জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় রাষ্ট্র পরিচালনার ঘোষণা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজনৈতিক ও সামাজিক চেতনা ধারণ করেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, এই গণআন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত অংশগ্রহণকারীদের জন্য পূর্বে ঘোষিত দায়মুক্তি বা ‘ইনডেমনিটি’ সরকার নীতিগতভাবে গ্রহণ ও বহাল রাখবে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের একটি বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকের আগে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, সরকার নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে জুলাই আন্দোলনের মূল দর্শন ও জনগণের প্রত্যাশাকে কেন্দ্রীয় গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, যেগুলো বর্তমান সংসদীয় কাঠামোর আওতায় পুনর্বিবেচনার জন্য উত্থাপিত হয়েছে। এই অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনা করে সংসদের বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ ও জনআকাঙ্ক্ষা যেন প্রতিফলিত হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে বলে তিনি জানান।
বিগত সরকারের সময় বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নামকরণে রাজনৈতিক প্রভাবের বিষয়টিও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে এসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিতর্কিত ও একপাক্ষিক রাজনৈতিক নামকরণ পরিবর্তনের বিষয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি রয়েছে, এবং সেই দাবিকে সামনে রেখেই কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই বিশেষ কমিটির বৈঠক কেবল আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া। এখানে রাষ্ট্রের বিভিন্ন আইনি ও প্রশাসনিক কাঠামোকে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চলছে।
এদিকে সংসদ ভবনে ইতোমধ্যে বিশেষ কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে, যেখানে সরকারি ও বিরোধী দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করছেন। এই বৈঠককে দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
-রফিক
স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ: নতুন যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা জোরদার এবং শ্রমবাজারের আধুনিকায়নসহ বহুমুখী ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্য জোট আরসিইপিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক সংগঠন আসিয়ানের সঙ্গে ঢাকার সম্পৃক্ততা বাড়াতে কুয়ালালামপুর পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সে দেশে সরকারি সফরকালে দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই তাঁর প্রথম মালয়েশিয়া যাত্রা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ নেতা পারস্পরিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা দলিল ও প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি বিনিময় সম্পন্ন হয়। বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই নেতৃত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে। এই সফরের অন্যতম প্রধান সাফল্য হলো প্রস্তাবিত মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এমবিএফটিএ) সংক্রান্ত আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের প্রতিশ্রুতি। উভয় পক্ষ ২০২৭ সালের মধ্যে এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
দুই দেশের শীর্ষ নেতা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি বর্তমানের চেয়ে আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বৈঠকে উল্লেখ করা হয় যে, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হলো বাংলাদেশ। এই বাণিজ্যিক সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে উভয় দেশের বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের নিয়ে নিয়মিত যোগাযোগের জন্য ‘মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল’ (জেবিসি) গঠনের অগ্রগতির প্রশংসা করা হয়। বৈঠকে মূলত টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি, অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দর ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা, হালাল পণ্য শিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর খাত এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিংসহ বিভিন্ন উদীয়মান খাতে যৌথ বিনিয়োগের বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিশ্বের বৃহত্তম আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য জোট আরসিইপি (রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ)-এ যোগদানের জন্য বাংলাদেশের যে আগ্রহ ও আবেদন রয়েছে, তার প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন দিয়েছে মালয়েশিয়া। বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে কুয়ালালামপুর জানিয়েছে, এই জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বা সাপ্লাই চেইনকে আরও মজবুত করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ এই জোরালো সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে সদস্যপদ লাভের জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে আসিয়ান জোটে বাংলাদেশের সম্পর্ককে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে কুয়ালালামপুর ঢাকার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
উভয় প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি এবং শ্রমবাজারের বিদ্যমান পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়। মালয়েশিয়ার জাতীয় অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের অবদানের কথা দুই নেতাই ইতিবাচকভাবে স্বীকার করেন। কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেওয়া নতুন প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে মালয়েশিয়া জানিয়েছে, তাদের বর্তমান অভ্যন্তরীণ কোটা নীতি অনুসরণ করে প্রতিটি আবেদন আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া বর্তমান সময়ের বাস্তবতা ও চাহিদা বিবেচনা করে দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান জনশক্তি সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) পরিমার্জন ও হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে একটি বিশেষ ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ (জেডব্লিউজি) গঠন করা হবে, যা সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে নির্ভরযোগ্য এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া তদারকি করবে।
আধুনিক প্রযুক্তি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ফিনটেক, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের মতো ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই লক্ষ্যে দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা সংস্থার মধ্যে প্রযুক্তি ও জ্ঞান আদান-প্রদানকে উৎসাহিত করা হবে। বাংলাদেশ তার হাইটেক পার্ক ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে মালয়েশীয় বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং ও টেস্টিং খাতে মালয়েশিয়ার যে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের প্রকৌশলবিদ্যার স্নাতকদের উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের হালাল খাতের প্রসারে মালয়েশিয়ার ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট বিভাগ (জাকিম) এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে যৌথ সনদ প্রদান, উদ্ভাবন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে।
উচ্চশিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা ও পর্যটন খাতের উন্নয়নেও দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষারত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কথা উল্লেখ করে দুই প্রধানমন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের অংশীদারিত্ব ও যৌথ গবেষণার পরিধি বাড়ানোর তাগিদ দেন। দুই দেশের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং শ্রমবাজারের উপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়নের বিষয়েও তারা একমত হন। এছাড়া মালয়েশিয়ার জাতীয় পর্যটন কর্মসূচি ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ এবং ‘মেডিকেল ট্যুরিজম ২০২৬’ এর আলোকেই দুই দেশের পর্যটন শিল্প ও সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়াতে যৌথ প্রচারণার বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করা হয়।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ সংক্রান্ত বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তিগুলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। বাংলাদেশ পক্ষ থেকে মালয়েশিয়ার সরকারি ও বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও অনাবিষ্কৃত খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বিনিয়োগের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেও দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সম্পূর্ণ কার্যকর করার অঙ্গীকার করা হয়। সামরিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের উদ্দেশ্যে খুব শীঘ্রই ‘প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ক যৌথ কমিটি’ (জেসিডিসি)-র বৈঠক আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, যৌথ সামরিক মহড়া এবং আন্তর্জাতিক মানবপাচার ও উগ্রবাদ দমনে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে দুই নেতা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এই সংকটের নিরাপদ ও স্থায়ী সমাধানের প্রতি তাদের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশও আসিয়ান, ওআইসি এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বিশ্বমঞ্চে রোহিঙ্গা ইস্যুতে মালয়েশিয়ার অবিচল অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধিকার রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশ আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে একযোগে কাজ করার এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সরকার ও প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের উষ্ণ আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
সূত্র: বাসস
মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মালয়েশিয়ায় সফল সফর শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। দালিয়ান হয়ে বেইজিংয়ে শুরু হবে তার চীন সফরের মূল আনুষ্ঠানিকতা।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রথমে চীনের দালিয়ানে পৌঁছাবেন। সেখানে তিনি দুই দিন অবস্থান করে বিশ্ব আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন। দালিয়ানের কর্মসূচি শেষে তিনি চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে যাবেন, যেখানে তার সরকারি সফরের মূল কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায় কমপ্লেক্সের এক্সক্লুসিভ ভিআইপি টার্মিনালে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান ও তার সহধর্মিণী। এ সময় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম এবং ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার চার মাস পর এটি তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। মালয়েশিয়ায় ২৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে সফর করলেও, চীন সফরে এই বহরে আরও একজন নতুন সদস্য যোগ দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
/আশিক
মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ নতুন সমীকরণ: পুত্রাজায়ার রুদ্ধদ্বার বৈঠক কি ঘুচাবে শ্রমবাজারের দীর্ঘদিনের সংকট?
মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে পুত্রাজায়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পারদানা পুত্রা’য় এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বাভাস মিলিয়ে এই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বড় ঘোষণা বা নতুন চুক্তির কথা সামনে না এলেও, এর ভেতরের বার্তা ছিল সুদূরপ্রসারী ও মানবিক। দুই দেশের শীর্ষ নেতাই মালয়েশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই শ্রমবাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং শ্রমিকদের হয়রানি-নির্যাতন বন্ধের বিষয়ে গভীর আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। বিশেষ করে, বছরের পর বছর ধরে চলে আসা মধ্যস্বত্বভোগী বা দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ ন্যায্য, সাশ্রয়ী ও দুর্নীতিমুক্ত করার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক লাভের জন্য শ্রমিকদের শোষণ ও দুর্ব্যবহার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটকে পড়া বাংলাদেশিদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের দাবি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করেছেন।
এই শীর্ষ বৈঠকটি কেবল আনুষ্ঠানিকতার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দুই দেশের পারিবারিক সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে পুত্রাজায়ায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তাঁর স্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল। একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় আলোচনার টেবিলে কেবল শ্রমবাজারই নয়, স্থান পেয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি এবং শিক্ষার মতো বহুমাত্রিক উদীয়মান খাতগুলো। দুই দেশের যৌথ সংবাদ সম্মেলন থেকে আসা এই জোরালো বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া এখন কেবল 'শ্রমিক আদান-প্রদানকারী' সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধি এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদী অংশীদার হিসেবে পথ চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার (২১ জুন) রাত পৌনে ৯টায় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ভিভিআইপি ফ্লাইটটি কুয়ালালামপুরের বুঙ্গা রায়া কমপ্লেক্স (Bunga Raya Complex) এক্সক্লুসিভ টার্মিনালে অবতরণ করে।
টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলকিফলি হাসান ও তার সহধর্মিণী। এ সময় ছোট শিশু মাইসা নুর আইশা প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়। বিমানবন্দরে আরও উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী ও ডেপুটি হাই কমিশনার মিস সাহানারা মনিকা। সুসজ্জিত বাহিনীর গার্ড অব অনার প্রদানের সময় দুই দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়।
বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে কুয়ালালামপুরের বিলাসবহুল ‘শাংগ্রি লা’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদল এই হোটেলেই অবস্থান করবেন। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর থেকে হোটেল পর্যন্ত ৫০ মিনিটের সড়ক পথ দুই দেশের জাতীয় পতাকায় সজ্জিত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর মালয়েশিয়ায় এটিই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর। তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম তাকে সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। দক্ষিণ এশিয়ায় চীন ও ভারতের পর মালয়েশিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সহযোগী দেশ বাংলাদেশ। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে মালয়েশিয়া এগিয়ে থাকলেও অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কারণে এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উচ্চপর্যায়ের সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা একেএম শামসুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম প্রমুখ।
সফরের মূল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে সোমবার (২২ জুন) সকালে পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা জানাবেন। এরপর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক এবং উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন। এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের পর্যটন ও সংস্কৃতিবিষয়ক সহযোগিতা জোরদারে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
/আশিক
নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: সারা দেশে পুলিশ ও র্যাবের সর্বোচ্চ সতর্কতা
আগামী ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের কর্মসূচি বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির চেষ্টা প্রতিহতের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। রোববার (২১ জুন) মোহাম্মদপুরে র্যাব-২ কার্যালয়ে ছিনতাইকারী গ্রেফতার সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র্যাব-২ এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন।
র্যাব অধিনায়ক স্পষ্ট করে বলেন, ২৩ তারিখকে ঘিরে কেউ যদি অস্ত্র নিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে, তবে তারা নিজেরাই বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে। র্যাব যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করবে এবং কাউকে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। দেশের প্রতিটি স্টেশনে ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত বার্তা পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে, নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে দলটির নেতাকর্মীদের নানামুখী ভার্চুয়াল ও গোপন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নাশকতা সৃষ্টির শঙ্কা এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদরদপ্তর দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। যেকোনো গোপন মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ বা অবৈধভাবে রাস্তা দখলের চেষ্টা ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সারা দেশে বিশেষ অবস্থানে রয়েছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখলেই নিকটস্থ থানা অথবা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
/আশিক
ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর ও বেইজিং—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেগা সফরে যা কিছু থাকছে
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২১ থেকে ২৬ জুনের এই দ্বৈত রাষ্ট্রীয় সফরটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক পরাশক্তি মালয়েশিয়া, অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম নিয়ন্ত্রক চীন। দুই দেশের এই শীর্ষ সফর কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাংলাদেশের বাণিজ্য বহুমুখীকরণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বহুপক্ষীয় জোটে নিজেদের অবস্থান পাকা করার একটি কৌশলগত মিশন।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম স্পষ্ট করেছেন যে, এই সফরে সরকারি অপচয় রোধে সফরসঙ্গীর সংখ্যা মাত্র ২৮ জনে সীমিত রাখা হয়েছে, যা বৈদেশিক সফরের ক্ষেত্রে একটি নতুন ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
মালয়েশিয়া মিশন (২১–২২ জুন): লক্ষ্য যখন শ্রমবাজার ও আসিয়ান
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে ২১ জুন (রোববার) দুপুরে কুয়ালালামপুর পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের বন্ধুপ্রতিম এই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক মূলত রেমিট্যান্স এবং জনশক্তি কেন্দ্রিক হলেও, এবারের সফরে এজেন্ডার পরিধি অনেক বিস্তৃত।
প্রধান এজেন্ডা ও কৌশলগত আলোচনা:
জি-টু-জি (G2G) কর্মী নিয়োগের গতি বৃদ্ধি: মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেট প্রথা দূর করে পরিচ্ছন্ন ও সাশ্রয়ী মূল্যে বিভিন্ন শিল্প খাতে (বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং ও কনস্ট্রাকশন) আরও বেশি নতুন বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
সেমিকন্ডাক্টর ও মাইক্রোচিপ শিল্পে অংশীদারিত্ব: মালয়েশিয়া বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং হাব। বাংলাদেশ তার হাই-টেক পার্কগুলোর উন্নয়নে মালয়েশিয়ার কারিগরি সহযোগিতা এবং যৌথ বিনিয়োগের আহ্বান জানাবে।
আসিয়ান (ASEAN) সদস্যপদ ও রোহিঙ্গা সংকট: ২০২৬ সাল নাগাদ আসিয়ানের কার্যকর অংশীদার হতে চায় বাংলাদেশ। জোটের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য মালয়েশিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চায়। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আসিয়ানের সক্রিয় ভূমিকা দাবি করা হবে।
হালাল অর্থনীতি ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য: বিশ্বজুড়ে মালয়েশিয়ার হালাল সার্টিফিকেশন (JAKIM) অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশের উদীয়মান খাদ্য ও ওষুধ শিল্পকে এই হালাল ইকোসিস্টেমে যুক্ত করার রোডম্যাপ তৈরি হবে।
চুক্তি ও দলিল সইয়ের সম্ভাবনা:
১. মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA): দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য শুল্ক কমাতে এফটিএ বা প্রিফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (PTA) এর প্রাথমিক খসড়া চূড়ান্ত হতে পারে।২. সাংস্কৃতিক বিনিময় প্রটোকল: পর্যটন ও দুই দেশের সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করতে একটি সমঝোতা স্মারক।
চীন মিশন (২৩–২৬ জুন): সামার দাভোস ও বেইজিংয়ের মেগা ডিল
২২ জুন রাতে মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি চীনের উইন্ডো সিটি বা বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। চীনের এই পাঁচ দিনের সফরটি মূলত দুটি ভাগে বিভক্ত—প্রথমটি ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) মঞ্চে বাংলাদেশের বৈশ্বিক নেতৃত্ব উপস্থাপন এবং দ্বিতীয়টি বেইজিংয়ে শীর্ষ নেতাদের সাথে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক বোঝাপড়া।
২৩ জুন ২০২৬
সকাল (WEF শীর্ষ বৈঠক): বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট এবং সিইও-র সাথে একান্ত বৈঠক। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব (4IR) এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের তরুণদের যুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা।
দুপুর (বহুপক্ষীয় কূটনীতি): সামার দাভোসে অংশ নেওয়া কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সাইডলাইন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।
বিকেল (মূল ভাষণ): 'ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং global ল্যান্ডস্কেপ' সেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখবেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য বৈশ্বিক তহবিল (Loss and Damage Fund) ছাড়ের দাবি তুলবেন তিনি।
সন্ধ্যা: চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং কর্তৃক আয়োজিত রাষ্ট্রীয় স্বাগত নৈশভোজে অংশগ্রহণ।
২৪ জুন ২০২৬
সকাল: 'ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল' প্রতিপাদ্যে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সভার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগদান।
দুপুর: চীনের দ্রুতগতির বুলেট ট্রেনে চেপে দালিয়ান থেকে বেইজিং যাত্রা। এর উদ্দেশ্য চীনের উন্নত যোগাযোগ অবকাঠামো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ। বেইজিংয়ে পৌঁছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে অবস্থান।
২৫ জুন ২০২৬
সকাল (অর্থনৈতিক কূটনীতি): চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (CPC) আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী এবং চীনের এক্সিম ব্যাংকের (Exim Bank) চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাদা বৈঠক। বাংলাদেশের বড় অবকাঠামো প্রকল্পে সহজ শর্তে ঋণ ও রেয়াত সময় (Grace Period) বৃদ্ধির প্রস্তাব।
দুপুর (বিনিয়োগ সম্মেলন): বিডা (BIDA) আয়োজিত 'বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম'-এ চীনের শীর্ষ ৫০০টি কোম্পানির নির্বাহীদের সামনে বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তুলে ধরে বক্তব্য।
বিকেল (আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক): গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক। দুই দেশের উপস্থিতিতে ১৫-১৭টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই।
২৬ জুন ২০২৬
সকাল: ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাউ লেজির সাথে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা।
দুপুর (মাস্টার স্ট্রোক বৈঠক): চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক। এই বৈঠকে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চীনা সহায়তার (Currency Swap) মতো স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
বিকেল: তিয়েনআনমেন স্কয়ারে বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ঢাকার উদ্দেশ্যে বেইজিং ত্যাগ।
বেইজিংয়ে কী কী চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (MoU) হতে যাচ্ছে?
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চীন সফরে ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রস্তুতি চলছে। এর বিন্যাস নিচে দেওয়া হলো:
১৩টি সমঝোতা স্মারক (MoU): যার মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল ইকোনমি, গ্রিন ডেভেলপমেন্ট, কৃষি প্রযুক্তি স্থানান্তর, এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা।
২টি মূল চুক্তি: অবকাঠামো নির্মাণ এবং বাণিজ্য সহজীকরণ সংক্রান্ত।
১টি কর্মপরিকল্পনা (Action Plan): আগামী ৫ বছরের জন্য চীন-বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদারিত্বের রোডম্যাপ।
১টি প্রটোকল: বাংলাদেশ থেকে নির্দিষ্ট কিছু কৃষিপণ্য (যেমন আম, চামড়া ও পাটজাত পণ্য) চীনে শুল্কমুক্ত রপ্তানির প্রটোকল।
বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অগ্রগতি ও বেসরকারি খাত
এই সফরের অন্যতম বড় ফোকাস হলো বাংলাদেশে প্রস্তাবিত "চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল" (Chinese Economic Zone)। আনোয়ারা বা পটুয়াখালীতে পরিকল্পিত এই বিশেষ জোনে চীনের হেভি ইন্ডাস্ট্রি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি (সোলার প্যানেল) এবং বৈদ্যুতিক যান (EV) প্রস্তুতকারকদের আনার জন্য চীনের বেসরকারি খাতের নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি গোলটেবিল বৈঠক করবেন।
দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক প্রভাব (Analyst View):
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভারসাম্য (Balancing Act) রক্ষার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি চীন ও মালয়েশিয়ার মতো পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করে বাংলাদেশ তার "সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়" ও "সবার আগে বাংলাদেশ" নীতিকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামে রাখা ৩ ইউনিয়নের নাম বদলের নির্দেশ সরকারের
বগুড়ার শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুই ছেলে ও পৈতৃক বাড়ির নামানুসারে গঠিত তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর স্থানীয় জনগণের মতামত এবং ভৌগোলিক ইতিহাসকে প্রাধান্য দিয়ে পুনরায় গণশুনানির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) বিকেলে এ সংক্রান্ত একটি দাপ্তরিক চিঠি পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ১১ ও ১৪ জুন প্রশাসনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলায় পাঁচটি ও আটটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়। এর মধ্যে প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক নামের সাথে মিল রেখে ‘মীরবাড়ী’, ‘সীমান্ত’, ‘দিগন্ত’ ও ‘স্বর্ণগ্রাম’ নামে চারটি ইউনিয়ন করা হলে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও প্রতিমন্ত্রীকে কৈফিয়ত দিতে হয়। এই বিতর্কের জেরে গত শুক্রবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি জেলা প্রশাসককে ফোন করে নাম পরিবর্তনের নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত চিঠি জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়।
সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে স্থানীয় জনগণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এলেও নতুন করে তৈরি হয়েছে আরেকটি বিতর্ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিমন্ত্রীর দুই ছেলে ও বাড়ির নামের তিনটি ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হলেও, প্রতিমন্ত্রীর ভাতিজি 'স্বর্ণা'র নামে গঠিত ‘স্বর্ণগ্রাম’ ইউনিয়নটি এখনো পরিবর্তনের তালিকার বাইরে রয়ে গেছে।
এদিকে ইউনিয়ন বিতর্ক ছাড়াও ৫৩ বছরের প্রাচীন ‘শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে প্রতিমন্ত্রীর নামে করার আরেকটি উদ্যোগ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। তবে শনিবার বিকেলে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সচিব আতিকুর রহমান আতিক জানান, কিছু সুবিধাবাদী চক্র স্বার্থসিদ্ধির জন্য প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহারের অপচেষ্টা করছিল। ফলে প্রতিমন্ত্রী নিজেই গত ১ জুন শিক্ষা সচিবকে আধা-সরকারি (ডিও) পত্র দিয়ে নিজের নামে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামকরণ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। ইউনিয়নের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত আসার পর তাকে নিয়ে আর কোনো সমালোচনা নেই বলে দাবি করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন গণশুনানি শেষে নতুন নাম চূড়ান্ত করে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
/আশিক
নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত হিসাব: কার বেতন কত বাড়ছে দেখে নিন (১ম-২০তম গ্রেড)
আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নবম পে-স্কেল নিয়ে গঠিত পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মূল বেতন (বেসিক) সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও, পে-স্কেল বাস্তবায়নের পর বর্তমানে চালু থাকা ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বিশেষ সুবিধাটি প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রেডভেদে বিশেষ সুবিধা প্রত্যাহারের ফলে চূড়ান্ত বেতন বৃদ্ধির হারে কিছুটা পার্থক্য আসবে। বর্তমানে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ১৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তারা ১০ শতাংশ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। এই সুবিধা প্রত্যাহার করায় ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল চালু হলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের প্রকৃত বেতন বাড়বে ৩৫ শতাংশ এবং ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের প্রকৃত বেতন বাড়বে মূল বেতনের ৪০ শতাংশ।
নিচে পে-কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বর্তমান বেতন, বিশেষ সুবিধা এবং প্রস্তাবিত নতুন মূল বেতনের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
১ম থেকে ৯গম গ্রেড (১০% বিশেষ সুবিধাভোগী)
১ম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৭৮,০০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট প্রাপ্তি ৮৫,৮০০ টাকা (সুবিধা ৭,৮০০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে ৫০% বৃদ্ধিতে মূল বেতন হবে ১,১৭,০০০ টাকা।
২য় গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৬৬,০০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ৭২,৬০০ টাকা (সুবিধা ৬,৬০০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ৯৯,০০০ টাকা।
৩য় গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৫৬,৫০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ৬২,১৫০ টাকা (সুবিধা ৫,৬৫০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ৮৪,৭৫০ টাকা।
৪র্থ গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৫০,০০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ৫৫,০০০ টাকা (সুবিধা ৫,০০০... টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ৭৫,০০০ টাকা।
৫ম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৪৩,০০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ৪৭,৩০০ টাকা (সুবিধা ৪,৩০০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ৬৪,৫০০ টাকা।
৬ষ্ঠ গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৩৫,৫০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ৩৯,০৫০ টাকা (সুবিধা ৩,৫৫০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ৫৩,২৫০ টাকা।
৭ম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ২৯,০০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ৩১,৯০০ tobacco টাকা (সুবিধা ২,৯০০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ৪৩,৫০০ টাকা।
৮ম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ২৩,০০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ২৫,৩০০ টাকা (সুবিধা ২,৩০০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ৩৪,৫০০ টাকা।
৯ম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ২২,০০০ টাকা। ১০% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ২৪,২০০ টাকা (সুবিধা ২,২০০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ৩৩,০০০ টাকা।
১০ম থেকে ২০তম গ্রেড (১৫% বিশেষ সুবিধাভোগী)
১০ম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ১৬,০০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১৮,৪০০ টাকা (সুবিধা ২,৪০০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে ৫০% বৃদ্ধিতে মূল বেতন হবে ২৪,০০০ টাকা।
১১তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ১২,৫০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১৪,৩৭৫ টাকা (সুবিধা ১,৮৭৫ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১৮,৭৫০ টাকা।
১২তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ১১,৩০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১২,৯৯৫ টাকা (সুবিধা ১,৬৯৫ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১৬,৯৫০ টাকা।
১৩তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ১১,০০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১২,৬৫০ টাকা (সুবিধা ১,৬৫০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১৬,৫০০ টাকা।
১৪তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ১০,২০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১১,৭৩০ টাকা (সুবিধা ১,৫৩০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১৫,৩০০ টাকা।
১৫তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৯,৭০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১১,১৫৫ টাকা (সুবিধা ১,৪৫৫ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১৪,৫৫০ টাকা।
১৬তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৯,৩০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১০,৬৯৫ টাকা (সুবিধা ১,৩৯৫ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১৩,৯৫০ টাকা।
১৭তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৯,০০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১০,৩৫০ টাকা (সুবিধা ১,৩৫০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১৩,৫০০ টাকা।
১৮তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৮,৮০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ১০,১২০ টাকা (সুবিধা ১,৩২০ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১৩,২০০ টাকা。
১৯তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৮,৫০০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ৯,৭৭৫ টাকা (সুবিধা ১,২৭৫ টাকা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১২,৭৫০ টাকা।
২০তম গ্রেড: বর্তমান মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা। ১৫% বিশেষ সুবিধাসহ মোট ৯,৪৮৭ টাকা ৫০ পয়সা (সুবিধা ১,২৩৭ টাকা ৫০ পয়সা)। নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন হবে ১২,৩৭৫ টাকা।
পে-কমিশনের এই সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে দেশের লাখ লাখ সরকারি চাকরিজীবী উপকৃত হবেন, যা তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
/আশিক
গোল্ডকাপ ফুটবলের ফাইনালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, খুদেদের সাথে ওড়ালেন জাতীয় পতাকা
দেশের প্রাথমিক শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট (বালক-বালিকা)’-এর চূড়ান্ত পর্বের জমকালো ফাইনাল ম্যাচ এবং খুদে ফুটবলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্য গ্যালারিতে বসে সরাসরি উপভোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেল চারটার দিকে প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে মাঠের খুদে খেলোয়াড় ও দর্শকদের মাঝে এক অভূতপূর্ব উদ্দীপনার সৃষ্টি করেন। স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর পর তিনি খুদে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং টুর্নামেন্টের সমাপনী আসরের সূচনা করেন।
সারা দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ধাপে ধাপে কঠোর ও দীর্ঘ বাছাই প্রক্রিয়া শেষে মোট চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার গৌরব অর্জন করে। মাঠের এই মহালড়াইকে কেন্দ্র করে স্টেডিয়াম জুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
টুর্নামেন্টের বালিকা ও বালক বিভাগের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের সূচি অনুযায়ী, বালিকা বিভাগের ফাইনালে ট্রফির লড়াইয়ে মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার আচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার জোরগাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুই অঞ্চলের খুদে বালিকাদের এই ম্যাচটিকে ঘিরে গ্যালারিতে ছিল টানটান উত্তেজনা।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে আসার আগেই বালক বিভাগের হাইভোল্টেজ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি সম্পন্ন হয়। বালক বিভাগের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাঠের ৯০ মিনিটের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই খেলায় দরিরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ১-০ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে ইতিমধ্যে টুর্নামেন্টের নতুন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বরিশালের দাড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
তৃণমূলের ফুটবলকে চাঙ্গা করতে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটি এবার রূপ নিয়েছিল ২২ লাখ শিক্ষার্থীর এক বিশাল মহাযজ্ঞে। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এই টুর্নামেন্টের নানাদিক ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিস্তারিতভাবে গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।
তিনি জানান, গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এই বিশাল ও ঐতিহাসিক ফুটবল প্রতিযোগিতায় দেশের মোট ৬৫ হাজার ৩৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১১ লাখের বেশি ছাত্র এবং ১১ লাখের বেশি ছাত্রী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছে।
উপদেষ্টা মাহদী আমিন আরও উল্লেখ করেন, একেবারে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা এবং বিভাগীয় ধাপ পেরিয়ে দীর্ঘ মেধা ও যোগ্যতার লড়াই শেষে সেরা দলগুলো ঢাকায় চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে উদীয়মান ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করার এই অনন্য উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। আগামী আসরে দেশের অন্তত ৫০ লাখ খুদে শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি দূরদর্শী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- আজ ২২ জুন: ১৯৮৬ সালের এই দিনেই ফুটবল বিশ্ব দেখেছিল ম্যারাডোনার ঈশ্বরের হাত
- পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক তোলপাড়: মমতাকে সরিয়ে তৃণমূলের নতুন চেয়ারম্যান অরূপ রায়
- সুইজারল্যান্ডে সফল বৈঠক: হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচলে রাজি ইরান
- স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ: নতুন যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন
- নাম না নিয়ে সংসদে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ চাইলেন বিএনপির সংসদ সদস্য
- আজ রাতে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা, মোবাইলে খেলা দেখবেন যেভাবে
- ঝটিকা সফরে পাকিস্তান যাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
- লাল-সবুজ খাতায় নাম রাখছি, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারক ও আইনজীবীদের হুমকি ইনুর
- ঝিনাইদহে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা: মাত্র ৭ কার্যদিবসে ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড
- তীব্র চাপের মুখে বিদায় নিলেন স্টারমার, কে হচ্ছেন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী
- মালয়েশিয়া সফর শেষে চীনের উদ্দেশে রওনা হলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- রেকর্ড ভেঙে স্বর্ণের নতুন লাফ: দুদিনের মাথায় দামের এই রেকর্ড লাফের পেছনের রহস্য কী?
- মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ নতুন সমীকরণ: পুত্রাজায়ার রুদ্ধদ্বার বৈঠক কি ঘুচাবে শ্রমবাজারের দীর্ঘদিনের সংকট?
- আর্জেন্টিনা নাকি অস্ট্রিয়া, কার জয়ের সম্ভাবনা কত? জানাল অপ্টা
- দেবিদ্বারে ইয়াবা সেবন: ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪ জনের ২ মাসের জেল
- মুরাদনগরে নিখোঁজ অটোরিকশাচালকের লাশ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১
- প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে অসত্য বক্তব্যের অভিযোগ, সংসদে মির্জা ফখরুল-নাহিদের বাগ্বিতণ্ডা
- এক হলুদ কার্ডেই ভাঙতে পারে বিশ্বকাপের স্বপ্ন; ফিফার নতুন টাইব্রেকার নিয়মে যা জানা গেল
- মার্কিন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পাল্টা জবাব? হরমুজ প্রণালিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন স্নায়ুযুদ্ধ
- সংসদ অধিবেশনে হঠাৎ উত্তাপ, হান্নান মাসুদের আচরণে ডেপুটি স্পিকারের কড়া হুঁশিয়ারি
- আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গুম করলাম: ট্রাইব্যুনালে সাবেক বডিগার্ডের চাঞ্চল্যকর সাক্ষ্য
- কুয়ালালামপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান
- মেসি বনাম নেইমার বিতর্ক: বার্সা তারকা ইয়ামালের চোখে কে সেরা, কে আদর্শ?
- রাশেদ খাঁনকে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ গরুর সাথে গল্পের পরামর্শ এমপি হানজালার
- মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমীকরণ: ট্রাম্প-নেতানিয়াহু জোটে ফাটল ধরাতে লেবাননকে অস্ত্র বানাচ্ছে ইরান
- নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: সারা দেশে পুলিশ ও র্যাবের সর্বোচ্চ সতর্কতা
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার পরমাণু আলোচনা সুইজারল্যান্ডে শুরু
- কাতারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: সিলেটের কানাইঘাটের ৫ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত
- নানিয়ারচরে সেনা অভিযানে ১৩ লাখ টাকার সেগুন কাঠ উদ্ধার
- ২১ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ২১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২১ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ইরান চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোপ
- ‘হরমুজ বন্ধ হলে মাসের পর মাস তেল পেতাম না’
- রোববার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ থাকবে
- সংসদ থেকে সচিবালয়, আজ যেসব কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ
- আজ কত দামে বিক্রি হচ্ছে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ
- স্পেন-সৌদি আরবসহ আজ বিশ্বকাপের বড় ছয় লড়াই, এক নজরে পূর্ণ সূচি
- আজকের নামাজের সময়সূচি জেনে নিন
- বিশ্বকাপে গোলযুদ্ধে ব্রাজিল-জার্মানির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
- হরমুজে টোল নিলে যুক্তরাষ্ট্রই আদায় করবে: ট্রাম্প
- শিক্ষকের মর্যাদা ও প্রশাসনিক সংস্কৃতির সীমারেখা
- সুইডেনের ইসাক নাকি ডাচ প্রাচীর ভ্যান ডাইক? বিশ্বকাপে আজ দুই লিভারপুল তারকার দ্বৈরথ
- ডিজিটাল স্বাক্ষরের পর এবার মাঠপর্যায়ের নজরদারি, সুইজারল্যান্ড যাচ্ছে ইরানি প্রতিনিধিদল
- অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কোয়ান্টাম কম্পিউটারের নির্মাণকাজ শুরু
- ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নয়, জ্লাতানের চোখে এবার বিশ্বকাপ জয়ের দাবিদার অন্য দল!
- হিজাব ছাড়া গান গাওয়ার অপরাধ: ইরানি গায়িকাসহ ৯ জনকে ৭৪ দোররা মারার নির্দেশ
- ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর ও বেইজিং—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেগা সফরে যা কিছু থাকছে
- প্রতিমন্ত্রীর ছেলেদের নামে রাখা ৩ ইউনিয়নের নাম বদলের নির্দেশ সরকারের
- অবসরের ১১ বছর পর ফুটবল মাঠে ফিরছেন কিংবদন্তি রোনালদিনহো
- শিক্ষকের মর্যাদা ও প্রশাসনিক সংস্কৃতির সীমারেখা
- আজকের খেলার সূচি: বিশ্বকাপ ফুটবল থেকে ওভাল টেস্ট
- ইরান চুক্তিতে ক্ষুব্ধ ইসরাইল, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তোপ
- হরমুজে টোল নিলে যুক্তরাষ্ট্রই আদায় করবে: ট্রাম্প
- বিশ্বকাপে গোলযুদ্ধে ব্রাজিল-জার্মানির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
- স্পেন-সৌদি আরবসহ আজ বিশ্বকাপের বড় ছয় লড়াই, এক নজরে পূর্ণ সূচি
- ১৭ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ১৬ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- সরকারি কর্মচারীদের জন্য যেসব সুবিধা বাড়ানো হয়েছে
- আজ মাঠে ফ্রান্স-আর্জেন্টিনা, জেনে নিন জমজমাট পূর্ণ সূচি
- ১৮ জুন ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ২১ জুন ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুর ও বেইজিং—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেগা সফরে যা কিছু থাকছে
- আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, দেখে নিন বিস্তারিত








