চাঁদ কি হারিয়ে যাবে? মহাকাশ গবেষণায় নতুন তথ্য

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ সেপ্টেম্বর ১৮ ০৯:৪৫:২৮
চাঁদ কি হারিয়ে যাবে? মহাকাশ গবেষণায় নতুন তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

পৃথিবী থেকে চাঁদ প্রতি বছর ৩.৮ সেন্টিমিটার করে দূরে সরে যাচ্ছে। এটি একটি ধীর প্রক্রিয়া যা কোটি কোটি বছর ধরে চলছে। এই দূরত্ব স্থির নয়, ফলে এর ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করছেন। সম্প্রতি, এই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কেন দূরে সরছে চাঁদ?

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী স্টিফেন ডিকারবির মতে, জোয়ার-ভাটার শক্তি এবং কৌণিক ভরবেগের কারণে চাঁদ পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সূর্য ও চাঁদের মহাকর্ষীয় টানের ফলে পৃথিবীতে জোয়ার-ভাটার সৃষ্টি হয়। এই জোয়ারের স্ফীতি পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে চাঁদের আকর্ষণ থেকে কিছুটা এগিয়ে থাকে। এই স্ফীতি চাঁদকে সামনের দিকে ঠেলে দেয়, যা চাঁদকে অতিরিক্ত শক্তি যোগায় এবং তার কক্ষপথকে সামান্য প্রসারিত করে।

একই সময়ে, চাঁদও পাল্টা টানে পৃথিবীর ঘূর্ণন গতিকে ধীর করে দেয়। এর ফলে পৃথিবীর দিনের দৈর্ঘ্য প্রতি শতাব্দীতে প্রায় ২.৩ মিলিসেকেন্ড করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি পদার্থবিজ্ঞানের কৌণিক ভরবেগের সংরক্ষণ নীতি দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়। এই নীতি অনুসারে, যখন পৃথিবীর ঘূর্ণনগতির কৌণিক ভরবেগ কমে যায়, তখন চাঁদের কক্ষপথের কৌণিক ভরবেগ বেড়ে যায়, যার ফলে চাঁদ পৃথিবী থেকে দূরে সরে যায়।

চাঁদের দূরত্ব পরিমাপের পদ্ধতি

বিজ্ঞানীরা মহাকাশযান ও নভোচারীদের দ্বারা স্থাপন করা বিশেষ আয়নার মাধ্যমে চাঁদের দূরত্ব পরিমাপ করেন। ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ মিশনে এই প্রতিফলকগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। পৃথিবী থেকে লেজার রশ্মি পাঠানো হয়, যা এই প্রতিফলকগুলোতে আঘাত করে ফিরে আসে। এই লেজার রশ্মির যাতায়াতের সময় পরিমাপ করে বিজ্ঞানীরা চাঁদের সঠিক দূরত্ব নির্ধারণ করেন। এই পদ্ধতি ব্যবহার করেই জানা গেছে, চাঁদ ধীরে ধীরে পৃথিবী থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

ভবিষ্যতের প্রভাব

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চাঁদ যে গতিতে দূরে সরছে, তাতে নিকট ভবিষ্যতে কোনো বিপদের আশঙ্কা নেই। তবে কোটি কোটি বছর পর এর ফলে পৃথিবীতে দিনের দৈর্ঘ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে এবং জোয়ার-ভাটার তীব্রতা কমে যাবে। চাঁদ দূরে সরে গেলে পৃথিবীর জলবায়ু ও প্রাণ ধারণের পরিবেশ পরিবর্তিত হতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন। তবে এই প্রক্রিয়াটি শুধুমাত্র চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, মহাবিশ্বের অন্যান্য গ্রহ এবং তাদের উপগ্রহের মধ্যেও এমন প্রবণতা দেখা যায়।

সূত্র: এনডিটিভি


ব্যবহৃত ফোন হস্তান্তরের আগে জানুন ডি-রেজিস্ট্রেশন নিয়ম

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১৩:৩৭:৪১
ব্যবহৃত ফোন হস্তান্তরের আগে জানুন ডি-রেজিস্ট্রেশন নিয়ম
ছবি: সংগৃহীত

নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফোনের সিমকার্ড পরিবর্তন, অন্য কাউকে ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর কিংবা বিক্রির আগে অবশ্যই হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে বলে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। নতুন এই নিয়ম না মানলে ভবিষ্যতে সিম ও হ্যান্ডসেট ব্যবহারে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেম পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে। এই ব্যবস্থার আওতায় বর্তমানে দেশের নেটওয়ার্কে সচল সব মোবাইল ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের আওতায় এসেছে।

বিটিআরসি জানিয়েছে, এখন থেকে কোনো গ্রাহক যদি নিজের নামে নিবন্ধিত হ্যান্ডসেটে নতুন সিম ব্যবহার করতে চান, অন্য কাউকে ফোনটি দিতে চান কিংবা সেটি বিক্রি করতে চান, তাহলে আগে অবশ্যই ফোনটির নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। অর্থাৎ জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত সংশ্লিষ্ট হ্যান্ডসেটকে এনইআইআর সিস্টেম থেকে অবমুক্ত বা ডি-রেজিস্টার করতে হবে।

এই ডি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গ্রাহকের সিম কেনার সময় ব্যবহৃত জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে ব্যবহৃত বা পুরোনো মোবাইল ফোন বিক্রি কিংবা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে।

যেভাবে করবেন মোবাইল ডি-রেজিস্ট্রেশন

ডি-রেজিস্ট্রেশনের জন্য গ্রাহকরা দুটি সহজ পদ্ধতির যেকোনো একটি ব্যবহার করতে পারবেন।

১. এনইআইআর সিটিজেন পোর্টাল ব্যবহার করে

গ্রাহককে neir.btrc.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে এনইআইআর পোর্টালে লগ ইন করতে হবে। এরপর ড্যাশবোর্ড থেকে সংশ্লিষ্ট ডিভাইস নির্বাচন করে ‘ডি-রেজিস্টার’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করলে ডি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

২. ইউএসএসডি কোডের মাধ্যমে

মোবাইল ফোনের কল অপশনে গিয়ে *১৬১৬১# ডায়াল করতে হবে। এরপর নির্দেশনা অনুসরণ করে ডি-রেজিস্ট্রেশন অপশনে প্রবেশ করে প্রক্রিয়াটি শেষ করা যাবে।

বিটিআরসি আরও জানিয়েছে, ডি-রেজিস্ট্রেশনের সময় গ্রাহকের ফোনে যে সিমটি ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি অবশ্যই তার নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত হতে হবে। অন্যথায় ডি-রেজিস্ট্রেশন কার্যকর হবে না।

এ ছাড়া ক্লোন বা ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বরযুক্ত হ্যান্ডসেট ডি-রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে পরবর্তী ব্যবহারকারীর সিম নম্বর দিতে হতে পারে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা ও হালনাগাদ তথ্য জানতে বিটিআরসির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে বিটিআরসির কল সেন্টার নম্বর ১০০ অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকেও সহায়তা নেওয়া যাবে।

বিটিআরসি বলছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অবৈধ ও চোরাই মোবাইল ফোন ব্যবহার রোধ, গ্রাহকের পরিচয় সুরক্ষা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

-রাফসান


চাঁদ জয় কি তবে স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে? নাসার ঐতিহাসিক মিশনে আবারও বড় বাধা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৪ ১১:২১:০৩
চাঁদ জয় কি তবে স্বপ্নই থেকে যাচ্ছে? নাসার ঐতিহাসিক মিশনে আবারও বড় বাধা
ছবি : সংগৃহীত

চাঁদে মানুষ পাঠানোর ঐতিহাসিক লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের বহুল আলোচিত আর্টেমিস–২ মিশনের উৎক্ষেপণ আবারও পিছিয়ে দিয়েছে। নাসার সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মার্চ মাসে এই মিশনের রকেট উৎক্ষেপণ করা হতে পারে। এর আগে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই এই ঐতিহাসিক যাত্রা শুরুর পরিকল্পনা ছিল। মূলত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পরীক্ষার পর নাসা এই বিলম্বের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ নামক এই পরীক্ষায় রকেটটিতে জ্বালানি ভরে উৎক্ষেপণের ঠিক আগের মুহূর্ত পর্যন্ত কাউন্টডাউন চালিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটি যাচাই করা হয়। এই মহড়া চলাকালীন ফ্লোরিডার চরম প্রতিকূল ও ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে কাজ বাধাগ্রস্ত হয় এবং রকেটে বিপজ্জনক হাইড্রোজেন গ্যাস লিক করার সমস্যা ধরা পড়ে।

নাসা জানিয়েছে, নভোচারীদের নিরাপত্তার খাতিরে এসব সূক্ষ্ম সমস্যা খতিয়ে দেখতেই উৎক্ষেপণের তারিখ পেছানো হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে বড় কোনো ঝুঁকি না থাকে, সেজন্য আবারও একটি চূড়ান্ত পরীক্ষা চালানো হবে। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেন, মহাকাশযাত্রার আগে এ ধরনের কারিগরি ত্রুটিগুলো আগেই ধরা পড়া এই পরীক্ষার মূল সার্থকতা। আর্টেমিস–২ মিশনের মাধ্যমে চারজন দক্ষ নভোচারী ১০ দিনের জন্য চাঁদের কক্ষপথে একটি রোমাঞ্চকর সফর করবেন। তাঁরা চাঁদের সেই ‘অন্ধকার অংশ’ বা উল্টো পিঠ পর্যন্ত ভ্রমণ করবেন, যা পৃথিবী থেকে কখনো দেখা যায় না। এই দলে রয়েছেন নাসার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কখ এবং কানাডার নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। যদি এই মিশন সফল হয়, তবে ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর গত পাঁচ দশকের বেশি সময় পার করে মানুষ আবারও গভীর মহাকাশযাত্রার নতুন মাইলফলক স্পর্শ করবে।

সংস্থাটি আরও সতর্ক করে জানিয়েছে যে, যদি আগামী মার্চ মাসের নির্ধারিত তারিখেও উৎক্ষেপণ সম্ভব না হয়, তবে রকেটটিকে পুনরায় মেরামতের জন্য কারখানায় ফিরিয়ে নিতে হতে পারে। এতে মিশনের খরচ ও সময় উভয়ই বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত প্রকৌশলীরা পরীক্ষার সময় পাওয়া তথ্যগুলো নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করছেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ১৯শে ডিসেম্বর ১৯৭২ সালের পর থেকে মানুষ এখন পর্যন্ত চাঁদের এত কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পায়নি, যা এই মিশনকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক অভিযানে পরিণত করেছে।


অজানা মহাবিশ্বের সন্ধানে এআই: হাবল আর্কাইভে মিলল শত শত নতুন গ্যালাক্সি

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ২১:৪৫:২৬
অজানা মহাবিশ্বের সন্ধানে এআই: হাবল আর্কাইভে মিলল শত শত নতুন গ্যালাক্সি
ছবি : সংগৃহীত

মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে আড়াই দিনের এক অভাবনীয় কর্মযজ্ঞে মহাবিশ্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপের দীর্ঘ ৩৫ বছরের সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ কোটি ছবি বিশ্লেষণ করে এআই ১ হাজার ৩০০–এর বেশি বিরল মহাজাগতিক বস্তু শনাক্ত করেছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, মানুষের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করতে বছরের পর বছর সময় লেগে যেত, যা এআই সম্পন্ন করেছে মাত্র ৬০ ঘণ্টায়। সোমবার ‘অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স’ সাময়িকীতে এই যুগান্তকারী গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার গবেষক ডেভিড ও’রায়ান ও পাবলো গোমেজ এই অসাধ্য সাধনের জন্য ‘অ্যানোমালিম্যাচ’ নামে একটি বিশেষ নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। মানুষের মস্তিষ্কের কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি এই এআই ব্যবস্থাটি হাবল লেগেসি আর্কাইভে প্রথমবারের মতো প্রয়োগ করা হয়। হাবল টেলিস্কোপের গত সাড়ে তিন দশকের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে অস্বাভাবিক বা বিরল মহাজাগতিক বস্তু খোঁজার এটিই প্রথম কোনো বৃহৎ উদ্যোগ।

গবেষণায় দেখা গেছে, এআই শনাক্ত করা বস্তুগুলোর প্রায় ৬৫ শতাংশেরই আগে কোনো বৈজ্ঞানিক রেফারেন্স বা নথিপত্র নেই। অর্থাৎ এগুলো জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য সম্পূর্ণ নতুন আবিষ্কার। চিহ্নিত বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৩৮টি সম্ভাব্য গ্র্যাভিটেশনাল লেন্স, ৪১৭টি নতুন গ্যালাক্সি সংযুক্তির বিরল দৃশ্য, ১৮টি জেলিফিশ গ্যালাক্সি এবং দুটি সংঘর্ষজনিত রিং গ্যালাক্সি। এ ছাড়াও কিছু প্রোটোপ্ল্যানেটারি ডিস্ক বা নতুন গ্রহ তৈরির কক্ষপথ ধরা পড়েছে, যেগুলো দেখতে হ্যামবার্গার বা প্রজাপতির মতো অদ্ভুত আকৃতির।

গবেষকদের মতে, বিপুল পরিমাণ তথ্যের চাপ সামলাতে এআই এখন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে জেমস ওয়েব বা তার চেয়েও শক্তিশালী টেলিস্কোপগুলো যখন আরও জটিল ও বিপুল তথ্য পাঠাতে শুরু করবে, তখন এই ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি অজানা মহাবিশ্ব উন্মোচনে মুখ্য ভূমিকা রাখবে। মহাকাশ বিজ্ঞানে প্রযুক্তির এই জয়গান নতুন এক গাণিতিক ও দৃশ্যমান বিপ্লবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


অজানা মহাবিশ্বের সন্ধানে এআই: হাবল আর্কাইভে মিলল শত শত নতুন গ্যালাক্সি

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ২১:৪৫:২৬
অজানা মহাবিশ্বের সন্ধানে এআই: হাবল আর্কাইভে মিলল শত শত নতুন গ্যালাক্সি
ছবি : সংগৃহীত

মানুষের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে আড়াই দিনের এক অভাবনীয় কর্মযজ্ঞে মহাবিশ্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপের দীর্ঘ ৩৫ বছরের সংগ্রহে থাকা প্রায় ১০ কোটি ছবি বিশ্লেষণ করে এআই ১ হাজার ৩০০–এর বেশি বিরল মহাজাগতিক বস্তু শনাক্ত করেছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, মানুষের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করতে বছরের পর বছর সময় লেগে যেত, যা এআই সম্পন্ন করেছে মাত্র ৬০ ঘণ্টায়। সোমবার ‘অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স’ সাময়িকীতে এই যুগান্তকারী গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার গবেষক ডেভিড ও’রায়ান ও পাবলো গোমেজ এই অসাধ্য সাধনের জন্য ‘অ্যানোমালিম্যাচ’ নামে একটি বিশেষ নিউরাল নেটওয়ার্ক তৈরি করেন। মানুষের মস্তিষ্কের কার্যপদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি এই এআই ব্যবস্থাটি হাবল লেগেসি আর্কাইভে প্রথমবারের মতো প্রয়োগ করা হয়। হাবল টেলিস্কোপের গত সাড়ে তিন দশকের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে অস্বাভাবিক বা বিরল মহাজাগতিক বস্তু খোঁজার এটিই প্রথম কোনো বৃহৎ উদ্যোগ।

গবেষণায় দেখা গেছে, এআই শনাক্ত করা বস্তুগুলোর প্রায় ৬৫ শতাংশেরই আগে কোনো বৈজ্ঞানিক রেফারেন্স বা নথিপত্র নেই। অর্থাৎ এগুলো জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য সম্পূর্ণ নতুন আবিষ্কার। চিহ্নিত বস্তুগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৩৮টি সম্ভাব্য গ্র্যাভিটেশনাল লেন্স, ৪১৭টি নতুন গ্যালাক্সি সংযুক্তির বিরল দৃশ্য, ১৮টি জেলিফিশ গ্যালাক্সি এবং দুটি সংঘর্ষজনিত রিং গ্যালাক্সি। এ ছাড়াও কিছু প্রোটোপ্ল্যানেটারি ডিস্ক বা নতুন গ্রহ তৈরির কক্ষপথ ধরা পড়েছে, যেগুলো দেখতে হ্যামবার্গার বা প্রজাপতির মতো অদ্ভুত আকৃতির।

গবেষকদের মতে, বিপুল পরিমাণ তথ্যের চাপ সামলাতে এআই এখন জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে জেমস ওয়েব বা তার চেয়েও শক্তিশালী টেলিস্কোপগুলো যখন আরও জটিল ও বিপুল তথ্য পাঠাতে শুরু করবে, তখন এই ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি অজানা মহাবিশ্ব উন্মোচনে মুখ্য ভূমিকা রাখবে। মহাকাশ বিজ্ঞানে প্রযুক্তির এই জয়গান নতুন এক গাণিতিক ও দৃশ্যমান বিপ্লবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।


বিটিআরসির নতুন বার্তা: পুরোনো মোবাইল ফোন বিক্রির আগে সাবধান!

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৩ ১৮:৫২:২১
বিটিআরসির নতুন বার্তা: পুরোনো মোবাইল ফোন বিক্রির আগে সাবধান!
ছবি : সংগৃহীত

পুরোনো বা ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিক্রি বা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কঠোর নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এখন থেকে যেকোনো সচল মোবাইল সেট অন্য কারো কাছে হস্তান্তর বা বিক্রির আগে অবশ্যই সেটির নিবন্ধন বাতিল (ডি-রেজিস্ট্রেশন) করতে হবে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

নিবন্ধন বাতিলের আবশ্যকতা বিটিআরসি জানিয়েছে, গত ১ জানুয়ারি থেকে দেশে ‘ন্যাশনাল ইক্যুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর)’ সিস্টেম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়েছে। এই সিস্টেমের আওতায় সচল থাকা সব মোবাইল ফোন বর্তমানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হয়ে আছে। এখন থেকে সিমকার্ড পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে অথবা ফোনটি অন্য কারও ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর কিংবা বিক্রয়ের আগে হ্যান্ডসেটটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) থেকে অবমুক্ত বা ডি-রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক।

যেভাবে করতে হবে ডি-রেজিস্ট্রেশন মোবাইল ফোনের নিবন্ধন বাতিলের জন্য ব্যবহারকারীর বেশ কিছু তথ্যের প্রয়োজন হবে। বিশেষ করে সিম ক্রয়ের সময় ব্যবহৃত নথিপত্র হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা পাসপোর্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ডি-রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত পদ্ধতি জানতে বিটিআরসির ওয়েবসাইট neir.btrc.gov.bd ভিজিট করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া বিটিআরসির কল সেন্টার ১০০ নম্বরে ফোন করে অথবা মোবাইল অপারেটরদের কাস্টমার কেয়ার থেকেও সহায়তা পাওয়া যাবে।

নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ অবৈধ ও চোরাই মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে এবং মোবাইল ফোন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এনইআইআর সিস্টেমটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়েছে। বিটিআরসি আশা করছে, এই সিস্টেমের মাধ্যমে সিমের সাথে নির্দিষ্ট হ্যান্ডসেট ট্যাগ করা থাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। ফোন হস্তান্তরের সময় সঠিক নিয়ম মেনে ডি-রেজিস্ট্রেশন না করলে পরবর্তীতে ওই ফোন দিয়ে কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে মূল নিবন্ধিত ব্যক্তি আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।


মঙ্গলের বুকে এআই-এর রাজত্ব: প্রথমবারের মতো মানুষের বদলে পথ দেখালো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০২ ২১:৫৩:১১
মঙ্গলের বুকে এআই-এর রাজত্ব: প্রথমবারের মতো মানুষের বদলে পথ দেখালো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশ গবেষণায় এক বৈপ্লবিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। মঙ্গলের প্রতিকূল পরিবেশে মানুষের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়াই প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) পরিকল্পিত পথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলাচল করেছে নাসার ছয় চাকার রোভার ‘পারসিভিয়ারেন্স’। এই সাফল্য দূর গ্রহে ভবিষ্যৎ অভিযানে মানুষের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আরও নিখুঁত ও দ্রুত গতিতে কাজ করার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।

পরীক্ষামূলক অভিযান ও জেপিএলের ভূমিকা নাসার তথ্যমতে, গত ৮ ও ১০ ডিসেম্বর মঙ্গলের বুকে এই ঐতিহাসিক পরীক্ষাটি পরিচালিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি (জেপিএল) এই পুরো প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেয়। সাধারণত পৃথিবী থেকে বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের ছবি বিশ্লেষণ করে রোভারের চলার পথ নির্ধারণ করে দেন। তবে এবারই প্রথম ‘জেনারেটিভ এআই’ ব্যবহার করে রোভারের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর পথ তৈরি করা হয়েছে।

যেভাবে কাজ করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এই অভিযানে ‘ভিশন-ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ (VLM) নামক এক উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মানুষের মতোই ছবি ও ভাষা বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। এআই মডেলটি জেপিএলের তথ্যভাণ্ডার এবং মঙ্গলের ভূ-প্রকৃতির ছবি বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন ‘ওয়ে-পয়েন্ট’ (গন্তব্য বিন্দু) নির্ধারণ করে দেয়। মঙ্গলের ঢালু জমি, বিশালাকার পাথর কিংবা বালুর ঢেউয়ের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নিজে থেকেই শনাক্ত করে নিরাপদ রুট তৈরি করেছে এই প্রযুক্তি।

যোগাযোগের দূরত্ব ও ডিজিটাল টুইনের ব্যবহার মঙ্গল গ্রহ পৃথিবী থেকে গড়ে ২২ কোটি ৫০ লাখ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হওয়ায় বেতার তরঙ্গ পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে পৃথিবী থেকে রোভারকে তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতেই এআই-এর ওপর ভরসা করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে সরাসরি মঙ্গলে কমান্ড পাঠানোর আগে জেপিএলের ‘ডিজিটাল টুইন’ (মঙ্গলের কৃত্রিম পরিবেশ) সিমুলেশনে এআই-এর তৈরি পথটি কয়েক দফা যাচাই করে নেওয়া হয়।

সাফল্যের খতিয়ান নাসা নিশ্চিত করেছে যে, গত ৮ ডিসেম্বর এআই-এর দেখানো পথে রোভারটি ২১০ মিটার পথ সফলভাবে অতিক্রম করে। এর ঠিক দুদিন পর ১০ ডিসেম্বর ২৪৬ মিটার পথ পাড়ি দিয়ে রোভারটি এর সক্ষমতা প্রমাণ করে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যে, মহাকাশ গবেষণায় এআই এখন কেবল তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং বাস্তব প্রয়োগে এটি মানুষের চেয়েও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।

মহাকাশ বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তি আগামীতে মঙ্গল ছাড়াও অন্যান্য গ্রহ বা উপগ্রহে দীর্ঘমেয়াদী অভিযানে রোভারের গতি ও কাজের দক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।


মঙ্গলে ঝরত ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি: লাল গ্রহের আর্দ্র ইতিহাস ফাঁস করল নাসার রোভার

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ২১:৪৬:২৩
মঙ্গলে ঝরত ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি: লাল গ্রহের আর্দ্র ইতিহাস ফাঁস করল নাসার রোভার
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশ বিজ্ঞানের এক যুগান্তকারী অধ্যায়ে নাসা নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলের রুক্ষ ও ধু-ধু মরুভূমির নিচে এক সময় ছিল বিশাল জলাধার আর ঢেউয়ের গর্জন। নাসার ‘পারসিভিয়ারেন্স রোভার’ লাল গ্রহটির জেজেরো গহ্বরে (Jezero Crater) প্রাচীন এক সৈকতের স্পষ্ট চিহ্ন খুঁজে পেয়েছে। এই আবিষ্কারের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এখন বিশ্বাস করছেন যে, কোটি কোটি বছর আগে মঙ্গলে কেবল পানিই ছিল না, বরং সেখানে নিয়মিত বৃষ্টিপাত হতো এবং পরিবেশ ছিল আর্দ্র ও উষ্ণ। লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ এই তথ্যটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।

গবেষকরা জেজেরো গহ্বরে সুবিন্যস্ত স্তরের বালুকাপাথর খুঁজে পেয়েছেন যার দানাগুলো ছিল গোলাকার। ভূতত্ত্বের ভাষায়, পানির ঢেউয়ের অবিরাম আঘাতে পাথরের কণা ঘর্ষণের ফলে এমন গোলাকার আকার ধারণ করে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে জেজেরো গহ্বরটি একটি বিশাল হ্রদে পূর্ণ ছিল। সেই হ্রদের পানির ঢেউ পাড়ের আগ্নেয় শিলাকে ক্ষয় করে বালিতে পরিণত করেছিল, যা আজ স্তরে স্তরে জমা হয়ে পাথরে পরিণত হয়েছে। পারসিভিয়ারেন্স রোভারের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরায় তোলা ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে এটি কোনো এক সময়ের একটি সক্রিয় সৈকত ছিল।

এই অভিযানের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ওই এলাকায় ‘কার্বোনেট খনিজ’ ও ‘সাদা কাওলিনাইট কাদামাটির’ উপস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, এ ধরণের খনিজ কেবল তখনই তৈরি হয় যখন দীর্ঘ সময় ধরে ভারী বৃষ্টিপাত এবং আর্দ্র আবহাওয়া বজায় থাকে। পৃথিবীতে এ ধরণের খনিজ জৈব অণু বা জীবনের উপাদান ধরে রাখার জন্য পরিচিত। তাই জেজেরো গহ্বরটি এখন বিজ্ঞানীদের কাছে কেবল একটি গর্ত নয়, বরং প্রাণের অস্তিত্ব খোঁজার জন্য পৃথিবীর বাইরে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য একটি স্থানে পরিণত হয়েছে। এটি এক সময় মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ ছিল কি না, সেই উত্তর খুঁজতে এখন রোভারটি আরও গভীরে অনুসন্ধান চালাচ্ছে।


সূর্যের রহস্য ফাঁস! সোলার অরবিটারের চোখে ধরা পড়ল সৌর-বিস্ফোরণের গোপন উৎস

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ১১:৫০:২৮
সূর্যের রহস্য ফাঁস! সোলার অরবিটারের চোখে ধরা পড়ল সৌর-বিস্ফোরণের গোপন উৎস
ছবি : সংগৃহীত

সূর্যের বুকে হঠাৎ যে প্রলয়ংকরী আলোর ঝলকানি ও শক্তির বিস্ফোরণ ঘটে, যাকে আমরা ‘সোলার ফ্লেয়ার’ বলে জানি, তার উৎস ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা অবশেষে কাটতে শুরু করেছে। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ESA) সোলার অরবিটার মহাকাশযান এবার সরাসরি সেই ‘সেন্ট্রাল ইঞ্জিন’ বা মূল চালিকাশক্তির সন্ধান পেয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় (জানুয়ারি ২১, ২০২৬) বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন যে, সূর্যের এই শক্তিশালী বিস্ফোরণগুলো মূলত একটি ‘ম্যাগনেটিক অ্যাভালাঞ্চ’ বা চৌম্বকীয় ধসের ফলাফল। পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সূর্যের অভ্যন্তরের অত্যন্ত জটিল ও প্যাঁচানো চৌম্বকীয় ক্ষেত্রগুলো প্রথমে ছোট ছোট অস্থিরতায় ভেঙে পড়ে। এই ক্ষুদ্র অস্থিরতাগুলো তুষারধসের মতোই দ্রুত বড় আকার ধারণ করে এবং একপর্যায়ে এক বিশাল চৌম্বকীয় ধস তৈরি করে, যা থেকে নির্গত হয় কোটি কোটি পারমাণবিক বোমার সমান শক্তি।

২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সূর্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে সোলার অরবিটার এই ঐতিহাসিক ঘটনাটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করে। সে সময় মহাকাশযানটি সূর্য থেকে মাত্র ২ কোটি ৭০ লাখ মাইল দূরে অবস্থান করছিল এবং একটি মাঝারি মাত্রার শক্তিশালী (M7.7-class) আলোকঝলক এর ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সোলার অরবিটারের বিশেষ ‘এক্সট্রিম আল্ট্রাভায়োলেট ইমেজার’ (EUI) ক্যামেরা প্রতি ২ সেকেন্ড অন্তর সূর্যের ভেতরের সূক্ষ্ম পরিবর্তনগুলো ধারণ করেছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, সূর্যের প্যাঁচানো চৌম্বকীয় রেখাগুলো ছিঁড়ে গিয়ে আবার অদ্ভুত এক প্রক্রিয়ায় একে অপরের সাথে জোড়া লাগছে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘ম্যাগনেটিক রিকানেকশন’ বা চৌম্বকীয় পুনঃসংযোগ। এই প্রক্রিয়ায় কয়েকশ কিলোমিটার চওড়া উজ্জ্বল রেখা তৈরি হয় এবং সূর্যের অতি উত্তপ্ত গ্যাস বা প্লাজমা কয়েক মিলিয়ন ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছাড়িয়ে যায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই ছোট ছোট ঝলকানিগুলোই মূলত বড় বিস্ফোরণের পূর্বলক্ষণ। এই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ চার্জিত কণা ও অতি উত্তপ্ত গ্যাস মহাশূন্যে ছিটকে পড়ে, যা অনেক সময় বিশাল প্লাজমা মেঘ বা ‘করোনাল মাস ইজেকশন’ (CME) হিসেবে পৃথিবীর দিকে ধাবিত হয়। এই প্লাজমা মেঘ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে আঘাত হানলে শক্তিশালী ভূ-চৌম্বকীয় ঝড় তৈরি করতে পারে।

২০২৬ সালের এই উত্তাল সৌর-চক্রের সময়ে এমন আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা, জিপিএস এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে সম্ভাব্য ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে আগাম সতর্কবার্তা দিতে সাহায্য করবে। সূর্যের এই অদ্ভুত সুন্দর অথচ ভয়ংকর তান্ডব যেমন আকাশে উজ্জ্বল অরোরা বা মেরুপ্রভার সৃষ্টি করে, তেমনি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সভ্যতার জন্য এটি এক বড় চ্যালেঞ্জও বটে। সোলার অরবিটারের এই তথ্যগুলো সূর্যের ভবিষ্যৎ আচরণ বুঝতে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের জন্য এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল।


খুলল পিরামিডের জট! নির্মাণের রহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ২৭ ২০:২১:৪৬
খুলল পিরামিডের জট! নির্মাণের রহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা
ছবি : সংগৃহীত

মিশরের গিজার মহাপিরামিড কীভাবে নির্মিত হয়েছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানী ও প্রত্নতত্ত্ববিদরা দীর্ঘকাল ধরে যে গোলকধাঁধায় আটকে ছিলেন, এবার তার এক আধুনিক বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সামনে এসেছে। প্রখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ‘নেচার’-এ প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, প্রাচীন মিশরীয়রা মহাপিরামিড নির্মাণে সম্ভবত পুলি এবং কাউন্টারওয়েট পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল।

নিউইয়র্কের ওয়েইল কর্নেল মেডিসিনের গবেষক ডা. সাইমন আন্দ্রিয়াস স্কিউরিং-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণাটি পিরামিডের ভেতরের গঠন এবং পাথরের সূক্ষ্ম বিন্যাস বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। গবেষকদের মতে, এটিই ছিল সেই যুগের সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি যার মাধ্যমে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে বিশালাকার এই কাঠামোটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, এই মহাপিরামিডে প্রায় 2.3 মিলিয়ন বা ২৩ লাখ চুনাপাথরের ব্লক ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে ছোট ব্লকের ওজন প্রায় 2 টন এবং বড় ব্লকগুলোর ওজন 60 টনেরও বেশি।

গবেষকদের গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, পুরো পিরামিড নির্মাণে যদি ২০ বছর সময় লেগে থাকে, তবে গড় হিসাবে প্রতি এক মিনিটে একটি করে ব্লক বসানো হয়েছে যা কায়িক শ্রমের সাধারণ পদ্ধতিতে প্রায় অসম্ভব।এতদিন পর্যন্ত প্রচলিত তত্ত্বে বলা হতো যে, পিরামিডের বাইরে বিশাল ঢালু রাস্তা বা র‍্যাম্প ব্যবহার করে নিচ থেকে উপরের দিকে পাথর টেনে তোলা হতো।

তবে ডা. স্কিউরিং-এর নতুন গবেষণা বলছে, শুধু বাইরের র‍্যাম্প দিয়ে এত দ্রুত বিশালাকার পাথরগুলোকে উপরের স্তরে তোলা প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব ছিল। পরিবর্তে, পিরামিডের ভেতরেই ঢালু পথ তৈরি করে কাউন্টারওয়েট চালিত পুলি ব্যবস্থার মাধ্যমে পাথর তোলা হতো। এতে কম শক্তি প্রয়োগ করে অনেক বেশি নির্ভুলতার সাথে ভারী পাথরগুলোকে স্থাপন করা সম্ভব হতো। গবেষকরা মনে করছেন, পিরামিড মূলত ভেতর থেকে বাইরের দিকে স্তরে স্তরে তৈরি করা হয়েছে। এই নতুন তত্ত্বের স্বপক্ষে তাঁরা পিরামিডের ভেতরের ‘গ্র্যান্ড গ্যালারি’ এবং ‘অ্যাসেন্ডিং প্যাসেজ’ বা উর্ধ্বমুখী পথগুলোকে প্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছেন।

তাঁদের মতে, এগুলো কেবল রাজকীয় পথ ছিল না, বরং এগুলো ছিল অভ্যন্তরীণ ঢালু পথ যেখানে ভারী স্লেজ ও কাউন্টারওয়েটগুলো উঠানামা করত। গ্র্যান্ড গ্যালারির দেয়ালে পাওয়া ঘর্ষণের চিহ্ন ও মসৃণতা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দাবি করেছেন যে, সেখানে মানুষের চলাচলের চেয়ে ভারী কোনো যান্ত্রিক যানবাহনের প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়।গবেষণাটি পিরামিডের ভেতরে থাকা ‘অ্যান্টিচেম্বার’ বা ছোট গ্রানাইট কক্ষটি নিয়েও নতুন ধারণার অবতারণা করেছে। এতদিন ধারণা করা হতো যে, এই কক্ষটি ছিল কবর লুটকারীদের ঠেকাতে নিরাপত্তা গ্রিল বসানোর জায়গা।

তবে নতুন এই প্রকৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি বলছে, এর পেছনে সম্ভবত নির্মাণ প্রক্রিয়ার কোনো বিশেষ যান্ত্রিক ভূমিকা ছিল। যদিও এই কক্ষটির সুনির্দিষ্ট যান্ত্রিক ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এখনো পুরোপুরি প্রদান করা হয়নি, তবে এটি যে পিরামিডের ‘লিফট’ মেকানিজমের অংশ ছিল—সেই সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ৪ হাজার ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বিস্ময়টি আজও মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। আধুনিক বিজ্ঞানের এই নতুন তত্ত্ব কেবল প্রাচীন মিশরীয়দের বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেষ্ঠত্বকেই প্রমাণ করে না, বরং প্রমাণ করে যে সীমাবদ্ধ উপকরণের মাধ্যমেও গাণিতিক ও যান্ত্রিক উৎকর্ষের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব।

পাঠকের মতামত: