হাদি হত্যার আসামিদের দেশে আনতে পরিকল্পনার কথা জানালেন  আইজিপি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১২:৫২:১৭
হাদি হত্যার আসামিদের দেশে আনতে পরিকল্পনার কথা জানালেন  আইজিপি
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। ছবি: সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। সোমবার (৯ মার্চ) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের মিডিয়া সেন্টারে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত দুই আসামিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে উগ্রপন্থিদের পুনরুত্থান ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মহাসড়কগুলোতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঈদযাত্রার সময় ছিনতাই, ডাকাতি বা চাঁদাবাজির মতো অপরাধ যেন না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।

বেতন-ভাতা নিয়ে পোশাকশিল্প খাতে সম্ভাব্য শ্রমিক অসন্তোষের প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইজিপি। তিনি জানান, এ বিষয়ে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পেছনে কিছু সদস্য দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না। সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়েই পুলিশ বাহিনী পরিচালিত হবে।

আইজিপি আরও জানান, অপরাধ তদন্তকে আরও কার্যকর করতে সিআইডিকে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি থানাগুলোকে “জিরো কমপ্লেইন” ব্যবস্থায় রূপান্তর এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে থানায় ম্যাজিস্ট্রেসি সিস্টেম চালুর প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় জুমার নামাজ শেষে প্রচারণা চালানোর সময় মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তির গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে এবং তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। সম্প্রতি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

-রফিক


সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভাঙায় জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসানকে স্পিকারের সতর্কবার্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১৭:৪২:০৯
সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভাঙায় জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসানকে স্পিকারের সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে না পারায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংসদে দাঁড়িয়ে কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিশ্রুতি দেওয়ার আগে এর আনুষঙ্গিক ও কারিগরি বিষয়গুলো ভালোভাবে স্টাডি বা পর্যালোচনা করে নেওয়ার জন্য মন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আজ রবিবার (৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে আশুগঞ্জ সার কারখানায় (ফার্টিলাইজার) গ্যাস সরবরাহ নিয়ে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জেরে স্পিকার এই মন্তব্য ও নির্দেশনা দেন।

অধিবেশনে ফ্লোর নিয়ে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জ্বালানিমন্ত্রীর পূর্বের একটি প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মন্ত্রী এই মহান সংসদে দাঁড়িয়ে আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে, পহেলা মে’র মধ্যে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হবে। এরপরে আরও এক মাস তিন-চার দিন পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারে গ্যাসের সাপ্লাই আমরা পাইনি।’ এরপর তিনি আশুগঞ্জ সার কারখানায় কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে, মন্ত্রীর কাছে সেই সুনির্দিষ্ট জবাব চান। জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দেশে গ্যাসের তীব্র সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে জানান, বর্তমানে দেশে সার কারখানার চেয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘উনি বিদ্যুৎ চাচ্ছেন আবার উনার ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরিতেও গ্যাস চাচ্ছেন। গ্যাসের তো একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এজন্য আমাদের বিদ্যুৎ প্ল্যান্টগুলো চালিয়ে রাখতে হচ্ছে এবং সেই কারণে তার ওখানে আমরা সংযোগ দিতে পারছি না।’ মন্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘গত ১৭ বছরে কোনোদিন ড্রিলিং (খনন) করা হয়নি। আমরা এই প্রথম এসে ড্রিলিং শুরু করেছি এবং আশা করি ইনশাআল্লাহ আমরা গ্যাস পাব। গ্যাস পাওয়ার পরে আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজারের মতো কারখানায় আমরা সংযোগ দিতে পারব।’

মন্ত্রীর এমন আত্মপক্ষ সমর্থনের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিজেই হস্তক্ষেপ করেন এবং মন্ত্রীকে তার দেওয়া আগের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কিন্তু সংসদে বলেছিলেন এক তারিখ থেকে গ্যাস যাবে।

সেটি বোধহয় পাওয়া যায়নি।’ ভবিষ্যতে সংসদে যেকোনো সরকারি প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্পিকার বলেন, ‘সংসদে যে প্রতিশ্রুতি দেবেন, সেটা ড্রিলিং বা অন্যান্য যাবতীয় আনুষঙ্গিক বিষয় স্টাডি করে তারপরে সংসদে দেবেন।’ স্পিকারের এই কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকার পর সংসদ অধিবেশনে কিছুক্ষণের জন্য পিনপতন নীরবতা নেমে আসে।

/আশিক


ভারতের যেকোনো অবৈধ পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে সরকার প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১৭:৩৭:৪৫
ভারতের যেকোনো অবৈধ পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে সরকার প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পক্ষ থেকে যেকোনো ধরনের অবৈধ পুশ ইনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রবিবার (৭ জুন) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

আগামীকাল সোমবার (৮ জুন) থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হতে যাচ্ছে চার দিনব্যাপী বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ঐতিহ্যবাহী সীমান্ত বৈঠক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এই শীর্ষ বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং বিশেষ করে ভারতের পক্ষ থেকে অবৈধ পুশ ইনের বিষয়টি বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে টেবিল তুলবে।

নিয়ম অনুযায়ী এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি একবার বাংলাদেশে এবং পরেরবার ভারতে অনুষ্ঠিত হয়; এবার আয়োজক দেশ হিসেবে ভারতের পালায় দিল্লিতে এই বৈঠক বসছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, আমরা কূটনৈতিক চ্যানেলে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি এবং আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো পুশ ইন রুখে দিতে সরকার প্রস্তুত থাকলেও এসব সমস্যা প্রাথমিকভাবে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এবারের বৈঠকটি দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠনের পর এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর এটিই দুই দেশের প্রথম সীমান্ত বৈঠক। পশ্চিমবঙ্গে নতুন ক্ষমতায় আসা বিজেপি সরকার নথিপত্রবিহীন তথাকথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের লক্ষ্য করে ‘ডিটেক্ট, ডিলেট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ (শনাক্ত, মুছে ফেলা এবং বহিষ্কার) অভিযান শুরু করায় সীমান্ত পরিস্থিতি এমনিতেই উত্তপ্ত।

মূলত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই বৈঠকটি হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কারণে তা স্থগিত করা হয়েছিল। ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বিশাল সীমান্ত সুরক্ষায় বিএসএফের পক্ষ থেকেও সীমান্তপারের অপরাধ, বিএসএফের ওপর হামলা ও ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের মতো বিষয়গুলো বৈঠকে উত্থাপন করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

/আশিক


ফেসবুক-ইউটিউবের আয় থেকে আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কাটবে না ব্যাংক

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১২:৫৪:২৫
ফেসবুক-ইউটিউবের আয় থেকে আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে টাকা কাটবে না ব্যাংক
ছবি : সংগৃহীত

ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে দেশের ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উপার্জিত আয়ের ওপর থেকে ৭.৫০ শতাংশ উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় এই খাতকে করমুক্ত করার এ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতের পাঁচটি সুনির্দিষ্ট শাখায় ২ লাখ এবং ফ্রিল্যান্সিং বা কনটেন্ট ক্রিয়েশন খাতে আরও ৮ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি ছিল, এই কর মওকুফের সিদ্ধান্ত তারই অংশ।

ইশতেহারে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য শক্তিশালী নীতিমালা প্রণয়ন, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র স্থাপন, ই-ওয়ালেট সেবা চালু, ১০ বছরের কর সুবিধা, স্টার্টআপ তহবিল এবং উদ্যোক্তাদের জন্য ভর্তুকিযুক্ত ঋণের যে রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন ও আইসিটি খাতের উন্নয়নে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছে।

সাধারণত যারা বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্যবহুল, শিক্ষণীয় বা বিনোদনমূলক ছবি ও অডিও-ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব অ্যাডসেন্স, ফেসবুক মনিটাইজেশন কিংবা ব্র্যান্ড প্রমোশনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেন, আইনি পরিভাষায় তারাই কনটেন্ট ক্রিয়েটর। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী এতদিন তাদের অর্জিত অর্থ ব্যাংকে আসার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ৭.৫০ শতাংশ উৎসে কর কেটে রাখা হতো।

২০২৩ সালের আয়কর আইনে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, প্রান্তিক পর্যায়ের বা নিজস্ব অফিসবিহীন স্বাধীন ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সাররা এই করমুক্ত সুবিধার আওতায় পড়বেন। তবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক মিডিয়া অফিস তাদের বাণিজ্যিক পেজের আয়ের ওপর আগের নিয়মেই কর প্রদান করবে, কিন্তু সেই প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্মী ব্যক্তিগতভাবে ছোট আকারে আয় করলে তাকে আর কর দিতে হবে না। এনবিআরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, সাধারণ নাগরিকদের অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিতে এবং এই সৃজনশীল খাতকে উৎসাহিত করতেই এই যুগান্তকারী ছাড় দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পরপরই বেসরকারি খাতের শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠান ডাচ-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ওপর থেকে উৎসে কর কর্তন স্থগিতের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। গত শুক্রবার ব্যাংকটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ইতোমধ্যে যেসব ফ্রিল্যান্সারের অ্যাকাউন্ট থেকে এই কর বাবদ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে, তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ডাচ-বাংলা ব্যাংকের জনসংযোগ কর্মকর্তা সগীর আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, আইটি ফ্রিল্যান্সারদের আয়ের ওপর আগে থেকে চলে আসা সাড়ে ৭ শতাংশ উৎসে কর কর্তন বন্ধে ব্যাংক দ্রুত কাজ শুরু করেছে এবং আগের কাটা অর্থ রিফান্ড করার কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, শুধু আইসিটি খাতই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে নিত্যপণ্যের ওপর উৎসে কর ০.৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও জনস্বার্থে তা সম্পূর্ণ বাতিল করেছে সরকার। এ ছাড়া মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার ওপর আরোপিত বাড়তি কর, সম্পদ কর এবং উত্তরাধিকার করের প্রস্তাবনাগুলোও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

পাশাপাশি রপ্তানি প্রণোদনার ওপর প্রস্তাবিত বাড়তি করের সিদ্ধান্ত থেকে ইউটার্ন নিয়ে তা অর্ধেক করা এবং ব্যাংকের আবগারি শুল্কের ছাড়ের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা নির্ধারণসহ বেশ কিছু জনবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব অর্থনৈতিক সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান সরকার।

/আশিক


ফ্যাসিবাদী শাসন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে, এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সময়: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১২:৪৯:৫৭
ফ্যাসিবাদী শাসন শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করেছে, এখন ঘুরে দাঁড়ানোর সময়: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের জন্য আয়োজিত এক বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার (৭ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির পর্দা উন্মোচিত হয়। অনুষ্ঠানে ‘কর্মমুখী শিক্ষা নেব, বিশ্বজুড়ে কাজ করব’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দেশের উচ্চশিক্ষায় কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব তুলে ধরেন আমন্ত্রিত বক্তারা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের ফ্যাসিবাদী শাসন দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত ও ধ্বংস করে দিয়েছে। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এখন শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করার মাধ্যমে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২ হাজারের বেশি কলেজে ৪০ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে, যা দেশের সবচেয়ে বড় মানবসম্পদ ক্ষেত্র। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে উচ্চশিক্ষার প্রসার ও সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বলে তিনি স্মরণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, নেতৃত্ব, উপস্থাপনা দক্ষতা এবং আর্থিক সাক্ষরতার মতো আধুনিক বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামের অপরিহার্য অংশ হওয়া উচিত। একই সঙ্গে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োটেকনোলজি, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানো টেকনোলজি, থ্রিডি প্রিন্টিং এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতেও দেশের শিক্ষার্থীদের এখনই প্রস্তুত করতে হবে।

তিনি স্পষ্ট জানান, শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা নয়, বরং দক্ষতাভিত্তিক, কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। উচ্চশিক্ষাকে বাস্তবমুখী করতে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের (Industry) মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ বাধ্যতামূলক করার ওপরও তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

দেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করলেও প্রয়োজনীয় ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অভাবে অনেকেই বেকার থেকে যায়। এই জাতীয় সমস্যা সমাধানে সরকার দেশের প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় শিল্প-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কর্মদক্ষতা অর্জন করতে পারে। এ ছাড়া কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তরুণদের উদ্ভাবনী ব্যবসায়িক ধারণা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে ‘সিড ফান্ডিং’ (Seed Funding) বা ‘ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ প্রদান করা হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।

এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কেবল চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার সুযোগ তৈরি হবে। শেষাংশে শিক্ষকদের জ্ঞান, দক্ষতা, সততা ও অঙ্গীকারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষকরা শুধু পাঠদানকারী নন, তারা সমাজ পরিবর্তনের অগ্রদূত এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত রোল মডেল। একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়ার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

/আশিক


পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ঘাতক সোহেল ও তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১২:০৩:২৯
পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ঘাতক সোহেল ও তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ক্লুলেস ও রোমহর্ষক মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার উভয়কেই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ রবিবার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করা এই মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আদালত মূল ঘাতক সোহেল রানাকে ৫ লাখ টাকা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কসহ পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে এই রায় দেওয়া হলো, যা বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে দ্রুততম সময়ে রায় ঘোষণার একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত।

এর আগে, সকাল থেকেই এই রায় দেখাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। কড়া পুলিশি পাহারার পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের আদালত চত্বরে মোতায়েন করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আসামি স্বপ্না আক্তারকে এবং ৮টা ৫০ মিনিটে প্রিজনভ্যানে করে মূল কারাফটক থেকে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নিয়ে আসা হয়।

পরবর্তীতে এজলাসে তোলার আগে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় মাথায় হেলমেট এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ট্রাইব্যুনালে তোলা হয়। আদালত কক্ষে বিচারক আসামিদের উপস্থিতিতেই এই রায় পড়ে শোনান।

নথির বিবরণ অনুযায়ী, গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করে। এরপরের দিন ২ জুন মাত্র এক দিনেই মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন (৭ জুন) ধার্য করেছিলেন আদালত।

গত ১৯ মে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণের পর মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করে বালতিতে লুকিয়ে রাখার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। ঘটনার দিনই পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেলকে এবং ঘটনাস্থল থেকে তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছিল। আজ আদালতের এই সর্বোচ্চ সাজার রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবার এবং ক্ষুব্ধ দেশবাসী অবশেষে কাঙ্ক্ষিত বিচার পেল।

/আশিক


শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘিরে ঢাকা আদালত প্রাঙ্গণে তীব্র উত্তেজনা ও বিক্ষোভ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১১:৩৯:০০
শিশু রামিসা হত্যা মামলার রায় ঘিরে ঢাকা আদালত প্রাঙ্গণে তীব্র উত্তেজনা ও বিক্ষোভ
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার বর্বরোচিত মামলার রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে তীব্র উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আজ রবিবার (৭ জুন) সকালে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে জড়ো হওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

জনমনে ক্ষোভের পারদ এতটাই তুঙ্গে যে, ক্ষুব্ধ জনতার কেউ কেউ আসামিকে চিড়িয়াখানার বাঘের খাঁচায় ছেড়ে দেওয়া কিংবা আদালত প্রাঙ্গণের বটগাছে ঝুলিয়ে পাথর নিক্ষেপ করে জনসম্মুখে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার মতো কঠোরতম শাস্তির দাবিও জানান। এমন পৈশাচিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এবং আর কোনো মায়ের কোল যেন খালি না হয়, সে জন্য এক সপ্তাহের মধ্যে রায় কার্যকরের দাবি তুলেছেন সাধারণ মানুষ।

এর আগে, কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সকাল সাড়ে ৮টায় আসামি স্বপ্না আক্তারকে এবং ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে মূল হত্যাকারী সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পুরো আদালত প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আজ এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে। গত ১ জুন অভিযোগ গঠনের পর মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে (৪ জুন) রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত। ২ জুন মামলার ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয় এবং ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে।

মামলার এজাহারের লোমহর্ষক বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার ঘর থেকে বের হলে কৌশলে তাকে নিজেদের বাসায় ডেকে নেন প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার। এর কিছুক্ষণ পর রামিসার মা মেয়েকে খুঁজতে বের হয়ে সোহেল রানার দরজার সামনে মেয়ের জুতা দেখতে পান। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে শয়নকক্ষে প্রবেশ করতেই মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং একটি বালতির ভেতর বিচ্ছিন্ন মাথাটি দেখতে পান তারা।

পরবর্তীতে জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে আটক করে এবং ওই দিনই তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে পালিয়ে যাওয়া মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। এই নৃশংস ঘটনার পরদিন ২০ মে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির বীভৎস মরদেহের ছবি দেখে স্তম্ভিত পুরো দেশবাসী আজ এই আদালতের দিকে চাতকের মতো তাকিয়ে আছে।

/আশিক


রেকর্ড ১৭ দিনে বিচার শেষ: রায় ঘিরে ঢাকা আদালত প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৭ ১০:২১:০৪
রেকর্ড ১৭ দিনে বিচার শেষ: রায় ঘিরে ঢাকা আদালত প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার বহুল প্রতীক্ষিত রায় আজ রবিবার (৭ জুন) ঘোষণা করবেন আদালত। দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তোলা এই মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আজ সকালের দিকেই প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কড়া নিরাপত্তায় আদালত প্রাঙ্গণে নিয়ে আসা হয়েছে। মাত্র ১৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের মতো সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এই রায়ের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে ভুক্তভোগী পরিবারসহ পুরো দেশবাসী।

আইনি নথির সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। নৃশংস এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই গোটা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, প্রতিবাদ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি ওঠে। ঘটনার দিনই পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে এবং অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও হেফাজতে নেয়।

পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে ডিএনএ, ফরেনসিক আলামত এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দ্রুত সংগ্রহ করে মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে পুলিশ। যেখানে সোহেল রানার বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণ ও হত্যা এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে ও লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়।

ট্রাইব্যুনালে গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং মাত্র একদিনের ব্যবধানে (২ জুন) রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। এরপর ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতে দাবি করেন, ফরেনসিক ও পারিপার্শ্বিক সব তথ্যপ্রমাণ আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে, তাই তারা দুই আসামিরই সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড আশা করছেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োজিত আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহ মামলায় ডিএনএ রিপোর্টের অনুপস্থিতি ও সিসিটিভি ফুটেজ না থাকার অযুহাত দেখিয়ে খালাস প্রার্থনা করলেও, বিকল্প হিসেবে সোহেল রানার যাবজ্জীবন এবং স্বপ্নার সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজা দাবি করেন।

মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে একটি স্পর্শকাতর মামলার পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়াকে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন আইন সংশ্লিষ্টরা। রায় ঘোষণার আগের দিন গতকাল শনিবার এক গোলটেবিল বৈঠকে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা আকুতি জানিয়ে বলেন, তিনি কেবল তার কন্যাসন্তান হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচারই চান না, বরং এমন একটি কঠোর বিচারব্যবস্থা দেখতে চান যা ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে এমন নির্মমতার শিকার হতে দেবে না।

/আশিক


২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৩২

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১৭:০৯:৫৮
২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১০৩২
ছবি : সংগৃহীত

দেশে হাম এবং এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই সময়ে নতুন করে আরও এক হাজার ৩২জন শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আজ শনিবার (৬ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে আজ শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় মৃত তিন শিশুর মধ্যে দুজন ঢাকার এবং একজন সিলেট অঞ্চলের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে হামের উপসর্গে ৫২২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর বাইরে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ৯১ জন শিশু। সব মিলিয়ে গত আড়াই মাসে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬১৩ জনে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সর্বমোট ৭৭ হাজার ৭৯১ জন শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে শারীরিক জটিলতা বেশি থাকায় ৬৩,১৩৪ জন শিশুকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে আশার কথা হলো, চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত ৫৮,৯৬৪ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

এ ছাড়া সরকারি ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ৯,৬২০ জন শিশুর শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা হামের এই ভয়াবহ বিস্তার রোধে শিশুদের সময়মতো এমআর (হাম-রুবেলা) টিকাদান নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

/আশিক


বিদ্যুতের দাম বাড়লেও রেহাই পাচ্ছেন ৬৫ শতাংশ গ্রাহক: ডা. জাহেদ উর রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৬ ১১:৫৭:৪৮
বিদ্যুতের দাম বাড়লেও রেহাই পাচ্ছেন ৬৫ শতাংশ গ্রাহক: ডা. জাহেদ উর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বিদ্যুতের সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধির গ্যাঁড়াকল থেকে দেশের একটি বড় অংশের সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে বড় ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট (লাইফলাইন গ্রাহক) পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে বাড়তি কোনো দাম কার্যকর হবে না। আজ শনিবার (৬ জুন) সচিবালয়ে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই বিশেষ ছাড়ের কথা জানান।

উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সরকারের এই জনবান্ধব সিদ্ধান্তের ফলে দেশের প্রান্তিক নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত গ্রাহকেরা সরাসরি অর্থনৈতিক চাপ থেকে রক্ষা পাবেন। তিনি আরও বিশদ ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) গণশুনানি ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম সামগ্রিকভাবে বাড়ানো হলেও সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ গ্রাহকের ওপর এর কোনো প্রভাব পড়বে না, বরং তাদের জন্য আগের পুরনো রেটই বহাল থাকবে।

একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বিগত রাজনৈতিক আমলের কড়া সমালোচনা করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় মন্তব্য করেন, বিগত সরকারের আমলের লাগামহীন দুর্নীতি ও মানি লন্ডারিংসহ নানা আর্থিক অপরাধের বিশাল খেসারত ও বোঝা বর্তমান সরকারকে কাঁধে নিয়ে চলতে হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, "সরকার বর্তমানে কেবল দুর্নীতির এই দুষ্টচক্র থেকে দেশকে বের করে আনতেই লড়ছে না, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় নিরলস কাজ করছে।" তিনি আরও যোগ করেন, আগের সরকারগুলো সবসময় নিজেদের আখের গোছাতে আমদানি-নির্ভর নীতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। যদি তারা সময়মতো দীর্ঘমেয়াদী উৎপাদনমুখী নীতি গ্রহণ করত, তবে আজ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দেশের মানুষকে এই তীব্র সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো না।

/আশিক

পাঠকের মতামত: