ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির ডাক: পরাজয়কেও সাফল্যের চোখে দেখছেন ডা. শফিক!

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ১০:১১:২৪
ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতির ডাক: পরাজয়কেও সাফল্যের চোখে দেখছেন ডা. শফিক!
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এক নজিরবিহীন ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক অবস্থান ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৪৪ মিনিটে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক আইডিতে এক দীর্ঘ বার্তার মাধ্যমে তিনি নির্বাচনের ফলাফলকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি নিজের দলের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, জামায়াত এখন থেকে সংসদে একটি শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে। নির্বাচনের এই রায়কে তিনি কেবল একটি সংখ্যা হিসেবে না দেখে, আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতের অবস্থান সুসংহত করার একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

নির্বাচনী লড়াইয়ে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, সেই অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে জামায়াত আমির স্বীকার করেছেন যে, অনেকেই আজ ফলাফলে ব্যথিত ও হতাশ। তবে কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি একটি নতুন আশার আলো দেখিয়েছেন। ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, বিগত নির্বাচনে জামায়াতের শক্তি প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়ে এবার ৭৭টি আসনে পৌঁছেছে, যা দলটিকে সংসদের অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী ব্লকে পরিণত করেছে। এই অগ্রগতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি কর্মীদের ধৈর্য ধরার এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

বিস্ময়করভাবে, নিজের পোস্টে বিএনপির ২০০৮ সালের ভরাডুবির প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান এক ঐতিহাসিক তুলনা তুলে ধরেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ২০০৮ সালে বিএনপি মাত্র ৩০টি আসনে নেমে এলেও দীর্ঘ ১৮ বছরের কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে ২০২৬ সালে তারা আবার সরকার গঠন করেছে। এই উপমার মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, রাজনীতির ভাগ্য পরিবর্তনশীল এবং জামায়াতের লক্ষ্য এখন দীর্ঘমেয়াদী। মানুষের আস্থা অর্জন এবং ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনাই হবে তাদের আগামী দিনের মূল এজেন্ডা। কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, বরং একটি ন্যায়বিচারপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ার যে আন্দোলন জামায়াত শুরু করেছিল, তা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন।


টাইম ম্যাগাজিনে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ ছক: কেমন হবে নয়া বাংলাদেশ?

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ০৯:৫৫:০২
টাইম ম্যাগাজিনে তারেক রহমানের ভবিষ্যৎ ছক: কেমন হবে নয়া বাংলাদেশ?
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার মাত্র সাত সপ্তাহের মাথায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের কেন্দ্রে চলে এসেছেন তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বাধীন বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের পর এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর তাঁর আগামী দিনের পরিকল্পনার দিকে। সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত সাময়িকী 'টাইম'-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি রাষ্ট্র পুনর্গঠন, অর্থনীতি এবং ভূ-রাজনীতি নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে একটি ক্ষতবিক্ষত রাষ্ট্রকে কীভাবে তিনি ঐক্যবদ্ধ করবেন, তার এক বিস্তারিত রূপরেখা এই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে। তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়, বরং প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনাই হবে তাঁর প্রথম কাজ।

অর্থনৈতিক ফ্রন্টে তারেক রহমানের পরিকল্পনা বেশ উচ্চাভিলাষী। আওয়ামী লীগ আমলের প্রবৃদ্ধির আড়ালে থাকা বেকারত্ব এবং মুদ্রাস্ফীতির সংকট কাটাতে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং নারী ভাতার মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালুর কথা বলেছেন। বিশেষ করে ডিজিটাল অর্থনীতিতে তরুণদের সম্পৃক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্ববাজারের দুয়ার খুলে দেওয়াকে তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে এই বিশাল অর্থায়ন কীভাবে সম্ভব হবে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে কৌতূহল রয়ে গেছে।

কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তারেক রহমান এক নতুন এবং ভারসাম্যপূর্ণ কৌশলের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ভারতের সঙ্গে অমীমাংসিত তিস্তা চুক্তিসহ বিভিন্ন চুক্তিতে থাকা অসামঞ্জস্য দূর করে দেশের স্বার্থ রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং শুল্ক সুবিধা আদায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ইসলামপন্থী দল বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান এবং ছাত্র আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৈরি হওয়া নতুন রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়েও তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তারেক রহমানের মতে, গণতন্ত্র রক্ষায় সবার ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি হলেও জনগণের রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই হবে তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য।


ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশবাসীকে ধন্যবাদ তারেক রহমানের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ ২০:১০:১৫
ঐতিহাসিক জয়ের পর দেশবাসীকে ধন্যবাদ তারেক রহমানের
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর দেশের জনগণের প্রতি আনুষ্ঠানিক কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নির্বাচনী ফল ঘোষণার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কথা বলতে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের সমর্থন ও আস্থার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় উপস্থিত সমর্থক ও সাধারণ নাগরিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে তিনি বলেন, তাঁর প্রতি যে ভালোবাসা ও আস্থা জনগণ দেখিয়েছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে আগামীর পথচলায় দেশবাসীর দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন তারেক রহমান। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জাতীয় সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। শুক্রবার দুপুর থেকেই গুলশানে তাঁর বাসভবনের সামনে বিপুল সংখ্যক মানুষ জড়ো হতে শুরু করেন।

দুপুরে বনানী এলাকায় অবস্থিত নৌবাহিনী সদর দপ্তর মসজিদে নামাজ আদায়ে যাওয়ার সময় বাসভবনের গেটে অপেক্ষমাণ মানুষের ভিড় দেখে তিনি গাড়ি থামান। নিজেই গাড়ির দরজা খুলে উপস্থিত জনতার সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং কয়েকজনের পরিচয় জানতে চান। এ সময় সমর্থকেরা “নতুন বাংলাদেশ” গড়ার প্রত্যয়ে তাঁর পাশে থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করলে তিনি হাসিমুখে তাদের ধন্যবাদ জানান।

সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় তারেক রহমান পুনরায় বলেন, জনগণের ভালোবাসাই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি সকলের কাছে দোয়া চেয়ে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। উপস্থিত জনতার অনেকে এটিকে একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন যেখানে বিজয়ের উচ্ছ্বাসের মধ্যেও সংযত ও কৃতজ্ঞ বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।

-রফিক


নিরঙ্কুশ জয়ের পরে তারেক রহমানকে গুলশান কার্যালয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১৯:০৪:৫৮
নিরঙ্কুশ জয়ের পরে তারেক রহমানকে গুলশান কার্যালয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা 
জয়ের পর গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমানকে মির্জা ফখরুলের শুভেচ্ছা। ছবি : BNP Media Cell

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনে বিপুল আসনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। এ উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা বিনিময় পর্বে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই বিজয় জনগণের রায় ও আস্থার প্রতিফলন। তিনি দলীয় চেয়ারম্যানের নেতৃত্ব, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং সাংগঠনিক ঐক্যের কথা উল্লেখ করে অভিনন্দন জানান।

-রাফসান


কবে সরকার গঠন করবে জানাল মির্জা ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১৫:২৫:৩৯
কবে সরকার গঠন করবে জানাল মির্জা ফখরুল
ছবি: সংগৃহীত

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান। বেসরকারি ফলাফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের প্রেক্ষাপটে সরকার গঠনের প্রস্তুতি চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ সময় দেশে এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসন বিদ্যমান ছিল, যার ফলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যখন গণতন্ত্রের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয় এবং বিরোধী দলগুলোর কার্যক্রম সীমিত করে দেওয়া হয়, তখন রাজনৈতিক শূন্যতায় উগ্রপন্থী শক্তি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতে ইসলামীর যে উত্থান দেখা গেছে, তার পেছনে পূর্ববর্তী সরকারের দমন-পীড়নমূলক নীতি দায়ী।

এ প্রসঙ্গে তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ-এর সমালোচনা করে বলেন, বিরোধী দলকে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়ার সুযোগ না দেওয়া এবং স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করার ফলেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, জনগণ সাম্প্রতিক নির্বাচনে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তিনভাগের দুইভাগ আসনে জয় পেয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, জনগণ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও কল্যাণমুখী রাজনীতির প্রত্যাশা করে রায় দিয়েছে। তাঁর মতে, এই ফলাফল দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে এবং রাজনৈতিক অপপ্রবণতা মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

-রফিক


জয়ী হয়েই কঠোর ঘোষণা দিলেন হাসনাত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১৪:২৩:৪৭
জয়ী হয়েই কঠোর ঘোষণা দিলেন হাসনাত
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ১১৬টি কেন্দ্রের সবকটিতে জয় পেয়ে নজির স্থাপন করেছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি বেসরকারি ফলাফলে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেন। বিজয়ের পর গভীর রাতে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও টেন্ডার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেবিদ্বারে এ মুহূর্ত থেকে ‘চাঁদার কবর’ ঘোষণা করা হলো। সরকারি অফিস-আদালতে ঘুস বা অনিয়ম চলবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা দায়িত্ব নিতে আসবেন তারা যেন অনৈতিক লেনদেনের চিন্তা বাদ দেন। নিয়মের বাইরে কোনো টেন্ডারবাজি বা প্রভাব খাটানো বরদাশত করা হবে না। এমনকি নিজের ঘনিষ্ঠজনও অন্যায় করলে ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নবনির্বাচিত এই প্রার্থী ব্যবসায়ী, সিএনজি স্টেশন মালিক, পেশাজীবী ও শ্রমজীবী মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকারি ফি ছাড়া অন্য কোনো চাঁদা দেওয়া লাগবে না। কেউ যদি অবৈধভাবে অর্থ দাবি করে, তাকে আটক রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে বলেন তিনি। সংশ্লিষ্ট বাহিনীকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, দেবিদ্বারের কোনো সরকারি কর্মকর্তা ঘুসে জড়িত থাকলে তাকে এখানে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়া হবে না। মাদক ব্যবসা ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করা হবে বলেও ঘোষণা দেন। অতীতে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পরিচালিত মাদক চক্রের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, এখন থেকে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়েও সতর্কবার্তা দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। সরকারি নিয়মের বাইরে এক কোদাল মাটিও তোলা যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। টেন্ডারবাজি ও অবৈধ অর্থ লেনদেনের সঙ্গে যুক্তদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, তারা যদি সংশোধনের পথে ফিরে আসে, কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা করতে সহযোগিতা করা হবে।

-রাফসান


ফলাফল নিয়ে জামায়াতের নতুন বার্তা, কী সেটা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১৩:০৫:২৬
ফলাফল নিয়ে জামায়াতের নতুন বার্তা, কী সেটা
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শেষে ফলাফল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় দেশবাসীকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয় এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণ দিনভর শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত প্রাপ্ত বেসরকারি তথ্যে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের মিত্ররা ১৬৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত ও তাদের শরিকরা ৫৯টি আসনে এগিয়ে বা জয়ী হয়েছে বলে জানা গেছে।

ফেসবুক পোস্টে জামায়াত জানিয়েছে, ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করায় তারা কৃতজ্ঞ। তবে ফলাফল প্রস্তুত ও ঘোষণার পদ্ধতি নিয়ে দলটির সন্দেহ রয়েছে। তাদের দাবি, বিভিন্ন আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে তাদের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন এবং ফলাফলে অসংগতি দেখা গেছে। পাশাপাশি প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

দলটি বলেছে, এসব কারণে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে তারা তাৎক্ষণিক কোনো কর্মসূচি ঘোষণা না করে সমর্থক ও সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো না পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলা নতুন নয়। তবে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছ ব্যাখ্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

জামায়াতের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তারা একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ন্যায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। দলটির ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ভেতরেই তারা তাদের অবস্থান তুলে ধরতে চায়।

নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন পর্যবেক্ষকদের প্রধান আগ্রহের বিষয়।

-শরিফুল


বিজয়ে মিছিল নয়, দোয়ার ডাক বিএনপির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১০:৪৫:৪৬
বিজয়ে মিছিল নয়, দোয়ার ডাক বিএনপির
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে বিপুল বিজয়ের পর দেশজুড়ে উচ্ছ্বাসের আবহ তৈরি হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে সংযম প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিজয় উদযাপন ঘিরে কোনো ধরনের আনন্দ মিছিল বা সমাবেশ না করার নির্দেশনা দিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি বিপুলসংখ্যক আসনে নির্বাচিত হওয়ায় ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী দলটির পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানানো হয়েছে।

দলীয় ঘোষণায় জানানো হয়, শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুমা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়া-এর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মসজিদে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে এ দোয়া অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পরও বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনন্দ মিছিল, শোভাযাত্রা বা জনসভা আয়োজন করা যাবে না। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

একই সঙ্গে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণকে দেশব্যাপী আয়োজিত দোয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শুধু মুসল্লিদের জন্যই নয়, সারা দেশের মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য উপাসনালয়েও নিজ নিজ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের সৃষ্টিকর্তার নিকট প্রার্থনায় অংশ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সূত্র: BNP Media Cell


পাঁচ আসনে প্রার্থীদের ভোট বর্জন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১০:৪১:১২
পাঁচ আসনে প্রার্থীদের ভোট বর্জন
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলেও কয়েকটি আসনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে পাঁচজন প্রার্থী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট আসনগুলোতে ভোটকেন্দ্র দখল, জাল ভোট, প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব ও এজেন্টদের বের করে দেওয়ার মতো অভিযোগ সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশন এখনো এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিএনপির সমর্থন পাওয়া গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আ. জসিম উদ্দিন ভোটগ্রহণ শেষে ফেসবুক লাইভে এসে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে এবং অবৈধভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। উল্লেখ্য, আসনটিতে প্রথমে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন চারবারের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। তবে ঋণখেলাপির মামলায় আদালত তার প্রার্থিতা বাতিল করলে জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দেয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমও অনিয়ম ও প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করেন। তিনি অতীতে বিএনপির মনোনয়নে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং ২০০১ সালে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এবার দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। ভোটের আগের রাতেই নিরাপত্তা ও নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

খাগড়াছড়িতে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মোস্তফা ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই নির্বাচন বর্জনের কথা জানান। তিনি অভিযোগ করেন, প্রশাসনের আচরণ নিরপেক্ষ ছিল না এবং তার কর্মীরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পাননি। পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই অভিযোগ স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দিনাজপুর-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুস্তম আলী প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে পেশিশক্তি প্রয়োগ ও অর্থের বিনিময়ে ভোট কেনাবেচার অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, তার এজেন্টদের কেন্দ্রে বসতে দেওয়া হয়নি এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অসহযোগিতামূলক আচরণ করা হয়েছে। এসব কারণ দেখিয়ে তিনি ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনেও অনিয়ম, কারচুপি ও প্রশাসনিক একপেশে আচরণের অভিযোগ তুলে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবির সিগমা (ফুটবল প্রতীক) নির্বাচন বর্জনের কথা জানান। তার অভিযোগ, বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রভাব বিস্তারের ঘটনা ঘটেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পর্যায়ে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হলেও স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয়। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় তদন্তই নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে আস্থার সংকট দূর করতে সহায়ক হতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের আগে এসব অভিযোগ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়।

-রফিক


৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে দেশ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১০:৩৫:২০
৩৫ বছর পর পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পাচ্ছে দেশ
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে নিরঙ্কুশ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের নেতৃত্বাধীন জোট। বিভিন্ন কেন্দ্রের গণনা শেষে ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি জোট ২১০টি আসনে জয় পেয়েছে, যা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়েও বেশি আসন নিশ্চিত করেছে। এর ফলে দলটির নেতৃত্বে সরকার গঠনের সাংবিধানিক পথ প্রায় নিশ্চিত হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নতুন সরকারের নেতৃত্ব দেবেন। যদি তা চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে প্রায় সাড়ে তিন দশক পর বাংলাদেশ আবারও একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে। ইতিহাস অনুসারে, সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কাজী জাফর আহমেদ। ১৯৯০–এর পর থেকে দেশের শাসনব্যবস্থায় নারী নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়, যেখানে দীর্ঘ সময় সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার রাতে ভোটগণনা শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন আসনের বেসরকারি ফলাফল পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের ফলাফল শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক গতিপথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে। ২০০৮–এর পর দীর্ঘ সময় ধরে একক আধিপত্যের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই ফলাফলকে অনেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের সূচনা হিসেবেও দেখছেন।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি সংযমের আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। দলটির প্রেস উইং এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরঙ্কুশ বিজয় উদযাপনে কোনো ধরনের মিছিল বা শোভাযাত্রা আয়োজন করা হবে না। বরং শুক্রবার বাদ জুম্মা সারা দেশে শুকরিয়া আদায় ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও প্রার্থনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতে এই পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ।

চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের পর নতুন সংসদের শপথ ও সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতেই রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে ক্ষমতার নতুন সমীকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: