ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় সেবকদের জন্য মাসিক সম্মানী চালু, পাবেন যত টাকা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১২:৪০:১১
ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় সেবকদের জন্য মাসিক সম্মানী চালু, পাবেন যত টাকা
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের মাসিক সম্মানী প্রদান শুরু করা হবে।

এই কর্মসূচির আওতায় শুধু মুসলিম ধর্মীয় নেতারাই নন, অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। প্রথম পর্যায়ে ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার এবং ৩৯৬টি গির্জার পুরোহিত, অধ্যক্ষ ও যাজকদেরও এই সম্মানী দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

রোববার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সভা শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। সভায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচি প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও আগামী চার অর্থবছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সারা দেশের সব মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার এবং গির্জাকে এর আওতায় আনা হবে।

মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, মাসিক সম্মানীর পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ভাতাও দেওয়া হবে। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে এক হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব যেমন দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা এবং বড়দিন উপলক্ষে দুই হাজার টাকা করে বিশেষ ভাতা প্রদান করা হবে।

চলতি অর্থবছরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫ মার্চের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে উপকারভোগীদের কাছে সম্মানীর অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে।

এছাড়া এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামী ১৪ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করবেন বলে জানা গেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হলে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

সম্মানীর কাঠামো অনুযায়ী মসজিদের ইমামরা মাসে পাঁচ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনরা তিন হাজার টাকা এবং খাদেমরা দুই হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

একইভাবে মন্দিরের পুরোহিতরা পাঁচ হাজার টাকা এবং সেবায়েতরা তিন হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন।

বৌদ্ধবিহারের ক্ষেত্রে অধ্যক্ষরা পাঁচ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষরা তিন হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। অন্যদিকে গির্জার যাজকরা পাঁচ হাজার এবং সহকারী যাজকরা তিন হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সেবায় তাদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা।

-শরিফুল


ঢাকার ৫টি বস্তিসহ দেশের ১৪ উপজেলায় পরীক্ষামূলক ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১১:৫৫:৩৯
ঢাকার ৫টি বস্তিসহ দেশের ১৪ উপজেলায় পরীক্ষামূলক ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু
ছবি : সংগৃহীত

আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে সারাদেশে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে 'ফ্যামিলি কার্ড' বিতরণের পরীক্ষামূলক বা পাইলট কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর কড়াইল বস্তি এলাকায় সুবিধাবঞ্চিত নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের দিনই সুবিধাভোগীদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে প্রথম মাসের আড়াই হাজার টাকা নগদ সহায়তা পৌঁছে যাবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে সরকারিভাবে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বগুড়ায় হওয়ার কথা থাকলেও পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে ঢাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই মেগা প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে তুলে ধরতে আজ সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাল্টিপারপাস হলে একটি সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের গুরুত্ব বিবেচনায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সুনামগঞ্জে উপস্থিত থেকে স্থানীয় পর্যায়ে এ কার্যক্রম তদারকি করবেন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে ১৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল, যারা কার্ডধারীদের তালিকা ও অর্থ বরাদ্দ তদারকি করছেন।

প্রাথমিকভাবে দেশের ১৪টি উপজেলার একটি করে ওয়ার্ডে এই পাইলট কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নির্ধারিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজধানীর কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর শাহ আলী বাগানবাড়ি এলাকা এবং আলিমিয়ার টেক বস্তি। ঢাকার বাইরে রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। প্রতিটি তালিকাভুক্ত পরিবার প্রতি মাসে সরকারের পক্ষ থেকে আড়াই হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়া সম্ভব হবে। পাইলট প্রকল্পের সাফল্য বিবেচনা করে পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি জেলায় এই কার্ড বিতরণের পরিকল্পনা রয়েছে। আজকের সংবাদ সম্মেলনে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে কার্ড পাওয়ার যোগ্যতা, আবেদনের প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত রূপরেখা প্রদান করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


কড়াইল বস্তি থেকে শুরু ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, আর যারা পাবে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১১:৫০:০৯
কড়াইল বস্তি থেকে শুরু ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, আর যারা পাবে
ছবি: সংগৃহীত

দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারকে সহায়তা দিতে দেশে নতুন সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ মার্চ) রাজধানীর কড়াইল এলাকা থেকে এই কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে বসবাসরত সুবিধাভোগী নারীদের হাতে কার্ড তুলে দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে কার্ডধারী পরিবারগুলোর মোবাইল ফোনে প্রথম মাসের নগদ সহায়তার অর্থও পাঠানো হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দরিদ্র পরিবারের জন্য একটি নিয়মিত আর্থিক সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। পাইলট পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাল্টিপারপাস হলে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন কাঠামো এবং সুবিধাভোগীদের নির্বাচনের পদ্ধতি তুলে ধরা হবে।

এই কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে সরকারের একাধিক মন্ত্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উপস্থিত থাকবেন। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সুনামগঞ্জে কর্মসূচির বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

প্রাথমিকভাবে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। রাজধানীর যেসব এলাকায় প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কড়াইল বস্তি, সাততলা বস্তি, ভাসানটেক বস্তি, মিরপুর সার্কেল বা শাহ আলীর ওয়ার্ড-৮, আলিমিয়ার টেক বস্তি (ওয়ার্ড-১৪) এবং বাগানবাড়ি বস্তি এলাকা।

ঢাকার বাইরে দেশের আরও কয়েকটি উপজেলায় এই কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে রাজবাড়ীর পাংশা, চট্টগ্রামের পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর, বান্দরবানের লামা, খুলনার খালিশপুর, ভোলার চরফ্যাশন, সুনামগঞ্জের দিরাই, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, বগুড়া সদর, নাটোরের লালপুর, ঠাকুরগাঁও সদর এবং দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পাইলট পর্যায়ে ১৪টি উপজেলার প্রতিটিতে একটি করে ওয়ার্ডে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। এই পর্যায়ের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতে কর্মসূচিটি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সম্প্রসারণ করা হতে পারে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি প্রকল্পের পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন এবং তদারকির দায়িত্ব পালন করবে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, নিম্নআয়ের পরিবারকে সরাসরি নগদ সহায়তা দেওয়ার এই ধরনের কর্মসূচি দারিদ্র্য কমানো, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ভোগব্যয় বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে তারা মনে করেন, এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য সুবিধাভোগী নির্বাচন, অর্থ বিতরণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

-রফিক


ঈদের ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন যেসব কর্মী ও সেবাখাত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১১:৩৪:৫২
ঈদের ছুটির আওতার বাইরে থাকবেন যেসব কর্মী ও সেবাখাত
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি ছুটির সময়সূচিতে নতুন সংযোজন করেছে সরকার। পূর্বনির্ধারিত ছুটির মাঝখানে ১৮ মার্চ (বুধবার) এক দিনের অতিরিক্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার (৮ মার্চ) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই দিনটিকে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, পবিত্র শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের ছুটির মধ্যবর্তী সময় হওয়ায় জনগণের সুবিধা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওই দিন দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

তবে জনসেবামূলক জরুরি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেবা এই ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু থাকবে। একইভাবে ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, নগর পরিচ্ছন্নতা সেবা এবং টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা অব্যাহত থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ডাক বিভাগের সেবা এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যবস্থাও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হবে। জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত যানবাহন ও কর্মীদেরও এই ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবার বিষয়েও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীরা তাদের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন। ফলে জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।

অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাংকগুলো খোলা রাখা বা সীমিত সেবা চালুর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আলাদা নির্দেশনা জারি করতে পারে।

আদালত কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হবে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানানো হয়েছে।

এছাড়া বেসরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কলকারখানার ক্ষেত্রে ছুটি ঘোষণার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোর ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। এ বিষয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় শ্রম আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মানুষের যাতায়াত সহজ করা এবং দীর্ঘ ছুটির মাধ্যমে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ সৃষ্টি করাই এই অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণার অন্যতম উদ্দেশ্য।

-রফিক


২৫শে মার্চ রাতে সারাদেশে প্রতীকী ব্ল্যাকআউট

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১০:৩২:৩১
২৫শে মার্চ রাতে সারাদেশে প্রতীকী ব্ল্যাকআউট
ছবি : সংগৃহীত

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতায় নিহত শহীদদের স্মরণে এবার সারাদেশে এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ২৫শে মার্চ রাত ১০টা থেকে ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত এই কর্মসূচি পালিত হবে। তবে জরুরি স্থাপনা বা কেপিআইভুক্ত এলাকাগুলো এই ব্ল্যাকআউটের আওতামুক্ত থাকবে। রোববার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস মর্যাদাপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

শোকাবহ পরিবেশ বজায় রাখতে ২৫শে মার্চ রাতে দেশের কোথাও কোনো আলোকসজ্জা করা যাবে না। এমনকি বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসেও আলোকসজ্জার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি এবং জেলা প্রশাসকদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গত ২৭শে জানুয়ারির সভার সিদ্ধান্তের আলোকে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়গুলো বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে সভায় জানানো হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ২৫শে মার্চের গণহত্যার সঠিক ইতিহাস শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে। এ ছাড়াও দুপুর ১২টা থেকে দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় গণহত্যা বিষয়ক তথ্যভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র ও দুর্লভ আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচি সফল করতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় ওইদিন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। ২৫শে মার্চ বাদ জোহর অথবা সুবিধাজনক সময়ে দেশের সব মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে এই প্রার্থনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি সফল করতে বিদ্যুৎ বিভাগ ও জেলা প্রশাসন প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জাতীয় ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই দুই দিবসকে ঘিরে সরকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর বলে সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

/আশিক


দেশে জ্বালানি রেশনিং শুরু: বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ০৯:৩৪:৫৬
দেশে জ্বালানি রেশনিং শুরু: বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও জেট ফুয়েলের দাম বৃদ্ধি
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় কঠোর অবস্থানে গেছে সরকার। জ্বালানি তেলের সাশ্রয় নিশ্চিত করা এবং অবৈধ মজুতদারি রুখতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল সরবরাহ সীমিত করাসহ ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বর্তমানে দেশে এক মাসের মজুত থাকলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ তেল ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।

জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সোমবার (৯ মার্চ) থেকে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েলের দাম লিটার প্রতি ১৭ টাকা ২৯ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। তবে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের মতো খুচরা জ্বালানির দাম এখনই বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় দাম না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কৌশল নির্ধারণ করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

বিপিসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে ডিপো থেকে ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেলের বরাদ্দ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। গ্রাহক পর্যায়েও তেলের রেশনিং শুরু হয়েছে, যেখানে মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং ব্যক্তিগত গাড়ি ১০ লিটার তেল নিতে পারবে। এছাড়া বড় যানবাহন যেমন দূরপাল্লার বাস বা ট্রাকের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেলের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কেনাকাটা ও আতঙ্কিত হয়ে তেল জমানোর প্রবণতা রোধে রাজধানীসহ সারাদেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান শুরু হয়েছে এবং অবৈধ মজুতের দায়ে বেশ কিছু পাম্পকে জরিমানার আওতায় আনা হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, নতুন তেলবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছানোয় মজুত বাড়তে শুরু করেছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির অনিশ্চয়তার কারণে রেশনিং ব্যবস্থা মেনে চলা অপরিহার্য। তিনি দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি ব্যবহার পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি কমাতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসন ও পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিদ্যমান মজুত দিয়ে দীর্ঘ সময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করা এবং আন্তর্জাতিক উৎস থেকে নতুন করে জ্বালানি সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

/আশিক


ঘরমুখো মানুষের স্বস্তি: টানা লম্বা ছুটির ক্যালেন্ডার প্রকাশ করল সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৯:৪০:০৬
ঘরমুখো মানুষের স্বস্তি: টানা লম্বা ছুটির ক্যালেন্ডার প্রকাশ করল সরকার
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন পবিত্র শবে কদর ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সুখবর দিয়েছে সরকার। নির্বাহী আদেশে ছুটি একদিন বাড়িয়ে রোববার (৮ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। সহকারী সচিব এ বি এম আবু বাকার ছিদ্দিক স্বাক্ষরিত এই পরিপত্র অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত ছুটির মধ্যবর্তী ১৮ মার্চ (বুধবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে শবে কদর ও ঈদের ছুটি মিলিয়ে টানা লম্বা বিরতি পেতে যাচ্ছেন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা।

ছুটির হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১৭ মার্চ পবিত্র শবে কদরের ছুটির পর ১৮ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা ছয় দিন ঈদের সাধারণ ছুটি থাকবে। ফলে ১৬ মার্চ হবে ঈদের আগে সরকারি চাকরিজীবীদের শেষ কর্মদিবস। এরপর ঈদের আমেজ কাটিয়ে ২৪ ও ২৫ মার্চ মাত্র দুদিন অফিস খোলা থাকবে। তবে এর পরপরই আবার ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের ছুটি এবং ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র-শনিবার) থাকায় মাসের শেষদিকেও টানা তিন দিনের ছুটির সুযোগ থাকছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে, কারণ টানা ছুটির ফলে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা অনেক বেশি সহজ ও আরামদায়ক হবে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই নির্বাহী আদেশের ছুটি দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি অফিসের জন্য কার্যকর হবে। তবে জরুরি সেবাসমূহ এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আলাদা নির্দেশনা জারি করতে পারে।

/আশিক


ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল মাসুদ ভারতে গ্রেপ্তার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৯:০৪:০৩
ওসমান হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল মাসুদ ভারতে গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। রোববার (৮ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) সদস্যরা বনগাঁ সীমান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করেন। ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে অনুপ্রবেশ এবং অবস্থানের অভিযোগে ফয়সাল করিম মাসুদ (ওরফে রাহুল) এবং আলমগীর হোসেন নামে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃতরা বাংলাদেশে আলোচিত রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সঙ্গে জড়িত এবং মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। দীর্ঘ দিন পলাতক থাকার পর তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে আত্মগোপন করার চেষ্টা করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ফয়সাল করিম মাসুদকে খুঁজছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভারতের পুলিশের এই সফল অভিযানের পর এখন তাকে আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে নিয়ে তাদের সাথে আর কেউ জড়িত আছে কি না বা ভারতে তাদের কোনো আশ্রয়দাতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে।

/আশিক


স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া ও নারী ক্ষমতায়নের কারিগর খালেদা: রাষ্ট্রপতি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৭:২৩:২৮
স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া ও নারী ক্ষমতায়নের কারিগর খালেদা: রাষ্ট্রপতি
ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করে নারী ক্ষমতায়নে তাঁর এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, জিয়াউর রহমান নারী ক্ষমতায়নের যে শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া সেটিকে আধুনিক ও সময়োপযোগী রূপ দিয়েছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে রাষ্ট্রপতির সচিবালয়ে প্রথম নারী বিষয়ক দপ্তর এবং ১৯৭৮ সালে পৃথক মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করার পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাকে আরও বেগবান করে এটিকে বর্তমান মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে রূপান্তর করেন।

অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বী করতে সরকারের নতুন উদ্যোগ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান, আগামী ১০ মার্চ থেকে এই কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে, যা তৃণমূল পর্যায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জিডিপিতে নারীর ১৬ শতাংশ অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ঘরে-বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। খালেদা জিয়ার পক্ষে এই পুরস্কারটি রাষ্ট্রপতির হাত থেকে গ্রহণ করেন তাঁর নাতনি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এ বছর মোট পাঁচটি ক্যাটাগরিতে পাঁচজন শ্রেষ্ঠ অদম্য নারীকে এই বিশেষ পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে।

/আশিক


স্বাধীনতা দিবসে দেশজুড়ে থাকবে না আলোকসজ্জা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৬:১৮:০৩
স্বাধীনতা দিবসে দেশজুড়ে থাকবে না আলোকসজ্জা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আসন্ন ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে দেশব্যাপী কোনো ধরনের আলোকসজ্জা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রোববার (৮ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে যে আলোকসজ্জা করা হয়, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সাশ্রয় এবং সম্ভাব্য সংকট এড়াতে এবার তা থেকে বিরত থাকার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর ও দেশবাসীর পূর্ণ সহযোগিতা কামনা করেছেন।

২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের পাশাপাশি ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালনের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। মন্ত্রী জানান, গণহত্যা দিবস অত্যন্ত যথাযথ মর্যাদা ও শোকাবহ পরিবেশে পালন করা হবে, যেখানে ধর্ম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মূল ভূমিকা পালন করবে এবং সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২৬ মার্চ ভোরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের পুষ্পমাল্য অর্পণ এবং যাতায়াত ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাধারণ মানুষের ঘরমুখো যাত্রা নিরাপদ ও ভোগান্তিহীন করতে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার।

শিল্পাঞ্চলগুলোতে ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে যাতে কোনো অস্থিরতা তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অধিকাংশ কারখানাই ঈদের আগে বেতন-বোনাস পরিশোধ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এই প্রক্রিয়া তদারকির জন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপিকে ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দেশজুড়ে আলোচিত 'মব জাস্টিস' বা গণপিটুনির মতো ঘটনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সব অপরাধকে মব সহিংসতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না। কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সরকার তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং বাংলাদেশ থেকে এই সংস্কৃতি চিরতরে বিলুপ্ত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: