বিশেষ প্রতিবেদন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: প্রস্তুতির সার্বিক চিত্র ও টাইমলাইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রায় সব মৌলিক প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে। খসড়া ভোটকেন্দ্র তালিকা প্রণয়ন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনি উপকরণ সংগ্রহ ও বিতরণ, নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, দেশি পর্যবেক্ষক অনুমোদন এবং মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ—সবকিছু এখন নির্দিষ্ট টাইমলাইনে এগোচ্ছে। ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে। আর সে লক্ষ্যেই ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।
ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ
ইসির প্রকাশিত খসড়া অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে ভোটগ্রহণের জন্য মোট ৪২,৬১৮টি ভোটকেন্দ্র প্রস্তাব করা হয়েছে। গড়ে প্রতি তিন হাজার ভোটারের জন্য একটি কেন্দ্র রাখা হয়েছে। পুরুষদের জন্য প্রতি ৬০০ জনে একটি ভোটকক্ষ এবং নারীদের জন্য প্রতি ৫০০ জনে একটি ভোটকক্ষ ধরে মোট ২,৪৪,০৪৬টি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষদের জন্য ১,১৪,৯৩৯টি এবং নারীদের জন্য ১,২৯,১০৭টি কক্ষ। খসড়ার ওপর আসা দাবি–আপত্তি নিষ্পত্তির পর ২০ অক্টোবর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
ভোটার তালিকা হালনাগাদ
হালনাগাদ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর ১৮ নভেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। খসড়া তালিকা মুদ্রণ ও প্রকাশিত হবে ১ নভেম্বর, এবং সংশোধন ও আপত্তি দাখিলের শেষ সময় ১৬ নভেম্বর। এভাবে ধাপে ধাপে আপডেট শেষে নতুন ভোটারসহ সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
উপকরণ সংগ্রহ ও বিতরণ
নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের প্রায় ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যেই হাতে এসেছে। স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে গালা, ব্যালট বাক্সের লক, অফিসিয়াল সিল, মার্কিং সিল, ব্রাশ সিল, হেসিয়ান বড় ও ছোট ব্যাগ, গানি ব্যাগসহ মোট আটটি উপকরণ। পাশাপাশি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপার ও কালিও মজুদ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় স্ট্যাম্প প্যাড ও ইন্ডেলিবল ইঙ্ক সরবরাহ করা হবে। ১৬ নভেম্বরের মধ্যে মাঠ পর্যায়ে সব উপকরণ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি।
কর্মকর্তা নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ
ভোটগ্রহণে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের তালিকা প্রস্তুত এবং ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে ইসি। প্রশিক্ষণের মধ্যে থাকছে—ভোটগ্রহণ পদ্ধতি, আইন–শৃঙ্খলা সমন্বয়, এবং নতুন প্রযুক্তি বা সরঞ্জামেরব্যবহার। এসবপ্রশিক্ষণশেষ করা হবে ডিসেম্বরের তফসিল ঘোষণার আগেই, যাতে ভোটের দিন কোনো ধরনের জটিলতা না থাকে।
নতুন দল ও পর্যবেক্ষক নিবন্ধন
নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলমান। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি নতুন দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে। একইসঙ্গে দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোরও নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ভোটের সময় মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চালাতে পারে।
সময়রেখা (টাইমলাইন)
- ২০ অক্টোবর: ভোটকেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকা
- ১ নভেম্বর: খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ
- ১৬ নভেম্বর: আপত্তি ও সংশোধনের শেষ তারিখ
- ১৭ নভেম্বর: সংশোধনী নিষ্পত্তি
- ১৮ নভেম্বর: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ
- ১৬ নভেম্বরের মধ্যে: মাঠপর্যায়ে সব সরঞ্জাম বিতরণ সম্পন্ন
- ডিসেম্বরের প্রথমার্ধ: তফসিল ঘোষণা
- ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (প্রথমার্ধ): ভোটগ্রহণ
সবকিছু মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ইসির প্রস্তুতি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে—কেন্দ্র–কক্ষ চূড়ান্তকরণ, ভোটার তালিকা হালনাগাদ, উপকরণ সংগ্রহ–বিতরণ ও মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ নির্দিষ্ট সময়রেখা মেনে এগোচ্ছে। এখন মূল নজর থাকবে শেষ মাইলের লজিস্টিক্স বিতরণ, সংবেদনশীল কেন্দ্রের নিরাপত্তা পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ–সিমুলেশনের গুণগত মান এবং আপিল–আপত্তি নিষ্পত্তির স্বচ্ছতায়। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মনোনয়ন, যাচাই–বাছাই, প্রতীক বরাদ্দ ও প্রচারণা—সব ধাপ দ্রুতগতিতে চলবে; সেক্ষেত্রে আন্তঃসংস্থার সমন্বয়, সাপ্লাই–চেইনের ধারাবাহিকতা ও মাঠকর্মীদের সক্ষমতাই হবে সুষ্ঠু ভোটের নির্ণায়ক। বয়স্ক, নারী, প্রতিবন্ধী ও দূরবর্তী এলাকার ভোটারদের জন্য সহজপ্রাপ্য সেবা ও তথ্য–সহায়তা নিশ্চিত করা সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পিত প্রস্তুতি, সময়মতো বাস্তবায়ন ও জবাবদিহির মানদণ্ড বজায় থাকলে—ডিসেম্বরে তফসিল ও ফেব্রুয়ারিতে ভোট—এই দুই মাইলস্টোনই একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য নির্বাচনের দিকে দেশকে এগিয়ে নেবে।
৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি আরও ন্যায্য, আধুনিক ও বৈষম্যহীন বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত নবম জাতীয় বেতন কমিশন–২০২৫ দ্রুতগতিতে তাদের কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে। কমিশনের নির্ধারিত একটি সভা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত রাষ্ট্রীয় শোক ও সাধারণ ছুটির কারণে অনুষ্ঠিত না হলেও, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে যে খুব শিগগিরই নতুন তারিখ নির্ধারণ করে কমিশনের সদস্যদের জানানো হবে।
কমিশনের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় বর্তমান বেতন কাঠামোর গ্রেড ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক মতামত উঠে এসেছে। প্রধানত তিনটি বিকল্প প্রস্তাব ঘিরেই চলছে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা। প্রথম প্রস্তাবে বলা হচ্ছে, বিদ্যমান ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত রেখে শুধু বেতন, ইনক্রিমেন্ট ও ভাতাসমূহ জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বাড়ানো যেতে পারে। এই মতের সমর্থকদের ধারণা, কাঠামো পরিবর্তনের চেয়ে বাস্তব বেতন বৃদ্ধিই কর্মচারীদের জন্য বেশি কার্যকর হবে।
দ্বিতীয় প্রস্তাবনায় বর্তমান ২০টি গ্রেড কমিয়ে ১৬টিতে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। এতে গ্রেডগুলোর মধ্যকার ব্যবধান কমবে এবং নিম্নস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই কাঠামোকে একটি মধ্যপন্থী সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তৃতীয় ও সবচেয়ে ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাবে গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে ১৪টিতে আনার কথা বলা হয়েছে। কমিশনের একটি অংশের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বেতন বৈষম্য অনেকটাই দূর হবে এবং একটি আধুনিক, কর্মীবান্ধব ও তুলনামূলকভাবে সমতাভিত্তিক বেতন কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
কমিশনের মতে, বর্তমানে গ্রেড সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিম্ন ধাপের কর্মচারীরা ক্রমাগত আর্থিক চাপে পড়ছেন এবং উচ্চ গ্রেডের সঙ্গে তাদের ব্যবধান বাড়ছে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন কমিশন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও কর্মচারী সংগঠন থেকে পাওয়া হাজার হাজার মতামত গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকার গত ২৭ জুলাই নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে এবং প্রথম সভা থেকেই ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশমালা জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেয়। আনুষ্ঠানিক সময়সীমা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও, কমিশন সূত্র জানিয়েছে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগেই চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীরা এই কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাদের প্রত্যাশা, গ্রেড কাঠামোতে যৌক্তিক সংস্কার হলে তা শুধু আর্থিক স্বস্তিই নয়, বরং দীর্ঘদিনের পেশাগত হতাশা ও বৈষম্য কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
-রাফসান
৪৬তম বিসিএসের ভাইভার চূড়ান্ত তারিখ প্রকাশ
৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) মাসুমা আফরীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৮ জানুয়ারি থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হবে এবং তা চলবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত।
এবারের মৌখিক পরীক্ষার জন্য মোট ১ হাজার ৩৬১ জন প্রার্থীর সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ ক্যাডারের ৩৯০ জন, কারিগরি বা পেশাগত ক্যাডারের ৭৩৮ জন এবং সাধারণ ও কারিগরি উভয় ক্যাডারের ১৩৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। এর আগে গত ২৭ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছিল, যেখানে ৪ হাজার ৪২ জন প্রার্থী সাময়িকভাবে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচিও পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের জন্য বিশেষ কিছু নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে। মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীদের কমিশন নির্ধারিত অনলাইন ফরম (BPSC Form-1) এর সাথে প্রয়োজনীয় সকল সনদ ও ডকুমেন্টের দুই সেট সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। পাশাপাশি মূল সনদসমূহ বোর্ডে প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক। পরীক্ষার বিস্তারিত সূচি পিএসসির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (www.bpsc.gov.bd) এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের পোর্টালে (http://bpsc.teletalk.com.bd) পাওয়া যাবে। সরকারি চাকরিতে ৩ হাজার ১৪০টি শূন্য পদের বিপরীতে এই ৪৬তম বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হচ্ছে।
নতুন বছরে যেসব মাসে টানা ৪ থেকে ১০ দিন ছুটির সুযোগ জানুন
২০২৬ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। নতুন বছরের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য এবার বেশ কয়েকবার লম্বা ছুটি কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ থাকছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২০২৬ সালে সাধারণ ছুটি ১৪ দিন এবং নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে আরও ১৪ দিন। যদিও এর মধ্যে ৯ দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন অর্থাৎ শুক্র ও শনিবার, তবুও কৌশলী হলে বিভিন্ন মাসে দীর্ঘ অবকাশ যাপনের সুযোগ মিলবে।
ফেব্রুয়ারি মাসে শবে বরাতের ছুটির সঙ্গে একদিনের ছুটি ম্যানেজ করলেই মিলবে টানা ৪ দিনের ছুটি। তবে সবচাইতে বড় চমক থাকছে মার্চ ও মে মাসে। মার্চে ঈদুল ফিতর ও শবে কদরের মাঝে মাত্র একদিনের ছুটি নিতে পারলে টানা ৭ দিনের লম্বা ছুটি উপভোগ করা যাবে। একইভাবে মে মাসে ঈদুল আজহার ছুটির আগে মাত্র দুই দিন বাড়তি ছুটি নিলেই পাওয়া যাবে টানা ১০ দিনের বিশাল অবকাশ। এপ্রিল মাসে পহেলা বৈশাখের ছুটির সঙ্গে দুই দিন সমন্বয় করলে টানা ৫ দিনের ছুটির সুযোগ রয়েছে।
বছরের দ্বিতীয়ার্ধেও ছুটির আমেজ বজায় থাকবে। আগস্ট মাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ও ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটির সঙ্গে বৃহস্পতিবার করে বাড়তি ছুটি নিলে দুই দফায় টানা ৪ দিন করে ছুটি পাওয়া যাবে। অক্টোবর মাসে দুর্গাপূজার নবমী ও বিজয়া দশমীর ছুটির সঙ্গে এক দিন যোগ করলে টানা ৫ দিন এবং ডিসেম্বর মাসে বিজয় দিবসের ছুটির সঙ্গে একদিন মিলিয়ে টানা ৪ দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ থাকছে। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালটি সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ভ্রমণে বা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর দারুণ একটি বছর হতে যাচ্ছে।
প্রকাশ হলো ২০২৬ সালের ব্যাংক ছুটির পূর্ণ তালিকা
২০২৬ সালে সরকারি ছুটি ও ব্যাংক হলিডে মিলিয়ে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক মোট ২৮ দিন বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন (ডিওএস) এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত সরকারি ছুটির প্রজ্ঞাপনের আলোকে এই ব্যাংক ছুটির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, নির্ধারিত দিনগুলোতে দেশের সব ব্যাংকে কোনো ধরনের লেনদেন কার্যক্রম পরিচালিত হবে না।
ছুটির তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিভিন্ন জাতীয় দিবস, ধর্মীয় উৎসব ও গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ্যে মোট ২৮ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে ৬টি দিন আবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারের সঙ্গে মিলে গেছে। পাশাপাশি, আলাদা করে ব্যাংক হলিডে হিসেবে ১ জুলাই এবং বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর দেশের সব ব্যাংকে লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ছুটির তালিকায় উল্লেখযোগ্য দিনগুলোর মধ্যে রয়েছে ৪ ফেব্রুয়ারি শবে বরাত, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, ১৭ মার্চ শবে কদর এবং ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদুল ফিতর ও জুমাতুল বিদা উপলক্ষে ছুটি। এছাড়া ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসেও ব্যাংক বন্ধ থাকবে।
এ তালিকায় আরও রয়েছে ১৩ এপ্রিল চৈত্র সংক্রান্তি, যা শুধুমাত্র পার্বত্য তিন জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের জন্য প্রযোজ্য। ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ, ১ মে মহান মে দিবস ও বুদ্ধ পূর্ণিমা, ২৬ থেকে ৩১ মে ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা ছুটি থাকবে ব্যাংকগুলোতে।
এছাড়া ২৬ জুন পবিত্র আশুরা, ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস, ২৬ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), ৪ সেপ্টেম্বর জন্মাষ্টমী, ২০ ও ২১ অক্টোবর দুর্গাপূজার নবমী ও বিজয়া দশমী, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস এবং ২৫ ডিসেম্বর যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন উপলক্ষেও ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ধর্মীয় উৎসব সংশ্লিষ্ট কিছু ছুটির তারিখ চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় প্রয়োজনে এসব তারিখ পরিবর্তন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সংশোধিত তারিখ অনুযায়ী আলাদা নির্দেশনা জারি করা হবে।
এই নির্দেশনা দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া যায়।
-রফিক
নিষেধাজ্ঞা ভেঙে মধ্যরাতে পটকার বিকট শব্দে কাঁপল ঢাকা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হলেও রাজধানী ঢাকায় তার তেমন প্রতিফলন দেখা যায়নি। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কঠোর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ৩১ ডিসেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে পটকা ও আতশবাজি ফুটিয়ে ২০২৬ সালকে বরণ করে নিয়েছে নগরবাসী। ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানীর প্রায় প্রতিটি এলাকায় আতশবাজির ঝলকানি আর পটকার বিকট শব্দে এক অস্থির পরিবেশ তৈরি হয়।
রাষ্ট্রীয় শোক চলাকালীন ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানোতে আগেই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ডিএমপি। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছিল—উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ডিজে পার্টি বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। কিন্তু নতুন বছরের প্রথম প্রহরে পুলিশের সেই নির্দেশনার লেশমাত্র দেখা যায়নি। রাত ১১টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পটকা ফাটানো শুরু হয়, যা গভীর রাত পর্যন্ত স্থায়ী ছিল।
ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, পুরান ঢাকা থেকে শুরু করে গুলশান-বনানী—সবখানেই ছিল আতশবাজির দাপট। তবে অতীতের তুলনায় এবার ফানুসের সংখ্যা কিছুটা কম লক্ষ্য করা গেছে। এই উচ্চশব্দের কারণে অনেক এলাকায় ছোট শিশু ও বয়স্করা শারীরিকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েন এবং জনমনে তীব্র বিরক্তির সৃষ্টি হয়। উচ্চশব্দে গাড়ির হর্ন বাজানো এবং গণ-উপদ্রব সৃষ্টি না করার জন্য পুলিশের যে বিশেষ অনুরোধ ছিল, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা উপেক্ষিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শোকের গাম্ভীর্য ছাপিয়ে থার্টি ফার্স্ট নাইটের এই উন্মাদনা এখন খোদ পুলিশের সক্ষমতা ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পাকিস্তান ও নেপালের প্রতিনিধিদের সাক্ষাৎ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শ্রদ্ধা জানাতে আসা বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা পৃথকভাবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে এদিন দক্ষিণ এশিয়ার প্রভাবশালী দেশগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিরা ঢাকায় সমবেত হন। এই তালিকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডি এন ধুংগিয়েল, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ এবং মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী আলী হায়দার আহমেদ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। প্রিয় নেত্রীকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি তাঁরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপকালে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সংহতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য যে, বুধবার বাদ জোহর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিদেশি প্রতিনিধিদের পাশাপাশি তিন বাহিনীর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশেই তাঁকে সমাহিত করা হয়। বরেণ্য এই নেত্রীর মৃত্যুতে বিদেশি অতিথিদের এমন উচ্চপর্যায়ের উপস্থিতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক তাৎপর্যপূর্ণ মাত্রা যোগ করেছে।
হাড়কাঁপানো শীতের ইতিহাস, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা কবে কত ছিল?
বছরের শেষ দিনে এসে শীতের তীব্রতায় কাঁপছে পুরো বাংলাদেশ। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) গোপালগঞ্জ জেলায় দেশের এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষক আবু সুফিয়ান জানিয়েছেন, সকাল ৬টায় যখন এই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, তখন বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯৭ শতাংশ। ঘন কুয়াশা আর কনকনে উত্তুরে হাওয়ায় উত্তরবঙ্গসহ দেশের অন্তত ২১টি জেলায় বর্তমানে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা জনজীবনকে পুরোপুরি বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
চলতি বছরের এই ঠান্ডার দাপট দেশবাসীকে অতীতে ঘটে যাওয়া চরম শীতের রেকর্ডগুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। বাংলাদেশের আবহাওয়ার ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ডটি ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারির। সেদিন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পারদ নেমে এসেছিল অবিশ্বাস্য ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। একই দিনে নীলফামারীর ডিমলা ও সৈয়দপুরেও তাপমাত্রা ৩ ডিগ্রির নিচে নেমে গিয়েছিল। এর আগে ১৯৬৮ সালে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল, যা দেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন তাপমাত্রার নজির।
সাম্প্রতিক বছরগুলোর রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৩ সালে সৈয়দপুরে ৩ ডিগ্রি এবং ১৯৯৬ সালে দিনাজপুরে ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০১৭ সালে কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫ ডিগ্রি। এ বছরও ডিসেম্বর মাসজুড়ে সূর্যের দেখা না মেলায় এবং ঘন কুয়াশার কারণে দিনের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ২১টিরও বেশি জেলায় শৈত্যপ্রবাহ জারি থাকায় ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। বছরের শেষ দিনে গোপালগঞ্জের এই রেকর্ড আগামী জানুয়ারি মাসে আরও তীব্র শীতের পূর্বাভাস দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে এখন বড় উদ্বেগ কাজ করছে জনমনে।
জাতি এক মহান অভিভাবককে হারাল: প্রধান উপদেষ্টা
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে দেশবাসীর উদ্দেশে আবেগঘন ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রীয় মাধ্যমে দেওয়া এই ভাষণে তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ এক মহান অভিভাবককে হারাল। তাঁর এই শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।” প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে বেগম জিয়াকে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের এক অম্লান প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন।
ড. ইউনূস তাঁর ভাষণে বেগম জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, ১৯৮২ সালে এক কঠিন সময়ে রাজনীতির মাঠে এসে তিনি ৯ বছরের স্বৈরশাসনের পতন ঘটাতে যে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তা বিশ্বরাজনীতির ইতিহাসে বিরল। তিনি উল্লেখ করেন যে, খালেদা জিয়া শুধুমাত্র একটি দলের নেত্রী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক মহিমান্বিত ব্যক্তিত্ব ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক যাত্রা এবং প্রিয় মাতৃভূমির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবিচল ভূমিকা জাতি চিরকাল পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
শোকাতুর এই সময়ে দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বিশেষভাবে সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, জাতির এই কঠিন সময়ে কেউ যেন কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ না পায়। তিনি জানাজাসহ সব ধরণের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা অত্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন। বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্য ও লক্ষ লক্ষ কর্মীর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি মহান আল্লাহর কাছে তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য, বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ সংগ্রাম এবং দেশের প্রতি তাঁর অনন্য অবদানকে সম্মান জানিয়ে বর্তমান সরকার তাঁকে রাষ্ট্রের ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে উঠে আসা এই গভীর শ্রদ্ধা ও মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক মতপার্থক্য ছাপিয়ে এক জাতীয় সংহতির আবহ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা।
জনসমুদ্রে পরিণত সংসদ ভবন,চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে রাজধানী ঢাকায় এক আবেগঘন ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদ জোহর দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে তাঁর নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে যে, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার বদলে এবার মরদেহবাহী কফিনটি রাখা হবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে। সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে মুসল্লিদের জন্য জানাজার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে বেগম জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হবে। দাফন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে জিয়া উদ্যানে নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। জানাজা ও দাফন চলাকালীন নিরাপত্তার খাতিরে এভারকেয়ার হাসপাতাল, সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকায় ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশনায় ২ জানুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরণের আতশবাজি, ফানুস ও ডিজে পার্টি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বিজিডিসিএল এবং ট্রাফিক পুলিশের দেওয়া রুট ম্যাপ অনুযায়ী, এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে বেগম জিয়ার মরদেহ গুলশানের বাসভবন 'ফিরোজা' হয়ে বিজয় সরণি ও উড়োজাহাজ ক্রসিং দিয়ে সংসদ ভবনের ৬ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করবে। জানাজায় অংশগ্রহণকারী সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে আজ বিশেষ মেট্রো ট্রেন সার্ভিস চালু করেছে ডিএমটিসিএল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো বা জন-উপদ্রব সৃষ্টিকারী কোনো কাজ না করার জন্য কঠোর বার্তা দিয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোকের এই দিনে সবাইকে সর্বোচ্চ সংযম ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাঠকের মতামত:
- ৯ম পে স্কেলে আমূল পরিবর্তন, সরকারি চাকরিতে বেতনে বড় সুখবর
- ২০২৬ সালে কখন রমজান, ঈদ ও শবে বরাতের সম্ভাব্য সূচি
- জানাজার পর কবর জিয়ারতে খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা
- ম্যাচ জয়ের পুরস্কার, রিপন পেলেন যত টাকার বোনাস
- স্থগিত প্রাথমিক পরীক্ষা কবে জানাল শিক্ষা অধিদপ্তর
- ঢাকায় শীতের দাপট নিয়ে যা জানাল আবহাওয়া অফিস
- আজকের ফজর থেকে এশা, সময়সূচি প্রকাশ
- হুহু করে আবার কমল স্বর্ণের দাম
- গ্যাস সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন, সতর্কবার্তা তিতাসের
- টাকা ছাড়াই ব্রিটিশ কাউন্সিলের ফ্রি কোর্স: ২০২৬-এর বড় সুযোগ
- সাত বছরে মুফতি ফয়জুল করীমের আয় বেড়ে দ্বিগুণ
- বেগম জিয়ার ঐক্যের পথে চলতে চায় জামায়াত: জামায়াত আমির
- শীতে সুস্থ থাকতে নারীদের খেয়াল রাখতে হবে যেসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে
- শূন্য সম্পদ নিয়ে সাবেক মন্ত্রীর প্রতিপক্ষ তুষার
- ২০২৬ সালে মেগা বাজেটের বিস্ফোরণ: পর্দা কাঁপাতে আসছে সেরারা
- ভিপি সাদিক কায়েমকে যে পরামর্শ দিলেন তারেক রহমান
- ৪৬তম বিসিএসের ভাইভার চূড়ান্ত তারিখ প্রকাশ
- আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে এলে সব দায়িত্ব নেব: জামায়াত নেতা
- নরম নীতি’র যুগ শেষ, অবৈধ বাংলাদেশি হটাতে কঠোর আসামের মুখ্যমন্ত্রী
- সম্পদের পাহাড়ে ছাত্রনেতা মাসউদ: বাবার চেয়ে ৫ গুণ বিত্তবান ছেলে
- ইসলামী দলকে ভোট দিতে জনগণ এখন প্রস্তুত: ডা. সৈয়দ তাহের
- রণক্ষেত্র আগারগাঁও, বিটিআরসি কার্যালয় লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইট
- নতুন বছরে যেসব মাসে টানা ৪ থেকে ১০ দিন ছুটির সুযোগ জানুন
- ১ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে দরপতনের শীর্ষ ১০টি শেয়ার
- ১ জানুয়ারি শেয়ারবাজারে দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০টি শেয়ার
- একীভূত ব্যাংকে কত টাকা তুলবেন, জানুন নিয়ম
- সঞ্চয়পত্রে মুনাফা আরও কমলো, জানুন নতুন হার
- প্রকাশ হলো ২০২৬ সালের ব্যাংক ছুটির পূর্ণ তালিকা
- ওরিয়ন ফার্মা ও ইনফিউশনের নতুন ক্রেডিট রেটিং প্রকাশ
- এক ধাপে বড় কমতি স্বর্ণের দামে
- বৃহস্পতিবার ঢাকার যেসব মার্কেট বন্ধ থাকবে জেনে নিন আগেই
- পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের দৈনিক এনএভি প্রকাশ
- রেকর্ড ডেটের আগে দুই কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে বিধিনিষেধ
- নতুন বছরের প্রথম দিনেই শেয়ারবাজারে শক্ত উত্থান
- ০১ জানুয়ারি ২০২৬ হালনাগাদ বৈদেশিক মুদ্রার দর
- ১৭ জেলায় শৈত্যপ্রবাহের সতর্কতা জারি
- ভারতীয় কূটনীতিকদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের বিষয়ে যা বললেন ডা. শফিক
- শীতে শখের রঙিন মাছ মরে যাচ্ছে? মাছ বাঁচাতে ৪টি বিশেষ টিপস
- শীতে হাত পা ফাটলে কী করবেন? ৫টি ঘরোয়া টোটকা জানুন আজই
- শীতে ফুসফুস সুরক্ষিত রাখার ৫ উপায়
- পুরো বাংলাদেশই আজ আমার পরিবার: তারেক রহমান
- শীতে টনসিল থেকে রক্ষা পাওয়ার ঘরোয়া উপায় ও চিকিৎসকের টিপস
- স্বর্ণের দামে নতুন বছরের শুরুতেই স্বস্তি: আজ থেকে কার্যকর নতুন দর
- এর চেয়েও বহুগুণ বিকট আওয়াজ তোমাকে দিশেহারা করার অপেক্ষায়: আজহারী
- আজ ০১ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
- নতুন বছরে কমল জ্বালানি তেলের দাম: আজ থেকে কার্যকর নতুন মূল্য
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সূচি
- উৎসবহীন ২০২৬-এর পথচলা: হাড়কাঁপানো ঠান্ডা আর শোকের চাদরে ঢাকা দেশ
- আজ ঢাবির ভর্তি যুদ্ধ: আছে এমআইএসটি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ খবর
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫
- আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন মূল্য
- পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের জন্য বড় সুখবর
- আজ থেকে শুরু বিপিএলের দ্বাদশ আসর, জানুন পূর্ণাঙ্গ সময়সূচী
- সাধারণের নাগালের বাইরে সোনার বাজার: মধ্যবিত্তের সোনা কেনার স্বপ্ন কি তবে শেষ
- এমবিবিএস-বিডিএস ভর্তি পিছাল, নতুন তারিখ ঘোষণা
- আজকের স্বর্ণের দাম: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
- সোনার বাজারে সুখবর! কমল দাম যত
- ঢাকা-১৫ জামায়াত আমিরের বিপক্ষে নামলেন যে বিএনপি প্রার্থী
- বাবার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে নীরবে কেঁদেছেন তারেক রহমান
- ২০২৬ সালে স্কুলে ছুটি কমলো ১২ দিন, দেখে নিন তালিকা
- প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ১৪৪ ধারা: কেন্দ্রে প্রবেশের নতুন নিয়ম
- হাড়কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশা থেকে মুক্তি কবে? যা জানাল আবহাওয়া অফিস
- ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা: আজই দেখে নিন রুটিন








