যুদ্ধের নতুন ভয়াবহ রূপ: তেহরানের আকাশে বিষাক্ত ধোঁয়ার পাহাড় ও কালো বৃষ্টি

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৮:৫৫:৫৪
যুদ্ধের নতুন ভয়াবহ রূপ: তেহরানের আকাশে বিষাক্ত ধোঁয়ার পাহাড় ও কালো বৃষ্টি
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের রাজধানী তেহরানে বড় ধরনের জ্বালানি ডিপো ও শোধনাগারে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর এক বিরল ও উদ্বেগজনক প্রাকৃতিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছেন শহরটির বাসিন্দারা। আজ রোববার (৮ মার্চ) সকালে তেহরানের আকাশে ঘন কালো মেঘের আনাগোনা দেখা দেয় এবং এরপর শুরু হয় অদ্ভুত ‘কালো বৃষ্টি’। শহরের প্রায় এক কোটি মানুষ এই তেলের মতো চটচটে ও কালচে বৃষ্টির সাক্ষী হয়েছেন।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রখ্যাত সাংবাদিক ফ্রেড প্লিটজেন তেহরান থেকে সরাসরি এই পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি জানান, আকাশ থেকে ঝরা বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক স্বচ্ছ নয়, বরং তা কুচকুচে কালো এবং তেলমিশ্রিত। হামলার পর জ্বালানি ডিপোগুলো থেকে নির্গত বিপুল পরিমাণ ধোঁয়া ও ভস্মীভূত কণা আকাশের মেঘের সঙ্গে মিশে গিয়ে এই বিষাক্ত বৃষ্টি তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গতকাল শনিবার রাতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং মার্কিন বাহিনী যৌথভাবে তেহরানের শাহরান ও তান্দগুয়ান তেল শোধনাগারসহ অন্তত পাঁচটি বড় জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালায়। আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই স্থাপনাগুলো ইরানের সামরিক অবকাঠামো পরিচালনায় জ্বালানি সরবরাহ করত, তাই এগুলো ধ্বংস করা ইরানের সামরিক শক্তি দুর্বল করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। রয়টার্সের ভিডিওতে দেখা গেছে, হামলার পর শাহরান তেল শোধনাগার থেকে আগুনের লেলিহান শিখা এবং ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী কয়েকশ ফুট উঁচুতে উঠে আকাশ ঢেকে ফেলেছে।

ইরানের পরিবেশ অধিদপ্তর এবং রেড ক্রিসেন্ট এই বৃষ্টিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও ‘অ্যাসিডিক’ হিসেবে অভিহিত করে বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বৃষ্টির সংস্পর্শে ত্বকে জ্বালাপোড়া বা ফুসফুসের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রমতে, এই হামলায় চারজন ট্যাংকার চালক নিহত হয়েছেন। এই ‘কালো বৃষ্টি’ এবং ভয়াবহ ধোঁয়া তেহরানের জনজীবনে এক চরম আতঙ্ক ও মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: নিউজ এক্স


তুরস্ক লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৮:৫২:৫৭
তুরস্ক লক্ষ্য করে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনা এবার তুরস্কের আকাশসীমায় পৌঁছেছে। ইরান থেকে তুরস্ক লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আঙ্কারা। সোমবার (৯ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। তবে ইরান শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ইরান থেকে ছোড়া হয়েছিল এবং এটি ইরাক ও সিরিয়ার আকাশসীমা অতিক্রম করে তুরস্কের দিকে আসছিল। তবে তুরস্কের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার আগেই পূর্ব ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন থাকা ন্যাটোর শক্তিশালী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটি মাঝ আকাশেই ধ্বংস করে দেয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস হওয়ার পর এর কিছু অবশিষ্টাংশ তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গাজিয়ানতেপ এলাকায় আছড়ে পড়ে। তবে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি।

তুরস্কের সরকারি কর্মকর্তারা এই ঘটনার পর কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, দেশের আকাশসীমা এবং নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় তুর্কি সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। আঙ্কারা স্পষ্টভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার অধিকার তুরস্ক সংরক্ষণ করে।

অন্যদিকে, ইরান এই হামলার অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ‘সাজানো’ বলে দাবি করেছে। সোমবার তেহরানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই বলেন, গত এক সপ্তাহে তুরস্ক, সাইপ্রাস বা আজারবাইজানে ইরান থেকে কোনো ধরনের সামরিক আক্রমণ চালানো হয়নি। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্কে ফাটল ধরাতে শত্রুপক্ষ এই ধরনের হামলার নাটক সাজাতে পারে। ইরান বারবার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কথা বললেও তুরস্কের এই দাবি অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

/আশিক


ডিজিটাল নীরবতায় ইরান: দশম দিনে পড়ল পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১৬:৩৩:৩৭
ডিজিটাল নীরবতায় ইরান: দশম দিনে পড়ল পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে সরকারি সিদ্ধান্তে আরোপিত নজিরবিহীন ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট আজ সোমবার (৯ মার্চ) দশম দিনে পদার্পণ করেছে। এর ফলে দেশটির প্রায় ৯ কোটি মানুষ গত ১০ দিন ধরে বহির্বিশ্ব থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘নেটব্লকস’ তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইরানি নাগরিকেরা টানা ২১৬ ঘণ্টা ধরে বৈশ্বিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন, যা সমসাময়িক ডিজিটাল ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ শাটডাউন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

নেটব্লকসের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানে ইন্টারনেটের সংযোগ স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় মাত্র ১ শতাংশে নেমে এসেছে। এই চরম শাটডাউনের ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন ভেঙে পড়েছে, তেমনি বহির্বিশ্বের সঙ্গে সব ধরনের তথ্য আদান-প্রদানও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নতুন নেতৃত্বের অধীনে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর যেন বাইরে না আসতে পারে, সেজন্যই এই কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে।

দীর্ঘ ১০ দিনের এই ডিজিটাল নীরবতায় ইরানের সাধারণ নাগরিকেরা জরুরি সেবা, ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতে পারছেন না। তথ্যের অবাধ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার এই চরম পন্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সংস্থাগুলো। ইন্টারনেট না থাকায় দেশটির অনলাইন ভিত্তিক ব্যবসা এবং যোগাযোগ নির্ভর খাতগুলো এখন সম্পূর্ণ অচল, যা ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানছে। বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকটি সরকারি দপ্তর ছাড়া সাধারণ জনগণের জন্য ইন্টারনেটে প্রবেশের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি।

তথ্যপ্রযুক্তির এই শূন্যতার কারণে ইরানের ভেতরে বর্তমানে ঠিক কী ঘটছে, তা বহির্বিশ্বের জন্য জানা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। নেটব্লকস উল্লেখ করেছে, এটি অত্যন্ত পরিকল্পিত একটি ব্ল্যাকআউট যার মাধ্যমে ৯ কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই ডিজিটাল অচলাবস্থা কতদিন স্থায়ী হবে সে সম্পর্কে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক মহলের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে তেহরান তাদের এই অবস্থান থেকে সরে আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

/আশিক


ক্ষমতা গ্রহণ করেই রণক্ষেত্রে নতুন নেতা: তেহরানের প্রথম বড় মুভমেন্ট

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১২:৩৮:২১
ক্ষমতা গ্রহণ করেই রণক্ষেত্রে নতুন নেতা: তেহরানের প্রথম বড় মুভমেন্ট
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সরাসরি নির্দেশনায় ইসরায়েল অভিমুখে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। সোমবার (৯ মার্চ) ভোরের দিকে এই আক্রমণ চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন আইআরইবি। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ত্রিমুখী সংঘাতের ধারাবাহিকতায় এটি তেহরানের পক্ষ থেকে নতুন এক ধাপের সামরিক পদক্ষেপ।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাঈদ মোজতবা খামেনির নির্দেশে সোমবার ভোরে 'জায়নবাদী শক্তি' বা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে একগুচ্ছ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিই তাঁর নির্দেশনায় পরিচালিত প্রথম সামরিক অভিযান। প্রচারের সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ছবিও প্রদর্শন করা হয়, যার গায়ে লেখা ছিল ‘আপনার নির্দেশের অপেক্ষায়, সাঈদ মোজতবা’। এই হামলার মাধ্যমে মোজতবা খামেনি তাঁর নেতৃত্বের শুরুতেই সামরিক সক্ষমতার কঠোর বার্তা দিলেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাতের প্রথম দিনেই ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর ঠিক ৯ দিনের মাথায় প্রভাবশালী সংস্থা ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’ তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনিকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে। ইরানের শাসনতান্ত্রিক কাঠামোতে সর্বোচ্চ নেতার পদটি সবচেয়ে ক্ষমতাধর এবং তিনি একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থায় সামরিক, গোয়েন্দা, অর্থনীতি ও রাজনীতিসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ খাতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার একক ক্ষমতা সর্বোচ্চ নেতার হাতে ন্যস্ত। মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে এই প্রথম হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল ও ভয়াবহ রূপ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই হামলার কী ধরনের প্রতিক্রিয়া আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে অঞ্চলের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।

/আশিক


ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাত: উপসাগরীয় তিন দেশে ইরানের নজিরবিহীন আক্রমণ

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১২:১১:৫০
ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাত: উপসাগরীয় তিন দেশে ইরানের নজিরবিহীন আক্রমণ
ছবি : সংগৃহীত

সোমবার (৯ মার্চ) ভোররাতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে, যখন পারস্য উপসাগরীয় তিন দেশ কাতার, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ইরানের পক্ষ থেকে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নতুন এক তরঙ্গ আছড়ে পড়ে। এই সুসংগঠিত ও নজিরবিহীন আক্রমণে বাহরাইনে অন্তত ৩২ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইরান থেকে ধেয়ে আসা এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বৃষ্টির ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে এক চরম আতঙ্ক ও যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

কাতারের রাজধানী দোহায় স্থানীয় সময় রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয় এবং বাসিন্দাদের মোবাইলে জরুরি বার্তা পাঠিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই দোহাবাসী আকাশের ওপর বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান, যা ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রগুলো লক্ষ্য করে কাতারি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধমূলক মিসাইলের পাল্টা আঘাত। প্রত্যক্ষদর্শীরা অন্তত ১২ থেকে ১৩টি শক্তিশালী বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছেন। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী সফলভাবে কাতার অভিমুখী একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

আক্রমণের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে বাহরাইনে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী মানামার দক্ষিণের সিতরা এলাকায় ইরানি ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন নাগরিক আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে শিশু ও কিশোর-কিশোরীও রয়েছে। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও রাতভর এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়ভাবে এসব হুমকি মোকাবিলা করছে। তবে ফুজাইরাহ তেল শিল্প এলাকায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার সময় সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই সরাসরি আক্রমণাত্মক অবস্থান প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি ও পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের দিকে মোড় নিয়েছে। বর্তমানে আক্রান্ত দেশগুলোর আকাশসীমা ও সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই হামলার সমুচিত জবাব দেওয়ার বিষয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথে রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা


যুদ্ধের ময়দানে এবার মুখোমুখি সৌদি-ইরান? রিয়াদের কড়া সতর্কবার্তা

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১১:৪২:০৪
যুদ্ধের ময়দানে এবার মুখোমুখি সৌদি-ইরান? রিয়াদের কড়া সতর্কবার্তা
ছবি : সংগৃহীত

আরব অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর ইরান যদি নির্বিচারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রাখে, তবে চলমান যুদ্ধে দেশটির ‘সর্বোচ্চ পরাজয়’ ঘটতে পারে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে সৌদি আরব। গতকাল রোববার (৮ মার্চ) রিয়াদের পক্ষ থেকে তেহরানের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হয়। মূলত গত শনিবার সৌদি আরবের অন্যতম বৃহৎ তেলক্ষেত্র ‘শায়েবাহ অয়েল ফিল্ড’-এ ইরানি ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠার পরদিনই সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কোনো বাস্তব ভিত্তি ছাড়াই ইরান আরব দেশগুলোকে লক্ষ্য করে যুক্তিহীন ও নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিবৃতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কঠোর সমালোচনা করে বলা হয়, তাঁর দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে বিস্তর ‘অমিল’ রয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধের কথা বললেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। রিয়াদ স্পষ্ট করেছে যে, তেহরানের এমন উস্কানিমূলক আচরণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইরান যদি তাদের এই আক্রমণাত্মক নীতি পরিবর্তন না করে এবং নির্বিচার হামলা চালিয়ে যেতে থাকে, তবে চলমান সংঘাত দেশটির জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ও পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপাশি এই পরিস্থিতির ফলে রিয়াদ ও তেহরানের বর্তমান কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং ভবিষ্যতের ওপর গভীর ও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবারের মতো ইরানকে সরাসরি এমন কঠোর ভাষায় সতর্ক করল সৌদি আরব।

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে সৌদি আরবের এই অবস্থান পরিবর্তনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতদিন পর্যন্ত সৌদি আরব এই সংঘাত থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলেও নিজেদের তেলক্ষেত্রে হামলার পর তারা সরাসরি তেহরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিল। এই সতর্কবার্তার ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধের ব্যাপ্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, সৌদি আরবের এই হুমকির পর ইরান তাদের রণকৌশলে কোনো পরিবর্তন আনে কি না অথবা পাল্টাহুমকি দেয় কি না।

সূত্র: অ্যান্ডারসন হেরাল্ড


এরবিল ও বাগদাদে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা: ইরাকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ১১:৩৪:০৫
এরবিল ও বাগদাদে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা: ইরাকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
ছবি : সংগৃহীত

ইরাকের কুর্তিস্তান অঞ্চলের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আজ সোমবার (৯ মার্চ) ২০২৬ ইংরেজি তারিখে এই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। স্থানীয় নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, একটি বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন সরাসরি ওই ঘাঁটি লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে। তবে এই হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, ইরাকের রাজধানী বাগদাদেও মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে অবস্থিত একটি মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনায় একযোগে ড্রোন ও রকেট হামলা চালানো হয়। স্থানীয় পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বাগদাদের আকাশে শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় অধিকাংশ রকেট ও ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাগদাদের এই কূটনৈতিক এলাকায় মার্কিন দূতাবাসের একটি লজিস্টিক সাপোর্ট ক্যাম্প ও সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

গত কয়েক দিনে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার অংশ হিসেবে ইরাকের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ নামক একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাম্প্রতিক ২৪ ঘণ্টায় ইরাক ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে অন্তত ২৪টি ড্রোন ও মিসাইল হামলার দায় স্বীকার করেছে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি কূটনৈতিক মিশনগুলোতে এমন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে একটি ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং অপরাধীদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে ইরাক এখন কার্যত একটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবারও এরবিল ও বাগদাদের এসব স্থাপনায় কয়েক দফা হামলার ঘটনা ঘটেছিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি জোটের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ নিতেই ইরাকের অভ্যন্তরে থাকা এই মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে বারবার লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী ও জটিল রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

/আশিক


ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার: কে এই মোজতবা খামেনি?

ইসরাফিল আলম
ইসরাফিল আলম
ডেস্ক রিপোর্টার (মধ্যপ্রাচ্য)
মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৯ ০৫:১৫:৫১
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার: কে এই মোজতবা খামেনি?
আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি। ছবি- আল-জাজিরা।

ইরানে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে ঘোষণা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পরই এই সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস।

৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি এখন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানকে তার ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের সময় নেতৃত্ব দেবেন। ঘোষণার পরপরই ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC), সামরিক বাহিনী এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতারা নতুন নেতার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করেছেন।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি নতুন নেতার চারপাশে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নতুন সুপ্রিম লিডারের আনুগত্য করা “ধর্মীয় ও জাতীয় দায়িত্ব”।

মোজতবা খামেনি কখনো কোনো নির্বাচনে অংশ নেননি বা জনভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হননি। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এবং বিশেষ করে IRGC-এর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। অনেক বছর ধরেই তাকে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখা হচ্ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, তার নির্বাচন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর কঠোরপন্থী গোষ্ঠীগুলো এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। ফলে চলমান যুদ্ধের মধ্যে স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা আলোচনায় যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

আল জাজিরার বিশ্লেষক আলি হাশেম বলেন, মোজতবা খামেনিকে দীর্ঘদিন ধরে “তার বাবার গেটকিপার” হিসেবে দেখা হতো। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিষয়ে তার অবস্থানও বাবার মতোই কঠোর। তাই তার নেতৃত্বে আরও সংঘাতমুখী নীতি দেখা যেতে পারে, অন্তত যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতিতে।

অন্যদিকে বৈরুতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির জননীতি বিশেষজ্ঞ রামি খুরি মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত মূলত “ধারাবাহিকতার সংকেত” এবং একই সঙ্গে একটি রাজনৈতিক বার্তা। তার ভাষায়, “ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে জানিয়ে দিচ্ছে—তোমরা আমাদের ব্যবস্থাকে ভেঙে দিতে চেয়েছিলে, কিন্তু এখন যে নেতা এসেছে তিনি আগের চেয়েও কঠোর।”

এরই মধ্যে ইসরায়েল আগেই সতর্ক করে বলেছে, খামেনির যেকোনো উত্তরসূরিকেও তারা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া নতুন সুপ্রিম লিডার “দীর্ঘদিন টিকতে পারবেন না”।

তবে ইরানি নেতারা স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্বাচন করার অধিকার শুধু ইরানের জনগণ ও তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর। পার্লামেন্ট স্পিকার গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, “ইরানের ভাগ্য কোনো বিদেশি শক্তি নয়, ইরানের জনগণই নির্ধারণ করবে।”

এদিকে যুদ্ধ এখন নবম দিনে গড়িয়েছে। তেহরানের আকাশে ধোঁয়ার ঘন স্তর দেখা গেছে, কারণ ইসরায়েল রাজধানীর আশপাশের কয়েকটি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে IRGC দাবি করেছে যে তাদের কাছে কমপক্ষে ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নাকচ করেননি, যদিও তিনি দাবি করছেন যুদ্ধ প্রায় জিতেই গেছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতের শেষ কোথায় হবে তা এখনো অনিশ্চিত, এবং যুদ্ধ আরও এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে।


পারস্য উপসাগরে নতুন উত্তেজনা: এবার ইরানের অবকাঠামোতে আঘাত হানল আমিরাত

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৮:৪৮:১১
পারস্য উপসাগরে নতুন উত্তেজনা: এবার ইরানের অবকাঠামোতে আঘাত হানল আমিরাত
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা এবার সরাসরি পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম 'ওয়াইনেট'-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) স্থাপনায় সরাসরি বিমান হামলা চালিয়েছে। চলমান এই আঞ্চলিক সংঘাতে ইরানের মূল ভূখণ্ডের ওপর কোনো পারস্য উপসাগরীয় দেশের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম সরাসরি সামরিক আক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। গতকাল রাতে ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে এই হামলাটি চালানো হয় বলে ইরানের সরকারি সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই হামলার কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, এই অভিযানে কেশম দ্বীপের একটি মিঠা পানি উৎপাদনকারী ডিস্যালিনেশন স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি এই আক্রমণকে ইরানের জাতীয় অবকাঠামোর ওপর একটি অত্যন্ত 'বিপজ্জনক পদক্ষেপ' হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এর জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে 'গুরুতর পরিণতির' হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, এই হামলার ফলে দ্বীপটির অন্তত ৩০টি গ্রামের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম সংকটে ফেলে দেয়।

তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করেছেন হরমোজগান প্রদেশের স্থানীয় কর্মকর্তারা। তাঁদের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের গ্রামীণ এলাকাগুলোতে পানির যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল, তা ইতিমধ্যে মেরামত ও বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। বর্তমানে দ্বীপটিতে পানি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তা সত্ত্বেও, আরব আমিরাতের এই সরাসরি অংশগ্রহণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক নতুন এবং আরও জটিল সমীকরণের দিকে ঠেলে দিল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা।

/আশিক


ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন

মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ০৮ ১৭:১৫:৫৯
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের (অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস) সদস্য আহমাদ আলামুলহোদা নিশ্চিত করেছেন যে, দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, নতুন নেতাকে ইতিমধ্যে ভোটদানের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়েছে এবং এখন কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। আলামুলহোদা আরও জানান, এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার দায়িত্ব এখন বিশেষজ্ঞ পরিষদের সচিবালয়ের প্রধান আয়াতুল্লাহ হাশেম হোসাইনি বুশেহরির ওপর ন্যস্ত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই তাঁর উত্তরসূরি নিয়ে দেশটিতে চরম উত্তেজনা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়েছিল। ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতার অনুপস্থিতিতে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব কাউন্সিল রাষ্ট্র পরিচালনা করছিল, যার মধ্যে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তবে সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘যত দ্রুত সম্ভব’ স্থায়ী নেতা নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা থাকায় বিশেষজ্ঞ পরিষদ জরুরি বৈঠকে বসে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করে।

যদিও নবনির্বাচিত নেতার নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে আলেমদের বক্তব্য এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মেজো ছেলে মোজতবা খামেনি এই দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। পরিষদের অন্য এক সদস্য আয়াতুল্লাহ মহসিন হায়দারি আলেকাসি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এমন একজনকে নির্বাচন করা হয়েছে যাকে ‘বড় শয়তান’ বা যুক্তরাষ্ট্র ঘৃণা করে। যেহেতু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি মোজতবা খামেনির নাম উল্লেখ করে তাঁকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন, তাই ধারণা করা হচ্ছে আলেমদের পছন্দের তালিকায় মোজতবা খামেনিই শীর্ষস্থানে রয়েছেন। বুশেহরির আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই খুব শীঘ্রই ইরানের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: