তেতো স্বাদে লুকিয়ে সুস্থতার চাবিকাঠি; করলার রসের অবাক করা গুণ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১১:৪৪:০২
তেতো স্বাদে লুকিয়ে সুস্থতার চাবিকাঠি; করলার রসের অবাক করা গুণ
ছবি : সংগৃহীত

করলার রস—নামটি শুনলেই অনেকের চোখেমুখে অনীহা ফুটে ওঠে। এর তীব্র তেতো স্বাদের কারণে সাধারণ পানীয় হিসেবে এটি তেমন আকর্ষণীয় নয়। তবে যুগ যুগ ধরে ঘরোয়া স্বাস্থ্যচর্চায় করলার রস একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবে পরিচিতি পেয়ে আসছে। বিশেষ করে বিপাকীয় স্বাস্থ্য বা মেটাবলিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য ভেষজ চিকিৎসায় এটি অন্যতম প্রধান দাওয়াই। সাম্প্রতিক সময়ে আধুনিক জীবনযাপনের জটিলতায় সুস্থ থাকতে মানুষের মধ্যে প্রতিদিন করলার রস পান করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও এর ফলাফল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত জাদুকরী কোনো পরিবর্তনের মতো তাৎক্ষণিক নয়, তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সঙ্গে এটি গ্রহণ করলে দীর্ঘমেয়াদে শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।

করলার রসের সবচেয়ে শক্তিশালী গুণ হলো রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এর বিশেষ সক্ষমতা। আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, করলার রসে 'চ্যারান্টিন' ও 'পলিপেপটাইড-পি' নামক দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান রয়েছে যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সরাসরি সহায়তা করে। এর ফলে শরীর রক্তে থাকা শর্করাকে অনেক বেশি দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারে। শুধু তাই নয়, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ানোর ফলে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকিও অনেকটা কমে যায়, যা পরোক্ষভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

নিয়মিত করলার রস পান করলে আমাদের পাচনতন্ত্র বা হজম ব্যবস্থার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর তেতো স্বাদ শরীরের প্রাকৃতিক হজম এনজাইমগুলোকে সক্রিয় করে তোলে, যা খাবার হজমের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। পাচনতন্ত্রকে উদ্দীপিত করার মাধ্যমে এটি পেট ফাঁপা বা বদহজমের মতো সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। ফাইবারসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি অন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ভূমিকা রাখে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, খালি পেটে বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত পরিমাণে করলার রস পান করলে সংবেদনশীল পাকস্থলীতে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য করলার রস একটি আদর্শ সহযোগী হতে পারে। এটি অত্যন্ত কম ক্যালোরিযুক্ত এবং উচ্চ ফাইবারসম্পন্ন হওয়ায় দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখার অনুভূতি দেয়। ফলে বারবার খাবার খাওয়ার বা অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের প্রবণতা কমে। তবে করলার রসকে ওজন কমানোর একমাত্র উপায় না ভেবে একটি সহায়ক অভ্যাস হিসেবে দেখা উচিত। পাশাপাশি, করলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন পলিফেনল জাতীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। এটি কোষের স্বাস্থ্য রক্ষা করার পাশাপাশি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও ধীরে ধীরে শক্তিশালী করে তোলে।

প্রতিদিন করলার রস পান করা হরমোন ও বিপাকীয় ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক। এটি রক্তে শর্করার ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রেখে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে পারে। এর পাশাপাশি করলার রস শরীরের বিভিন্ন প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখে। কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকলে স্বাভাবিকভাবেই হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, যারা বর্তমানে ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে করলার রস শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, যাতে রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত কমে না যায়।

সামগ্রিকভাবে, করলার রস কোনো জাদুকরী পানীয় নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী প্রাকৃতিক পরিপূরক। সঠিক পরিমাণে ও নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে এটি আমাদের হজম, রক্তে শর্করা, ওজন এবং হৃদযন্ত্রের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখতে সক্ষম।


পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধে হেঁশেলের প্রাচীন উপায়ের কার্যকারিতা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩১ ২০:০২:২৭
পেট ফাঁপা ও বদহজম রোধে হেঁশেলের প্রাচীন উপায়ের কার্যকারিতা
ছবি : সংগৃহীত

ডাল, ছোলা, রাজমা কিংবা নির্দিষ্ট কিছু সবজি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার হলেও অনেকের ক্ষেত্রেই এগুলো খাওয়ার পর পেটে গ্যাস, পেটফাঁপা বা অস্বস্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে রান্নার পদ্ধতি সঠিক না হলে কিংবা পরিপাকতন্ত্র দুর্বল থাকলে এই সমস্যাগুলো আরও প্রকট রূপ নেয়। তবে খাবার পরিপাকে সহায়তা করতে এবং হজমপ্রক্রিয়া সহজ করতে হেঁশেলে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে একটি পরিচিত ভেষজ মসলা—হিং।

ইন্টিগ্রেটিভ লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞ লুক কৌতিনহো সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিংয়ের স্বাস্থ্যগত কার্যকারিতা তুলে ধরেছেন। তাঁর তথ্য অনুযায়ী, রান্নায় সামান্য বা এক চিমটি হিং যোগ করলে তা গ্যাস, পেটফাঁপা এবং পেট ফাঁপার কারণে তৈরি হওয়া অস্বস্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের ডাল, শিম, ছোলা ও রাজমা রান্নায় ঐতিহাসিকভাবেই হিং ব্যবহারের চল রয়েছে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, হিংয়ে থাকা সক্রিয় উপাদানগুলো পরিপাকতন্ত্রের প্রয়োজনীয় এনজাইমের ক্ষরণ ও কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। বিশেষ করে প্যানক্রিয়াটিক অ্যামাইলেজ ও লাইপেজের মতো এনজাইমের গতিশীলতা বাড়াতে হিং সহায়ক, যা জটিল খাদ্য উপাদান সহজে ভাঙতে সাহায্য করে।

তবে কেবল মসলা ব্যবহারের ওপর নির্ভর না করে রান্নার পূর্বপ্রস্তুতিতেও সতর্ক হওয়া জরুরি। ডাল বা শক্ত দানাযুক্ত শস্য রান্নার আগে দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখা, অঙ্কুরোদগম (স্প্রাউটিং) করা এবং হালকা আঁচে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণ সেদ্ধ করে রান্না করলে তা হজমের জন্য অনেক বেশি উপযোগী হয়ে ওঠে। ব্রকলি, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ছোলা কিংবা রাজমার মতো সবজিতে রান্নার সময় জিরা, আদা ও হলুদের পাশাপাশি সামান্য হিং ব্যবহার করা যেতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে খাবারের গন্ধ ও স্বাদে নেতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে, তাই প্রতি রান্নায় মাত্র এক চিমটি হিং ব্যবহার করাই যথেষ্ট।

/আশিক


দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য বদলেই কমবে মাসের বাড়তি বিদ্যুৎ বিল

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ৩০ ১৯:৩২:২৬
দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য বদলেই কমবে মাসের বাড়তি বিদ্যুৎ বিল
ছবি : সংগৃহীত

সাধারণত গ্রীষ্মকালে এসি, ফ্রিজ কিংবা ফ্যানের বাড়তি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ বিলের অঙ্ক দ্রুত বেড়ে যায়। তবে শীতের মৌসুমেও অনেকের ঘরে ধারণার চেয়ে বেশি বিল আসার অভিযোগ থাকে। অপ্রয়োজনে বাতি-পাখা সচল রাখা, বেশি ওয়াটের অ্যানালগ বাতি ব্যবহার কিংবা গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মাস শেষে বিদ্যুতের এই অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি হয়। অথচ দৈনন্দিন অভ্যাসে কয়েকটি সহজ ও কার্যকর কৌশল অনুসরণ করলে স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রেখেই মাসের বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সাধারণ ফিলামেন্ট বাল্বের পরিবর্তে আধুনিক এলইডি বা সিএফএল বাতি ব্যবহার করা উচিত। এসব সাশ্রয়ী বাতি অতি সামান্য বিদ্যুৎ খরচ করে ঘরে পর্যাপ্ত আলো সরবরাহ করে, যা দীর্ঘ মেয়াদে বিল কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। এছাড়া ফ্রিজের সঠিক যত্ন নেওয়াও অত্যন্ত জরুরি; ফ্রিজের ভেতরে অতিরিক্ত বরফ জমলে এর শীতলকরণ কার্যকারিতা হ্রাস পেয়ে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত ফ্রিজ ডিফ্রস্ট করার পাশাপাশি রান্না করা গরম খাবার কিছুটা ঠান্ডা করে তবেই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা ভালো।

অনেক ক্ষেত্রে টেলিভিশন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা মোবাইল চার্জার কেবল রিমোট বা সফটওয়্যার দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়, কিন্তু মূল প্লাগ পয়েন্টের সুইচ চালু থাকে। স্ট্যান্ডবাই মোডে থাকা এই যন্ত্রগুলো সার্বক্ষণিক অল্প পরিমাণে বিদ্যুৎ টানতে থাকে। তাই কাজ শেষে সরাসরি প্রধান সুইচটি বন্ধ করার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

গ্রীষ্মকালে এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ঘরের দরজা, জানালা ও ফাঁকফোকর ভালোভাবে বন্ধ রাখা নিশ্চিত করতে হবে, যেন ভেতরের ঠান্ডা বাতাস বাইরে বের হতে না পারে। ঘর দ্রুত ঠান্ডা হলে এসির কম্প্রেশার স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম শক্তি ব্যবহার করে এবং সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকে। অতিরিক্ত গরম না থাকলে এসির বদলে সাধারণ সিলিং বা টেবিল ফ্যান ব্যবহার করাও সাশ্রয়ের একটি ভালো উপায়। এছাড়া দিনের বেলায় কৃত্রিম আলোর ওপর নির্ভর না করে সূর্যের স্বাভাবিক আলো কাজে লাগানো এবং ঘর ছাড়ার আগে সব বৈদ্যুতিক সুইচ বন্ধ রাখার মতো সচেতনতাই পারে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে।

/আশিক


সামান্য ভুলেই বেহাত হতে পারে ফোনের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৯ ২০:৩১:৩৯
সামান্য ভুলেই বেহাত হতে পারে ফোনের ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য
ছবি : সংগৃহীত

স্মার্টফোন বর্তমান জীবনে অপরিহার্য এক অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত দৈনন্দিন কাজের একটি বড় অংশই এখন এই যন্ত্রটির ওপর নির্ভরশীল। ব্যক্তিগত স্পর্শকাতর নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য, পারিবারিক ছবি কিংবা ভিডিও—সবই সংরক্ষিত থাকে ডিভাইসে। কোনো কারণে এসব তথ্য বেহাত হলে কেবল সামাজিক সম্মানহানি নয়, বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা সচেতনতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

ডিভাইসের প্রাথমিক সুরক্ষার জন্য শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা পিন ব্যবহার করা আবশ্যক। নিজের নাম, জন্মতারিখ কিংবা ক্রমানুযায়ী সংখ্যা ব্যবহারের মতো অনুমানযোগ্য পাসওয়ার্ড সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া সামাজিক মাধ্যম ও আর্থিক অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার না করে প্রতিটি ক্ষেত্রে ভিন্ন ও জটিল পাসওয়ার্ড নির্ধারণ করা এবং টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু রাখা উচিত।

ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় অপরিচিত ও সন্দেহজনক কোনো লিংকে ক্লিক করা যাবে না। বিশেষ করে লোভনীয় অফারের ফাঁদে ফেলে পাঠানো লিংক থেকে সাইবার অপরাধীরা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেয়। পাশাপাশি অফিশিয়াল অ্যাপ স্টোরের বাইরে কোনো থার্ড পার্টি প্ল্যাটফর্ম থেকে ক্ষতিকর অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করা থেকেও বিরত থাকতে হবে।

ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল ছবি বা ভিডিও সুরক্ষিত রাখতে ডিভাইসের নিজস্ব লকড ফোল্ডার কিংবা অ্যাপ লকের সুবিধা নেওয়া প্রয়োজন। ফোন সাময়িকভাবে অন্যের হাতে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি, যাতে অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য স্থানান্তর করা সম্ভব না হয়। এছাড়া পুরোনো ডিভাইস বিক্রি বা হাতবদলের আগে ফ্যাক্টরি ডেটা রিসেট দিয়ে অভ্যন্তরীণ সব তথ্য স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা উচিত।

অনেকের ধারণা, কেবল জটিল প্রযুক্তি ব্যবহার করে হ্যাকিং করলেই তথ্য চুরি হয়। তবে ব্যবহারকারীর অসচেতনতা, দুর্বল পাসওয়ার্ড নির্বাচন এবং অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ্লিকেশনের অনুমোদনের ফলেও ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যক্তিগত নথি অন্যের হাতে চলে যেতে পারে। তাই তথ্য সংরক্ষণে অপ্রয়োজনীয় নকল কপি এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত নিরাপত্তা পদক্ষেপ মেনে চলা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

/আশিক


কম বয়সেই বাড়ছে নীরব ঘাতক রোগ: জেনে নিন সুরক্ষার উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৭ ২১:১৩:২৩
কম বয়সেই বাড়ছে নীরব ঘাতক রোগ: জেনে নিন সুরক্ষার উপায়
ছবি : সংগৃহীত

আধুনিক ব্যস্ত জীবনধারা, কায়িক শ্রমের অভাব এবং প্রক্রিয়াজাত জাঙ্কফুড খাওয়ার প্রবণতায় মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ লিভারের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মধ্যেও এখন ফ্যাটি লিভার বা যকৃতে ক্ষতিকর চর্বি জমার সমস্যা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মানবদেহে বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ, পুষ্টি শোষণ ও ক্ষতিকর টক্সিন অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো লিভারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সঠিক সময়ে যত্ন না নিলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য দ্রুত ঝুঁকির মুখে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যতালিকায় সচেতনতা এবং বিশেষ করে রান্নায় সঠিক ভোজ্যতেল নির্বাচনের মাধ্যমে এই রোগ বহুলাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

আল্-হায়াত হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কনসালটেন্ট ডায়টেসিয়ান ও পুষ্টিবিদ মোহাম্মদ আরিফ ইকবালের মতে, ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য রান্নায় সবচেয়ে উপকারী উপাদান হলো অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেল। এই তেলে থাকা স্বাস্থ্যকর মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট লিভারে নতুন চর্বি জমতে বাধা দেয় এবং অঙ্গটির অভ্যন্তরীণ প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

পাশাপাশি সয়াবিন তেল ও ক্যানোলা তেলও পরিমিত মাত্রায় ব্যবহার করাকে নিরাপদ বলে উল্লেখ করেছেন এই পুষ্টিবিদ। কারণ এগুলোতে ক্ষতিকর স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম থাকায় লিভারের কোষে প্রদাহের ঝুঁকি হ্রাস পায়।

তবে সরিষার তেল, নারিকেল তেল কিংবা পাম তেলের মতো অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত তেল পরিহার করার জোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি, যা যকৃতে চর্বির সঞ্চয় বাড়িয়ে বিদ্যমান ফ্যাটি লিভারের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। খাদ্যতালিকায় তেলের সঠিক নির্বাচনের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার বর্জন, নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম ও পর্যাপ্ত পানি পানের মাধ্যমে লিভার সুস্থ রাখা সম্ভব।

/আশিক


চোখের নিচে কালো দাগ কেন, কমানোর সহজ কিছু উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ২৪ ১৯:৪১:২৩
চোখের নিচে কালো দাগ কেন, কমানোর সহজ কিছু উপায়
ছবি : সংগৃহীত

চোখের নিচে কালচে দাগ বা ডার্ক সার্কেল অনেকের জন্যই নিয়মিত সৌন্দর্য-সংক্রান্ত দুশ্চিন্তার কারণ। অনিয়মিত ঘুম, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার, মানসিক চাপ, বয়স বাড়ার মতো বিভিন্ন কারণে চোখের নিচের ত্বকে কালচে ভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। অনেকে প্রসাধনী ব্যবহার করে সাময়িকভাবে এটি ঢেকে রাখেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে ডার্ক সার্কেল কমাতে জীবনযাপনের কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ।

ডার্ক সার্কেল কমানোর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুমকে গুরুত্ব দিতে হবে। ঘুমের ঘাটতি হলে চোখের নিচের ত্বক কিছুটা ফ্যাকাশে দেখাতে পারে এবং ত্বকের নিচের রক্তনালিগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি দৃশ্যমান হয়ে কালচে ভাব তৈরি করতে পারে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়ার অভ্যাস করা ভালো। ঘুমানোর আগে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টেলিভিশন ব্যবহারের সময় কমিয়ে আনলেও ঘুমের মান ভালো হতে পারে।

শুধু কম ঘুম নয়, নিয়মিত রাত জাগার অভ্যাসও চোখের ক্লান্তি বাড়াতে পারে। রাত জেগে কাজ করা, দীর্ঘ সময় ওয়েব সিরিজ দেখা কিংবা ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ফোন ব্যবহার করলে চোখ পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। এর প্রভাব সময়ের সঙ্গে চোখের ক্লান্তি ও চোখের নিচের কালচে ভাবের ওপর পড়তে পারে। তাই সম্ভব হলে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেও চোখ ক্লান্ত ও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। কাজের প্রয়োজনে দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহার করতে হলে মাঝেমধ্যে চোখকে বিশ্রাম দেওয়া দরকার। কাজের ফাঁকে কিছুক্ষণ দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকানো, চোখ বন্ধ করে বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কমিয়ে রাখা চোখের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

মানসিক চাপও চোখের নিচের কালচে ভাবকে আরও স্পষ্ট করে তুলতে পারে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের সঙ্গে ক্লান্তি ও ঘুমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই ব্যস্ততার মধ্যেও পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, হাঁটাহাঁটি করা, পছন্দের কাজে সময় দেওয়া বা অন্য কোনো স্বাস্থ্যকর উপায়ে মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা ভালো।

শরীরে পানির ঘাটতি হলে ত্বক শুষ্ক ও ক্লান্ত দেখাতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি প্রতিদিনের খাবারে শাকসবজি, ফল, প্রোটিনসহ প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। আয়রন বা কিছু ভিটামিনের ঘাটতি থাকলেও ত্বক ফ্যাকাশে বা ক্লান্ত দেখাতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ডার্ক সার্কেল থাকলে তাই শুধু বাহ্যিক পরিচর্যার দিকে নজর না দিয়ে খাবারের পুষ্টিমানেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

চোখের নিচে ফোলাভাব বা ক্লান্তি থাকলে ঠান্ডা সেঁক সাময়িকভাবে আরাম দিতে পারে। পরিষ্কার কাপড়ে মোড়ানো ঠান্ডা প্যাক কয়েক মিনিট চোখের নিচে রাখা যেতে পারে। এতে চোখের চারপাশের ফোলাভাব কিছুটা কমে ত্বক সতেজ দেখাতে পারে। তবে বরফ সরাসরি চোখের নিচের ত্বকে লাগানো উচিত নয়।

চোখের ওপর ঠান্ডা শসার টুকরো রাখার প্রচলনও দীর্ঘদিনের। শসায় পানির পরিমাণ বেশি থাকায় ঠান্ডা শসা চোখের চারপাশে সাময়িক প্রশান্তি দিতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে ফোলাভাব কমাতে সহায়তা করতে পারে। পরিষ্কার শসার কয়েকটি টুকরো অল্প সময় চোখের ওপর রেখে পরে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নেওয়া যায়।

চোখের নিচের ত্বক মুখের অন্যান্য অংশের তুলনায় পাতলা ও সংবেদনশীল। তাই এই অংশে জোরে ঘষাঘষি বা বারবার টানাটানি করা উচিত নয়। মেকআপ তোলার সময়ও আলতোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। চোখের চারপাশের সংবেদনশীল ত্বকের জন্য উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যেতে পারে। বাইরে বের হওয়ার সময় সূর্যের ক্ষতিকর আলো থেকে চোখের চারপাশের ত্বক সুরক্ষিত রাখার বিষয়েও নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তবে সব ডার্ক সার্কেলের কারণ এক নয়। ঘুমের ঘাটতি বা ক্লান্তির পাশাপাশি বংশগত বৈশিষ্ট্য, বয়স, অ্যালার্জি, চোখ ঘষার অভ্যাস, ত্বকের রঙের পরিবর্তন কিংবা চোখের নিচের ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়ার কারণেও কালচে ভাব দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত যত্ন নেওয়ার পরও যদি দীর্ঘদিন ডার্ক সার্কেল একই রকম থাকে, তাহলে এর প্রকৃত কারণ জানতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

চোখের নিচের কালচে দাগ সাধারণত একদিনে তৈরি হয় না। তাই এক-দুই দিন কোনো ঘরোয়া উপায় ব্যবহার করলেই এটি পুরোপুরি দূর হয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। পর্যাপ্ত ঘুম, স্ক্রিন ব্যবহারে বিরতি, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ত্বকের যত্ন—সব মিলিয়েই ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনা সম্ভব। আর ডার্ক সার্কেল হঠাৎ বেড়ে গেলে, এক চোখে বেশি দেখা দিলে কিংবা ফোলা, ব্যথা বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গের সঙ্গে দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

/আশিক


স্মার্টফোন চার্জে দেওয়ার সময় যেসব সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলবেন

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৮ ২০:২৯:১২
স্মার্টফোন চার্জে দেওয়ার সময় যেসব সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলবেন
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে যোগাযোগ, দাপ্তরিক কাজকর্ম, বিনোদন কিংবা আর্থিক লেনদেনের মতো দৈনন্দিন প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে স্মার্টফোনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। আর এই অপরিহার্য ডিভাইসটি সচল রাখতে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। তবে স্মার্টফোন চার্জ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকেরই এমন কিছু অসচেতন অভ্যাস থাকে, যা ডিভাইসের নিরাপত্তা এবং ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি আয়ু ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ফোন চার্জিংয়ের সময় সচরাচর করা কয়েকটি ভুল ও সেগুলোর ক্ষতিকর দিক নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রথম ভুলটি হলো ডিভাইস দীর্ঘ সময় ধরে চার্জে লাগিয়ে রাখা। সাধারণত অনেকেই রাতে ঘুমানোর আগে ফোন চার্জে দিয়ে সারারাত রেখে দেন। যদিও আধুনিক প্রযুক্তির স্মার্টফোনগুলোতে ব্যাটারি পূর্ণ হওয়ার পর চার্জিং নিয়ন্ত্রণের নিজস্ব ব্যবস্থা থাকে, তবুও দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ চার্জ অবস্থায় ফোন ফেলে রাখা এবং এর ফলে উৎপন্ন তাপ ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি ধারণক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। তাই প্রয়োজনমাফিক চার্জ দেওয়া এবং ডিভাইস অতিরিক্ত গরম হলে সাময়িকভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাই সঠিক পদ্ধতি।

এছাড়া বিছানা, বালিশ বা তোশকের মতো নরম স্থানে রেখে ফোন চার্জ দেওয়া আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস। চার্জিং চলাকালীন ফোন প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা উষ্ণ হয়। এমন অবস্থায় ডিভাইসটি যদি বালিশের নিচে বা কাপড়ের ওপর থাকে, তবে ভেতরের তাপ বাইরে নির্গত হওয়ার পথ পায় না, যা অতিরিক্ত গরম হওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এ ঝুঁকি এড়াতে চার্জ দেওয়ার সময় সবসময় সমতল, শক্ত এবং উন্মুক্ত স্থান বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মূল চার্জার নষ্ট বা হারিয়ে গেলে কম দামের অচেনা ব্র্যান্ডের চার্জার ও কেবল ব্যবহার করাও ব্যাটারির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। নিম্নমানের এসব সামগ্রী ফোনে সঠিক মাত্রায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে ফোনের অভ্যন্তরীণ চার্জিং ব্যবস্থা ও ব্যাটারির ওপর। ফলে ডিভাইস অস্বাভাবিক উত্তপ্ত হয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য সর্বদা ফোন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত অথবা নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ডের সার্টিফায়েড অ্যাডাপ্টার ও কেবল ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

অনেকেই আবার ব্যাটারির আয়ু বাড়ানোর আশায় বিভিন্ন থার্ড-পার্টি ‘ব্যাটারি-সেভিং’ অ্যাপ নামিয়ে নেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব অ্যাপ কার্যক্ষেত্রে খুব একটা সুফল তো দেয়ই না, বরং অচেনা ও অনির্ভরযোগ্য অ্যাপগুলো নানা ধরনের সংবেদনশীল অনুমতির মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্যের মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বাড়তি কোনো অ্যাপের সাহায্য না নিয়ে ডিভাইসে থাকা নিজস্ব ‘ব্যাটারি সেভার’ বা ‘লো পাওয়ার মোড’ ব্যবহার করাই নিরাপদ ও কার্যকর।

চার্জে থাকা অবস্থায় ফোনে ভারী কাজকর্ম করাও ব্যাটারির কার্যক্ষমতা দ্রুত নষ্ট করে। চার্জিং চলাকালীন উচ্চমানের ভিডিও দেখা কিংবা ভারী গেম খেললে প্রসেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যার কারণে ডিভাইস দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই অতিরিক্ত তাপ দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির স্বাস্থ্যের স্থায়ী ক্ষতি করে। তাই চার্জ দেওয়ার সময় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কাজ থেকে বিরত থাকা এবং ডিভাইস গরম হলে ব্যবহার থামিয়ে তা স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরতে দেওয়াই যুক্তিযুক্ত।

/আশিক


কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে যেসব অভ্যাস বর্জনীয়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১৬ ১৯:৫৬:৩৭
কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে যেসব অভ্যাস বর্জনীয়
ছবি : সংগৃহীত

শরীরে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ ছাড়াই নীরব ঘাতক হিসেবে বাসা বাঁধতে পারে উচ্চ কোলেস্টেরল। রক্তে অতিরিক্ত এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল জমতে থাকলে রক্তনালীর পথ সরু হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বয়স কিংবা জিনগত কারণের বাইরে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের কিছু সাধারণ ভুল অভ্যাসও কোলেস্টেরলের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে তোলে।

সকালের নাশতায় পরোটা, মাখন, প্রক্রিয়াজাত মাংস বা অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে এলডিএল কোলেস্টেরল দ্রুত বাড়ে। মাখন, ঘি, পনির, ক্রিম ও প্যাকেটজাত খাবারে থাকা ক্ষতিকর স্যাচুরেটেড ফ্যাট মোট দৈনিক ক্যালরির সর্বোচ্চ ১০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি বাদাম বা বীজের মতো স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকসও একবারে অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়; প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত স্ন্যাকস বর্জন করে ফলমূল, শাকসবজি ও হোলগ্রেন জাতীয় খাবার খাওয়া হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী।

দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনও কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট করে। দৈনিক কাজের ফাঁকে সচল থাকা, সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম করা এবং একটানা বসে না থেকে হাঁটাচলার অভ্যাস ভালো কোলেস্টেরল (এইচডিএল) বাড়াতে ও খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া সফট ড্রিঙ্কস বা মিষ্টি পানীয় গ্রহণের ফলে ওজন বৃদ্ধি পেয়ে হৃদযন্ত্রে চাপ তৈরি হয়। সর্বোপরি, ধূমপান রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে দেয়, যা অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে।

/আশিক


সাধারণ পিঠে ব্যথা ও ক্যানসারের উপসর্গের পার্থক্য চেনার উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ১১ ২০:৩৯:৫২
সাধারণ পিঠে ব্যথা ও ক্যানসারের উপসর্গের পার্থক্য চেনার উপায়
ছবি : সংগৃহীত

কাজের অত্যধিক চাপ বা ভুল ভঙ্গিতে ঘুমানোর কারণে পিঠে ব্যথা হওয়া অত্যন্ত সাধারণ ঘটনা। তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, পিঠের দীর্ঘস্থায়ী বা অস্বাভাবিক ব্যথার সঙ্গে শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ফুসফুসের সরাসরি সম্পর্ক থাকতে পারে, যা অনেক সময় ফুসফুসের ক্যানসারের পূর্বলক্ষণ হিসেবে দেখা দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, ফুসফুসের নিজস্ব কোনো অনুভূতিগ্রাহক স্নায়ু না থাকায় এতে সরাসরি ব্যথা অনুভব করা যায় না। তবে ফুসফুসে কোনো জটিলতা তৈরি হলে বা টিউমার বাড়তে থাকলে তা আশপাশের স্নায়ু, হাড় ও টিস্যুতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। ফলে বুকের তীব্র যন্ত্রণা অনেক সময় পিঠ কিংবা কাঁধের অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর তীব্রতায় রাতে ঘুম ভেঙে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।

বিশেষ করে ফুসফুসের ওপরের অংশে 'প্যানকোস্ট টিউমার' নামের এক বিশেষ ধরনের টিউমার তৈরি হলে তা কাঁধ ও হাতের দিকে যাওয়া স্নায়ুর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে কাঁধে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় এবং হাতের আঙুল বা তালু অবশ হয়ে আসতে পারে। উপযুক্ত পরীক্ষার অভাবে রোগীরা প্রায়শই এটিকে সাধারণ ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’ বা স্পন্ডিলোসিস ভেবে মাসের পর মাস ভুল চিকিৎসা করিয়ে থাকেন। চিকিৎসকেরা এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে অনতিবিলম্বে বুকের এক্স-রে করানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

সাধারণ পেশির টান থেকে হওয়া ব্যথা বিশ্রামে কমে গেলেও কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে ব্যথা দীর্ঘদিন ধরে থাকা ও ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়া, বিশ্রাম বা মলম ব্যবহারে উপশম না হওয়া, রাতের বেলায় ব্যথার তীব্রতায় ঘুম ভেঙে যাওয়া, পিঠে ব্যথার সাথে অকারণে ওজন হ্রাস ও চরম ক্লান্তি এবং দীর্ঘদিনের কাশি, শ্বাসকষ্ট বা কাশির সঙ্গে রক্ত আসার মতো উপসর্গ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পিঠে ব্যথা মানেই ক্যানসার ভেবে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে ব্যথার সঙ্গে এসব শারীরিক পরিবর্তন যুক্ত হলে দ্রুত পরীক্ষা করানোই শ্রেয়।

সূত্র : আনন্দবাজার


ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখতে ভাইরাল হওয়া ঘরোয়া টোটকার কার্যকারিতা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ আগস্ট ০৮ ২১:৪৯:১৯
ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখতে ভাইরাল হওয়া ঘরোয়া টোটকার কার্যকারিতা
ছবি : সংগৃহীত

উজ্জ্বল ও লাবণ্যময় ত্বকের আশায় অনেকেই বাজারের দামি প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকেন। তবে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'অ্যালোভেরা কোলাজেন জেল' নামের একটি ঘরোয়া রূপচর্চার পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ব্যবহারকারীদের দাবি, এই জেলের নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক আর্দ্র ও টানটান থাকার পাশাপাশি এর স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।

সামাজিক মাধ্যমে এটিকে 'কোলাজেন জেল' বলা হলেও বাস্তবে এতে সরাসরি কোনো কোলাজেন থাকে না। মূলত অ্যালোভেরা ও তিসির বীজে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা ত্বককে আর্দ্র রাখার পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে কোলাজেন তৈরির প্রক্রিয়াকে দ্রুত করতে সাহায্য করে। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি কোলাজেনের কোনো সরাসরি বিকল্প নয়, বরং ত্বকের সুরক্ষায় একটি কার্যকর ঘরোয়া মিশ্রণ হিসেবে কাজ করে।

এই জেলের অন্যতম উপাদান অ্যালোভেরায় প্রচুর পরিমাণে পানি, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং প্রদাহনাশক প্রাকৃতিক উপাদান রয়েছে। এগুলো ত্বককে ঠান্ডা রাখতে এবং শুষ্কতা ও সাময়িক জ্বালা ভাব দূর করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, মিশ্রণটির আরেক উপাদান তিসির বীজে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের সুরক্ষায় দারুণ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

এই মিশ্রণটি তৈরি করতে টাটকা অ্যালোভেরার রসের সঙ্গে পানিতে ফোটানো তিসির বীজের ঘন ও পিচ্ছিল জেল ব্যবহার করা হয়। তিসির বীজ ফুটিয়ে তৈরি করা জেল ছেঁকে ঠান্ডা করে অ্যালোভেরার সঙ্গে ভালোভাবে মেশাতে হয়। মিশ্রণটি দীর্ঘদিন ভালো রাখতে এবং ত্বকের আর্দ্রতা আরও বাড়াতে অনেকেই এর সঙ্গে ভিটামিন-ই তেল যুক্ত করে থাকেন।

তবে ঘরোয়া উপাদান মানেই যে তা সবার ত্বকের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল বা অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের এটি সরাসরি ব্যবহারের আগে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। নতুন এই জেল পুরো মুখে ব্যবহারের আগে হাত বা কানের পেছনে সামান্য লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত। ব্যবহারের স্থানে কোনো রকম চুলকানি, লালচে দাগ বা জ্বালা ভাব দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে এর ব্যবহার বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: