ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় সেবকদের জন্য মাসিক সম্মানী চালু, পাবেন যত টাকা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১২:৪০:১১
ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় সেবকদের জন্য মাসিক সম্মানী চালু, পাবেন যত টাকা
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে দেশের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবদের মাসিক সম্মানী প্রদান শুরু করা হবে।

এই কর্মসূচির আওতায় শুধু মুসলিম ধর্মীয় নেতারাই নন, অন্যান্য ধর্মের উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। প্রথম পর্যায়ে ৯৯০টি মন্দির, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহার এবং ৩৯৬টি গির্জার পুরোহিত, অধ্যক্ষ ও যাজকদেরও এই সম্মানী দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

রোববার (৮ মার্চ) সচিবালয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক সভা শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। সভায় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচি প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হলেও আগামী চার অর্থবছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সারা দেশের সব মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধবিহার এবং গির্জাকে এর আওতায় আনা হবে।

মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, মাসিক সম্মানীর পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ভাতাও দেওয়া হবে। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে এক হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা দেওয়া হবে।

অন্যদিকে অন্যান্য ধর্মীয় উৎসব যেমন দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা এবং বড়দিন উপলক্ষে দুই হাজার টাকা করে বিশেষ ভাতা প্রদান করা হবে।

চলতি অর্থবছরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ২৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৫ মার্চের মধ্যে সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে উপকারভোগীদের কাছে সম্মানীর অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে।

এছাড়া এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন আগামী ১৪ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান করবেন বলে জানা গেছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে দেশের সব ধর্মীয় উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের এই কর্মসূচির আওতায় আনা হলে বার্ষিক ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

সম্মানীর কাঠামো অনুযায়ী মসজিদের ইমামরা মাসে পাঁচ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিনরা তিন হাজার টাকা এবং খাদেমরা দুই হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন।

একইভাবে মন্দিরের পুরোহিতরা পাঁচ হাজার টাকা এবং সেবায়েতরা তিন হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন।

বৌদ্ধবিহারের ক্ষেত্রে অধ্যক্ষরা পাঁচ হাজার টাকা এবং উপাধ্যক্ষরা তিন হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। অন্যদিকে গির্জার যাজকরা পাঁচ হাজার এবং সহকারী যাজকরা তিন হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন।

সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো দেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা এবং সামাজিক ও ধর্মীয় সেবায় তাদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা।

-শরিফুল


চীন, রাশিয়া ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ম্যানিলায় বাংলাদেশের বৈঠকের ঝড়

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ২১:০৪:২৩
চীন, রাশিয়া ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ম্যানিলায় বাংলাদেশের বৈঠকের ঝড়
ছবি : সংগৃহীত

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী (সেক্রেটারি অব স্টেট) মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলাদা আলাদা দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৈঠকগুলোতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান যে, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (সবার আগে বাংলাদেশ) নীতিই হবে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনার মূল দিকনির্দেশক।

বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের সাইডলাইনে এসব দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। পরবর্তীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগসহ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা বিস্তৃত ক্ষেত্র নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে বৈঠকে যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ-চীন সমন্বিত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব’ আরও এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়। এতে মিয়ানমারের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসন, মাল্টি-মোডাল ট্রান্সপোর্ট করিডোর, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ড. খলিলুর রহমানকে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন জানান। দুই দেশই যৌথভাবে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেয়।

একই দিন বিকেলে মার্কিন সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার নানা দিক নিয়ে কথা হয়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান মার্কো রুবিও-কে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

উল্লেখ্য, ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত ৩৩তম এআরএফ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন এবং ‘ট্রিটি অব অ্যামিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন সাউথইস্ট এশিয়া’-র ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

/আশিক


বেসরকারি হজে কত খরচ? প্রকাশ হলো ৩ প্যাকেজ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১২:৫১:৫৯
বেসরকারি হজে কত খরচ? প্রকাশ হলো ৩ প্যাকেজ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৭ সালের হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় তিনটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)। নতুন ঘোষণায় সর্বনিম্ন প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা, আর সর্বোচ্চ বিশেষ প্যাকেজের খরচ রাখা হয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার আনুষ্ঠানিকভাবে প্যাকেজগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন। এ সময় সংগঠনের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদারসহ হাবের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ঘোষিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী, সাধারণ হজযাত্রীদের জন্য নির্ধারিত সর্বনিম্ন প্যাকেজের খরচ ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকা। তুলনামূলক উন্নত সুবিধাসম্পন্ন দ্বিতীয় প্যাকেজের মূল্য রাখা হয়েছে ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮০ টাকা। অন্যদিকে উন্নত আবাসন ও অতিরিক্ত সেবাসুবিধা বিবেচনায় বিশেষ (স্পেশাল) হজ প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা।

হাব জানিয়েছে, সৌদি আরবে আবাসনের অবস্থান, সেবার মান, পরিবহন ব্যবস্থা, অবস্থানকাল এবং অন্যান্য লজিস্টিক সুবিধার ভিত্তিতে প্যাকেজগুলোর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোন প্যাকেজে কী ধরনের আবাসন ও অতিরিক্ত সুবিধা থাকবে, সে বিষয়ে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিগুলো বিস্তারিত তথ্য হজযাত্রীদের জানাবে।

এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৭ সালের হজের দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ প্যাকেজ-১-এর খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা এবং হজ প্যাকেজ-২ (সাশ্রয়ী)-এর মূল্য রাখা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা।

সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ঘোষিত প্যাকেজগুলোর মধ্যে খরচ ও সেবার ধরনে কিছু পার্থক্য থাকলেও উভয় ক্ষেত্রেই সৌদি আরবের নির্ধারিত হজ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুসরণ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগ্রহী হজযাত্রীরা নিজেদের আর্থিক সক্ষমতা, আবাসন সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় সেবার ধরন বিবেচনা করে প্যাকেজ নির্বাচন করতে পারবেন।

হজ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, হজ প্যাকেজ ঘোষণার পর নিবন্ধন, কিস্তি পরিশোধ, প্রশিক্ষণ, ভিসা প্রক্রিয়া এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমের সময়সূচি পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে। তাই হজে আগ্রহীদের সরকারি ঘোষণা এবং অনুমোদিত হজ এজেন্সির নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

-রাফসান


তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শুরু একনেক সভা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২২ ১১:১৩:২২
তারেক রহমানের সভাপতিত্বে শুরু একনেক সভা
ছবি : সংগৃহীত

দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সরকারি বিনিয়োগ কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী বৈঠক জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শুরু হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সভা শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উন্নয়ন প্রকল্প, চলমান কর্মসূচির অগ্রগতি, নতুন প্রকল্পের অনুমোদন এবং সরকারি বিনিয়োগসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

একনেক সভা দেশের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়। সাধারণত এসব বৈঠকে অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, স্থানীয় সরকার, পানি সম্পদ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য খাতের প্রকল্প অনুমোদন, সংশোধন বা ব্যয় বৃদ্ধি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

-রফিক


মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর, স্মৃতিতে আজও রক্তাক্ত ২১ জুলাই

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২১ ১০:১৬:৫৬
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর, স্মৃতিতে আজও রক্তাক্ত ২১ জুলাই
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো আজ, মঙ্গলবার (২১ জুলাই)। গত বছরের এই দিনটি মুহূর্তের মধ্যে একটি প্রাণবন্ত শিক্ষাঙ্গনকে পরিণত করেছিল ভয়াবহ বিপর্যয়ের স্থানে। এক বছরের ব্যবধানে সময় এগিয়ে গেলেও সেই দুর্ঘটনার স্মৃতি, হারানোর বেদনা এবং বেঁচে ফেরা মানুষের শারীরিক ও মানসিক ক্ষত এখনো রয়ে গেছে গভীরভাবে।

দুর্ঘটনায় বিমানটির পাইলট, একজন শিক্ষিকা এবং ২৮ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৩৬ জন প্রাণ হারান। এছাড়া বহু শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারী আহত হন। আহতদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর দগ্ধদের চিকিৎসা চলে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে। অনেকেই দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন, তবে তাদের শরীরে এখনো পোড়া ক্ষতের চিহ্ন এবং মনে সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি বহন করে চলেছেন।

ঘটনার পর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিশন গঠন করে। প্রায় তিন মাসের তদন্ত শেষে কমিশন ১৫০ জনের সাক্ষ্য, ১৬৮টি তথ্য-উপাত্ত এবং বিভিন্ন কারিগরি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। প্রতিবেদনে ৩৩ দফা সুপারিশ সংযুক্ত করে তা প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া হয়।

তদন্তে উল্লেখ করা হয়, প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের সময় সৃষ্ট কারিগরি ও উড্ডয়নজনিত জটিলতার কারণে পরিস্থিতি পাইলটের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এর ফলেই বিমানটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিধ্বস্ত হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে কমিশন ঢাকার বাইরে বিমানবাহিনীর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করে। পাশাপাশি বরিশাল ও বগুড়া বিমানঘাঁটির রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং প্রশিক্ষণ অবকাঠামো উন্নয়নের পরামর্শও দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে ভবন নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ উঠে আসে। তদন্তকারীরা উল্লেখ করেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি রাজউকের বিল্ডিং কোড পুরোপুরি অনুসরণ করে নির্মিত হয়নি। বিশেষ করে জরুরি নির্গমনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক সিঁড়ি না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী দ্রুত বের হতে পারেননি, যা হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিলেন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাভিদ নাওয়াজ দীপ্ত। তাঁর শরীরের প্রায় ৪৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। টানা ৯৭ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় তাঁর ৩৬টি অস্ত্রোপচার এবং আটবার স্কিন গ্রাফটিং করা হয়। চিকিৎসকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টা এবং পরিবারের মানসিক শক্তির ফলে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন। তাঁর চিকিৎসার দীর্ঘ পথচলা এই ট্র্যাজেডির মানবিক সংগ্রামের অন্যতম প্রতীক হয়ে রয়েছে।

দুর্ঘটনার ভয়াবহতায় কয়েকজন নিহতের মরদেহ এতটাই পুড়ে যায় যে প্রথমে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। এই প্রক্রিয়া নিহত পরিবারগুলোর জন্য ছিল বেদনাময় হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।

প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ দুই দিনের স্মরণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সোমবার দোয়া মাহফিল এবং নিহতদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। আজ ট্র্যাজেডির দিনটিকে স্মরণ করে প্রতিষ্ঠানের সব শাখায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

উত্তরার দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে আজ নিহতদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন, এক মিনিট নীরবতা, দোয়া মাহফিল এবং বিভিন্ন স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট এবং গার্লস গাইডের সদস্যরা অংশ নেবেন।

এক বছর পরও ২১ জুলাই শুধু একটি দুর্ঘটনার তারিখ নয়; এটি অসংখ্য পরিবারের জন্য অপূরণীয় শোক, আহতদের জন্য দীর্ঘ পুনর্বাসনের স্মৃতি এবং দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জননিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে বিমান প্রশিক্ষণ, নগর পরিকল্পনা, ভবন নিরাপত্তা এবং জরুরি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই হবে নিহতদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

-রফিক


সরকারি হাসপাতালই যেন হয় মানুষের একমাত্র ভরসা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ২১:৪৬:৩৬
সরকারি হাসপাতালই যেন হয় মানুষের একমাত্র ভরসা: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও উন্নত করতে সংশ্লিষ্টদের জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের প্রতি চিকিৎসকদের আরও আন্তরিক ও যত্নশীল হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যেকোনো মূল্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি সহজ করতে হবে। প্রতিটি রোগীকে সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ওষুধ নিশ্চিত করা জরুরি। দেশের মানুষ যাতে কোনো ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তি ছাড়া সরকারি হাসপাতাল থেকে অনায়াসে চিকিৎসাসেবা পান এবং তাদের যেন চিকিৎসার জন্য অন্য কোথাও দৌড়াদৌড়ি করতে না হয়, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সরকারি হাসপাতালগুলোই যেন সাধারণ মানুষের একমাত্র ও মূল ভরসার স্থল হয়ে ওঠে।”

সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) বিকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই সব যুগান্তকারী নির্দেশনা দেন। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী সরাসরি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অডিটোরিয়ামে গিয়ে এমন বিশেষ প্রশাসনিক বৈঠক পরিচালনা করলেন।

বৈঠকের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর বিগত পাঁচ মাসে স্বাস্থ্য খাতের দৃশ্যমান অর্জন এবং গৃহীত নানা পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ উপস্থিত শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান।

জবাবে কর্মকর্তারা বর্তমান চিত্র তুলে ধরে জানান, বিগত সরকারগুলোর চরম দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে দেশের স্বাস্থ্য খাত একেবারে ধ্বংসের মুখে এবং খাদের কিনারে গিয়ে পৌঁছেছিল। যার ফলে প্রান্তিক মানুষের পক্ষে ন্যূনতম মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়াও দুরূহ হয়ে পড়েছিল। ভঙ্গুর সেই অবস্থা থেকে খাতটিকে টেনে তুলতে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে বৈঠকে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়।

গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে প্রকাশিত নানা অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়গুলোও বিস্তারিত আলোচনায় আসে। সেখানে বলা হয়, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও লজিস্টিকস নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও সাধারণ রোগীরা প্রায়শই সন্তোষজনক চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে নানা অবহেলার অভিযোগ উঠছে।

এই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা তদারকি জোরদার করার নির্দেশ দেন। একই সাথে চিকিৎসকদের দায়িত্বহীনতা ও অবহেলার সুনির্দিষ্ট ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

দেশের ক্রমবর্ধমান কিডনি রোগীদের সুচিকিৎসার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেন, দেশের প্রতিটি জেলা পর্যায়ে এখন ন্যূনতম ৫০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। বর্তমানে জেলাগুলোতে যেখানে মাত্র ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সুবিধা চালু রয়েছে, সেগুলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৫০ শয্যায় সম্প্রসারিত ও আধুনিকায়ন করার নির্দেশ দেন তিনি।

পাশাপাশি, আগামী তিন বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরেও একটি করে ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করার দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এই বৃহৎ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশজুড়ে প্রয়োজনীয় দক্ষ মেডিকেল টেকনিশিয়ান ও জনবল গড়ে তোলার পাশাপাশি শতভাগ লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন তিনি।

সচিবালয়ের এই বৈঠকে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে বিদ্যমান ৫১ শয্যা থেকে বর্ধিত করে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি মেগা উদ্যোগ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা সম্পন্ন হয়। হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত জনবল কাঠামো এবং আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের সামগ্রিক নকশা ও কারিগরি দিক বৈঠকে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিশদভাবে উপস্থাপন করেন সরকারের গণপূর্ত বিভাগের (পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট) শীর্ষ প্রকৌশলীরা।

উচ্চপর্যায়ের এই বিশেষ বৈঠকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বিএসএমএমইউ) রাজধানীর বিভিন্ন বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালের পরিচালক ও চিকিৎসা খাতের শীর্ষ বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর মোজাফফরের বিচার হবে সেনা আইনে

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ২০ ১৮:১৮:৩০
জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর মোজাফফরের বিচার হবে সেনা আইনে
পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় সম্প্রতি দীর্ঘ প্রবাস জীবন ও আত্মগোপন শেষে গ্রেপ্তার হওয়া অন্যতম প্রধান পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার দেশের প্রচলিত সেনা আইনেই ‘জেনারেল কোর্ট মার্শাল’ (General Court Martial)-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হবে বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) ঢাকার পিলখানায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই সংবেদনশীল আইনি সিদ্ধান্তের কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মামলার প্রেক্ষাপট ও আসামির গ্রেপ্তারের বিবরণ তুলে ধরে বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রীয় বিচার এড়াতে অত্যন্ত চতুরতার সাথে পলাতক জীবন যাপন করছিলেন। তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ছদ্মপরিচয় ধারণ করে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে গোপনে অবস্থান করছিলেন। সম্প্রতি তিনি গোপনে দেশে ফেরার পর সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে সফলভাবে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। যেহেতু অপরাধের সময় তিনি সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন, তাই আইনি বিধি মেনে তাকে পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি সামরিক আদালতের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট করে বলেন, ‘১৯৮১ সালের সেই বর্বরোচিত ঘটনার পর মেজর মোজাফফরের অন্যান্য মূল সহযোগী ও সহ-আসামিদের বিচারও তৎকালীন সময়ে সামরিক আদালতেই সম্পন্ন হয়েছিল। সে সময়ের তদন্ত ও আদালতের কিছু সুনির্দিষ্ট আইনি ফাইন্ডিংস বা পর্যবেক্ষণ রয়েছে। তাই জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমেই সম্ভবত তার এই বিচারকার্যটি আইনগতভাবে সম্পন্ন করা হবে। একই মামলার অপরাধে অতীতে সেনা আইনে যাদের বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়েছে কিংবা যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সেই ঐতিহাসিক রায়ের আলোকে এই আসামির বিষয়ে বিশেষ কোনো পর্যবেক্ষণ রয়েছে কি না, সেটিও বর্তমান জেনারেল কোর্ট মার্শাল সতর্কতার সাথে বিবেচনা করে দেখবে।’

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও যোগ করে বলেন, দেশের যেকোনো সশস্ত্র বাহিনীর বা সেনা সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রথাগতভাবে মিলিটারি অ্যাক্ট (সামরিক আইন) সরাসরি প্রযোজ্য হয়। যেহেতু একই মামলার অন্যান্য সহ-আসামিদের বিচারও ওই বিশেষ সেনা আইনের আওতায় জেনারেল কোর্ট মার্শালে সম্পন্ন হয়েছিল, সে কারণেই মোজাফফর হোসেনের বিরুদ্ধেও সেনাবাহিনী তাদের নিজস্ব আইনি বিধি ও প্রবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তবে সামরিক আদালতের বাইরে যদি সিভিল কোর্ট বা দেশের প্রচলিত দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত কোনো আইনি বিষয় বা ধারা অবশিষ্ট থাকে, তবে তা দেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।

এই প্রসঙ্গে দেশের আইনের শাসন ও সাংবিধানিক জটিলতার ব্যাখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রচলিত আইনি কাঠামোর নিয়ম অনুযায়ী, একই ব্যক্তিকে একই অপরাধ বা ঘটনার জন্য দুটি পৃথক আইনে আলাদাভাবে দুইবার বিচার করা যায় না (Double Jeopardy)। তাই আইন অনুযায়ী যেটি সবচেয়ে বেশি যুক্তিযুক্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া—পর্যায়ক্রমে সেটিই পূর্ণাঙ্গভাবে অনুসরণ করা হবে।’

/আশিক


১৭ ফেব্রুয়ারির গণভোট সাংবিধানিক ছিল না, ওটা ছলচাতুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ২১:৫৯:৪০
১৭ ফেব্রুয়ারির গণভোট সাংবিধানিক ছিল না, ওটা ছলচাতুরি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সাথে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হওয়া গণভোটটি কোনোভাবেই সাংবিধানিক ছিল না, বরং তা একটি সম্পূর্ণ বেআইনি আদেশের ওপর ভিত্তি করে সম্পন্ন হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কোনো প্রকার পূর্ব সমঝোতা ছাড়াই আকস্মিকভাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এর দোহাই দিয়ে জনগণের ওপর একটি ছলচাতুরিপূর্ণ গণভোট চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই সব কথা বলেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির উদ্দিনসহ অনেকে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের সাথে হওয়া ওই গণভোটের তীব্র সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেই ভোটপ্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ অপকৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। সেখানে জটিল চারটি আলাদা প্রশ্নের বিপরীতে ভোটারদের জন্য কেবল একটি মাত্র ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ উত্তর দেওয়ার বিধান রাখা হয়, যা মোটেও যৌক্তিক ছিল না। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, সেটির পক্ষে জনগণের সমর্থন আছে কি না—কেবল সেই একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের ওপরই গণভোটটি আয়োজন করা উচিত ছিল।

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে গঠিত বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের কাজের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, সেই সময় এমন কিছু অধ্যাদেশ ও কমিশন করা হয়েছিল, যার সুনির্দিষ্ট কোনো কার্যকারিতা ছিল না; বরং তা করা হয়েছিল কেবল কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে। সেই সব কমিশনের কারণে গুমের শিকার হওয়া ভিকটিম বা তাদের পরিবারগুলো আইনি প্রতিকারের জন্য কোথায় যাবে, তা মোটেও পরিষ্কার ছিল না।

এই প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দেন যে, বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড এবং দেশীয় সংস্কৃতির সুন্দর মেলবন্ধনে আগামী সংসদ অধিবেশনেই একটি পূর্ণাঙ্গ ও শক্তিশালী ‘গুম প্রতিরোধ আইন’ পাস করতে যাচ্ছে। এই নতুন আইনে গুমের বিভিন্ন স্তর, অপরাধের সুনির্দিষ্ট সাজা এবং বিচারিক এখতিয়ার স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা থাকবে। একই সাথে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং মানবাধিকার কমিশনের প্রচলিত আইনকেও যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে মানবাধিকার আইনের সংস্কারের ক্ষেত্রে দেশের ধর্মীয় অনুভুতি, সামাজিক মূল্যবোধ এবং জাতীয় সংহতির বিষয়টিকে কঠোরভাবে বিবেচনা করা হবে, যাতে এলজিবিটিকিউ (LGBTQ)-এর মতো সমাজ-স্বীকৃত নয় এমন কোনো পশ্চিমা সংস্কৃতি দেশের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া না যায়।

বক্তব্যের শুরুতে দেশের সাম্প্রতিক মব জাস্টিস বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতার কড়া সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, উন্মত্ত জনতা কোনোদিন কোনো অবস্থাতেই ন্যায়বিচার বা জাস্টিস প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। এটি একটি অত্যন্ত জঘন্য অপকালচার। বিগত দিনে দেশে আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থার কার্যকর প্রয়োগ না থাকার কারণেই সমাজে এই মব কালচারের সৃষ্টি হয়েছিল।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের প্রশাসন এবং স্বাধীন বিচার বিভাগের হাত ধরেই সমাজে আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হতে হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, দেশের উচ্চ ও নিম্ন আদালতের অনেক বিচারক এখনো প্রথাগত রাজনৈতিক বিবেচনা ও মানসিকতা নিয়ে চেয়ারে বসে আছেন, যার কারণে সাধারণ মানুষ মাঠপর্যায়ে চরম অবিচারের শিকার হচ্ছেন।

বিগত প্রহসনের নির্বাচনগুলো এবং আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের সময় বিচার বিভাগের একটি অংশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দেশে সত্যিকার অর্থে আইনের শাসন কায়েম করতে হলে একটি সমন্বিত ও যৌথ পদক্ষেপ প্রয়োজন। রাষ্ট্রকাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের লক্ষ্যে তাদের রাজনৈতিক জোটের ঘোষিত ৩১ দফার প্রথম দফাতেই একটি শক্তিশালী সাংবিধানিক সংস্কার কমিশন গঠনের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাড়াহুড়ো করে জারি করা প্রায় ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বিতর্কিত অল্প কয়েকটি বাদে বাকি সব অধ্যাদেশকে বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে নিয়মতান্ত্রিক আইনি প্রক্রিয়ায় পাস করে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত করেছে। তবে রাষ্ট্রের স্থায়ী কাঠামো সংস্কারের জন্য সুনির্দিষ্ট সাংবিধানিক সংশোধনী আনা জরুরি।

দেশের সংবিধানকে একটি পরিবর্তনশীল ও জীবন্ত দলিল হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আদালতের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সংবিধানে ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধানটি আবার ফিরে এসেছে। তাই সংবিধানের প্রস্তাবনা কিংবা কোনো মৌলিক অনুচ্ছেদ পরিবর্তন বা সংশোধন করতে হলে কেবল রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে বৈধ গণভোটের আয়োজন করতে হবে, তবে বিগত ১৭ ফেব্রুয়ারির ত্রুটিপূর্ণ গণভোটটি সেই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে না।

বিগত রাজপথের আন্দোলনের ধারাবাহিকতার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে গণতন্ত্র ফেরাতে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে দলের লাখ লাখ নেতাকর্মী রাজপথে অবিরাম আন্দোলন ও সংগ্রাম করে গেছেন। পরবর্তীতে সেই আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে আবু সাঈদের মতো অসংখ্য ছাত্র-জনতার বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে গত ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হয়েছে।

বিগত ১৯ জুলাইয়ের দিনটিতে সবচেয়ে বেশি মানুষ শহীদ হয়েছিলেন—তা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, যারা আজ কেবল সরকারের মন্ত্রী কিংবা উপদেষ্টা হওয়ার জন্য জুলাইয়ের মহান চেতনাকে সস্তা ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন, তাদের পুরাতন ব্যবস্থার আদলে পর্দার আড়ালে আওয়ামী লীগের দোসর কিংবা চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ ও লবিং অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

দেশের রাজনীতিতে ‘দায় ও দরদের রাজনীতি’ কিংবা ‘নতুন বন্দোবস্ত’-এর মতো ভারী ও তাত্ত্বিক শব্দ ব্যবহারকারী এক শ্রেণির সুশীল বুদ্ধিজীবীদের কড়া সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এত বেশি বাক্যবিশারদ বা কথার জাদুকর হওয়া দেশের জন্য মঙ্গলজনক নয়। আপনাদের এই তথাকথিত নতুন বন্দোবস্তের ভেতরের আসল রূপ কী, তা দয়া করে রাখঢাক না করে দেশের জনগণের সামনে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরুন।

দেশের অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নিজেদের হীন ও সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে কখনো ১৯৪৭ সালের দেশভাগকে সামনে আনা, আবার ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করে কেবল ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে এককভাবে ব্যবহার করার দ্বিমুখী রাজনীতি এ দেশে আর চলবে না। দেশে ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের পুনরুত্থান শক্ত হাতে ঠেকাতে এবং স্বৈরাচারের ফেরার সব পথ চিরতরে বন্ধ করতে দেশের গণতান্ত্রিক ও সংসদীয় রাজনীতি এবং ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যকে আরও বেশি শক্তিশালী ও মজবুত করার জন্য সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান মন্ত্রী।

/আশিক


আগাম ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশি পাসপোর্টে ঘোরা যাবে বিশ্বের ৩৬টি দেশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৯ ২০:৪০:৩৫
আগাম ভিসা ছাড়াই বাংলাদেশি পাসপোর্টে ঘোরা যাবে বিশ্বের ৩৬টি দেশ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক স্বনামধন্য বৈশ্বিক নাগরিকত্ব ও আবাসন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান 'হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স' প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাসপোর্ট সূচক প্রকাশ করে থাকে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) নির্ভরযোগ্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই সূচকটি মূলত বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের পাসপোর্টের কার্যকারিতা, সক্ষমতা এবং নাগরিকদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ স্বাধীনতার একটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত।

২০২৬ সালের প্রকাশিত সর্বশেষ বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পাসপোর্ট বর্তমানে বিশ্বের ৯৬তম অবস্থানে রয়েছে। এই নতুন রেঙ্কিং অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশি সাধারণ পাসপোর্টধারী নাগরিকরা পৃথিবীর মোট ৩৬টি স্বাধীন দেশ ও বিশেষ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে কোনো প্রকার আগাম বা পূর্ব ভিসা ছাড়াই সরাসরি ভ্রমণের বিশেষ সুবিধা উপভোগ করছেন।

বাংলাদেশি পর্যটক ও ভ্রমণকারীদের জন্য আন্তর্জাতিক এই ভিসা সুবিধার আওতায় রয়েছে সম্পূর্ণ ভিসা ছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশে প্রবেশের সুযোগ, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর অন-অ্যারাইভাল ভিসা এবং বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ই-ভিসা সুবিধা। বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের সুবিধার্থে আগাম ভিসা ছাড়া যাতায়াতযোগ্য ৩৬টি দেশের ভৌগোলিক অঞ্চলভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে উপস্থাপন করা হলো:

এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রতিবেশি দক্ষিণ এশিয়ার ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা। এ ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দর্শনীয় দুই দেশ কম্বোডিয়া এবং তিমুর লিস্তে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা মিলবে।

অপরূপ সৌন্দর্যের ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের মোট ১১টি দেশ ও দ্বীপাঞ্চলে বাংলাদেশিরা আগাম ভিসা ছাড়া যেতে পারবেন। এই তালিকায় রয়েছে বাহামাস, বার্বাডোজ, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, ডমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাট, সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাউন এবং ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো।

আফ্রিকা মহাদেশের লড়াকু ও বৈচিত্র্যময় দেশগুলোর মধ্যে বুরুন্ডি, কেপ ভার্দে, কোমোরো আইল্যান্ডস, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, কেনিয়া, মাদাগাস্কার, রুয়ান্ডা, সিচিলিস, সিয়েরা লিওন এবং গাম্বিয়া ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই আগাম ভিসা মুক্ত সুবিধা কার্যকর রয়েছে।

সবশেষে ওশেনিয়া বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কুক আইল্যান্ডস, ফিজি, কিরিবাতি, মাইক্রোনেশিয়া, নিউই, সামোয়া, টুভ্যালু এবং ভানুয়াতু রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলে আগে থেকে ভিসার আবেদন করার কোনো প্রয়োজন নেই।

তবে যেকোনো আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস বা সরকারি ইমিগ্রেশন পোর্টাল থেকে তথ্য যাচাই করে নেওয়া শ্রেয়। যেহেতু বৈশ্বিক ভূরাজনীতি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ ভিসা নীতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে, তাই নিশ্চিত হওয়ার জন্য ভ্রমণের ঠিক পূর্বে সরকারি ওয়েবসাইট অথবা নির্দিষ্ট দেশের দূতাবাস থেকে সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যটি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া প্রতিটি ভ্রমণকারীর জন্য অত্যন্ত জরুরি।

/আশিক


তথ্য বিকৃত করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৮ ১৮:৪২:৩০
তথ্য বিকৃত করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার লক্ষ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য বিকৃত করে ট্রল ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এই ধরনের ছড়ানো অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা একটি জ্ঞানভিত্তিক, সুন্দর ও শিক্ষিত জাতি গঠনের অগ্রযাত্রায় বড় অন্তরায় বা বাধা হিসেবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬) নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এই সব কথা বলেন।

ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আধুনিক, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে সরকারের এই উন্নয়নমুখী প্রচেষ্টাকে ব্যাহত ও বাধাগ্রস্ত করতে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে অপতথ্য ছড়াচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হচ্ছে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলা।

শিক্ষামন্ত্রী আরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, সমাজে গুজব ও বিকৃত তথ্যের নেতিবাচক চর্চা বন্ধ করে তার বিপরীতে সত্য ও ইতিবাচক তথ্যের চর্চা ব্যাপকভাবে বাড়াতে হবে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুদৃঢ় ও শক্তিশালী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সমাজের সব স্তরের মানুষকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।

নওগাঁর এই অনুষ্ঠানটির মূল পর্বে যাওয়ার আগে মন্ত্রী শহরের বরুনকান্দি মোড় এলাকায় অবস্থিত নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে পৌঁছান এবং সেখানে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনী পর্ব শেষে শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন শ্রেণিকক্ষ, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত গ্রন্থাগার এবং কম্পিউটার ল্যাব সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

উচ্চপর্যায়ের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের শিক্ষাবিদ ও সরকারের বিভিন্ন পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল খালেক এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ।

এ ছাড়াও ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই সময় উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: