রাজনৈতিক ডামাডোল ও অর্থনৈতিক ভীতি: বিশ্ববাজারে রেকর্ড গড়ল সোনা ও রুপা

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে আজ সোমবার নজিরবিহীন এক উচ্চতা লক্ষ্য করা গেছে, যা পূর্বের সকল রেকর্ড ভেঙে এক নতুন ইতিহাস গড়েছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা যখন ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন, ঠিক তখনই মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে এমন বড় ধরনের উল্লম্ফন তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ সোমবার স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৬৩.৩৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। উল্লেখ্য যে, দিনের শুরুতে কেনাবেচার এক পর্যায়ে এই দাম সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৮৯.৩৯ ডলার পর্যন্ত স্পর্শ করেছিল, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বর্তমানের টালমাটাল পরিস্থিতির এক স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেবল বর্তমান বাজারদরই নয়, বরং ভবিষ্যতে স্বর্ণের দাম কোন দিকে যাবে সেই পূর্বাভাসও বেশ ঊর্ধ্বমুখী। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য নির্ধারিত মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারও আজ ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৬৬৯.৯০ ডলারে পৌঁছেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক নীতিগত হুঁশিয়ারি এই পরিস্থিতির নেপথ্যে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর ট্রাম্পের নতুন করে শুল্ক আরোপের যে হুমকি, তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বাজার বা অন্যান্য তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ খাত থেকে অর্থ সরিয়ে নিয়ে স্বর্ণ ও রুপার মতো স্থিতিশীল ও নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় ধরনের বাণিজ্যিক যুদ্ধের আশঙ্কাই মূলত বাজারকে এই রেকর্ড উচ্চতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। যখনই বৈশ্বিক রাজনীতিতে এ ধরনের বড় সংকট তৈরি হয়, তখন সম্পদ রক্ষার জন্য স্বর্ণই হয়ে ওঠে বিনিয়োগকারীদের একমাত্র নির্ভরযোগ্য গন্তব্য।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার বাজারেও আজ নজিরবিহীন তেজ লক্ষ্য করা গেছে। একদিনের ব্যবধানে রুপার দাম ৩.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৯২.৯৩ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা রুপার বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বড় খবর। কেবল সোনা বা রুপাই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দাম বাড়ার এই প্রবণতা আজ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বর্তমানে প্লাটিনামের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ২ হাজার ৩৪৮.৩২ ডলারে। অন্যদিকে অটোমোবাইলসহ বিভিন্ন শিল্পে ব্যবহৃত মূল্যবান ধাতু প্যালাডিয়ামের প্রতি আউন্স মূল্য আজ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮০৮.৪৬ ডলারে। এই সামগ্রিক পরিস্থিতি এটাই প্রমাণ করছে যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা বড় কোনো লাভের চেয়ে নিজেদের পুঁজি রক্ষার বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং তারা নিরাপদ সম্পদের দিকেই বেশি মনোযোগী হচ্ছেন।
স্টোনএক্সের প্রখ্যাত বাজার বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন এই পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর গভীর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, বর্তমানের এই রেকর্ড মূল্যের পেছনে বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনাই সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। তাঁর মতে, যখনই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তুঙ্গে থাকে, তখনই নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগ করার প্রবণতা বা ‘সেফ হ্যাভেন ডিমান্ড’ কয়েক গুণ শক্তিশালী হয়। সিম্পসন আরও যোগ করেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতি এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির বর্তমান অস্থির পরিবেশের কারণে বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকি কমাতে নিরাপদ সম্পদে বিনিয়োগকেই সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা মনে করছেন। এর ফলেই বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার মতো মূল্যবান ধাতুগুলো নতুন নতুন ইতিহাস গড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের জন্য মানুষ এখন এই খাতগুলোকেই বেছে নিচ্ছে।
১৯ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উত্তরোত্তর সম্প্রসারিত হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক লেনদেনে মুদ্রা বিনিময়ের হার জানা এখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে মুদ্রার সঠিক দর জানলে বাণিজ্যিক লেনদেন অনেক সহজতর হয়।
আজ সোমবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান মুদ্রা ইউএস ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইউরোপীয় অঞ্চলের একক মুদ্রা ইউরোর দাম বর্তমানে ১৪১ টাকা ৯০ পয়সা এবং ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য ১৬৩ টাকা ৭৫ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।
অন্যান্য উন্নত দেশের মুদ্রার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮১ টাকা ৭৮ পয়সা এবং কানাডিয়ান ডলার ৮৭ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে।
জাপানি ইয়েন আজ ৭৭ পয়সা এবং সুইডিশ ক্রোনা ১৩ টাকা ২৮ পয়সা দরে বিনিময় হচ্ছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে।
এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর ডলারের বিনিময় হার নিয়ে কিছুটা ভিন্নতা লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী সিঙ্গাপুর ডলারের মান ৯৪ টাকা ৯৪ পয়সা হলেও অনলাইন মাধ্যম গুগলের তথ্যমতে এটি বর্তমানে ৯৫ টাকা ১২ পয়সা পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অংশীদার চীনের মুদ্রা ইউয়ান রেনমিনবি বর্তমানে ১৭ টাকা ৫৬ পয়সায় বিনিময় হচ্ছে।
প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভারতীয় রুপির আজকের বিনিময় হার ১ টাকা ৩৪ পয়সা এবং শ্রীলঙ্কান রুপি ২ টাকা ৫৩ পয়সা হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত আজ ৩০ টাকা ১৫ পয়সা এবং সৌদি রিয়ালের দর ৩২ টাকা ৬১ পয়সা দরে স্থিতু রয়েছে।
অন্যদিকে, কুয়েতি দিনারের মান বর্তমানে ৩৯৮ টাকা ৩৬ পয়সা যা বাজারদরের অন্যতম ব্যয়বহুল মুদ্রার অবস্থান ধরে রেখেছে।
উল্লেখ্য যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে বৈদেশিক মুদ্রার এই বিনিময় হার যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। বিশেষ করে ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ এবং লেনদেনের ধরনের ওপর ভিত্তি করে এই দরের সামান্য তারতম্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বড় ধরণের বাণিজ্যিক লেনদেন কিংবা বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে তাৎক্ষণিক আপডেট রেট যাচাই করে নেওয়া গ্রাহকদের জন্য নিরাপদ ও সুবিধাজনক হবে। প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্সের ওপর সরকারি প্রণোদনার বিষয়টি যুক্ত হলে চূড়ান্ত প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।
আজকের স্বর্ণের দাম: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের দামে এক নতুন ও ঐতিহাসিক রেকর্ড তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ভরিতে ২ হাজার ৬২৫ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পর্যন্ত সেই রেকর্ড মূল্যেই স্বর্ণ কেনাবেচা চলছে। বাজুসের দেওয়া নতুন এই দর অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। মূলত স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ বা পিওর গোল্ডের সরবরাহ মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, কারণ এটি দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য।
স্বর্ণের মানভেদে মূল্যের এই পরিবর্তন কেবল ২২ ক্যারেটেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সব ধরণের স্বর্ণের ক্ষেত্রেই বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকায়। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা। বাজুস কর্তৃপক্ষ বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, নির্ধারিত এই বিক্রয়মূল্যের সাথে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস কর্তৃক নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। অর্থাৎ গয়না কিনতে গেলে চূড়ান্ত খরচ ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছে যাবে। তবে গয়নার নকশা এবং গুণমানভেদে মজুরির পরিমাণ এর চেয়েও বেশি হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে সর্তক করা হয়েছে।
স্বর্ণের দামে এই ব্যাপক অস্থিরতা থাকলেও রুপার বাজারে গত কয়েকদিনে কোনো বড় ধরণের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। সর্বশেষ গত ১২ জানুয়ারি রুপার দাম বৃদ্ধি করা হয়েছিল, যা আজ সোমবার পর্যন্ত অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৯৪৯ টাকা নির্ধারণ করা আছে। একইভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকায় স্থির রয়েছে। বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মানের পরিবর্তনের ফলে স্বর্ণের বাজারে এই ঊর্ধ্বগতি বজায় থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। যারা বিয়ে বা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য গয়না কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য এই উচ্চমূল্য এক বড় ধরণের আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আয়কর থেকে ভ্যাট: সব খাতেই রাজস্ব ঘাটতি, সংকটে সরকারি কোষাগার
বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক গভীর স্থবিরতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জাতীয় রাজস্ব আহরণে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) সরকারের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, এই সময়ের মধ্যে তিন প্রধান খাত—আয়কর, ভ্যাট এবং আমদানি শুল্ক—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বড় ধরণের লক্ষ্যচ্যুতি ঘটেছে। অর্থবছরের প্রথমার্ধে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৩১ হাজার ২০৫ কোটি টাকা, কিন্তু দিনশেষে আদায় হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ কোটি টাকার মতো। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে ৪৫ হাজার ৯৮০ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসনিক ব্যয় মেটানোর ক্ষেত্রে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই রাজস্ব ঘাটতি কেবল বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নয়, বরং আগামীতে দায়িত্ব নিতে যাওয়া নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের জন্যও এক কঠিন অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার রেখে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে আয়কর খাত থেকে, যেখানে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা। এই খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৫ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৬১ হাজার ৮৭৩ কোটি টাকা। ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংকুচিত হওয়া এবং কোম্পানির অগ্রিম কর ও উৎসে কর প্রদানের হার কমে যাওয়া এই পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আমদানি পর্যায়েও ১২ হাজার ১৪০ কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। দেশে বড় বড় সরকারি প্রকল্প স্থবির হয়ে পড়া এবং বিনিয়োগের অভাবে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানি কমে যাওয়ায় সরকার কাঙ্ক্ষিত আমদানি শুল্ক পাচ্ছে না। ভ্যাট বা মূসক খাতেও একই ধরণের মন্দা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হাজার ৩০৮ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাওয়ার ফলে বাজারে ভোগের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ভ্যাট আদায়ের ওপর।
দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা বর্তমান এই অর্থনৈতিক মন্থরগতিকে একটি অস্থির সময়ের স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে দেখছেন। বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবুর মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না থাকা এবং আয়ের উৎস সংকুচিত হওয়া বিনিয়োগ না আসার অন্যতম কারণ। ব্যবসায়ীরা এখন বিনিয়োগের চেয়ে আগামী নির্বাচনের দিকে বেশি তাকিয়ে আছেন। তারা মনে করছেন, একটি রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর করনীতি, জ্বালানি এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলে পুনরায় ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরতে পারে। তবে আম্বার গ্রুপের চেয়ারম্যান ও বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করে জানিয়েছেন যে, নতুন সরকার এলেই রাতারাতি কোনো ম্যাজিক দেখাতে পারবে না। তাঁর মতে, নতুন কোনো শিল্পায়ন বা কর্মসংস্থানের উদ্যোগ না নিয়ে কেবল পুরনো খাতগুলোতে কর বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোর চেষ্টা করা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। বরং এটি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি করছে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।
সামষ্টিক অর্থনীতির অন্যান্য সূচকগুলোও বর্তমানে বেশ উদ্বেগজনক। সরকারি হিসাবে গত ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৪৯ শতাংশে, যা আগের মাসে ছিল ৮.২৯ শতাংশ। বিশেষ করে বাসাভাড়া, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয়ের চাপ বাড়ায় সাধারণ মানুষের সঞ্চয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক উচ্চ সুদের হার বজায় রেখে মূল্যস্ফীতি কমানোর নীতি গ্রহণ করলেও এর কাঙ্ক্ষিত সুফল এখনও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছায়নি। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪.৮ শতাংশের বেশি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ, যা গত কয়েক বছরের গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে অনেক কম। এনবিআরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন যে, অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির থাকলে জোর করে কর আদায় করা সম্ভব নয়; কারণ এতে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ও বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত রাজস্ব আদায়ের এই নাজুক পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র: কালের কণ্ঠ
১৮ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিদিনের মুদ্রাবাজারের খবরাখবর এখন সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ রবিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬; সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে রাজধানী ঢাকা ও দেশের ব্যাংকগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার কেনাবেচার হারে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং স্থানীয় বাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই নতুন দর নির্ধারিত হয়েছে।
ডলার ও ইউরোপীয় মুদ্রার বাজার দর বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান মুদ্রা মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে আজ বাজারে এক ধরণের স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে।
তথ্য অনুযায়ী, আজ প্রতি মার্কিন ডলারের কেনা দর ১২২ টাকা ৩০ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ১২২ টাকা ৩৫ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ পাউন্ডের বাজারে কেনাবেচার ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যবধান দেখা গেছে। আজ প্রতি পাউন্ডের ক্রয় মূল্য ১৬৪ টাকা ৩৫ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ১৬৪ টাকা ৪৮ পয়সা।
ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরোর ক্ষেত্রেও আজ টাকার মান কিছুটা ওঠানামা করেছে; যেখানে ইউরোর ক্রয়মূল্য ১৪২ টাকা ৩৮ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪২ টাকা ৪৮ পয়সা।
এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় মুদ্রার পরিস্থিতি প্রতিবেশী দেশ ভারতের মুদ্রার ক্ষেত্রে আজ বাজারে স্থিরতা বিরাজ করছে। প্রতি ভারতীয় রুপি আজ ১ টাকা ৩৬ পয়সা দরে কেনাবেচা হচ্ছে।
অন্যদিকে, এশীয় বাণিজ্যের অন্যতম শক্তিশালী মুদ্রা সিঙ্গাপুর ডলারের ক্রয়মূল্য আজ ৯৪ টাকা ৯৪ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৯৫ টাকা ০৪ পয়সা।
জাপানি মুদ্রা ইয়েনের ক্ষেত্রে টাকার বিনিময় হার আজ বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে; যেখানে প্রতি ইয়েনের ক্রয় ও বিক্রয় উভয় মূল্যই ০ টাকা ৭৭ পয়সা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
এছাড়া চীনা মুদ্রা ইউয়ানের ক্রয়মূল্য ১৭ টাকা ৫৪ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ১৭ টাকা ৫৫ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রভাবশালী মুদ্রা অস্ট্রেলিয়ান ডলারের ক্ষেত্রে আজ ক্রয়মূল্য ৮১ টাকা ৭০ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য ৮১ টাকা ৭৮ পয়সা দেখা গেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার এই বিনিময় হারের ওঠানামা সরাসরি দেশের আমদানি ও রপ্তানি ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ডলারের স্থিতিশীলতা আমদানিকারকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির হলেও ইউরো ও পাউন্ডের ঊর্ধ্বগতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ক্ষেত্রেও এই রেটগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোতে গ্রাহক পর্যায়ে এই হারের কিছুটা তারতম্য হতে পারে, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশিত দরের কাছাকাছি থেকেই আজ দিনভর লেনদেন চলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণের দাম এক নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) গত বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বর্ণের দাম এক লাফে ভরিতে ২ হাজার ৬২৫ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা দেয়। সেই নির্ধারিত নতুন মূল্যেই আজ রবিবার দেশের বাজারে স্বর্ণ কেনাবেচা হচ্ছে।
বাজুসের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন থেকে সবচাইতে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের খরচ করতে হবে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। স্বর্ণের এই রেকর্ড দামের পাশাপাশি অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা।
স্বর্ণের এই আকাশচুম্বী মূল্যের বিষয়ে বাজুস জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের ঊর্ধ্বগতি এবং স্থানীয় বাজারে কাঁচামাল বা তেজাবি স্বর্ণের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে তারা এই নতুন দর নির্ধারণ করতে বাধ্য হয়েছে। সংস্থাটি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে ক্রেতাদের জন্য বিশেষ একটি নির্দেশনাও যুক্ত করেছে। এতে বলা হয়েছে, স্বর্ণের নির্ধারিত বিক্রয়মূল্যের সাথে সরকারকে আবশ্যিকভাবে ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদান করতে হবে। এর পাশাপাশি অলঙ্কার তৈরির ক্ষেত্রে বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরিও যুক্ত হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে এই মজুরির তারতম্য হতে পারে।
এদিকে স্বর্ণের দামে বড় ধরণের পরিবর্তন আসলেও বর্তমানে রুপার বাজারে এক ধরণের স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, আজ রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ১২ জানুয়ারি নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকায়। অন্যান্য মানের মধ্যে ২১ ক্যারেট রুপার ভরি ৫ হাজার৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা বহাল রয়েছে।
স্বর্ণের এই রেকর্ড দাম বৃদ্ধি দেশের অলঙ্কার শিল্পে কী ধরণের প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়। কারণ মধ্যবিত্ত ও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণের অলঙ্কার কেনা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ল।
১৭ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
বিশ্ববাজারে মুদ্রার ক্রমাগত উত্থান-পতনের প্রভাবে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারেও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। আজ শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংক লেনদেন ও খোলা বাজারে মার্কিন ডলারসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক মুদ্রার কেনাবেচার নতুন দর নির্ধারিত হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক এবং প্রবাসীদের জন্য মুদ্রার এই সঠিক বিনিময় হার জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজকের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি ডলার কেনা হচ্ছে ১২২ টাকা ৩০ পয়সায় এবং বিক্রি করা হচ্ছে ১২২ টাকা ৩৫ পয়সায়।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ পাউন্ড ও ইউরোর দাম বরাবরের মতোই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে। আজকের বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি পাউন্ড ১৬৪ টাকা ৩৫ পয়সায় কেনা যাচ্ছে এবং গ্রাহক পর্যায়ে তা ১৬৪ টাকা ৪৮ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে।
ইউরোপের সাধারণ মুদ্রা ইউরোর ক্ষেত্রে কেনা ও বেচার দর যথাক্রমে ১৪২ টাকা ৩৮ পয়সা এবং ১৪২ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে।
প্রতিবেশী দেশ ভারতের মুদ্রার (রুপি) বিনিময় হার আজ পুরোপুরি স্থির রয়েছে। প্রতি ভারতীয় রুপি কেনা এবং বেচা উভয় ক্ষেত্রেই ১ টাকা ৩৬ পয়সা দরে লেনদেন হচ্ছে।
এ ছাড়া এশিয়ার অন্যান্য শক্তিশালী মুদ্রার মধ্যে সিঙ্গাপুর ডলারের কেনা দর ৯৪ টাকা ৯৪ পয়সা এবং বিক্রয় মূল্য ৯৫ টাকা ০৪ পয়সা।
চীন ও জাপানের মুদ্রার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, প্রতি চীনা ইউয়ান ১৭ টাকা ৫৪ পয়সায় কেনা ও ১৭ টাকা ৫৫ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, জাপানি ইয়েন কেনা ও বেচা উভয় ক্ষেত্রেই ০ টাকা ৭৭ পয়সা হিসেবে অপরিবর্তিত রয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান ডলার ও আন্তর্জাতিক লেনদেন: অস্ট্রেলিয়ান ডলারের আজকের ক্রয়মূল্য ৮১ টাকা ৭০ পয়সা এবং বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮১ টাকা ৭৮ পয়সা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ ও চাহিদার ভিত্তিতে এই দামগুলোতে সামান্য তারতম্য হতে পারে। মূলত আমদানি ব্যয় মেটানো এবং প্রবাসীদের রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে এই বিনিময় হারগুলো বিশেষ প্রভাব ফেলে। ব্যাংক ও অনুমোদিত মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না জানানো পর্যন্ত এই নির্ধারিত হারেই বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা চলবে।
স্বর্ণ কিনতে গুনতে হবে বাড়তি অর্থ; এক নজরে আজকের পূর্ণাঙ্গ মূল্যতালিকা
আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রমাগত দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাবে বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্যে এক নতুন ও নজিরবিহীন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সম্প্রতি এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্বর্ণের দাম একলাফে ভরিতে ২ হাজার ৬২৫ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) নির্ধারিত এই নতুন দাম অনুযায়ী আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারি) থেকে সারাদেশে স্বর্ণের অলঙ্কার ও তেজাবি স্বর্ণ নতুন দরে কেনাবেচা হচ্ছে। বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) উচ্চমূল্য এবং বিশ্ববাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে, যা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নতুন নির্ধারিত এই মূল্যতালিকা অনুযায়ী, দেশের বাজারে এখন থেকে সবচেয়ে উন্নত মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। উল্লেখ্য যে, গত বুধবার পর্যন্ত এই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা। অর্থাৎ প্রতি ভরিতে দাম বেড়েছে ২ হাজার ৬২৫ টাকা। একইভাবে অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা, যা বুধবার পর্যন্ত ছিল ২ লাখ ২১ হাজার ৪৯৯ টাকা। অর্থাৎ এই মানের স্বর্ণের দামও পূর্বের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় থাকা ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দামেও বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম এখন ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা, যা বুধবার পর্যন্ত ছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৯০ টাকা। অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকা, যা গত বুধবার পর্যন্ত ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৮১ টাকা। বাজুস স্পষ্ট করেছে যে, এই নতুন দাম দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকর করতে হবে।
স্বর্ণের ঘোষিত এই বিক্রয়মূল্যের বাইরেও ক্রেতাদের জন্য বেশ কিছু অতিরিক্ত ব্যয়ের কথা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, গহনা ক্রয়ের ক্ষেত্রে ঘোষিত দামের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট যোগ করতে হবে। এর পাশাপাশি ক্রেতাকে বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি অলঙ্কারের দামের সঙ্গে পরিশোধ করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন, জটিলতা এবং মানভেদে এই মজুরির তারতম্য হতে পারে বলে সংস্থাটি উল্লেখ করেছে। মূলত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের সরবরাহ সংকট এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণেই স্থানীয় বাজারে এই নজিরবিহীন অস্থিরতা ও রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ৫ বড় ঝুঁকি: ডব্লিউইএফ ও সিপিডির সতর্কবার্তা
বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে বহুমুখী ও জটিল সব সমস্যার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, যা দেশটির দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতাকে বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন ধরণের নিষেধাজ্ঞা, শুল্ক আরোপ এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কড়াকড়ির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণের ক্রমবর্ধমান চাপ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) কর্তৃক প্রকাশিত সাম্প্রতিক বৈশ্বিক ঝুঁকি মূল্যায়নে চলতি বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য প্রধান দুটি আপদ হিসেবে অপরাধ ও অবৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঝুঁকিগুলো এখন আর কেবল কূটনৈতিক আলোচনার স্তরে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এর প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, নতুন কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগ প্রবাহের ওপর। বিশেষ করে শক্তিশালী দেশগুলো নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় নতুন নতুন বাধা সৃষ্টি করায় বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এই সংকটজনক পরিস্থিতির গভীরতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানিয়েছেন যে, বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির তীব্র টানাপোড়েন এখন সরাসরি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। তার মতে, দেশের সামনে বর্তমানে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ও বড় ঝুঁকি দাঁড়িয়ে আছে যা স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কৌশলগত প্রতিযোগিতা বিশ্ব অর্থনীতিকে স্পষ্টভাবে বিভক্ত করে ফেলছে। এই বিভক্তির ফলে তৈরি হওয়া বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থার পুনর্গঠন বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর এক ধরণের কৃত্রিম ও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ড. ফাহমিদা সতর্ক করে বলেন যে, কেবল অভ্যন্তরীণ সংস্কার দিয়ে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা সম্ভব নয়; বরং পরিবর্তিত ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতার সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রকে অত্যন্ত কৌশলী ও দূরদর্শী হতে হবে। সময়মতো এই ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নিলে সুশাসনহীনতা ও অপরাধের বিস্তার অর্থনীতিকে আরও ভঙ্গুর করে তুলবে।
ডব্লিউইএফ-এর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের অর্থনীতির তৃতীয় বৃহত্তম ঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে টানা উচ্চ মূল্যস্ফীতি। দীর্ঘদিন ধরে পণ্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যেমন আকাশছোঁয়া হয়েছে, তেমনি ব্যবসা ও শিল্প উৎপাদন খাতে খরচের বোঝা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে পরিসংখ্যানে কিছুটা স্বস্তির আভাস পাওয়া গেছে, তবে বাস্তব বাজারে তার প্রতিফলন এবং সম্পূর্ণ স্বস্তির দূরত্ব এখনো অনেক বেশি। এর পরেই চতুর্থ ঝুঁকি হিসেবে রয়েছে অর্থনৈতিক ধীরগতি। বৈশ্বিক মন্দার পদধ্বনি এবং অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে স্থবিরতার সাথে যখন বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ যুক্ত হয়েছে, তখন দেশের প্রবৃদ্ধি কমার এক বাস্তব শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থাও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে তাদের পূর্বাভাসে একই ধরণের উদ্বেগের ইঙ্গিত দিয়েছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ পঞ্চম ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে ঋণের অক্টোপাশকে। সরকারি পর্যায় থেকে শুরু করে করপোরেট এমনকি পারিবারিক পর্যায়েও ঋণের পরিমাণ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। বর্তমান জাতীয় বাজেটে একটি বিশাল অংশ ব্যয় করতে হচ্ছে কেবল ঋণের সুদ পরিশোধের পেছনে, যা দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগকে সংকুচিত করে দিচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, ঋণের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকলে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ‘মধ্যম আয়ের ফাঁদে’ আটকে যেতে পারে। এই প্রতিটি ঝুঁকি একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত; যেখানে অপরাধ ও অবৈধ লেনদেন বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করে, সেখানে ভূ-অর্থনৈতিক বিরোধ বাজারকে ছোট করে আনে এবং মূল্যস্ফীতি ও ঋণের বোঝা সাধারণ মানুষের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তোলে। এই সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সুশাসন জোরদার এবং বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
আজকের ডলার, ইউরো ও পাউন্ডের দাম কত
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের আমদানি–রপ্তানি ও আর্থিক লেনদেন ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে। এই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নির্ধারিত হচ্ছে।
আজ শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রধান বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নিম্নরূপ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১২২ টাকা ৩৫ পয়সা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুদ্রা ইউরোর বিনিময় হার দাঁড়িয়েছে ১৪২ টাকা ৪৭ পয়সা।
ব্রিটিশ পাউন্ডের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য ১৬৪ টাকা ৪৭ পয়সা। অস্ট্রেলিয়ান ডলার লেনদেন হচ্ছে ৮২ টাকা ৭৭ পয়সা দরে। জাপানের মুদ্রা ইয়েনের বিনিময় হার নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৭৭ পয়সা।
এ ছাড়া কানাডিয়ান ডলার ৮৮ টাকা ১৬ পয়সা, সুইডিশ ক্রোনা ১৩ টাকা ৩০ পয়সা, সিঙ্গাপুর ডলার ৯৫ টাকা ৪ পয়সা এবং চীনা ইউয়ান রেনমিনবি ১৭ টাকা ৫৫ পয়সা দরে লেনদেন হচ্ছে।
আঞ্চলিক মুদ্রার মধ্যে ভারতীয় রুপির বিনিময় হার ১ টাকা ৩৫ পয়সা এবং শ্রীলঙ্কান রুপির বিনিময় হার ২ টাকা ৫৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অনলাইন রেট অনুযায়ী বিনিময় হার
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অনলাইন উৎস গুগলের তথ্যানুসারে কিছু বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারে সামান্য পার্থক্য দেখা গেছে। গুগলের তথ্য অনুযায়ী, এক সিঙ্গাপুর ডলার লেনদেন হচ্ছে ৯৫ টাকা ২০ পয়সা দরে।
এ ছাড়া মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতের বিনিময় হার ৩০ টাকা ২০ পয়সা, সৌদি আরবের রিয়ালের মূল্য ৩২ টাকা ৬৮ পয়সা, এবং কুয়েতি দিনারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৯৭ টাকা ৯০ পয়সা।
বিনিময় হার নিয়ে সতর্কতা
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, রিজার্ভ অবস্থান ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভর করে যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। তাই লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে হালনাগাদ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- রাজনৈতিক ডামাডোল ও অর্থনৈতিক ভীতি: বিশ্ববাজারে রেকর্ড গড়ল সোনা ও রুপা
- সাভার পাচ্ছে সিটি করপোরেশন, কেরানীগঞ্জ হচ্ছে ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা
- সাভারে একের পর এক লাশ, সিরিয়াল কিলারের দাবি পুলিশের
- ১৯ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
- ডেইলি এনএভিতে ধরা পড়ল মিউচুয়াল ফান্ড সংকেত
- খাঁটি না কি বিষ? সরিষার তেলের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের ৫টি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি
- শীতের দুপুরে খাবারের স্বাদ বাড়াতে ‘আচারি ফুলকপি’; জেনে নিন বিশেষ রেসিপি
- বেঙ্গল উইন্ডসর থার্মোপ্লাস্টের নগদ লভ্যাংশ বিতরণ
- অবহেলিত মুলার আকাশচুম্বী গুণ: শীতকালীন খাদ্যতালিকায় কেন এটি অপরিহার্য?
- শেখ হাসিনাসহ ১১ সেনা কর্মকর্তার বিচার শুরু: ট্রাইব্যুনালে আজ সাক্ষ্যগ্রহণ
- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উত্তেজনা: ডিসির কার্যালয়ে তলব পেলেন রুমিন ফারহানা
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
- বিশ্বকাপে কি তবে থাকছে না বাংলাদেশ? আইসিসির ‘আল্টিমেটাম’ ঘিরে তোলপাড়
- মানবাধিকার সংস্থার চেয়েও বড় সংখ্যা; ইরানে বিক্ষোভ ঘিরে লাশের পাহাড়
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আয়কর থেকে ভ্যাট: সব খাতেই রাজস্ব ঘাটতি, সংকটে সরকারি কোষাগার
- আজ টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- নামাজের সময়সূচি: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- স্পেনে দুই ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ: প্রাণ হারালেন অন্তত ২১ যাত্রী
- অর্ধশতাব্দীর অপেক্ষা শেষ: আবারও চাঁদের পথে মানুষ পাঠানোর চূড়ান্ত প্রস্তুতি
- ভালুকার হাজির বাজারে সড়ক থেকে অজ্ঞাত শিশুর মরদেহ উদ্ধার
- আপিল শুনানিতে কোনো পক্ষপাত করিনি: সিইসি
- ইসলামী আন্দোলনের সাথে জামায়াতের অন্যরকম এক সমঝোতা,প্রকাশ পেল নতুন তথ্য
- মুফতি আমির হামজাকে হত্যার হুমকি, ফেসবুকে চাঞ্চল্যকর পোস্ট
- ১৩ বছরের আগে হাতে ফোন? শৈশবেই বাড়ছে বড় ধরণের স্বাস্থ্যঝুঁকি
- ক্যামেরা তাক করলেই অনুবাদ; গুগল ট্রান্সলেটের নতুন চমক
- ‘হ্যাঁ’ ভোটের জোয়ার আনতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরণের প্রচারণার পরিকল্পনা
- বিপিএলে সিলেটের বড় চমক: প্লে-অফের আগে আরও শক্তিশালী টাইটান্স বাহিনী
- পিঠের ব্যথা কি সাধারণ নাকি কিডনি স্টোনের সংকেত? চিনে নিন লক্ষণগুলো
- নির্বাচন কমিশনে একগুচ্ছ নালিশ নিয়ে মির্জা ফখরুল
- বিশ্ব শান্তি ঝুঁকিতে: গ্রিনল্যান্ড পেতে ইউরোপকে ট্রাম্পের নজিরবিহীন আল্টিমেটাম
- মোড় নিল বিশ্বকাপ বিতর্ক: বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তানের নতুন সমীকরণ
- কালিগঞ্জের বিষ্ণুপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মাণকাজের অভিযোগ
- পবিত্র রমজানে ওমরাহ যাত্রা: বড় এক দুঃসংবাদ দিচ্ছে ট্যুর অপারেটররা
- জামায়াত-জোটের এনসিপি: ৩০ আসনের মধ্যে ২৭টিতে প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ
- ডিএসইতে একদিনে লেনদেন প্রায় ৪৭৪১ কোটি টাকা
- ১৮ জানুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১৮ জানুয়ারি দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
- ১৮ জানুয়ারির শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধির শেয়ার তালিকা
- চীনের সম্মতি পেলেই শুরু তিস্তা মহাপরিকল্পনা
- জুলাই যোদ্ধাদের জন্য আলাদা বিভাগ গড়বে বিএনপি: তারেক রহমান
- ভালুকায় শিক্ষা বিপ্লব: রানার উদ্যোগে ঝরে পড়া শ্রমিকদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে ই-লার্নিং একাডেমি
- কুমিল্লা ৪ এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দরকার - নেতাকর্মীদের দৃঢ় বিশ্বাস
- ১৮ জানুয়ারি ২০২৬: মার্কিন ডলার থেকে রুপি, জানুন আজকের বিনিময় হার
- শাবান ও শবেবরাত ২০২৬: জ্যোতির্বিজ্ঞানের গণনায় সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
- স্মৃতিশক্তি থাকবে অটুট; মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞদের ৬ পরামর্শ
- তেতো স্বাদে লুকিয়ে সুস্থতার চাবিকাঠি; করলার রসের অবাক করা গুণ
- সাড়ে ১২ ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠক: নির্বাচনের পথরেখা নির্ধারণ করল জামায়াত
- ঢাকায় ব্যারিস্টার নাজির আহমদ এর দুটি গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠিত
- বাহরাইনের মানামায় বিএনপির নতুন পথচলা: ঘটা করে ঘোষণা হলো নতুন কমিটি
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
- জোট গঠনে অনেক ছাড় দিয়েছে এনসিপি লক্ষ্য এবার সরকার গঠন: আসিফ মাহমুদ
- ডিএসই পরিদর্শন/ডোমিনেজ চালু, অন্য চার কোম্পানির কারখানা বন্ধ
- আজ থেকে টানা ৩ দিন বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
- বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ডিএসইর আইনি সতর্কতা
- সরকারি বন্ড বাজারে স্থগিতাদেশ ও ডিলিস্টিং একসঙ্গে
- ১২ জানুয়ারি ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- শহীদদের ভুলে যাওয়ার সুযোগ রাষ্ট্রের নেই: গুম–খুনের শিকার পরিবারদের পাশে দাঁড়িয়ে তারেক রহমানের অঙ্গীকার
- ৩০টির বেশি মিউচুয়াল ফান্ডের এনএভি প্রকাশ, কোথায় সুযোগ
- রেকর্ড ডেট শেষে সরকারি বন্ড ও দুই কোম্পানীর লেনদেন শুরু
- মার্জিন ঋণে বিনিয়োগযোগ্য শেয়ারের হালনাগাদ তালিকা
- বিনিয়োগকারী অভিযোগে ডিজিটাল সমাধান জোরদার ডিএসইর
- ডিএসইতে আজ প্রকাশিত সব মিউচুয়াল ফান্ড এনএভির বিশ্লেষণ








