লালমাইতে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ৩ বসতঘর

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৯:০৪:১৮
লালমাইতে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: পুড়ে ছাই ৩ বসতঘর
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ঘরের আসবাবপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল ধ্বংস হয়ে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়নের হাতিলোটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে হাতিলোটা গ্রামের হাবিবুর রহমান ও মোজাম্মেলের বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে লাকসাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে তিনটি বসতঘর ও ঘরের সব মালামাল পুড়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য সাইফুদ্দিন শাকিল বলেন, আগুন লাগার বিষয়টি টের পেয়ে প্রথমে পরিবারের সদস্যদের ঘর থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।পরে মোটরসাইকেলটি অন্য বাড়িতে সরিয়ে রাখা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা আগুনে তিনটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি করেন তিনি।তিনি আরো বলেন, লালমাই উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় পাশের উপজেলা থেকে গাড়ি আসতে সময় লেগেছে।

উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থাকলে ক্ষয়ক্ষতি কম হতে পারত।স্থানীয় বাসিন্দা ও লালমাই প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন বলেন, আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। তবে অন্য উপজেলা থেকে আসতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। আগুনে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে লালমাই উপজেলায় দ্রুত ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন জরুরি।

ট্যাগ: কুমিল্লা

সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের ঈদ পুনর্মিলনী ও কৃতী শিক্ষার্থী সম্মাননা অনু‌ষ্ঠিত

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৭:১২:১৬
সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের ঈদ পুনর্মিলনী ও কৃতী শিক্ষার্থী সম্মাননা অনু‌ষ্ঠিত
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

সামাজিক, মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী, কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার বিতরণ ৫ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার, সন্ধ্যায় ৭টায় নগরীর টাইগারপাসস্থ মোড়ের মামা-ভাগিনা মাজার সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মোস্তফা আলম মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা একরাম হোসেন চৌধুরী। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ খুলশী থানা কমান্ডের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম লিয়াকত হোসেন। শুরুতে সংগঠনের সদস্য আকতার হোসেন নিজামীর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও নারী উদ্যোক্তা ফারহানা আফরোজ।

সভায় বক্তারা বলেন, সিলেট আধ্যাত্মিক রাজধানী এবং চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী। এই দুটি বিভাগের মানুষের মধ্যে একটি অন্তর্মিল রয়েছে। সিলেটের মানুষ যেমন অতিথিপরায়ণ ও আন্তরিকতায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, ঠিক তেমনি চট্টগ্রামের মানুষ অতিথিপরায়ণ ও আন্তরিক। এ দুটি অঞ্চলের মানুষ দুটি বিভাগের জনমানুষ হলেও এ দুটি অঞ্চলের সামগ্রিক পরিবেশ তথা কৃষ্টি-সংস্কৃতি-সভ্যতায় প্রায়ই মিল।

এ সময় বক্তারা আরো বলেন, চট্টগ্রাম এবং সিলেট একসময় এক বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে তা ভৌগোলিকভাবে আলাদা হলেও সাহিত্য ও সংস্কৃতির দিক দিয়ে আলাদা করা সম্ভব হয়নি।

সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক স ম জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহসভাপতি ও ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের জিএম এম এ সবুর, সহসভাপতি মুছা আলম খান চৌধুরী, সহসভাপতি মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব এম নুরুল হুদা চৌধুরী সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এমরান, সাংবাদিক নজিব চৌধুরী, মোহাম্মদ তিতাস, নাহিদা আকতার, সিরাজুম মুনিরা রিমঝিম, আয়েশা সিদ্দিকা, কবি আসিফ ইকবাল, মো. মুজিবুর রহমান।

আলোচনা সভা শেষে অতিথি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট ও এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়।


১৮ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে হাহাকার, লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১২:৪৮:৪৩
১৮ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে হাহাকার, লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত
ছবি : সংগৃহীত

চৈত্রের তীব্র দাবদাহের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। তবে পর্যাপ্ত জ্বালানির অভাব এবং কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

চলতি মাসের শুরু থেকেই এই সংকট ঘনীভূত হতে হতে বর্তমানে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ এক হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) দৈনিক এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত পরিকল্পিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগীদের মতে, শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকোপ অনেক বেশি।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি পিএলসি (পিজিসিবি)-র তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিদ্যুতের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও চলতি গ্রীষ্মে সর্বোচ্চ চাহিদা হতে পারে ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট। বর্তমানে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা ১২ হাজার ২০৪ মেগাওয়াট হওয়া সত্ত্বেও গ্যাসের তীব্র সংকটে অর্ধেকের বেশি উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য দৈনিক অন্তত ১২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯৩ কোটি ঘনফুট। এর ওপর ভারতের আদানির একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে আরও ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত শনিবার সর্বোচ্চ চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি ছিল এক হাজার ৮০ মেগাওয়াট, যা রোববার কিছুটা কমে ৭৩৭ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে নতুন ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে এপ্রিল ও মে মাসে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত হলে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকার বিকল্প হিসেবে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরতা বাড়াতে চাইছে এবং সেখান থেকে ছয় হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকেও উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যদিও উচ্চ উৎপাদন খরচ এবং বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র মালিকদের প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার বকেয়া পাওনা মেটানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জ্বালানি তেলের সংকট ও বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সরকার ইতোমধ্যে কঠোর সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছে। দৈনিক প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আগামী তিন মাস দেশব্যাপী সব ধরনের আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি অফিস ও ব্যাংক সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিপণিবিতান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলেও এসব উদ্যোগ সংকট মোকাবিলায় কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে সংশয় রয়েছে।

/আশিক


ঢাকার কোন কোন এলাকার মার্কেট বন্ধ? জেনে নিন তালিকা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১০:২৯:৪২
ঢাকার কোন কোন এলাকার মার্কেট বন্ধ? জেনে নিন তালিকা
ছবি : সংগৃহীত

ব্যস্ত এই নগরীতে ট্রাফিক জ্যাম ঠেলে পছন্দের মার্কেটে গিয়ে যদি দেখেন সেটি বন্ধ, তবে বিরক্তির শেষ থাকে না। তাই ঘর থেকে বের হওয়ার আগেই জেনে নিন আজ সোমবার (৬ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর কোন কোন এলাকার দোকানপাট ও মার্কেটগুলো সাপ্তাহিক বন্ধ থাকবে।

সোমবার ঢাকার যেসব এলাকার মার্কেট বন্ধ

আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলা নগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী, মিরপুর-১০, ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর এলাকা। এছাড়া ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ডিওএইচএস, ওল্ড ডিওএইচএস, কাকলী, তেজগাঁও ওল্ড এয়ারপোর্ট এরিয়া, তেজগাঁও ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া এবং ক্যান্টনমেন্ট এলাকার দোকানপাট বন্ধ থাকবে। গুলশান-১, ২, বনানী, মহাখালী কমার্শিয়াল এরিয়া, নাখালপাড়া, মহাখালী ইন্টারসিটি বাস টার্মিনাল এরিয়া, রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের একাংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা, কমলাপুরের একাংশ, যাত্রাবাড়ীর একাংশ, শনির আখড়া, দনিয়া, রায়েরবাগ ও সানারপাড় এলাকার মার্কেটগুলোও আজ বন্ধ থাকবে।

অর্ধদিবস বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট

সোমবার দুপুর পর্যন্ত বা অর্ধদিবস বন্ধ থাকবে পল্লবী সুপার মার্কেট, মিরপুর বেনারসি পল্লী, ইব্রাহীমপুর বাজার, ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্স, বনানী সুপার মার্কেট, ডিসিসি মার্কেট গুলশান-১ ও ২, গুলশান পিংক সিটি, মোল্লা টাওয়ার, আল-আমিন সুপার মার্কেট, রামপুরা সুপার মার্কেট, মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, গোরান বাজার, আবেদিন টাওয়ার, ঢাকা শপিং সেন্টার, আয়েশা মোশারফ শপিং কমপ্লেক্স এবং মিতালী অ্যান্ড ফ্রেন্ড সুপার মার্কেট। কেনাকাটার পরিকল্পনা করার আগে এই তালিকাটি দেখে নিলে আপনার মূল্যবান সময় ও শ্রম বেঁচে যাবে।

/আশিক


কুমিল্লার দেবীদ্বার গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১৯:৪৮:৪৯
কুমিল্লার দেবীদ্বার গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার
এনসিপি নেতা তানজিম হাসান মেহেদী /ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লার দেবীদ্বারে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে তানজিম হাসান মেহেদী (২৫) নামের এনসিপির এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (৫ এপ্রিল) ভোরে তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গতকাল শনিবার দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে একই দিন রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ বাদী হয়ে এনসিপি নেতা মেহেদীকে অভিযুক্ত করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন।অভিযুক্ত মেহেদী ওই এলাকার মো. মজিবুর রহমানের ছেলে।ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পশ্চিম ফতেহাবাদ গ্রামের এক দম্পতি অভিযুক্তের বাড়িতে ভাড়ায় থাকতেন। স্বামী পেশায় অটোরিকশার চালক হওয়ায় দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকতেন এবং ওই সময়ে গৃহবধূ বাসায় একা থাকতেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে স্বামী কাজে বের হওয়ার পর গৃহবধূ রান্নার জন্য বাসার মালিকের ফ্রিজ থেকে পানি আনতে গেলে অভিযুক্ত মেহেদী তাকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।এ সময় ভুক্তভোগী প্রতিরোধ করে নিজেকে রক্ষা করেন এবং পরে স্বামীকে বিষয়টি জানান।ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা থানায় গড়ায়। পরে ভুক্তভোগী গৃহবধূ (১৮) বাদী হয়ে শনিবার রাতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে রবিবার ভোরে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে উপজেলা এনসিপি নেতা ও জেলা ছাত্র শক্তি নেতা কাজী নাসির বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। সে আমাদের সংগঠনের নেতা। যেহেতু আমাদের এনসিপি, যুবশক্তি, ছাত্রশক্তির আনুষ্ঠানিক উপজেলার কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি, তাই তানজিম হাসান মেহেদী কোনো পদ পদবির নেতা ছিলেন না। তবে ছাত্রশক্তিসহ যুবশক্তি ও এনসিপির সব কার্যক্রমে সামনের ফ্রন্টে থাকতেন।’

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে অন্য কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকায় বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

ট্যাগ: কুমিল্লা

সড়কে তরুণদের সবুজ উদ্যোগ মুরাদনগরে সড়কের দুই পাশে ২০০ বৃক্ষ রোপণ 

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১৮:১৬:৪১
সড়কে তরুণদের সবুজ উদ্যোগ মুরাদনগরে সড়কের দুই পাশে ২০০ বৃক্ষ রোপণ 
ছবি : সংগৃহীত

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাখরাবাদ–পান্নারপুল সড়কের পায়ব এলাকায় পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন একদল তরুণ। নিজেদের অর্থায়নে সড়কের দুই পাশে চেরি ফুলের গাছ রোপণ করে তারা গড়ে তুলছেন এক সবুজ ও মনোরম পরিবেশ।

সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে পায়ব গ্রামের ইমন রাজ, সজিব হোসেন, শাহীন, নয়ন ছগির ও মনির হোসেনসহ কয়েকজন তরুণ প্রায় ২০০টি সৌন্দর্যবর্ধক গাছ রোপণ করেন।তরুণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বায়ুদূষণ কমানো এবং সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করাই তাদের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। গাছগুলো সংগ্রহ থেকে শুরু করে রোপণ—সবকিছুই তারা নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে সম্পন্ন করেছেন।

ইমন রাজ বলেন, “সড়কের সৌন্দর্য বাড়াতে আমরা নার্সারি থেকে ২০০টি চেরি ফুলের গাছ সংগ্রহ করেছি। নিজেদের অর্থায়নে ও স্বেচ্ছাশ্রমে কাজটি করছি, যাতে পথচারীরা মনোরম পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকে।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

ট্যাগ: কুমিল্লা

কেনাকাটার আগে জানুন আজ কোন মার্কেট বন্ধ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ০৮:৫৮:৩৮
কেনাকাটার আগে জানুন আজ কোন মার্কেট বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনভিত্তিক বাজার ও বিপণিবিতানের সাপ্তাহিক ছুটির প্রচলন রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় রবিবারও রাজধানীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও জনপ্রিয় মার্কেট বন্ধ থাকে, যা কেনাকাটায় যাওয়ার আগে জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

আজ রবিবার রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আগারগাঁও, তালতলা, শেরেবাংলা নগর, শেওড়াপাড়া, কাজীপাড়া, পল্লবী এবং মিরপুর এলাকার একাধিক সেকশন যেমন মিরপুর-১০, ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর সেকশন।

এছাড়া ইব্রাহীমপুর, কচুক্ষেত, কাফরুল, মহাখালী, নিউ ও ওল্ড ডিওএইচএস, কাকলী এবং তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর এলাকা ও শিল্পাঞ্চলেও আজ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। একইভাবে গুলশান-১ ও ২, বনানী, মহাখালী বাণিজ্যিক এলাকা এবং নাখালপাড়াসহ আশপাশের অঞ্চলগুলোতেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সীমিত রয়েছে।

শহরের পূর্ব ও দক্ষিণাংশেও বন্ধ রয়েছে অনেক দোকানপাট। রামপুরা, বনশ্রী, খিলগাঁও, গোড়ান, মালিবাগের কিছু অংশ, বাসাবো, ধলপুর, সায়েদাবাদ, মাদারটেক, মুগদা এবং কমলাপুর ও যাত্রাবাড়ীর আংশিক এলাকাগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে। শনির আখড়া, দনিয়া ও রায়েরবাগ এলাকাতেও আজ সাপ্তাহিক ছুটি পালন করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, রাজধানীর বেশ কিছু পরিচিত মার্কেট ও শপিং কমপ্লেক্সও আজ বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিসিএস কম্পিউটার সিটি (আইডিবি), পল্লবী সুপার মার্কেট, মিরপুর বেনারসী পল্লী, ইব্রাহীমপুর বাজার, রজনীগন্ধা মার্কেট এবং ইউএই মৈত্রী কমপ্লেক্স।

এছাড়া বনানী সুপার মার্কেট, গুলশানের ডিসিসি মার্কেট (১ ও ২ নম্বর), গুলশান পিংক সিটি, মোল্লা টাওয়ার এবং আল-আমিন সুপার মার্কেটও আজ বন্ধ রয়েছে। একইভাবে রামপুরা ও মালিবাগ সুপার মার্কেট, তালতলা সিটি করপোরেশন মার্কেট, কমলাপুর স্টেডিয়াম মার্কেট এবং গোড়ান বাজারেও বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে।

শপিংপ্রেমীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট এলাকার মার্কেট বন্ধ থাকার কারণে পরিকল্পনা করে বের হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় অপ্রস্তুত অবস্থায় গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

-রাফসান


আজ কুমিল্লা দেশের সব পরীক্ষা নকলমুক্ত হবেই: শিক্ষামন্ত্রী   

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৯:৫০:১৫
আজ কুমিল্লা দেশের সব পরীক্ষা নকলমুক্ত হবেই: শিক্ষামন্ত্রী   
ছবি : মোঃ মাসুদ রানা

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নকলমুক্ত হয়। নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি যেহেতু শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছি, দেশের সব পরীক্ষা নকলমুক্ত হবেই। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে কুমিল্লা অঞ্চলের পরীক্ষা কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগামীতে নকলমুক্ত স্বচ্ছ পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সব শিক্ষককে এখনই প্রস্তুত হতে হবে। লেখাপড়ায় দুর্বল শিক্ষার্থীদের দিকে ভালোভাবে নজর দিতে হবে। তিনি বলেন, ব্যাঙের ছাতার মতো কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। এগুলোকে আইনের আওতায় আনা হবে। বেআইনিভাবে কোনো কোচিং সেন্টার চলবে না। আপনাদের চিহ্নিত করতে হবে কোন শিক্ষার্থী কোন বিষয়ে দুর্বল রয়েছে, সেভাবে শিক্ষকদের ব্যবস্থা নিতে হবে। আস্তে আস্তে কোচিং সেন্টার শতভাগ বন্ধ করতে হবে।এহসানুল হক মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে শিক্ষায় দায়িত্ব দিয়েছেন।

আমরা অনেক কাজ করেছি কিন্তু স্বপ্ন একটি- তারেক রহমানের আগামীর বাংলাদেশ গড়া। শিক্ষা মন্ত্রণালয় অন্য ১০টা মন্ত্রণালয়ের মতো না। এখানে যারা কাজ করছেন তারা সবাই সদকায়ে জারিয়া পাবেন। ১৯৭২ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত নকলে সহায়তা করেছিলেন শিক্ষকরা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল আমি নকলের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলাম। পরে আমরা সরে গেলাম আবার সেই একই অবস্থা। তার মানে যেভাবে সরকার চায়, আপনারা সেভাবে কাজ করবেন। এবার আমরা এসেছি, আর কোনো নকল চাই না। আপনাদেরকে অবশ্যই নকল বন্ধ করতে হবে। নকলের বিষয়ে জিরো টলারেন্স।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামসুল ইসলাম। এ সময় কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ: কুমিল্লা

বৈঠাকাটা ডিগ্রি কলেজে আধুনিক ভবনের নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন

ওয়ালিউল্লাহ রাইসুল
ওয়ালিউল্লাহ রাইসুল
নাজিরপুর প্রতিনিধি
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১৯:২৩:৩২
বৈঠাকাটা ডিগ্রি কলেজে আধুনিক ভবনের নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন
ছবি : ওয়ালিউল্লাহ রাইসুল

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শ্রেণিকক্ষ সংকট দূরীকরণের লক্ষ্যে বৈঠাকাটা ডিগ্রি কলেজে একটি আধুনিক ভবনের নির্মাণ কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে আয়োজিত এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কলেজের গভর্নিং বডির সম্মানিত সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব সাজিয়া শাহনাজ (তমা)-এর পরামর্শক্রমে এবং সম্মানিত সদস্য জনাব আব্দুস সালাম সাহেবের আন্তরিক সহযোগিতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বৈঠাকাটা ডিগ্রি কলেজের সাবেক বিদ্যোৎসাহী সদস্য জনাব মিজানুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত দাতা জনাব আব্দুস সালাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন গাউস, জনাব নান্না মিয়া, ইউপি সদস্য নজরুল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।বক্তারা বলেন, নতুন এই আধুনিক ভবন নির্মাণের ফলে কলেজের দীর্ঘদিনের শ্রেণিকক্ষ সংকট অনেকাংশে দূর হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আরও সুন্দর ও উন্নত পরিবেশে পাঠগ্রহণের সুযোগ পাবে।আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই মহৎ উদ্যোগ শিক্ষার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে—ইনশাআল্লাহ। একই সঙ্গে তারা এ উদ্যোগ সফলভাবে সম্পন্ন করতে সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।


বিচার বিভাগে ফিরছে পুরনো আমল! সংসদীয় কমিটির বড় সিদ্ধান্ত

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৪ ১২:৪৪:১৬
বিচার বিভাগে ফিরছে পুরনো আমল! সংসদীয় কমিটির বড় সিদ্ধান্ত
ছবি : সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি নিয়োগ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ রহিতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশের বিচার বিভাগ আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে, যা নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ আলাদা করার দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশোধন অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি।

এর ফলে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার দায়িত্ব পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে চলে যাচ্ছে এবং উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের একচ্ছত্র ক্ষমতা আবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে ফিরে যাচ্ছে। গত ১১ ডিসেম্বর বড় আয়োজনে উদ্বোধন করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়টি এখন বিলুপ্ত হওয়ার পথে। এই সিদ্ধান্তের ফলে আইনজীবীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকার নিয়েছিল, তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে গেল। অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করতে গঠিত বিশেষ কমিটি গত বৃহস্পতিবার সংসদে এই প্রতিবেদন জমা দেয়, যার ফলে এই অধ্যাদেশগুলো আর আইনে পরিণত হচ্ছে না।

এই সিদ্ধান্তে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি অধ্যাদেশ তিনটি হুবহু বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করে আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে। আইনজীবীরা বলছেন, সংবিধানে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগে আইন করার কথা থাকলেও এত বছরেও তা করা হয়নি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশটি কিছুটা অগ্রগতি ঘটিয়েছিল। এখন কেন এটি বাতিল করা হচ্ছে তা পরিষ্কার নয়। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির যে ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সচিবালয়কে দেওয়া হয়েছিল, তা পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে ফিরে আসায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আইন মন্ত্রণালয় যুক্তি দিয়েছে যে, পৃথক সচিবালয় হলে প্রধান বিচারপতি নিম্ন আদালতের বিচারকদের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের অধিকারী হবেন এবং সরকারের সঙ্গে কাজের সমন্বয় থাকবে না। তবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ্‌দীন মালিক মনে করেন, এই রহিতকরণের মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে বর্তমান সরকার বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা চায় না, যা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য অন্তরায়। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্ট বারের কিছু প্রতিনিধি অধ্যাদেশটি ত্রুটিপূর্ণ দাবি করে নতুন সুষম আইনের প্রত্যাশা করলেও, সার্বিকভাবে বিচার বিভাগের সংস্কার উদ্যোগ এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: