বিশ্ব পরিচিতি

ফ্রান্স: সভ্যতা, প্রজাতন্ত্র ও মানবমুক্তির দীপ্ত ইতিহাস

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ১৯ ১২:৩৭:৫৩
ফ্রান্স: সভ্যতা, প্রজাতন্ত্র ও মানবমুক্তির দীপ্ত ইতিহাস
প্যারিসের সৌন্দর্যের মাঝে আইফেল টাওয়ার।

ইউরোপের হৃদয়ে অবস্থিত ফ্রান্স কেবল একটি রাষ্ট্র নয়, এটি একটি দর্শন, একটি ধারণা, একটি সাংস্কৃতিক প্রতীক। এটি এমন এক জাতি যার ইতিহাসে জ্বলজ্বল করছে মানবমুক্তি, গণতন্ত্র, দর্শন ও শিল্পের দীপ্তি। প্রাচীন গল জাতির রোমানীকরণ থেকে শুরু করে ফরাসি বিপ্লব, নেপোলিয়নের সাম্রাজ্য, দুই বিশ্বযুদ্ধের উত্তাল ইতিহাস এবং ইউরোপীয় ঐক্যের নির্মাণফ্রান্সের প্রতিটি অধ্যায় মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় এক অবিচ্ছেদ্য মাইলফলক। এই দেশটি যেন এক জীবন্ত জাদুঘর, যেখানে প্রতিটি শহর, প্রতিটি রাস্তাঘাট, প্রতিটি স্থাপত্য মানুষের চিন্তা ও আত্মমর্যাদার ইতিহাস বহন করে।

ভৌগোলিক পরচয় ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য

ফ্রান্স পশ্চিম ইউরোপের বৃহত্তম রাষ্ট্র, যার আয়তন প্রায় ৫৫১,৬৯৫ বর্গকিলোমিটার। উত্তরে ইংলিশ চ্যানেল ও বেলজিয়াম, পূর্বে জার্মানি, লুক্সেমবার্গ ও সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণে ইতালি, স্পেন ও ভূমধ্যসাগর, আর পশ্চিমে বিস্তৃত আটলান্টিক মহাসাগরএই অবস্থান ফ্রান্সকে ইউরোপের বাণিজ্য ও সংস্কৃতির সংযোগস্থলে পরিণত করেছে।

ছবি- ইউরোপেরমানচিত্রে ফ্রান্স

দেশটির ভূপ্রকৃতি বৈচিত্র্যময় ও মনোমুগ্ধকর। দক্ষিণ-পূর্বে আলপস পর্বতমালা, যেখানে ইউরোপের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মঁ ব্লঁ (মন্ট ব্লাঙ্ক) ৪,৮০৯ মিটার উচ্চতায় রাজসিকভাবে দাঁড়িয়ে আছে। দক্ষিণ-পশ্চিমে পিরেনিজ পর্বতমালা স্পেন সীমান্তকে রক্ষা করছে, আর কেন্দ্রে রয়েছে উর্বর সমভূমি ও নদী অববাহিকা যা কৃষি ও জনজীবনের প্রাণ। সেন, লোয়ার, গারোন ও রোন নদী ফ্রান্সের কৃষি, বাণিজ্য ও পরিবেশ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড।

ছবি-ইউরোপের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মঁ ব্লঁ (মন্ট ব্লাঙ্ক)

ফ্রান্স শুধু ইউরোপীয় মূলভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বিভিন্ন “ওভারসিজ টেরিটরি”—যেমন মার্টিনিক, গুয়াডেলুপ, রিইউনিয়ন, নিউ ক্যালেডোনিয়া ও ফরাসি পলিনেশিয়াযা দেশটিকে একটি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উপস্থিতি প্রদান করেছে।

রাষ্ট্রীয় প্রতীক ও মৌলিক তথ্য

ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় পতাকা তিন রঙেরনীল, সাদা ও লাল। এই ত্রিবর্ণ পতাকা স্বাধীনতা, সমতা ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শের প্রতীক, যা ১৭৮৯ সালের বিপ্লবের পর রাষ্ট্রীয় চিহ্নে পরিণত হয়।

ছবি-ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় পতাকা

রাষ্ট্রীয় প্রতীক ‘La Marianne’, স্বাধীনতা ও প্রজাতন্ত্রের নারীমূর্ত রূপ, যা ফরাসি জাতিসত্তার প্রতীক হিসেবে সর্বত্র ব্যবহৃত হয়।

ছবি-রাষ্ট্রীয় প্রতীক ‘La Marianne’

রাজধানী প্যারিস, যা শুধু প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, বরং শিল্প, সাহিত্য ও প্রেমের বিশ্বনগরী।ফ্রান্সের সরকারি ভাষা ফরাসি (Français), এবং রাষ্ট্রীয় মুদ্রা ইউরো (€)দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ৬৮ মিলিয়ন (২০২৫), এবং মানব উন্নয়ন সূচকে (HDI ২০২৩) স্কোর ০.৯০৩, যা একে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত দেশের কাতারে স্থান দিয়েছে।বর্তমান রাষ্ট্র কাঠামো একটি আধা-রাষ্ট্রপতি শাসিত প্রজাতন্ত্র, যেখানে রাষ্ট্রপতি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন এবং প্রধানমন্ত্রী সংসদীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন।

ইতিহাস: রাজতন্ত্র থেকে প্রজাতন্ত্রে

ফ্রান্সের ইতিহাস ইউরোপের রাজনৈতিক বিবর্তনের সঙ্গে একীভূত। প্রাচীন গল জাতির ভূমি প্রথম খ্রিস্টপূর্ব শতকে রোমানদের অধীনে আসে। রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর পঞ্চম শতকে ফ্রাঙ্ক জাতি এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করে, যেখান থেকে “France” নামটির উৎপত্তি।

মধ্যযুগে চার্লেম্যাগনের ক্যারোলিঞ্জীয় সাম্রাজ্য ইউরোপের ঐক্যের ধারণা তৈরি করে। পরবর্তী সময়ে ক্যাপেট ও বোরবোঁ রাজবংশ ফ্রান্সকে রাজতান্ত্রিক শক্তিতে পরিণত করে। কিন্তু ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লব সবকিছু পাল্টে দেয়। রাজা ষোড়শ লুই ও রাণী মেরি আঁতোয়ানেতের পতনের মাধ্যমে রাজতন্ত্র ধ্বংস হয় এবং মানবমুক্তি, সমতা ও গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায় শুরু হয়।

ন্যাপোলিয়ন বোনাপার্ট বিপ্লবের আদর্শকে সামরিক শক্তিতে রূপ দেন। তার নেতৃত্বে ফ্রান্স ইউরোপের বৃহৎ অংশে আধিপত্য বিস্তার করে, তবে ওয়াটারলু যুদ্ধের পর তার পতন ঘটে। তবুও নেপোলিয়নের সংবিধান, প্রশাসনিক সংস্কার ও Napoleonic Code আজও আধুনিক আইনের ভিত্তি হিসেবে টিকে আছে।

১৯শ শতক জুড়ে ফ্রান্স বারবার রাজতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্রের মধ্যে দোলাচলে থেকেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি ফ্রান্স দখল করে নেয়, কিন্তু চার্লস দ্য গল-এর নেতৃত্বে প্রতিরোধ আন্দোলন দেশটিকে পুনরুদ্ধার করে। ১৯৫৮ সালে দ্য গল আধুনিক পঞ্চম প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন, যা আজও বিদ্যমান এবং রাষ্ট্রপতির হাতে শক্তিশালী নির্বাহী ক্ষমতা প্রদান করে।

রাজনীতি ও শাসনব্যবস্থা

বর্তমান ফরাসি শাসনব্যবস্থা একটি আধা-রাষ্ট্রপতি শাসিত গণতন্ত্র, যেখানে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাহী প্রধান। রাষ্ট্রপতি সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন পাঁচ বছরের মেয়াদে। সংসদ দুটি কক্ষ নিয়ে গঠিতন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি (Assemblée Nationale) এবং সেনেট (Sénat)

ফ্রান্স প্রশাসনিকভাবে ১৮টি অঞ্চল ও ১০১টি বিভাগে বিভক্ত। বিচারব্যবস্থা স্বাধীন, এবং সাংবিধানিক পরিষদ সংবিধানের ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের দায়িত্বে নিয়োজিত।

রাজনৈতিকভাবে দেশটি দীর্ঘদিন ধরে মধ্য-বাম ও মধ্য-ডানপন্থী চিন্তাধারার দ্বন্দ্বে আবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-এর “La RépubliqueEn Marche” দল একটি প্রগতিশীল ও উদারপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছে, যা তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে পুনর্নির্মাণ করছে।

অর্থনীতি ও সম্পদ

ফ্রান্স বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম অর্থনীতি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম অর্থনৈতিক ভিত্তি। এর অর্থনীতি বৈচিত্র্যময়শিল্প, কৃষি, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও পর্যটন সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।প্যারিস ইউরোপের অন্যতম আর্থিক কেন্দ্র, যেখানে শত শত বহুজাতিক কোম্পানির সদর দপ্তর অবস্থিত। এয়ারবাস, রেনল্ট, পিউজো, টোটালএনার্জিস, ডাসো, ল’ওরিয়াল, লুই ভিটোঁ, শ্যানেল, ডিওর ও মিশেলিন ফ্রান্সের শিল্পশক্তির প্রতীক।

দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কৃষি উৎপাদক, বিশেষত শস্য, ফল, সবজি, আঙ্গুর এবং দুগ্ধজাত পণ্য রপ্তানিতে অগ্রগণ্য। ফ্রান্স বিশ্বের শীর্ষ ওয়াইন উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশ, এবং “বোর্দো” ও “শ্যাম্পেন” অঞ্চল বৈশ্বিক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।

ফ্রান্সের প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ হলো বক্সাইট, লোহা, ইউরেনিয়াম, কয়লা, লবণ, কাঠ ও মৎস্যসম্পদ। এটি পারমাণবিক শক্তিনির্ভর দেশ, যেখানে বিদ্যুতের ৭০ শতাংশেরও বেশি আসে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে।

মানব উন্নয়ন, শিক্ষা ও জীবনমান

ফ্রান্স মানব উন্নয়ন সূচকে বিশ্বের শীর্ষে। ২০২৩ সালে এর এইচডিআই ০.৯০৩, যা একে “খুব উচ্চ মানব উন্নয়ন” দেশগুলোর মধ্যে স্থান দিয়েছে। গড় আয়ু ৮৩ বছর, এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সর্বজনীন।শিক্ষা বাধ্যতামূলক ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত, এবং সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রায় বিনামূল্যে শিক্ষা প্রদান করে। ফ্রান্সের শিক্ষা ব্যবস্থা “République”–এর আদর্শ অনুযায়ী ধর্মনিরপেক্ষ, যৌক্তিক এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিবেদিত।

বিশ্বখ্যাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে Sorbonne University, École Normale Supérieure, Sciences Po, École Polytechnique, HEC Paris, যেগুলো বিশ্বব্যাপী বুদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব গড়ে তুলছে।

ছবি-Sorbonne University, Paris.

সংস্কৃতি, শিল্প ও ধর্ম

ফ্রান্স এমন একটি দেশ যেখানে সংস্কৃতি রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের অংশ। এখানে সাহিত্য, দর্শন, চিত্রকলা, সংগীত, ফ্যাশন ও খাদ্যসবকিছুই নন্দনতত্ত্ব ও চিন্তার প্রতীক।

ফরাসি সাহিত্য ও দর্শন মানব সভ্যতার বিকাশে যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে। ভলতেয়ার, রুশো, দিদরো, সার্ত্র, সিমোন দ্য বোভোয়ার, ফুকো, দেরিদাএই বুদ্ধিজীবীরা মানুষের স্বাধীনতা, নৈতিকতা ও সমাজচিন্তার ধারণাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন।

ফ্রান্সের শিল্পের রাজধানী প্যারিস, যেখানে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাদুঘর লুভর। ফ্যাশনে প্যারিস ফ্যাশন উইক, খাদ্যে ফরাসি কুইজিন, সংগীতে এডিথ পিয়াফ ও ডেবুসিসবই দেশের সাংস্কৃতিক প্রতীক।

ধর্মের ক্ষেত্রে ফ্রান্স কঠোরভাবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র (Laïcité)নাগরিকদের প্রায় ৬৩ শতাংশ রোমান ক্যাথলিক, ৯ শতাংশ মুসলমান, ১ শতাংশ ইহুদি ও বৌদ্ধ, এবং বাকি জনগোষ্ঠী নির্ধর্মীয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মৌলিক নীতির অংশ।

সামরিক শক্তি ও বৈশ্বিক ভূমিকা

ফ্রান্স ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক রাষ্ট্র এবং বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম প্রতিরক্ষা বাজেটধারী দেশ। এটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার (Force de Frappe) রয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার মেরুদণ্ড।

ফরাসি সেনাবাহিনী আধুনিক প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট গোয়েন্দা ব্যবস্থা, বিমানবাহী রণতরী Charles de Gaulle, এবং বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা অভিযানে সক্রিয় উপস্থিতির জন্য বিখ্যাত। আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে ফ্রান্স আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পর্যটন, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য

ফ্রান্স বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভ্রমণকৃত দেশ। প্রতি বছর প্রায় ৯ কোটি পর্যটক এখানে আসেন। আইফেল টাওয়ার, লুভর মিউজিয়াম, নটরডেম ক্যাথেড্রাল, আর্ক দ্য ত্রিয়ঁফ, শঁজেলিজে, মনমার্ত্র, এবং ভার্সাই প্রাসাদএই প্রতিটি স্থাপনা শুধু স্থাপত্য নয়, ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।

ছবি- বিশ্ব বিখ্যাতলুভর মিউজিয়াম

ছবি-নটরডেম ক্যাথেড্রাল

দক্ষিণ ফ্রান্সের ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা, আলপসের স্কি রিসোর্ট, বোর্দো ও বুরগুন্ডির আঙ্গুরক্ষেত, নর্মান্ডির উপকূল এবং প্রোভঁস অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফ্রান্সকে পৃথিবীর অন্যতম রোমান্টিক ও বৈচিত্র্যময় পর্যটন স্বর্গে পরিণত করেছে।

ছব-ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা

পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সদস্যপদ

ফ্রান্স আন্তর্জাতিক কূটনীতির অন্যতম স্তম্ভ। এটি জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো, জি-৭, ওআইসিডি, ডব্লিউটিও, ফ্রান্সোফনি, আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সদস্য।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রনীতি “স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও বহুপাক্ষিক কূটনীতি”-র ভিত্তিতে পরিচালিত। এটি আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ায় শান্তিরক্ষা মিশনে অগ্রণী ভূমিকা রাখে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফ্রান্স ও জার্মানি একত্রে নীতিনির্ধারণের প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করে।

চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বর্তমান ফ্রান্স একাধিক জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখিঅভিবাসন সমস্যা, ধর্মনিরপেক্ষতা ও ইসলামফোবিয়া বিতর্ক, অর্থনৈতিক বৈষম্য, জলবায়ু পরিবর্তন ও ইউরোপীয় রাজনীতির নতুন ভারসাম্য। সামাজিক অসন্তোষ ও “Yellow Vest Movement” অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

তবুও ফ্রান্সের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। এটি একটি উদ্ভাবনী ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ, যেখানে গবেষণা, প্রযুক্তি, সবুজ শক্তি ও সংস্কৃতি একসঙ্গে অগ্রগতি ঘটাচ্ছে। “France 2030” কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী দেশটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মহাকাশ প্রযুক্তিতে বিশ্ব নেতৃত্ব অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে।

ফ্রান্স হলো স্বাধীনতার প্রতীক, মানবমুক্তির দিশারী এবং সভ্যতার আলোকবর্তিকা। এটি এমন এক দেশ, যেখানে রাজনীতির সঙ্গে দর্শন, বিজ্ঞানের সঙ্গে শিল্প, এবং স্বাধীনতার সঙ্গে দায়িত্ববোধ সমানভাবে বিকশিত হয়েছে। আজও ফ্রান্স পৃথিবীকে মনে করিয়ে দেয় যে, একটি জাতির সত্যিকারের শক্তি তার অস্ত্রে নয়, বরং তার চিন্তা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধে নিহিত।


দুই বিশ্বনেতার ব্যক্তিগত মেসেজ প্রকাশ করলেন ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২১ ০৯:৫১:৩৮
দুই বিশ্বনেতার ব্যক্তিগত মেসেজ প্রকাশ করলেন ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

আটলান্টিক মহাসাগরের উত্তর অংশে অবস্থিত ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক আলোচনার পর ট্রাম্প এখন প্রকাশ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড না পাওয়া গেলে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে যুক্তরাষ্ট্র। এই অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার শাস্তিস্বরূপ ইউরোপের আটটি দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০ শতাংশ শুল্কও আরোপ করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এমন কঠোর ও আক্রমণাত্মক অবস্থানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটোর মধ্যে চরম অস্বস্তি ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউরোপের প্রভাবশালী নেতারা এখন ট্রাম্পের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন এবং বিভিন্ন প্রস্তাব পাঠাচ্ছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রচলিত রীতিনীতি উপেক্ষা করে ইউরোপীয় নেতাদের পাঠানো সেই সব ব্যক্তিগত বার্তা বা মেসেজের স্ক্রিনশট নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ প্রকাশ করে দিয়েছেন। গত ১৯ জানুয়ারি তিনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর একটি বার্তা প্রকাশ করেন এবং এর পরদিনই অর্থাৎ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নেটো প্রধান মার্ক রুট্টোর পাঠানো আরেকটি ব্যক্তিগত চিঠি জনসমক্ষে নিয়ে আসেন। রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত শিষ্টাচার ভঙ্গ করে এভাবে বার্তা প্রকাশ করার ঘটনায় কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠলেও ট্রাম্প তাঁর অবস্থানে অনড় রয়েছেন।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর পাঠানো সেই বার্তায় দেখা যায়, তিনি অত্যন্ত হৃদ্যতার সাথে ট্রাম্পকে ‘প্রিয় বন্ধু’ বলে সম্বোধন করেছেন। মাখোঁ লিখেছিলেন— “আমার প্রিয় বন্ধু (ট্রাম্প), আমরা সিরিয়া নিয়ে সঠিক পথে আছি। ইরান নিয়েও আমরা বড় কিছু করতে পারি। তবে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আপনি কী করছেন, তা আমি বুঝতে পারছি না। চলুন ভালো কিছু গড়ার চেষ্টা করি।” এই বার্তায় মাখোঁ দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। প্রথমত, ডাভোস অর্থনৈতিক সম্মেলনের পর প্যারিসে একটি জি-৭ বৈঠক আয়োজন করা, যেখানে ইউক্রেন, ডেনমার্ক, সিরিয়া ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, ডাভোস থেকে ফেরার পথে প্যারিসে ট্রাম্পের সাথে একান্ত নৈশভোজে বসার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে, নেটো প্রধান মার্ক রুট্টোর পাঠানো বার্তাটি ছিল আরও বেশি প্রশংসাসূচক এবং নমনীয়। তিনি ট্রাম্পকে ‘মিস্টার প্রেসিডেন্ট’ ও ‘প্রিয় ডোনাল্ড’ সম্বোধন করে লিখেছেন— “আজ সিরিয়ায় আপনি যা অর্জন করেছেন, তা অসাধারণ। আমি মিডিয়ার মাধ্যমে সিরিয়া, গাজা ও ইউক্রেন নিয়ে আপনার কাজগুলো তুলে ধরব।” গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের কঠোর মনোভাবের প্রেক্ষিতে রুট্টো কিছুটা সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি সমাধান খুঁজে বের করতে আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আপনার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি। আপনার প্রিয় মার্ক।” নেটো প্রধানের এই বার্তা থেকে এটি স্পষ্ট যে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সামরিক হুমকির মুখে ইউরোপীয় শক্তিগুলো এক ধরণের সমঝোতা বা আত্মসমর্পণের পথ খুঁজছে। তবে ট্রাম্প যেভাবে একের পর এক গোপন বার্তা ফাঁস করছেন, তাতে ডেনমার্ক এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি


২০২৬-এই গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার: ট্রাম্পের রহস্যময় ছবি ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে জল্পনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৮:৪৭:০৩
২০২৬-এই গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার: ট্রাম্পের রহস্যময় ছবি ঘিরে ঘনীভূত হচ্ছে জল্পনা
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত উদ্দীপক ও ইলাস্ট্রেটেড ছবি পোস্ট করার পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশিত ওই ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের তুষারাবৃত ভূমিতে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা স্থাপন করছেন। তাঁর ঠিক পাশেই রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ছবিটির সামনের অংশে একটি বিশেষ প্ল্যাকার্ড স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে—‘গ্রিনল্যান্ড : মার্কিন অঞ্চল, প্রতিষ্ঠিত ২০২৬’। এই পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্প কেবল গ্রিনল্যান্ডের ছবিই নয়, বরং ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের একটি সম্পাদিত (Edited) ছবিও শেয়ার করেছেন। ওই মূল ছবিটি ছিল ওয়াশিংটনে সফররত ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি বৈঠকের। সেই সময় ইউরোপের নেতারা মূলত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের একটি ফোনালাপ নিয়ে আলোচনা করতে ওয়াশিংটনে গিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পুরোনো ছবি এডিট করে পুনরায় শেয়ার করার উদ্দেশ্য হলো ইউরোপীয় ও রুশ ইস্যুতে তাঁর শক্ত অবস্থানের জানান দেওয়া। তবে গ্রিনল্যান্ডকে সরাসরি মার্কিন অঞ্চল হিসেবে দাবি করার এই ইলাস্ট্রেটেড ছবি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী কি না, তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এই উত্তেজনার মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসে (যা আগে ‘থুলে এয়ার ফোর্স বেস’ নামে পরিচিত ছিল) সামরিক বিমান মোতায়েন করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নর্থ আমেরিকান এয়ারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড (নোরাড) সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জানিয়েছে যে, তারা উত্তর আমেরিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রিনল্যান্ডের এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে শীঘ্রই বিমান মোতায়েন করবে। আনাদোলু এজেন্সির মঙ্গলবারের (২০ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ সংক্রান্ত পোস্টের পর এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পরিসরে বাড়তি মনোযোগ আকর্ষণ করছে। নোরাড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে যে, এই মোতায়েন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি আগে থেকেই পরিকল্পিত বিভিন্ন কার্যক্রমের অংশ।

নোরাড আরও জানিয়েছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই কার্যক্রম মূলত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ডেনমার্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ধারাবাহিকতা। সংস্থাটি বিশেষভাবে জোর দিয়ে বলেছে যে, ডেনমার্কের সঙ্গে যথাযথ সমন্বয় করেই এই মোতায়েন সম্পন্ন হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ধরণের কূটনৈতিক অনুমোদন নেওয়া হয়েছে। এমনকি গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষকেও এই সামরিক পদক্ষেপ সম্পর্কে আগেভাগেই অবহিত করা হয়েছে। নোরাডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মোতায়েনটি নিয়মিত ‘ডিসপার্সড অপারেশনস’-এর অংশ হিসেবে পরিচালিত হবে, যা উত্তর আমেরিকার আকাশসীমা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত পিটুফিক স্পেস বেস আমেরিকার জন্য একটি কৌশলগত সুরক্ষা কেন্দ্র। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ কেন্দ্র রয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘২০২৬ সালে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ’ সংক্রান্ত বিতর্কিত পোস্ট এবং পিটুফিক ঘাঁটিতে নতুন করে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির এই ঘটনা ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে, বিশেষ করে ডেনমার্কের ওপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেক বিশ্লেষক।


৩৪ মিনিটে বিয়ে ও ৭৫ মিনিটে তালাক: সম্পদশালী দেশে পারিবারিক জীবনের অস্থির চিত্র

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৮:২৮:০৬
৩৪ মিনিটে বিয়ে ও ৭৫ মিনিটে তালাক: সম্পদশালী দেশে পারিবারিক জীবনের অস্থির চিত্র
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েতে পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোর এক গভীর পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশটিতে বিয়ের আয়োজনের পাশাপাশি বিবাহবিচ্ছেদের হারও সমানভাবে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিচার মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও গবেষণা বিভাগের এই প্রতিবেদনটি মূলত শরিয়া নোটারাইজেশন বিভাগের মাসিক কার্যসম্পাদন প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এতে বিয়ে, তালাক, দম্পতিদের পুনর্মিলন, আইনি নোটিশ এবং ইসলাম গ্রহণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিচারিক লেনদেনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে কুয়েতে মোট ১ হাজার ২৫২টি বিয়ে ও পুনর্মিলনসংক্রান্ত লেনদেন নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মানে হলো, দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ৪২টি করে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে শুধু নতুন বিয়ের চুক্তির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৪৩টি, যা দৈনিক গড়ে ৩৮টি বিয়ের সমান। সময়ের হিসাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কুয়েতে প্রতি ৩৪ মিনিটে একটি নতুন বিয়ে অথবা বিচ্ছেদ হওয়া দম্পতির পুনর্মিলন নথিভুক্ত হচ্ছে। এই বিয়ের পরিসংখ্যানের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে কুয়েতি দম্পতিরা। মোট বিয়ের ৭৩ দশমিক ৩ শতাংশই ছিল কুয়েতি নাগরিকদের মধ্যে। এছাড়া অ-কুয়েতি দম্পতিদের বিয়ের হার ছিল ১৬ দশমিক ২ শতাংশ। কুয়েতি পুরুষ ও অ-কুয়েতি নারীর মধ্যে বিয়ের হার ৮ দশমিক ২ শতাংশ এবং অ-কুয়েতি পুরুষ ও কুয়েতি নারীর মধ্যে বিয়ের হার রেকর্ড করা হয়েছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

বিয়ের এই উৎসবমুখর পরিস্থিতির উল্টো পিঠেই রয়েছে বিচ্ছেদের করুণ চিত্র। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, একই মাসে কুয়েতে মোট ৫৯৫টি বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাকের মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই হিসাবে দেশটিতে প্রতিদিন গড়ে ২০টি সংসার ভেঙে যাচ্ছে, অর্থাৎ প্রতি ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিটে (৭৫ মিনিটে) একটি করে তালাকের ঘটনা ঘটছে। কুয়েতি দম্পতিদের মধ্যে বিচ্ছেদের হার সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে, যা মোট বিচ্ছেদের ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যেই পারিবারিক ভাঙনের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে যে, ওই মাসে ১০৯টি বিয়ের সত্যায়ন চুক্তি নিবন্ধিত হয়েছে, যার দৈনিক গড় ৩ দশমিক ৬টি। এই চুক্তির ক্ষেত্রে কুয়েতি স্বামী এবং অ-কুয়েতি স্ত্রীর মধ্যে চুক্তির হারই ছিল সর্বাধিক, যা প্রায় ৫৪ শতাংশ। তবে মজার বিষয় হলো, কুয়েতি দম্পতিদের মধ্যে এ ধরনের কোনো বিয়ে সত্যায়ন চুক্তি করার নজির ওই মাসে পাওয়া যায়নি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিয়েসংক্রান্ত প্রায় ৭৪ শতাংশ লেনদেনই সম্পন্ন হয়েছে আদালতের সুনির্দিষ্ট রায়ের ভিত্তিতে। এছাড়া কুয়েতের বাইরে অর্থাৎ বিদেশে বিয়ের চুক্তি নথিভুক্ত করার হার ছিল প্রায় ৮২ শতাংশ, যেখানে সরাসরি শরিয়া নোটারাইজেশন বিভাগের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ১৮ শতাংশ কার্যক্রম। এই পরিসংখ্যানগুলো কুয়েতের পরিবর্তিত সামাজিক মূল্যবোধ এবং বৈবাহিক আইনি প্রক্রিয়ার একটি স্পষ্ট রূপরেখা প্রদান করে।

সূত্র: গালফ নিউজ


ফরাসি প্রেসিডেন্টের ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভ: ২০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২০ ১৭:১১:০১
ফরাসি প্রেসিডেন্টের ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভ: ২০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর প্রস্তাবিত বৈশ্বিক শান্তি পর্ষদ বা ‘বোর্ড অব পিস’-এ ফ্রান্সের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এক নজিরবিহীন ও আগ্রাসী কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁকে এই উদ্যোগে যোগ দিতে বাধ্য করতে ট্রাম্প এখন সরাসরি অর্থনৈতিক চাপের পথ বেছে নিয়েছেন। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, ফ্রান্স যদি তাঁর এই শান্তি পর্ষদে যোগ না দেয়, তবে ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেইনের ওপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন যুদ্ধ ও সংঘাত, বিশেষ করে গাজা সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ট্রাম্প এই বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দিলেও ফ্রান্সের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় তিনি এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট মাখোঁর প্রতি বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করে বলেন যে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট সম্ভবত খুব শীঘ্রই ক্ষমতা হারাতে পারেন এবং এই কারণেই অনেকে তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ বোর্ডে দেখতে ইচ্ছুক নন। এরপরই তিনি শুল্ক আরোপের প্রসঙ্গটি সামনে এনে বলেন, “ফরাসি ওয়াইন ও শ্যাম্পেইনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসানো হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে।” যদিও তিনি পরে যোগ করেন যে, এই বোর্ডে যোগ দেওয়া কোনো দেশের জন্যই বাধ্যতামূলক নয়, তবে তাঁর বক্তব্যের সুর থেকে এটি পরিষ্কার যে তিনি ফ্রান্সকে এই পর্ষদের অন্যতম অংশীদার হিসেবে দেখতে চান। অন্যদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে, এলিসি প্যালেস আপাতত ট্রাম্পের এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফ্রান্সের মতে, ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত উদ্যোগে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তারা এখনই কোনো চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দিতে আগ্রহী নয়।

ট্রাম্পের এই ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের পরিকল্পনাটি প্রথম সামনে আসে গত বছরের সেপ্টেম্বরে, যখন তিনি গাজা যুদ্ধ বন্ধের একটি বিশেষ রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিলেন। বর্তমানে এই উদ্যোগটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেওয়ার পথে রয়েছে এবং মার্কিন প্রশাসন বিশ্বের প্রায় ৬০টি দেশের কাছে এ সংক্রান্ত একটি খসড়া সনদ পাঠিয়েছে। রয়টার্সের হাতে আসা নথিপত্র অনুযায়ী, এই বোর্ডের সদস্য হওয়া কোনো সাধারণ বিষয় নয়; বরং এর জন্য একটি বিশাল অঙ্কের আর্থিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। কোনো রাষ্ট্র যদি তিন বছরের বেশি সময়ের জন্য এই শান্তি পর্ষদের সদস্য হিসেবে থাকতে চায়, তবে সেই দেশকে চাঁদা বাবদ নগদ ১০০ কোটি মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে। এই আকাশচুম্বী সদস্য ফি এবং ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিবিদদের মধ্যে ব্যাপক সংশয় তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক ও বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের এই নতুন উদ্যোগকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের একটি বিকল্প শান্তি পর্ষদ গঠন মূলত জাতিসংঘের বৈশ্বিক ভূমিকা ও কার্যকারিতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার শামিল। জাতিসংঘের বর্তমান কাঠামোকে দুর্বল করার মাধ্যমে ট্রাম্প বিশ্ব রাজনীতিতে মার্কিন আধিপত্যের একটি নতুন সমান্তরাল বলয় তৈরি করতে চাইছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের ওপর শুল্ক আরোপের এই হুমকি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ককে পুনরায় উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ শেষ পর্যন্ত সফল হবে নাকি এটি কেবল এক মেরুকেন্দ্রিক ক্ষমতার মহড়া হিসেবেই রয়ে যাবে—তা এখন সময়ের অপেক্ষায়।


মানবাধিকার সংস্থার চেয়েও বড় সংখ্যা; ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে লাশের পাহাড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ০৯:৪৩:৪৪
মানবাধিকার সংস্থার চেয়েও বড় সংখ্যা; ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে লাশের পাহাড়
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং তার পরবর্তী দমন-পীড়নের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা পাঁচ হাজারে পৌঁছেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। দেশটির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এই ভয়াবহ প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই বিপুল সংখ্যক নিহতের মধ্যে অন্তত পাঁচশত জন ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা দাবি করেন যে, বিক্ষোভ চলাকালীন তথাকথিত সশস্ত্র দাঙ্গাবাজ এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিরীহ ইরানি নাগরিকদের ওপর এই হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি পরবর্তীতে দ্রুত রাজনৈতিক মোড় নেয় এবং আন্দোলনকারীরা সরাসরি সরকার পতনের ডাক দেয়। বিক্ষোভ চূড়ান্ত রূপ ধারণ করলে গত ৮ জানুয়ারি ইরানজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় এবং আন্দোলনকারীদের দমনে মাঠে নামানো হয় বিশেষ শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে সেই সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো মাঠপর্যায়ের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত তথ্য ও লাশের সংখ্যা সঠিকভাবে যাচাই করতে পারেনি।

ইরানি ওই কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, বিক্ষোভ চলাকালীন সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের ঘটনাগুলো ঘটেছে ইরানের উত্তর-পশ্চিমের কুর্দিশ অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এবং সেখানেই সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের এই পাঁচ হাজার নিহতের সংখ্যাটি সম্ভবত চূড়ান্ত এবং এটি আর খুব বেশি বাড়ার সম্ভাবনা নেই। তবে এই বিপুল প্রাণহানির জন্য ইরান সরাসরি বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপকে দায়ী করছে। ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন যে, ইসরাইলসহ বেশ কিছু বিদেশি সশস্ত্র গোষ্ঠী বিক্ষোভকারীদের সরাসরি অর্থ ও মারণাস্ত্র সরবরাহ করে এই অস্থিরতা উসকে দিয়েছে। এর আগে শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিও দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সরাসরি অভিযুক্ত করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছিলেন যে, দেশের মানুষের এই রক্তপাতের নেপথ্যে থাকা বিদেশি অপরাধীদের কোনোভাবেই বিনা শান্তিতে পার পেতে দেওয়া হবে না।

ইরানের পক্ষ থেকে নিহতের এই সংখ্যা স্বীকার করার আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ (HRANA) তাদের নিজস্ব তদারকির ভিত্তিতে একটি হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছিল। শনিবার তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ অন্তত ৩ হাজার ৩০৮ জনের মৃত্যু সম্পর্কে তারা নিশ্চিত হতে পেরেছে। সংস্থাটি আরও জানিয়েছিল যে, আরও ৪ হাজার ৩৮২ জনের মৃত্যুর খবর তাদের কাছে রয়েছে যা তারা বর্তমানে নিবিড়ভাবে যাচাই করে দেখছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তুলনায় ইরানের সরকারি সূত্রের দেওয়া নিহতের এই সংখ্যা আরও অনেক বড় এবং এটি আন্দোলনের সময়কার ব্যাপক সহিংসতার এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলছে। মূলত দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অসন্তোষ ও সামাজিক স্বাধীনতার দাবিতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনটি এখন ইরানের বর্তমান প্রশাসনের জন্য এক বড় ধরণের অস্তিত্ব সংকটে রূপ নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


স্পেনে দুই ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ: প্রাণ হারালেন অন্তত ২১ যাত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ০৯:০৪:২০
স্পেনে দুই ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ: প্রাণ হারালেন অন্তত ২১ যাত্রী
ছবি : সংগৃহীত

স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কর্দোবার উপকণ্ঠে দুটি দ্রুতগামী বা হাই-স্পিড ট্রেনের মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২১ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়। সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আহতদের মধ্যে অন্তত ৩০ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, যার ফলে নিহতের চূড়ান্ত সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে সোমবার সকালে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যদিও দুর্ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা ২৫ বলে দাবি করা হয়েছিল, তবে সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ভয়াবহ এই ঘটনার সূত্রপাত হয় স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটে। মালাগা থেকে মাদ্রিদ অভিমুখে যাত্রা করা ৩১৭ জন যাত্রী বোঝাই একটি হাই-স্পিড ট্রেন কর্দোবা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে আদামুজ নামক এলাকার কাছে পৌঁছালে অজ্ঞাত কারণে হঠাৎ করে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। দুর্ভাগ্যবশত, লাইনচ্যুত হওয়া ট্রেনটি পাশের লাইন দিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা মাদ্রিদ-হুয়েলভাগামী আরেকটি হাই-স্পিড ট্রেনের গতিপথে চলে যায় এবং দুই ট্রেনের মধ্যে প্রচণ্ড সংঘাত ঘটে। এই শক্তিশালী ধাক্কার ফলে দ্বিতীয় ট্রেনটিও তাৎক্ষণিকভাবে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে এবং বগিগুলো দুমড়েমুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আন্দালুসিয়া অঞ্চলের জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। উদ্ধারকাজে সহায়তা করতে স্থানীয় বাসিন্দারাও এগিয়ে আসেন এবং পরবর্তীতে স্পেনের সামরিক জরুরি ইউনিট উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়ে ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে যাত্রীদের বের করে আনার কাজ শুরু করে।

স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনার কারণে সমগ্র স্পেন আজ গভীর বেদনায় আচ্ছন্ন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি তিনি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন। স্পেনের রাজপরিবারও পৃথক এক বার্তায় এই শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। উদ্ধার অভিযান বর্তমানেও চলমান থাকায় কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে যে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কর্দোবার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি স্পেনের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যার আগে ২০১৩ সালে এক ট্রেন দুর্ঘটনায় ৭৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং তদন্তের স্বার্থে ওই রুটে অন্তত মঙ্গলবার পর্যন্ত সকল প্রকার ট্রেন চলাচল স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


বিশ্ব শান্তি ঝুঁকিতে: গ্রিনল্যান্ড পেতে ইউরোপকে ট্রাম্পের নজিরবিহীন আল্টিমেটাম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৮:৫০:১২
বিশ্ব শান্তি ঝুঁকিতে: গ্রিনল্যান্ড পেতে ইউরোপকে ট্রাম্পের নজিরবিহীন আল্টিমেটাম
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেনমার্ক শাসিত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে পুনরায় তার কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক নজিরবিহীন ঘোষণায় তিনি জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড হস্তান্তরের বিষয়ে কোনো সমঝোতায় না পৌঁছালে ইউরোপের একাধিক প্রভাবশালী দেশের ওপর বড় ধরনের বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই ভূখণ্ডটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ‘বিশ্ব শান্তি ঝুঁকিতে’ থাকবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে এই বাণিজ্য যুদ্ধের রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি ঘোষণা করেন যে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ডেনমার্কসহ ইউরোপের আটটি দেশের ওপর প্রাথমিক ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করা হবে। দেশগুলো হলো— ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য এবং নেদারল্যান্ডস। ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি না হলে আগামী ১ জুন ২০২৬ থেকে এই শুল্কের হার বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে।

ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন:

"আমরা বহু বছর ধরে ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোকে শুল্ক ছাড়ের মাধ্যমে ভর্তুকি দিয়ে এসেছি। এখন সময় এসেছে ডেনমার্কের কিছু ফেরত দেওয়ার। বিশ্ব শান্তি আজ হুমকির মুখে।"

ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণা ইউরোপজুড়ে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লুকে রাসমুসেন বিষয়টিকে ‘সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, মাত্র কয়েক দিন আগেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে তার অত্যন্ত ‘গঠনমূলক বৈঠক’ হয়েছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই প্রেসিডেন্টের এমন কঠোর হুমকি কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক আইনপ্রণেতা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত বছর স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করার দাবি তুলেছেন।

গ্রিনল্যান্ডের ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক গুরুত্ব নিয়ে ট্রাম্প তার ভাষ্যে আধুনিক অস্ত্রব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তিনি মনে করেন, ‘গোল্ডেন ডোম’-এর মতো অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রকল্পের জন্য গ্রিনল্যান্ড একটি কৌশলগত ভিত্তি। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র গত ১৫০ বছর ধরে এই আর্কটিক ভূখণ্ডটি অধিগ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে আসছে এবং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এর নিয়ন্ত্রণ আমেরিকার জন্য অপরিহার্য।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডে ইউরোপীয় দেশগুলোর বর্তমান সামরিক উপস্থিতিকে ‘পৃথিবীর নিরাপত্তা ও টিকে থাকার জন্য বিপজ্জনক’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন। যদিও ডেনমার্ক ও তার ন্যাটো মিত্ররা মনে করে, সেখানে তাদের সামরিক উপস্থিতি কেবল স্বচ্ছতা ও আত্মরক্ষার খাতিরেই বাড়ানো হচ্ছে। লার্স লুকে রাসমুসেন এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন যে, আর্কটিক অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ছে এবং তারা ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে মিলেই সেখানে কাজ করছেন।

গ্রিনল্যান্ড ঐতিহাসিকভাবে ডেনমার্কের অধীনে থাকলেও সেখানকার জনগণের স্বায়ত্তশাসন এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এর আগে ২০১৯ সালেও ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন, যা তৎকালীন ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে এবারের দফায় শুল্ক আরোপের সরাসরি হুমকি ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে এক বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


পবিত্র রমজানে ওমরাহ যাত্রা: বড় এক দুঃসংবাদ দিচ্ছে ট্যুর অপারেটররা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৮:০৯:৩৯
পবিত্র রমজানে ওমরাহ যাত্রা: বড় এক দুঃসংবাদ দিচ্ছে ট্যুর অপারেটররা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা জারি করেছেন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ভ্রমণ ও পর্যটন সেবা সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পবিত্র মাসে মক্কা ও মদিনায় মুসল্লিদের নজিরবিহীন ভিড়ের কারণে ওমরাহ প্যাকেজের খরচ বর্তমানের তুলনায় দুই থেকে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিড়ম্বনা এড়াতে এবং বাড়তি ব্যয় থেকে বাঁচতে ইচ্ছুকদের দ্রুত বুকিং সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি বছরই রমজান মাসে মক্কা ও মদিনায় বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম ঘটে। এর ফলে সৌদি আরবের পরিবহন ব্যবস্থা এবং হোটেল আবাসনের ওপর প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ওমরাহ প্যাকেজের মূল্যের ওপর।

পরিবহন ও প্যাকেজ মূল্যের ঊর্ধ্বগতি ওমরাহ অপারেটরদের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে যারা বাসে ওমরাহ করতে চান তাদের জন্য প্যাকেজ মূল্য প্রায় ১ হাজার ২০০ দিরহাম। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এটি ১ হাজার ৪০০ দিরহামে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রমজান যত ঘনিয়ে আসবে, এই প্যাকেজের মূল্য বেড়ে ২ হাজার দিরহামেরও বেশি হয়ে যাবে।

অন্যদিকে আকাশপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই মূল্যবৃদ্ধির হার আরও আশঙ্কাজনক। বর্তমানে বিমানযাত্রাসহ ওমরাহ প্যাকেজের প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৫০০ দিরহাম হলেও রমজান শুরু হওয়ার পর তা ৫ হাজার ২০০ দিরহাম থেকে শুরু হয়ে ৮ হাজার দিরহাম পর্যন্ত উঠতে পারে। বিশেষ করে রমজানের শেষ দশকে যখন মুসল্লিদের ভিড় চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকে, তখন খরচ সবচেয়ে বেশি হবে বলে জানিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ট্যুর অপারেটররা।

কেন বাড়ছে এই ব্যয়? পর্যটন বিশ্লেষকদের মতে, উড়োজাহাজের টিকিটের দাম বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মূলত হোটেল ভাড়াই এই ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ। মসজিদুল হারাম থেকে হাঁটা দূরত্বে অবস্থিত হোটেলগুলোর চাহিদা রমজানে চরমে থাকে। ফলে এই হোটেলগুলোর ভাড়া রমজানের শুরুতে দ্বিগুণ এবং শেষ দশ দিনে তিনগুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। অনেক ওমরাহ যাত্রী শেষ মুহূর্তে সস্তা প্যাকেজের আশায় অপেক্ষা করেন, কিন্তু রমজানের মতো ব্যস্ত সময়ে আসন ও হোটেল সীমিত হয়ে পড়ায় তারা উল্টো বেশি দাম গুণতে বাধ্য হন।

ভিসা ও ভ্রমণের সময়সীমা নিয়ে নতুন নির্দেশনা হজের প্রস্তুতির সুবিধার্থে সৌদি কর্তৃপক্ষ ওমরাহ ভিসার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ১৭ মার্চের পর নতুন করে ওমরাহ ভিসার আবেদন করা সম্ভব হবে না। এছাড়া ওমরাহ পালনের জন্য ২ এপ্রিলের মধ্যে অবশ্যই সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে এবং ১৮ এপ্রিলের মধ্যে ওমরাহ পালনকারীদের দেশ ছাড়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

ট্রাভেল এজেন্সিগুলো তাই পরামর্শ দিয়েছেন যে, ধর্মীয় ও আর্থিক—উভয় দিক বিবেচনা করে এখন থেকেই পরিকল্পনা গুছিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অন্যথায় শেষ মুহূর্তের বুকিং যাত্রীদের ওপর বিশাল এক আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে।


বোর্ড অব পিস-এ এরদোয়ান ও সিসিকে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের; গাজায় নতুন মোড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১১:০৩:০২
বোর্ড অব পিস-এ এরদোয়ান ও সিসিকে আমন্ত্রণ ট্রাম্পের; গাজায় নতুন মোড়
ছবি : সংগৃহীত

গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কার্যক্রম তদারকি ও মানবিক সংকট উত্তরণে গঠিত বিশেষ তদারকি সংস্থা ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদে যোগ দিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আংকারা ও কায়রোর উচ্চপদস্থ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আজ এই আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ফেরানোর লক্ষ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজা সংকট সমাধানের লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তীতে অক্টোবরে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস—উভয় পক্ষই এই পরিকল্পনায় সম্মতি প্রদান করে। এই চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল গাজায় একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন করা, যার কার্যক্রমের ওপর সরাসরি নজরদারির দায়িত্ব থাকবে ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পর্ষদের ওপর।

গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই পর্ষদের প্রাথমিক সদস্যদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একটি দল এই পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। এছাড়াও রয়েছেন মার্কিন ধনকুবের মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের বর্তমান প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা, ট্রাম্পের অন্যতম উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল এবং জাতিসংঘের সাবেক দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই উচ্চপদস্থ শান্তি পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পের কাছ থেকে এই পর্ষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছেন। অন্যদিকে, মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট আল-সিসিকে দেওয়া এই আমন্ত্রণটি বর্তমানে মিসরীয় সরকারের পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দুই প্রভাবশালী দেশ হিসেবে তুরস্ক ও মিসরের এই পর্ষদে অন্তর্ভুক্তি গাজার শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত হাজার হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে গাজার প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং পুরো অঞ্চলটি এক ভয়াবহ মানবিক সংকটে নিমজ্জিত। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠন ও গবেষকরা গাজার এই পরিস্থিতিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের দাবি, হামাসের নজিরবিহীন হামলার জবাব দিতেই তারা এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এই শান্তি পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। এই পর্ষদের সরাসরি তত্ত্বাবধানে গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসন প্রাথমিকভাবে জরুরি ত্রাণ বিতরণ এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এমন বিশাল প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করা হলেও গাজার সাধারণ ফিলিস্তিনিদের মধ্যে গভীর সন্দেহ ও সংশয় কাজ করছে। এর প্রধান কারণ হলো, শান্তি পর্ষদ গঠনের আলোচনার মধ্যেও গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে এই পর্ষদ মাঠ পর্যায়ে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, তা নিয়ে অনেক ফিলিস্তিনি ও বিশ্লেষক প্রশ্ন তুলেছেন।

পাঠকের মতামত: