ট্রাম্পের হুমকির পর যুদ্ধ থামাতে চীনের জরুরি আহ্বান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১৮:০৯:১৮
ট্রাম্পের হুমকির পর যুদ্ধ থামাতে চীনের জরুরি আহ্বান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে চীন, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে বড় শক্তিগুলোর অবস্থান সংঘাতের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। বরং এ ধরনের সংঘাত দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা বাড়িয়ে তোলে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত সামরিক অভিযান বন্ধ করে সংলাপে ফেরার আহ্বান জানান।

এই বক্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর ভাষায় হুমকি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে দেওয়া ভাষণে তিনি সতর্ক করেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। তার এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজিত করে তোলে।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পরপরই ইরানের সামরিক অপারেশনাল কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত সংঘাত অব্যাহত থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আরও তীব্র হামলার মুখোমুখি হতে হবে।

এদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ট্রাম্পের বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান দুই দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। বৃহস্পতিবার ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে অন্তত চারটি হামলার ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতির ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি বহুমাত্রিক আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যেখানে বড় শক্তিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততা বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোকেও প্রভাবিত করবে। বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কৌশলগত জলপথগুলো এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসতে পারে।

চীনের এই আহ্বান মূলত একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান, যা সংঘাত নিরসনে আলোচনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেয়। তবে বাস্তবতা হলো, মাঠের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

-রাফসান


জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১৪:২৪:২০
জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে, যেখানে এবার জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে ইরান। এই ঘটনার মাধ্যমে আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পার্বত্য অঞ্চলের আড়ালে থাকা একটি লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এটি জর্ডানের ভূখণ্ডে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। তবে ভিডিওটির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, যা ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।

এই হামলার প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া অপারেশন এপিক ফিউরি, যার আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। এই অভিযানের পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ওই অভিযানে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর আঘাত হানা হয়েছে, যার মধ্যে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এসব তথ্য স্বতন্ত্রভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবুও এই দাবি সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে।

কৌশলগতভাবে জর্ডান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির আকাশপথ ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে হামলা চালানো ইরানের সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গত কয়েক সপ্তাহে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি ছাড়াও বাহরাইন, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত একাধিক ঘাঁটি এই হামলার আওতায় এসেছে।

এর মধ্যে গত ২৭ মার্চের একটি হামলায় একটি মার্কিন নজরদারি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর আগেও জ্বালানি সরবরাহকারী কয়েকটি বিমান ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল, যা এই সংঘাতের ব্যাপ্তি ও কৌশলগত গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।

-রাফসান


ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন বর্ষণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১৩:০৫:৫৪
ইসরায়েলে হিজবুল্লাহর রকেট ও ড্রোন বর্ষণ
ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা লাভ করেছে, যেখানে স্থল অভিযানের জবাবে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে হিজবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া হামলায় সীমান্তবর্তী এলাকা ছাড়িয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও আঘাত হানা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি অধিকৃত অঞ্চলের গভীরে এবং সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় ব্যাপক রকেট ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে হাইফার নিকটবর্তী কিরিয়াত আতা এলাকায় সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে বড় আকারের রকেট বর্ষণ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহরে অগ্রসরমান ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর তারা অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক যুদ্ধকৌশল হিসেবে ড্রোন স্বার্ম ব্যবহার করে ইভেন মেনাখেম বসতিতেও আঘাত হানা হয়েছে। এর আগে ওই এলাকাটি সামরিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ তুলে বেসামরিকদের সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল।

সংগঠনটি জানিয়েছে, বুধবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানে তারা প্রায় ৬০টি সফল সামরিক অপারেশন পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের অত্যাধুনিক মেরকাভা ট্যাংক ধ্বংসের দাবি, সামরিক বিমানের বিরুদ্ধে সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার এবং দীর্ঘপাল্লার ট্যাকটিক্যাল মিসাইল হামলা।

এই হামলার বিস্তার শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকেনি; গাজার নিকটবর্তী আশদোদ শহর পর্যন্ত হামলার প্রভাব পৌঁছেছে বলে জানা গেছে, যেখানে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকেই মালকিয়া, মেতুলা এবং আইনাতা অঞ্চলে ইসরায়েলি সেনা সমাবেশকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে রকেট হামলা চালানো হয়েছে। বিশেষ করে জেনায়জেল ও ঘদামতা উচ্চভূমিতে সাঁজোয়া যান লক্ষ্য করে গোলন্দাজ আক্রমণের খবর পাওয়া গেছে।

সংবাদমাধ্যম আল মায়াদিন–এর বরাতে জানা যায়, এসব হামলায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। যদিও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবুও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী সংঘর্ষের তীব্রতা স্বীকার করেছে।

সূত্র: আল মায়াদিন


বিশ্বজুড়ে মহাযুদ্ধের দামামা! ট্রাম্পের হুমকির পর তেহরানের চরম আলটিমেটাম

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১২:৫২:০৮
বিশ্বজুড়ে মহাযুদ্ধের দামামা! ট্রাম্পের হুমকির পর তেহরানের চরম আলটিমেটাম
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুমকির পর ইরানও পাল্টা ‘চূর্ণবিচূর্ণ’ হামলা চালানোর অঙ্গীকার করেছে। ইরানের সামরিক অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পরাজয় এবং নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই লড়াই চলবে। তারা আরও কঠোর ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত থাকতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এর আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। তিনি দাবি করেন, গত চার সপ্তাহের যুদ্ধে ইরানের নৌ, বিমান ও ড্রোন সক্ষমতা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং তাদের শীর্ষ নেতাদের অনেকেই নিহত হয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর হামলা চালানো হবে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদেশ সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অন্যান্য দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

অন্যদিকে, ইরান এসব দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, তারা যেকোনো মার্কিন বা ইসরাইলি হামলার জবাবে আরও বড় আকারের পাল্টা আঘাত হানবে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য প্রায় অর্জিত এবং যুদ্ধ শেষের পথে, কিন্তু ইরানের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বরং বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল


৪৪ ঘণ্টার রেড অ্যালার্ট! ইরাকের মার্কিন দূতাবাস ঘিরে উত্তেজনার পারদ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১২:৪৭:৩৪
৪৪ ঘণ্টার রেড অ্যালার্ট! ইরাকের মার্কিন দূতাবাস ঘিরে উত্তেজনার পারদ
ছবি : সংগৃহীত

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভয়াবহ হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন দূতাবাস। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো বাগদাদের কেন্দ্রীয় এলাকায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে।

এই সতর্কবার্তায় মার্কিন নাগরিক, কূটনৈতিক স্থাপনা, বিশ্ববিদ্যালয়, বিমানবন্দর এবং জ্বালানি অবকাঠামোসহ যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট যেকোনো স্থানকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি এক মার্কিন সাংবাদিক অপহরণের ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠায় দেশটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, একই দিনে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও মহাকাশ গবেষণা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। ভাষণের শুরুতেই তিনি নাসার আর্টেমিস-II মিশনের সফল উৎক্ষেপণের প্রশংসা করেন। এরপর ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, গত এক মাসের লড়াইয়ে ইরানের নৌ ও বিমান শক্তি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা এখন নগণ্য।

ভাষণে ট্রাম্প ইসরায়েল ও উপসাগরীয় মিত্রদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সাফ জানিয়ে দেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। এছাড়া ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনাদের হাতে আটকের ঘটনাকে তিনি বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য এক বড় বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন।

কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর নেওয়া পদক্ষেপগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ‘সফল বিনিয়োগ’ এবং এর ফলে মার্কিন নাগরিকরা এখন অনেক বেশি নিরাপদ।

/আশিক


বিস্ফোরণে কাঁপছে বুরুন্ডি! সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১২:৪০:০৬
বিস্ফোরণে কাঁপছে বুরুন্ডি! সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ আগুন
ছবি : সংগৃহীত

পূর্ব আফ্রিকার দেশ বুরুন্ডির রাজধানী বুজুমবুরার উপকণ্ঠে মুসাগা এলাকায় একটি সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (AP) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ঘাঁটির একটি গোলাবারুদের গুদামে আগুন লাগার পর এই বিপর্যয় ঘটে। বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৫৭ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র গ্যাসপার্ড বারুতোজা জানান, গুদামে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়লে সেখানে থাকা বিস্ফোরক দ্রব্যে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে, যার শব্দ ও আগুনের লেলিহান শিখা বহুদূর থেকেও দেখা যাচ্ছিল। বিস্ফোরণের তীব্রতায় গোলাবারুদ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পালিয়ে যান। আহতদের মধ্যে তিনজন সেনাসদস্য রয়েছেন, তবে নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা অ্যালোইস এনডাইকেঙ্গুরুকিয়ে স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করে জানিয়েছেন, কেউ যেন ছড়িয়ে পড়া অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ বা সন্দেহজনক বস্তু স্পর্শ না করে এবং দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানায়। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা নয় বরং একটি দুর্ঘটনা। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আতঙ্কে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশুদের আপাতত বোহাঙ্গা ক্যাথোলিক প্যারিসে রাখা হয়েছে এবং অভিভাবকদের সেখানে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

/আশিক


যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১২:২৮:৩১
যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, যেখানে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান দখলদার ইসরায়েলের দিকে যুদ্ধ শুরুর পর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ইরান প্রায় ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চল। হামলার পরপরই তেল আবিবসহ শেফেলা অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ বিভিন্ন এলাকায় শোনা গেছে এবং কিছু জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্র বা তার ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যমে আরও দাবি করা হয়েছে, এই হামলায় একটি ক্ষেপণাস্ত্রে ‘ক্লাস্টার ওয়ারহেড’ ব্যবহার করা হতে পারে, যা আকাশে বিস্ফোরিত হয়ে একাধিক ক্ষুদ্র বোমা ছড়িয়ে দেয়। এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

অন্যদিকে পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ব্যাপক আকারে হামলা শুরু করেছে। এই হামলাকে ‘বিস্তৃত ও পরিকল্পিত সামরিক অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ইরানের ভেতরে চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, এসব হামলায় প্রায় ১ হাজার ৩৪০ জন নিহত হয়েছেন, যদিও এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের মধ্যে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি উঠেছে।

এই পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় ইরান শুধু ইসরায়েল নয়, বরং জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি থাকা দেশগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বিভিন্ন স্থানে অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

সূত্র:আনাদোলু এজেন্সি


ট্রাম্পের দাবি বনাম গোয়েন্দা তথ্য: ইরান কি সত্যিই আমেরিকায় হামলা করতে সক্ষম?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১২:০৭:৩৪
ট্রাম্পের দাবি বনাম গোয়েন্দা তথ্য: ইরান কি সত্যিই আমেরিকায় হামলা করতে সক্ষম?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে হামলার সক্ষমতা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক দাবি ঘিরে বিশ্বজুড়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অচিরেই ‘আমেরিকার মূল ভূখণ্ড, ইউরোপ এবং পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে’ আঘাত হানতে সক্ষম হবে। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, তেহরানের বর্তমান সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের এই দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ তাদের কাছে নেই।

ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেন, গত মাসে উপকূল থেকে ২ হাজার মাইল দূরে অবস্থিত একটি মার্কিন-ব্রিটিশ ঘাঁটিতে ইরানের হামলার চেষ্টা তাদের বর্ধিত সামরিক সক্ষমতারই বড় প্রমাণ। তিনি আরও বলেন, ‘ইরান যতটা সম্ভব দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে চেয়েছিল এবং তাদের কাছে এমন কিছু অস্ত্র ছিল যা কেউ বিশ্বাসই করতে পারেনি। আমরা সেগুলো সব ধ্বংস করে দিয়েছি।’ ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র যৌক্তিকতা প্রমাণের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানাচ্ছে, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার মতো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) তৈরির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। যদিও ইরানের কাছে স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল মজুদ রয়েছে যা মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের জন্য সরাসরি হুমকি, কিন্তু ৬ হাজার মাইলেরও বেশি দূরে অবস্থিত আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সক্ষমতা তাদের এখনো তৈরি হয়নি।

এমনকি ২০২৫ সালের একটি প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরানের এই সক্ষমতা অর্জন করতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ট্রাম্পের এই দাবি তাই তথ্যের চেয়ে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই বেশি আলোচিত হচ্ছে।

/আশিক


ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হতেই ইরানের মিসাইল তান্ডব! কাঁপছে ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ১০:১৪:৪৪
ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হতেই ইরানের মিসাইল তান্ডব! কাঁপছে ইসরায়েল
ছবি : সংগৃহীত

জাতির উদ্দেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ শেষ হতে না হতেই ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের বক্তব্য শেষ হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে।

এর আগে ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, যুদ্ধে ইরান তাদের নৌ ও বিমান শক্তির বিশাল অংশ হারিয়েছে এবং দেশটির শীর্ষ নেতাদের অনেকেই নিহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা এখন তলানিতে।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই ইরানের নতুন করে চালানো এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ভাষণে ট্রাম্প ইসরায়েল ও উপসাগরীয় মিত্রদের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সাফ জানিয়ে দেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।

ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন সেনারা দ্রুত আটক করতে সক্ষম হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া তাঁর প্রথম মেয়াদে কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার স্মৃতিচারণ করে তিনি ইরান যুদ্ধকে বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য একটি ‘সফল বিনিয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

ট্রাম্প দাবি করেন, এখন মার্কিন নাগরিকরা আর ইরানের পারমাণবিক আতঙ্কে নেই। তবে ওভাল অফিসে তাঁর এই আত্মবিশ্বাসী বক্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই ইরানের পাল্টা আক্রমণ যুদ্ধের মোড়কে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

/আশিক


“খুব শিগগির শেষ হবে যুদ্ধ”: ট্রাম্পের দাবি, ইরানে মার্কিন সামরিক লক্ষ্য প্রায় অর্জিত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০২ ০৯:১৭:০৯
“খুব শিগগির শেষ হবে যুদ্ধ”: ট্রাম্পের দাবি, ইরানে মার্কিন সামরিক লক্ষ্য প্রায় অর্জিত
জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পছবি: এএফপি

ওয়াশিংটন থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। প্রায় এক মাস ধরে চলা এই সংঘাতকে তিনি “দ্রুত, নির্ণায়ক এবং অভূতপূর্ব সামরিক সাফল্য” হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, খুব শিগগিরই এই অভিযান শেষ করা সম্ভব হবে।

হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া প্রায় ১৯ মিনিটের ভাষণের শুরুতে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ কর্মসূচির অংশ হিসেবে নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের সফল উৎক্ষেপণকে অভিনন্দন জানান এবং নভোচারীদের সাহসিকতার প্রশংসা করেন। এরপর তিনি সরাসরি ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গে এসে বলেন, “আমি আজ রাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, আমরা আমেরিকার সব সামরিক লক্ষ্য খুব শিগগির পূরণ করার পথে রয়েছি।”

তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা তিনি স্পষ্ট করেননি। যদিও এর আগে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধের একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সাম্প্রতিক বক্তব্যেও তিনি উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র “খুব দ্রুত কাজ শেষ করতে যাচ্ছে” এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি

ট্রাম্প তার ভাষণে দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে, বিমানবাহিনী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পিতভাবে ইরানের সামরিক অবকাঠামো, প্রতিরক্ষা শিল্প এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

তার ভাষ্যমতে, এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করা, তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা দেওয়ার ক্ষমতা ভেঙে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট করা।

‘শাসন পরিবর্তন’ বিতর্ক ও কৌশলগত অবস্থান

ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে “শাসন পরিবর্তন” ছিল না। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বড় অংশ নিহত হওয়ায় কার্যত একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। তার মতে, বর্তমান নেতৃত্ব পূর্বের তুলনায় “কম র‍্যাডিক্যাল” এবং আলোচনায় আগ্রহী।

এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে, কারণ এটি সরাসরি শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত না দিলেও বাস্তবে সেই ধরনের একটি ফলাফলকে স্বীকার করে নেয়।

মিত্রদের প্রশংসা ও আঞ্চলিক জোট

ভাষণে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তিনি ইসরায়েল, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং বাহরাইনের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, এই দেশগুলো “অসাধারণ কাজ করেছে” এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, ইরান যুদ্ধ এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের একক সামরিক অভিযান নয়, বরং একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক জোটের অংশ হয়ে উঠেছে।

পারমাণবিক হুমকি ও নিরাপত্তা যুক্তি

ট্রাম্প তার বক্তব্যে বারবার উল্লেখ করেন যে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব “বিপজ্জনক” এবং তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি অতীতের বিভিন্ন হামলার উদাহরণ তুলে ধরে ইরানকে “সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত” হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং বলেন, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল।

জ্বালানি রাজনীতি ও হরমুজ প্রসঙ্গ

ট্রাম্প তার ভাষণে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বার্তাও দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল নয় এবং হরমুজ প্রণালী রক্ষার দায়িত্ব সেই দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত, যারা এই নৌপথের ওপর নির্ভর করে।

তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধ শেষ হলে প্রাকৃতিকভাবেই হরমুজ প্রণালী খুলে যাবে এবং তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে। এই মন্তব্য বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশলগত অবস্থানকে তুলে ধরে, যেখানে ওয়াশিংটন নিজেকে সরাসরি নির্ভরশীলতার বাইরে রাখতে চায়।

ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গ ও বৈশ্বিক বার্তা

ভাষণে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনাও উল্লেখ করেন এবং এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি কৌশলগত সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক উন্নত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এটি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে।

এই অংশটি স্পষ্টভাবে দেখায় যে, ট্রাম্প তার পররাষ্ট্রনীতিকে একটি বৃহত্তর কৌশলগত কাঠামোর অংশ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন, যেখানে মধ্যপ্রাচ্য, লাতিন আমেরিকা এবং জ্বালানি রাজনীতি পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত।

যুদ্ধকে ‘বিনিয়োগ’ হিসেবে উপস্থাপন

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে ট্রাম্প যুদ্ধটিকে একটি “সফল বিনিয়োগ” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার মতে, এই সামরিক অভিযান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রে পরিণত করবে।

তিনি বলেন, এখন মার্কিন জনগণ আর ইরানের হামলার হুমকির মুখে নেই এবং দেশটি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্লেষণ: বিজয়ের বয়ান না কৌশলগত চাপ

ট্রাম্পের এই ভাষণ একদিকে একটি বিজয়ের বয়ান তুলে ধরে, অন্যদিকে এটি একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবেও কাজ করছে। একদিকে তিনি সামরিক সাফল্যের কথা বলছেন, অন্যদিকে সম্ভাব্য আরও হামলার হুমকি দিয়ে আলোচনায় চাপ তৈরি করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য মূলত দ্বিমুখী কৌশলের অংশ, যেখানে সামরিক চাপ এবং কূটনৈতিক আলোচনাকে একসঙ্গে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে নির্দিষ্ট শর্তে রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়।

সব মিলিয়ে ট্রাম্পের ভাষণ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে একটি নতুন পর্যায়ে নিয়ে গেছে, যেখানে সামরিক সাফল্যের দাবি, কূটনৈতিক চাপ এবং জ্বালানি রাজনীতি একসঙ্গে মিশে গেছে। তবে বাস্তবতা হলো, যুদ্ধের প্রকৃত ফলাফল এখনো অনিশ্চিত এবং এই সংঘাত কত দ্রুত শেষ হবে বা কোন দিকে মোড় নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বর্তমান পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, যুদ্ধের পাশাপাশি বয়ান এবং কৌশলগত অবস্থান নিয়েও লড়াই চলছে, যা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করতে পারে।

পাঠকের মতামত: