বিশ্ব তেলের বাজারে হাহাকার? হরমুজ সংকটে দুই পরাশক্তির চরম টক্কর

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৬ ১৮:০২:৪৪
বিশ্ব তেলের বাজারে হাহাকার? হরমুজ সংকটে দুই পরাশক্তির চরম টক্কর
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নৌ-অবরোধের মুখে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে ইরানের প্রধান সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, গত সোমবার থেকে অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজই এই ব্যুহ ভেঙে পার হতে পারেনি।

বুধবার দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক হালনাগাদ তথ্যে জানিয়েছে, অবরোধের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ১০টি জাহাজকে জোরপূর্বক ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের এই অনড় অবস্থানে পারস্য উপসাগর এলাকায় এখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইরানের উপকূলে যাতায়াতকারী যেকোনো জাহাজকে তারা আটকে দেবে অথবা ফিরিয়ে দেবে। তবে ইরান ছাড়া অন্য দেশগুলোর উদ্দেশ্যে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো—হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিপরীতে ইরান যে মোটা অংকের 'ট্রানজিট ফি' আদায়ের চেষ্টা করছিল তা বন্ধ করা এবং তেহরানের তেল রপ্তানি শূন্যে নামিয়ে এনে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা।

এদিকে ইরান এই নৌ-অবরোধকে সরাসরি ‘দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এর প্রতিশোধ নিতে তেহরান কেবল হরমুজ নয়, বরং পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগরের নৌ-চলাচলও লক্ষ্যবস্তু করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে মার্কিন বাহিনী তাদের অবস্থানে অনড়।

গত বুধবার ‘ইউএসএস স্প্রুয়ান্স’ নামক একটি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার বন্দর আব্বাস থেকে ছেড়ে আসা ইরানের একটি কার্গো জাহাজকে সফলভাবে মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থান যেকোনো সময় একটি বড় ধরনের নৌ-যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ, স্ট্রেইট টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট


হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের দাবি কি ভুল? তেলের বাজারে আগুনের সংকেত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ২২:০২:৩৬
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের দাবি কি ভুল? তেলের বাজারে আগুনের সংকেত
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবি বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্টে দাবি করেছেন, এই পথ বন্ধ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না এবং ইরান অজান্তেই আমেরিকার স্বার্থ রক্ষা করছে। তবে বাজার বিশ্লেষণ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য বলছে, ট্রাম্পের এই দাবি বাস্তবসম্মত নয়।

ট্রাম্পের পোস্টে অভিযোগ করা হয়, ইরান ফরাসি ও ব্রিটিশ জাহাজে গুলি চালিয়েছে। কিন্তু ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ‘রয়টার্স’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) হামলার শিকার হওয়া জাহাজ দুটি ছিল ভারতীয় পতাকাবাহী (এর মধ্যে একটির নাম ‘সানমার হ্যারাল্ড’)। এই ঘটনার পর ভারত সরকার ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এদিকে তেলের বাজারের অস্থিরতা ট্রাম্পের দাবির ঠিক উল্টো ইঙ্গিত দিচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের মোট তেলের ২০ শতাংশ সরবরাহের রুট। গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) যখন ইরান সাময়িকভাবে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, তখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৯ শতাংশ কমে গিয়েছিল এবং ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারবাজার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। কিন্তু মাত্র একদিন পরই ইরান পুনরায় প্রণালি বন্ধ করার ঘোষণা দেওয়ায় বাজার আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তেল একটি বৈশ্বিক পণ্য হওয়ায় এর দাম বিশ্ব বাজারের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন থাকলেও তেলের বিশ্বব্যাপী সরবরাহ কমলে সেখানেও জ্বালানির দাম বাড়বে। ফলে সোমবার যখন মার্কিন বাজার খুলবে, তখন তেলের দাম বৃদ্ধি এবং শেয়ারবাজারে ধস নামার বড় শঙ্কা রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত না হলে তেলের দাম কেন ওঠানামা করছে—সেই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

/আশিক


অবরোধ থাকলে আলোচনা নয়: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি না বলে দিল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ২১:৪৬:১৫
অবরোধ থাকলে আলোচনা নয়: ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি না বলে দিল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে, তখন আলোচনার টেবিলে বসার সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিল ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে সম্ভাব্য বৈঠকের খবর চাউর হলেও দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'তাসনিম নিউজ এজেন্সি' নিশ্চিত করেছে যে, বর্তমানে ইরানি কোনো প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পাঠানোর পরিকল্পনা নেই।

ইরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নৌ অবরোধ কার্যকর থাকবে, ততক্ষণ কোনো ধরনের আলোচনায় যাবে না তেহরান। বর্তমান পরিস্থিতিতে আলোচনার টেবিলে বসার কোনো সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে দেশটি।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্টে দাবি করেছেন যে ইরান ফরাসি ও ব্রিটিশ জাহাজে গুলি চালিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র ট্রাম্পের এই তথ্যকে চ্যালেঞ্জ করে জানিয়েছে, হামলার শিকার জাহাজ দুটি আসলে ছিল ভারতীয় পতাকাবাহী।

জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প দাবি করছেন হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না, যা আদতে বিভ্রান্তিকর। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের দাম সরাসরি এই রুটের ওপর নির্ভরশীল।

ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন ইরান অজান্তেই যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করছে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—ইরান প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ায় সেখানে এখন কোনো দেশের জাহাজই চলাচল করতে পারছে না। ফলে সংঘাত নিরসনের বদলে পরিস্থিতি এখন আরও জটিল মোড় নিচ্ছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


চুক্তিতে না এলে ধ্বংস হবে ইরান: ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১৯:২৪:৩৯
চুক্তিতে না এলে ধ্বংস হবে ইরান: ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন আর কেবল হুমকি-ধমকিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি ধ্বংসাত্মক রূপ নেওয়ার পথে। হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এবার ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার মতো কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান যদি আমেরিকার দেওয়া নতুন চুক্তির শর্তে রাজি না হয়, তবে ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

ট্রাম্প অভিযোগ করেন, গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) হরমুজ প্রণালিতে ফরাসি ও ব্রিটিশ জাহাজে গুলিবর্ষণ করে ইরান বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি চরমভাবে লঙ্ঘন করেছে। ইরানি স্পিকারের হরমুজ প্রণালি বন্ধের হুমকির জবাবে ট্রাম্প বিদ্রূপ করে বলেন, "ইরান যে প্রণালি বন্ধের কথা বলছে, তা মার্কিন অবরোধের কারণেই আগে থেকে কার্যত অচল। তেহরান মূলত নিজেদের অজান্তেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য সফল করছে।"

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানকে একটি ‘ন্যায়সঙ্গত’ চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং তাদের উচিত দ্রুত তা গ্রহণ করা। অন্যথায় সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের সরাসরি হুমকি দিয়ে তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী অত্যন্ত দ্রুত ও অনায়াসেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম।

শান্তি স্থাপনে ইরান ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াকে নিজের ‘সম্মানজনক দায়িত্ব’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই চরম হুঁশিয়ারির পর মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দামামা বাজছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

সূত্র: আলজাজিরা।


শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়বে ইরান! সেনাপ্রধান আমির হাতামির রণহুঙ্কার

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১৮:০০:৫৯
শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়বে ইরান! সেনাপ্রধান আমির হাতামির রণহুঙ্কার
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার যুদ্ধবিরতি যখন খাদের কিনারায়, ঠিক সেই মুহূর্তে চরম যুদ্ধের প্রস্তুতি ঘোষণা করলেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আমির হাতামি। রোববার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) এক বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং স্থল, আকাশ ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তায় ইরানের সেনারা শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।

বিবৃতিতে আমির হাতামি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “শত্রুর যেকোনো আগ্রাসন মোকাবিলায় আমাদের প্রতিটি সেনার আঙুল এখন অস্ত্রের ট্রিগারে। কোনো আপস নয়, চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেওয়ার জন্য আমরা সর্বদা সজাগ।” তিনি আরও জানান, ইরানি সেনারা উৎসর্গের মানসিকতা এবং জিহাদি চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে মাতৃভূমির জন্য জীবন দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।

আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নিজেদের সামরিক শক্তি ও জাতীয় সংকল্পের জানান দিতেই ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সেনাপ্রধানের এই ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, বুধবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি যেকোনো দিকে মোড় নিতে পারে।

সূত্র: আলজাজিরা।


নেতানিয়াহুর ফাঁদে পা দিয়েছেন ট্রাম্প! কমলা হ্যারিসের বিস্ফোরক অভিযোগ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১২:৪৭:০৬
নেতানিয়াহুর ফাঁদে পা দিয়েছেন ট্রাম্প! কমলা হ্যারিসের বিস্ফোরক অভিযোগ
ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু এবং কমলা হ্যারিস। ছবি: গ্রাফিক্স

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যখন যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, তখন এই সংঘাতকে কেন্দ্র করে খোদ ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তোলপাড়। সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কারণেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন।

শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) এক ফান্ড রাইজিং ইভেন্টে কমলা হ্যারিস বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “ট্রাম্প এমন এক যুদ্ধে জড়িয়েছেন যেটি আমেরিকার জনগণ চায় না এবং এটি আমাদের সেনাদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। আর তাকে এই পথে ঠেলে দিয়েছেন নেতানিয়াহু।” কমলা হ্যারিসের এই কড়া আক্রমণের বিপরীতে ট্রাম্প এখন পর্যন্ত সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও, নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইসরায়েলের ভূয়সী প্রশংসা করে একটি পোস্ট দিয়েছেন।

ট্রাম্প তার পোস্টে ইসরায়েলকে ‘অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য মিত্র’ হিসেবে বর্ণনা করে লিখেছেন, “মানুষ ইসরায়েলকে পছন্দ করুক আর না করুক, তারা জানে কীভাবে জয় ছিনিয়ে আনতে হয়।” তিনি ইসরায়েলিদের সাহসী, নির্ভীক ও বিশ্বস্ত উল্লেখ করে বলেন, যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে অনেকে যখন পিছু হটেছে, ইসরায়েল তখন সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করছে। ট্রাম্পের এই অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নেতানিয়াহুর প্রতি কমলার সমালোচনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি ইসরায়েলের পাশেই শক্তভাবে দাঁড়াচ্ছেন।

সূত্র: বিবিসি


যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না ইরান! যেকোনো মুহূর্তে ফের যুদ্ধের হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১২:২৮:১৫
যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না ইরান! যেকোনো মুহূর্তে ফের যুদ্ধের হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির খবর দিলেও ওয়াশিংটনকে একচুলও ছাড় দিতে নারাজ তেহরান। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ইরানের স্পিকার ও অন্যতম প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হলেও চূড়ান্ত সমঝোতা থেকে উভয় পক্ষ এখনো অনেক দূরে রয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না এবং যেকোনো মুহূর্তে তারা পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে পারে।

গালিবাফ দাবি করেন, চলমান যুদ্ধে ইরানই বিজয়ী হয়েছে এবং কেবল নিজেদের দাবিগুলো পূরণ হওয়ার শর্তেই তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি আগামী বুধবার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও একটি স্থায়ী চুক্তির বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। গালিবাফ হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “কৌশলগত হরমুজ প্রণালি এখন ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।

যুক্তরাষ্ট্র যদি অবরোধ তুলে না নেয়, তবে এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিতভাবেই বন্ধ করে দেওয়া হবে। ইরান নিজে পার হতে পারবে না অথচ অন্যরা এই রুট ব্যবহার করবে—তা অসম্ভব।”

উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে গালিবাফ ও ইরানি প্রতিনিধি দলের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা ১৯৭৯ সালের পর দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ।

তবে সেই বৈঠকেও মৌলিক অমীমাংসিত বিষয়গুলোতে কোনো সমাধান আসেনি। গালিবাফ জানান, আলোচনাও তাদের কাছে যুদ্ধের একটি পদ্ধতি এবং শত্রুর যেকোনো ‘বোকামি’ মোকাবিলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।

/আশিক


আড়াই দশকের লুকোচুরি শেষ? ইরানের জব্দ করা বিশাল সম্পদের চাঞ্চল্যকর অংক প্রকাশ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১১:৪৪:৪৮
আড়াই দশকের লুকোচুরি শেষ? ইরানের জব্দ করা বিশাল সম্পদের চাঞ্চল্যকর অংক প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের বিশাল অংকের সম্পদ নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনার আগে এই ইস্যুটি এখন তেহরানের জন্য অন্যতম প্রধান শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান কেবল তাদের জব্দ সম্পদ ফেরতই চায় না, বরং দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য বড় অংকের ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে মহাসচিবের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের ৮ বিলিয়ন ডলার জব্দের নির্দেশ থেকে শুরু হওয়া এই সংকটে বর্তমানে কী পরিমাণ অর্থ আটকে আছে, তা নিয়ে রয়েছে নানা ধোঁয়াশা।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, তেলের রাজস্ব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ এবং বাণিজ্যিক সম্পদ মিলিয়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আটকে আছে। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সময় এই সম্পদের পরিমাণ ৫০ থেকে ১০০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ছিল বলে ধারণা করা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার পর সেই অর্থ আবারও নাগালের বাইরে চলে যায়।

২০২৩ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার কাতারে স্থানান্তর করা হলেও তা ব্যবহারের ওপর কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জব্দ হওয়া এই সম্পদ ফেরত দেওয়া ছাড়া বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি সম্ভব নয়। বর্তমানে তেহরান এই অর্থ ফেরত পাওয়াকে তাদের আলোচনার টেবিলে বসার প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করছে।

সূত্র: এমএসএন/আল-জাজিরা


মার্কিন নতুন প্রস্তাব এখন তেহরানের টেবিলে! কী আছে সেই নথিতে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১১:১৫:৩৬
মার্কিন নতুন প্রস্তাব এখন তেহরানের টেবিলে! কী আছে সেই নথিতে?
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের আগে ‘সমঝোতার রূপরেখা’ চূড়ান্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইদ খাতিবজাদেহ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই রূপরেখা চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে আলোচনার কোনো তারিখ নির্ধারণ করা তেহরানের পক্ষে সম্ভব নয়।

ইরানের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ‘অতিরিক্ত দাবি’ উত্থাপন করার কারণে দুপক্ষ এখনো কিছু মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম-এর তথ্যমতে, তেহরান তাদের সুনির্দিষ্ট শর্তগুলো পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দিয়েছে। ইরান পরিষ্কার করেছে যে, তারা দীর্ঘ এবং অর্থহীন আলোচনার মাধ্যমে সময় নষ্ট করতে আগ্রহী নয়।

এদিকে, গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কিছু নতুন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ। তেহরান বর্তমানে সেই প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে এবং এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। উল্লেখ্য যে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার শান্তি আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছিল। বর্তমানে দুপক্ষের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দ্বিতীয় দফায় তাদের আলোচনার টেবিলে ফেরাতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান।

সূত্র: আল-জাজিরা


নেতানিয়াহুর গালে ট্রাম্পের ‘চপেটাঘাত’! লেবানন দখল পরিকল্পনায় বড় বাধা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৮ ২১:২৯:৪০
নেতানিয়াহুর গালে ট্রাম্পের ‘চপেটাঘাত’! লেবানন দখল পরিকল্পনায় বড় বাধা
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার উগ্র ডানপন্থী জোট সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক অপমান বা ‘চপেটাঘাত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরাইলি সরকার যেখানে লিটানি নদী পর্যন্ত লেবাননের ভূখণ্ড দখল করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করছিল, ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণা তাদের সেই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসরাইলকে বিমান হামলা বন্ধ করার জন্য ট্রাম্পের কড়া নির্দেশ নেতানিয়াহু প্রশাসনের জন্য এক অভাবনীয় বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইসরাইলি সরকার গত কয়েকদিন ধরে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে ছিল। তারা লেবানন সরকারকে কেবল হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতেই চাপ দিচ্ছিল না, বরং হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক অস্তিত্ব মুছে ফেলতে তাদের সংসদ এবং সরকার থেকে পুরোপুরি বহিষ্কার করার দাবি তুলছিল।

ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ জনমত যখন বর্তমান সরকারের ওপর চরম ক্ষুব্ধ, তখন ডানপন্থী ভোটারদের সন্তুষ্ট করতে লেবাননের শিয়া-প্রধান গ্রামগুলোকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার যে আগ্রাসী নীতি ইসরাইল গ্রহণ করেছিল, ট্রাম্পের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ সেই পরিকল্পনাকে পুরোপুরি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ইতিমধ্যে ইসরাইলি বাহিনী গ্রামগুলোকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে লেবাননের বাসিন্দাদের সেখানে ফিরতে বাধা দিচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের জনগণের কাছে প্রমাণ করতে পারে যে তারা নিরাপত্তার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তবে এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার মধ্যেও ইসরাইলি সরকারের জন্য সামান্য সুযোগ বা ‘উইগল রুম’ রয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও—কেউই এখন পর্যন্ত ইসরাইলকে তাদের ইতিমধ্যে দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে সরে আসার সরাসরি নির্দেশ দেননি। এই বিশেষ সুযোগটিকেই বর্তমানে ইসরাইল সরকার তাদের ক্ষুব্ধ জনগণের কাছে বড় সান্ত্বনা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

তারা দাবি করছে যে, বিমান হামলা বন্ধের আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও ভূখণ্ডগত অবস্থান থেকে তারা এখনো এক চুলও সরে আসেনি। মূলত নিজেদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সামাল দিতে এবং দেশের মানুষের কাছে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি রক্ষার বাহানা হিসেবেই ইসরাইল সরকার এখন এই সীমিত সুযোগকে কাজে লাগানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

পাঠকের মতামত:

১৯ এপ্রিল: লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

১৯ এপ্রিল: লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

ঢাকার শেয়ারবাজারে সপ্তাহের নতুন কার্যদিবসে সূচকের ওঠানামার মাঝেও কিছু কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য রিটার্ন এনে দিয়েছে। ১৯ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর... বিস্তারিত