অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

শেয়ার বাজারে স্বরণকালের বড় ধ্বসঃ নেপথ্যে কি?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ মে ১৫ ১৮:৫৮:০৭
শেয়ার বাজারে স্বরণকালের বড় ধ্বসঃ নেপথ্যে কি?

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে (১৫ মে) দেশের পুঁজিবাজারে যে বড় ধরনের ধস দেখা গেল, তা শুধু দিনের পতন নয়—এ যেন চলমান আস্থাহীনতা, অস্পষ্ট দিকনির্দেশনা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি। আজকের সূচক পতনের মাধ্যমে ডিএসই পৌঁছে গেছে গত সাড়ে পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে, যা বিনিয়োগকারীদের মনে আশঙ্কা ও হতাশার নতুন মাত্রা তৈরি করেছে।

সপ্তাহের শেষ দিনে বড় ধস: পাঁচ বছরের রেকর্ড ভাঙল ডিএসইএক্স

বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৪.৫৮ পয়েন্ট হারিয়ে থেমেছে ৪৭৮১ পয়েন্টে, যা ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। সেদিন সূচক ছিল ৪৭৭৯ পয়েন্টে। বাজার খোলার পর কিছুটা ইতিবাচক গতি দেখা গেলেও, দিন গড়াতেই বড় বিনিয়োগকারীদের টানা সেল প্রেসারে বাজারের গতি থেমে যায়। সূচক নিম্নমুখী হতে থাকে একটানা।

শুধু প্রধান সূচক নয়, ডিএসইএস সূচক ১৪.৫৫ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ২০.৯১ পয়েন্ট কমেছে, যথাক্রমে অবস্থান করছে ১০৩৮ ও ১৭৭০ পয়েন্টে।

প্রতিষ্ঠানভিত্তিক দরপতন: ৩১৭ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে

আজ মোট ৩৯৫টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে মাত্র ৪২টির দর বেড়েছে, আর ৩১৭টির দর কমেছে, বাকি ৩৬টির দর অপরিবর্তিত থাকে। এই চিত্র থেকেই বোঝা যায়—বাজারে ছিল একতরফা দরপতনের ধারা। এর ফলে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছড়ায় ভয় ও বিভ্রান্তি, অনেকেই লোকসান মাথায় নিয়ে শেয়ার বিক্রি করে ফেলতে বাধ্য হন।

লেনদেনেও পতন: চাহিদা কমেছে, আস্থা হারিয়েছে বাজার

টাকার অঙ্কে আজ ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৯৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, যা গত ৯ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন। যদিও গতকালের তুলনায় আজ কিছুটা বেড়েছে (প্রায় ২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা), কিন্তু বড় ছবি বলছে—বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ধরে রাখতে বা নতুন করে বিনিয়োগে যেতে অনাগ্রহী।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের আগস্টে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ২৯৫৩ কোটি টাকার বেশি, সূচক ছিল তখন ৬৪৮০ পয়েন্ট। একই বছর অক্টোবরে ৭৩৬৭ পয়েন্টে পৌঁছেছিল ডিএসইএক্স, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। সেখান থেকে আজকের জায়গা—প্রায় ২৬০০ পয়েন্টের ধস—একটি বিশাল সংকেত।

বাজারের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ছে: কেন এই পতন?

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এখন তিনটি বড় সমস্যা জেঁকে বসেছে—

আস্থার সংকট: রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, নীতিনির্ধারকদের দ্বিধান্বিত ভূমিকা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকা।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অনুপস্থিতি: বড় বিনিয়োগকারীরা এখন বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে, যার ফলে চাপ পড়ছে সাধারণ বিনিয়োগকারীর ওপর।

নগদ অর্থের ঘাটতি ও ব্যাংক খাতে চাপ: দেশজুড়ে আর্থিক খাতের অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগকারীদের বিকল্প খাতে টাকা সরিয়ে নিতে বাধ্য করছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্র

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-তেও আজ একই ধরনের একপাক্ষিক দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। আজ ২০৫টি কোম্পানির মধ্যে ১৫১টির দর কমেছে, ৩৭টি বেড়েছে এবং ১৭টি অপরিবর্তিত। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৩৭.৪৬ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১৩,৪৭৭ পয়েন্টে। আগেরদিনও সূচক কমেছিল। লেনদেনও কমে এসেছে এখানে—মাত্র ১০ কোটি ১১ লাখ টাকার, আগের দিন ছিল ১১ কোটি ২০ লাখ।

এখন করণীয় কী?

বাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখন আর সময় নেই ধীরে চলো নীতির। বাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্ভরযোগ্য নীতিগত সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করা ছাড়া এ পতনের ধারা থামবে না। শুধু ভরসার কথা বললে চলবে না, বিনিয়োগকারীরা এখন দেখতে চান বাস্তব পদক্ষেপ। শেয়ারবাজার যে শুধু সূচক বা টাকার হিসাব নয়—এটি একটি দেশের অর্থনীতির আয়না। এই আয়নায় যখন প্রতিদিন ফাটল ধরছে, তখন তা গোটা অর্থনীতিরই সংকেত দেয়। তাই বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন কেবল বিনিয়োগকারীদের দাবি নয়—এটি সময়েরই চাহিদা।


গেজেট প্রকাশের আগেই সামনে এলো নতুন পে-স্কেলের বিস্তারিত, কার কত বাড়ছে?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ২১:৩৪:০৫
গেজেট প্রকাশের আগেই সামনে এলো নতুন পে-স্কেলের বিস্তারিত, কার কত বাড়ছে?
ছবি : সংগৃহীত

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ‘জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬’-এর গেজেট ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নির্দেশনার অপেক্ষা চলছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন গ্রেডভেদে ১০০ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে এটি কার্যকর ধরা হয়েছে। তবে মূল বেতন তিন ধাপে এবং ভাতাসমূহ ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার কথা রয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামোতে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও ইনক্রিমেন্টসহ মোট ১১টি ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব আনা হয়েছে, যা থেকে প্রায় ২৪ লাখ কর্মরত এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী উপকৃত হবেন।

প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোতে বাড়িভাড়া ভাতার শতকরা হার কমানো হয়েছে; ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় তা বিদ্যমান ৫০-৬৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০-৬০ শতাংশ এবং ঢাকার বাইরে ২৫-৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে, যদিও মূল বেতন বাড়ায় প্রকৃত টাকার অঙ্কে ভারসাম্য থাকবে। চিকিৎসাভাতা অভিন্ন ১ হাজার ৫০০ টাকার বদলে বয়সভেদে ৩ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশের অভিন্ন হার ভেঙে উচ্চ গ্রেডগুলোতে (গ্রেড ৫ থেকে ২) ২.৭৫ থেকে ৪ শতাংশ এবং নিম্ন গ্রেডে ৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের জন্য মোবাইল ভাতা (১৫০ থেকে ৫০০ টাকা) এবং প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা (সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য ৬ হাজার টাকা) বিশেষ ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া যাতায়াত ভাতা দ্বিগুণ করে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ৩০০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে নববর্ষ ভাতা মূল বেতনের ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে এবং ২০২৪ সালে চালু হওয়া বিশেষ প্রণোদনা বাতিল হবে। এক গ্রেড এক পেনশনের অংশ হিসেবে সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়সীমা ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৮ বছর করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় পে-স্কেলের সঙ্গে মিল রেখে সশস্ত্র বাহিনীর মূল বেতন (এনসিই পদে ২১ হাজার এবং মেজর জেনারেল পদে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা) পুনর্নির্ধারণসহ কমান্ড, ফ্লাইং পে, প্যারাসুট ও জরিপ ভাতায় উল্লেখযোগ্য সমন্বয় আনা হয়েছে। অর্থ বিভাগ থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারির পরই এসব বিধান কার্যকর রূপ পাবে।

/আশিক


নিম্নমুখী প্রবণতার পরেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, বাড়ল রুপার দামও

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৭ ১৮:৩৪:০০
নিম্নমুখী প্রবণতার পরেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, বাড়ল রুপার দামও
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে আবারও মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দামে উল্লম্ফন দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর নাগাদ আন্তর্জাতিক স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১২ দশমিক ০৫ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এর আগে বুধবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দর প্রায় ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। তবে আন্তর্জাতিক স্পট বাজারে মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ তাদের নীতিগত সুদের হার বৃদ্ধি করেছে এবং আগামী মাসগুলোতে এই হার আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। সাধারণত উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিপরীতে বিনিয়োগের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে স্বর্ণকে গণ্য করা হলেও নীতিগত সুদহার বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগকারীদের কাছে সুদবিহীন স্বর্ণের চেয়ে সুদ প্রদানকারী আর্থিক সম্পদগুলো অধিক লাভজনক হয়ে ওঠে, যা স্বর্ণের সার্বিক চাহিদায় নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দরও বৃদ্ধি পেয়েছে; স্পট রুপার দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৩ দশমিক ৮৩ ডলারে, প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৭২ দশমিক ১৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছেছে।

এদিকে দেশের বাজারে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) নির্ধারিত সর্বশেষ মূল্যে স্বর্ণ ও রুপার গহনা কেনাবেচা চলছে। বাজুসের নির্ধারিত দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকায় এবং সমমানের এক ভরি রুপার গহনার দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৬ টাকা। এ ছাড়া ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯০ হাজার ১২৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

/আশিক


এলএনজি, জ্বালানি তেল ও টিসিবির পণ্য কেনায় সরকারের মেগা অনুমোদন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ২১:১৩:৩৯
এলএনজি, জ্বালানি তেল ও টিসিবির পণ্য কেনায় সরকারের মেগা অনুমোদন
ছবি : সংগৃহীত

বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মেয়াদে ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকার পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। একই সঙ্গে কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় অতিরিক্ত এক কার্গো এলএনজি আমদানি, নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য টিসিবির মাধ্যমে ১০ হাজার টন মসুর ডাল ক্রয় এবং যমুনার তীর সংরক্ষণসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটির নিয়মিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের জন্য সরকার টু সরকার (জিটুজি) পদ্ধতি ও আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৫০:৫০ অনুপাতে জ্বালানি তেল আমদানির বিদ্যমান শর্ত শিথিল করা হয়েছে। এর আওতায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দরকষাকষির মাধ্যমে নির্ধারিত প্রিমিয়াম, তেলের পরিমাণ ও আন্তর্জাতিক রেফারেন্স মূল্যের ভিত্তিতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল ক্রয়ের অনুমোদন মেলে।

সুপারিশকৃত দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে চীনের ইউনিপেক ও পেট্রোচায়না এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি; যার মোট আর্থিক সংশ্লেষ ১২ হাজার ৫৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এ ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাতার এনার্জি ট্রেডিং এলএলসি থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় আগামী ১০ নভেম্বর আমদানির জন্য নির্ধারিত একটি অতিরিক্ত কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে, যার দর ধরা হয়েছে জেকেএম ০.০২ মার্কিন ডলার প্রতি এমএমবিটিইউ।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ফ্যামিলি কার্ডধারী পরিবারের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে বিতরণের লক্ষ্যে ৭৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অবকাঠামো ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় যমুনা নদীর ১ হাজার ৬২৫ মিটার তীর সংরক্ষণকাজে ১৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পের একটি চলমান প্যাকেজে অতিরিক্ত ৬১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার ৫৭৩ টাকা বৃদ্ধি এবং পর্যটন ও যোগাযোগের সুবিধার্থে কক্সবাজারের টেকনাফের সাবরংয়ে আরসিসি জেটি ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণে ২১৫ কোটি টাকার পৃথক প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা কমিটি।

/আশিক


নিম্নমুখী ধারার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, কোন পথে হাঁটছে বাজার?

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৬ ১৯:০২:৫৬
নিম্নমুখী ধারার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বড় লাফ, কোন পথে হাঁটছে বাজার?
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন ডলারের দর কিছুটা কমে আসা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল হওয়ার মধ্যে বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩২৪ দশমিক ৩৬ ডলারে পৌঁছায়।

এর আগে গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ধাতুটির দর এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছিল। একই সঙ্গে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দামও ০.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৬৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি এখন মূল চালিকাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে নিবদ্ধ রয়েছে।

জেফরিজের অধীনস্থ আর্থিক প্ল্যাটফর্ম ট্রাডুর জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস তজাবোরাসের মতে, ডলারের মান কিছুটা দুর্বল হওয়া, জ্বালানি তেলের বাজারে স্থিতি এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বা সুদের হার কমে আসার কারণে স্বর্ণের দামে এই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে উল্লেখ করেন যে স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের সামগ্রিক গতিধারা এখনো কিছুটা নিম্নমুখী। সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিপরীতে স্বর্ণকে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নিরাপদ বিনিয়োগ ভাবা হলেও মার্কিন মুদ্রানীতিতে সুদের হার বেশি থাকলে সুদবিহীন এই ধাতু ধরে রাখার সুযোগব্যয় বেড়ে যায়, যা স্বর্ণের দামের ওপর উল্টো নিম্নমুখী চাপ সৃষ্টি করে।

এ ছাড়া বাজেট ঘাটতির কারণে ডলারে আস্থার সংকট বিনিয়োগকারীদের বাস্তব সম্পদে ঝুঁকতে উৎসাহিত করছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, চলতি সপ্তাহে ব্যাংক অব জাপানসহ বিশ্বের একাধিক শীর্ষ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সুদের হারের সিদ্ধান্ত প্রকাশ করতে যাচ্ছে; বিশেষ করে ব্যাংক অব জাপান তাদের সুদহার ৩১ বছরের সর্বোচ্চে উন্নীত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

অর্থনৈতিক নিয়ামকের পাশাপাশি বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাও স্বর্ণের নিরাপদ বিনিয়োগ চাহিদাকে চাঙ্গা রেখেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, মক্কার দক্ষিণাঞ্চলে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হুতিদের একটি ড্রোনকে পবিত্র নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করেছে। এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে বিশ্ববাজারে রুপার দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৪ দশমিক ৩০ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩০৪ দশমিক ৯৪ ডলারে উঠেছে; বিপরীতে প্লাটিনামের দর ০.২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৭১ দশমিক ৬৫ ডলারে স্থির হয়েছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

/আশিক


গ্যাস-বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর মুখে দেশের পোশাক শিল্প

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৫ ২১:২৩:০৯
গ্যাস-বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা হারানোর মুখে দেশের পোশাক শিল্প
ছবি : সংগৃহীত

তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের জেরে দেশের অর্ধেকের বেশি অর্থাৎ প্রায় ৫৫ শতাংশ নিটওয়্যার পোশাক কারখানার বিদেশি রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে অথবা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এক বিশেষ জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে শিল্প খাতের এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে।

বিকেএমইএ জানায়, তাদের সক্রিয় ৮০০ সদস্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১৬০টি কারখানার বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই বিশদ সমীক্ষা চালানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া গ্যাস সংকট এবং পরবর্তীকালে তীব্র বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে দেশের নিটওয়্যার রপ্তানিকারকদের ৮৭ শতাংশই যথাসময়ে পণ্য শিপমেন্ট করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন। সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ার খেসারত হিসেবে বিদেশি ক্রেতাদের মূল্যছাড় বা ডিসকাউন্ট দিতে বাধ্য হয়েছেন প্রতি তিনজনের মধ্যে প্রায় দুইজন পোশাক প্রস্তুতকারক।

জরিপে অংশগ্রহণকারী কারখানাগুলোর মধ্যে ৭৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান গ্যাস সংকটের প্রভাবে এবং ৯০ শতাংশ কারখানা বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে। সংকট চলাকালে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক অবস্থার চেয়ে গড়ে প্রায় ৭৮ শতাংশ কম ছিল বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে। বাধ্য হয়ে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে গিয়ে প্রায় ৯২ শতাংশ কারখানার উৎপাদন ব্যয় বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সমপরিমাণ কারখানা মারাত্মক শ্রমঘণ্টার অপচয়ের মুখে পড়েছে।

জ্বালানি সংকটের এই বহুমুখী অভিঘাত পোশাক খাতের সামগ্রিক ভবিষ্যৎকে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৮৯ শতাংশ উদ্যোক্তা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে তারা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের আস্থা হারানোর মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছেন। তিন-চতুর্থাংশের বেশি কারখানা তাদের উৎপাদন আংশিকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতি ১০ জন মালিকের মধ্যে ৬ জনই জানিয়েছেন যে চলমান পরিস্থিতির কারণে তারা ব্যাংক ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন এবং ইতিমধ্যেই প্রায় ৭ শতাংশ কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

/আশিক


 ফেডের সুদের হার বাড়ার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ২১:৪৪:১৭
 ফেডের সুদের হার বাড়ার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে চলতি সপ্তাহেই দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে—এমন জোরালো পূর্বাভাসের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে সুদবিহীন নিরাপদ বিনিয়োগ সম্পদ হিসেবে পরিচিত সোনার দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, সোমবার স্পট মার্কেটে সোনার দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৭১ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে। একই সঙ্গে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহযোগ্য মার্কিন গোল্ড ফিউচারসের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১১ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ইউবিএস-এর পণ্য বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনোভো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে জানান, বিগত সপ্তাহে প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যানের পর বিনিয়োগকারীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়ে প্রায় নিশ্চিত হয়ে উঠেছেন; তদুপরি বিশ্ববাজারে নতুন করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের নীতি নির্ধারণী বৈঠকে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন প্রায় ৮৯ শতাংশে ঠেকেছে, যা গত সপ্তাহে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পূর্বে ছিল ৬৭ শতাংশ। গোল্ডম্যান স্যাকস এবং এইচএসবিসি-র মতো শীর্ষ আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধারণা করছে, মঙ্গল ও বুধবারের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধি করতে পারে।

সোনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বাজারে রুপার দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬২ দশমিক ৮৮ ডলারে নেমে এসেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দর ২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৫৯ দশমিক ৮৭ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯২ দশমিক ৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই ওঠানামার মধ্যে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ সবচেয়ে উন্নত মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণালংকার বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায়। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

/আশিক


আইবাস প্লাস প্লাসে জটিলতা: নবম পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৩ ২০:০২:১৮
আইবাস প্লাস প্লাসে জটিলতা: নবম পে-স্কেলের গেজেট নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের মূল বেতন (বেসিক) বৃদ্ধি তিন ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++)-এ কারিগরি জটিলতার কারণে গেজেট প্রকাশের সময়সীমা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির ফলে সফটওয়্যারে ভগ্নাংশের হিসাব ও পে-ফিক্সেশনে জটিলতা তৈরি হওয়ায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাংশ আগে কারিগরি সমাধান সম্পন্ন করে পরে গেজেট প্রকাশের পক্ষে মত দিচ্ছেন। তবে জটিলতা দ্রুত নিরসন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পে-স্কেলের খসড়া গেজেট আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে কর্মচারীদের পদ, গ্রেড, ইনক্রিমেন্ট ও ভাতার তথ্য যাচাই করে আইবাস প্লাস প্লাসের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হবে। কিন্তু একাধিক ধাপে ফিক্সেশন করতে গিয়ে সফটওয়্যার আপগ্রেডেশনে যে জটিলতা দেখা দিয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে কাজ করছেন আইটি বিশেষজ্ঞরা। এই কারিগরি বাধা দূর হলেই আনুষ্ঠানিক গেজেট জারি এবং ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার পথ উন্মুক্ত হবে।

/আশিক


টানা দরপতনের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল ১ শতাংশের বেশি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১২ ১৮:১৮:৫২
টানা দরপতনের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ল ১ শতাংশের বেশি
ছবি : সংগৃহীত

টানা দরপতনের পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। শুক্রবার লেনদেনের শুরুতে নিম্নমুখী থাকলেও দিনের শেষভাগে ধাতুটির দর ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৬৩ দশমিক ০১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে শুক্রবারের এই মূল্যবৃদ্ধির পরও পুরো সপ্তাহের সামগ্রিক হিসাবে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রকাশের পর আগামী সপ্তাহে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক নীতিগত সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে। সাধারণত সুদহার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে পরিচিত স্বর্ণের চাহিদা ও দামের ওপর চাপ তৈরি হয়। তবে ধাতু বিশেষজ্ঞ তাই ওয়ং জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক দরপতনের পর স্বর্ণের বর্তমান মূল্য নির্দেশ করছে যে বাজারে স্বল্পমেয়াদি একটি মজবুত ভিত্তি (প্রাইস বেস) তৈরি হচ্ছে, যার ফলে বাজারে অতিরিক্ত অস্থিরতা দেখা যায়নি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার্স মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০৮ দশমিক ৯০ ডলারে দিনের লেনদেন শেষ করেছে।

সূত্র: রয়টার্স


আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চীনের মুদ্রা নীতি: ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের নতুন দর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ সেপ্টেম্বর ১০ ২০:১৯:২৪
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চীনের মুদ্রা নীতি: ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের নতুন দর
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন ডলারের বিপরীতে চীনের মুদ্রা রেনমিনবির (ইউয়ান) মান সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের মান ৩ পিপস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৭৭৬৬-এ।

চীনের মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নীতি অনুযায়ী, দেশটির স্পট বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে প্রতিদিন কেন্দ্রীয় সমাপনী মধ্যমূল্যের সাপেক্ষে ইউয়ানের দর সর্বোচ্চ ২ শতাংশ পর্যন্ত ওঠানামা করার সুযোগ থাকে। মূলত আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজার খোলার আগে অনুমোদিত বাজার-নির্ধারক সংস্থাগুলোর প্রস্তাবিত দরের গড়ের ওপর ভিত্তি করেই এই আনুষ্ঠানিক কেন্দ্রীয় বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়।

তথ্যসূত্র: সিএমজি

পাঠকের মতামত: