হরমুজ সংকট নিরসনে একটি শর্ত দিল ইরান 

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১৭:৩৮:৪৬
হরমুজ সংকট নিরসনে একটি শর্ত দিল ইরান 
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার উত্তেজনা এক নতুন মোড় নিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, চলমান যুদ্ধের ফলে তাদের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে না। রবিবার (৫ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের যোগাযোগ বিষয়ক উপ-প্রধান সাইয়্যেদ মেহদি তাবাতাবেয়ী এই কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, ট্রানজিট ফি বা যাতায়াত মাশুলের ওপর ভিত্তি করে একটি ‘নতুন আইনি কাঠামো’র মাধ্যমে এই ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করতে হবে।

একই সাথে তাবাতাবেয়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির কড়া সমালোচনা করেছেন। হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখাকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাকে ‘চরম হতাশা ও ক্ষোভ’ থেকে উদ্ভূত ‘আজেবাজে কথা’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ইরানের দাবি অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক এই জলপথটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন কোনো অর্থনৈতিক ও আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না।

এদিকে, ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে নিজের মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ অত্যন্ত আপত্তিকর ও বিব্রতকর শব্দ ব্যবহার করে একটি পোস্ট দিয়ে খোদ নিজ দেশেই তোপের মুখে পড়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে এই মন্তব্য নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। বিরোধী শিবিরের প্রভাবশালী সিনেটররা ট্রাম্পের এই মানসিক অবস্থাকে বিপজ্জনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এক বার্তায় ট্রাম্পকে ‘মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, যুদ্ধের এক মাস পার হওয়ার পর ইস্টার সানডের দিনে প্রেসিডেন্টের এমন প্রলাপ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি এই যুদ্ধ বন্ধে কংগ্রেসকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আরেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি ট্রাম্পের এই আচরণকে ‘সম্পূর্ণ উন্মাদনা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সদস্য হলে তিনি এই মুহূর্তে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে প্রেসিডেন্টকে অপসারণের বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করতেন। মারফির মতে, ট্রাম্পের নেওয়া সিদ্ধান্তের কারণে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি বজায় থাকলে আরও বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। দুই দেশের এই অনড় অবস্থান এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

সূত্র: দ্য ডন, দ্য ডেইলি সাবাহ


তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা, লক্ষ্যবস্তু বিশ্ববিদ্যালয়

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১১:৪০:০৪
তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা, লক্ষ্যবস্তু বিশ্ববিদ্যালয়
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে সোমবার (৬ এপ্রিল) ভোররাত থেকে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী। বিবিসি ফার্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের হামলায় সামরিক স্থাপনার পাশাপাশি তেহরানের স্বনামধন্য শরিফ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর সংলগ্ন একটি গ্যাস স্টেশনকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলার পর তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় আকাশ প্রচণ্ড ধোঁয়ায় ছেয়ে যেতে দেখা গেছে।

তেহরানের ৯ নম্বর জেলা কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গ্যাস স্টেশনে আঘাত হানার পর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরো শরিফ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরকার ইনফরমেশন টেকনোলজি সেন্টার ভবন এবং বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদও এই হামলার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। উল্লেখ্য, বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি এবং শহীদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ইরানের বেশ কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিকভাবে হামলার শিকার হচ্ছে।

রাজধানীর বাইরেও ইরানের অন্যান্য শহরে বড় ধরনের সামরিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। ভাহিদ অনলাইনের তথ্যমতে, রাত ১টার দিকে বোরোজের্দ শহরের ওপর দিয়ে নিচু উচ্চতায় বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান উড়ে যেতে দেখা গেছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় অন্তত পাঁচ গুণ বেশি ছিল। এছাড়া সোমবার সকালে শিরাজ ও কওম শহরেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। কওম প্রদেশের নিরাপত্তা পরিচালক জানিয়েছেন, শহরের একটি আবাসিক এলাকায় হামলা চালানো হয়েছে। উদ্ধারকাজে বিঘ্ন না ঘটাতে তিনি সাধারণ মানুষকে দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এদিকে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুঙ্কার দিয়েছেন যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চুক্তিতে না এলে ইরানের সবকিছু গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

যদিও ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তেহরানের সাথে আলোচনা চলছে এবং সোমবারের মধ্যেই একটি রফা হতে পারে, তবে ইরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের কোনো ধরনের আলোচনা বা যোগাযোগ হচ্ছে না।

/আশিক


যৌথ হামলায় নিহত ইরানি শীর্ষ কমান্ডার: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১১:৩৪:০০
যৌথ হামলায় নিহত ইরানি শীর্ষ কমান্ডার: উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের একজন শীর্ষস্থানীয় সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। নিহত এই কর্মকর্তার নাম ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসউদ জারেই। ইরানের বার্তা সংস্থা মেহেরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেনারেল জারেই শাহিন শহরে অবস্থিত দেশটির সেনাবাহিনীর এয়ার ডিফেন্স কলেজের প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। তাঁর মৃত্যু ইরানের সামরিক কাঠামোর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই যৌথ হামলা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নাজুক করে তুলেছে। এই ধারাবাহিক অভিযানে এ পর্যন্ত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ব্যাপক প্রাণহানি ও হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই হামলার পাল্টা জবাব দিতে ইরানও ব্যাপক সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েল ছাড়াও জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে মূলত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানের এই শক্ত অবস্থানের ফলে ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা বিদেশি সেনাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ইরান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চাপ তৈরির কৌশলও গ্রহণ করেছে। বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তেহরান। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তথ্যসূত্র: আনাদোলু


চিরতরে বদলে গেল হরমুজ প্রণালি! ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বন্ধ হচ্ছে পথ?

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৬ ১০:১০:৪৮
চিরতরে বদলে গেল হরমুজ প্রণালি! ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বন্ধ হচ্ছে পথ?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী কমান্ড রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) এক কঠোর বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য হরমুজ প্রণালি আর কখনও আগের অবস্থায় ফিরবে না। আইআরজিসি জানায়, কৌশলগত কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং বিদেশি আধিপত্যের যুগ এখন শেষ।

ইরান একটি নতুন ‘আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ গড়ে তুলছে, যেখানে উপসাগরীয় দেশগুলোই পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। এই অনড় অবস্থানের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান চুক্তিতে না এলে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে আরও স্পষ্ট করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, আগামী মঙ্গলবার ইরানে ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ এবং ‘ব্রিজ ডে’ (বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের দিন) হবে। তিনি মঙ্গলবার পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৮টায় একযোগে এসব হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে মার্কিন আল্টিমেটাম ও হুমকির মুখেও দমে যায়নি ইরান।

বৈশ্বিক তেল ও জ্বালানি পরিবহনের এই লাইফলাইনটিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পাশাপাশি তারা এখন এই প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর ‘ট্রানজিট ফি’ বা যাতায়াত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে। ইরান ও আমেরিকার এই মুখোমুখি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

/আশিক


এক রণাঙ্গনে লড়াই, তিন রণাঙ্গনে জয়! শহীদ ইমামের কালজয়ী সংগ্রামের মহাকাব্য

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ২০:২৪:৩৮
এক রণাঙ্গনে লড়াই, তিন রণাঙ্গনে জয়! শহীদ ইমামের কালজয়ী সংগ্রামের মহাকাব্য
ছবি : সংগৃহীত

শহীদ ইমাম মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের রণাঙ্গনে এক নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন এবং একটি রণাঙ্গনে লড়াই করে তিনি অন্য দুটি রণাঙ্গনেও বিজয়ী হয়েছেন। তাসনিম নিউজ এজেন্সির ‘ইমাম ও নেতৃত্ব’ গ্রুপের লেখক মেহেদী খোদাইয়ের এক বিশেষ প্রতিবেদনে আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনেয়ীর শাহাদাত পরবর্তী স্মৃতি ও তাঁর জীবনের সাফল্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। লেখক উল্লেখ করেছেন যে, এই শহীদ নেতা তাঁর দেখা সবচেয়ে সফল ব্যক্তি।

তাঁর জীবন, ব্যক্তিগত ও সামাজিক চরিত্রের দিকে তাকালে সাফল্যের তালিকাটি দীর্ঘ হবে, তবে তাঁর নেতৃত্বকালে যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে এটি বলা যায় যে, তিনি এক রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে তিন রণাঙ্গনে জয়ী হয়েছেন। শহীদ ইমামের বিপ্লবী সংগ্রামে তিনটি সমন্বিত ও আন্তঃসংযুক্ত রণাঙ্গন অন্তর্ভুক্ত ছিল: আত্ম-অহংকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম (শিরক ও আল্লাহর উপাসনার রণাঙ্গন), ইরানের অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের রণাঙ্গন এবং বৈশ্বিক ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামের রণাঙ্গন। এই তিনটিই মূলত ‘মিথ্যার বিরুদ্ধে সত্যের সংগ্রামের’ অন্তর্ভুক্ত।

প্রথম পর্যায়: আত্মসংগ্রাম, বহুঈশ্বরবাদ বর্জন এবং আল্লাহর বন্দেগি

হাজ্জ কাসিম রফিক খোসবাখতের উক্তি অনুযায়ী, যিনি শহীদের জীবনযাপন করেন, তিনিই শহীদ হন। আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনেয়ী আজীবন শহীদের জীবনযাপন করেছেন। তাঁর জীবনের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল শিরক বর্জন এবং আল্লাহর ইবাদতের পথে আত্মার সাথে অবিরাম সংগ্রাম। একেশ্বরবাদ ছিল তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু।

তিনি কঠোর সংযম ও সরলতার সর্বোচ্চ শিখরে জীবনযাপন করেছেন। তিনি কখনো কোনো পদ বা পদমর্যাদা খোঁজেননি, বরং দায়িত্বই তাঁর পিছু নিয়েছে। ইমাম খোমেইনি (রহ.)-এর মৃত্যুর পর শাসনব্যবস্থার নেতৃত্ব গ্রহণে তাঁর অনিচ্ছা থাকলেও বিশেষজ্ঞদের অনুরোধে ধর্মীয় ও বিপ্লবী কর্তব্যের খাতিরে তিনি তা গ্রহণ করেন। বর্তমানে তাঁর ন্যায়পরায়ণ উত্তরাধিকারী হিসেবে বিশেষজ্ঞরা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মুজতবা হোসেইনি খামেনেয়ীকে মনোনীত করেছেন।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় ফ্রন্ট: অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচার ও বৈশ্বিক ঔদ্ধত্যের সঙ্গে যুগপৎ সংগ্রাম

শহীদ ইমাম ১৯৬২ সাল থেকে অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচার ও বৈশ্বিক ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম শুরু করেছিলেন, ১৯৮৯ সালে দ্বিতীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরও তা অব্যাহত রাখেন। তাঁর নেতৃত্বে প্রজাতন্ত্র ও গণতন্ত্র রক্ষার মাধ্যমে দেশে পুনরায় স্বৈরাচারের ফেরার পথ রুদ্ধ হয়।

বিশেষ করে ১৩৭৬ ও ১৩৮৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি জনগণের ভোট ও নির্বাচনের ফলাফল রক্ষা করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তিনি জনগণের ভোটের অভিভাবক হিসেবে কাজ করেছেন এবং জনগণের অবস্থানকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন। তাঁর দৃষ্টিতে জনগণই ছিল দেশের নেতা ও ঐশ্বরিক নিদর্শন। এটি পাহলভী শাহদের মতো ক্ষমতালোভী স্বৈরশাসকদের সম্পূর্ণ বিপরীত, যারা ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে নিজের দেশের মানুষকে হত্যা করতে আমেরিকা ও ইসরায়েলের সহায়তা নিয়েছিল।

বৈশ্বিক ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে বিজয় ও বর্তমান পরিস্থিতি

অঞ্চল ও বিশ্বের সমসাময়িক ইতিহাস দেখিয়েছে যে, অধিকাংশ স্বৈরাচারী সরকারই ঔদ্ধত্যপূর্ণ শক্তিগুলোর ওপর নির্ভরশীল। ইমাম খোমেইনী (রহ.) যেমন আমেরিকান প্রভু ও পুতুল পাহলভী শাসকদের বিতাড়িত করেছিলেন, শহীদ ইমাম সেই অর্জনকে রক্ষা করতে জনগণকে সচেতন ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন করে তুলেছিলেন।

তিনি একদিকে বিশাল সামাজিক শক্তি তৈরি করেছেন এবং অন্যদিকে বৈজ্ঞানিক আন্দোলন ও সশস্ত্র বাহিনীকে সুসজ্জিত করেছেন। শত্রুদের কঠোর নিষেধাজ্ঞা, অন্তর্ঘাত এবং বিজ্ঞানীদের গুপ্তহত্যার ৪৭ বছরের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও আজ ইসলামী ইরান পশ্চিম এশীয় অঞ্চল থেকে আমেরিকাকে বিতাড়িত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

শহীদ ইমাম আল্লাহর ওপর ভরসা করে মিথ্যার বিরুদ্ধে এক যুদ্ধে তিনবার জয়ী হয়েছেন: প্রথমবার আত্মার কামনা-বাসনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যা তাঁকে শাহাদাতের যোগ্য করেছে, দ্বিতীয়বার অভ্যন্তরীণ স্বৈরাচার খণ্ডন ও বিতাড়নের ময়দানে এবং তৃতীয়বার পশ্চিম এশীয় অঞ্চল থেকে বৈশ্বিক ঔদ্ধত্য বিতাড়নের ময়দানে।

যদিও ১৪০৪ সালটি ইরানি জাতির জন্য অত্যন্ত কঠিন ছিল—কারণ তাদের ওপর দুটি সামরিক ও একটি নিরাপত্তা যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং তারা তাদের প্রিয় নেতাকে হারিয়েছিল—তথাপি আমেরিকা ও ইসরায়েলকে নতজানু করা এবং এই অঞ্চল থেকে তাদের বিতাড়িত করা হবে বছরের পর বছরের সংগ্রামের সেই পুরস্কার যা মহান আল্লাহ তাদের প্রদান করবেন।

সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি


রামাত হোভাভে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের হানা! জ্বলছে ইসরায়েলি শিল্পাঞ্চল

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১৯:০৪:৪০
রামাত হোভাভে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের হানা! জ্বলছে ইসরায়েলি শিল্পাঞ্চল
ছবি : সংগৃহীত

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ রামাত হোভাভ শিল্পাঞ্চলে তৃতীয়বারের মতো বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইডিএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দক্ষিণ ইসরায়েলের একটি শিল্প কারখানায় সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রটি। বীরশেবার দক্ষিণে অবস্থিত এই কৌশলগত শিল্পাঞ্চলে আঘাতের পরপরই উদ্ধারকারী দল এবং নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।

টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, এই নিয়ে রামাত হোভাভ শিল্পাঞ্চলটিতে তৃতীয়বারের মতো সফল হামলা চালাল তেহরান। ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর পুরো এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হচ্ছে এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

যদিও তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানা যায়নি, তবে একটি কারখানা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে ইরান ও ইসরায়েলের এই পাল্টাপাল্টি হামলা এখন এক চরম ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে, যার মূল লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও সামরিক অবকাঠামো।

/আশিক


ইরানের নতুন দফার হামলা শুরু! ইসরায়েলে বাজছে সাইরেন ও হাহাকার

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১৭:৪০:০৯
ইরানের নতুন দফার হামলা শুরু! ইসরায়েলে বাজছে সাইরেন ও হাহাকার
ছবি : সংগৃহীত

ইরান থেকে আবারও নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। রোববার (৫ এপ্রিল ২০২৬) এক জরুরি বার্তায় তারা জানায়, ইরানের দিক থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র এখন ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসছে।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে এবং ধেয়ে আসা এসব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটির সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে এবং জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বর্তমান সংঘাতের শুরু থেকেই ইরান কয়েক দফায় বা ‘ওয়েভ’ আকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার কৌশল নিয়েছে।

আজকের এই নতুন দফার হামলা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত ও যুদ্ধোন্মাদ করে তুলেছে। পেন্টাগন এবং আন্তর্জাতিক মহল এই হামলার গতিপ্রকৃতির ওপর কড়া নজর রাখছে।

সূত্র: আল জাজিরা


ইরানের কমান্ডোদের হানা! আকাশে গুঁড়িয়ে গেল মার্কিন সি-১৩০ বিমান

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১২:৫৯:১১
ইরানের কমান্ডোদের হানা! আকাশে গুঁড়িয়ে গেল মার্কিন সি-১৩০ বিমান
ছবি : সংগৃহীত

নিখোঁজ মার্কিন সেনার সন্ধানে নিয়োজিত একটি মার্কিন 'সি-১৩০' (C-130) পরিবহন বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) জানিয়েছে, ইরানের পুলিশের বিশেষ কমান্ডো ইউনিট 'ফারাজ রেঞ্জার্স' এই অভিযান পরিচালনা করে বিমানটি ধ্বংস করেছে। ইরান এই ঘটনাকে তাদের সার্বভৌমত্ব ও পবিত্র ভূমি রক্ষার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিমানটি সেই মুহূর্তে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ‘আগ্রাসনকারীদের’ জ্বালানি সরবরাহ কাজে নিয়োজিত ছিল। দেশটির পক্ষ থেকে একে পবিত্র মাতৃভূমিতে অনুপ্রবেশকারী অপশক্তির সহায়তা হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ওই এলাকায় নিখোঁজ মার্কিন সেনার সন্ধানে চলা বিশেষ অভিযানের মাঝেই এই ভূপাতিত করার দাবি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাকে নতুন এক চরম মাত্রায় নিয়ে গেছে।

এর আগে শুক্রবার একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার পর থেকেই ওই এলাকায় মার্কিন বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের আকাশসীমায় যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশের ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দিতে তারা বদ্ধপরিকর। পেন্টাগন এখনো নীরব থাকায় বিমানটিতে থাকা ক্রু সদস্যদের ভাগ্য নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

/আশিক


কুয়েতে ইরানের ‘ক্রিমিনাল আগ্রাসন’! জ্বালানি অবকাঠামোয় ভয়াবহ আঘাত

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১১:৩৫:৩৮
কুয়েতে ইরানের ‘ক্রিমিনাল আগ্রাসন’! জ্বালানি অবকাঠামোয় ভয়াবহ আঘাত
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ৩৭তম দিনে এসে উপসাগরীয় দেশ কুয়েতে ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। এই অব্যাহত হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎ ও পানি শোধনাগারে আগুন ধরে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কুয়েতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফাতিমা আব্বাস জোহর হায়াত বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ইরানের এই ড্রোন হামলায় কুয়েতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক দিন ধরে ইরান কুয়েতের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যা দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে।

মুখপাত্র ফাতিমা আব্বাস আরও জানান, কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো থাকায় যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান সেসব স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছিল। তবে সম্প্রতি বেসামরিক জ্বালানি খাতকে টার্গেট করায় তিনি এই আক্রমণকে ‘ক্রিমিনাল আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে এপ্রিলের শুরুতেই কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকারেও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল ইরান।

বর্তমানে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পাল্টা জবাব দিতে ইরান এখন পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলেই তার আক্রমণের পরিধি বাড়িয়ে চলেছে।

/আশিক


হামলা হলে ‘নরকের দ্বার’ খুলে যাবে! যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের চরম হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০৫ ১১:২১:০৪
হামলা হলে ‘নরকের দ্বার’ খুলে যাবে! যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের চরম হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইরানের কোনো অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে ‘নরকের দ্বার খুলে যাবে’। শনিবার (৪ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের প্রেসটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের কমান্ডার আলী আব্দোল্লাহি, যিনি ইরানের সেনাবাহিনী ও আইআরজিসি-র মধ্যে সমন্বয় করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকিকে ‘আগ্রাসী ও যুদ্ধোন্মাদ’ পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যেকোনো হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামোর ওপর ধ্বংসাত্মক ও ধারাবাহিক আঘাত হানা হবে। বর্তমানে ইরান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’ নামে পাল্টা সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, যার আওতায় শত শত ব্যালিস্টিক, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে, এই যুদ্ধে প্রথমবারের মতো মার্কিন সেনাদের হতাহতের আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মিডল ইস্ট আই-এর বরাতে জানা গেছে, যুদ্ধ শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং অন্তত ৩৬৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ২৪৭ জন সেনাসদস্য, ৬৩ জন নৌবাহিনীর নাবিক, ১৯ জন মেরিন কর্পস এবং ৩৬ জন বিমানবাহিনীর সদস্য রয়েছেন।

তবে একই দিনে দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় হতাহতদের সংখ্যা এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেনি পেন্টাগন। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন এক চরম রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির দিকে মোড় নিচ্ছে, যেখানে উভয় পক্ষই একে অপরের ওপর বিধ্বংসী আক্রমণের হুমকি দিচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: