Banner

সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্য: "সংস্কারের কথা বলছে তারাই, যারা একসময় নির্বাচন বৈধতা দিয়েছিল"

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ০৫ ২০:০০:৫৮
সালাহউদ্দিন আহমদের মন্তব্য: "সংস্কারের কথা বলছে তারাই, যারা একসময় নির্বাচন বৈধতা দিয়েছিল"

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ১৪ দলের ব্যানারে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যাদের রাজনৈতিক সখ্যতা ছিল, তারাই এখন সংস্কারের নামে বড় বড় বক্তব্য দিচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, “সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের দাবিতে যারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করছে, তারা একটি সুবিধাবাদী চরের দল।”

শনিবার (৫ জুলাই) ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বিএনপি আয়োজিত থানা সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “গণতন্ত্রের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা চলছে। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া—এ বিষয়ে দ্বিমত নেই। তবে স্বল্পমেয়াদী কিছু কাঠামোগত সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করে অবিলম্বে নির্বাচন দিতে হবে। জনগণের রায়ের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এলে তখন সংবিধানসহ রাষ্ট্রীয় সকল ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে।”

তিনি বলেন, মতবিরোধ থাকলেও গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যারা পরিবর্তনের পক্ষে তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। “বিরোধিতা থাকা স্বাভাবিক, তবে আমাদের লক্ষ্য এক—সুশাসন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। সে লক্ষ্যেই ঐক্য প্রয়োজন।”

ক্ষমতা গ্রহণে নির্বাচনের বিকল্প নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, “যদি কেউ সংস্কারের নামে দীর্ঘ মেয়াদে নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করে, তবে তা জাতির জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে উঠবে। জনগণের অধিকার রক্ষায় বিএনপি আবারও আন্দোলনে যাবে।”

নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের নতুন দল গঠনের প্রতি শুভকামনা রইল। তারা বলছে মৌলিক সংস্কার না হলে নির্বাচনে যাবে না—এটা তাদের রাজনৈতিক অবস্থান। কিন্তু তারা এখনো স্পষ্টভাবে বলেনি, কোন পরিস্থিতিতে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে।”

সত্য প্রতিবেদন/আশিক


এবারের নির্বাচন বিশ্বের কাছে প্রশংসিত হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ২১:৪৯:৫৯
এবারের নির্বাচন বিশ্বের কাছে প্রশংসিত হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা অধ্যায় হয়ে থাকবে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে বিশ্বের কাছে স্বীকৃত এবং প্রশংসিত হবে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন বিএনপির অস্থায়ী নির্বাচনী কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় পর তাদের ভোটাধিকার ফিরে পেতে যাচ্ছে। অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে দেশের মানুষ নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন। তিনি নেতা-কর্মীদের আশ্বস্ত করে বলেন যে, এবার কেবল প্রশাসন নয়, বরং ভোটাররা নিজেরাই কেন্দ্রে কেন্দ্রে গিয়ে তাদের পবিত্র আমানত অর্থাৎ ভোট পাহারা দেবে। কোনো অপশক্তিই এবার জনগনের রায়কে ছিনিয়ে নিতে পারবে না।

তৃণমূল নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এই জ্যেষ্ঠ নেতা নির্দেশ দেন যেন তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিটি ভোটারের ঘরে ঘরে পৌঁছান। তিনি বলেন, “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই চূড়ান্ত লড়াইয়ে আমাদের মূল হাতিয়ার হলো ধানের শীষ। প্রতিটি মানুষের কাছে ধানের শীষের বার্তা নিয়ে যেতে হবে এবং জনমত গঠন করতে হবে।” দলের ঐক্য বজায় রেখে যেকোনো ধরণের উস্কানি ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার জন্য তিনি মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সদা সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।

সভায় চকরিয়া পৌরসভা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তৃণমূল পর্যায়ে দলকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করার শপথ নেন। প্রতিনিধি সভাটি এক পর্যায়ে এক বিশাল সমাবেশে রূপ নেয়, যা কক্সবাজারের স্থানীয় রাজনীতিতে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সালাহউদ্দিন আহমদের এই বক্তব্য সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা জোগাতে বড় ভূমিকা রাখবে।


মোস্তাফিজের অপমানে সরব আসিফ, ভারতকে দিলেন কঠোর হুঁশিয়ারি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ২০:১৯:১৮
মোস্তাফিজের অপমানে সরব আসিফ, ভারতকে দিলেন কঠোর হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৬ আসর শুরুর আগেই কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর থেকে ফিজকে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্তকে তিনি ভারতের ‘উগ্র মানসিকতার’ প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ভারতকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের অনুপযুক্ত হিসেবে ঘোষণা করার দাবি তোলেন।

আসিফ মাহমুদ তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “এরকম একটা উগ্র রাষ্ট্রকে কোনোপ্রকার আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া উচিত না। সরকার এবং বিসিবির যৌথ উদ্যোগে অপরাপর ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ভারতকে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের অনুপযুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা উচিত।” তিনি মনে করেন যে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে একজন পেশাদার ক্রিকেটারকে এভাবে বাদ দেওয়া বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য এক কালো অধ্যায়। মোস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কেনার পর উগ্রপন্থীদের বাধার মুখে তাঁকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বর্ণনা করেন।

বাংলাদেশে ভারতীয়দের নিরাপত্তা ও খেলার পরিবেশ নিয়ে যুক্তি দিয়ে সাবেক এই উপদেষ্টা আরও লেখেন, “৫ আগস্টের পরেও বাংলাদেশে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অসংখ্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ভারতীয়রা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং প্রতিযোগিতা পূর্ণ পরিবেশে অংশগ্রহণ করেছে।” অথচ ভারতে বাংলাদেশের একজন শীর্ষ ক্রিকেটারের নিরাপত্তা ও সম্মান দিতে ব্যর্থ হওয়াকে তিনি ভারতের দ্বিমুখী আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আসিফ মাহমুদের এই মন্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে এবং আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


মা সবার কাছে ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন: তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ২০:১৩:২৯
মা সবার কাছে ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন: তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ঘোষিত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের পর দেশবাসী ও সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি এই শোকাতুর সময়ে পরিবারের পাশে থাকাদের ধন্যবাদ জানান। তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে এই তিন দিনে তিনি ও তাঁর পরিবার নতুন করে উপলব্ধি করেছেন তাঁর মা ভিন্ন ভিন্ন মানুষের কাছে কতটা গভীর ও অর্থবহ তাৎপর্য বহন করতেন।

পোস্টে তারেক রহমান বলেন যে অনেকের কাছেই বেগম জিয়া ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক এবং নিজের বিশ্বাসের পক্ষে অটল সাহসে দাঁড়ানোর এক অদম্য প্রেরণা। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সরকারের দ্রুত সমন্বয় ও আন্তরিক নেতৃত্বের কারণেই বেগম জিয়ার অন্তিম আয়োজন অত্যন্ত সম্মানজনক ও সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান, কূটনীতিক এবং শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাঠানো শোকবার্তা ও জানাজায় উপস্থিতিকে অভূতপূর্ব সম্মাননা হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।

তারেক রহমান বিশেষভাবে সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। মায়ের শেষ বিদায় ও সমাধিতে পৌঁছে দেওয়ার সময় পিজিআর-এর গার্ড অব অনার ও শেষ সালাম জিয়া পরিবারকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে বলে তিনি জানান। তিনি মনে করেন যে এই প্রতিটি সম্মাননা ছিল তাঁর মায়ের জীবন ও অবদানের প্রতি জাতির সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন। এছাড়া পর্দার আড়ালে থেকে যারা এই বিশাল আয়োজন সফল করতে সাহায্য করেছেন তাদের প্রতিও নির্মোহ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারেক রহমান।

বার্তার শেষ অংশে তারেক রহমান বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতি বিনম্র অভিবাদন জানিয়ে বলেন যে দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মানুষের যে ঢল নেমেছিল তা জিয়া পরিবার কখনোই ভুলবে না। এই শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি গণমানুষের সহমর্মিতারই বহিঃপ্রকাশ। জনগণের এই ভালোবাসা ও সংহতি পরিবারের জন্য সান্ত্বনা ও শক্তি জুগিয়েছে এবং এই স্মৃতি আগামীর বাংলাদেশে পাথেয় হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। শোকাতুর এই অধ্যায় শেষে দেশ ও জাতির প্রতি কৃতজ্ঞচিত্তে আগামীর পথে হাঁটার অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।


মাফিয়া দল আওয়ামী লীগ আবার হত্যাকাণ্ড চালাতে সচেষ্ট: হাফিজ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১৮:৫৬:০২
মাফিয়া দল আওয়ামী লীগ আবার হত্যাকাণ্ড চালাতে সচেষ্ট: হাফিজ
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে নতুন করে হত্যাকাণ্ড ও অস্থিতিশীলতা তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। শনিবার (৩ জানুয়ারি ২০২৬) ভোলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিজের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। হাফিজ উদ্দিন দাবি করেন যে মাফিয়া চক্রের মতো আচরণ করা আওয়ামী লীগ নির্বাচন বানচাল করতে আবারও রক্তক্ষয়ী পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তাদের এই অপকর্মে প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্র সরাসরি সহায়তা প্রদান করছে।

বিগত ১৬ বছরের দুঃশাসনের কথা স্মরণ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন যে তৎকালীন স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাকে অভয় দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে যাতে তাঁর কৃতকর্মের বিচার নিশ্চিত হয়। তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশের অসংখ্য নাগরিককে হত্যা করে এবং গণতন্ত্রকামী মানুষের জীবন বিপন্ন করে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারা কোনো বাধা ছাড়াই ভারতে প্রবেশ করছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের উচিত এই খুনিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া।

মেজর হাফিজের মতে বিগত দেড় দশকে যারা নতুন ভোটার হয়েছিলেন তাঁরা একবারও তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। মাফিয়া সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে এবং অবাধে ভোট দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের এই আনুষ্ঠানিকতায় হাফিজ উদ্দিনের সঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম বাছত ও তজুমদ্দিন-লালমোহন উপজেলার বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। হাফিজ উদ্দিন পরিষ্কার জানিয়েছেন যে কোনো ধরণের ষড়যন্ত্রই এবার জনগণের ভোটাধিকার আদায়ের সংগ্রামকে রুখতে পারবে না।


ষড়যন্ত্র নাকি প্রযুক্তিগত ভুল? মনোনয়নপত্র নিয়ে তাসনিম জারার নতুন বার্তা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১৮:৩৭:০৯
ষড়যন্ত্র নাকি প্রযুক্তিগত ভুল? মনোনয়নপত্র নিয়ে তাসনিম জারার নতুন বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই ঘোষণা আসার পর তাঁর নির্বাচনী এলাকায় ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তবে এই সিদ্ধান্তে দমে না গিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন এই তরুণ চিকিৎসক ও সাবেক এনসিপি নেত্রী।

মনোনয়নপত্র বাতিলের খবর ছড়িয়ে পড়লে অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভোটার জারাকে ফোন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের আশ্বস্ত করতে শনিবার বিকেলে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন তিনি। সেখানে জারা উল্লেখ করেন যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নিয়মকানুন থাকা স্বাভাবিক কিন্তু সেই আইনের প্রয়োগ হওয়া উচিত অন্তর্ভুক্তিমূলক। মানুষের স্পষ্ট সমর্থন থাকা সত্ত্বেও ছোটখাটো কারিগরি বিষয় দেখিয়ে কোনো প্রার্থীকে নির্বাচনের বাইরে রাখার চেষ্টা প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে তিনি মনে করেন।

ডা. তাসনিম জারা জানিয়েছেন যে তাঁরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর আপিল করছেন। তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন যে আপনাদের পছন্দের প্রার্থী হয়ে মাঠে থাকতে আমি শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। মনোনয়নপত্র বাতিলের ধাক্কা সামলে আজ বিকেলেই তিনি মুগদার ওয়াপদা কলোনি, মামা-ভাইগ্না গলি, বাশার টাওয়ার এবং মদিনাবাগ এলাকায় পূর্বনির্ধারিত জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ডা. জারার মতো স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া এবং তাঁর তাৎক্ষণিক এই চ্যালেঞ্জিং অবস্থান ভোটারদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করতে পারে। এখন দেখার বিষয় আপিল বিভাগে তাঁর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আবেদন শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়। ঢাকা-৯ আসনের নির্বাচনী দৌড়ে তাঁর থাকা বা না থাকার ওপর অনেক সমীকরণ নির্ভর করছে।


মোদি কি এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছে? জয়শঙ্করের ঢাকা সফরে কী বার্তা এল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১৩:১২:২০
মোদি কি এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছে? জয়শঙ্করের ঢাকা সফরে কী বার্তা এল
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের প্রেক্ষাপটে একটি প্রশ্ন ঘুরে ফিরে সামনে আসছে। ভারত, বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে কাকে দেখতে চায়। দীর্ঘ সময় ধরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দিল্লির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে অনেকেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে একটি স্থিতিশীল অধ্যায় হিসেবে দেখলেও, বর্তমান বাস্তবতায় সেই সমীকরণে পরিবর্তনের আভাস মিলছে। ভারতীয় গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের সাম্প্রতিক মূল্যায়নগুলোতে উঠে আসছে ভিন্ন এক রাজনৈতিক সম্ভাবনার কথা।

বিএনপির প্রতি কি দিল্লির আগ্রহ বাড়ছে

রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্যের তথ্য ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যমে বিএনপি এবং দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ঘিরে তুলনামূলক ইতিবাচক আলোচনা দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় ব্যবসা ও রাজনীতি বিষয়ক দৈনিক The Business Standard এক প্রতিবেদনে তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনাকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি সম্ভাব্য গেম চেঞ্জিং মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত ও বিএনপির মধ্যে একটি সতর্ক পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদনটির ভাষ্য অনুযায়ী, দিল্লির নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ এখন মনে করছে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি একটি তুলনামূলকভাবে পূর্বানুমানযোগ্য, উদার ও গণতান্ত্রিক বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এই মূল্যায়ন ভারতের কৌশলগত ভাবনায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

মোদির বার্তা এবং সম্পর্ক উষ্ণতার ইঙ্গিত

গত ডিসেম্বরে নরেন্দ্র মোদি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সহায়তার প্রস্তাব দেন। বিএনপিও আনুষ্ঠানিকভাবে সেই বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপকে কেবল সৌজন্য বিনিময় হিসেবে দেখলে চিত্র অসম্পূর্ণ থেকে যায়। অনেকের বিশ্লেষণে এটি বিএনপির সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক উষ্ণ করার একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক সংকেত।

জামায়াত প্রসঙ্গ এবং কৌশলগত মিল

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণ সংস্থা Eurasia Review এবং International Crisis Group এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, উগ্র ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে রাখার প্রশ্নে ভারত ও বিএনপির অবস্থানে একটি কৌশলগত মিল রয়েছে। এসব বিশ্লেষণে বলা হয়, ভারতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিএনপিই এখন তুলনামূলকভাবে ভারতের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক উদ্বেগগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি আগ্রহী।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সাল থেকেই দিল্লি লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ বজায় রাখছিল। এটি বর্তমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন তাৎপর্য পাচ্ছে।

জয়শঙ্করের ঢাকা সফর এবং স্পষ্ট বার্তা

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি ঢাকা সফর করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পিনাকী ভট্টাচার্যের ভিডিও বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, এই সফরে জয়শঙ্কর তিনটি নির্দিষ্ট বার্তা তুলে ধরেন।

প্রথমত, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে হবে। দ্বিতীয়ত, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, রাজনৈতিক সমঝোতার স্বার্থে প্রয়োজনে নির্বাচনের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।

পছন্দের শক্তি নয়, আপসযোগ্য অংশীদার

পিনাকী ভট্টাচার্যের বিশ্লেষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উঠে এসেছে। তার মতে, দিল্লির কাছে বিএনপি কোনো নির্দিষ্টভাবে নির্বাচিত শক্তি নয়। বরং ভারত বিএনপিকে একটি আপসযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখে, যাদের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো তুলনামূলকভাবে সহজ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হচ্ছে, ক্ষমতার প্রয়োজনে তারেক রহমানও ভারতের সঙ্গে বাস্তববাদী সমঝোতায় আগ্রহী হতে পারেন।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভার কার হাতে যেতে পারে, এই প্রশ্নে দিল্লির গণমাধ্যম ও বিশ্লেষণগুলো বিএনপির দিকে ইঙ্গিত দিলেও, আলোচনায় একটি সতর্ক বার্তাও উঠে আসছে। সেটি হলো, বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশা একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ সমর্থনে পরিচালিত হবে, বাইরের অনুকম্পায় নয়।

এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচন শুধু ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকছে না। অনেকের দৃষ্টিতে এটি বিদেশি প্রভাবের বাইরে একটি রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্মাণের সুযোগ কিনা, সেই বিতর্কও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হয়ে উঠছে।

-রফিক


ইশরাক হোসেনের মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে তথ্য সামনে এল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১২:২২:৫১
ইশরাক হোসেনের মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে তথ্য সামনে এল
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন-এর মনোনয়নপত্র যাচাই শেষে বৈধ বলে ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা। শনিবার আনুষ্ঠানিক যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়, ফলে আসনটিতে বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে আর কোনো আনুষ্ঠানিক বাধা রইল না।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শফর উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন ইশরাক হোসেন। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কাগজপত্র দাখিল ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়।

হলফনামা অনুযায়ী, ইশরাক হোসেন পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বয়স ৩৮ বছর উল্লেখ করে তিনি তার শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে এমএসসি ডিগ্রির কথা জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি আর্থিক ও আইনি অবস্থান সংক্রান্ত বিবরণও হলফনামায় সংযুক্ত করা হয়।

আইনি অবস্থান বিষয়ে হলফনামায় তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বর্তমানে তার নামে কোনো ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন নেই। যদিও অতীতে বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে মোট ২১টি মামলা দায়ের হয়েছিল, তবে সংশ্লিষ্ট সব মামলাতেই তিনি আইনগতভাবে অব্যাহতি পেয়েছেন বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইশরাক হোসেন রাজনৈতিকভাবে পরিচিত একটি পরিবারের সদস্য। তিনি প্রয়াত সাবেক ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকার সন্তান। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতি আরও আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।

মনোনয়ন যাচাই শেষে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জমা দেওয়া কাগজপত্রে কোনো ধরনের অসঙ্গতি না থাকায় তা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এখন নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচনী ধাপে এগোবেন প্রার্থী।

-রফিক


খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী ফাতেমা বেগমের নতুন অধ্যায়

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১১:৫৫:১৯
খালেদা জিয়ার ছায়াসঙ্গী ফাতেমা বেগমের নতুন অধ্যায়
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া–এর প্রয়াণের পর তার দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহচরী ফাতেমা বেগম নতুন এক দায়িত্ব ও আস্থার পরিসরে প্রবেশ করেছেন। রাজনীতির আলো-আঁধারির বাইরে থাকা এই নারী এখন তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের নিকটবর্তী ও নির্ভরতার মানুষ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠছেন।

দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফাতেমা বেগম ছিলেন খালেদা জিয়ার দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গুলশানের ফিরোজা বাসভবনের নীরবতা থেকে শুরু করে রাজপথের উত্তাল আন্দোলন, কারাবাসের একাকী দিন কিংবা বিদেশ সফরের গোপন যাত্রাপথ সবখানেই তিনি ছিলেন দৃশ্যের আড়ালে থাকা নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। দায়িত্বের তালিকায় শুধু আনুষ্ঠানিক কাজ নয়, নেত্রীর শারীরিক দুর্বলতায় সহায়তা করা, সময়মতো বিষয় মনে করিয়ে দেওয়া এবং নিয়মিত ওষুধ খাওয়ানোও ছিল তার নীরব মানবিক ভূমিকা।

ফাতেমা বেগমের ব্যক্তিগত জীবন সহজ ছিল না। ভোলার কাচিয়া ইউনিয়নের একটি কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নারী স্বামীকে হারানোর পর দুই সন্তান নিয়ে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। টিকে থাকার সংগ্রামে ঢাকায় এসে ২০০৯ সালে খালেদা জিয়ার বাসভবনে কাজ শুরু করেন তিনি। সময়ের সঙ্গে তার নিষ্ঠা, সততা ও নিরবচ্ছিন্ন সেবাই তাকে রাজনৈতিক টালমাটাল সময়েও নেত্রীর সবচেয়ে আস্থাভাজন ছায়াসঙ্গীতে পরিণত করে।

২০১৩ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০১৮ সালের কারাবাস প্রতিটি সংকটময় অধ্যায়ে ফাতেমা ছিলেন খালেদা জিয়ার নীরব সহযাত্রী। করোনাকালীন অসুস্থতা, হাসপাতালের দিনগুলো এবং লন্ডনে চিকিৎসা সফরের প্রতিটি ধাপে তার উপস্থিতি ছিল দায়িত্বের চেয়ে অনেক বেশি মানবিক ও আত্মিক।

দীর্ঘদিনের সেই সঙ্গী হারানোর পর ফাতেমা বেগম শারীরিকভাবে স্থিত থাকলেও মানসিকভাবে গভীর শোক বহন করছেন। তবু জীবনের ধারাবাহিকতায় তার দায়িত্ব ও সান্নিধ্য এখন নতুনভাবে জড়িয়ে গেছে জাইমা রহমানের সঙ্গে। অভিজ্ঞতা, আস্থা ও নীরব যত্নের যে সম্পর্ক তিনি এক সময় খালেদা জিয়ার পাশে গড়ে তুলেছিলেন, তার প্রতিধ্বনি নতুন প্রজন্মের এক সদস্যের সঙ্গেও গড়ে উঠছে রাজনীতির বাইরে থাকা এক মানবিক ধারাবাহিকতা হিসেবে।

-রাফসান


শূন্য চেয়ারপারসন পদ: তারেক রহমানই কি এখন বিএনপির নতুন প্রধান?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ০৯:৪১:৪৩
শূন্য চেয়ারপারসন পদ: তারেক রহমানই কি এখন বিএনপির নতুন প্রধান?
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলটির শীর্ষ পদটি বর্তমানে শূন্য হয়ে পড়েছে। দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন পদাধিকার বলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করলেও তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই পদে ঘোষণা করা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি দল। তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই নেতৃত্ব ও প্রচার কৌশলের বিষয়টি নিষ্পত্তি করা বিএনপির জন্য এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবচেয়ে বড় জটিলতা তৈরি হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানার, ফেস্টুন ও ডিজিটাল পোস্টারে কার ছবি ব্যবহৃত হবে তা নিয়ে। সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী কেবল তাঁর বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি ব্যবহার করতে পারবেন। গত ৩০ ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বাস্তবতা বদলে যাওয়ায় বিএনপির প্রার্থীরা এখন দ্বিধায় রয়েছেন যে তাঁরা কার ছবি পোস্টারে ব্যবহার করবেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন যে, এই বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার জন্য তাঁরা দ্রুতই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।

এদিকে বেগম জিয়ার প্রয়াণের পর সাত দিনের শোক কর্মসূচির মধ্যেই বিএনপিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। দলের নীতিনির্ধারকেরা মনে করছেন, খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অনুপস্থিত থাকলেও তাঁর ত্যাগ ও আদর্শই হবে এবারের নির্বাচনের মূল আবেগীয় শক্তি। এই আবেগকে কাজে লাগিয়ে জনসমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে ৪১ সদস্যের একটি শক্তিশালী নির্বাচন স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন যে শোকের আবহ থাকলেও নির্বাচনের প্রস্তুতির কাজ থেমে নেই।

নির্বাচনী মাঠ গোছাতে বিএনপি এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। শতাধিক আসনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে এবং ইতোমধ্যে রুমিন ফারহানা ও সাইফুল আলম নিরবসহ নয়জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় সূত্রমতে, ৫ জানুয়ারি শোক কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরপরই তারেক রহমান সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হবেন এবং পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তিনি জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাতে সশরীরে মাঠে নামার পরিকল্পনাও করছেন।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত