আজ রাতেই একটি আস্ত সভ্যতা বিলীন হবে, ইরানকে ট্রাম্পের চূড়ান্ত হুমকি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১৯:৫৬:৫৫
আজ রাতেই একটি আস্ত সভ্যতা বিলীন হবে, ইরানকে ট্রাম্পের চূড়ান্ত হুমকি
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে ঘিরে এ যাবৎকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ও চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো মেনে নেওয়া না হলে আজ রাতেই ইরানে একটি আস্ত সভ্যতা বিলীন হয়ে যেতে পারে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রলয়ঙ্কারী হুমকি দেন।

মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল'-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ট্রাম্পের এই আল্টিমেটাম ইরানকে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, "আজ রাতেই একটি আস্ত সভ্যতা মারা যাবে; যা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। আমি চাই না এমনটা হোক, তবে সম্ভবত এটি হতে চলেছে। কে জানে কী হয়?" ট্রাম্পের এই "সভ্যতার মৃত্যু" শব্দবন্ধটি বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কাকেও উসকে দিয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান সমঝোতায় না এলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে দেশটিকে ‘পাথর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তেহরানকে শর্ত মানার জন্য মঙ্গলবার রাত ৮টা (যুক্তরাষ্ট্র সময়) পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বুধবার ভোর ৬টা।

এই সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্পের এমন কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ট্রাম্প ঠিক কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বললেও তাঁর এই পোস্টটি একটি ভয়াবহ যুদ্ধের অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন পুরো বিশ্বের নজর বুধবার ভোরের সেই সময়সীমার দিকে।

সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল


ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার ৩৯তম দিনে কী ঘটছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১৪:৩১:৩৩
ইরান যুদ্ধ: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার ৩৯তম দিনে কী ঘটছে?
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি কঠোর হুমকি দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এই ঘোষণাকে বিশ্লেষকরা সংঘাতের একটি বিপজ্জনক মোড় হিসেবে দেখছেন।

ওয়াশিংটনের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি উদ্যোগের প্রতি তেহরানের প্রতিক্রিয়াকে ট্রাম্প “গুরুত্বপূর্ণ হলেও যথেষ্ট নয়” বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী এই হুমকিকে “বাস্তবতা-বিবর্জিত” হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা বলে অভিহিত করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ইরানের ভেতরে আরও বিস্তৃত হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে, যা বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়িয়েছে। একই সময়ে ইরানও পাল্টা হামলা হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার অব্যাহত রেখেছে।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানের তিনটি বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে একাধিক যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার লক্ষ্যবস্তু করেছে। পাশাপাশি বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্রগুলোর একটি সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্র সংশ্লিষ্ট বৃহৎ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সেও আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা। সংস্থাটির প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশে হামলা চালানো হলে তা মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত।

ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল মাজিদ খাদেমি সাম্প্রতিক এক হামলায় নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে সাউথ পারস গ্যাসক্ষেত্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটে হামলাকে তেহরান বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।

কূটনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা কমেনি। ট্রাম্প কঠোর সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ইরানকে চাপের মুখে ফেলেছেন। তবে তেহরান সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে স্থায়ী সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনায় নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সমঝোতা এবং হরমুজ প্রণালিতে নতুন নিরাপত্তা কাঠামোর কথা বলা হয়েছে।

এই সংকটের মধ্যে কিছু দেশ বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন পথ খুঁজছে। দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দরের মাধ্যমে বিকল্প রুট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে তুরস্ক জানিয়েছে, তাদের জাহাজ যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। সি চিনপিং নতুন জ্বালানি কাঠামো দ্রুত গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন, যা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। কুয়েত-এর আলী আল সালেম ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। সৌদি আরব-এর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। বাহরাইন নিরাপত্তা উদ্বেগে গুরুত্বপূর্ণ সেতু বন্ধ করে দিয়েছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে তারা আগত হামলা প্রতিহত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। একইসঙ্গে একটি ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটদের উদ্ধারে জটিল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যেখানে শতাধিক বিমান ও বিপুল সেনা অংশ নেয়।

ইসরায়েলের ভেতরেও সংঘাতের প্রভাব পড়েছে। হাইফা শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে লেবানন ও ইরাকেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে, যেখানে বিমান হামলা, ড্রোন আঘাত এবং ব্যাপক বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটছে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, লেবাননে ইতোমধ্যে ১১ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে তা আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিতে পারে।

সূত্রঃ আল জাজিরা


এবার ভারত মহাসাগরে মার্কিন উভচর যুদ্ধজাহাজে ইরানের শক্তিশালী হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১২:৪৮:৪৩
এবার ভারত মহাসাগরে মার্কিন উভচর যুদ্ধজাহাজে ইরানের শক্তিশালী হামলা
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সোমবার (৬ এপ্রিল) এক চাঞ্চল্যকর বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, তারা সমুদ্রপথে ইসরায়েলি মালিকানাধীন একটি কনটেইনার জাহাজ এবং একটি বিশাল মার্কিন যুদ্ধজাহাজে সফল হামলা চালিয়েছে। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম 'সেপাহ নিউজ'-এ প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে আইআরজিসি তাদের চলমান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৯৮তম দফার বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরেছে।

আইআরজিসির তথ্যমতে, ‘এসডিএন৭’ নামক একটি ইসরায়েলি কনটেইনার জাহাজকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে নিখুঁতভাবে আঘাত করা হয়েছে, যার ফলে জাহাজটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। শুধু তাই নয়, ৫ হাজারেরও বেশি সেনাবহনকারী মার্কিন উভচর আক্রমণ জাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ (এলএইচএ-৭) লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর দক্ষিণ ভারত মহাসাগরের দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে বলেও দাবি করেছে তেহরান।

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে যে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের হাইফা শহরের কৌশলগত কেন্দ্র এবং বেয়ার শেভার পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোতে সরাসরি আঘাত হেনেছে। এছাড়া মধ্য ইসরায়েলের পেতাহ টিকভায় ইসরায়েলি বাহিনীর একটি বড় সমাবেশস্থল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র ও আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে থাকা যুদ্ধবিমানগুলোও ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় ছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভয়াবহ যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য উত্তপ্ত। সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই ইরান এখন ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বাণিজ্যিক সম্পদের ওপর আঘাত হানছে।

একই সঙ্গে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে পশ্চিমা বিশ্বকে অর্থনৈতিক চাপের মুখে ফেলেছে তেহরান। সম্প্রতি ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতে হামলার গুঞ্জন উঠলেও ইরান পরে তা অস্বীকার করেছিল, তবে সোমবারের এই জোড়া হামলার দাবি পরিস্থিতিকে নতুন এক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সূত্র: সিনহুয়া।


কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ইরানের থাবা, ১৫ মার্কিন সেনা আহত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১২:০৩:২৫
কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে ইরানের থাবা, ১৫ মার্কিন সেনা আহত
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযানের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রতিশোধমূলক পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইরান। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে (৬ এপ্রিল) কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইরাক সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘আলি আল সালেম’ বিমানঘাঁটিতে ইরানের একটি ড্রোন আঘাত হানলে অন্তত ১৫ জন মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ দুজন কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। যদিও আহতদের বেশিরভাগেরই আঘাত গুরুতর নয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর তারা পুনরায় দায়িত্ব পালনে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ যৌথ হামলার পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে, কুয়েতের এই হামলা তারই অংশ। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারির সেই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ প্রায় দেড় সহস্রাধিক মানুষ নিহত হয়েছিলেন।

এই ঘটনার পর থেকে ইরান কেবল ইসরায়েল নয়, বরং জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। একই সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলেও কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে তেহরান। কুয়েতের এই শক্তিশালী মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার ঘটনাটি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে নতুন করে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।


কৌশলগতভাবে তেহরানের কাছে পরাজিত ট্রাম্প: ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ১১:৩৯:৫৩
কৌশলগতভাবে তেহরানের কাছে পরাজিত ট্রাম্প: ইরান
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধ ব্যবস্থাপনায় তাঁর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। সূত্রটির দাবি, কৌশলগতভাবে তেহরানের কাছে ট্রাম্প ইতিমধ্যে পরাজিত হয়েছেন এবং তাঁর ক্রমবর্ধমান আক্রমণাত্মক বক্তব্য মূলত এই পরাজয়ের গ্লানি ও হতাশার বহিঃপ্রকাশ।

সূত্রটি আরও উল্লেখ করেছে যে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক এবং ইরানি জনগণের প্রতি অবমাননাকর ভাষা প্রমাণ করে যে তিনি পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ ইসফাহানে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো সামরিক পদক্ষেপগুলো কৌশলগতভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে ইরান দাবি করেছে।

তবে যুদ্ধের ময়দানে এই অনড় অবস্থানের মধ্যেও ইরান জানিয়েছে যে তারা সংঘাতের অবসান চায়। তবে সূত্রটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ট্রাম্পের চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্ত বা সময়সীমা তারা মেনে নেবে না। ইরানের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ৩৯তম দিনে গড়িয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে মহাযুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে।

তথ্যসূত্র : সিএনএন


এক রাতের মধ্যেই ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার হুমকি ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ০৮:৩১:০৭
এক রাতের মধ্যেই ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার হুমকি ট্রাম্পের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কঠোর ভাষায় ইরানকে সতর্ক করেছেন। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমঝোতায় না পৌঁছালে যুক্তরাষ্ট্র এক রাতের মধ্যেই ইরানকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিতে পারে বলে তিনি প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন। এই হুমকির কেন্দ্রে রয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রশ্ন।

ওয়াশিংটন সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প, যা বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে শেষ হবে। তার শর্ত স্পষ্ট উপসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র ‘তাৎক্ষণিক ও বিধ্বংসী’ সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটি দেশের অবকাঠামো সম্পূর্ণ অচল করে দেওয়া সম্ভব। তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন, ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়ার মতো পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনে এই অভিযান কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সম্পন্ন করা সম্ভব।

এই বক্তব্য দেওয়ার সময় তার পাশে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তি জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইন এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এতে বোঝা যায়, বিষয়টি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সামরিক প্রস্তুতির সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

অন্যদিকে, তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে আগ্রহী নয়। তাদের দাবি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ছাড়া কোনো আলোচনাই অর্থবহ হবে না। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং বিলম্বিত প্রতিক্রিয়ার কারণে আলোচনার অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এই জটিল পরিস্থিতিতে পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশর মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি, যা সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

আইন বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের সামরিক হুমকি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। টেস ব্রিজম্যান সতর্ক করে বলেছেন, বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংসের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তার মতে, কোনো রাষ্ট্রকে আলোচনায় বাধ্য করতে সাধারণ জনগণের ওপর চাপ প্রয়োগ সম্পূর্ণ বেআইনি।

তবে ট্রাম্প এসব সমালোচনাকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তার দাবি, ইরানের জনগণ নিজেদের স্বাধীনতার জন্য যে কোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তিনি ন্যাটো ও যুক্তরাজ্যের ভূমিকা নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন এবং তাদের নিষ্ক্রিয়তাকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন।

এদিকে মার্কিন সামরিক কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে ১৩ হাজারেরও বেশি হামলা চালানো হয়েছে। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে সংঘাত ইতোমধ্যেই উচ্চমাত্রায় পৌঁছে গেছে এবং যেকোনো সময় তা আরও বিস্তৃত আকার নিতে পারে।

সূত্র-বিবিসি


ইরানের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় এশিয়ার দেশগুলো

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ০৭:৪৯:০৪
ইরানের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় এশিয়ার দেশগুলো
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা যখন চরমে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি ভিন্নধর্মী কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেও, বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে অনেক দেশ নিজেদের স্বার্থে বিকল্প পথ খুঁজছে।

ট্রাম্প স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত এবং ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তার বক্তব্যে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ বৃদ্ধি পায়।

তবে এই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এশিয়ার কয়েকটি দেশ সরাসরি তেহরানের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়। জ্বালানি আমদানির ওপর উচ্চ নির্ভরশীলতার কারণে এসব দেশের জন্য হরমুজ প্রণালির কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ অচল হয়ে পড়লে শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান, ভারত এবং ফিলিপাইনসহ একাধিক দেশ ইরানের সঙ্গে সরাসরি সমঝোতায় পৌঁছেছে। এসব চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট কিছু জাহাজকে নিরাপদে প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থেরেসা লাজারো জানিয়েছেন, তাদের পতাকাবাহী জাহাজগুলোর জন্য ‘নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন’ চলাচলের নিশ্চয়তা দিয়েছে তেহরান। দেশটির জ্বালানি নির্ভরতা বিবেচনায় এই সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, ইরান তাদের একাধিক জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তিনি এটিকে ইতিবাচক কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ভারতের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কূটনৈতিক সমন্বয় দেখা গেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, সক্রিয় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভারতীয় ট্যাংকারগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

এছাড়া চীন ও মালয়েশিয়াও এই প্রণালি ব্যবহার করে তাদের জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে সমন্বয় করেছে বলে জানা গেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এ জন্য ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তবে এই সমঝোতাগুলো কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। শিপিং বিশ্লেষকদের মতে, এসব চুক্তি সব দেশের জন্য প্রযোজ্য নয় এবং নির্দিষ্ট জাহাজ বা শর্তসাপেক্ষে কার্যকর হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, জ্বালানি নির্ভর অর্থনীতিগুলো এখন বাস্তববাদী কূটনীতির পথে হাঁটছে। তারা বুঝতে পারছে, সরবরাহ চেইন সচল রাখতে হলে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা ছাড়া বিকল্প নেই। তবে এসব পদক্ষেপ সংকটের সাময়িক সমাধান দিলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারবে না।

-রাফসান


চার ঘণ্টায় ইরান অচল করার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ০৬:৫৭:১০
চার ঘণ্টায় ইরান অচল করার পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কঠোর সামরিক অবস্থান তুলে ধরেছে। হরমুজ প্রণালি দ্রুত উন্মুক্ত না হলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক আঘাত হানার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি ইঙ্গিত দেন, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করার অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে অকার্যকর করে দেওয়ার সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, একটি সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে দেশটির পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামো দ্রুত ধ্বংস করা সম্ভব।

তিনি দাবি করেন, এমন একটি সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে যা মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই বাস্তবায়নযোগ্য। তবে একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা নয় এবং তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।

এর আগে ইরানকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার আহ্বান জানিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেন তিনি। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। মারিকে ডে হুন, আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়-এর আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইন বিভাগের একজন বিশেষজ্ঞ, এই ধরনের মন্তব্যকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলার হুমকি গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

তিনি আরও সতর্ক করেন, এমন ধরনের বক্তব্য বাস্তবায়িত হলে তা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলবে এবং যুদ্ধের নৈতিক সীমারেখা অতিক্রম করবে। পাশাপাশি আত্মসমর্পণকারীদের জীবন রক্ষা না করার নীতি আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, সংঘাতের আরেকটি দিক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে বেসামরিক এলাকায় ক্লাস্টার অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অত্যন্ত গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।

-রাফসান


কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা, আহত ১৫ মার্কিন সেনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৭ ০৬:৫০:১৩
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা, আহত ১৫ মার্কিন সেনা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েতের আলী আল সালেম বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানের ড্রোন হামলার ঘটনা নতুন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, রাতভর পরিচালিত এই হামলায় অন্তত ১৫ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম CBS News-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় একাধিক ড্রোন ঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এতে সামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি কিছু সেনাসদস্য আহত হন।

তবে প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, আহতদের অধিকাংশই গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হননি। চিকিৎসা নেওয়ার পর অনেকেই আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন বলে সংশ্লিষ্ট মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এতে বোঝা যাচ্ছে, হামলাটি বড় ধরনের প্রাণহানির কারণ না হলেও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই হামলা বৃহত্তর একটি সংঘাতের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে ইরান ধারাবাহিকভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে এই ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে।

কুয়েতের এই ঘাঁটিটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এখানে হামলা চালানো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক ভারসাম্যের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা


সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী সমাধান চাই: যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত জানাল ইরান

আশিকুর রহমান
আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ২১:১৯:১৬
সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী সমাধান চাই: যুক্তরাষ্ট্রকে শর্ত জানাল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নতুন মোড় নিয়েছে, যেখানে ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব মেনে নিতে রাজি নয়; বরং স্থায়ী ও কাঠামোগত সমাধান ছাড়া সংঘাত বন্ধ করা সম্ভব নয়। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে তেহরান যে অবস্থান তুলে ধরেছে, তা এই সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইসলামাবাদ হয়ে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় ইরান একটি বিস্তারিত দাবি-তালিকা দিয়েছে। এতে তারা সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করলেও ‘ইরানের স্বার্থ ও বিবেচনাকে সম্মান করে’ একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে। এই অবস্থান স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে তেহরান কেবল যুদ্ধ থামাতে নয়, বরং একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সমাধান নিশ্চিত করতে চায়।

ইরানের প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতগুলোর অবসান, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌযান চলাচলের জন্য একটি স্বীকৃত প্রোটোকল প্রণয়ন, যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামোর পুনর্গঠন এবং ইরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। এই শর্তগুলো দেখায় যে, ইরান এই সংঘাতকে শুধুমাত্র সামরিক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত একটি বৃহত্তর সমীকরণের অংশ হিসেবে দেখছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তান একটি দ্বি-স্তরবিশিষ্ট শান্তি প্রস্তাব উত্থাপন করেছে, যা “ইসলামাবাদ অ্যাকর্ডস” নামে পরিচিত হতে পারে। এই প্রস্তাবে প্রথম ধাপে তাৎক্ষণিক একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং পরবর্তী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের রূপরেখা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির এই প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে।

তবে কূটনৈতিক এই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও বাস্তব পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তিনি ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, যদি দ্রুত কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে ইরানের ওপর আরও ব্যাপক সামরিক হামলা চালানো হবে।

ইরানও পাল্টা অবস্থানে কঠোর রয়েছে। এক উচ্চপর্যায়ের ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আন্তরিক না হলে ইরান কোনো ধরনের অস্থায়ী সমঝোতায় যাবে না। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টিও কোনো সাময়িক চুক্তির বিনিময়ে বিবেচনা করা হবে না।

বর্তমানে হরমুজ প্রণালি এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে এর ওপর নিয়ন্ত্রণ শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান ইতোমধ্যে কিছু ‘বন্ধু রাষ্ট্রের’ জাহাজকে এই পথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে এবং নিরাপত্তা ফি নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কৌশল একটি সুপরিকল্পিত চাপ প্রয়োগের অংশ, যার মাধ্যমে তারা যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি বাজারেও প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক সমাধানে বাধ্য করার চেষ্টা করছে।

সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি জটিল কূটনৈতিক অচলাবস্থার দিকে ইঙ্গিত করছে, যেখানে একদিকে সামরিক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে আলোচনার পথও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। তবে স্পষ্ট যে, সাময়িক সমাধানের চেয়ে স্থায়ী সমঝোতার প্রশ্নই এখন এই সংঘাতের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

পাঠকের মতামত: