নূহ (আ.)-এর প্রতি তার জাতির ৫টি অভিযোগের জবাব

হজরত আদম (আ.)-এর ইন্তেকালের কয়েকশো বছর পর যখন মানুষ শয়তানের ধোঁকায় ধীরে ধীরে মূর্তিপূজা ও শিরক করতে শুরু করে, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের মাঝে নবী হিসেবে পাঠান হজরত নূহ (আ.)-কে। কোরআনে তার নামে একটি সুরা রয়েছে এবং মোট ২৮টি সুরায় ৮১টি আয়াতে তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
হজরত নূহ (আ.) সাড়ে নয়শো বছর বেঁচে ছিলেন এবং এই দীর্ঘ সময় ধরে অক্লান্তভাবে দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়ে যান। তিনি তার জাতিকে বলেন, “হে আমার জাতি, তোমরা আল্লাহর এবাদত করো, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নাই। তবু কি তোমরা সাবধান হবে না?” (সুরা মুমিনুন: ২৩)। কিন্তু তার সম্প্রদায়ের লোকেরা তার দাওয়াতে সাড়া না দিয়ে কানে আঙুল দিয়ে, নিজেকে কাপড় দিয়ে আড়াল করে সটকে পড়েছে।
কোরআনে হজরত নূহের (আ.) জাতির অবিশ্বাসীরা যে পাঁচটি প্রধান অভিযোগ এনেছিল, তা তুলে ধরা হয়েছে। প্রত্যেক নবীর প্রতিই অবিশ্বাসীরা এই পাঁচটি অভিযোগ করেছে এবং আল্লাহ তাআলা প্রতিটি অভিযোগের জবাব দিয়েছেন।
নূহ (আ.)-এর প্রতি অবিশ্বাসীদের ৫টি অভিযোগ ও জবাব
১. প্রথম অভিযোগ: নবী তো রক্ত-মাংসের মানুষ
অবিশ্বাসীরা বলত: তুমি তো আমাদের মতোই রক্ত-মাংসের মানুষ, কোনো ফেরেশতা নও। তাহলে তোমাকে আল্লাহর নবী হিসেবে মানতে হবে কেন?
জবাব: আল্লাহ যাকে নির্বাচিত করেন, তিনিই নবী হন। আল্লাহ মানুষের জন্য মানুষের মধ্য থেকেই নবী নির্বাচন করেন। কোরআনে বলা হয়েছে, কাফেররা সব সময়ই সংশয় প্রকাশ করে, আল্লাহ যদি কোনো ফেরেশতাকেও নবী বানিয়ে পাঠাতেন, তবুও তারা সংশয় করত। (সুরা আনআম: ৯)
২. দ্বিতীয় অভিযোগ: বাপ-দাদার মতাদর্শ ত্যাগ
অবিশ্বাসীরা যুক্তি দিত: তুমি যেসব কথাবার্তা বলো, বাপ-দাদা কারও মুখে এমন কথা শুনিনি। বাপ-দাদার মতাদর্শ ত্যাগ করে তোমার নতুন মতাদর্শ আমরা কেন গ্রহণ করব?
জবাব: পূর্বপুরুষদের মতাদর্শ শুনলেই তা ঠিক হবে এমন নয়। জ্ঞানচর্চায় ভুল প্রমাণিত হতে পারে। মৌলিকভাবে দেখতে হবে যিনি কথা বলছেন তিনি সত্যবাদী কিনা। (সুরা আরাফ: ৬১-৬২)
৩. তৃতীয় অভিযোগ: ক্ষমতার লোভ
তারা অভিযোগ করত: তোমার আসল ধান্ধা হলো ক্ষমতা, তুমি আমাদের নেতা হতে চাও।
জবাব: হজরত নূহ (আ.) এই অভিযোগের জবাবে বলেন, “এই দাওয়াতের বিনিময়ে আমি তোমাদের কাছে কোনো ধন-সম্পদ বা বিনিময় চাই না। আমার পুরস্কার তো শুধু বিশ্বপালকের নিকটেই রয়েছে।” (সুরা শুআরা: ১০৯)
৪. চতুর্থ অভিযোগ: নিম্নশ্রেণির লোকজনের অনুসরণ
তাদের অভিযোগ ছিল: তোমার সঙ্গী-সাথী হলো সমাজের সব নিম্নশ্রেণির জাহেল লোকজন। অভিজাত লোকেরা তোমার ধার ধারে না।
জবাব: হজরত নূহ (আ.) বলেন, “আমি কোনো (দরিদ্র) ইমানদার ব্যক্তিকে তাড়িয়ে দিতে পারি না। তারা অবশ্যই তাদের পালনকর্তার সান্নিধ্য লাভে ধন্য হবে। বরং আমি দেখছি তোমরাই জাহেল।” (সুরা হুদ: ২৯)
৫. পঞ্চম অভিযোগ: সম্পদশালী না হওয়া
তারা বলত: তুমি তো নেতা বা সম্পদশালী কেউ নও। তাহলে তুমি কীভাবে নবী হলে? আমরা তোমার অনুসরণ কেন করবো?
জবাব: হজরত নূহ (আ.) বলেন, “আমি তোমাদের বলি না, আমার কাছে আল্লাহর ধন-ভাণ্ডার আছে, আর না আমি গায়েব জানি এবং আমি এটাও বলি না যে, আমি ফেরেশতা।” (সুরা হুদ: ৩১) অর্থাৎ, একজন নবীর মূল দায়িত্ব মানুষকে আল্লাহর দিকে ডাকা। আল্লাহ তার ইচ্ছা অনুযায়ী তার কোনো বান্দাকে নবী হিসেবে নির্বাচিত করেন।
শিক্ষণীয় বিষয়
এই প্রতিটি অভিযোগই ছিল মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে আসার অজুহাত। হজরত নূহ (আ.) অসীম ধৈর্যশীলতার সাথে তার দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। তার জীবন থেকে আমরা শিক্ষা পাই যে, মানুষ অভিযোগ করবেই, কিন্তু নিজের লক্ষ্যে অবিচল থাকতে হবে।
২০২৬ সালে কখন রমজান, ঈদ ও শবে বরাতের সম্ভাব্য সূচি
ইসলামি জীবনব্যবস্থায় সময় ও দিনের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিটি মাস ও রজনী মুসলমানদের ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক অনুশীলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ২০২৬ সালের সম্ভাব্য ইসলামি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বাংলাদেশে রমজান, ঈদ, শবে বরাত, শবে কদরসহ গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবসগুলো একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিকতায় পালিত হতে পারে। তবে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী এসব দিবসের চূড়ান্ত তারিখ সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল থাকবে।
২০২৬ সালে পবিত্র শব-ই-মেরাজ পালিত হতে পারে শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি দিবাগত রাতে। এই রজনী মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মেরাজ যাত্রার স্মরণে পালিত হয়। মুসলমানরা এ রাতে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। এরপর শব-ই-বরাত পালিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত। এই রাতকে ভাগ্য নির্ধারণের রজনী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এ উপলক্ষে মুসলমানরা ইবাদত, তওবা ও মৃতদের জন্য দোয়া করে থাকেন।
পবিত্র রমজান মাস ২০২৬ সালে শুরু হতে পারে বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং শেষ হতে পারে বুধবার, ১৮ মার্চ। এই এক মাস সিয়াম সাধনার মাধ্যমে সংযম, তাকওয়া ও আত্মনিয়ন্ত্রণের শিক্ষা গ্রহণ করা হয়। রমজানের শেষ শুক্রবার অর্থাৎ শুক্রবার, ১৩ মার্চ পালিত হতে পারে জুমাতুল বিদা, যা মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ। রমজানের শেষ দশকের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ রাত শব-ই-কদর পালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে রোববার, ১৫ মার্চ দিবাগত রাতে, যা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম বলে কোরআনে উল্লেখ রয়েছে।
এক মাস রোজা পালনের পর ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে শুক্রবার, ১৯ মার্চ অথবা শনিবার, ২০ মার্চ ২০২৬। এ দিন মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায়, ফিতরা প্রদান এবং সামাজিক সৌহার্দ্য ও আনন্দ ভাগাভাগির মাধ্যমে উৎসব পালন করেন। এরপর হজ মৌসুম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বৃহস্পতিবার, ১৪ মে থেকে। সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য জীবনে একবার পবিত্র হজ আদায় ফরজ। ঈদুল আজহা পালিত হতে পারে শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, যা ত্যাগ ও কোরবানির মহান আদর্শে মুসলমানদের উদ্বুদ্ধ করে।
ইসলামি ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দিন আশুরা পালিত হতে পারে বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬। এই দিন কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণে মুসলমানরা বিশেষ ইবাদত ও আত্মসংযম পালন করেন। এছাড়া মহানবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম ও ওফাত উপলক্ষে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬।
উল্লেখ্য, উপরোক্ত সব তারিখই সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী নির্ধারিত। যেহেতু ইসলামি ক্যালেন্ডার চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল, তাই স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এসব তারিখে এক বা দুই দিনের তারতম্য হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঘোষিত সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।
-রফিক
আজকের ফজর থেকে এশা, সময়সূচি প্রকাশ
আজ শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী দিনটি ১৮ পৌষ ১৪৩২ এবং হিজরি ক্যালেন্ডারে ১২ রজব ১৪৪৭। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার মুসল্লিদের জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকার তথ্য অনুযায়ী, আজ জুমার নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৬ মিনিটে। দিনের দ্বিতীয় ফরজ নামাজ আসরের সময় প্রবেশ করবে বিকেল ৩টা ৪৭ মিনিটে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের আজান হবে সন্ধ্যা ৫টা ২৭ মিনিটে এবং এশার নামাজের সময় শুরু হবে রাত ৬টা ৪৬ মিনিটে।
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ঘটবে সন্ধ্যা ৫টা ২৩ মিনিটে। অপরদিকে আগামীকাল শনিবার ভোরের ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ৪২ মিনিটে।
সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।
আজ ০১ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
নতুন বছরের প্রথম দিন আজ বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ১৭ পৌষ ১৪৩২ এবং হিজরি ১১ রজব ১৪৪৭। খ্রিষ্টীয় নববর্ষের এই সূচনালগ্নে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা। শীতের এই সময়ে দিনের দৈর্ঘ্য ও কুয়াশার আধিক্যের কারণে নামাজের সময়ের সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, আজ জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৬ মিনিটে। আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৩টা ৪৬ মিনিটে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৫টা ২৭ মিনিটে এবং এশার ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে। যারা জামাতের সাথে নামাজ আদায় করেন, তাদের জন্য এই সময়গুলো অনুসরণ করা জরুরি।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে। কুয়াশাচ্ছন্ন পৌষের সকালে আগামীকাল শুক্রবার ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫টা ২৫ মিনিটে। সেই সাথে আগামীকালের সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে। শীতকালীন এই সময়সূচি কেবল ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য প্রযোজ্য; দেশের অন্যান্য স্থানে সময়ের কিছুটা তারতম্য হতে পারে। নতুন বছরের শুরুতে সঠিক সময়ে ইবাদত পালনের মাধ্যমে এক বরকতময় যাত্রা শুরু হোক—এমনটাই প্রত্যাশা ধর্মপ্রাণ মানুষের।
জানাজার নিয়ত, দোয়া ও তাকবির: সহজ নির্দেশনা
ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের জীবন যেমন পবিত্র, তেমনি মৃত্যুর পর তার মর্যাদাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তার গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফনের দায়িত্ব জীবিত মুসলমানদের ওপর ফরজে কিফায়া হিসেবে বর্তায়। অর্থাৎ সমাজের কিছু মানুষ এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে অন্যরা দায়মুক্ত হয়, কিন্তু কেউ এগিয়ে না এলে পুরো সমাজ গুনাহের অংশীদার হয়। এ কারণে জানাজার কাজ বিলম্ব না করে দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর শরিয়তে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্ককে দায়িত্ব ও সহানুভূতির ভিত্তিতে গড়ে তুলেছেন। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) ছয়টি মৌলিক অধিকারের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে মৃত্যুর পর জানাজায় শরিক হওয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, জানাজায় অংশগ্রহণ শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়, বরং একটি স্পষ্ট ধর্মীয় দায়িত্ব।
জানাজার নামাজ অন্যান্য নামাজের মতো নয়। এতে রুকু, সিজদা বা কায়দা নেই। চার তাকবিরের মাধ্যমে এই নামাজ আদায় করা হয়। প্রথম তাকবিরে হাত তুলে নিয়ত বাঁধা হয়, এরপর বাকি তাকবিরগুলোতে হাত তোলা হয় না। জানাজার নামাজে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পায়—আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ এবং মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া।
নিয়ত জানাজার নামাজের একটি অপরিহার্য অংশ। আরবি ভাষায় নিয়ত করা উত্তম হলেও কেউ আরবি না জানলে নিজের ভাষায় নিয়ত করলেও নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়। নিয়তের মূল বিষয় হলো, চার তাকবিরের সঙ্গে ফরজে কিফায়া জানাজার নামাজ আদায় করা এবং নির্দিষ্ট মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা। মৃত ব্যক্তি পুরুষ হলে নিয়তে ‘লিহাযাল মাইয়্যেতি’ এবং নারী হলে ‘লিহাযিহিল মাইয়্যেতি’ বলা হয়—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।
প্রথম তাকবিরের পর ‘সানা’ পাঠ করা হয়, যেখানে আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদ শরিফ পাঠ করা হয়, যা সাধারণ নামাজে তাশাহুদের পর পড়া দরুদের মতোই। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার প্রকাশ।
তৃতীয় তাকবিরের পর জানাজার মূল দোয়া পাঠ করা হয়। এই দোয়ায় জীবিত ও মৃত সকল মুসলমানের জন্য ক্ষমা, রহমত ও ঈমানের ওপর মৃত্যুর আবেদন জানানো হয়। এটি জানাজার নামাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ পুরো নামাজের উদ্দেশ্যই হলো মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা।
নাবালক ছেলে বা মেয়ের জানাজার ক্ষেত্রে দোয়ার ভাষা ভিন্ন। শিশুদের জন্য পড়া দোয়ায় তাদেরকে পিতা-মাতার জন্য সওয়াবের উৎস, অগ্রদূত এবং কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী হিসেবে কবুল করার প্রার্থনা করা হয়। এটি ইসলামে শিশুর প্রতি বিশেষ করুণা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।
চতুর্থ তাকবিরের পর সামান্য নীরবতা পালন করে ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে জানাজার নামাজ শেষ করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জানাজার নামাজ জামাতে আদায় করা হয় এবং এর কোনো কাজা নেই। কেউ দেরিতে এলে ইমামের সঙ্গে যে অবস্থায় পান সেখান থেকেই নামাজে শরিক হবেন এবং ইমামের সালামের সঙ্গে নামাজ শেষ করবেন।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী জানাজার নামাজের পর দাফন দ্রুত সম্পন্ন করা সুন্নত। অহেতুক বিলম্ব করা অনুচিত। দাফনের সময় মৃত ব্যক্তিকে কিবলামুখী করে কবরে শোয়ানো হয় এবং দোয়ার মাধ্যমে তার জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়।
জানাজার নিয়ত, দোয়া ও তাকবির: সহজ নির্দেশনা
ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের জীবন যেমন পবিত্র, তেমনি মৃত্যুর পর তার মর্যাদাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মুসলমান মৃত্যুবরণ করলে তার গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফনের দায়িত্ব জীবিত মুসলমানদের ওপর ফরজে কিফায়া হিসেবে বর্তায়। অর্থাৎ সমাজের কিছু মানুষ এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে অন্যরা দায়মুক্ত হয়, কিন্তু কেউ এগিয়ে না এলে পুরো সমাজ গুনাহের অংশীদার হয়। এ কারণে জানাজার কাজ বিলম্ব না করে দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর শরিয়তে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুসলমানদের পারস্পরিক সম্পর্ককে দায়িত্ব ও সহানুভূতির ভিত্তিতে গড়ে তুলেছেন। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) ছয়টি মৌলিক অধিকারের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে মৃত্যুর পর জানাজায় শরিক হওয়াকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, জানাজায় অংশগ্রহণ শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়, বরং একটি স্পষ্ট ধর্মীয় দায়িত্ব।
জানাজার নামাজ অন্যান্য নামাজের মতো নয়। এতে রুকু, সিজদা বা কায়দা নেই। চার তাকবিরের মাধ্যমে এই নামাজ আদায় করা হয়। প্রথম তাকবিরে হাত তুলে নিয়ত বাঁধা হয়, এরপর বাকি তাকবিরগুলোতে হাত তোলা হয় না। জানাজার নামাজে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্ব পায়—আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ এবং মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া।
নিয়ত জানাজার নামাজের একটি অপরিহার্য অংশ। আরবি ভাষায় নিয়ত করা উত্তম হলেও কেউ আরবি না জানলে নিজের ভাষায় নিয়ত করলেও নামাজ শুদ্ধ হয়ে যায়। নিয়তের মূল বিষয় হলো, চার তাকবিরের সঙ্গে ফরজে কিফায়া জানাজার নামাজ আদায় করা এবং নির্দিষ্ট মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা। মৃত ব্যক্তি পুরুষ হলে নিয়তে ‘লিহাযাল মাইয়্যেতি’ এবং নারী হলে ‘লিহাযিহিল মাইয়্যেতি’ বলা হয়—এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য।
প্রথম তাকবিরের পর ‘সানা’ পাঠ করা হয়, যেখানে আল্লাহ তায়ালার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদ শরিফ পাঠ করা হয়, যা সাধারণ নামাজে তাশাহুদের পর পড়া দরুদের মতোই। এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার প্রকাশ।
তৃতীয় তাকবিরের পর জানাজার মূল দোয়া পাঠ করা হয়। এই দোয়ায় জীবিত ও মৃত সকল মুসলমানের জন্য ক্ষমা, রহমত ও ঈমানের ওপর মৃত্যুর আবেদন জানানো হয়। এটি জানাজার নামাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ পুরো নামাজের উদ্দেশ্যই হলো মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা।
নাবালক ছেলে বা মেয়ের জানাজার ক্ষেত্রে দোয়ার ভাষা ভিন্ন। শিশুদের জন্য পড়া দোয়ায় তাদেরকে পিতা-মাতার জন্য সওয়াবের উৎস, অগ্রদূত এবং কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী হিসেবে কবুল করার প্রার্থনা করা হয়। এটি ইসলামে শিশুর প্রতি বিশেষ করুণা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।
চতুর্থ তাকবিরের পর সামান্য নীরবতা পালন করে ডান ও বাম দিকে সালাম ফিরিয়ে জানাজার নামাজ শেষ করা হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জানাজার নামাজ জামাতে আদায় করা হয় এবং এর কোনো কাজা নেই। কেউ দেরিতে এলে ইমামের সঙ্গে যে অবস্থায় পান সেখান থেকেই নামাজে শরিক হবেন এবং ইমামের সালামের সঙ্গে নামাজ শেষ করবেন।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী জানাজার নামাজের পর দাফন দ্রুত সম্পন্ন করা সুন্নত। অহেতুক বিলম্ব করা অনুচিত। দাফনের সময় মৃত ব্যক্তিকে কিবলামুখী করে কবরে শোয়ানো হয় এবং দোয়ার মাধ্যমে তার জন্য আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়।
আজ ৩১ ডিসেম্বরের নামাজের সময়সূচি
আজ বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫। বছরের শেষ এই দিনে আমাদের চারপাশের ব্যস্ততার মাঝেও আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও সময়মতো ইবাদত পালনের জন্য নামাজের সঠিক সময়সূচি জানা অত্যন্ত জরুরি। আজ ১৬ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ এবং ১০ রজব ১৪৪৭ হিজরি। রাজধানী ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার (বসুন্ধরা, ঢাকা) কর্তৃক নির্ধারিত নামাজের সময়সূচি প্রকাশিত হয়েছে।
বছরের শেষ এই দিনটিতে ঢাকায় জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে ১২টা ০৫ মিনিটে। বিকেলের আসরের নামাজ শুরু হবে ৩টা ৪৬ মিনিটে। সূর্যাস্তের পরপরই মাগরিবের সময় শুরু হবে ৫টা ২৬ মিনিটে এবং রাতের শেষ ফরজ নামাজ এশার সময় শুরু হবে ৬টা ৪৪ মিনিটে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য বছরের এই শেষ রাতটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, যা ইবাদত ও আত্মসমালোচনার মধ্য দিয়ে কাটানো শ্রেয়।
আজকের দিনের শেষ সূর্য বিদায় নেবে বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে। বছরের শেষ সূর্যাস্তের পর আগামীকাল ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে। যারা আগামীকাল বছরের প্রথম ফজরের নামাজ আদায় করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ২৪ মিনিটে। উল্লেখ্য যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই সময়ের সাথে কয়েক মিনিট যোগ বা বিয়োগ হতে পারে। তাই স্থানীয় মসজিদের সাথে সময় মিলিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
থার্টি ফার্স্ট নাইটে মুসলিমদের করণীয় নিয়ে যা বলেন ইসলামি স্কলাররা
খ্রিস্টীয় ক্যালেন্ডার বা গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে 'থার্টি ফার্স্ট নাইট' উদযাপন আধুনিক বিশ্বে একটি প্রচলিত সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। তবে ইসলামি জীবনদর্শনে এই বিজাতীয় সংস্কৃতি অনুসরণ করাকে সরাসরি 'হারাম' ও 'অপসংস্কৃতি' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিশিষ্ট ওলামায়ে কেরাম ও গবেষকরা। ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, অন্য কোনো ধর্মের ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক রীতিনীতি মুসলিমদের জন্য পালন করা সম্পূর্ণ অবৈধ।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি ইসলাম (ইসলামী রীতিনীতি) ছাড়া অন্যকোনো ধর্মের অনুসরণ করবে, কখনো তার সেই আমল গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সুরা আল ইমরান, আয়াত ৮৫)। এই আয়াতের আলোকে ইসলামি স্কলাররা বলছেন, থার্টি ফার্স্ট নাইটের মতো উৎসবগুলো মূলত পৌত্তলিক বা বিজাতীয় ধর্মবিশ্বাস থেকে উদ্ভূত, যা একজন মুমিনের বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, “যে ব্যক্তি অন্য জাতির সঙ্গে আচার-আচরণে, সভ্যতা-সংস্কৃতিতে সামঞ্জস্য গ্রহণ করবে, সে তাদের দলভুক্ত বলে বিবেচিত হবে।” (সুনানে আবু দাউদ, ৪০৩১)।
সম্প্রতি এক জুমার আলোচনায় জনপ্রিয় ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ এই উৎসবের ঐতিহাসিক ও নৈতিক ক্ষতির দিকগুলো তুলে ধরেছেন। তিনি জানান যে, প্রাচীন পারস্যের সম্রাট জামশিদ এবং পরবর্তীতে রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজারের হাত ধরে এই নববর্ষের প্রচলন হয়। এটি মূলত খ্রিস্টীয় পোপ গ্রেগরির নামানুসারে প্রবর্তিত একটি উৎসব। শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, “প্রাচীনকালে পারস্যের প্রকৃতি পূজারিরা বিশ্বাস করত যে বছরের প্রথম দিনটি আনন্দ-ফুর্তিতে কাটালে সারা বছর ভালো যাবে। অথচ এই ধরনের অযৌক্তিক কুসংস্কার আজও আমাদের বিজ্ঞানমনস্ক সমাজের মানুষের মধ্যে গেঁথে আছে।”
ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো উৎসব পালন করতে হলে কোরআন, সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরামের আমলের প্রামাণ্যতা থাকা জরুরি। শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে শরিয়তের দুটি মৌলিক শর্ত চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়। প্রথমত, এটি একটি বিজাতীয় সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ। দ্বিতীয়ত, এর মাধ্যমে মানুষের হক বা নাগরিক শান্তি বিঘ্নিত হয়। বিকট শব্দে আতশবাজি ও সাউন্ডবক্স ব্যবহারের ফলে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েন। এমনকি ফানুসের আগুনে দগ্ধ হওয়ার মতো মর্মান্তিক ঘটনাও প্রতিবছর ঘটে থাকে। এছাড়া পবিত্র কোরআনে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলা হয়েছে, অথচ এই রাতে কোটি কোটি টাকা অনর্থক কাজে ব্যয় করা হয়।
নতুন বছরকে স্বাগত জানানো নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, একটি নতুন বছর আসা মানে নতুন কিছু পাওয়া নয়, বরং আমাদের জীবন থেকে একটি বছরের পাতা ঝরে যাওয়া এবং মৃত্যুর দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। তিনি মুমিনদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, থার্টি ফার্স্ট নাইটের রাতে নেশা ও উন্মাদনায় মত্ত না হয়ে বরং বিগত জীবনের গুনাহের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে তওবা করা এবং আগামী দিনগুলোর জন্য নেক পরিকল্পনা করাই প্রকৃত বুদ্ধিমানের কাজ।
রাতে ঘুমানোর আগে শক্তিশালী আমল জেনে নিন
ইসলামে রাতের ঘুম শুধু শারীরিক বিশ্রাম নয়; এটি আত্মিক নিরাপত্তা, ইমানি সংরক্ষণ এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘুমানোর আগে কিছু নির্দিষ্ট আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন, যা বান্দাকে শয়তানের কুমন্ত্রণা, অদৃশ্য বিপদ এবং দুশ্চিন্তা থেকে হেফাজত করে। নিয়মিত এসব আমল পালনের মাধ্যমে একজন মুমিন শান্ত ঘুম, অন্তরের প্রশান্তি এবং আল্লাহর রহমত লাভ করতে পারেন।
ঘুমের আগে সর্বপ্রথম যে আমলটি গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো আয়াতুল কুরসি একবার পাঠ করা। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি এটি পড়ে ঘুমায়, তার ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা পাহারা দেন এবং শয়তান সকাল পর্যন্ত তার কাছে আসতে পারে না।
এরপর ইস্তেগফার অন্তত ১০০ বার পাঠ করা উত্তম। “আস্তাগফিরুল্লাহ” বান্দার গুনাহ মোচন করে, অন্তর পরিষ্কার করে এবং দিনের অজান্তে হওয়া ভুলের জন্য আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ দেয়। অনেক আলেম ঘুম না আসা পর্যন্ত ইস্তেগফারে লিপ্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
ঘুমানোর আগে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস প্রতিটি তিনবার পড়ে শরীরে ফুঁ দেওয়া সুন্নত। এটি জাদু, হিংসা, বদনজর ও অশুভ শক্তি থেকে সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত কার্যকর আমল।
এরপর দরুদ শরিফ অন্তত ১০ বার পাঠ করা হৃদয়কে নরম করে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গে আত্মিক সংযোগ দৃঢ় করে। দরুদের মাধ্যমে দোয়া কবুলের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়।
রাতে ঘুমানোর আগে তাসবিহে ফাতিমা আদায় করা সুন্নত। অর্থাৎ সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার এবং আল্লাহু আকবার ৩৩ বার পাঠ করা। এটি দৈহিক ক্লান্তি দূর করে এবং অন্তরে শক্তি সঞ্চার করে।
অনেক আলেম ঘুমের আগে বিসমিল্লাহ ২১ বার পাঠ করার কথা উল্লেখ করেছেন, যা অশুভ প্রভাব থেকে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ১০০ বার পাঠ করা ইমানকে নবায়ন করে।
রাতে শুয়ে সূরা মুলক সম্পূর্ণ পাঠ করলে কবরের আজাব থেকে রক্ষা পাওয়ার সুসংবাদ রয়েছে। এ ছাড়া সূরা কাফিরুন একবার পাঠ করা শিরকের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকার প্রতীক।
ঘুমানোর আগে সূরা ফাতিহা ও কালেমা তামজিদ চারবার এবং সূরা ইখলাস ও দরুদ শরিফ তিনবার পাঠ করাও আত্মিক প্রশান্তির জন্য উপকারী।
বিশেষ একটি ক্ষমাপ্রার্থনার দোয়া-
“আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি, লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আজিম”
এটি ১০ বার পাঠ করলে অন্তরের ভার হালকা হয় এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনের অনুভূতি জাগ্রত হয়।
ঘুমানোর শারীরিক সুন্নতের মধ্যে রয়েছে ডান কাতে শোয়া, ওজু করে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুমের নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ করা। এসব আমল একজন মুসলমানকে ইবাদতের অবস্থায় ঘুমাতে সহায়তা করে।
সবশেষে, ঘুমানোর আগে মৃত মুসলিমদের জন্য দোয়া করা এবং সবার প্রতি অন্তর থেকে ক্ষমা করে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি হৃদয়ের হিংসা, বিদ্বেষ ও রাগ দূর করে এবং শান্তিপূর্ণ ঘুম নিশ্চিত করে।
আজ ২৯ ডিসেম্বরের নামাজের সময়সূচি
ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে নামাজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। মহানবী (সা.) এর হাদিস অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন বান্দার আমলের মধ্যে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর আবশ্যিক। আজ সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫ (১৪ পৌষ ১৪৩২ বাংলা, ৮ রজব ১৪৪৭ হিজরি)—আপনার ইবাদতকে সহজ করতে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো।
ঢাকার জন্য আজকের নামাজের সময়:
জোহর: দুপুর ১২:০৪ মিনিট
আসর: বিকেল ৩:৪৬ মিনিট
মাগরিব: সন্ধ্যা ৫:২২ মিনিট
এশা: সন্ধ্যা ৬:৪২ মিনিট
ফজর (আগামীকাল মঙ্গলবার): ভোর ৫:২০ মিনিট
বিভাগীয় সময়ের ব্যবধান: ঢাকার সময়ের সঙ্গে আপনার এলাকার নামাজের সময় সমন্বয় করে নিতে নিচের নিয়মটি অনুসরণ করুন।
বিয়োগ করতে হবে: চট্টগ্রাম থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেট থেকে ৬ মিনিট।
যোগ করতে হবে: খুলনা থেকে ৩ মিনিট, রাজশাহী থেকে ৭ মিনিট, রংপুর থেকে ৮ মিনিট এবং বরিশাল থেকে ১ মিনিট।
নামাজ শুধু একটি ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নয়, এটি আত্মার শান্তি এবং শৃঙ্খলার মূল চাবিকাঠি। তাই যতই কাজ থাকুক না কেন, আজানের পরপরই নামাজের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া মুমিনের পরিচয়।
পাঠকের মতামত:
- এক লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রে মাসিক মুনাফা কমল যত
- শেয়ারবাজারের সাপ্তাহিক পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- পেটের আলসার: কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
- সংসদের বেতন ছাড়া কিছুই নেব না: হাসনাত
- বিয়ের আগে পুরুষদের ত্বক উজ্জ্বল রাখার সহজ উপায়
- "স্লো পয়জনিং খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে"
- ২০২৬ ক্রিকেট ক্যালেন্ডার: থামার ফুরসত নেই বাংলাদেশের
- ৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
- ২০২৬ সালে কখন রমজান, ঈদ ও শবে বরাতের সম্ভাব্য সূচি
- জানাজার পর কবর জিয়ারতে খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা
- ম্যাচ জয়ের পুরস্কার, রিপন পেলেন যত টাকার বোনাস
- স্থগিত প্রাথমিক পরীক্ষা কবে জানাল শিক্ষা অধিদপ্তর
- ঢাকায় শীতের দাপট নিয়ে যা জানাল আবহাওয়া অফিস
- আজকের ফজর থেকে এশা, সময়সূচি প্রকাশ
- হুহু করে আবার কমল স্বর্ণের দাম
- গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন, সতর্কবার্তা তিতাসের
- টাকা ছাড়াই ব্রিটিশ কাউন্সিলের ফ্রি কোর্স: ২০২৬-এর বড় সুযোগ
- সাত বছরে মুফতি ফয়জুল করীমের আয় বেড়ে দ্বিগুণ
- বেগম জিয়ার ঐক্যের পথে চলতে চায় জামায়াত: জামায়াত আমির
- শীতে সুস্থ থাকতে নারীদের খেয়াল রাখতে হবে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে
- শূন্য সম্পদ নিয়ে সাবেক মন্ত্রীর প্রতিপক্ষ তুষার
- ২০২৬ সালে মেগা বাজেটের বিস্ফোরণ: পর্দা কাঁপাতে আসছে সেরারা
- ভিপি সাদিক কায়েমকে যে পরামর্শ দিলেন তারেক রহমান
- ৪৬তম বিসিএসের ভাইভার চূড়ান্ত তারিখ প্রকাশ
- আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে এলে সব দায়িত্ব নেব: জামায়াত নেতা
- নরম নীতি’র যুগ শেষ, অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে কঠোর আসামের মুখ্যমন্ত্রী
- সম্পদের পাহাড়ে ছাত্রনেতা মাসউদ: বাবার চেয়ে ৫ গুণ বিত্তবান ছেলে
- ইসলামী দলকে ভোট দিতে জনগণ এখন প্রস্তুত: ডা. সৈয়দ তাহের
- রণক্ষেত্র আগারগাঁও, বিটিআরসি কার্যালয় লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইট
- নতুন বছরে যেসব মাসে টানা ৪ থেকে ১০ দিন ছুটির সুযোগ জানুন
- ১ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০টি শেয়ার
- ১ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০টি শেয়ার
- একীভূত ব্যাংকে কত টাকা তুলবেন, জানুন নিয়ম
- সঞ্চয়পত্রে মুনাফা আরও কমলো, জানুন নতুন হার
- প্রকাশ হলো ২০২৬ সালের ব্যাংক ছুটির পূর্ণ তালিকা
- ওরিয়ন ফার্মা ও ইনফিউশনের নতুন ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ
- এক ধাপে বড় কমতি স্বর্ণের দামে
- বৃহস্পতিবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে জেনে নিন আগেই
- পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের দৈনিক এনএভি প্রকাশ
- রেকর্ড ডেটের আগে দুই কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে বিধিনিষেধ
- নতুন বছরের প্রথম দিনেই শেয়ারবাজারে শক্ত উত্থান
- ০১ জানুয়ারি ২০২৬ হালনাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার দর
- ১৭ জেলায় শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি
- ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের বিষয়ে যা বললেন ডা. শফিক
- শীতে শখের রঙিন মাছ মরে যাচ্ছে? মাছ বাঁচাতে ৪টি বিশেষ টিপস
- শীতে হাত পা ফাটলে কী করবেন? ৫টি ঘরোয়া টোটকা জানুন আজই
- শীতে ফুসফুস সুরক্ষিত রাখার ৫ উপায়
- পুরো বাংলাদেশই আজ আমার পরিবার: তারেক রহমান
- শীতে টনসিল থেকে রক্ষা পাওয়ার ঘরোয়া উপায় ও চিকিৎসকের টিপস
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন মূল্য
- পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় সুখবর
- সাধারণের নাগালের বাইরে সোনার বাজার: মধ্যবিত্তের সোনা কেনার স্বপ্ন কি তবে শেষ
- এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি পিছাল, নতুন তারিখ ঘোষণা
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- সোনার বাজারে সুখবর! কমল দাম যত
- ঢাকা-১৫ জামায়াত আমিরের বিপক্ষে নামলেন যে বিএনপি প্রার্থী
- বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে নীরবে কেঁদেছেন তারেক রহমান
- ২০২৬ সালে স্কুলে ছুটি কমলো ১২ দিন, দেখে নিন তালিকা
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ১৪৪ ধারা: কেন্দ্রে প্রবেশের নতুন নিয়ম
- হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা থেকে মুক্তি কবে? যা জানাল আবহাওয়া অফিস
- ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা: আজই দেখে নিন রুটিন
- ই-রিটার্ন দাখিলে আর বাধা নেই: বড় সুখবর দিল রাজস্ব বোর্ড আজ
- বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় রেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫








