বাংলাদেশ অর্থনীতি

ঋণ ব্যবস্থাপনায় তথ্যের ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২৮ ১১:০৩:৩৬
ঋণ ব্যবস্থাপনায় তথ্যের ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ: অর্থ উপদেষ্টা

বাংলাদেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ঋণ ব্যবস্থাপনায় সকল অংশীদারকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, "অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় বড় প্রকল্প অনুমোদন করলে দেশের ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।"

শুক্রবার গাজীপুরের একটি হোটেলে "Navigating Public Debt in Bangladesh" শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, "কোনো বড় প্রকল্প অনুমোদনের আগে দেখতে হবে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা আসলেই আছে কি না, সেটি বাস্তবায়নযোগ্য কি না এবং সেটি দীর্ঘমেয়াদে দেশকে কী ধরনের সুফল দেবে।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের এখন কৌশলগত পরিকল্পনাকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করার সময় এসেছে। শুধু সরকার নয়, ঋণ ব্যবস্থাপনায় করপোরেট খাত, বাংলাদেশ ব্যাংক, বন্ড বাজার ও বেসরকারি অংশীদারদেরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।"

বিশ্বের আর্থিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক চাপের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় সব অংশীজনের মধ্যে সমন্বয় ও বোঝাপড়ার সম্পর্ক স্থাপন জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। সেইসঙ্গে সময়োপযোগী, সমন্বিত ও বাস্তবমুখী তথ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, "রিয়েল-টাইম ডেটা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের সক্ষমতা তৈরি করা না গেলে ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যকর হবে না—এটিই এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।"

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী এবং সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মুজুমদার।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে অর্থ বিভাগ পরিচালিত Strengthening Public Financial Management Program to Enable Service Delivery (SPFMS)। অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বিলকিস জাহান রিমি এবং বিশ্ব ব্যাংকের লিড গভর্নেন্স স্পেশালিস্ট সুরাইয়া জান্নাত।

ড. আনিসুজ্জামান তার বক্তব্যে সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনায় মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি দ্রুত একটি যৌথ সভার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান।

অর্থ বিভাগের সচিব ড. খায়রুজ্জামান মুজুমদার বলেন, “বৈদেশিক ঋণের সুযোগ ক্রমেই সীমিত হচ্ছে, তাই এখন আমাদের ঘরোয়া ঋণের উৎস ব্যবস্থাপনার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।” সেইসঙ্গে তিনি দক্ষ জনবলের ঘাটতি দূর করে পেশাদার ভিত্তি গড়ে তোলার উপর জোর দেন।

কর্মশালায় উপস্থাপনা দেন অর্থ বিভাগের কোষাগার ও ঋণ ব্যবস্থাপনা উইং-এর অতিরিক্ত সচিব হাসান খালেদ ফয়সাল, যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রাশেদুল আমিন, উপসচিব ফরিদ আহমেদ এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের অর্থনীতিবিদ অরিন্দম রায়।

মডারেটর হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী এবং ড. জিয়াউল আবেদীন।

কর্মশালায় অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিশ্ব ব্যাংকের প্রায় ৭৫ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

-এস সরকার, নিজস্ব প্রতিবেদক


সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে বড় খবর

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ২২:০৩:১৯
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে বড় খবর
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত নতুন বেতনকাঠামো বা পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এটি কবে থেকে এবং কত ধাপে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নতুন বেতনকাঠামোর অগ্রগতি এবং জ্বালানি খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা জানান, সাধারণত বেতনকাঠামো নির্ধারণের কাজ তিনটি পর্যায়ে সম্পন্ন হয়। এরই মধ্যে পে সার্ভিস কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর পে কমিটি তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে। এসব সুপারিশ পর্যালোচনা করে সচিব কমিটিও তাদের মতামত পাঠিয়েছে। অন্যদিকে জুডিশিয়াল পে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটিও কাজ শুরু করেছে।

এই প্রক্রিয়ার বাকি কাজ শেষ হওয়ার পর নতুন বেতনকাঠামোর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সেখানেই এটি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত সময়সীমা ও পদ্ধতি নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিতুমীর।

মূল্যস্ফীতির বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন বেতনকাঠামোর সঙ্গে প্রায় ১৪ লাখ নিয়মিত সরকারি চাকরিজীবীর পাশাপাশি পেনশনভোগীসহ মোট প্রায় ২০ লাখ মানুষের স্বার্থ জড়িত। তবে শুধু বেতন বাড়ালেই দুর্নীতি পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে—সরকার এমন কোনো দাবি করছে না। বরং একটি যৌক্তিক ও কার্যকর বেতনকাঠামো তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

সরকারি ও বেসরকারি খাতের বেতনকাঠামোর সরাসরি তুলনা করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা। তাঁর মতে, বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে কাজের ধরন, দায়িত্ব ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়।

নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে অর্থের সংস্থান প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, জনগণের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ না বাড়িয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংগ্রহের পরিধি বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। উন্নয়ন বা বেতন বাস্তবায়নে ঋণ নেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্য যেকোনো প্রতিষ্ঠানের মতো রাষ্ট্রের জন্যও ঋণ নেওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

তবে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে সুদের হার, ঋণের শর্ত, পরিশোধের সময়সীমা এবং মোট ঋণ জিডিপির কত শতাংশ—এসব বিষয় বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় এবং বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন উপদেষ্টা।

ঋণের সুদ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পরও ভুল ও বিভ্রান্তিকর পরিসংখ্যান ব্যবহার করে উন্নয়নের প্রচার চালানো হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিতুমীর। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, আসন্ন শীতে পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং আগামী গ্রীষ্মে জ্বালানি খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে ২০২৯ সালের মধ্যে বড় অর্থনীতির প্রয়োজন মেটানোর মতো দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি সরবরাহে জটিলতার বিষয়ে উপদেষ্টা অপ্রত্যাশিত বৈশ্বিক সংকট বা ‘ফোর্স মেজারস’ এবং হরমুজ প্রণালির সংকটকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। সরবরাহের বিকল্প হিসেবে কাতারের পাশাপাশি অন্যান্য উৎস এবং নতুন পরিবহন পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় খাদ্যের মতো জ্বালানিরও ‘বাফার মজুত’ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী নভেম্বর নাগাদ দেশের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন ব্লকের দরপত্র আহ্বানের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ‘নো পাওয়ার, নো পে’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

/আশিক


হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ, তেল পরিবহনে বড় পরিবর্তন

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ১৯:৫৬:৩০
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ, তেল পরিবহনে বড় পরিবর্তন
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র নতুন একটি নৌ-করিডোর চালু করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, নতুন এই রুট ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।

অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৫ থেকে ২০টি তেলবাহী ট্যাংকার ওমানের দক্ষিণ উপকূলীয় চ্যানেল ব্যবহার করে নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে। সূত্রের দাবি, বর্তমানে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগের সময়ের তুলনায় এই পরিমাণ প্রায় অর্ধেক।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি এখন উন্মুক্ত রয়েছে এবং সেখানে প্রচুর জাহাজ চলাচল করছে।

তেলের দামও কমে এসেছে বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৩৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, তার বদলে বর্তমানে দাম কমে ৮৪ থেকে ৮৫ ডলারের মধ্যে রয়েছে।

ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা আরও কমতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষ্য, মানুষ ইতোমধ্যে বিকল্প পথ খুঁজে নিয়েছে এবং রেকর্ডসংখ্যক পাইপলাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও বিপুল পরিমাণ তেল বিদেশে পাঠাতে সক্ষম হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার তথ্য বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌযান চলাচল এখনো স্বাভাবিক গতিতে ফিরেনি। হামলার আশঙ্কায় অনেক পরিবহন সংস্থা সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার মাত্র ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর আগের দিন এই সংখ্যা ছিল নয়টি। গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে ১১টি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।

তবে কেপলার জানিয়েছে, নিজেদের অবস্থান শনাক্ত হওয়া এড়াতে অনেক তেলবাহী ট্যাংকার ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারে। এ কারণে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের তুলনায় প্রকৃত জাহাজ চলাচলের সংখ্যা বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে বলে দাবি করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই তা অস্বীকার করে আসছেন। তাঁর দাবি, প্রণালিটি উন্মুক্ত রয়েছে এবং সেখানে জাহাজ চলাচল অব্যাহত আছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের পরিস্থিতির ওপর আন্তর্জাতিক তেলবাজারের নজর রয়েছে। এই পথ দিয়ে জ্বালানি পরিবহনের স্বাভাবিকতা বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট


দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠে কমল স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২০ ১৯:১৪:৪৮
দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চে উঠে কমল স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের দীর্ঘমেয়াদি বন্ডে তারল্য সহায়তা বাড়ানোর ঘোষণার পর দুই মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ দামে উঠেছিল স্বর্ণ। তবে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার কারণে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম কিছুটা কমেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ৪ শতাংশের বেশি বাড়ার পর বৃহস্পতিবার স্পট স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৮৮ দশমিক ১৯ ডলারে নেমেছে। এর আগে দাম বেড়ে ৪ হাজার ৫২৫ দশমিক ৭৯ ডলারে পৌঁছেছিল, যা গত ২ জুনের পর স্বর্ণের সর্বোচ্চ দাম।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্বর্ণের ফিউচার চুক্তির দাম সামান্য পরিবর্তিত হয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৪৬ দশমিক ৩০ ডলারে অবস্থান করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি নোট ও বন্ডের জন্য পরিচালিত তারল্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে। এর আগে দেশটির বন্ডবাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছিল। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা বন্ডে বেশি মুনাফা দাবি করায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছিল।

এদিকে মার্কিন ডলারও তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি রয়েছে। সাধারণত ডলারের দাম দুর্বল হলে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ বিদেশি ক্রেতাদের কাছে তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে যায়।

টেস্টাইলাইভের বৈশ্বিক সামষ্টিক অর্থনীতিবিষয়ক প্রধান ইলিয়া স্পিভাক বলেন, স্বর্ণের বাজারে স্পষ্টতই বড় ধরনের উত্থান হয়েছে। এ ধরনের বড় দরবৃদ্ধির পর বাজারে কিছুটা মূল্য সমন্বয় হওয়া স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ ডলারের মূল্যসীমা অতিক্রম করেছে। দাম যদি এই সীমার ওপরে স্থির থাকতে পারে, তাহলে স্বর্ণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

এরই মধ্যে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মোট সরকারি ঋণের পরিমাণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। এতে দেশটির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মারেক্সের বিশ্লেষক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, সরকারি ঋণ ও ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বাড়তে থাকা এবং সরকারি ব্যয় কমাতে না পারার কারণে বাজারের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি স্বর্ণের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক।

অন্যদিকে গত মাসে অনুষ্ঠিত ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের কার্যবিবরণীতে মূল্যস্ফীতি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ বাড়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। বুধবার প্রকাশিত ওই কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ফেডের কয়েকজন নীতিনির্ধারক সুদের হার বাড়ানোর পক্ষেও প্রস্তুত ছিলেন।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বাজারে বর্তমানে সেপ্টেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৬৯ শতাংশ এবং সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৩১ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

স্বর্ণকে সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষার একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে কোনো সুদ বা নিয়মিত আয় না দেওয়া স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে বৃহস্পতিবার স্পট রুপার দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৯৪ দশমিক ৯১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩২৫ দশমিক ৯৪ ডলারে নেমেছে।

/আশিক


গ্যাস সরবরাহে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয়

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ২১:৩০:৩৬
গ্যাস সরবরাহে আবারও বড় ধরনের বিপর্যয়
ছবি : সংগৃহীত

সামান্য কয়েকদিনের স্বস্তির পর ফের তীব্র গ্যাস সংকটের মুখে পড়েছে দেশ। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে বুধবার বিকাল ৩টা থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ কমে ২১৮ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। নতুন এলএনজি কার্গো সময়মতো না পৌঁছানো এবং বিদ্যমান মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আবাসিক খাতে সংকটকে আরও প্রকট করে তুলছে।

টানা ২৫ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে গত শনিবার সামিটের টার্মিনাল পূর্ণ ক্ষমতায় এবং এক্সিলারেটের টার্মিনাল আংশিক চালু হলে সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু নতুন কোনো চালান না আসায় এক্সিলারেট তাদের অবশিষ্ট মজুত থেকে সীমিত আকারে সরবরাহ চালু রাখে। পরবর্তীতে সোমবার থেকে সরবরাহ কমতে শুরু করে এবং বুধবার বিকালে তা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে। জ্বালানি বিভাগের তত্ত্বাবধানে পেট্রোবাংলা এবং রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) এলএনজি আমদানির দায়িত্বে থাকলেও পর্যাপ্ত মজুতের অভাবে প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও টার্মিনালটি সচল রাখা যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক খোলা বা স্পট বাজার থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে এলএনজি সংগ্রহের অংশ হিসেবে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে একাধিক কার্গোর আদেশ দেওয়া হয়েছিল। চলতি মাসে অন্তত চারটি চালানের দেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত একটি কার্গোও এসে পৌঁছায়নি, যার কারণে সামগ্রিক আমদানি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মহেশখালীতে এক্সিলারেটের টার্মিনালের দৈনিক সক্ষমতা ৬০ কোটি এবং সামিটের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর এক্সিলারেটের টার্মিনালটি মেরামত শেষে প্রস্তুত হলেও নতুন কার্গোর অভাবে তা চালু রাখা সম্ভব হয়নি।

আগামী বৃহস্পতিবার সামিট টার্মিনালের জন্য একটি এলএনজি কার্গো আসার সম্ভাবনা থাকলেও এক্সিলারেটের নির্ধারিত কার্গোটি পৌঁছাতে ২৩ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিন গ্যাস সরবরাহের ক্ষেত্রে সংকট অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করা হয় এবং এর মধ্যে ১০৫ কোটি ঘনফুট আসে এলএনজি থেকে। তবে বুধবার সরবরাহ মাত্র ৫৫ কোটি ঘনফুটে নেমে আসায় দেশের শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকায় ভোগান্তি বাড়তে শুরু করেছে।

/আশিক


ফেডের সুদের হার ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে বাড়ছে স্বর্ণের দাম

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ১৮:২৯:২৫
ফেডের সুদের হার ও বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে বাড়ছে স্বর্ণের দাম
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ডলারের মান হ্রাস এবং বৈশ্বিক বন্ডের সুদহার কয়েক দশকের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নেমে আসায় আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বিদ্যমান থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা বুঝতে নীতিনির্ধারণী বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৫৬ দশমিক ২৯ ডলারে পৌঁছায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দাম সামান্য কমে ৪ হাজার ৪১০ দশমিক ৩০ ডলারে নেমেছে।

ডলারের দর প্রায় ১২২ টাকা ধরে হিসাব করলে আন্তর্জাতিক স্পট মূল্যের ভিত্তিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা এবং প্রতি গ্রাম প্রায় ১৭ হাজার ১০০ টাকা। সেই অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারের হিসাবে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়ছে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ৪০০ টাকা, যা প্রায় ২ লাখ টাকার কাছাকাছি। তবে স্থানীয় বাজারে সোনা কিনতে ডলারের বিনিময় হার, ভ্যাট এবং তৈরির মজুরিসহ অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় প্রকৃত বিক্রয়মূল্য আরও বেশি হয়।

এর আগে মঙ্গলবার দীর্ঘমেয়াদি ঋণের খরচ কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চে পৌঁছালে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছিল। তবে বুধবার বন্ডের ওপর চাপ ও ডলারের দর কমে আসায় সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ আবার বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ফেডের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার জোরালো সম্ভাবনার কারণে সামষ্টিক অর্থনীতি স্বর্ণের অনুকূলে রয়েছে, যা এর দাম আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৫০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। বর্তমানে বাজারে ফেডের সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৬৭ শতাংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

ইউবিএসের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, চলতি মাসে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রকৃত সুদের হার কমে আসার কারণে মধ্যমেয়াদে ধাতুটির দর আরও বাড়তে পারে। এদিকে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে অনিশ্চয়তার জেরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চে উঠেছে। অন্যান্য ধাতুর মধ্যে রুপার দাম কিছুটা কমলেও প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম সামান্য বেড়েছে।

বাংলাদেশের বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা নির্ধারণ করা আছে। এর আগে গত ১৪ আগস্ট ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা দর কমিয়েছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

/আশিক


১ জুলাই থেকে কার্যকরের কথা থাকলেও পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে ধোঁয়াশা

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৯ ১৮:২৫:৫৪
১ জুলাই থেকে কার্যকরের কথা থাকলেও পে স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে ধোঁয়াশা
ছবি : সংগৃহীত

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সচিব কমিটির স্বাক্ষর সম্পন্ন হলেও এর আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গত ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকরের ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, কারিগরি জটিলতা এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতার সুরাহা না হওয়ায় চলতি আগস্ট মাসেও গেজেট প্রকাশ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘জনগণের সরকারের ১৮০ দিন’ শীর্ষক ই-বুকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই কাঠামো বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতা, পেনশন ও গ্র্যাচুইটি খাতে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। গত ১১ জুন বাজেট ঘোষণার সময় ১ জুলাই থেকে তা কার্যকরের কথা জানানো হয়েছিল। মূলত দীর্ঘ ১১ বছর পর জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নীতিগত অনুমোদন মিললেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কারিগরি দিকটিই এখন প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা মূলত ইএফটি এবং আইবাস প্লাস প্লাস (iBAS++) সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রথম বছরে শুধু বর্ধিত মূল বেতন এবং পরবর্তী বছর থেকে বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সফটওয়্যারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, যা গেজেট প্রকাশে বিলম্বের অন্যতম কারণ।

এদিকে ২০১৫ সালের অষ্টম পে স্কেল চালুর সময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কোনো পেশাজীবী যেন বৈষম্যের শিকার না হন, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন ১০ সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি। প্রাথমিক পর্যায়ে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হলেও বর্তমানে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে মূল বেতন ও ২০২৭ সালের জুলাইয়ে অন্যান্য ভাতা কার্যকর করাসহ তিন ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাবও বিবেচনাধীন রয়েছে।

সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন নবম জাতীয় বেতন কমিশন ২০টি গ্রেড অক্ষুণ্ণ রেখে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। কমিশনের দেওয়া প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়। যদিও পর্যালোচনা কমিটির আলোচনায় সর্বনিম্ন মূল বেতন ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা করার বিকল্প প্রস্তাবও এসেছে। তবে রাষ্ট্রের সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত গেজেটে এই অংকে পরিবর্তন আসতে পারে।

সার্বিক দিক বিবেচনায় গেজেট প্রকাশের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো নিশ্চিত নয়। দ্রুত সফটওয়্যার ও অন্যান্য কারিগরি দিক সমাধান হলে চলতি আগস্টেই গেজেট প্রকাশের সুযোগ রয়েছে বলে একটি সূত্র জানালেও, ভিন্ন আরেকটি সূত্রের মতে অক্টোবর মাসের আগে এই গেজেট জারি করা কঠিন হতে পারে। ফলে বর্ধিত বেতনের সুবিধা পেতে সরকারি কর্মচারীদের আরও কিছুদিন অপেক্ষায় থাকতে হতে পারে।

/আশিক


বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুর দামের সর্বশেষ পরিস্থিতি

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ১৯:৩১:৩২
বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও মূল্যবান ধাতুর দামের সর্বশেষ পরিস্থিতি
ছবি : সংগৃহীত

টানা দুই সেশনে বৃদ্ধির পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা পতন দেখা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, মঙ্গলবার স্পট গোল্ডের দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৩৯২.৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দাম ০.৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স হয়েছে ৪,৪৪৯.৫০ ডলার।

বাজার বিশ্লেষক রস নরম্যান জানান, সাম্প্রতিক দরবৃদ্ধির পর বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা এবং ডলারের শক্ত অবস্থানের কারণে এই সংশোধন হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার ফলে জ্বালানি তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করেছে। এর ফলে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার কমানোর সম্ভাবনা মন্থর হতে পারে—এমন আশঙ্কায় স্বর্ণের বাজারে সাময়িক বিক্রির চাপ বেড়েছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম ১.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৫.০৮ ডলার, প্লাটিনামের দাম ১.৪ শতাংশ কমে ১,৭৪৫.৫৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ কমে ১,৩১৮.২৯ ডলারে নেমেছে।

এদিকে দেশের বাজারে বর্তমানে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা, ২১ ক্যারেট ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

/আশিক


শিক্ষকদের পে স্কেল পর্যালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন শিক্ষামন্ত্রী

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ১৮:৩২:২১
শিক্ষকদের পে স্কেল পর্যালোচনা নিয়ে মুখ খুললেন শিক্ষামন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

শিক্ষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রণয়নের বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, জাতি গঠনে শিক্ষকদের অবদান অনন্য হওয়ায় তাঁদের বেতন বা মর্যাদা অন্য কোনো পেশার সঙ্গে তুলনা করে নির্ধারণ করা উচিত নয়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, শিক্ষকদের জীবনমান ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে একটি আলাদা বেতনকাঠামো প্রয়োজন। জাতীয় সংসদে শিক্ষকদের বেতন নিয়ে অন্যান্য পেশার সাথে করা তুলনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষকরা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার কারিগর, তাই তাঁদের স্বতন্ত্র মর্যাদার জায়গা থেকেই মূল্যায়ন করতে হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, ২০১৭ সাল থেকে চলমান আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক বাধার কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে প্রধান শিক্ষকসহ বহু পদ দীর্ঘদিন শূন্য রয়েছে। সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুততম সময়ে শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কাজ করছে। পাশাপাশি দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে কারিগরি ও জীবনমুখী শিক্ষার প্রসারে জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


ডলার সংকটের মুখে অবিশ্বাস্য সুখবর: রেমিট্যান্স বাড়ল ৩২ শতাংশেরও বেশি!

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ১৮:১৪:৫৩
ডলার সংকটের মুখে অবিশ্বাস্য সুখবর: রেমিট্যান্স বাড়ল ৩২ শতাংশেরও বেশি!
ছবি : সংগৃহীত

চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১৭ দিনে দেশে ১৮৮ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) এসেছে, যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় ২৩ হাজার ২১০ কোটি ১০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে)। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ১৭ আগস্ট (সোমবার) এক দিনেই রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ২০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। গত বছরের একই সময়ে (আগস্টের প্রথম ১৭ দিন) রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪২ কোটি ৪০ লাখ ডলার; সে তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয়ে ৩২.৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের সামগ্রিক চিত্র (১ জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত) বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ সময়ে মোট ৪৭৪ কোটি ৬০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যার পরিমাণ ছিল ৩৯০ কোটি ২০ লাখ ডলার। অর্থাৎ অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ২১.৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: