আলিফ হত্যা মামলায় চিন্ময়কে গ্রেপ্তার দেখাতে আদালতের আদেশ

সত্য নিউজ: চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন)-এর নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৫ মে) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আলাউদ্দিন ভার্চুয়াল শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া চারটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। সোমবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে কেবল আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলায় শুনানি সম্পন্ন হয়, বাকি তিন মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী মঙ্গলবার।
এর আগে ২০২৩ সালের ২৫ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা। পরদিন তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করলে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
তবে চিন্ময়ের কারাগারে প্রেরণের পরদিনই চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে তার অনুসারীরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। ওই দিন আদালত প্রাঙ্গণে হামলা, ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ এবং পুলিশের ওপর আক্রমণের মধ্যেই নির্মমভাবে খুন হন আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন তিনি।
ঘটনার পর নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। একইসঙ্গে আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত, পুলিশকে মারধর এবং বিস্ফোরক আইনে আরও পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলার অধিকাংশে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নাম।
চট্টগ্রামের আইন ও বিচার অঙ্গনে এই ঘটনাটি তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার পাশাপাশি, আদালত প্রাঙ্গণে হামলার ঘটনা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও মর্যাদাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, চিন্ময়ের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলোর তদন্ত চলছে এবং নতুন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহে কাজ করছে পুলিশ। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, এই মামলাগুলোর সুষ্ঠু নিষ্পত্তি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের বিচারে সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশে আদালত নিরাপত্তা, উগ্রবাদী সংগঠনের প্রভাব এবং আইনের শাসনের প্রশ্নে এক নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।
নির্বাচনি ব্যয়ের লাগাম টানার লড়াই: কালো টাকা রুখতে বিএফআইইউ-র কড়াকড়ি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনি হাওয়া। তবে এই উৎসবের আমেজ ছাপিয়ে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচনি ব্যয় ও কালো টাকার প্রভাব। প্রার্থীরা ভোটারদের মন জয়ে ব্যস্ত সময় পার করলেও পর্দার অন্তরালে নগদ টাকার প্রবাহ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা উদ্বেগ। বিশেষ করে গত দুই মাসে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তা এক কথায় নজিরবিহীন।
নির্বাচনি ব্যয়ের নির্ধারিত সীমা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়ম অনুযায়ী, একজন প্রার্থী ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা অথবা এককালীন ২৫ লাখ টাকা—এই দুইয়ের মধ্যে যেটি বেশি হবে, তা ব্যয় করতে পারবেন। সেই হিসেবে গাজীপুর-২ আসনের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৮০ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩০ টাকা এবং ঝালকাঠি-১ আসনের প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা; প্রচারণার ধরণ দেখে অনেক ক্ষেত্রেই এই সীমার তোয়াক্কা না করার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যাংক থেকে ৪১ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন নির্বাচনি খরচ মেটাতে ব্যাংক থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের হিড়িক পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান নিশ্চিত করেছেন যে, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—এই দুই মাসেই ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা। নভেম্বরে যেখানে ব্যাংকের বাইরে ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা, জানুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকায়। দীর্ঘ কয়েক মাস মানুষের হাতে নগদ টাকা কমার ধারাবাহিকতা থাকলেও নির্বাচনের প্রাক্কালে এই নাটকীয় উল্লম্ফন সরাসরি নির্বাচনি ব্যয়ের সাথে সম্পৃক্ত বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
কালো টাকা রোধে বিএফআইইউ ও ইসির কঠোর পদক্ষেপ নির্বাচনে অর্থের অপব্যবহার রুখতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বেশ কিছু প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে
কোনো হিসাবে দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি লেনদেন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে বিএফআইইউ-কে জানাতে হবে। সাপ্তাহিক ভিত্তিতে এই রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবাগুলোতে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেনের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি প্রতিটি একক লেনদেন ১ হাজার টাকার বেশি করা যাবে না।
নির্বাচনকালীন সময়ে ব্যক্তিগত এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে (P2P) ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর বন্ধ থাকবে।
রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন ও বিশেষজ্ঞ অভিমত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদল সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি রাজনীতিকে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করায় কালো টাকার এই আধিপত্য বাড়ছে। এরা জনসেবার চেয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করে লুটপাটের মাধ্যমে খরচের টাকা কয়েক গুণ বাড়িয়ে তুলতে চায়। এই দুষ্টচক্র ভাঙতে না পারলে গণতন্ত্রের প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল প্রযুক্তিগত কড়াকড়ি নয়, বরং ভোটারদের সচেতনতা এবং নির্বাচন কমিশনের কঠোর প্রয়োগই পারে নির্বাচনের এই ‘টাকার খেলা’ বন্ধ করতে।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির নতুন ধাক্কা: আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হচ্ছে বাড়তি দাম
ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম আরও এক দফা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ভোক্তা পর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা ৬টা থেকেই সারা দেশে এই নতুন দাম কার্যকর হবে।
বিকেলের সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নতুন এই দাম ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকো ঘোষিত ‘সৌদি সিপি’ (কন্ট্রাক্ট প্রাইস) অনুযায়ী এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে গত ৪ জানুয়ারি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা করা হয়েছিল। ফেব্রুয়ারি মাসে তা আরও ৫০ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর রান্নার খরচ আরও বেড়ে গেল।
এলপিজির পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও। ফেব্রুয়ারি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা ৩৪ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। এতে মুসকসহ অটোগ্যাসের নতুন দাম দাঁড়িয়েছে প্রতি লিটার ৬২ টাকা ১৪ পয়সা, যা গত মাসে ছিল ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা। চলতি বছরের শুরু থেকেই টানা দুবার গ্যাসের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হয়েছে।
বাড়ছে না কমছে? সিলিন্ডার গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা আজ
ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) নতুন দাম আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেল ৩টায় ঘোষণা করবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিইআরসি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ করা হবে।
বিইআরসি’র বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকো ঘোষিত ফেব্রুয়ারি মাসের ‘সৌদি সিপি’ (কন্ট্রাক্ট প্রাইস) অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির দাম সমন্বয় করা হবে। নতুন এই মূল্যের ওপর ভিত্তি করে আজ ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার এবং যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের নতুন দাম নির্ধারণ করা হবে।
সবশেষ গত ৪ জানুয়ারি এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সময়ে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা করা হয়। শীতের এই সময়ে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামা এবং ডলারের বর্তমান বিনিময় হার বিবেচনায় আজ দাম বাড়া বা কমার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের আগ্রহ এখন প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন। তিনি প্রত্যাশা করেছেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়বে। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত ‘নির্বাচন কূটনীতি’ বিষয়ক এক প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনের পরিবেশ, আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণ এবং সরকারি কর্মকর্তাদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোকপাত করেন। প্রতিবেদনের বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো
নির্বাচন ও আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণ তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের আগ্রহ বা কথাবার্তা বলা এখন একটি গতানুগতিক ধারায় পরিণত হয়েছে এবং এ দেশের সাধারণ মানুষও চায় একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হোক। তিনি জানান, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা এবং সম্ভাব্য সহিংসতা রোধে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা ইতোমধ্যে বিদেশি কূটনীতিক ও উন্নয়ন সহযোগীদের বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
ভোটের হার নিয়ে প্রত্যাশা অতীতের উদাহরণ টেনে উপদেষ্টা বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনের মতো এবারও ভোটারদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই তিনি ৫৫ শতাংশের বেশি ভোট পড়ার সম্ভাবনা দেখছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে মানুষ নির্ভয়ে কেন্দ্রে আসবে।
উপদেষ্টাদের পাসপোর্ট ও প্রধান উপদেষ্টার সফর সরকারি কার্যক্রম ও বিদেশ ভ্রমণের সুবিধার্থে উপদেষ্টাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট হস্তান্তরের বিষয়ে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, কোনো কোনো উপদেষ্টা দ্রুত ভিসা পাওয়ার সুবিধার্থে সাধারণ পাসপোর্ট সংগ্রহের লক্ষ্যে এরই মধ্যে তাঁদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট সরকারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এখনো তাঁর পাসপোর্ট হস্তান্তর করেননি বলে জানান।
এছাড়া, নির্বাচনের পর প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সম্ভাব্য জাপান সফর নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা থাকলেও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, এই সফর সম্পর্কে এখনো মন্ত্রণালয়ের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
ভোটের বাকি ১১ দিন: শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় উত্তাল দেশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই মহাযজ্ঞের বাকি আর মাত্র ১১ দিন। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচার শেষ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় প্রার্থীরা জনসভা ও গণসংযোগের জন্য হাতে পাচ্ছেন মাত্র ৯ দিন। এই অল্প সময়ে ভোটারদের মন জয় করতে বিরামহীন প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান উত্তরবঙ্গ সফর শেষে গতকাল ঢাকা ফিরেছেন। সফরের শেষ দিনে সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে বিশাল জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি ভোটারদের ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান চট্টগ্রাম বিভাগে তাঁর নির্বাচনী সফর চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জনসভা শেষে তিনি আজ চাঁদপুর ও ঢাকায় দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন।
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, বড় দুই রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে বাকযুদ্ধ তত শাণিত হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের জনসভায় তারেক রহমান প্রতিপক্ষকে ‘গুপ্ত’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। এর পাল্টা জবাবে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান কুমিল্লায় বলেছেন, “জাতিকে আর কষ্ট দিয়েন না; অতীতে আপনারা মজলুম থাকলেও এখন কেন জালিম হচ্ছেন?” এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পাশাপাশি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম ও ভোলার বোরহানউদ্দিনে দুই দলের কর্মীদের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও আহতের ঘটনা ঘটেছে।
বিভাগীয় নির্বাচনী চিত্র
বরিশাল: এই বিভাগের ২১টি আসনের মধ্যে বিএনপি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও অন্তত ৯টি আসনে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
ময়মনসিংহ: বিভাগের ২৪টি আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। জেলা সদরের কয়েকটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
রাজশাহী: উত্তরাঞ্চল বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও এই বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে অন্তত ২৩টিতে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।
ফেনী: একসময়ের বিএনপি অধ্যুষিত এই জেলার তিনটি আসনেই এবার জামায়াত শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ও প্রবাসী ভোটারদের সিদ্ধান্ত এখানে গড়ে দিতে পারে জয়ের ব্যবধান।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দলছুট প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২) এবং জোটের প্রার্থী জোনায়েদ সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬)। রুমিন ফারহানা প্রতীকের চেয়ে ব্যক্তিগত যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন, অন্যদিকে জোনায়েদ সাকি বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সম্মিলিতভাবে মাঠে রয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিজিবি ও যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে যেতে পারেন।
তথ্য সুরক্ষায় চরম ব্যর্থতা: সাংবাদিকদের এনআইডি উন্মুক্ত ইসির সাইটে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনলাইন সিস্টেমে আবেদন করা প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে ইসির নির্ধারিত ওয়েবসাইটে কারিগরি ত্রুটির কারণে সাংবাদিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ সংবেদনশীল তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যায়।
আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য সাংবাদিকদের অনলাইন নিবন্ধনের নিয়ম করেছিল ইসি। তবে সাংবাদিকদের আপত্তির মুখে গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ম্যানুয়ালি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। ইসি এই পদ্ধতি বন্ধ করার আগেই প্রায় ১৪ হাজার সংবাদকর্মী পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকারের জন্য ইসির নির্ধারিত ওয়েবসাইট pr.ecs.gov.bd-তে আবেদন করেছিলেন।
আজ শনিবার বিকেল ৪টার দিকে হঠাৎ দেখা যায়, যে কেউ ওই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেই হোম পেজে আবেদনকারী সকল সাংবাদিকের তালিকা চলে আসছে। সেখানে সাংবাদিকদের নাম, এনআইডি নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং সম্পূর্ণ আবেদনের কপি দেখার ও খোলার সুযোগ তৈরি হয়। এর মাধ্যমে সংবাদকর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার কিছু সময় পর ওয়েবসাইটটিতে সাধারণের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, অনলাইন সিস্টেমটি গতকাল (শুক্রবার) থেকেই বন্ধ রাখার কথা ছিল। আজ তা কীভাবে উন্মুক্ত হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আজ বিকেলে ওয়েবসাইটের অ্যাডমিনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি সাময়িকভাবে সাইটটি খুলেছিলেন, যার ফলে এই বিপত্তি ঘটতে পারে। বর্তমানে ওয়েবসাইটটি পুনরায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, সাংবাদিকরা এই কার্ড পেতে এনআইডি নম্বর, ই-মেইল এবং ওটিপি (OTP) যাচাইয়ের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছিলেন। এই তথ্য ফাঁসের ঘটনায় সংবাদকর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
দ্বিগুণ বিদেশি পর্যবেক্ষক নিয়ে রেকর্ড গড়ছে ত্রয়োদশ নির্বাচন
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ সংক্রান্ত গণভোট পর্যবেক্ষণে এখন পর্যন্ত ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক আসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি ২০২৬) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এবারের নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকের এই সংখ্যা ২০২৪ সালের বিতর্কিত দ্বাদশ নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ওআইসিসহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে অন্তত ৬৩ জন পর্যবেক্ষক আসা নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন, ওআইসি থেকে ২ জন, ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে ৭ জন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে ১ জন প্রতিনিধি থাকবেন। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি বড় পর্যবেক্ষক দল, ১৬টি দেশের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সংস্থার ৩২ জন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিগতভাবে এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন।
বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের পর্যবেক্ষক সংখ্যা একটি রেকর্ড। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ১৫৮ জন, ২০১৮ সালে ১২৫ জন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে মাত্র ৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ছিলেন। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ জানিয়েছেন, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশ এখনও তাদের চূড়ান্ত প্রতিনিধির তালিকা পাঠায়নি।
এবারের নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে ৩০০টি সংসদীয় আসনের ভোটগ্রহণের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশে সুষ্ঠু ভোটের দাবিতে দুই মার্কিন কংগ্রেসম্যানের চিঠি
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ করার লক্ষ্যে মার্কিন প্রশাসনের জোরালো ভূমিকা চেয়েছেন দুই প্রভাবশালী মার্কিন কংগ্রেসম্যান জো উইলসন এবং নাইল পাও। তারা মার্কিন ককাসের ডেপুটি প্রধান মার্ক রুবিওকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়ে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপট এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চিঠিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) লিখিত এই চিঠিতে কংগ্রেস সদস্যরা উল্লেখ করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। তারা মনে করেন, বাংলাদেশের সাধারণ ভোটাররা এই নির্বাচনের মাধ্যমে ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের মতামত প্রকাশের এবং দেশের ভবিষ্যৎ ভাগ্য নির্ধারণের এক অনন্য সুযোগ পাচ্ছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছে, এই নির্বাচনকে তারই একটি ইতিবাচক ধারাবাহিকতা ও অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এটিই দেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে।
চিঠিতে অতীতের নির্বাচনগুলোর স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বরাত দিয়ে এতে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশের ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনগুলো অবাধ ও সুষ্ঠু ছিল না। এছাড়া ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত হওয়ার বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের পরিসংখ্যানও তারা চিঠিতে তুলে ধরেন।
বর্তমান বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কংগ্রেসম্যানরা বলেন, দেশ এখন একটি নাজুক এবং অস্থির সময় পার করছে। এই প্রেক্ষাপট লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে তারা আশঙ্কা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে একজন গণতন্ত্রপন্থী নেতার হত্যাকাণ্ড এবং জনতা কর্তৃক পিটিয়ে একজন শ্রমিককে হত্যার ঘটনাগুলোকেও তারা উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, আসন্ন নির্বাচন সহিংসতা ও প্রতিশোধের চক্র থেকে বেরিয়ে আসার এক বিশাল সুযোগ হতে পারে।
মার্কিন এই আইনপ্রণেতারা বিশ্বাস করেন যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল সরকার গঠনের পথ সুগম হবে। এটি জবাবদিহিতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে। চিঠিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনকে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ সম্পর্কে কংগ্রেস সদস্যদের বিস্তারিত ব্রিফিং করারও তাগিদ দেওয়া হয়েছে চিঠিতে।
কী আছে ‘জুলাই সনদে’? যে চার প্রশ্নে গণভোটের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য দিন হতে যাচ্ছে। এদিন দেশের ৩শ সংসদীয় আসনের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় গণভোট। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন (ইসি) চূড়ান্ত করেছে।
দুইটি আলাদা ভোটের কারণে এবার ভোটগ্রহণের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটাররা পাবেন সাদাকালো ব্যালট পেপার এবং গণভোটের জন্য থাকবে গোলাপি রঙের ব্যালট পেপার। ভোটদান শেষে উভয় ব্যালটই একই স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে।
চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’-এর ওপর ভিত্তি করেই এই গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সনদে মূলত চারটি প্রধান সংস্কার প্রস্তাবের ওপর জনগণের ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ মতামত চাওয়া হয়েছে
১. নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা।
২. আগামী জাতীয় সংসদ হবে দুই কক্ষবিশিষ্ট। নিম্নকক্ষের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্যের একটি ‘উচ্চকক্ষ’ গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা হবে।
৩.প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের সীমাবদ্ধতা (সর্বোচ্চ ১০ বছর), রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচনের মতো ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য বাস্তবায়ন।
৪.ইন্টারনেট সেবা কখনো বন্ধ না করাসহ নাগরিকের মৌলিক অধিকারের পরিধি বৃদ্ধি এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতা সীমিত করা।
ইসি জানিয়েছে, কোনো ভোটার যদি শুধু একটি ব্যালটে ভোট দিতে চান, তবে অন্য ব্যালটটি ফাঁকা অবস্থায় ভাঁজ করে বাক্সে ফেলতে হবে। গণনার সময় ফাঁকা ব্যালটগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে। ভোটগ্রহণ শেষে প্রথমে সংসদ নির্বাচনের এবং পরে গণভোটের ফলাফল আলাদা ফরমে গণনা করা হবে। প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালটেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি হবে তৃতীয় গণভোট। ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ ৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই গণভোট নতুন প্রজন্মের ভোটারদের জন্য একটি নতুন অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
পাঠকের মতামত:
- শিল্পের প্রলোভনে ‘শিকার’ ধরতেন এপস্টেইন: প্রথম শিকারের লোমহর্ষক কাহিনী প্রকাশ্যে
- মাদকসম্রাট ও হাসনাত আব্দুল্লাহ একসাথে থাকতে পারে না: দেবিদ্বারে হুঙ্কার
- চট্টগ্রামে বিএনপির নির্বাচনী পালে নতুন হাওয়া: ভোটের মাঠে ফিরলেন দুই হেভিওয়েট
- ভোটের মাঠে টাকার ঝনঝনানি: হলফনামার তথ্যে শীর্ষ ১০ ধনী প্রার্থী কারা?
- রাজধানীসহ ৪৮ স্থানে কম দামে মাংস-দুধ-ডিম বিক্রি
- বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পোশাকের দাপট: জানুয়ারিতে রেকর্ড আয়
- কুখ্যাত জেফ্রি অ্যাপস্টেইন ফাইলে শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেতার নাম
- এপস্টেইন কেলেঙ্কারি: তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতে রাজি বিল ও হিলারি ক্লিনটন
- যুক্তরাষ্ট্র-ভারত বাণিজ্য যুদ্ধে ইতি! ট্রাম্পের ঘোষণার পরই চাঙ্গা ভারতের বাজার
- নির্বাচনি ব্যয়ের লাগাম টানার লড়াই: কালো টাকা রুখতে বিএফআইইউ-র কড়াকড়ি
- স্বর্ণের দামে বড় ধস: আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য তালিকা
- আজ ঢাকায় যেসব এলাকার মার্কেট ও দোকান বন্ধ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? বের হওয়ার আগে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- আজকের নামাজের সময়সূচি: জেনে নিন পাঁচ ওয়াক্তের ওয়াক্ত
- দেশে ফের ভূমিকম্প, কেঁপে ওঠে কয়েকটি জেলা
- শবে বরাতের রোজা ও তওবা-ইস্তিগফারের গুরুত্ব
- আজ পবিত্র শবেবরাত, খুলেছে রহমতের দরজা
- মঙ্গলের বুকে এআই-এর রাজত্ব: প্রথমবারের মতো মানুষের বদলে পথ দেখালো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
- বিশ্বজুড়ে তোলপাড়: এপস্টেইন ফাইলের ৩০ লাখ পৃষ্ঠায় ক্ষমতাধরদের অন্ধকার জগত
- রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের সুফল: শক্তিশালী অবস্থানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ
- নতুন নকশায় ১০ টাকার ব্যাংক নোট: এক নজরে দেখে নিন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য
- সদরপুরে পদ্মা নদীর চর থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন: ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
- নির্বাচনী উত্তাপে ‘কুমিল্লা বিভাগ’; নাম নিয়ে দীর্ঘদিনের জট কি এবার খুলবে?
- লাশের ওপর দাঁড়িয়ে জয়ের চেষ্টা করছে প্রতিদ্বন্দ্বীরা: নাহিদ ইসলাম
- সাবেক মন্ত্রী আমুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মিলল যত টাকা
- সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দগ্ধ ছাত্রদল নেতা রনির মৃত্যু
- গৃহকর্মী শিশুকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা! বিমানের এমডি শফিকুর রহমান গ্রেপ্তার
- কক্সবাজারে ডা. শফিকুর রহমানের হুংকার: ১২ ফেব্রুয়ারি ফ্যাসিবাদকে লাল কার্ডের ডাক
- স্বর্ণের বাজারে বড় ধস; ২৪ ঘণ্টায় তিন দফায় কমলো দাম
- যশোরে তারেক রহমানের হুংকার: নাম না নিয়ে জামায়াতের কড়া সমালোচনা
- ফেব্রুয়ারিতে এলপিজির নতুন ধাক্কা: আজ সন্ধ্যা থেকে কার্যকর হচ্ছে বাড়তি দাম
- নারীবিদ্বেষীরা দেশপ্রেমিক হতে পারে না: তারেক রহমান
- ২ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ২ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরপতনের ১০ শেয়ার
- ২ ফেব্রুয়ারি শীর্ষ দরবৃদ্ধিকারী ১০ শেয়ার
- ২০২৬ এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে জরুরি নির্দেশনা
- শবেবরাত পালনে কী করবেন, কী করবেন না
- জামায়াত বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানাতে চায়: ফখরুল
- কীভাবে ইস্তেগফার করবেন, জানুন ফজিলতসহ সহজ নিয়ম
- বিটরুট কেন সুপারফুড, জানুন এর স্বাস্থ্যগুণ
- খুলনায় বিএনপির সমাবেশে নেতাকর্মীদের উপচে পড়া ভিড়
- একদিনে দুই দফা স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস, এক ভরিতে কমল যত
- মায়ের বুকে ফেরার শেষ চেষ্টা: কবরের ভেতরেই আশ্রয় নিল ছোট্ট শিশু
- ৯ আসনে নেই ধানের শীষ: সমঝোতা ও আইনি মারপ্যাঁচে ব্যালট থেকে উধাও বিএনপির প্রতীক
- পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ও পুরুষ বন্ধ্যত্ব: গবেষণায় উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য
- গ্যাস্ট্রিকের ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমান: জেনে নিন ৫টি ঘরোয়া সমাধান
- আজকের টাকার রেট: জেনে নিন বিদেশি মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার
- হাজিদের অধিকার রক্ষায় কঠোর সৌদি আরব: ওমরাহ এজেন্সির চুক্তি স্থগিত নিয়ে তোলপাড়
- দুধ দিয়ে গোসল করে ধানের শীষ হাতে নিলেন আওয়ামী লীগ কর্মী
- স্বর্ণের দামে বড় পতন, ট্রাম্পের ঘোষণায় স্বর্ণবাজারে অস্থিরতা
- তারেক রহমানকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন: ‘Bangladesh’s Prodigal Son’
- বিশ্ববাজারে রেকর্ড দরপতন; দেশেও কমল স্বর্ণের দাম
- স্বস্তি ফিরলো স্বর্ণের বাজারে; আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন দাম
- স্বর্ণের দামে বড় ধস: আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন মূল্য তালিকা
- তিন দিনে ভরিতে বাড়ল ২৮ হাজার, স্বর্ণে রেকর্ড
- আজ ৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে একাধিক এলাকা
- রুপার দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ, ভরি ছাড়াল যত
- কালিগঞ্জে জমি বিরোধে সংঘবদ্ধ হামলা, চারজন গুরুতর আহত
- একদিনে দুই দফা স্বর্ণের দাম কমাল বাজুস, এক ভরিতে কমল যত
- রেকর্ড ভেঙে ছুটছে স্বর্ণ ও রুপা: নিরাপদ আশ্রয় খুঁজছে বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা
- আজ প্রাইজবন্ডের ১২২তম ড্র: জেনে নিন প্রাইজবন্ডের ফলাফল দেখার সহজ নিয়ম
- আগামী পাঁচ দিন কেমন থাকবে দেশের আবহাওয়া
- রিয়েল এস্টেটে বড় স্বস্তি, ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধনে বিরাট সুখবর
- আজ ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা








