নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতায় আস্থা রাখছে বিএনপি: ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ১২:২৯:৪৪
নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতায় আস্থা রাখছে বিএনপি: ফখরুল
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন পেশাদারিত্ব ও যোগ্যতার সঙ্গে জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা রেখেই বিএনপি আগামী নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ে বিএনপির যে আপত্তি ও পর্যবেক্ষণ ছিল, তা গত ১৮ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে কমিশন দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবে বলেই দলটি আশাবাদী।

নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিএনপির কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় কিছু জটিলতা বা সমস্যা দেখা দেওয়া নতুন কোনো বিষয় নয়। অতীতের নির্বাচনগুলোতেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শন ধারণ করেই দলটি বাংলাদেশকে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে চায়। একই সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই বিএনপির রাজনৈতিক লক্ষ্য।

এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

দলের প্রতিষ্ঠাতার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানান। সকাল থেকেই রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে হাজার হাজার নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।

-রফিক


মব সৃষ্টি ও ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি: রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ১২:১৭:২১
মব সৃষ্টি ও ম্যাজিস্ট্রেটকে হুমকি: রুমিন ফারহানাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগ এনে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহানের স্বাক্ষরে রবিবার রাতে এই নোটিশ প্রদান করা হয়।

নোটিশে আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টার মধ্যে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সরাসরি উপস্থিত হয়ে লিখিত ও মৌখিকভাবে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির না হলে প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ জানুয়ারি বিকেল আনুমানিক ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ইসলামপুর এলাকায় রুমিন ফারহানা একটি নির্বাচনি সমাবেশ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সমাবেশে প্রায় চার থেকে পাঁচ শতাধিক লোকের উপস্থিতিতে বৃহৎ আকারের মঞ্চ নির্মাণ করে মাইক ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করা হয়, যা রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা ২০২৫-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

নোটিশে আরও বলা হয়, সমাবেশটি বন্ধ করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে গেলে রুমিন ফারহানা তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের প্রতি হুমকিসূচক ভাষা ব্যবহার করেন এবং অশোভন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করেন।

এ সময় তার উপস্থিত কর্মী ও সমর্থকরাও উত্তেজিত হয়ে মারমুখী আচরণ প্রদর্শন করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলে। নোটিশে এই ঘটনাকে ‘মব’ সৃষ্টি করে বিচারিক কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার শামিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হওয়ায় জনমনে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, যা একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশের পরিপন্থী।

এর আগে, সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুবকর সরকারের স্বাক্ষরিত পৃথক এক চিঠিতে একই ঘটনায় ‘মব’ সৃষ্টির অভিযোগ তুলে নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। ওই চিঠি সিনিয়র সিভিল জজের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ওইদিন ইসলামাবাদ এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনি সমাবেশটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযানের সময় এক সমর্থককে ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রুমিন ফারহানা প্রকাশ্যে আপত্তি তোলেন।

-রফিক


ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উত্তেজনা: ডিসির কার্যালয়ে তলব পেলেন রুমিন ফারহানা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৯ ১০:০৫:৫৭
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উত্তেজনা: ডিসির কার্যালয়ে তলব পেলেন রুমিন ফারহানা
ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে সশরীরে হাজির হয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার। রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাতে রিটার্নিং অফিসার শারমিন আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক জরুরি চিঠিতে আগামী ২২ জানুয়ারি সকাল ১১টায় তাঁর কার্যালয়ে উপস্থিত থাকার জন্য রুমিন ফারহানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত নির্বাচনী প্রচারণায় আইন বহির্ভূত জনসভা আয়োজন এবং দায়িত্ব পালনরত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগে এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রিটার্নিং অফিসারের প্রেরিত কারণ দর্শানো নোটিশের বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নির্বাচনী বিধিমালা স্পষ্ট উপেক্ষা করে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ লোকের উপস্থিতিতে একটি জনসভা আয়োজন করেছিলেন। সেখানে একটি বিশালাকার স্টেজ নির্মাণ করে তিনি রাজনৈতিক বক্তব্য প্রদান করেন যা বর্তমান নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। অভিযোগ রয়েছে যে, উক্ত জনসভা চলাকালীন নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেখানে উপস্থিত হয়ে আইনসম্মতভাবে সভাটি বন্ধ করার নির্দেশ দিলে রুমিন ফারহানা তাঁর সাথে অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কেবল অপমানই করেননি বরং বিভিন্ন ধরণের হুমকিও প্রদান করেছেন যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

এর আগে সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আবুবকর সরকার সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত শনিবার সিনিয়র সিভিল জজ আশরাফুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে পাঠানো সেই চিঠিতে রুমিন ফারহানার কর্মকাণ্ডকে নির্বাচনী ময়দানে বিশৃঙ্খলা বা ‘ওয়েব’ সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ওই চিঠিতে প্রার্থীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। বর্তমানে জেলা রিটার্নিং অফিসারের এই তলব এবং বিচারিক কমিটির সক্রিয় অবস্থানের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন এক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ২২ জানুয়ারি রুমিন ফারহানার উপস্থিতিতে তাঁর প্রদত্ত ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে তাঁর প্রার্থিতা বা প্রচারণার বিষয়ে আরও কঠোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


নির্বাচন কমিশনে একগুচ্ছ নালিশ নিয়ে মির্জা ফখরুল

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৯:০১:৫০
নির্বাচন কমিশনে একগুচ্ছ নালিশ নিয়ে মির্জা ফখরুল
ইসিতে বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা মহানগরীর নির্বাচনী এলাকাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে ‘বহিরাগত’ ভোটার অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার একটি বিশেষ রাজনৈতিক কৌশলের অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। বুধবার সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে কমিশনারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ইসির কাছে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল তাদের মনোনীত ও সমর্থিত প্রার্থীদের জয়ী করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভোটারদের এলাকা পরিবর্তন করে ব্যাপক হারে ঢাকা মহানগরীর ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করছে। একে একটি অনৈতিক কূটকৌশল হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন যে কত সংখ্যক ভোটার, কোন এলাকা থেকে ঢাকার কোন কোন সংসদীয় আসনে কী উদ্দেশ্যে স্থানান্তরিত হয়েছেন, তার বিস্তারিত বিবরণ তারা জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষায় এই ভোটারদের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভোটার স্থানান্তরের পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ এনেছে বিএনপি। মির্জা ফখরুল জানান যে জামায়াতের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের বিকাশ নম্বর এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি সংগ্রহ করছে। একে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অভিহিত করে বিএনপি এই বিষয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

নির্বাচনে সকল দলের জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন যে বিএনপি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে বিশ্বাসী বলেই তাদের চেয়ারম্যান তাঁর ব্যক্তিগত সফর বাতিল করেছেন। অথচ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রধানসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে দলীয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই বৈষম্য দূর করতে ইসিকে কঠোর হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে বিএনপি কিছু সুনির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।

দলটির অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকার রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ সুপার এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা একটি বিশেষ দলের পক্ষে সরাসরি কাজ করছেন। তদন্তপূর্বক এসব কর্মকর্তাদের দ্রুত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান মির্জা ফখরুল। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সবশেষে পোস্টাল ব্যালট বিতরণের ক্ষেত্রেও সর্তকতা অবলম্বনের দাবি জানায় বিএনপি। দলটি অনুরোধ করেছে যে পোস্টাল ব্যালটে বিএনপির দলীয় প্রতীক বা মার্কা যাতে সঠিকভাবে ছাপা হয় এবং মুদ্রণ পরবর্তী যাচাই শেষে দ্রুততম সময়ে তা বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়।


জামায়াত-জোটের এনসিপি: ৩০ আসনের মধ্যে ২৭টিতে প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৭:৪০:২৫
জামায়াত-জোটের এনসিপি: ৩০ আসনের মধ্যে ২৭টিতে প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে শুরু করেছে। জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে দলটির জন্য বরাদ্দকৃত ৩০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ২৭টিতে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ও ছবি রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রার্থীদের প্রচারণা পোস্টার প্রকাশের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করা হয়।

এনসিপির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই তালিকায় বেশ কিছু হেভিওয়েট ও পরিচিত মুখের নাম উঠে এসেছে। ঢাকা-১১ আসনে লড়বেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং ঢাকা-৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাওয়ারী। এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহকে কুমিল্লা-৪ আসন এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে পঞ্চগড়-১ আসনের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। তালিকায় আরও রয়েছেন রংপুর-৪ আসনে দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং নোয়াখালী-৬ আসনে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ।

রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আসনের মধ্যে ঢাকা-১৮ আসনে আরিফুল ইসলাম আদীব, ঢাকা-৯ আসনে জাবেদ রাসিন, ঢাকা-১৯ আসনে দিলশানা পারুল এবং ঢাকা-২০ আসনে নাবিলা তাসনিদ এনসিপির প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। ঢাকার বাইরে লক্ষ্মীপুর-১ আসনে মাহবুব আলম, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, নরসিংদী-২ আসনে সারোয়ার তুষার এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আবদুল্লাহ আল আমিনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এস এম সুজা উদ্দিন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার দুটি আসনেও প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করেছে দলটি; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মাওলানা আশরাফ মাহদী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে মোহাম্মদ আতাউল্লাহ নির্বাচন করবেন। চট্টগ্রামের পটিয়া বা সংশ্লিষ্ট জোনে চট্টগ্রাম-৮ আসনে জোবাইরুল হাসান আরিফ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তালিকায় আরও রয়েছেন দিনাজপুর-৫ আসনে মো. আবদুল আহাদ, নোয়াখালী-২ আসনে সুলতান মুহাম্মদ জাকারিয়া, কুড়িগ্রাম-২ আসনে আতিক মুজাহিদ, ময়মনসিংহ-১১ আসনে জাহিদুল ইসলাম এবং টাঙ্গাইল-৩ আসনে সাইফুল্লাহ হায়দার। এছাড়া গাজীপুর-২ আসনে আলী নাছের খান, মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে মাজেদুল ইসলাম, পিরোজপুর-৩ আসনে শামীম হামিদী এবং নাটোর-৩ আসনে এস এম জার্জিস কাদির ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে নির্বাচনি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবেন।

এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, ৩০টি নির্ধারিত আসনের মধ্যে ২৭টি এখন চূড়ান্ত। বাকি তিনটি আসনের প্রার্থীদের নামও খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘোষণা করা হবে।

জোটগত প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জামায়াত ও এনসিপিসহ ১০টি রাজনৈতিক দল ২৫৩টি আসনে নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণা দিয়েছিল। শুরুতে এই জোটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তারা এককভাবে ২৬৮ আসনে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাকি ৩২ আসনে অন্যদের সমর্থনের ঘোষণা দেয়। ইসলামী আন্দোলন সরে যাওয়ায় জোটে নতুন করে আসন বণ্টনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এনসিপি ইতোমধ্যে তাদের ৪৭ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দিলেও সমঝোতা অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ৩০টি আসন পেয়েছে। তবে জোটের আসন সংখ্যা বাড়াতে তারা বর্তমানে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জামায়াত এখনো ইসলামী আন্দোলনের শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, যার ওপর ভিত্তি করে এনসিপির আসন সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা বিভাগ গড়বে বিএনপি: তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৪:২৪:০৮
জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা বিভাগ গড়বে বিএনপি: তারেক রহমান
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি স্বতন্ত্র বিভাগ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই বিভাগটি জুলাই আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী ও তাদের পরিবারগুলোর দায়িত্ব নেবে এবং রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির কাঠামোর মধ্যে তাদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করবে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ–এর মিলনায়তনে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তারেক রহমান।

মতবিনিময় সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী**সহ দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান–ও সভায় অংশ নেন।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল। সেই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, আহত ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলোর দেখভাল করা হতো।

তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতরাও রাষ্ট্র ও স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করেছেন। তাই তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করা নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব।

তারেক রহমান বলেন, “আমরা যারা হারিয়ে গেছেন, তাদের ফিরিয়ে আনতে পারব না। কিন্তু যারা বেঁচে আছেন, যারা পরিবার নিয়ে কষ্টের মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্র হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।” তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন এবং সে কারণেই তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই গণ্য করা উচিত।

এই যুক্তির ভিত্তিতে তিনি জানান, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ভেতরেই একটি নতুন বিভাগ সৃষ্টি করা হবে, যার মূল দায়িত্ব হবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারগুলোর সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা।

বক্তব্যে তারেক রহমান ঐতিহাসিক তুলনা টেনে বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা জীবন দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। আর ২০২৪ সালে যারা রাজপথে নেমে লড়াই করেছেন, তারা সেই অর্জিত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে অংশ নিয়েছেন। এই ধারাবাহিকতার কারণেই দুই প্রজন্মের যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে একই নৈতিক মর্যাদায় দেখার কথা বলেন তিনি।

-রফিক


সাড়ে ১২ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক: নির্বাচনের পথরেখা নির্ধারণ করল জামায়াত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১১:৩৮:৪০
সাড়ে ১২ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক: নির্বাচনের পথরেখা নির্ধারণ করল জামায়াত
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক রণকৌশল নির্ধারণে বড় ধরণের তৎপরতা শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বিশেষ ও দীর্ঘকালীন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এই ম্যারাথন বৈঠকটি বিরতিহীনভাবে চলে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। অর্থাৎ টানা সাড়ে ১২ ঘণ্টা ব্যাপী এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আগামী নির্বাচন এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।

দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সংগঠনের উচ্চপর্যায়ের প্রায় সকল শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত নেতাদের মধ্যে ছিলেন নায়েবে আমিরবৃন্দ, সেক্রেটারি জেনারেল এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলবৃন্দ। এছাড়া কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দও এই দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবারের বিশেষ বৈঠকে কেবল রাজনৈতিক নেতারাই নন, বরং বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। নারী নেতৃত্ব এবং বিশেষজ্ঞ মহলের অন্তর্ভুক্তি দলটির নির্বাচনি প্রস্তুতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সামগ্রিক রূপরেখা। এতে আসন্ন নির্বাচনের জন্য দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত নির্বাচনি ইশতেহার এবং একটি বিশেষ 'পলিসি পেপার' নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা ও সংস্কার করা হয়। জামায়াত নেতারা মনে করছেন, একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। সেই লক্ষ্যে ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিশেষ সহায়ক হবে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া দেশের বর্তমান সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী প্রচারণায় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও নেতারা তাদের উদ্বেগ ও প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।

নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষ্যে এই বৈঠকে আমিরে জামায়াতের দেশব্যাপী সফরের একটি আনুষ্ঠানিক সফরসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২২ জানুয়ারি রাজধানী ঢাকায় সফরের মধ্য দিয়ে প্রচার কার্যক্রম শুরু করবেন ডা. শফিকুর রহমান। এরপর ২৩ ও ২৪ জানুয়ারি তিনি উত্তরবঙ্গসহ সারা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলায় সাংগঠনিক সফরে যাবেন এবং দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে জামায়াতের এই সাড়ে ১২ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক এবং বিশেষজ্ঞ পর্যায় থেকে শুরু করে নারী বিভাগকে যুক্ত করা একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভোটকেন্দ্রে ডিজিটাল নজরদারি বা সিসি ক্যামেরার দাবি এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে দলটির অনড় অবস্থান আগামী দিনের নির্বাচনি রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে। বৈঠক শেষে দলটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও এসব আলোচনার সারসংক্ষেপ প্রচার করা হয়েছে, যা তৃণমূল পর্যায়ে দলটির সক্রিয়তা বৃদ্ধির সংকেত দিচ্ছে।


ফেসবুকের শীর্ষ ১০০ কনটেন্ট ক্রিয়েটরে তারেক রহমান, ছাড়ালেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১০:২৪:১০
ফেসবুকের শীর্ষ ১০০ কনটেন্ট ক্রিয়েটরে তারেক রহমান, ছাড়ালেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও 
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত ব্যক্তিত্ব এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবার আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পরিসরে নতুন এক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। সামাজিক মাধ্যম বিশ্লেষণভিত্তিক ওয়েবসাইট সোশ্যাল ব্লেড প্রকাশিত ফেসবুকের শীর্ষ ১০০ কনটেন্ট ক্রিয়েটরের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।

সোশ্যাল ব্লেডের ‘টপ হান্ড্রেড ফেসবুক কনটেন্ট ক্রিয়েটরস বাই সোশ্যাল’ তালিকা অনুযায়ী, তারেক রহমানের অবস্থান ৬৪ নম্বরে। এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে ফেসবুকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে কতটা কনটেন্ট তৈরি ও পোস্ট করা হচ্ছে সে তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে।

তালিকাটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ফেসবুকে কনটেন্ট পোস্টের সংখ্যার বিচারে তারেক রহমানের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর চেয়েও এগিয়ে। অর্থাৎ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার মাত্রা ও কনটেন্ট উৎপাদনের ক্ষেত্রে তিনি অনেক আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ছাড়িয়ে গেছেন।

সোশ্যাল ব্লেডের সংজ্ঞা অনুযায়ী, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ বলতে শুধু নিজে পোস্ট দেওয়া ব্যক্তিকে বোঝানো হয় না; বরং যাদের ঘিরে ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি কনটেন্ট তৈরি, শেয়ার ও আলোচনা হয়তাদেরই এই শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেই হিসাবে, তারেক রহমান বর্তমানে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক নেতাদের একজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

-BNP Media Cell


মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে যাবেন- নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস রাখার আহবান

মোঃ মাসুদ রানা
মোঃ মাসুদ রানা
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ২১:২০:৪৬
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে যাবেন- নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস রাখার আহবান

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র (ইসি) বাতিল ঘোষণা করলেও আশা ছাড়েনি দলের নেতাকর্মী। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে তার প্রার্থিতা বাতিলের রায় দেয় (ইসি)।

তবে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সির প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এদিকে বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, হাইকোর্টের রায়ে তিনি প্রার্থিতা ফিরে পেতে পারেন,তবে নেতাকর্মীদের ঐক্য বদ্ধ হয়ে থাকার আহবান করেন। মন্জুরুল আহসান মুন্সীর তার ভেরিফাই আইডি থেকে দেবীদ্বার বাসির উদ্দেশ্য লিখেন' প্রিয় দেবিদ্বারবাসী ও আমার দলের নেতাকর্মী ভাইয়েরা,দৃঢ় বিশ্বাস ও ধৈর্য রাখুন।

আল্লাহই সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সের করা পৃথক আবেদনের (লিভ টু আপিল) শুনানি নিয়ে ৮ জানুয়ারি আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আট সপ্তাহের জন্য হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেন। এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে মঞ্জুরুল আহসান আবেদন করেন, যা বুধবার চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে।

আদালতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান ও আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন শুনানিতে ছিলেন। আইডিএলসি ফাইন্যান্সের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী বিভূতি তরফদার শুনানিতে ছিলেন।

পরে আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন বলেন, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্স থেকে মাম পাওয়ার লিমিটেড ঋণ নেয়। মাম পাওয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুরুল আহসান। প্রিমিয়ার ব্যাংককে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। ব্যাংক ঋণ পুনঃ তফসিল করেছে। আইডিএলসির সঙ্গেও সেটেলমেন্ট হয়েছে; এর অংশ হিসেবে ডাউনপেমেন্ট দেওয়া হয়েছে। এ মামলার সঙ্গে তাঁর (মঞ্জুরুল আহসান) মনোনয়নের সম্পর্ক নেই।এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় জেলা উত্তর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রেজভিউল আহসান মুন্সী তার ভেরিফাই আইডি থেকে দেবীদ্বার বাসির উদ্যোগে বলেন- প্রিয় সহযোদ্ধারা,আশা হারাবেন না। এটা এখানেই শেষ নয়, এটা একটি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ মাত্র।

আজ নির্বাচন কমিশনের যে সিদ্ধান্ত এসেছে,সেটাই চূড়ান্ত নয়। আমাদের মামলা এখন উচ্চ আদালতের বিবেচনায় রয়েছে, এবং মামলার মেরিটের ওপরই সত্যের বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ। আমরা বিশ্বাস করি, উচ্চ আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে এবং আমাদের মনোনয়ন পুনর্বহাল হবে। ধৈর্য রাখুন,ঐক্যবদ্ধ থাকুন। ষড়যন্ত্রের সামনে মাথা নত নয় আইনের পথেই আমরা এগোবো। সত্যের শক্তি আমাদের সঙ্গেই আছে। ইনশাআল্লাহ, বিজয় আমাদেরই হবে। এই আসনে ‘১০ দলীয় নির্বাচনী জোট’ থেকে নির্বাচন করছেন এনসিপির আলোচিত প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীও হাসনাত আবদুল্লাহর মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলেন।তার সে আপিল নামঞ্জুর হয়। ফলে হাসনাত আবদুল্লাহর প্রার্থিতা বহাল থাকছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এ আসনটিতে আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, ইরফানুল হক সরকার (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ); মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (খেলাফত মজলিস); মো. আবু জসিম উদ্দিন (গণঅধিকার পরিষদ- জিওপি), মোফাজ্জল হোসেন (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস)। এই আসনে জামায়াতে ইসলামী,এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনী জোট হওয়ায় হাসনাত আব্দুল্লাকে আসন ছেড়ে দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন,জামায়াতে ইসলামীর নেতা সাইফুল শহিদ।


নেপাল, ভুটান ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ২০:৫৪:৫৪
নেপাল, ভুটান ও যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক
তারেক রহমানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সাক্ষাৎ। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর গুলশানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আজ শনিবার এক বিশেষ কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে পৃথকভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকসহ দক্ষিণ এশিয়ার দুই দেশ নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্রদূতরা। এই বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

দিনের শেষ ভাগে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে পৌঁছান। তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে অবগত হন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় এবং গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেন।

এর আগে বিকেলের দিকে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্রদূতরা। নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি বিকেল ৪টার দিকে গুলশান কার্যালয়ে যান। বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে তাঁর বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি প্রাধান্য পায়। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশের ভূমিকা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়। নেপালের রাষ্ট্রদূতের বিদায়ের পরপরই সেখানে পৌঁছান ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাসো কর্মা হামু দর্জি। তারেক রহমানের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকগুলোতে বিএনপি নেতারা দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে একটি শক্তিশালী ও জোরালো সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতিবেশী দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তারেক রহমান। রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ভাবনা এবং রাজনৈতিক সংস্কার বিষয়ে বিএনপির পরিকল্পনাগুলো গভীর আগ্রহের সাথে শোনেন।

এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠকগুলোতে বিএনপির পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং দলের যুগ্ম মহাসচিব ও বিএনপি চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির। বিশ্লেষকদের মতে, এক দিনে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দেশের প্রতিনিধিদের সাথে এই ধরণের বৈঠক আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিএনপির কূটনৈতিক অবস্থান এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তাদের সক্রিয় ভূমিকারই প্রতিফলন।

পাঠকের মতামত: