Banner

৬ অক্টোবর, ২০২৫ (সোমবার) ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ০৫ ২১:৫৫:২৩
৬ অক্টোবর, ২০২৫ (সোমবার) ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগের নামাজের সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫ ইংরেজি তারিখের জন্য ঢাকা এবং বাংলাদেশের অন্যান্য প্রধান বিভাগের দৈনিক নামাজের সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল:

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ফজর ৪টা ৩৭ মিনিট (AM), সূর্যোদয় ৫টা ৫২ মিনিট (AM), জোহর ১১টা ৪৭ মিনিট (AM), আসর ৪টা ০৮ মিনিট (PM), মাগরিব ৫টা ৪৩ মিনিট (PM), এবং ইশা ৬টা ৫৭ মিনিট (PM)।

অন্যান্য বিভাগীয় শহর:

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ফজর ৪টা ৪০ মিনিট, সূর্যোদয় ৫টা ৫২ মিনিট, জোহর ১১টা ৪৭ মিনিট, আসর ৩টা ৫৯ মিনিট, মাগরিব ৫টা ৪০ মিনিট এবং ইশা ৬টা ৫৩ মিনিট।

খুলনা: খুলনায় ফজর ৪টা ৪১ মিনিট, সূর্যোদয় ৫টা ৫৫ মিনিট, জোহর ১১টা ৫০ মিনিট, আসর ৪টা ০৫ মিনিট, মাগরিব ৫টা ৪২ মিনিট এবং ইশা ৬টা ৫৭ মিনিট।

রাজশাহী: রাজশাহীতে ফজর ৪টা ৪১ মিনিট, সূর্যোদয় ৫টা ৫৬ মিনিট, জোহর ১১টা ৫০ মিনিট, আসর ৪টা ১১ মিনিট, মাগরিব ৫টা ৪৫ মিনিট এবং ইশা ৬টা ৫৯ মিনিট।

সিলেট: সিলেটে ফজর ৪টা ৩৩ মিনিট, সূর্যোদয় ৫টা ৪৬ মিনিট, জোহর ১১টা ৪৪ মিনিট, আসর ৪টা ০২ মিনিট, মাগরিব ৫টা ৩৪ মিনিট এবং ইশা ৭টা ০৬ মিনিট।

দ্রষ্টব্য: এই সময়সূচি স্থানীয় ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।


আজ ০৪ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ০৯:২১:৪৩
আজ ০৪ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

আজ রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ২০ পৌষ ১৪৩২ এবং হিজরি ১৪ রজব ১৪৪৭। পবিত্র রজব মাসের এই গুরুত্বপূর্ণ দিনে রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার (বসুন্ধরা, ঢাকা) আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে। শীতকালীন এই সময়ে সময়ের পরিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে নামাজের ওয়াক্তগুলো জেনে নেওয়া প্রতিটি মুমিনের জন্য জরুরি।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৭ মিনিটে। আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৩টা ৪৮ মিনিটে। দিনের শেষে সূর্যাস্তের সাথে সাথে মাগরিবের আজান হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৮ মিনিটে এবং এশার জামাত বা ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিটে। আগামীকাল সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ২৬ মিনিটে।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের তথ্য অনুযায়ী আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৪ মিনিটে। আগামীকাল ৫ জানুয়ারি সোমবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪২ মিনিটে। উল্লেখ্য যে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নামাজের সময় ঢাকা থেকে ১ থেকে ৭ মিনিট পর্যন্ত কম বা বেশি হতে পারে। তাই ঢাকার বাইরের মুসল্লিদের স্থানীয় সময় অনুযায়ী সমন্বয় করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সঠিক সময়ে সালাত আদায় করা ইমানি দায়িত্ব, তাই এই সময়সূচিটি আপনার দৈনন্দিন পরিকল্পনায় সহায়ক হবে।


আল্লাহ পশু-পাখিকে কী দিয়ে সৃষ্টি করেছেন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৪ ০৭:১২:৫২
আল্লাহ পশু-পাখিকে কী দিয়ে সৃষ্টি করেছেন
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ যেমন আল্লাহ তায়ালার বিশেষ সৃষ্টি, তেমনি পশু ও পাখিও তাঁরই সৃষ্টিকর্মের অংশ। কিন্ত কখনও ভেবেছেন পশু পাখিকে আল্লাহ কি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন? পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা সেটা উল্লেখ করেছেন।

পবিত্র কোরআনুল কারিম-এ আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন যে, তিনি সকল জীবকে পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। সূরা আন-নূরের ৪৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, প্রতিটি প্রাণীর সৃষ্টির মূল উপাদান হলো পানি। এই আয়াত মানবজাতিকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জীবন ও পানির মধ্যে গভীর ও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে।

কোরআনের এই বক্তব্য আধুনিক বিজ্ঞানেও প্রতিফলিত হয়েছে। জীববিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা যায়, প্রাণীদের শরীরের বড় একটি অংশই পানি দিয়ে গঠিত। রক্ত সঞ্চালন, হজম, কোষের কার্যক্রম সবকিছুর জন্যই পানি অপরিহার্য। ফলে কোরআনের এই ঘোষণা শুধু আধ্যাত্মিক নয়, বৈজ্ঞানিক সত্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

আল্লাহ তায়ালা পশু-পাখিকে বিভিন্ন আকৃতি, স্বভাব ও ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। কেউ চলে স্থলে, কেউ উড়ে আকাশে, আবার কেউ বাস করে পানিতে। এই বৈচিত্র্য মানুষের জন্য চিন্তা ও গবেষণার এক উন্মুক্ত ক্ষেত্র তৈরি করে, যাতে মানুষ সৃষ্টিকর্তার মহিমা উপলব্ধি করতে পারে।

ইসলামি শিক্ষায় পশু-পাখির প্রতি দয়া ও দায়িত্ববোধের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যেহেতু তারা আল্লাহর সৃষ্টি, তাই তাদের প্রতি নিষ্ঠুরতা বা অবহেলা ইসলামে সমর্থিত নয়। কোরআন ও হাদিসে বারবার মানুষের ওপর অর্পিত হয়েছে সৃষ্টিজগতের প্রতি ভারসাম্য ও ন্যায়বিচার রক্ষার দায়িত্ব।

এই আয়াত মানুষকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয় জীবনের উৎস যখন পানি, তখন পরিবেশ ও পানিসম্পদ রক্ষা করা ধর্মীয় দায়িত্বের অংশ। পানির অপচয়, দূষণ কিংবা প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করা শুধু মানবজাতির জন্যই নয়, সমগ্র প্রাণিজগতের জন্য ক্ষতিকর।

সব মিলিয়ে, সূরা আন-নূরের এই আয়াত মানুষের সামনে আল্লাহর সৃষ্টির বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরে। মানুষ, পশু, পাখি সবাই একই সৃষ্টিকর্তার অধীন এবং একই প্রাকৃতিক নিয়মের অংশ। এই উপলব্ধি মানুষকে বিনয়ী করে, দায়িত্বশীল করে এবং সৃষ্টিজগতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে শেখায়।


জান্নাতে সব থাকলেও যেসব জিনিস নাই

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১২:০৫:৪৯
জান্নাতে সব থাকলেও যেসব জিনিস নাই
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী জান্নাত হলো আল্লাহ তাআলার প্রতিশ্রুত চিরস্থায়ী শান্তি ও সুখের আবাস। দুনিয়ার জীবনে যারা ঈমানের সঙ্গে নেক আমল করেন, ধৈর্য ধারণ করেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের মূল লক্ষ্য বানান তাদের জন্য জান্নাত নির্ধারিত পুরস্কার। কোরআন ও সহিহ হাদিসে জান্নাতের সৌন্দর্য, প্রশান্তি ও নিয়ামতের বিস্তারিত বর্ণনার পাশাপাশি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে দুনিয়ার কষ্টকর ও নেতিবাচক বিষয়গুলোর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।

জান্নাতে দুঃখ, শোক ও মানসিক অশান্তি নেই

কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, জান্নাতবাসীদের জন্য কোনো ভয় বা দুঃখ থাকবে না। সেখানে কান্না, হতাশা কিংবা মানসিক অস্থিরতার অবসান ঘটবে। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, জান্নাতিরা সেখানে কোনো ক্লান্তি বা কষ্ট অনুভব করবেন না (সূরা আল-বাকারা: ৬২; সূরা আল-হিজর: ৪৮)। ইসলামি ব্যাখ্যাকারদের মতে, এটি জান্নাতের পরিপূর্ণ মানসিক শান্তিরই প্রতিফলন।

মৃত্যু নেই, জীবন চিরস্থায়ী

জান্নাতে মৃত্যুর কোনো ধারণা নেই। জান্নাতিরা চিরকাল সেখানে অবস্থান করবেন। কোরআনে বলা হয়েছে, তারা সেখানে স্থায়ীভাবে থাকবে (সূরা আল-বাইয়্যিনা: ৮)। সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, জান্নাতে এক ঘোষক ঘোষণা করবেন “হে জান্নাতবাসীরা, তোমরা চিরকাল জীবিত থাকবে, আর কখনো মরবে না” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮৩৭)।

রোগ-ব্যাধি ও বার্ধক্যের অবসান

ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী জান্নাতে কোনো রোগ, ব্যথা বা শারীরিক দুর্বলতা থাকবে না। জান্নাতিরা কখনো অসুস্থ হবে না, বৃদ্ধও হবে না। তারা সর্বদা তরুণ ও সুস্থ থাকবে এমন তথ্য এসেছে হাদিসে (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৫৪৫)।

অপবিত্রতা ও দুর্গন্ধের অনুপস্থিতি

জান্নাত হবে সম্পূর্ণ পবিত্র এক জগৎ। সেখানে মল-মূত্র, ঘাম বা কোনো অপবিত্র বর্জ্য থাকবে না। হাদিসে বলা হয়েছে, জান্নাতিরা যা খাবে, তা শরীর থেকে সুগন্ধি হিসেবে নির্গত হবে (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮৩৫)। ফলে জান্নাতের পরিবেশ হবে পরিচ্ছন্ন ও মনোরম।

হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতার অবসান

কোরআনে আল্লাহ তাআলা জানাচ্ছেন, জান্নাতিদের অন্তর থেকে সব বিদ্বেষ দূর করে দেওয়া হবে এবং তারা ভাইয়ের মতো পরস্পরের মুখোমুখি বসবাস করবে (সূরা আল-হিজর: ৪৭)। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, জান্নাতবাসীদের অন্তর হবে এক ব্যক্তির অন্তরের মতো তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ বা হিংসা থাকবে না (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৪৬)।

ক্লান্তি ও পরিশ্রমহীন জীবন

দুনিয়ার জীবনের পরিশ্রম, কাজের চাপ ও ক্লান্তির কোনো কিছুই জান্নাতে থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, জান্নাতবাসীরা সেখানে কোনো ক্লান্তি অনুভব করবেন না (সূরা ফাতির: ৩৫)। ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, এটি জান্নাতের আরামদায়ক ও পরিপূর্ণ জীবনের প্রতীক।

অভাব ও অপূর্ণতার অস্তিত্ব নেই

জান্নাতে কোনো চাহিদা অপূর্ণ থাকবে না। আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জান্নাতিরা যা চাইবে, তাই পাবে; বরং তাঁর কাছে রয়েছে আরও বেশি (সূরা কাফ: ৩৫)। হাদিসে এসেছে, জান্নাতবাসীরা যা চাইবে, তা সঙ্গে সঙ্গেই দেওয়া হবে (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৫০১)।

অশ্লীলতা ও অসৌজন্যহীন পরিবেশ

কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, জান্নাতে কোনো অশ্লীল বা মন্দ কথা শোনা যাবে না; সেখানে থাকবে কেবল শান্তির বাক্য (সূরা মারিয়াম: ৬২)। ইসলামি ব্যাখ্যায় এটিকে জান্নাতের নৈতিক ও ভাষাগত পবিত্রতার নিদর্শন হিসেবে ধরা হয়।

শয়তান ও পাপের প্রলোভন নেই

জান্নাতে শয়তানের প্রবেশাধিকার নেই। কোরআনে বলা হয়েছে, শয়তান জান্নাতবাসীদের কাছে পৌঁছাতে পারবে না (সূরা আল-হিজর: ৪২)। ফলে সেখানে পাপের আহ্বান বা বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ থাকবে না।

চরম আবহাওয়ার কষ্ট নেই

জান্নাতে গরম বা ঠান্ডার কোনো অস্বস্তি থাকবে না। কোরআনে জানানো হয়েছে, জান্নাতবাসীরা ছায়ার নিচে থাকবে এবং তাদের জন্য ফলমূল ও পানীয় প্রস্তুত থাকবে (সূরা আল-মুরসালাত: ৪১–৪৩)।

কোরআন ও সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, জান্নাত এমন এক পরিপূর্ণ জগৎ যেখানে দুঃখ, মৃত্যু, রোগ, বিদ্বেষ ও অভাবের কোনো স্থান নেই। হাদিসে এসেছে, জান্নাতে এমন সব নিয়ামত রয়েছে, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয় কল্পনাও করতে পারেনি (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৪৪)। ইসলামের দৃষ্টিতে জান্নাত আল্লাহ তাআলার রহমত ও ন্যায়বিচারের সর্বোচ্চ প্রতিফলন।


আজ ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ও জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ০৯:১০:৪১
আজ ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ও জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে নামাজ দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেওয়া হবে। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও সময়মতো নামাজ আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। আজ শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি (১৩ রজব ১৪৪৭ হিজরি); আজকের নামাজের সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের জোহরের সময় শুরু হবে দুপুর ১২.০৭ মিনিটে এবং আসরের সময় বিকেল ৩.৪৮ মিনিটে। মাগরিবের আজান হবে সন্ধ্যা ৫.২৯ মিনিটে এবং এশার জামাত শুরু হবে রাত ৬.৪৬ মিনিটে। আগামীকালের (রবিবার) ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫.২৩ মিনিটে। উল্লেখ্য যে, এই সময়সূচিটি শুধুমাত্র ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকার জন্য প্রযোজ্য।

দেশের অন্যান্য বিভাগের ক্ষেত্রে ঢাকার সময়ের সাথে কিছু মিনিট যোগ বা বিয়োগ করতে হবে। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে ০৫ মিনিট এবং সিলেটের ক্ষেত্রে ০৬ মিনিট সময় বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের সাথে খুলনার জন্য ০৩ মিনিট, রাজশাহীর জন্য ০৭ মিনিট, রংপুরের জন্য ০৮ মিনিট এবং বরিশালের জন্য ০১ মিনিট সময় যোগ করে নিজ নিজ এলাকার নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে। মুমিন মুসলমানের জন্য সময়মতো নামাজ আদায় করা ইহকাল ও পরকালে মুক্তির অন্যতম প্রধান মাধ্যম।


২০২৬ সালে কখন রমজান, ঈদ ও শবে বরাতের সম্ভাব্য সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০২ ১৩:০৪:৫৯
২০২৬ সালে কখন রমজান, ঈদ ও শবে বরাতের সম্ভাব্য সূচি
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি জীবনব্যবস্থায় সময় ও দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিটি মাস ও রজনী মুসলমানদের ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক অনুশীলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ২০২৬ সালের সম্ভাব্য ইসলামি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বাংলাদেশে রমজান, ঈদ, শবে বরাত, শবে কদরসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবসগুলো একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতায় পালিত হতে পারে। তবে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী এসব দিবসের চূড়ান্ত তারিখ সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল থাকবে।

২০২৬ সালে পবিত্র শব-ই-মেরাজ পালিত হতে পারে শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে। এই রজনী মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেরাজ যাত্রার স্মরণে পালিত হয়। মুসলমানরা এ রাতে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। এরপর শব-ই-বরাত পালিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত। এই রাতকে ভাগ্য নির্ধারণের রজনী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এ উপলক্ষে মুসলমানরা ইবাদত, তওবা ও মৃতদের জন্য দোয়া করে থাকেন।

পবিত্র রমজান মাস ২০২৬ সালে শুরু হতে পারে বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হতে পারে বুধবার, ১৮ মার্চ। এই এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে সংযম, তাকওয়া ও আত্মনিয়ন্ত্রণের শিক্ষা গ্রহণ করা হয়। রমজানের শেষ শুক্রবার অর্থাৎ শুক্রবার, ১৩ মার্চ পালিত হতে পারে জুমাতুল বিদা, যা মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। রমজানের শেষ দশকের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ রাত শব-ই-কদর পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে রোববার, ১৫ মার্চ দিবাগত রাতে, যা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম বলে কোরআনে উল্লেখ রয়েছে।

এক মাস রোজা পালনের পর ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে শুক্রবার, ১৯ মার্চ অথবা শনিবার, ২০ মার্চ ২০২৬। এ দিন মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায়, ফিতরা প্রদান এবং সামাজিক সৌহার্দ্য ও আনন্দ ভাগাভাগির মাধ্যমে উৎসব পালন করেন। এরপর হজ মৌসুম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বৃহস্পতিবার, ১৪ মে থেকে। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য জীবনে একবার পবিত্র হজ আদায় ফরজ। ঈদুল আজহা পালিত হতে পারে শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, যা ত্যাগ ও কোরবানির মহান আদর্শে মুসলমানদের উদ্বুদ্ধ করে।

ইসলামি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দিন আশুরা পালিত হতে পারে বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬। এই দিন কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণে মুসলমানরা বিশেষ ইবাদত ও আত্মসংযম পালন করেন। এছাড়া মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম ও ওফাত উপলক্ষে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬।

উল্লেখ্য, উপরোক্ত সব তারিখই সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী নির্ধারিত। যেহেতু ইসলামি ক্যালেন্ডার চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, তাই স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এসব তারিখে এক বা দুই দিনের তারতম্য হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।

-রফিক


আজকের ফজর থেকে এশা, সময়সূচি প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০২ ১২:০২:২৫
আজকের ফজর থেকে এশা, সময়সূচি প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত

আজ শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী দিনটি ১৮ পৌষ ১৪৩২ এবং হিজরি ক্যালেন্ডারে ১২ রজব ১৪৪৭। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার মুসল্লিদের জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকার তথ্য অনুযায়ী, আজ জুমার নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৬ মিনিটে। দিনের দ্বিতীয় ফরজ নামাজ আসরের সময় প্রবেশ করবে বিকেল ৩টা ৪৭ মিনিটে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের আজান হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৭ মিনিটে এবং এশার নামাজের সময় শুরু হবে রাত ৬টা ৪৬ মিনিটে।

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ঘটবে সন্ধ্যা ৫টা ২৩ মিনিটে। অপরদিকে আগামীকাল শনিবার ভোরের ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।


আজ ০১ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০১ ০৯:৩৯:৩০
আজ ০১ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

নতুন বছরের প্রথম দিন আজ বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ১৭ পৌষ ১৪৩২ এবং হিজরি ১১ রজব ১৪৪৭। খ্রিষ্টীয় নববর্ষের এই সূচনালগ্নে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা। শীতের এই সময়ে দিনের দৈর্ঘ্য ও কুয়াশার আধিক্যের কারণে নামাজের সময়ের সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৬ মিনিটে। আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৩টা ৪৬ মিনিটে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৫টা ২৭ মিনিটে এবং এশার ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে। যারা জামাতের সাথে নামাজ আদায় করেন, তাদের জন্য এই সময়গুলো অনুসরণ করা জরুরি।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে। কুয়াশাচ্ছন্ন পৌষের সকালে আগামীকাল শুক্রবার ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে। সেই সাথে আগামীকালের সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে। শীতকালীন এই সময়সূচি কেবল ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য প্রযোজ্য; দেশের অন্যান্য স্থানে সময়ের কিছুটা তারতম্য হতে পারে। নতুন বছরের শুরুতে সঠিক সময়ে ইবাদত পালনের মাধ্যমে এক বরকতময় যাত্রা শুরু হোক—এমনটাই প্রত্যাশা ধর্মপ্রাণ মানুষের।


জানাজার নিয়ত, দোয়া ও তাকবির: সহজ নির্দেশনা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩১ ১০:৪৭:৩৯
জানাজার নিয়ত, দোয়া ও তাকবির: সহজ নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের জীবন যেমন পবিত্র, তেমনি মৃত্যুর পর তার মর্যাদাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তার গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফনের দায়িত্ব জীবিত মুসলমানদের ওপর ফরজে কিফায়া হিসেবে বর্তায়। অর্থাৎ সমাজের কিছু মানুষ এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে অন্যরা দায়মুক্ত হয়, কিন্তু কেউ এগিয়ে না এলে পুরো সমাজ গুনাহের অংশীদার হয়। এ কারণে জানাজার কাজ বিলম্ব না করে দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর শরিয়তে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্ককে দায়িত্ব ও সহানুভূতির ভিত্তিতে গড়ে তুলেছেন। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) ছয়টি মৌলিক অধিকারের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে মৃত্যুর পর জানাজায় শরিক হওয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, জানাজায় অংশগ্রহণ শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়, বরং একটি স্পষ্ট ধর্মীয় দায়িত্ব।

জানাজার নামাজ অন্যান্য নামাজের মতো নয়। এতে রুকু, সিজদা বা কায়দা নেই। চার তাকবিরের মাধ্যমে এই নামাজ আদায় করা হয়। প্রথম তাকবিরে হাত তুলে নিয়ত বাঁধা হয়, এরপর বাকি তাকবিরগুলোতে হাত তোলা হয় না। জানাজার নামাজে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পায়—আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ এবং মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া।

নিয়ত জানাজার নামাজের একটি অপরিহার্য অংশ। আরবি ভাষায় নিয়ত করা উত্তম হলেও কেউ আরবি না জানলে নিজের ভাষায় নিয়ত করলেও নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়। নিয়তের মূল বিষয় হলো, চার তাকবিরের সঙ্গে ফরজে কিফায়া জানাজার নামাজ আদায় করা এবং নির্দিষ্ট মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা। মৃত ব্যক্তি পুরুষ হলে নিয়তে ‘লিহাযাল মাইয়্যেতি’ এবং নারী হলে ‘লিহাযিহিল মাইয়্যেতি’ বলা হয়—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।

প্রথম তাকবিরের পর ‘সানা’ পাঠ করা হয়, যেখানে আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদ শরিফ পাঠ করা হয়, যা সাধারণ নামাজে তাশাহুদের পর পড়া দরুদের মতোই। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার প্রকাশ।

তৃতীয় তাকবিরের পর জানাজার মূল দোয়া পাঠ করা হয়। এই দোয়ায় জীবিত ও মৃত সকল মুসলমানের জন্য ক্ষমা, রহমত ও ঈমানের ওপর মৃত্যুর আবেদন জানানো হয়। এটি জানাজার নামাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ পুরো নামাজের উদ্দেশ্যই হলো মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

নাবালক ছেলে বা মেয়ের জানাজার ক্ষেত্রে দোয়ার ভাষা ভিন্ন। শিশুদের জন্য পড়া দোয়ায় তাদেরকে পিতা-মাতার জন্য সওয়াবের উৎস, অগ্রদূত এবং কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী হিসেবে কবুল করার প্রার্থনা করা হয়। এটি ইসলামে শিশুর প্রতি বিশেষ করুণা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।

চতুর্থ তাকবিরের পর সামান্য নীরবতা পালন করে ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে জানাজার নামাজ শেষ করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জানাজার নামাজ জামাতে আদায় করা হয় এবং এর কোনো কাজা নেই। কেউ দেরিতে এলে ইমামের সঙ্গে যে অবস্থায় পান সেখান থেকেই নামাজে শরিক হবেন এবং ইমামের সালামের সঙ্গে নামাজ শেষ করবেন।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী জানাজার নামাজের পর দাফন দ্রুত সম্পন্ন করা সুন্নত। অহেতুক বিলম্ব করা অনুচিত। দাফনের সময় মৃত ব্যক্তিকে কিবলামুখী করে কবরে শোয়ানো হয় এবং দোয়ার মাধ্যমে তার জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়।


জানাজার নিয়ত, দোয়া ও তাকবির: সহজ নির্দেশনা

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ৩১ ১০:৪৭:৩৯
জানাজার নিয়ত, দোয়া ও তাকবির: সহজ নির্দেশনা
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের জীবন যেমন পবিত্র, তেমনি মৃত্যুর পর তার মর্যাদাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তার গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফনের দায়িত্ব জীবিত মুসলমানদের ওপর ফরজে কিফায়া হিসেবে বর্তায়। অর্থাৎ সমাজের কিছু মানুষ এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে অন্যরা দায়মুক্ত হয়, কিন্তু কেউ এগিয়ে না এলে পুরো সমাজ গুনাহের অংশীদার হয়। এ কারণে জানাজার কাজ বিলম্ব না করে দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর শরিয়তে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্ককে দায়িত্ব ও সহানুভূতির ভিত্তিতে গড়ে তুলেছেন। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) ছয়টি মৌলিক অধিকারের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে মৃত্যুর পর জানাজায় শরিক হওয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, জানাজায় অংশগ্রহণ শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়, বরং একটি স্পষ্ট ধর্মীয় দায়িত্ব।

জানাজার নামাজ অন্যান্য নামাজের মতো নয়। এতে রুকু, সিজদা বা কায়দা নেই। চার তাকবিরের মাধ্যমে এই নামাজ আদায় করা হয়। প্রথম তাকবিরে হাত তুলে নিয়ত বাঁধা হয়, এরপর বাকি তাকবিরগুলোতে হাত তোলা হয় না। জানাজার নামাজে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পায়—আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ এবং মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া।

নিয়ত জানাজার নামাজের একটি অপরিহার্য অংশ। আরবি ভাষায় নিয়ত করা উত্তম হলেও কেউ আরবি না জানলে নিজের ভাষায় নিয়ত করলেও নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়। নিয়তের মূল বিষয় হলো, চার তাকবিরের সঙ্গে ফরজে কিফায়া জানাজার নামাজ আদায় করা এবং নির্দিষ্ট মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা। মৃত ব্যক্তি পুরুষ হলে নিয়তে ‘লিহাযাল মাইয়্যেতি’ এবং নারী হলে ‘লিহাযিহিল মাইয়্যেতি’ বলা হয়—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।

প্রথম তাকবিরের পর ‘সানা’ পাঠ করা হয়, যেখানে আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদ শরিফ পাঠ করা হয়, যা সাধারণ নামাজে তাশাহুদের পর পড়া দরুদের মতোই। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার প্রকাশ।

তৃতীয় তাকবিরের পর জানাজার মূল দোয়া পাঠ করা হয়। এই দোয়ায় জীবিত ও মৃত সকল মুসলমানের জন্য ক্ষমা, রহমত ও ঈমানের ওপর মৃত্যুর আবেদন জানানো হয়। এটি জানাজার নামাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ পুরো নামাজের উদ্দেশ্যই হলো মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

নাবালক ছেলে বা মেয়ের জানাজার ক্ষেত্রে দোয়ার ভাষা ভিন্ন। শিশুদের জন্য পড়া দোয়ায় তাদেরকে পিতা-মাতার জন্য সওয়াবের উৎস, অগ্রদূত এবং কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী হিসেবে কবুল করার প্রার্থনা করা হয়। এটি ইসলামে শিশুর প্রতি বিশেষ করুণা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।

চতুর্থ তাকবিরের পর সামান্য নীরবতা পালন করে ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে জানাজার নামাজ শেষ করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জানাজার নামাজ জামাতে আদায় করা হয় এবং এর কোনো কাজা নেই। কেউ দেরিতে এলে ইমামের সঙ্গে যে অবস্থায় পান সেখান থেকেই নামাজে শরিক হবেন এবং ইমামের সালামের সঙ্গে নামাজ শেষ করবেন।

ইসলামী বিধান অনুযায়ী জানাজার নামাজের পর দাফন দ্রুত সম্পন্ন করা সুন্নত। অহেতুক বিলম্ব করা অনুচিত। দাফনের সময় মৃত ব্যক্তিকে কিবলামুখী করে কবরে শোয়ানো হয় এবং দোয়ার মাধ্যমে তার জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত