৩ সপ্তাহেই কি থামছে ইরান যুদ্ধ? হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্পের রহস্যময় বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ১০:০৭:০৩
৩ সপ্তাহেই কি থামছে ইরান যুদ্ধ? হোয়াইট হাউস থেকে ট্রাম্পের রহস্যময় বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাত এক মাস পেরিয়ে এক চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসীকে বড় কোনো বার্তার ইঙ্গিত দিয়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার (১ এপ্রিল) ইস্টার্ন টাইম রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা) হোয়াইট হাউস থেকে সরাসরি এই ভাষণ দেবেন তিনি। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভেট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত তথ্য দেশবাসীকে জানাতেই ট্রাম্পের এই বিশেষ আয়োজন।

এর আগে ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প কিছুটা রহস্যময় ও ইতিবাচক সুরেই কথা বলেছিলেন। তিনি দাবি করেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান শেষ হতে পারে এবং এমনকি তেহরানের সঙ্গে একটি ‘সম্ভাব্য চুক্তি’ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এক মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দুবাই বন্দরে তেলের ট্যাংকারে হামলা থেকে শুরু করে আকাশপথে পাল্টাপাল্টি ড্রোন বর্ষণে মধ্যপ্রাচ্য এখন এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরি।

বর্তমানে এই যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধের শুরুতেই ইরান এই জলপথটি বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে; বর্তমানে তারা কেবল নিজেদের মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে।

বিশ্ব জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এই প্রণালিটি পুনরায় উন্মুক্ত করা এখন ওয়াশিংটনের প্রধান মাথাব্যথার কারণ। ট্রাম্পের আজকের ভাষণে হরমুজ প্রণালি নিয়ে কোনো বিশেষ সামরিক অভিযান নাকি সমঝোতার ঘোষণা আসে, সেদিকেই এখন উৎকণ্ঠা নিয়ে তাকিয়ে আছে সারা বিশ্ব।

সূত্র : সিএনএন


কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, বড় ক্ষয়ক্ষতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ০৮:৪১:২১
কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা, বড় ক্ষয়ক্ষতি
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন করে জটিল আকার ধারণ করেছে, যেখানে উপসাগরীয় অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সরাসরি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে। সর্বশেষ ঘটনায় কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

কুয়েতের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আব্দুল্লাহ আল-রাজি জানিয়েছেন, হামলায় বিমানবন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকায় থাকা একটি ট্যাংকারকে লক্ষ্য করা হয়। এতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে জরুরি সেবার কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই ঘটনায় উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবুও এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এই ঘটনার পেছনে ইরান ও তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলা হয়েছে, যদিও তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার ধারাবাহিকতায় এটি একটি পাল্টা কৌশলগত হামলা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন স্বার্থ ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা শুরু করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইরানের অভিযোগ, উপসাগরীয় কিছু আরব দেশ তাদের বিমানবন্দর ও সামরিক স্থাপনাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কাজে ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে, যা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

এদিকে কুয়েতের পাশাপাশি বাহরাইনেও অনুরূপ হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোতে আগুন লেগেছে, যা ড্রোন হামলার ফল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কোন কোম্পানি বা স্থাপনাকে লক্ষ্য করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

এই ঘটনাগুলো এমন সময় ঘটছে, যখন ইরান ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছিল যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন কোম্পানি ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। ফলে এই হামলাগুলোকে সেই ঘোষণার বাস্তব প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা


মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে পুতিন-আল নাহিয়ানের আলোচনা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ০৮:১২:৫৬
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ নিয়ে পুতিন-আল নাহিয়ানের আলোচনা
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে, যেখানে রাশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত যৌথভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব টেলিফোনে কথা বলে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে সংঘাতের কারণে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতির বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।

দুই নেতা একমত পোষণ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আরও বিপন্ন হতে পারে। তাই যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং সংঘাতের অবসান ঘটানো জরুরি বলে তারা মত দেন।

তারা জোর দিয়ে বলেন, এই সংকটের সমাধান সামরিক পন্থায় নয়, বরং কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ন্যায়সংগত স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

সূত্র:আনাদুলু এজেন্সি


যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত ইরান, তবে শর্তে সমাধান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ০৮:০৭:২৫
যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত ইরান, তবে শর্তে সমাধান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, ইরান সংঘাত নিরসনে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করলেও ভবিষ্যতে একই ধরনের সামরিক আগ্রাসন বন্ধের জন্য সুস্পষ্ট ও কার্যকর নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা–এর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে তিনি উল্লেখ করেন, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানের সদিচ্ছা রয়েছে, তবে তা নির্ভর করছে কিছু মৌলিক শর্ত পূরণের ওপর। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কেবল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া কোনো সমঝোতা গ্রহণযোগ্য হবে না।

এই অবস্থান ইরানের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে তারা বারবার জোর দিয়ে বলেছে যে, ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর না করে কোনো শান্তি চুক্তি টেকসই হবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অবস্থানই আবারও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সম্ভাব্য স্থিতিশীলতার আশা তৈরি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শেয়ার সূচকগুলোর মধ্যে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ প্রায় ২.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪৯,১৬৪.৫৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে।

একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬,৫০৩.০৮ পয়েন্টে, যা বাজারে সামগ্রিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রযুক্তিনির্ভর নাসডাক কম্পোজিট সূচক সবচেয়ে বেশি উত্থান দেখিয়ে ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২১,৫৩৩.১৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগকারীদের আশাবাদকে নির্দেশ করে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমার সম্ভাবনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা কমলে আন্তর্জাতিক তেলবাজারেও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

-রাফসান


মোজতবা খামেনি কোথায়, যা জানা গেল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ০৭:৫০:০৩
মোজতবা খামেনি কোথায়, যা জানা গেল
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে পরিবর্তনের পর দেশটির নতুন নেতা মোজতবা খামেনি–কে ঘিরে রহস্য ও জল্পনা ক্রমেই তীব্রতর হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার জনসমক্ষে অনুপস্থিতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যা রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে সন্দেহ প্রকাশ করে দাবি করেছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির সামরিক হামলায় খামেনি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই হামলার পর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে বলে পশ্চিমা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

তবে তেহরান এই ধরনের দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করলেও খামেনির সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি। এই অস্পষ্টতাই আন্তর্জাতিক মহলে আরও জল্পনা সৃষ্টি করেছে।

এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়, রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে ভ্লাদিমির পুতিন–এর তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। এমনকি সেখান থেকেই তিনি ইরাকের জনগণের উদ্দেশে একটি কৃতজ্ঞতা বার্তা পাঠিয়েছেন বলেও কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এই প্রেক্ষাপটে তার সাম্প্রতিক বিবৃতিগুলো নিয়েও নতুন প্রশ্ন উঠেছে। ইরানের নববর্ষ নওরোজ উপলক্ষে দেওয়া তার প্রথম বক্তব্য এবং পরবর্তী বার্তাগুলো সরাসরি তার কণ্ঠে প্রকাশ না হয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে অন্য একজনের মাধ্যমে পাঠ করা হয়, যা তার অবস্থান ও শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে সংশয় আরও বাড়িয়ে তোলে।

তবে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ইরানে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সেই দেদভ এই জল্পনার অবসান ঘটানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, মোজতবা খামেনি ইরানের ভেতরেই অবস্থান করছেন এবং তার জনসমক্ষে না আসার পেছনে নিরাপত্তাজনিত যৌক্তিক কারণ রয়েছে।

দেদভের মতে, বর্তমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে সম্ভাব্য হামলা বা গোয়েন্দা নজরদারি থেকে সুরক্ষিত রাখাই প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ‘শত্রুপক্ষের নজর’ এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে থাকার কৌশলগত সিদ্ধান্তই তার অনুপস্থিতির মূল কারণ।

-রাফসান


মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিকে টার্গেটের হুমকি ইরানের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ০৭:০১:০৮
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিকে টার্গেটের হুমকি ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ইরানের এলিট সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস–এর সাম্প্রতিক হুমকি। সংস্থাটি জানিয়েছে, অঞ্চলে কার্যরত মার্কিন প্রযুক্তি ও তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে তারা এখন থেকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ–এর বরাতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইসিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) কোম্পানিগুলো লক্ষ্য নির্ধারণ, নজরদারি এবং সামরিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই এসব প্রতিষ্ঠানকে ‘বৈধ লক্ষ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অন্তত ১৫টির বেশি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য হামলার তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বোয়িং, টেসলা, মেটা, গুগল এবং অ্যাপল–এর মতো বৈশ্বিক কর্পোরেশনগুলো।

আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং এসব প্রতিষ্ঠানের আশপাশে অবস্থানরত সাধারণ মানুষকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুতরতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, যদি ইরানের কোনো উচ্চপর্যায়ের নেতাকে লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, তাহলে নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা চালানো হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রকৃতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে সামরিক ও রাষ্ট্রীয় লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি কর্পোরেট অবকাঠামোও সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। এটি বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া, এই ধরনের হুমকি আন্তর্জাতিক ব্যবসা, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং প্রযুক্তি অবকাঠামোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে কার্যরত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অপারেশনাল ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


যুদ্ধ থামতে পারে দ্রুত ও হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে: ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ০১ ০৬:৫১:৩৮
যুদ্ধ থামতে পারে দ্রুত ও হরমুজ প্রণালি খুলে যাবে: ট্রাম্প
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে নতুন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই একটি সমাপ্তির দিকে এগোতে পারে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে।

মার্কিন গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা আগের তুলনায় অনেকটাই কমে এসেছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি ইঙ্গিত দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র খুব বেশি সময় ওই অঞ্চলে অবস্থান করবে না এবং ধীরে ধীরে তাদের সামরিক উপস্থিতি সীমিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন যে, ইরানের অবশিষ্ট সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে নিষ্ক্রিয় করতে এখনো কিছু অপারেশনাল কাজ বাকি রয়েছে।

বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি–এর প্রসঙ্গে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই কৌশলগত জলপথ শিগগিরই পুনরায় উন্মুক্ত হতে পারে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

ট্রাম্পের মতে, যেসব দেশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল, তারাই নিজেদের স্বার্থে এটি পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিতে পারে। তিনি এমনও ইঙ্গিত দেন যে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে ইরান নিজেই আর এই রুট বন্ধ রাখার মতো অবস্থানে নেই।

তার বক্তব্যে আরও উঠে আসে, ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, দেশটির পক্ষে দীর্ঘমেয়াদে প্রতিরোধ বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। যদিও এই ধরনের দাবি আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ভিন্নমত সৃষ্টি করেছে, তবুও এটি যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।

আল: আল জাজিরা


চীনের ৫ দফা প্রস্তাব! ইরান যুদ্ধ থামাতে বেইজিং-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক চুক্তি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ২১:২৮:১৭
চীনের ৫ দফা প্রস্তাব! ইরান যুদ্ধ থামাতে বেইজিং-ইসলামাবাদ ঐতিহাসিক চুক্তি
ছবি : সংগৃহীত

রান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ৩২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশরের শান্তি আলোচনার উদ্যোগের পর এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে এশীয় পরাশক্তি চীন। বেইজিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর পারস্য উপসাগরে শান্তি পুনরুদ্ধারে একটি ‘পাঁচ দফা’ প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়েছে।

শান্তি পুনরুদ্ধারে চীন ও পাকিস্তানের ৫ দফা প্রস্তাব

১. যেকোনো মূল্যে বর্তমান যুদ্ধাবস্থা থামাতে হবে এবং এই সংঘাত যাতে অঞ্চলের অন্য দেশগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে, সেজন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

২. ইরানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা বজায় রেখে যত দ্রুত সম্ভব আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু করতে হবে। এই প্রক্রিয়া সফল করতে চীন ও পাকিস্তান সব পক্ষকে মধ্যস্থতায় সহায়তা করবে।

৩. সাধারণ মানুষ এবং অ-সামরিক স্থাপনা বা লক্ষ্যবস্তুর ওপর যেকোনো ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

৪.বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নৌ-চলাচল পথ নিরাপদ ও বাধাহীন রাখতে হবে।

৫. জাতিসংঘ সনদের মূলনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যাপকভিত্তিক শান্তি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এই শান্তি প্রস্তাব এমন এক সময়ে এল যখন ওদিকে ট্রাম্প প্রশাসন হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি না খুলেই যুদ্ধ শেষ করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। চীন ইরানের অন্যতম বড় অংশীদার হওয়ায় এবং পাকিস্তান ঐতিহাসিকভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায়, এই ‘পাঁচ দফা’ প্রস্তাবকে যুদ্ধের মোড় ঘোরানোর একটি বড় কূটনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বেইজিংয়ের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ ওয়াশিংটনের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা।


এবার ইরাকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা!

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৭:৫৪:০৫
এবার ইরাকে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলা!
ছবি : সংগৃহীত

ইরাকের ভূখণ্ডে এবার সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনী। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ভোরে ইরাকের সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থিত সংগঠন পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ইরাকের কৌশলগত বিভিন্ন অবস্থানে মার্কিন ও ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে।

পিএমএফ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জুর্ফ আল-নাসর এলাকায় তাদের ‘ব্রিগেড ৪৫’-এর ওপর তিনটি পৃথক বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরই পশ্চিম আনবার প্রদেশের কারমা এলাকায় ‘ব্রিগেড ৩১’-কে লক্ষ্য করে চতুর্থ হামলাটি পরিচালিত হয়। তবে অত্যন্ত শক্তিশালী এই আক্রমণ সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পিএমএফ মূলত ২০১৪ সালে আইএসআইএস জঙ্গিদের দমনে গঠিত হয়েছিল এবং ২০১৬ সাল থেকে এটি ইরাকের নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর একটি অংশ হিসেবে কাজ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই ইরাকের সরকারি বাহিনীর ওপর এই হামলা নতুন করে যুদ্ধের ডালপালা মেলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসকে লক্ষ্যবস্তু করার অর্থ হলো ওই অঞ্চলে ইরান-পন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্ত ঘাঁটিগুলো গুড়িয়ে দেওয়া। এই ঘটনার পর ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কড়া প্রতিক্রিয়া আসেনি, তবে মার্কিন-ইসরায়েলি এই আগ্রাসন পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথে চীন-পাকিস্তান জোট! হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের নাটকীয় পিছুটান?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ৩১ ১৭:৩১:৪৫
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথে চীন-পাকিস্তান জোট! হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের নাটকীয় পিছুটান?
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোলাজ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের পঞ্চম সপ্তাহে এসে এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সহযোগীদের বলেছেন যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকলেও তিনি এই যুদ্ধ শেষ করতে প্রস্তুত।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস বর্তমানে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে, শক্তি প্রয়োগ করে নৌপথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার অভিযান তাদের পূর্বনির্ধারিত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহের সময়সীমাকে ছাড়িয়ে যাবে। তাই ট্রাম্প এখন সরাসরি প্রণালি খোলার চেয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার এবং নৌবাহিনীকে পুরোপুরি বিধ্বস্ত করার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি মনে করছেন, সামরিকভাবে ইরানকে দুর্বল করার পর কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক চাপের মাধ্যমে পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি প্রায় অচল করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। 'গ্যাসবাডি'র তথ্যমতে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে গ্যাসোলিনের দাম গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আলোচনায় বড় অগ্রগতি হয়েছে, তবে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন—যদি অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি ‘ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত’ না করা হয় এবং কোনো শান্তি চুক্তি না হয়, তবে মার্কিন বাহিনী ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র, তেলকূপ এবং খার্গ দ্বীপ পুরোপুরি ধ্বংস (Obliterate) করে দেবে।

নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ধারাবাহিক হামলার ফলে তেহরানের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা ও আইআরজিসি (IRGC) কমান্ডার নিহত হওয়ায় ওয়াশিংটনের পক্ষে বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে কার্যকর কোনো আলোচনা বা চুক্তি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, এর ফলে তেহরান বড় কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা সমন্বয় করার ক্ষমতাও হারিয়েছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) বেইজিং সফরে গেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশহাক দার। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ‘অর্থবহ আলোচনা’ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে এবং উভয় পক্ষই পাকিস্তানের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছেন, বেইজিং ও ইসলামাবাদ এই পরিস্থিতিতে কৌশলগত যোগাযোগ আরও ‘শক্তিশালী’ করবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় যৌথভাবে কাজ করবে। চীন শুরু থেকেই যুদ্ধে তেহরানকে কোনো সামরিক সহায়তা না দিয়ে বরং বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: