁতোয়ানেতের পতনের মাধ্যমে রাজতন্ত্র ধ্বংস হয় এবং মানবমুক্তি, সমতা ও গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।
ন্যাপোলিয়ন বোনাপার্ট বিপ্লবের আদর্শকে সামরিক শক্তিতে রূপ দেন। তার নেতৃত্বে ফ্রান্স ইউরোপের বৃহৎ অংশে আধিপত্য বিস্তার করে, তবে ওয়াটারলু যুদ্ধের পর তার পতন ঘটে। তবুও নেপোলিয়নের সংবিধান, প্রশাসনিক সংস্কার ও Napoleonic Code আজও আধুনিক আইনের ভিত্তি হিসেবে টিকে আছে।
১৯শ শতক জুড়ে ফ্রান্স বারবার রাজতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্রের মধ্যে দোলাচলে থেকেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, কিন্তু চার্লস দ্য গল-এর নেতৃত্বে প্রতিরোধ আন্দোলন দেশটিকে পুনরুদ্ধার করে। ১৯৫৮ সালে দ্য গল আধুনিক পঞ্চম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজও বিদ্যমান এবং রাষ্ট্রপতির হাতে শক্তিশালী নির্বাহী ক্ষমতা প্রদান করে।
রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা
বর্তমান ফরাসি শাসনব্যবস্থা একটি আধা-রাষ্ট্রপতি শাসিত গণতন্ত্র, যেখানে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাহী প্রধান। রাষ্ট্রপতি সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন পাঁচ বছরের মেয়াদে। সংসদ দুটি কক্ষ নিয়ে গঠিত—ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি (Assemblée Nationale) এবং সেনেট (Sénat)।
ফ্রান্স প্রশাসনিকভাবে ১৮টি অঞ্চল ও ১০১টি বিভাগে বিভক্ত। বিচারব্যবস্থা স্বাধীন, এবং সাংবিধানিক পরিষদ সংবিধানের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের দায়িত্বে নিয়োজিত।
রাজনৈতিকভাবে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে মধ্য-বাম ও মধ্য-ডানপন্থী চিন্তাধারার দ্বন্দ্বে আবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-এর “La RépubliqueEn Marche” দল একটি প্রগতিশীল ও উদারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে, যা তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে পুনর্নির্মাণ করছে।
অর্থনীতি ও সম্পদ
ফ্রান্স বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম অর্থনৈতিক ভিত্তি। এর অর্থনীতি বৈচিত্র্যময়—শিল্প, কৃষি, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও পর্যটন সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।প্যারিস ইউরোপের অন্যতম আর্থিক কেন্দ্র, যেখানে শত শত বহুজাতিক কোম্পানির সদর দপ্তর অবস্থিত। এয়ারবাস, রেনল্ট, পিউজো, টোটালএনার্জিস, ডাসো, ল’ওরিয়াল, লুই ভিটোঁ, শ্যানেল, ডিওর ও মিশেলিন ফ্রান্সের শিল্পশক্তির প্রতীক।
দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃষি উৎপাদক, বিশেষত শস্য, ফল, সবজি, আঙ্গুর এবং দুগ্ধজাত পণ্য রপ্তানিতে অগ্রগণ্য। ফ্রান্স বিশ্বের শীর্ষ ওয়াইন উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ, এবং “বোর্দো” ও “শ্যাম্পেন” অঞ্চল বৈশ্বিক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।
ফ্রান্সের প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ হলো বক্সাইট, লোহা, ইউরেনিয়াম, কয়লা, লবণ, কাঠ ও মৎস্যসম্পদ। এটি পারমাণবিক শক্তিনির্ভর দেশ, যেখানে বিদ্যুতের ৭০ শতাংশেরও বেশি আসে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে।
মানব উন্নয়ন, শিক্ষা ও জীবনমান
ফ্রান্স মানব উন্নয়ন সূচকে বিশ্বের শীর্ষে। ২০২৩ সালে এর এইচডিআই ০.৯০৩, যা একে “খুব উচ্চ মানব উন্নয়ন” দেশগুলোর মধ্যে স্থান দিয়েছে। গড় আয়ু ৮৩ বছর, এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সর্বজনীন।শিক্ষা বাধ্যতামূলক ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত, এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রায় বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান করে। ফ্রান্সের শিক্ষা ব্যবস্থা “République”–এর আদর্শ অনুযায়ী ধর্মনিরপেক্ষ, যৌক্তিক এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিবেদিত।
বিশ্বখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে Sorbonne University, École Normale Supérieure, Sciences Po, École Polytechnique, HEC Paris, যেগুলো বিশ্বব্যাপী বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব গড়ে তুলছে।

ছবি-Sorbonne University, Paris.
সংস্কৃতি, শিল্প ও ধর্ম
ফ্রান্স এমন একটি দেশ যেখানে সংস্কৃতি রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অংশ। এখানে সাহিত্য, দর্শন, চিত্রকলা, সংগীত, ফ্যাশন ও খাদ্য—সবকিছুই নন্দনতত্ত্ব ও চিন্তার প্রতীক।
ফরাসি সাহিত্য ও দর্শন মানব সভ্যতার বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে। ভলতেয়ার, রুশো, দিদরো, সার্ত্র, সিমোন দ্য বোভোয়ার, ফুকো, দেরিদা—এই বুদ্ধিজীবীরা মানুষের স্বাধীনতা, নৈতিকতা ও সমাজচিন্তার ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।
ফ্রান্সের শিল্পের রাজধানী প্যারিস, যেখানে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাদুঘর লুভর। ফ্যাশনে প্যারিস ফ্যাশন উইক, খাদ্যে ফরাসি কুইজিন, সংগীতে এডিথ পিয়াফ ও ডেবুসি—সবই দেশের সাংস্কৃতিক প্রতীক।
ধর্মের ক্ষেত্রে ফ্রান্স কঠোরভাবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র (Laïcité)। নাগরিকদের প্রায় ৬৩ শতাংশ রোমান ক্যাথলিক, ৯ শতাংশ মুসলমান, ১ শতাংশ ইহুদি ও বৌদ্ধ, এবং বাকি জনগোষ্ঠী নির্ধর্মীয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মৌলিক নীতির অংশ।
সামরিক শক্তি ও বৈশ্বিক ভূমিকা
ফ্রান্স ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক রাষ্ট্র এবং বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম প্রতিরক্ষা বাজেটধারী দেশ। এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার (Force de Frappe) রয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার মেরুদণ্ড।
ফরাসি সেনাবাহিনী আধুনিক প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট গোয়েন্দা ব্যবস্থা, বিমানবাহী রণতরী Charles de Gaulle, এবং বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা অভিযানে সক্রিয় উপস্থিতির জন্য বিখ্যাত। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে ফ্রান্স আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পর্যটন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য
ফ্রান্স বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভ্রমণকৃত দেশ। প্রতি বছর প্রায় ৯ কোটি পর্যটক এখানে আসেন। আইফেল টাওয়ার, লুভর মিউজিয়াম, নটরডেম ক্যাথেড্রাল, আর্ক দ্য ত্রিয়ঁফ, শঁজেলিজে, মনমার্ত্র, এবং ভার্সাই প্রাসাদ—এই প্রতিটি স্থাপনা শুধু স্থাপত্য নয়, ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।

ছবি- বিশ্ব বিখ্যাতলুভর মিউজিয়াম

ছবি-নটরডেম ক্যাথেড্রাল
দক্ষিণ ফ্রান্সের ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা, আলপসের স্কি রিসোর্ট, বোর্দো ও বুরগুন্ডির আঙ্গুরক্ষেত, নর্মান্ডির উপকূল এবং প্রোভঁস অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফ্রান্সকে পৃথিবীর অন্যতম রোমান্টিক ও বৈচিত্র্যময় পর্যটন স্বর্গে পরিণত করেছে।
ছব-ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা
পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সদস্যপদ
ফ্রান্স আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম স্তম্ভ। এটি জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো, জি-৭, ওআইসিডি, ডব্লিউটিও, ফ্রান্সোফনি, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সদস্য।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রনীতি “স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও বহুপাক্ষিক কূটনীতি”-র ভিত্তিতে পরিচালিত। এটি আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় শান্তিরক্ষা মিশনে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফ্রান্স ও জার্মানি একত্রে নীতিনির্ধারণের প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করে।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বর্তমান ফ্রান্স একাধিক জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি—অভিবাসন সমস্যা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও ইসলামফোবিয়া বিতর্ক, অর্থনৈতিক বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও ইউরোপীয় রাজনীতির নতুন ভারসাম্য। সামাজিক অসন্তোষ ও “Yellow Vest Movement” অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।
তবুও ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। এটি একটি উদ্ভাবনী ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ, যেখানে গবেষণা, প্রযুক্তি, সবুজ শক্তি ও সংস্কৃতি একসঙ্গে অগ্রগতি ঘটাচ্ছে। “France 2030” কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী দেশটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে বিশ্ব নেতৃত্ব অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে।
ফ্রান্স হলো স্বাধীনতার প্রতীক, মানবমুক্তির দিশারী এবং সভ্যতার আলোকবর্তিকা। এটি এমন এক দেশ, যেখানে রাজনীতির সঙ্গে দর্শন, বিজ্ঞানের সঙ্গে শিল্প, এবং স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ববোধ সমানভাবে বিকশিত হয়েছে। আজও ফ্রান্স পৃথিবীকে মনে করিয়ে দেয় যে, একটি জাতির সত্যিকারের শক্তি তার অস্ত্রে নয়, বরং তার চিন্তা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধে নিহিত।
টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টা মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তদন্তে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলাকারীদের মূল টার্গেট টাইগার ছিলেন না; মূলত অন্য এক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে তারা মুম্বাইয়ে প্রবেশ করেছিল।
পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্যে জানা যায়, বিহারের ২২ বছর বয়সী হৃতিক ওরফে রোশন এবং হরিয়ানার ১৮ বছর বয়সী রেহান ও ফুল সিং নামের তিন তরুণ গত রোববার সন্ধ্যায় জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়িতে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। ফুটবল খেলে ফেরার পথে অভিনেতার গাড়ি লক্ষ্য করে এই হামলা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, প্রধান টার্গেটের নাগাল না পাওয়ায় এবং ইনস্টাগ্রাম রিল ও ভক্তদের ভিডিওর মাধ্যমে টাইগার শ্রফের চলাফেরার তথ্য ও পুলিশি নিরাপত্তার অভাব দেখে তারা তাকেই সহজ লক্ষ্যবস্তু বানায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল অভিনেতাকে হত্যা করে বলিউডে ত্রাস সৃষ্টি করা।
হামলার সময় টাইগার ও তার গাড়িচালককে লক্ষ্য করে মোট সাত রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। তবে অস্ত্রের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে হামলাকারীরা পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি এবং আহত অবস্থাতেই অভিনেতা নিরাপদে স্থান ত্যাগ করেন।
এদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্য অনিল পণ্ডিতের পাঠানো একটি অডিও বার্তার মাধ্যমে এই ঘটনার দায় স্বীকার করা হয়। ওই বার্তায় দাবি করা হয়, সালমান খানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে নিষেধ করা হলেও টাইগার তা না মানায় তাকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্র শিল্পে সালমান খানের সঙ্গে কাজ চালিয়ে গেলে বা তাদের নির্দেশনা অমান্য করলে পরিণাম যে কী হতে পারে, তার চূড়ান্ত হুশিয়ারিও দেওয়া হয়।
তদন্তে আরও জানা যায়, এই মিশনে অংশ নেওয়ার জন্য হামলাকারীদের অগ্রিম ৫০ হাজার রুপি দেওয়া হয়েছিল এবং কাজ শেষে আরও অর্থের পাশাপাশি বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। অপারেশন শেষে তারা তাদের মূল নিয়ন্ত্রকদের মিশন সফল হওয়ার খবরও জানায়। এদিকে ঘটনার পর গত সোমবার টাইগার শ্রফের বাসভবনে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মুম্বাইয়ে কোনো ধরনের গুণ্ডামি বরদাস্ত করা হবে না এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
/আশিক
সৌদি আরবের সুরক্ষায় এবার যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সৌদি আরবের নগরী এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় যুক্তরাজ্য রাজকীয় বিমানবাহিনীর টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ব্রিটিশ সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, রয়্যাল এয়ারফোর্সের এই টাইফুন ফাইটার জেটগুলো কেবল সৌদি আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কাজেই ব্যবহৃত হবে। ইয়েমেনের ভেতরে গিয়ে কোনো আক্রমণাত্মক হামলায় এসব বিমান অংশ নেবে না। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হুথিদের হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য তার পূর্ব বিদ্যমান আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ বাড়ালো।
গত জুলাই মাস থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ও হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করে, যখন সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের এক ফ্লাইট অবতরণের সময় সৌদি জোট হামলা চালায়। এর জবাবে হুথিরা লোহিত সাগরে সৌদি সামরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধের হুমকি দেয়ার পাশাপাশি সৌদি ভূখণ্ডে হামলার পরিধি বাড়ায়। একদিকে সমুদ্রপথে অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে হুথিদের এই আক্রমণাত্বক অবস্থান, অন্যদিকে ইয়েমেনের ভেতরে স্থানীয় সরকারি বাহিনীর সাথে হুথিদের ভূখণ্ড দখলের তীব্র লড়াই—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই অঞ্চলে সংঘাত এখন আরও জটিল রূপ নিয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
ফ্রান্সের মতো ঋণসংকটে কি পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? উদ্বেগে বিশ্ব অর্থনীতি
ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ, চড়া সুদের হার এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে গভীর অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি ফ্রান্স। জিডিপির প্রায় ১১৯ শতাংশে পৌঁছানো ঋণ ও ৫.৪ শতাংশ বাজেট ঘাটতি কাটাতে দেশটির অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার অক্ষমতা যখন পুরো পশ্চিমা বিশ্বকে ভাবিয়ে তুলছে, ঠিক তখনই প্রশ্ন উঠেছে—বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রও কি একই ধরনের ভয়াবহ ঋণসংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে?
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, জি৭ ভুক্ত দেশগুলোর সরকারি বন্ডের সুদের হার দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং চলতি দশকের শেষে তাদের সম্মিলিত ঋণ জিডিপিকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ ইতিমধ্যেই ৩২ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছেছে এবং বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ কোটি ডলারে, যেখানে কর রাজস্বের প্রতি ৭ ডলারের ১ ডলারই চলে যাচ্ছে ঋণের সুদ মেটাতে। তবুও মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সি বা রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে আধিপত্য, শক্তিশালী আইনি কাঠামো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধির বদৌলতে যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্সের চেয়ে তুলনামূলক নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
তবে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত সরাসরি সংকট এড়িয়ে চললেও দেশটির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আগামী বছর ঋণসীমা (Debt Ceiling) বাড়ানো নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও কংগ্রেসের সম্ভাব্য মতবিরোধ নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে। অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্ডির মতে, ঋণসীমা সময়মতো না বাড়ানো হলে অর্থ থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম ঋণখেলাপির মতো মারাত্মক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ফলে ফ্রান্সের বাজেট সংকট যেমন ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত ঋণবৃদ্ধি ও রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে দীর্ঘমেয়াদে মার্কিন অর্থনীতির স্থিতিশীলতাও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: সিএনএন
ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর জেরে নতুন বিতর্ক, মুখ খুলল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
পবিত্র মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তার সিঁথির দণ্ড কার্যকরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটিতে মক্কার পবিত্র কাবার হাজরে আসওয়াত (কালো পাথর) চুম্বনের সময় এক পুরুষকে এক নারীর মাথায় ধাক্কা দিতে দেখা যায় এবং দাবি করা হয় যে এটিই সেই দণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির অপরাধের দৃশ্য। তবে এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে সৌদির দুই পবিত্র মসজিদ (মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববী) পরিচালনা কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুই পবিত্র মসজিদ কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় স্পষ্ট জানানো হয়, সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সংবলিত তথ্যটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং এটি ওই বাংলাদেশিদের মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত সংবাদের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত বা কোনো ধরনের প্রামাণ্য দলিল নয়। এর আগে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে মসজিদের ভেতর ‘অনৈতিক কাজ’ করার অভিযোগে তাদের দণ্ড কার্যকরের তথ্য জানালেও, ঠিক কোন স্থানে কিংবা কবে এই ঘটনা ঘটেছিল—সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি থাকা নজরুলের পরিবারের অভিযোগ, প্রতি সপ্তাহে একদিন পরিবারকে ফোন করার সুযোগ পেলেও বিচারের সঠিক ধাপ কিংবা ফাঁসির আগাম কোনো তথ্য তাঁদের জানানো হয়নি। আকস্মিকভাবে দণ্ড কার্যকরের খবরে পরিবারটি শোকাহত হলেও, ইন্টারনেটে ভুয়া ও অপপ্রচারের মাধ্যমে ছবি-ভিডিও ছড়ানোর ফলে প্রবাসীদের প্রকৃত আইনি পরিস্থিতি ও সত্যতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: খালিজ টাইমস
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মাঝে ইসলামাবাদে মধ্যস্থতা, উচ্চপর্যায়ের দল নিয়ে তেহরানে আসিম মুনির
পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনা ও আঞ্চলিক সংকট নিরসনে কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা শক্তিশালী করতে এক উচ্চপর্যায়ের সামরিক প্রতিনিধি দল নিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ ও তাসনিম নিউজের যৌথ প্রতিবেদনে শীর্ষ এই পাক সামরিক কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থাগুলোর বরাতে জানা যায়, তেহরান সফরকালে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক ও শীর্ষ রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। এসব উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা প্রশমন, সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধান সূত্র উদ্ভাবন এবং সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নিবিড় আলোচনা হবে।
চলমান মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের পটভূমিতে ইসলামাবাদ শুরু থেকেই উভয় পক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও নিবিড় যোগাযোগ বজায় রেখে দুই চিরবৈরী দেশের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করে আসছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসিম মুনিরের এই জরুরি ও অপ্রত্যাশিত তেহরান সফর আঞ্চলিক রক্তক্ষয়ী সংঘাত এড়ানো ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখতে পারে।
সূত্র: আল-জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যে হামলা বাড়ার আশঙ্কা: ১২ দেশে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরান ও দেশটির সমর্থিত মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় অঞ্চলসহ মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোতে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ওমানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো থেকে আলাদা আলাদা বার্তা প্রকাশ করে নিজ নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আকাশসীমা বন্ধ, আকস্মিক বিমান ফ্লাইট বাতিল এবং সার্বিক যাতায়াত ব্যবস্থায় চরম বিঘ্ন ঘটার মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে হুশিয়ার করা হয়েছে।
তুর্কিভিত্তিক আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সংঘাত দ্রুত সীমানা পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত এবং এ অঞ্চলে সফরের পরিকল্পনা করা মার্কিন নাগরিকদের আগাম বিকল্প ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইউএই ও সৌদি আরবের মার্কিন দূতাবাসের বার্তায় উল্লেখ করা হয়, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সম্প্রতি রিয়াদসহ সৌদি আরবের বেসামরিক বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, যাতে প্রাণহানির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চলাচলে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। সংঘাতের তীব্রতা অতি দ্রুত আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বিদেশে মার্কিন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাকে টার্গেট করা হতে পারে বলে ওয়াশিংটন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার জবাবে হুথিরা তেল স্থাপনা ও মূল অবকাঠামোতে পাল্টা আঘাতের হুমকি দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে রূপ নিয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হওয়ার মুখে মার্কিন নাগরিকদের কনস্যুলার অ্যারফেয়ার্স ব্যুরো ও বিমান সংস্থার হালনাগাদ তথ্যের ওপর নজর রাখতে সতর্ক করা হয়েছে।
সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি
আমাদেরও অসম্পূর্ণ কাজ রয়েছে: ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর নতুন হুমকির কড়া জবাব ইরানের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নতুন হুংকারকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের শঙ্কা তীব্র হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের "খুব শীঘ্রই কাজ শেষ করে দেওয়ার" হুঁশিয়ারি এবং ওয়াশিংটনের সাহায্য ছাড়াই ইসরায়েলের একলা আক্রমণের প্রস্তুতির কথা প্রকাশের পর তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে ভূরাজনৈতিক টানাপড়েন চরম সীমায় পৌঁছেছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো নিজ নাগরিকদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর এই সামরিক বার্তার কড়া জবাব দিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যকে লক্ষ্য করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, "আমাদেরও কিছু কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে" এবং ডেনাল্ড ট্রাম্পকে আবারও ভাগ্য পরীক্ষা না করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে নিজের রাজনৈতিক সংকট ও কারাদণ্ড এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে জোর করে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে টেনে আনার অভিযোগ এনেছেন আরাগচি।
অন্যদিকে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ও আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, যেকোনো নতুন আগ্রাসনের ক্ষেত্রে সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ও সামুদ্রিক তথ্যপ্রযুক্তি নেটওয়ার্কে সমন্বিত পাল্টা আঘাত হানা হবে।
সামরিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত থাকলেও আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ২৭ অক্টোবরের ইসরায়েলি নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার টেবিল বজায় থাকবে নাকি দুর্ঘটনাবশত নতুন এক পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা হবে—তা নিয়ে গভীর চিন্তায় রয়েছেন বৈশ্বিক রাজনীতি ও সামরিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি ব্লক বা সচল রাখার ওপর বিশ্ববাজারের তেলের সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে দখলকৃত ভূখণ্ড পুড়িয়ে ছাই করার হুমকি আইআরজিসির
ইরানের কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর শত্রুপক্ষ যেকোনো ধরনের হামলা চালালে তার চরম জবাবে দখলকৃত ভূখণ্ডকে পুড়িয়ে চিরতরে ছাই করে দেওয়ার নজিরবিহীন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির পরাক্রমশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরোধ লড়াইয়ের মুখে দখলদারদের সিনাই মরুভূমিতে উদ্বাস্তু হতে হবে বলেও চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাহিনীটির মুখপাত্র।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের বরাত দিয়ে পার্সটুডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় এই বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
বার্তায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহেব্বি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উল্লেখ করেন, ইরানের জাতীয় জ্বালানি কাঠামোর ওপর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত আক্রমণ হলে দেশটির প্রতিভাবান তরুণ বিজ্ঞানীরা অতি দ্রুত তা পুনর্নির্মাণ ও সচল করতে সক্ষম হবেন। কিন্তু ইরানের ওপর হামলার কোনো দুঃসাহস দেখালে তার পাল্টা জবাবে দখলকৃত সমগ্র অঞ্চলকে পোড়ামাটিতে পরিণত করা হবে এবং শত্রুদের সেখান থেকে পালিয়ে সিনাই মরুভূমিতে গিয়ে আশ্রয় ও উদ্বাস্তু জীবন বেছে নিতে হবে। পরিশেষে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, "বিশ্ব খুব শিগগিরই দেখতে পাবে, প্রকৃতপক্ষে কী ঘটতে যাচ্ছে।"
/আশিক
হরমুজ প্রণালি কি আবার খুলে যাচ্ছে? শর্ত সাপেক্ষে তেহরানের নতুন বার্তা
বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম প্রধান লাইফলাইন এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে নতুন কূটনৈতিক শর্ত ও টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) ইরাকের বাগদাদে এক ধর্মীয় সম্মেলনে যোগ দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেওয়া শর্ত ও কথা মেনে চললে মাত্র ছয় থেকে সাত দিনের মধ্যেই এই জলপথ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব। গত সেপ্টেম্বরে দুই পক্ষের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর ওয়াশিংটনের কাছে এই বিশেষ প্রস্তাব পেশ করেছিল তেহরান।
মার্কিন প্রশাসন সম্প্রতি ওই প্রস্তাবের জবাবে কিছু মতামত পাঠালেও মূল আলোচনা মূলত হোয়াইট হাউসের পূর্বশর্তের কারণে থমকে রয়েছে। ইরানের স্পষ্ট দাবি, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আগে ইরানি বন্দর ও তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত মার্কিন একতরফা অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধ করতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই অবস্থান থেকে সরে এসে আগে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানোর ওপর জোর দিচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে গত আট মাস ধরে চলা এই সংকটের অবসান ঘটাতে হলে ইরানকে পারমাণবিক বিষয়ে বড় ছাড় দিতে হবে।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের বাণিজ্যিক চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে মারাত্মক অস্থিরতা তৈরি করেছে। তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন তাদের দাবি মেনে নিলে প্রস্তাবিত ৭ দিনের সময়সীমার মধ্যেই জলপথ সচল করা এবং পরের দিনই বৈঠকে বসা সম্ভব, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই পরাশক্তির অনড় অবস্থানের কারণে অচলাবস্থা কাটেনি।
সূত্র: রয়টার্স
পাঠকের মতামত:
- খুলনার তেরখাদায় বিএনপির দুই পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
- জরুরি সংস্কারকাজের কারণে বুধবার বন্ধ থাকছে বেশ কিছু এলাকার গ্যাস সরবরাহ
- টাইগার শ্রফকে হত্যাচেষ্টা মামলায় চাঞ্চল্যকর মোড়
- বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দরপতন: কেমন আছে স্বর্ণ ও রুপার বাজার?
- সৌদি আরবের সুরক্ষায় এবার যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য
- সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুদণ্ড: আইনি দিক ব্যাখ্যার ইঙ্গিত আইনমন্ত্রীর
- সীমান্তের ওপার থেকে অর্থ জোগানের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর
- রোনালদোর জরিমানা মেটাতে লাগবে মোটে ৪০ সেকেন্ড!
- অনলাইনে আবেদন করলেও মিলবে না ভোটার নিবন্ধন, যা করতে হবে
- পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
- ফ্রান্সের মতো ঋণসংকটে কি পড়তে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র? উদ্বেগে বিশ্ব অর্থনীতি
- পুলিশ অফিসার্স হাউজিংয়ে ডিজে পার্টির আড়ালে মাদকের আসর, গাড়ি জব্দসহ ব্যাপক আটক
- ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানোর জেরে নতুন বিতর্ক, মুখ খুলল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ
- রাজশাহীর প্রায় ৩৯ হাজার আখচাষীকে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত পুরস্কার ঘোষণার চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারিত
- যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মাঝে ইসলামাবাদে মধ্যস্থতা, উচ্চপর্যায়ের দল নিয়ে তেহরানে আসিম মুনির
- আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাতের অস্থিরতায় বৈশ্বিক মূল্যবান ধাতুর বাজারে নতুন দরপতন
- ইশরাকের উদ্যোগ ভালো হলেও হাতে অস্ত্র নেওয়া ঠিক হয়নি: ভোলায় স্পিকার মেজর হাফিজ
- প্রবাসে এক যুবকের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি ঘিরে গ্রামের বাড়িতে শোক ও চরম হাহাকার
- বিরোধিতা করতে গিয়ে স্বৈরাচার ফিরিয়ে আনা শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- আগামীকাল উত্তরাঞ্চল ও বন্দরনগরী চষে বেড়াবেন দেশের প্রধান নির্বাহী
- আগামীকাল উত্তরাঞ্চল ও বন্দরনগরী চষে বেড়াবেন দেশের প্রধান নির্বাহী
- জ্বালানি খাতই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, দ্রুত স্থিতিশীলতার আশ্বাস অর্থমন্ত্রী আমির খসরুর
- ওমানে ইতিহাস গড়া ম্যাচ: আফগানিস্তান যুব দলের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ড্র বাংলাদেশের
- মধ্যপ্রাচ্যে হামলা বাড়ার আশঙ্কা: ১২ দেশে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি যুক্তরাষ্ট্রের
- আমাদেরও অসম্পূর্ণ কাজ রয়েছে: ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর নতুন হুমকির কড়া জবাব ইরানের
- বলিউডের জনপ্রিয় তারকার ওপর হামলার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ও বড় ধরনের সাফল্য
- বিশ্বজুড়ে সংঘাতের মাঝে বাংলাদেশে সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত দুর্গাপূজা: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
- শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে ভিসামুক্ত ভ্রমণ: ৩৫টি দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা
- গেমিং দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আসর বসতে চলেছে আগামী মাসেই
- স্থানীয় সরকারের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন
- সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে অর্থ বিভাগের অতি জরুরি প্রজ্ঞাপন
- আন্তর্জাতিক ত্রিদেশীয় ক্রিকেটে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে নজিরবিহীন সমীকরণের মুখে জাতীয় দল
- সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও পবিত্র স্থানের সুরক্ষায় আপস নয়: পাকিস্তান সেনাবাহিনী
- ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা ও নিরাপদ উপাসনা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব: সালাহউদ্দিন আহমদ
- জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে দখলকৃত ভূখণ্ড পুড়িয়ে ছাই করার হুমকি আইআরজিসির
- বিশ্ব অর্থনীতির নীতিনির্ধারকদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে গতিশীল মূল্যবান ধাতুর বাজার
- প্রশাসনিক দায়িত্ব ছাড়লেও সামাজিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার ঘোষণা শীর্ষ নেতার
- প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- হরমুজ প্রণালি কি আবার খুলে যাচ্ছে? শর্ত সাপেক্ষে তেহরানের নতুন বার্তা
- অক্টোবরের বাকি দিনগুলোতে রাতের আকাশে ওরিওনিড উল্কাবৃষ্টি ও হান্টার্স মুনের মেলা
- ইউরোপজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষোভ: মিলানে সংঘর্ষ, লিসবনে তাঁবু ফেলে বিক্ষোভ
- পুতিনের পক্ষ নিলে যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক ভুল করবে: সতর্ক করলেন জেলেনস্কি
- সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের জটিলতার অবসান, প্রকাশ্যে নতুন ডিজিটাল টুলস
- রাজধানী ঢাকার প্রশাসনিক মানচিত্রে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের বড় সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায়
- মেধা বিকাশে নতুন উদ্যোগ: এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ দেবে সরকার
- মিথ্যা তথ্য দিয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে সাইমা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে চার্জশিট
- হুথি হামলার মুখে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত মিশর: প্রেসিডেন্ট সিসি
- এআই ভুয়া আইডি ও গুজব রুখতে সাধারণদের জন্য বিনামূল্যে ভেরিফায়েড ব্যাজ আনছে ফেসবুক
- জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে বিএনপি: জামায়াত আমির
- নেপালি পর্যটকদের সরাসরি কক্সবাজার ভ্রমণে নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা
- বৈশ্বিক এক মঞ্চে আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন রূপরেখা তুলে ধরল ঢাকা
- আসন্ন আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের আগে বাংলাদেশ শিবির নিয়ে বড় আপডেট
- এক হাতে পিস্তল ও অন্য হাতে মাইক নিয়ে ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী ধাওয়া
- বিশ্ববাজারে টানা তৃতীয় সেশনে কমল স্বর্ণের দাম
- টিকটকের মোহে নতুন জীবনের খোঁজে ঘর ছেড়েছিল চার স্কুলছাত্রী
- সৌদি আরবে হামলায় ইরাকি ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী
- সিকা সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করল বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল
- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে নতুন কমিটি গঠন সরকারের
- অস্ট্রেলিয়ান টি-টোয়েন্টি লিগে খেলার সুসংবাদ পেলেন বাংলাদেশি ক্রিকেটার
- ইরানে নতুন করে হামলা চালানো এখন উপযুক্ত নয়: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
- দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে: রুহুল কবির রিজভী
- শেখ হাসিনা ও বেনজীর আহমেদের বিষয়ে যৌথ তদন্ত দলের কার্যক্রম অব্যাহত
- জাহাজে হামলার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরও বৃদ্ধি
- সীমান্ত এলাকায় মাদক নিয়ে লেখালেখির জেরে সাংবাদিক খুন








