রাজনৈতিক ডামাডোল ও অর্থনৈতিক ভীতি: বিশ্ববাজারে রেকর্ড গড়ল সোনা ও রুপা

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে আজ সোমবার নজিরবিহীন এক উচ্চতা লক্ষ্য করা গেছে, যা পূর্বের সকল রেকর্ড ভেঙে এক নতুন ইতিহাস গড়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা যখন ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন, ঠিক তখনই মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে এমন বড় ধরনের উল্লম্ফন তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৬৩.৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য যে, দিনের শুরুতে কেনাবেচার এক পর্যায়ে এই দাম সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৮৯.৩৯ ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করেছিল, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বর্তমানের টালমাটাল পরিস্থিতির এক স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেবল বর্তমান বাজারদরই নয়, বরং ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম কোন দিকে যাবে সেই পূর্বাভাসও বেশ ঊর্ধ্বমুখী। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য নির্ধারিত মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারও আজ ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৬৬৯.৯০ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক নীতিগত হুঁশিয়ারি এই পরিস্থিতির নেপথ্যে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের নতুন করে শুল্ক আরোপের যে হুমকি, তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার বা অন্যান্য তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ খাত থেকে অর্থ সরিয়ে নিয়ে স্বর্ণ ও রুপার মতো স্থিতিশীল ও নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের বাণিজ্যিক যুদ্ধের আশঙ্কাই মূলত বাজারকে এই রেকর্ড উচ্চতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। যখনই বৈশ্বিক রাজনীতিতে এ ধরনের বড় সংকট তৈরি হয়, তখন সম্পদ রক্ষার জন্য স্বর্ণই হয়ে ওঠে বিনিয়োগকারীদের একমাত্র নির্ভরযোগ্য গন্তব্য।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও আজ নজিরবিহীন তেজ লক্ষ্য করা গেছে। একদিনের ব্যবধানে রুপার দাম ৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৯২.৯৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা রুপার বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় খবর। কেবল সোনা বা রুপাই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দাম বাড়ার এই প্রবণতা আজ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বর্তমানে প্লাটিনামের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৩৪৮.৩২ ডলারে। অন্যদিকে অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত মূল্যবান ধাতু প্যালাডিয়ামের প্রতি আউন্স মূল্য আজ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮০৮.৪৬ ডলারে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতি এটাই প্রমাণ করছে যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা বড় কোনো লাভের চেয়ে নিজেদের পুঁজি রক্ষার বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং তারা নিরাপদ সম্পদের দিকেই বেশি মনোযোগী হচ্ছেন।
স্টোনএক্সের প্রখ্যাত বাজার বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন এই পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর গভীর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, বর্তমানের এই রেকর্ড মূল্যের পেছনে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাই সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। তাঁর মতে, যখনই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তুঙ্গে থাকে, তখনই নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ করার প্রবণতা বা ‘সেফ হ্যাভেন ডিমান্ড’ কয়েক গুণ শক্তিশালী হয়। সিম্পসন আরও যোগ করেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির বর্তমান অস্থির পরিবেশের কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগকেই সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা মনে করছেন। এর ফলেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার মতো মূল্যবান ধাতুগুলো নতুন নতুন ইতিহাস গড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য মানুষ এখন এই খাতগুলোকেই বেছে নিচ্ছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিয়ে বিশ্লেষকদের রেকর্ড ভাঙা ভবিষ্যৎবাণী
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের মূল্যের রেকর্ড ভাঙার প্রবণতা কোনোভাবেই থামছে না। বিগত কয়েক বছর ধরে এই মূল্যবান ধাতুর বৈশ্বিক বাজারদর ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাঝেমধ্যে সাময়িক মূল্যের কিছুটা ওঠানামা দেখা গেলেও, দীর্ঘমেয়াদি ও সার্বিক মূল্যায়ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় স্বর্ণের বাজার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিগত ২০২০ সালেও বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের গড় মূল্য ছিল ১ হাজার ৫৮৫ ডলার। অথচ বর্তমান সময়ে বৈশ্বিক বাজারে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৫০০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে।
মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে স্বর্ণের দাম দ্বিগুণ হওয়ার পেছনে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বড় ভূমিকা রাখছে। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেদের রক্ষা করতে এবং মূলধনের মান ধরে রাখতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বিকল্প উপায় খোঁজেন। স্বাভাবিক অবস্থায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে অর্থ জমা রাখলে একটি নির্দিষ্ট সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায়। তবে বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার তুলনামূলকভাবে কম। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা তাদের সঞ্চিত সম্পদের সুরক্ষার জন্য একটি নিরাপদ ও স্থায়ী মাধ্যমের সন্ধান করছেন, আর এ ক্ষেত্রে স্বর্ণকে সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাজারে এমন বাড়তি চাহিদার কারণেই মূলত স্বর্ণের দাম আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
জার্মানির ডয়চে ব্যাংকের অর্থনীতিবিদদের পরিচালিত এক সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, বিশ্বের প্রধান প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন বিপুল পরিমাণে স্বর্ণ মজুত করা শুরু করেছে। বিশেষ করে চীন, রাশিয়া, ভারত এবং তুরস্কের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ধারাবাহিকভাবে স্বর্ণ কিনে তাদের নিজস্ব মজুত ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে চলেছে। ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার এই ধারাবাহিক প্রবণতা যদি আগামীতেও বজায় থাকে, তবে আগামী ২০৩১ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের মূল্য ৮ হাজার ডলারে গিয়ে পৌঁছাতে পারে, যা বর্তমান বাজারদরের প্রায় দ্বিগুণ।
স্বর্ণের এই বিশাল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত বিনিয়োগকারীদের বাইরেও এখন সম্পূর্ণ নতুন এক ক্রেতা শ্রেণির আবির্ভাব ঘটেছে। জার্মানির এলবিবিডব্লিউ (LBBW) ব্যাংকের বাজার বিশ্লেষক ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার কমার জোরালো সম্ভাবনা, বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের দুর্বল অবস্থান এবং কয়েন কিংবা বারের উচ্চ চাহিদার পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের বিনিয়োগকারীরাও এখন স্বর্ণের বাজার নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখছেন। ডিজিটাল এই ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ক্রিপ্টোর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা তাদের নিজস্ব বিনিয়োগের বড় ঝুঁকি এড়াতে বিপুল পরিমাণ সোনা কিনে রাখছেন। ফলশ্রুতিতে স্বর্ণের বাজারে নতুন ক্রেতার আগমনে এক ভিন্ন গতির সঞ্চার হয়েছে।
বিশ্ববাজারে সাধারণত স্বর্ণের মূল্য কীভাবে নির্ধারিত হয় এবং কেন এর দ্রুত ওঠানামা ঘটে—সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের মূল্যবান ধাতু বিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক মাইকেল হুসেহ মনে করেন, বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মতো স্থায়ী ও বড় ক্রেতারা এখন আন্তর্জাতিক বাজারের সিংহভাগ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছেন। ফলস্বরূপ প্রথাগত গহনা ক্রেতাদের মতো সাধারণ ও খুচরা ক্রেতারা প্রতিযোগিতায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। মূলত ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে সোনার বাজার এতটা চাঙ্গা থাকার পেছনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর এই আগ্রাসী ভূমিকাই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
অন্যদিকে বিজেড (BZ) ব্যাংকের অন্যতম গবেষণা বিশ্লেষক থমাস কুল্পের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ভিন্ন কারণ সামনে এসেছে। তিনি মনে করেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সারা বিশ্বে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধবিগ্রহ এবং নানামুখী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাই মূলত সোনার দাম এতটা আকাশচুম্বী হওয়ার প্রধান কারণ। বৈশ্বিক যেকোনো বড় সংকট বা মন্দার সময়ে বিনিয়োগকারীরা সোনাকে সবসময় সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।
স্বর্ণের এই বাজারদরের ভবিষ্যৎ ঠিক কী হতে পারে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে স্পষ্ট দ্বিমত লক্ষ্য করা গেছে। অর্থনীতিবিদদের সব পূর্বাভাস সবসময় শতভাগ না মিললেও, তারা বিভিন্ন যুক্তি সামনে আনছেন। বিশ্লেষক ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার অবশ্য মনে করেন যে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে সোনার দাম আবার দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার মতো বড় বা জোরালো কোনো অর্থনৈতিক কারণ এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যমান নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্তরে সোনা কেনার সামগ্রিক গতিও কিছুটা ধীর হয়ে এসেছে।
তা সত্ত্বেও ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষক মাইকেল হুসেহ তার দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসের পক্ষে অটল অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বে স্নায়ুযুদ্ধের মতো পুরোনো ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও মেরুকরণ আবার নতুন করে ফিরে আসছে। এমন যুদ্ধংদেহী ও চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত স্বর্ণে রূপান্তর করে ফেলতে পারে। যদি সত্যিই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এই পথে হাঁটে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৮ হাজার ডলারে গিয়ে ঠেকবে—এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসের বিপরীতে বিজেড ব্যাংকের বিশ্লেষক থমাস কুল্প অবশ্য কিছুটা সতর্ক ও বাস্তবসম্মত অবস্থান নিয়েছেন, তবে তিনিও বাজার নিয়ে আশাবাদী। তার হিসাব অনুযায়ী, আগামী ১২ মাসের মধ্যে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম অনায়াসে ৫ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের মৌলিক ও প্রথাগত যে অভ্যন্তরীণ চাহিদা, তা এখনো অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
/আশিক
স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও স্বস্তির খবর দিয়েছেন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ মূল্য পুনর্নির্ধারণে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। বাজুস মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নতুন মূল্য ঘোষণা করে, যা সেদিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। আজ শনিবার (১৮ জুলাই) সারাদেশে স্বর্ণের অলঙ্কার এই নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত একই দাম বহাল থাকবে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ (Pure Gold)-এর দাম কমে যাওয়ায় নতুন করে স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা, দেশীয় কাঁচা স্বর্ণের মূল্য এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা। উল্লেখিত সব দাম ১১.৬৬৪ গ্রাম বা এক ভরি স্বর্ণের জন্য প্রযোজ্য।
সংগঠনটি আরও স্পষ্ট করেছে যে, প্রকাশিত দামে সরকারি ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে স্বর্ণ বা রুপার অলঙ্কার বিক্রির সময় ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে অলঙ্কারের নকশা, কারুকাজ ও প্রস্তুতপ্রণালির ওপর নির্ভর করে মেকিং চার্জ বা মজুরি অতিরিক্ত যুক্ত হবে, যা প্রতিটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
চলতি বছর দেশের স্বর্ণবাজারে মূল্য পরিবর্তনের হারও ছিল উল্লেখযোগ্য। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মোট ৯১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ বার দাম বৃদ্ধি, ৪৬ বার দাম হ্রাস এবং একবার ভ্যাট সংক্রান্ত সমন্বয় করা হয়েছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামের ওঠানামা এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচা স্বর্ণের দামের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করছে সংগঠনটি।
-রাফসান
স্বর্ণ কিনতে সুখবর, একদিনেই বড় মূল্যহ্রাস
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম আরও ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এখন নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস নতুন এই মূল্য তালিকার ঘোষণা দেয়। সংগঠনটি জানায়, ওইদিন সকাল ১০টা থেকেই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। বুধবার (১৫ জুলাই) সারাদেশের জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই নির্ধারিত দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে।
বাজুসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের মূল্য কমে যাওয়ায় সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবণতা এবং স্থানীয় কাঁচামালের দামের পরিবর্তন বিবেচনায় এনে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা।
১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ কিনতে প্রতি ভরিতে গুনতে হবে ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা। অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা।
সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই মূল্যই দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা, কারুকাজ ও নির্মাণ ব্যয়ের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত মজুরি প্রযোজ্য হবে।
বাজুস স্পষ্ট করেছে, স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ কিংবা পারচেজের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট, মজুরি ও ব্যবহৃত পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে আগের নীতিই বহাল থাকবে।
চলতি বছরে দেশের স্বর্ণবাজারে দামের ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ এই সমন্বয়সহ ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত মোট ৯১ বার স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ বার দাম বেড়েছে, ৪৬ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হয়েছে।
-রফিক
চারবার দাম কমিয়ে জুয়েলারি বাজারে স্বস্তির খবর দিল বাজুস
দেশের বাজারে টানা কয়েক দফা দর ওঠানামার পর অবশেষে সাধারণ ক্রেতা ও জুয়েলারি ব্যবসায়ীদের জন্য স্বস্তির খবর দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সর্বশেষ পাঁচবারের মূল্য সমন্বয়ে চারবারই কমানো হয়েছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম। যার মধ্যে সর্বশেষ টানা দুই দফায় প্রতি ভরিতে মোট ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা কমিয়েছে সংগঠনটি। সোমবার (১৩ জুলাই) দাম কমানোর পর মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে দ্বিতীয় দফায় নতুন করে ভরিতে আরো ২ হাজার ১৫৮ টাকা হ্রাস করা হয়েছে, যা সকাল ১০টা থেকেই দেশব্যাপী কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের মূল্য নির্ধারণ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে পাকা স্বর্ণের (তেজাবি স্বর্ণ) দাম কমার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই নতুন মূল্য তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবারের তুলনায় মঙ্গলবারের এই দফায় ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা থেকে আরও কমেছে। এর আগে সোমবার সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। নতুন দাম কমার ফলে দুই দফায় মোট দাম কমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৯ ০০০ ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য বহাল থাকবে। তবে স্বর্ণের অলঙ্কার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ডিজাইন অনুযায়ী নির্ধারিত মজুরি আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে।
চলতি বছরে দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত মোট ৯১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৪৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৪৬ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাটের হার সমন্বয় করা হয়েছে। তবে স্বর্ণের দামের ক্ষেত্রে এমন বড় পতন হলেও বাজারে রুপার দাম সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা, ২১ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা।
/আশিক
বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে গেছে। একই সময়ে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, সুদের হার এবং বিনিয়োগ বাজার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের স্বর্ণবাজারেও পড়তে পারে এবং বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) শিগগিরই নতুন মূল্য নির্ধারণ করতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৩ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯৯৬ দশমিক ৭৬ মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে। এটি চলতি মাসের শুরু থেকে সর্বনিম্ন অবস্থান। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার বাজারেও দর কমেছে ২ দশমিক ৬ শতাংশ, যেখানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫ দশমিক ৭০ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হলেও এবার বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ বেশি ছিল তেলের বাজার এবং সম্ভাব্য সুদের হার বৃদ্ধির দিকে। সাধারণত সংকটের সময়ে স্বর্ণ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হলেও, উচ্চ সুদের আশঙ্কা সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদাকে কমিয়ে দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ফরেক্স ডটকমের বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেছেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে। এর ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে অথবা আরও বাড়াতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিক্রির চাপ অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রথমে ৩ হাজার ৮০০ ডলার, পরে ৩ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত নেমে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই দরপতনের পেছনে অন্যতম কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত। সোমবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ অর্থ ফেরতের (রিবেট) পরিকল্পনার কথাও জানান। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের ফিউচার মূল্য প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম বাড়লে পরিবহন, উৎপাদন ও জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার কমানোর পরিবর্তে দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে হতে পারে। আর উচ্চ সুদের পরিবেশ সাধারণত স্বর্ণবাজারের জন্য নেতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাজারের দৃষ্টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, বর্তমানে বাজারে প্রায় ৭৫ শতাংশ সম্ভাবনা ধরা হচ্ছে যে, আগামী সেপ্টেম্বর বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার আরও বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ কংগ্রেসে মুদ্রানীতি নিয়ে যে বক্তব্য দেবেন, সেখান থেকেও ভবিষ্যৎ সুদের দিকনির্দেশনা পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (CPI), উৎপাদক মূল্যসূচক (PPI), জুন মাসের খুচরা বিক্রির তথ্য এবং সাপ্তাহিক বেকার ভাতা আবেদনসংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এসব অর্থনৈতিক সূচক আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজার ও মূল্যবান ধাতুর দামে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।
বিশ্ববাজারে এই দরপতনের প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাজুস সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে পিওর গোল্ড ও রুপার দামের পরিবর্তন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
সবশেষ ১৩ জুলাই বাজুস প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা এবং রুপার দাম ১১৭ টাকা কমিয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ভ্যাটসহ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস।
-রফিক
এক ঘোষণায় কমল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন মূল্য?
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্য সমন্বয়ের ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম কমে যাওয়ায় সব ধরনের স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ মূল্য সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে কার্যকর হয়েছে।
সোমবার সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের ক্রয়মূল্য হ্রাস পাওয়ায় আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে স্বর্ণ ক্রেতারা কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও কিছুটা স্বস্তি পেলেন।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা দরে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী কোনো ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্যই কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা, কারুকাজ ও নির্মাণ ব্যয়ের ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত মজুরি যোগ হবে। একই সঙ্গে স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ বা পুরোনো গহনা বিক্রির ক্ষেত্রেও আগের নীতিমালাই বহাল থাকবে।
উল্লেখ্য, এর মাত্র তিন দিন আগে ১০ জুলাই বাজুস প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু স্থানীয় বাজারে বিশুদ্ধ স্বর্ণের দর কমে যাওয়ায় আবারও একই পরিমাণ অর্থ কমিয়ে নতুন মূল্য কার্যকর করা হয়েছে। ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে স্বর্ণের বাজারে উল্লেখযোগ্য মূল্য ওঠানামা দেখা গেল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে পিওর গোল্ডের ক্রয়মূল্যের পরিবর্তন—এসব বিষয় দেশের স্বর্ণের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য অস্থির থাকায় দেশীয় বাজারেও ঘন ঘন মূল্য সমন্বয় করতে হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৯০ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৪৪ বার দাম বেড়েছে, ৪৫ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার মূল্য বৃদ্ধি এবং ২৯ বার মূল্য হ্রাস পেয়েছিল।
-রাফসান
স্বর্ণবাজারে নতুন ধাক্কা, এক লাফে বাড়ল ভরির দাম
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা বিশুদ্ধ স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এক দফায় ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা।
বাজুসের প্রকাশিত সর্বশেষ মূল্যতালিকা অনুযায়ী, এই দাম গত শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং সোমবারও দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে একই দামে স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের দর বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সর্বশেষ মূল্য অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকায়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, এই মূল্য কেবল স্বর্ণের মূল্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অলঙ্কারের নকশা, কারুকাজ ও নির্মাণ ব্যয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত মজুরি যুক্ত হতে পারে। তবে নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করার সুযোগ নেই।
স্বর্ণবাজারে সাম্প্রতিক সময়ে মূল্য ওঠানামার প্রবণতা বেশ তীব্র। এর মাত্র একদিন আগে, ৯ জুলাই, বাজুস স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল। কিন্তু বিশুদ্ধ স্বর্ণের দর বাড়ায় আবারও নতুন মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে। এতে স্বর্ণের বাজারে অল্প সময়ের ব্যবধানে বড় ধরনের মূল্য পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
-রাফসান
সোনা-রুপার নতুন দাম কার্যকর, জানুন সর্বশেষ তালিকা
দেশের বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হলো মূল্যবান ধাতু স্বর্ণ ও রুপার দাম। স্থানীয় বাজারে খাঁটি স্বর্ণ (পিওর গোল্ড) ও রুপার মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। গত শুক্রবার (১০ জুলাই) ঘোষিত এই নতুন দর একই দিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং রোববার (১২ জুলাই) পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে সেই মূল্যেই স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি হচ্ছে।
বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মূল্য সমন্বয়ে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৬ টাকা, আর রুপার দাম বেড়েছে ১১৭ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দামের পরিবর্তন এবং দেশীয় বাজারে পিওর গোল্ড ও সিলভারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
নতুন দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা।
শুধু স্বর্ণ নয়, রুপার বাজারেও নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৭২৪ টাকায়। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ৫৪৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ৯০৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৯১৬ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব অনুমোদিত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য বহাল থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা, কারুকাজ ও মেকিং চার্জ আলাদাভাবে যুক্ত হতে পারে। এছাড়া স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভ্যাট আদায় করা যাবে না। অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রেও আগের নীতিমালা বহাল থাকবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর মাত্র একদিন আগে, অর্থাৎ ৯ জুলাই, বাজুস স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছিল। সেদিন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কারণে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও নতুন করে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
চলতি বছরে দেশের স্বর্ণের বাজারে মূল্য সমন্বয়ের হারও নজরকাড়া। এ পর্যন্ত ৮৯ বার স্বর্ণের দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪ বার দাম বেড়েছে, ৪৪ বার কমেছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। একই সময়ে রুপার দাম ৫৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৮ বার দাম বেড়েছে এবং ২৭ বার কমেছে।
-রাফসান
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিট সুবিধা, তবু কেন অনীহা ব্যাংকগুলোর?
দেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা খেলাপি ঋণ কমানো এবং আটকে থাকা অর্থ দ্রুত পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি এককালীন ‘এক্সিট সুবিধা’ চালু করলেও বাস্তব প্রয়োগে কাঙ্ক্ষিত গতি দেখা যাচ্ছে না। নীতিমালা জারির প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অনেক বেসরকারি ব্যাংক এখনো আবেদন গ্রহণ, সুদ সমন্বয় কিংবা ঋণ নিষ্পত্তির বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেয়নি। ফলে এই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিমালাটি খেলাপি ঋণ আদায়ে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু আর্থিক, আইনি ও নীতিগত জটিলতা রয়েছে। অন্যদিকে শিল্প উদ্যোক্তাদের দাবি, কেবল সুদ মওকুফ বা এককালীন ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে সহজ শর্তে নতুন অর্থায়নের ব্যবস্থা না হলে অধিকাংশ ঋণগ্রহীতার পক্ষে দায় পরিশোধ করা সম্ভব হবে না।
গত ২৯ জুন বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সার্কুলারের মাধ্যমে ঘোষণা দেয়, ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত 'মন্দ' ও 'ক্ষতিজনক' শ্রেণিতে থাকা ঋণ নির্দিষ্ট শর্তে এককালীন নিষ্পত্তির সুযোগ পাবে। তবে এই সুবিধা পেতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন, ঋণগ্রহীতার সঙ্গে ব্যাংকের সম্পর্ক এবং প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে যাচাইয়ের বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, যোগ্য ঋণগ্রহীতাকে এককালীন পুরো বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তবে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত পুনঃতফসিল করা ঋণ, স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ এবং সিএমএসএমই (CMSME) খাতের ঋণ এই সুবিধার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
ব্যাংকারদের মতে, বছরের পর বছর খেলাপি হয়ে থাকা ঋণ থেকে নগদ অর্থ উদ্ধার করা গেলে ব্যাংকগুলোর তারল্য বাড়বে এবং নতুন ঋণ বিতরণের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে। তবে একই সঙ্গে তারা বলছেন, বাস্তবায়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সুদ মওকুফের বিষয়টি। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে ঋণের সুদ মূলধনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন দায়ে পরিণত হয়। সেই সুদ ব্যাংকের আয় হিসেবে হিসাবভুক্ত হয়েছে, কর পরিশোধ করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশও বিতরণ করা হয়েছে। ফলে ইতোমধ্যে হিসাবভুক্ত আয় এখন মওকুফ করা আর্থিকভাবে সহজ নয় বলে মত দিচ্ছেন অনেক ব্যাংকার।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর বক্তব্য ভিন্ন। তাদের মতে, বর্তমানে অধিকাংশ খেলাপি শিল্প উদ্যোক্তার হাতে এককালীন ঋণ পরিশোধের মতো অর্থ নেই। অর্থ থাকলে তারা আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা পুনরায় চালু করতেন। উৎপাদন বন্ধ থাকলে নতুন নগদ প্রবাহ তৈরি হয় না, ফলে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতাও সৃষ্টি হয় না।
ব্যবসায়ীরা তাই বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সহজ শর্তে নতুন ঋণ দেওয়া হলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো আবার উৎপাদনে ফিরতে পারবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং একই সঙ্গে খেলাপি ঋণও ধীরে ধীরে আদায় করা সম্ভব হবে।
শিল্প পুলিশ ও উদ্যোক্তা সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, উচ্চ সুদহার, উৎপাদন ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং কার্যকর মূলধনের অভাবে পাঁচ শতাধিক শিল্পকারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হয়েছেন। শুধু তৈরি পোশাক শিল্পেই প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সম্প্রতি ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন স্কিম গঠন করেছে। ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য ব্যবহার করে পরিচালিত এই তহবিলের লক্ষ্য হলো আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন কার্যকর মূলধন সরবরাহ করা, যাতে তারা পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, শুধু এককালীন নিষ্পত্তির সুযোগ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। তার মতে, বন্ধ কারখানার মালিকদের হাতে যদি পর্যাপ্ত অর্থ থাকত, তাহলে তারা আগে উৎপাদন শুরু করতেন। তাই পুনরায় উৎপাদন চালুর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি আবেদন যথাযথভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নীতিমালার শর্ত পূরণ করলে গ্রাহকরা এককালীন নিষ্পত্তির সুবিধা পেতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘদিনের অচল ঋণ নিষ্পত্তি সহজ করা এবং একই সঙ্গে যেসব উদ্যোক্তা পুনরায় ব্যবসা চালু করতে চান, তাদের জন্য বিশেষ তহবিল থেকে নতুন ঋণের সুযোগ তৈরি করা। তিনি আরও জানান, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিমালার বাস্তবায়নও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মনে করেন, আটকে থাকা ঋণ পুনরুদ্ধার, ব্যাংকিং খাতে তারল্য বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের ঋণসংক্রান্ত মামলার জট কমাতে এককালীন এক্সিট সুবিধা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে নীতিমালার কিছু বাস্তব ও নীতিগত দিক আরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন, যাতে ব্যাংক ও গ্রাহক উভয় পক্ষই নির্ভয়ে এই সুবিধা গ্রহণ করতে পারে।
-রফিক
পাঠকের মতামত:
- অন্তরালে নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি, ইরানের ক্ষমতার শীর্ষে বড় বিভাজন
- কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদক নির্মূলে ইমামদের ভূমিকা বিষয়ক আলোচনাসভা
- কুমিল্লার ৩ সড়কে লাখো মানুষের ভোগান্তি, ৫ বছরেও নেই সংস্কার
- ফাইনালের আগে স্পেনকে সতর্ক করলেন বিশ্বজয়ী কিংবদন্তি ভিসেন্তে দেল বস্ক
- ইয়ামালকে থামানোর উপায় কী? স্কালোনি বললেন ‘রুমে তালা মেরে রাখা’
- ৮ গোলে মেসি-এমবাপ্পের সমতা, গোল্ডেন বুটের ফয়সালা হবে যেভাবে
- সম্ভাব্য বৃহত্তর যুদ্ধের জন্য মিত্রদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিল ইরান
- কুরআনের আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম বার্তা দিল ইরান
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম নিয়ে বিশ্লেষকদের রেকর্ড ভাঙা ভবিষ্যৎবাণী
- জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের আইআরজিসির বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
- প্রধানমন্ত্রী মুখে মধু আর অন্তরে ছলনা রাখছেন: নাহিদ ইসলাম
- তথ্য বিকৃত করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী
- ১৫০ দিনেই জনগণের আস্থা অর্জন করেছে সরকার: মাহদী আমিন
- ঢাকার দূষণ ও যানজট রোধে প্রধানমন্ত্রীর একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ
- ইরানে হামলার পরিধি বাড়াচ্ছেন ট্রাম্প, ইসরায়েলে ধেয়ে আসছে আরও ডজনখানেক মার্কিন যুদ্ধবিমান
- স্বর্ণ কিনবেন? আগে জেনে নিন আজকের সর্বশেষ দাম
- শনিবার বন্ধ রাজধানীর বহু মার্কেট, দেখুন তালিকা
- দেবিদ্বারে আ.লীগ নেতাদের পুনর্বাসন করছেন হাসনাত আব্দুল্লাহ?
- 'জুলাই সনদ' কি কেবলই ক্ষমতার হাতিয়ার? ফখরুলের বক্তব্যে নতুন রাজনৈতিক বার্তা
- কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলা: সীমান্তে জ্বলছে আগুন, নেপথ্যে কী?
- হরমুজের সেতু উড়িয়ে দিল মার্কিন মিসাইল: ইরানে ভয়াবহ মার্কিন হামলা, কী ঘটছে মধ্যপ্রাচ্যে?
- শহীদ আবু সাঈদ হলেন জুলাই বিপ্লবের ইমাম ও রূহানী নেতৃত্ব: নাহিদ ইসলাম
- ঢাকার দোরগোড়ায় ৭.৫ মাত্রার মহা-ভূমিকম্পের শঙ্কা, ৩-৫ শত বছরের চক্র এখন পূর্ণ
- হরমুজের পর বাব আল-মান্দেবও অবরুদ্ধের ছক, বিশ্বজুড়ে দ্বিগুণ হবে জ্বালানি সংকট
- জিয়া হত্যার খুনি মোজাফফরের ৪৫ বছরের অন্তরাল: বেশির ভাগ সময় কেটেছে ভারতের মাটিতে
- ম্যাচ হেরে মাঠেই মেজাজ হারালেন বেলিংহাম, আর্জেন্টিনার বারকোর মাথায় চড়!
- কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে ৬৫% বেশি প্রাইজমানি নিয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দামি বিশ্বকাপ
- রাত ১টার মধ্যে ঢাকাসহ ১৪ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা
- মার্কিন হামলার জবাবে বাব আল-মান্দেব বন্ধের ছক: হুতিদের চূড়ান্ত নির্দেশ দিল তেহরান
- এসএসসি, দাখিল ও ভোকেশনাল পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নতুন বার্তা
- ইংল্যান্ডকে হারানোর পর বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শন আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের
- আল্লাহর কসম, জীবন দেব কিন্তু চব্বিশের অর্জন হারাতে দেব না: জামায়াত আমির
- জিলা স্কুল থেকে বেরোবি গেট: ১৬ জুলাই রংপুরের রাজপথে পুলিশের বর্বরোচিত হামলা
- স্বামীবাগে রথযাত্রার অনুষ্ঠানে হঠাৎ অসুস্থ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল
- জিয়াউর রহমান হত্যার ৪৫ বছর পর ডিওএইচএস থেকে খুনি মেজর মোজাফফর গ্রেপ্তার
- বেনজীর ও হাদী হত্যার আসামিদের দ্রুত ফেরত চায় বাংলাদেশ, আশাবাদী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের তেল-গ্যাস বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
- ঘনীভূত হচ্ছে বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপ, ৫ দিনের আবহাওয়া নিয়ে বড় দুঃসংবাদ
- পিকঅ্যাক্স পর্বত গুঁড়িয়ে দেব, ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন: ট্রাম্প
- দেশ স্বাধীনের পর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাকে রাজনীতিকরণ করা হয়েছিল: প্রধানমন্ত্রী
- স্পেনের ফাইনালের আনন্দের মাঝেই লামিনে ইয়ামালের বাড়িতে চুরির ব্যর্থ চেষ্টা
- ম্যারাডোনার 'হ্যান্ড অব গড' থেকে বেলিংহাম-মেসি দ্বৈরথ: ঐতিহ্যের নতুন অধ্যায়
- ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশে বড় চমকের ইঙ্গিত স্কালোনির
- নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ইরানের নিজস্ব কৌশলের কাছে হার মানল মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
- ৩ দফা দাবিতে ঢাকাজুড়ে পরীক্ষার্থীদের লংমার্চ, শাহবাগ মোড়ে তীব্র উত্তেজনা
- সংসদকে মজলুমের মিলনমেলা বানাতে হবে: ড. শফিকুর রহমান
- তামিমের অধীনে কাজ করবেন ভারত, ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট কর্তারা
- আমেরিকার সাথে কোনো আলোচনা নয়, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরানের হাতেই
- দুর্যোগে বাদ পড়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন
- শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই, দেশে ফেরামাত্র রায় কার্যকর করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- শিক্ষকের মর্যাদা যখন প্রশ্নবিদ্ধ: সংকটে শিক্ষাঙ্গন, সংকটে আমাদের ভবিষ্যৎ
- ২০২৬ বিশ্বকাপ কাঁপানো ৫ বড় বিতর্ক এক নজরে
- ওয়াল্ট রস্টোর আধুনিকীকরণ তত্ত্ব ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট
- সোনা-রুপার নতুন দাম কার্যকর, জানুন সর্বশেষ তালিকা
- ফ্রান্স-স্পেন মহারণ, সুপারকম্পিউটার কাকে এগিয়ে রাখছে
- ‘আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন’- রেফারিকে মেসি
- বিশ্ববাজারে ৩ শতাংশ কমল স্বর্ণের দাম, বাংলাদেশেও কি কমবে?
- ট্যালকট পার্সন্সের Pattern Variable তত্ত্ব: আধুনিকতা ও উন্নয়ন ভাবনার রাজনীতি
- ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত
- এক ঘোষণায় কমল স্বর্ণের দাম, কত হলো নতুন মূল্য?
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, একদিনেই বড় মূল্যহ্রাস
- সৌদি-হুথি সংঘাত ফের তীব্র, ভেঙে গেল যুদ্ধবিরতি
- যৌন নিপীড়ন মামলায় আদালতের রায়ে ৫৬ লাখ ডলার দিলেন ট্রাম্প
- বর্ষণ কমলেও সামনে অপেক্ষা করছে নতুন দফার বৃষ্টি
- ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, কোন এলাকাগুলো জানুন








