১৯ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১৪:৫৫:৫৭
১৯ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকার শেয়ারবাজারে লেনদেনের সার্বিক চিত্রে স্পষ্টভাবে নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনের শেষে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দরপতনের মুখে পড়ে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতার মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দিনের বাজার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ৪০৪টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১২৫টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে ২২৩টি কোম্পানি দরপতনের তালিকায় যুক্ত হয়েছে এবং ৫৬টি অপরিবর্তিত রয়েছে। এই তথ্য থেকে বোঝা যায় যে বাজারে বিক্রির চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল, যা সূচকের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘এ’ ক্যাটাগরির ২১৭টি শেয়ারের মধ্যে ৭৮টি বেড়েছে এবং ১১১টি কমেছে। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৮০টি শেয়ারের মধ্যে ৪৮টি দরপতনের শিকার হয়েছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ১০৭টি কোম্পানির মধ্যে ৬৪টির শেয়ারদর কমেছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারগুলোর ওপর চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও নেতিবাচক প্রবণতা ছিল। মোট ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ১২টির দর কমেছে, ৮টি বেড়েছে এবং ১৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। করপোরেট বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজেও একই চিত্র দেখা গেছে, যেখানে অধিকাংশ ইস্যু দরপতনের দিকে গেছে।

লেনদেনের পরিমাণ ও মূল্য বিবেচনায় বাজারে সক্রিয়তা কিছুটা বেড়েছে। মোট লেনদেনের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৪ হাজারের বেশি, যেখানে শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮৮ কোটি ইউনিটে। টাকার অঙ্কে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৮১৯২ কোটি টাকা, যা বাজারে উল্লেখযোগ্য তারল্যের উপস্থিতি নির্দেশ করে।

বাজার মূলধনের দিক থেকে মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮৪৭২৩৩৯ কোটি টাকার বেশি, যেখানে ইক্যুইটি, মিউচুয়াল ফান্ড এবং ডেট সিকিউরিটিজ মিলিয়ে এই পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে। এটি সামগ্রিকভাবে বাজারের আকার ও বিনিয়োগের পরিধি তুলে ধরে।

ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। মোট ৪৫টি কোম্পানির শেয়ার ব্লক ট্রেডে লেনদেন হয়েছে, যেখানে প্রায় ১০৪ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়ে প্রায় ৩৯৩ কোটি টাকার বেশি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে পিটিএল, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, আল-আরাফাহ ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকের মতো কোম্পানিগুলোতে বড় অঙ্কের ব্লক ট্রেড লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এই ধরনের দরপতন স্বাভাবিক কারেকশন হতে পারে, বিশেষ করে যখন আগের দিনগুলোতে কিছু শেয়ারের দ্রুত উত্থান ঘটে। একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাও বাজারে বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে।

-রাফসান


১৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১৪:৫১:৫২
১৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার শেয়ারবাজারে ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দিনের লেনদেনে যেমন কিছু কোম্পানি বড় উত্থান দেখিয়েছে, তেমনি বেশ কয়েকটি শেয়ার উল্লেখযোগ্য দরপতনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। দুপুর ২টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু মিউচুয়াল ফান্ড, ব্যাংকিং, ফার্মা ও শিল্পখাতের শেয়ারে চাপ তৈরি হয়েছে, যা বাজারের স্বল্পমেয়াদি দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দিনের সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে ‘পপুলার ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড’-এ, যার দাম আগের দিনের তুলনায় ৬.২৫ শতাংশ কমে ৩ টাকায় নেমে এসেছে। এর পরেই রয়েছে ‘বিডি অটোকারস’, যার শেয়ার ৫.৫৮ শতাংশ কমে ২৩৩.৪ টাকায় লেনদেন হয়েছে। উচ্চমূল্যের এই শেয়ারে দরপতন বিনিয়োগকারীদের লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের ‘সিলভা ফার্মা’ প্রায় ৫ শতাংশ কমে ১১.২ টাকায় নেমে এসেছে, যা স্বাস্থ্যখাতেও সাময়িক চাপের ইঙ্গিত দেয়। একইভাবে সিমেন্ট খাতের ‘মেঘনা সিমেন্ট’ ৪.৭৪ শতাংশ কমে ৩২.১ টাকায় অবস্থান করছে, যা অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা সতর্কতার বার্তা বহন করছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ‘ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড’ ৪.০৮ শতাংশ কমে ৪.৭ টাকায় নেমেছে এবং ‘এসইএমএল এফবিএসএলজি ফান্ড’ও ৩.৬৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগেও কিছুটা বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।

খাদ্য ও শিল্পখাতের ‘বিডি থাই ফুড’ ৩.৫৮ শতাংশ কমে ১৮.৮ টাকায় লেনদেন করেছে, যা ভোক্তা খাতেও সামান্য দুর্বলতা নির্দেশ করে। একইসঙ্গে বহুল আলোচিত ‘কেবিপিপিডব্লিউবিল’ শেয়ার ৩.৫৬ শতাংশ কমে ৫১.৪ টাকায় নেমেছে, যা আগের দিনের তুলনায় একটি সংশোধনমূলক পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে ‘পিডিএল’ ও ‘আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক’ যথাক্রমে ৩.৫০ শতাংশ ও ৩.৪৪ শতাংশ কমে তালিকার শেষদিকে অবস্থান করছে। ব্যাংকিং খাতের এই পতন বাজারের সামগ্রিক আস্থার ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

-রাফসান


১৯ এপ্রিল: লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১৪:৪৮:০৫
১৯ এপ্রিল: লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার শেয়ারবাজারে সপ্তাহের নতুন কার্যদিবসে সূচকের ওঠানামার মাঝেও কিছু কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য রিটার্ন এনে দিয়েছে। ১৯ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ২টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত লেনদেনের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি শেয়ার দামের দিক থেকে শীর্ষ গেইনার তালিকায় উঠে এসেছে, যা বাজারে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ প্রবণতা ও সেক্টরভিত্তিক আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি দামে উত্থান দেখা গেছে ‘রানার অটো’-তে, যার শেয়ার মূল্য আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৯.৯৫ শতাংশ বেড়ে ৪৩ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছেছে। একইভাবে ‘জনতা ইন্স্যুরেন্স’ এবং ‘সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স’ প্রায় সমান হারে ৯ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৩৬.৫ টাকা এবং ৩১.৩ টাকায় লেনদেন হয়েছে। এই তিনটি কোম্পানির ধারাবাহিক উত্থান বাজারে ইন্স্যুরেন্স ও অটোমোবাইল খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।

এর পাশাপাশি ‘পিএফ১এসটিএমএফ’ মিউচুয়াল ফান্ড ৮.৬৯ শতাংশ বেড়ে ৭.৫ টাকায় উঠে এসেছে, যা ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগেও সক্রিয়তা বাড়ার দিকটি তুলে ধরছে। ওষুধ ও কেমিক্যাল খাতের ‘এশিয়াটিক ল্যাব’ প্রায় ৮.৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৬.২ টাকায় অবস্থান করছে, যা স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর প্রতি বাজারের আস্থা প্রতিফলিত করে।

ইন্স্যুরেন্স খাতের আরও কয়েকটি কোম্পানি যেমন ‘অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স’ ও ‘কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স’ যথাক্রমে ৭.৬১ শতাংশ এবং ৫.১৫ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি টেক্সটাইল খাতের ‘তামিজ টেক্সটাইল’ ৭ শতাংশের বেশি বাড়ায় এ খাতেও কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অন্যদিকে প্রযুক্তি ও ওষুধ খাতের ‘টেকনো ড্রাগ’ ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮ টাকায় লেনদেন করেছে। একইসঙ্গে ‘আইসিবি ইপিএমএফ১এস১’ ফান্ডও ৭.৪০ শতাংশ বেড়ে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের শেয়ারদরের দ্রুত উত্থান অনেক সময় স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং বা বাজারে তারল্য প্রবাহের কারণে ঘটে থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কোম্পানির আর্থিক পারফরম্যান্স, লভ্যাংশ প্রত্যাশা বা খাতভিত্তিক ইতিবাচক খবরও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ইন্স্যুরেন্স ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে সাম্প্রতিক সক্রিয়তা বাজারে একটি নির্দিষ্ট সেক্টরাল রোটেশনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে বলছেন, শুধুমাত্র দৈনিক গেইনার তালিকার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোম্পানির মৌলিক ভিত্তি, আয়-ব্যয়, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং সামগ্রিক বাজার প্রবণতা বিশ্লেষণ করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে টেকসই রিটার্ন পেতে হলে তথ্যভিত্তিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

-রাফসান


ডিএসইতে সপ্তাহজুড়ে উত্থান-পতনের লড়াই

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৭ ১০:৪৪:০২
ডিএসইতে সপ্তাহজুড়ে উত্থান-পতনের লড়াই
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শেয়ারবাজারে সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে এক ধরনের মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে লেনদেনের গতি বেড়েছে ঠিকই, তবে সূচকের দিক থেকে খুব একটা ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যায়নি। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রধান সূচকগুলোতে সামান্য ওঠানামার মধ্য দিয়ে সপ্তাহটি শেষ হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দ্বিধা ও সতর্কতার প্রতিফলন।

Dhaka Stock Exchange এর তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইএক্স সূচক সামান্য কমে দাঁড়িয়েছে ৫,২৫৬.৮৪ পয়েন্টে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় খুবই ক্ষুদ্র পতন নির্দেশ করে। অন্যদিকে, ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস৩০ প্রায় ১২ পয়েন্ট হারিয়ে দুর্বলতা দেখিয়েছে। তবে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ডিএসইএস কিছুটা বেড়ে বিনিয়োগকারীদের জন্য আংশিক স্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এসএমই খাতের সূচক, যা প্রায় ২.৬৬ শতাংশ কমে বড় ধরনের পতনের মুখে পড়েছে। যদিও বছরের শুরু থেকে এই সূচকে এখনও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি রয়েছে, তবে সাম্প্রতিক পতন বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

লেনদেনের চিত্রে দেখা গেছে, দৈনিক গড় টার্নওভার ২২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাজারে তারল্যের উন্নতি নির্দেশ করে। একই সঙ্গে দৈনিক গড় শেয়ার লেনদেনের পরিমাণও প্রায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে আশ্চর্যজনকভাবে বাজার মূলধন কিছুটা কমে গেছে, যা মূলত বড় কোম্পানির শেয়ারের দামে চাপের প্রতিফলন।

সাপ্তাহিক বাজার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোট লেনদেন মূল্য আগের সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমলেও, চার কার্যদিবসে এই পরিমাণ অর্জন করা হয়েছে, যা কার্যত বাজারে সক্রিয়তার প্রমাণ দেয়।

বাজারের প্রস্থ (Market Breadth) বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অগ্রগামী কোম্পানির সংখ্যা ছিল ২১৩টি, যেখানে পতন হয়েছে ১৪২টির। এই অনুপাত বাজারে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দিলেও সূচকের পতন দেখায় যে বড় মূলধনী শেয়ারগুলোর ওপর চাপ বেশি ছিল।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে ইঞ্জিনিয়ারিং, আইটি, জেনারেল ইন্স্যুরেন্স এবং সিরামিক খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। বিশেষ করে ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে লেনদেন ও মূল্য বৃদ্ধির হার ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। অপরদিকে টেলিকম, সার্ভিস ও রিয়েল এস্টেট এবং লাইফ ইন্স্যুরেন্স খাতে দুর্বলতা স্পষ্ট ছিল।

সপ্তাহজুড়ে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ব্যাংকিং, ইন্স্যুরেন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে। পাশাপাশি ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে, যেখানে কয়েকটি বড় কোম্পানির শেয়ার হাতবদল হয়েছে বড় অংকের মূল্যে।

শীর্ষ গেইনার তালিকায় মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও কিছু এ-শ্রেণির শেয়ার শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, যেখানে কিছু কোম্পানির শেয়ার ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে, লুজার তালিকায় কয়েকটি জেড-ক্যাটাগরির শেয়ার বড় ধরনের পতনের সম্মুখীন হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে তারল্য বৃদ্ধি এবং খাতভিত্তিক কিছু শক্তিশালী পারফরম্যান্স সত্ত্বেও সামগ্রিক সূচকের স্থবিরতা ইঙ্গিত দেয় যে বিনিয়োগকারীরা এখনও বড় বিনিয়োগে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

সবমিলিয়ে, ডিএসইর এই সাপ্তাহিক চিত্রটি একটি ‘সিলেক্টিভ মার্কেট’ পরিস্থিতি তুলে ধরে, যেখানে নির্দিষ্ট কিছু খাত ও শেয়ার ভালো পারফর্ম করছে, কিন্তু সামগ্রিক বাজার এখনো স্থিতিশীল শক্তিশালী প্রবণতায় প্রবেশ করতে পারেনি।

-রফিক


শেয়ারবাজারে সুবাতাস! শেষ কার্যদিবসে সাড়ে ৫ গুণ প্রতিষ্ঠানের দাম বৃদ্ধি

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১২:১৮:৪৯
শেয়ারবাজারে সুবাতাস! শেষ কার্যদিবসে সাড়ে ৫ গুণ প্রতিষ্ঠানের দাম বৃদ্ধি
ছবি : সংগৃহীত

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বইছে সুবাতাস। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) লেনদেনের শুরু থেকেই বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক সক্রিয়তায় অধিকাংশ শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ছে। প্রথম ঘণ্টার লেনদেনে দেখা গেছে, যে পরিমাণ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমেছে, তার চেয়ে সাড়ে ৫ গুণ বেশি প্রতিষ্ঠানের দাম বেড়েছে। বাজারের এমন চাঙ্গাভাবের কারণে ডিএসইর সবকটি সূচক এখন ঊর্ধ্বমুখী।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর থেকেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বাড়তে থাকে। মাঝে সামান্য ওঠানামা করলেও বেলা ১১টা নাগাদ বাজার ফের শক্তিশালী অবস্থানে ফিরে আসে। প্রথম ঘণ্টা শেষে ডিএসইতে ৩৯২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে ২৮৭টির দাম বেড়েছে এবং কমেছে মাত্র ৫১টির। অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর।

সূচকের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৯৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এ ছাড়া ভালো কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আলোচিত সময়ে ডিএসইতে মোট ২৬২ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা বাজারের গতিশীলতার ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।

/আশিক


১৫ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১৫:০৫:৫৭
১৫ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শেয়ারবাজারে আজকের লেনদেনে শক্তিশালী ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে অধিকাংশ শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার আংশিক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত মিলেছে।

আজকের বাজারে মোট ৩৯৩টি কোম্পানির মধ্যে ২৩৯টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে মাত্র ৯০টির দর কমেছে এবং ৬৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে বাজারে ক্রয়চাপ বৃদ্ধির প্রতিফলন ঘটায়।

‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোর মধ্যেও একই ধারা দেখা গেছে, যেখানে ১২৩টি শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, আর ৫২টি কমেছে। ‘বি’ ক্যাটাগরিতেও উত্থান প্রাধান্য পেয়েছে, যা বাজারের সামগ্রিক ইতিবাচক মনোভাবকে নির্দেশ করে।

‘জেড’ ক্যাটাগরিতে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক শেয়ারের দর বেড়েছে, যা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা স্পষ্ট ছিল। এই খাতে ১৮টি ফান্ডের দর বেড়েছে, যেখানে মাত্র ২টি কমেছে। এটি তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগে আস্থার প্রতিফলন।

লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দিনশেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৩৬ কোটি টাকায়, যা বাজারে সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রমাণ দেয়। মোট ট্রেডের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৪ হাজারের বেশি এবং প্রায় ৩১ কোটি ৭৬ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

বাজার মূলধন প্রায় ৬৮.৫৫ লাখ কোটি টাকায় অবস্থান করছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমে পুঁজিবাজারের গুরুত্বকে তুলে ধরে।

ব্লক মার্কেটেও বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। এদিন ৩৮টি কোম্পানির শেয়ার ব্লক ট্রানজ্যাকশনে লেনদেন হয়েছে, যার মোট মূল্য প্রায় ৪৭৫ কোটি টাকার কাছাকাছি। বিশেষ করে রেনাটা, ডমিনেজ, আল-আরাফাহ ব্যাংক এবং এনবিএল-এর মতো কোম্পানিতে বড় লেনদেন লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা ফিরে আসার পেছনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি, নির্দিষ্ট খাতে ক্রয়চাপ এবং সাম্প্রতিক মূল্যসংশোধনের প্রভাব রয়েছে।

তারা আরও বলেন, যদিও আজকের উত্থান আশাব্যঞ্জক, তবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মৌলভিত্তিক শক্তিশালী কোম্পানিতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।

সার্বিকভাবে, আজকের শেয়ারবাজার একটি ইতিবাচক ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

-রাফসান


ডিএসই আপডেট, শীর্ষ ১০ লুজার তালিকা

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১৪:৫৫:৩৯
ডিএসই আপডেট, শীর্ষ ১০ লুজার তালিকা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শেয়ারবাজারে আজকের লেনদেনে কিছু নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ারে দরপতন লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে মিশ্র প্রবণতার মধ্যে একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গেইনার তালিকায় উত্থান থাকলেও লুজার তালিকায় কয়েকটি খাতের উপস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে।

আজকের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে আরামিট সিমেন্টের শেয়ারে, যার মূল্য প্রায় ৪.৯১ শতাংশ কমে ১১.৬ টাকায় নেমে এসেছে। এটি দিনের লুজার তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে।

ব্যাংকিং খাতেও কিছুটা চাপ দেখা গেছে। ব্যাংক এশিয়ার শেয়ারদর প্রায় ৩.১৮ শতাংশ কমে ২১.৩ টাকায় নেমেছে, যা এই খাতে আস্থার সাময়িক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতের ক্যাপএমবিডিবিএলএমএফ প্রায় ৩.০৩ শতাংশ দর হারিয়েছে, যা ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগেও কিছুটা মুনাফা উত্তোলনের প্রবণতা নির্দেশ করে।

এছাড়া এটলাস বাংলাদেশ, কেডিএস অ্যাকসেসরিজ এবং সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্সের মতো কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত পতন হয়েছে, যা শিল্প ও বীমা খাতে বিক্রির চাপের ইঙ্গিত বহন করে।

একইভাবে কেবিপিপিডব্লিউবিআইএল, জিল বাংলা সুগার, রহিম টেক্সটাইল এবং এনবিএলসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও সামান্য দরপতনের মুখে পড়েছে। যদিও এই পতনের হার তুলনামূলকভাবে সীমিত, তবুও এটি বাজারে স্থিতিশীলতার অভাবকে তুলে ধরে।

বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ববর্তী দিনের উত্থানের পর বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ লাভ তুলে নেওয়ায় এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। একই সঙ্গে খাতভিত্তিক আস্থার পরিবর্তন এবং স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ কৌশলও এর পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

-রাফসান


ডিএসই আপডেট, লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৫ ১৪:৪৬:২৫
ডিএসই আপডেট, লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শেয়ারবাজারে আজকের লেনদেনে কিছু নির্বাচিত কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে, যা বাজারে আংশিক ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দিনশেষে প্রকাশিত গেইনার তালিকায় বিভিন্ন খাতের কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড স্থান করে নিয়েছে।

আজকের লেনদেনে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে কপারটেকের শেয়ারে, যার দর ১০ শতাংশ বেড়ে ২৩.১ টাকায় পৌঁছেছে। এটি দিনের বাজারে সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

এর পরেই রয়েছে মিরাক্টার, যার শেয়ারদর প্রায় ৯.৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৪.৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে। একইভাবে এন পলিমারও প্রায় ৯.৭১ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি অর্জন করে বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। পিএফ১এসটিএমএফ প্রায় ৯.৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এই খাতে বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

এছাড়া নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল, গোল্ডেন সন, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বিডিবিএস-এর মতো কোম্পানিগুলো ৭ থেকে ৮ শতাংশের মধ্যে মূল্যবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

অটোমোবাইল খাতের ইফাদ অটোস এবং বীমা খাতের পায়োনিয়ার ইন্স্যুরেন্সও যথাক্রমে প্রায় ৬.৯১ শতাংশ ও ৬.৭৩ শতাংশ দর বৃদ্ধি পেয়েছে, যা খাতভিত্তিক ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমূল্যের শেয়ারগুলোতে ক্রয়চাপ বৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের স্বল্পমেয়াদি আগ্রহ এবং কিছু নির্দিষ্ট খাতে ইতিবাচক প্রত্যাশার কারণে এই উত্থান ঘটেছে।

তারা আরও বলেন, বাজারে আংশিক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত থাকলেও সামগ্রিক প্রবণতা এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। তাই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি।

-রাফসান


১৪ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৩ ১৪:৫৪:২৭
১৪ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শেয়ারবাজারে আজকের লেনদেনে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেলেও সামগ্রিকভাবে নেতিবাচক চাপই বেশি লক্ষ্য করা গেছে। অধিকাংশ শেয়ারের দাম কমায় বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

আজকের বাজারে মোট ৩৯০টি কোম্পানির মধ্যে ১২৩টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে ২১৩টির দর কমেছে এবং ৫৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট যে বাজারে বিক্রির চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।

ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘এ’ ক্যাটাগরির শেয়ারগুলোর মধ্যে ৫২টি বেড়েছে, কিন্তু ১২৯টি কমেছে। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৩১টি শেয়ার বৃদ্ধি পেলেও ৪১টি দরপতনের মুখে পড়েছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতেও প্রায় সমানভাবে উত্থান-পতন দেখা গেলেও নিম্নমুখী প্রবণতাই প্রাধান্য পেয়েছে।

অন্যদিকে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষণীয় ছিল। এই খাতে ২৫টি ফান্ডের দর বেড়েছে, যেখানে মাত্র ৩টি কমেছে। এটি বিনিয়োগকারীদের একটি অংশের নিরাপদ খাতে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত দেয়।

লেনদেনের দিক থেকেও বাজারে সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে। দিনশেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৯৩ কোটি টাকায়, যা পূর্ববর্তী দিনের তুলনায় কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। মোট ২ লাখ ২২ হাজারের বেশি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রায় ২৭ কোটি ৯৯ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

বাজার মূলধনের দিক থেকে মোট ক্যাপিটালাইজেশন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮.৫৩ লাখ কোটি টাকায়। এর মধ্যে ইক্যুইটি খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি, যা সামগ্রিক বাজার কাঠামোর শক্তিশালী অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।

ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। এদিন ৪১টি কোম্পানির শেয়ার ব্লক মার্কেটে লেনদেন হয়েছে, যেখানে মোট মূল্য প্রায় ৩০২ কোটি টাকার কাছাকাছি। বিশেষ করে সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, আল-আরাফাহ ব্যাংক এবং সিটি ব্যাংকের মতো কোম্পানিতে বড় অঙ্কের লেনদেন লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে সাম্প্রতিক ওঠানামা মূলত বিনিয়োগকারীদের লাভ উত্তোলন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং খাতভিত্তিক আস্থার পরিবর্তনের কারণে ঘটছে।

তারা আরও মনে করেন, মিউচুয়াল ফান্ডে ইতিবাচক প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার একটি ইঙ্গিত বহন করে। তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানির মৌলভিত্তি এবং বাজার প্রবণতা বিবেচনায় নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সার্বিকভাবে, আজকের বাজারে লেনদেনের পরিমাণ সন্তোষজনক হলেও শেয়ারদরের নিম্নমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

-রাফসান


১৪ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের লোকসানে যেসব শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৩ ১৪:৫২:০৫
১৪ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের লোকসানে যেসব শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

দেশের শেয়ারবাজারে আজকের লেনদেনে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দামে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতার বার্তা দিয়েছে। দিনশেষে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন খাতের কোম্পানিগুলো শীর্ষ লুজার তালিকায় স্থান পেয়েছে।

আজকের বাজারে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে মেগকন মিল্কের শেয়ারে, যার মূল্য প্রায় ৪.৬৭ শতাংশ কমে ৩৬.৭ টাকায় নেমে এসেছে। এটি দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বড় পতনের উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

এছাড়া শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠান অ্যাপেক্স ট্যানারি ও কেডিএস অ্যাকসেসরিজ লিমিটেডের শেয়ারের দাম যথাক্রমে ৪.৩৩ শতাংশ এবং ৪.২৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা শিল্প খাতে কিছুটা বিক্রির চাপের ইঙ্গিত দেয়।

বীমা খাতেও নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। পিপলস ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স এবং এশিয়া ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারমূল্য ৩ থেকে প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, যা এই খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থায় সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে ফার্স্ট ফাইন্যান্স, সাউথইস্ট ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক (এসআইপিএলসি) এবং সিএলআইসি-সহ আরও কয়েকটি কোম্পানি ৩ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে মূল্যহ্রাসের সম্মুখীন হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে সামগ্রিক বিক্রির চাপ, লাভ উত্তোলনের প্রবণতা এবং কিছু নির্দিষ্ট খাতে আস্থার ঘাটতির কারণে এই পতন ঘটেছে। বিশেষ করে পূর্ববর্তী দিনের উত্থানের পর বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ লাভ তুলে নেওয়ায় শেয়ারমূল্যে নিম্নমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা শেয়ারবাজারের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোম্পানির মৌলভিত্তি, আর্থিক সক্ষমতা এবং বাজার প্রবণতা বিবেচনা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সার্বিকভাবে, আজকের বাজারে শীর্ষ লুজার তালিকা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে কাজ করছে, যেখানে বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত:

১৯ এপ্রিল: লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

১৯ এপ্রিল: লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

ঢাকার শেয়ারবাজারে সপ্তাহের নতুন কার্যদিবসে সূচকের ওঠানামার মাঝেও কিছু কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য রিটার্ন এনে দিয়েছে। ১৯ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর... বিস্তারিত