এসএসএফ-এর ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গর্বিত  মুহাম্মদ ইউনূস

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ১৮ ১৩:১৮:২০
এসএসএফ-এর ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে গর্বিত  মুহাম্মদ ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও সরঞ্জাম আধুনিকায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বিশেষ করে, গত ৫ আগস্ট এই বাহিনীর কিছু যানবাহন ও সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, যা অল্প সময়ের মধ্যেই কার্যক্ষম করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এসএসএফ একটি প্রশিক্ষিত ও সুশৃঙ্খল বাহিনী, যারা আমার ও রাষ্ট্রপতির সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। বিগত ১০ মাসে এসএসএফ দেশে বিদেশে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছে। আমি এসএসএফ-এর সার্বিক পেশাদারিত্ব এবং আন্তরিকতা নিয়ে সন্তুষ্ট। এজন্য আমি সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বুধবার (১৮ জুন) সকালে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) এর ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এসএসএফ-এর ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আমাকে আমন্ত্রণ করার জন্য ধন্যবাদ। প্রতি বছরের মতো এই বছরও এসএসএফ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে। অন্যান্য বাহিনীর তুলনায় একটি ক্ষুদ্র বাহিনী, তবে এর কাজের গুরুত্ব এবং সংবেদনশীলতা অনেক বেশি। এই বাহিনী আমার নেতৃত্বে এবং তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এসএসএফ বঙ্গভবনসহ আমার বাসস্থান, কার্যালয় এবং সব ধরনের গমনাগমনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। এছাড়াও ঢাকার অভ্যন্তরে এবং বাইরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। সম্প্রতি কক্সবাজার ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন এবং চট্টগ্রাম বন্দর ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসএসএফ অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সফলভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, দেশের বাইরেও আমার রাষ্ট্রীয় সফরগুলোতে এসএসএফ বিভিন্ন দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট দেশের প্রটোকল ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে একযোগে কাজ করে সফরগুলো সাফল্যমণ্ডিত করেছে। এছাড়াও বাংলাদেশে আসা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্রপতি ও জাতিসংঘের মহাসচিবের রাষ্ট্রীয় সফরের সামগ্রিক নিরাপত্তা এই বাহিনী অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছে।

বর্তমান বিশ্বে আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্য আদান-প্রদান খুব সহজ হওয়ার কারণে নিরাপত্তা হুমকির ধরন ও প্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তনশীল হওয়ার কারণে শতভাগ নিরাপত্তা দেওয়া খুবই চ্যালেঞ্জিং বিষয় জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এসএসএফ সুষ্ঠুভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। এসএসএফ নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা হুমকি পর্যালোচনা করবে এবং সেগুলো মোকাবিলা করার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করবে।

ড. ইউনূস বলেন, সম্প্রতি এসএসএফ যমুনার সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুসংহত করেছে। এসএসএফ একইভাবে এই কার্যালয়েরও সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করবে। এসএসএফ একটি পেশাদার বাহিনী হিসেবে উন্নত প্রশিক্ষণ, উন্নত প্রযুক্তি এবং উন্নত মনোবলের সন্নিবেশে দিন দিন আরো উন্নতি সাধন করবে।স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে এসএসএফ নিজেদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে চলেছে।

তিনি জানান, বাহিনীটির প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও সরঞ্জামসমূহ ক্রমাগত আধুনিকায়নের প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। বিশেষভাবে, গত ৫ আগস্ট এসএসএফের কিছু যান ও সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির পর সেগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় সচল করে কার্যকর রাখা হয়েছে। তিনি বাহিনীটির পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার প্রশংসা করে বলেন, গত ১০ মাসে দেশে-বিদেশে এসএসএফ যে ভূমিকা রেখেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, বাহিনীটি আমার বাসভবন, কার্যালয়, বঙ্গভবন এবং অন্যান্য গমনাগমন সংক্রান্ত সকল কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। ঢাকার বাইরে, যেমন কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন, চট্টগ্রাম বন্দরে সফর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে এসএসএফ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সফলভাবে নিরাপত্তা দিয়েছে। একইসাথে বিদেশ সফরে বিভিন্ন দেশের প্রটোকল সংস্থার সঙ্গে একযোগে কাজ করেও তারা সফলতা অর্জন করেছে।

তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্রপতি এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের সফরকালেও এসএসএফ নিখুঁত নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা হুমকির প্রেক্ষাপটে শতভাগ নিরাপত্তা দেওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও এসএসএফ সফলভাবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রবাহ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এই পরিস্থিতিতে এসএসএফকে নিয়মিত হুমকির ধরন বিশ্লেষণ করে প্রস্তুতি নিতে হবে।”

সম্প্রতি এসএসএফ-এর সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করা হয়েছে বলেও জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই বাহিনী উন্নত প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শক্ত মনোবলের মাধ্যমে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর বাহিনী হিসেবে গড়ে উঠবে।

-ইসরাত, নিজস্ব প্রতিবেদক


প্রটোকল ভেঙে কোলাকুলি: তারেক রহমানের অমায়িক আচরণে মুগ্ধ নেট দুনিয়া

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১০:৪৩:৫৯
প্রটোকল ভেঙে কোলাকুলি: তারেক রহমানের অমায়িক আচরণে মুগ্ধ নেট দুনিয়া
ছবি : সংগৃহীত

ঈদের উৎসবের রঙে কেবল আনন্দ নয়, বরং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও শ্রদ্ধাবোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার এক বিরল মুহূর্তের ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল, যা নিয়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে নেট দুনিয়ায়।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, রাস্তায় কর্তব্যরত এক পুলিশ সার্জেন্ট প্রধানমন্ত্রীকে দেখে এগিয়ে এসে স্যালুট দেন এবং হাত মেলাতে চান। ঠিক সেই মুহূর্তে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী কোনো প্রটোকলের তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত সাদামাটাভাবে ওই পুলিশ সদস্যকে বুকে টেনে নেন এবং হাসিমুখে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

একজন পুলিশ সার্জেন্টের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এমন অমায়িক ও আন্তরিক আচরণ উপস্থিত সবাইকে যেমন বিমোহিত করেছে, তেমনি সাধারণ মানুষের মনেও এক অন্যরকম উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে।

ভিডিওটি ফেসবুকে শেয়ার করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন লিখেছেন, ‘এই দৃশ্য ঈদের আনন্দ আরো কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।

যেমন রাষ্ট্র চাই, ঠিক সেই পথে।’ সাধারণ মানুষ এই ভিডিওটি হাজার হাজার বার শেয়ার করে মন্তব্য করছেন যে, ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকেও এমন সহজ-সরল ও আন্তরিক রূপই একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের পরিচয় দেয়।

/আশিক


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম স্বদেশি ঈদ: যমুনা থেকে গুলশান—দিনভর ব্যস্ততা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১০:৩৬:৫৯
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম স্বদেশি ঈদ: যমুনা থেকে গুলশান—দিনভর ব্যস্ততা
ছবি : সংগৃহীত

দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশের মাটিতে প্রথম ঈদ উদযাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) রাজধানী ঢাকার গুলশানে নিজ বাসভবনে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে দিনটি অতিবাহিত করেন তিনি। দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর এটিই বাংলাদেশে তাঁর প্রথম ঈদ।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী জোহরের নামাজের পর তাঁর খালা, খালু, মামা, মামীসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুপুরের খাবার গ্রহণ করেন এবং একান্ত পারিবারিক সময় কাটান। এর আগে সকালে তিনি জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নেন এবং পরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিদেশি কূটনীতিক, বিশিষ্ট নাগরিক ও সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান এবং ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পরিবারসহ শেরেবাংলা নগরে যান। সেখানে তিনি তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরার পর চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ১৩তম জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ঐতিহাসিক এই প্রত্যাবর্তনের পর এবারের ঈদটি তাঁর ও তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের জন্য ছিল এক বিশেষ আবেগ ও প্রাপ্তির।

সূত্র: বাসস


দেশের আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা; ১৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার অ্যালার্ট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১০:০৮:৪১
দেশের আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা; ১৯ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার অ্যালার্ট
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৯টি জেলার ওপর দিয়ে আজ রোববার (২২ মার্চ ২০২৬) সকালের মধ্যে তীব্র ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গতকাল শনিবার রাতে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, সকাল ৯টার মধ্যে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে এই ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। এই ঝোড়ো হাওয়ার কারণে নদীবন্দরগুলোতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক


প্রত্যাশিত দেশ গড়তে দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ১৫:২৬:৫৮
প্রত্যাশিত দেশ গড়তে দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ও উৎসবের আমেজে দেশবাসীকে নতুন এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঈদ-পরবর্তী এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেন, জনগণ যে ধরনের দেশ দেখতে চায়, সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই তাঁর সরকার নিরলস কাজ করে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "এই ঈদে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যেন আমরা সবার প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারি।" একটি সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন দেশ গড়তে দল-মত নির্বিশেষে সবার ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন যে, দেশবাসীর সমর্থন থাকলে জনগণের চাওয়া অনুযায়ী দেশ গঠনে সরকার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে।

এদিন সকালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় শেষে যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, আলেম-ওলামা এবং সামরিক-বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন তিনি। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে প্রধানমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরে তাঁর বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তিনি গুলশানের বাসভবনে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সময় কাটাবেন বলে জানানো হয়েছে।

/আশিক


নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রথম ঈদ: উৎসব, ঐক্য ও প্রত্যাশার বাংলাদেশ

রাফসান খান
রাফসান খান
স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ০৭:১৮:৩০
নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রথম ঈদ: উৎসব, ঐক্য ও প্রত্যাশার বাংলাদেশ

এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর আজ উদ্‌যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ত্যাগ, সংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষায় উজ্জ্বল এই দিনটি ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য উপলক্ষ। রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ঈদের প্রধান জামাত, আর শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। নতুন পোশাক, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলন এবং আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে মানুষ উদ্‌যাপন করছে বছরের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসব।

তবে এবারের ঈদ এসেছে এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পর এটি দেশের প্রথম ঈদুল ফিতর। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় এবারের ঈদকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিশেষ এক আবহ। রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করবেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ ও ইতিবাচক প্রত্যাশা সৃষ্টি করেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যেখানে ঈদের নামাজ পৃথকভাবে আদায় করা হয়েছিল, সেখানে রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের এই একসঙ্গে অংশগ্রহণকে অনেকেই ঐক্য ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।

ঈদ উপলক্ষে পৃথক বাণীতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী দেশবাসী এবং বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, রমজানের সিয়াম সাধনা মানুষকে অন্যায় ও পাপাচার থেকে দূরে রেখে নৈতিক গুণাবলি অর্জনে সহায়তা করে এবং ঈদ সেই অর্জনেরই আনন্দঘন প্রকাশ। তিনি একটি শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে ঈদের শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বিত্তবানদের প্রতি দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় বলেন, ঈদুল ফিতর আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে আসে এবং রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে প্রতিফলিত করাই এই উৎসবের মূল তাৎপর্য। তিনি সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাজধানী ঢাকায় এবার ঈদুল ফিতরে ১২১টি ঈদগাহ এবং ১৫৯৯টি মসজিদে মোট ১৭৭১টি জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে আটটায়, আর প্রতিকূল আবহাওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বায়তুল মোকাররমে পর্যায়ক্রমে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে, পাশাপাশি সংসদ ভবন এলাকা এবং বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে ঈদের নামাজের আয়োজন করা হয়েছে।

ঈদকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জাতীয় ঈদগাহসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারে।

অবশেষে গতকাল সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে এক ফালি চাঁদ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ঘরে বেজে ওঠে সেই চিরচেনা সুর, ঈদের আগমনের আনন্দধ্বনি। কয়েক দিন ধরে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। দীর্ঘ যাত্রার ক্লান্তি ভুলে মানুষ ফিরে গেছে আপন ঠিকানায়, প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে।

রাজধানী থেকে গ্রাম পর্যন্ত সর্বত্র উৎসবের প্রস্তুতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আতর, টুপি, সেমাই, নতুন পোশাক কেনার ভিড়, রাতভর মেহেদি আঁকার আয়োজন, বিউটি পারলারে দীর্ঘ লাইন, আর ঘরে ঘরে রান্নার প্রস্তুতি মিলিয়ে তৈরি হয়েছে এক রঙিন উৎসবমুখর পরিবেশ। ঈদের সকালে নামাজ শেষে কোলাকুলি, মিষ্টি বিতরণ এবং পরিবারকেন্দ্রিক আনন্দের মধ্য দিয়ে পূর্ণতা পাচ্ছে এই উৎসব।

সার্বিকভাবে এবারের ঈদুল ফিতর কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং একটি নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় ঐক্য, সহমর্মিতা এবং আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। এটি স্মরণ করিয়ে দেয়, রমজানের শিক্ষা শুধু ব্যক্তিগত অনুশীলনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে প্রতিফলিত হলেই প্রকৃত অর্থে ঈদের তাৎপর্য পূর্ণতা পায়।


বিরোধী দলীয় নেতার ঈদের শুভেচ্ছা: সরকারি বাসভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ০৬:৫৩:৫৩
বিরোধী দলীয় নেতার ঈদের শুভেচ্ছা: সরকারি বাসভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (২০ মার্চ) দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এই শুভেচ্ছা জানান এবং রমজানের শিক্ষা ধারণ করে একটি নৈতিক ও মানবিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রহমত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির বার্তা নিয়ে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে পবিত্র রমজান আগমন করেছিল। তিনি আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বলেন, এই মাসে রোজা রাখার তাওফিক লাভ করা মহান নিয়ামত। তিনি দোয়া করেন, আল্লাহ যেন এই সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষের গুনাহ মাফ করে দেন এবং সবাইকে তাঁর প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।

তিনি জানান, চাঁদ দেখা যাওয়ায় ইনশা-আল্লাহ পরদিন ঈদ উদযাপিত হবে এবং এই উপলক্ষে তিনি দেশবাসীর প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও দোয়া জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, রমজান শুধু ক্ষুধা ও পিপাসার কষ্টের শিক্ষা দেয় না; বরং এটি মানুষকে আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং তাকওয়ার পথে পরিচালিত করে। মানুষ এই মাসে কতটুকু কল্যাণ অর্জন করতে পেরেছে তা আল্লাহই ভালো জানেন, তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আল্লাহ যেন সবাইকে তাঁর অনুগ্রহে কবুল করেন।

জামায়াত আমির আরও বলেন, তাকওয়া মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি সৃষ্টি করে, যা ব্যক্তি ও সমাজকে সুশৃঙ্খল ও কল্যাণমুখী করে তোলে। যাদের অন্তরে আল্লাহভীতি নেই, তারা সমাজে বিশৃঙ্খলা ও অনাচার সৃষ্টি করে। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয় এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ প্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালনকারীদের প্রতিও আহ্বান জানান, যেন তারা আল্লাহভীতি ধারণ করে দায়িত্ব পালন করেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বলেন, আল্লাহ যেন বাংলাদেশের ওপর তাঁর রহমত নাজিল করেন এবং দেশবাসীকে রিজিক ও সম্মানের বরকত দান করেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও জানান, ঈদের দিন তিনি রাজধানীর মিন্টো রোডের বাসভবনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। সকালবেলায় নিজ নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫-এ ঈদের নামাজ আদায় করবেন এবং নামাজ শেষে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করবেন। পরে বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থানরত কূটনীতিকদের সঙ্গে এবং বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন পেশাজীবীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে।

সার্বিকভাবে তার এই বার্তায় ঈদকে কেন্দ্র করে শুধু শুভেচ্ছা নয়, বরং রমজানের শিক্ষা ধারণ করে একটি ন্যায়ভিত্তিক, সহমর্মিতাপূর্ণ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের আহ্বান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

ইশরাত/২০২৬-৪৫৪৬


রমজানের শিক্ষা থেকে ঐক্যের ডাক: ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২১ ০৬:৪৩:১৫
রমজানের শিক্ষা থেকে ঐক্যের ডাক: ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পবিত্র মাহে রমজানের ত্যাগ, তাকওয়া ও সংযমের শিক্ষা ধারণ করে ঈদুল ফিতরের আনন্দকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুক্রবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি জাতির উদ্দেশে এই আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ টেলিভিশন-এ প্রচারিত বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর এসেছে মুসলিম উম্মাহর জন্য ঐক্য, সংহতি, সহমর্মিতা এবং অনাবিল আনন্দের বার্তা নিয়ে। তিনি সকলকে রমজানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখার আহ্বান জানান।

তারেক রহমান বলেন, ঈদ কেবল উৎসবের আনন্দ নয়, বরং এটি সামাজিক সংহতি ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঈদের আনন্দ দেশের প্রতিটি ঘরে, প্রতিটি পরিবারে এবং প্রতিটি মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছে যাবে। বিশেষ করে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী দেশের জনগণের পাশাপাশি বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর প্রতিও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং বলেন, এই পবিত্র উৎসব যেন শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করে। তিনি সকলকে ঈদ মোবারক জানিয়ে দেশের সার্বিক কল্যাণ ও অগ্রগতির জন্য দোয়া কামনা করেন।

সামগ্রিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তা কেবল শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক আহ্বান, যেখানে রমজানের শিক্ষা বাস্তব জীবনে প্রয়োগের মাধ্যমে একটি সহমর্মিতাপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।

ইশরাত/২০২৬-৫৪৬৩


শ্রমিকদের বেতন-বোনাস শতভাগ পরিশোধ করছে সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২০ ১১:০৫:১৫
শ্রমিকদের বেতন-বোনাস শতভাগ পরিশোধ করছে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

ঈদকে সামনে রেখে দেশের শ্রমবাজারে স্বস্তির বার্তা এসেছে। সরকার নিশ্চিত করেছে যে শ্রমিকদের বেতন ও উৎসব বোনাস সম্পূর্ণরূপে পরিশোধ করা হয়েছে, যার ফলে অতীতের মতো কোনো শ্রমিক অসন্তোষ এবার দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার সকালে সিলেট কেন্দ্রীয় শাহী ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, কেবল নিয়মিত বেতনই নয়, বরং ঈদ বোনাসও শতভাগ পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে শিল্পাঞ্চলগুলোতে স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রয়েছে এবং শ্রমিকদের মধ্যে সন্তুষ্টি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধে সরকার প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। এই উদ্যোগের ফলে কারখানাগুলো সময়মতো শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দিতে সক্ষম হয়েছে, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সফলতার পেছনে সরকারের সদিচ্ছা, নীতিগত অঙ্গীকার এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে শিল্প খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও ইতিবাচক সংকেত।

প্রবাসী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের ভেতরের শ্রমিকদের পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কল্যাণেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও সহায়তায় সরকার সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার ইতোমধ্যেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের পর থেকেই এসব কারখানা চালুর কার্যক্রম শুরু হবে, যা কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বিদেশগামী শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। আগামী মাস থেকে এই প্রশিক্ষণ উদ্যোগ সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা যায় এবং প্রবাসে গিয়ে শ্রমিকরা কোনো ধরনের সমস্যার সম্মুখীন না হন।

শ্রমিকদের প্রতারণা থেকে রক্ষার বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। দালালচক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে অনেককে শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের পরিবারকেও সচেতন করা হচ্ছে, কারণ কিছু প্রতারক চক্র বিদেশে কর্মরত শ্রমিকদের জিম্মি করে তাদের স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে।

-রাফসান


বৃষ্টির বাধায় কি ম্লান হবে ঈদের আনন্দ? আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৯ ২১:৪৫:০০
বৃষ্টির বাধায় কি ম্লান হবে ঈদের আনন্দ? আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে আগামী ৫ দিন বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করায় সারা দেশেই ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে আগামী তিন দিন দেশের কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে আজ সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও রাতে সামান্য বাড়তে পারে।

আগামীকাল শুক্রবার (২০ মার্চ) দেশের আট বিভাগেই ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এবং ওই দিন দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হলো, ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) ঢাকা, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ওই দিনও শিলাবৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস। তবে রোববার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে শুরু করবে এবং সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা পুনরায় সামান্য বাড়তে পারে। মূলত সোমবারের পর থেকে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: