ফ্যাসিবাদ পরবর্তী বাংলাদেশের দিশারি যখন খালেদা জিয়ার আদর্শ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৭ ০৯:৫৪:৪০
ফ্যাসিবাদ পরবর্তী বাংলাদেশের দিশারি যখন খালেদা জিয়ার আদর্শ
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও কর্মজীবনের অনন্য অবদান এবং গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনরা। গতকাল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে বেগম জিয়া ছিলেন এক আপসহীন প্রতিমূর্তি। বিগত সরকারের আমলে চরম রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনো আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। এমনকি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর যখন সারা দেশে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল, তখনও তিনি কোনো ধরণের বিদ্বেষ বা প্রতিহিংসা ছড়াননি; বরং তরুণ সমাজকে ধৈর্য ধরার ও দেশ পুনর্গঠনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এক বিরল রাজনৈতিক শিষ্টাচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন শোকসভাটি আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চলে এবং শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে। শোকসভার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, লেখক, গবেষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি এবং পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকলেও রাজনৈতিক প্রথা ভেঙে বিএনপি বা খালেদা জিয়ার পরিবারের কোনো সদস্য বক্তব্য দেননি। গত ৩০ ডিসেম্বর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এই বর্ষীয়ান নেত্রী।

শোকসভায় অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, “খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচারপ্রক্রিয়া ছিল অদ্ভুত ও জঘন্য। যখন তাকে ভুয়া মামলায় সাজা দেওয়া হয়, তখন ভয়ের সংস্কৃতি এতটাই প্রকট ছিল যে অনেক গণমাধ্যম তার পক্ষে কোনো বিবৃতি ছাপাতে সাহস পায়নি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সময়ের পরিক্রমায় আজ খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন, আর তার প্রতিপক্ষ আজ বিতাড়িত। অন্যদিকে দৈনিক যায় যায় দিন সম্পাদক শফিক রেহমান আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, খালেদা জিয়ার শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সবাইকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।

ডেইল স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম গণতন্ত্রের প্রতি খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধাশীল মনোভাবের কথা স্মরণ করে বলেন, “বিগত সরকারের চরম নির্যাতনের পরও ৭ আগস্ট তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তা তার মহানুভবতার পরিচয় দেয়। তিনি ধ্বংসের পরিবর্তে ভবিষ্যতে ভালোবাসা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার ডাক দিয়েছিলেন।” নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর তার আলোচনায় খালেদা জিয়ার রুচিশীলতা ও পরিমিতিবোধের প্রশংসা করে বলেন, চরম রাজনৈতিক সংকটেও তিনি বা তার পরিবারের কেউ কখনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অশালীন শব্দ ব্যবহার করেননি, যা বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরল।

বিস্ময়কর ও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রয়োজনীয় সুচিকিৎসা পাননি। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’ বা উইলফুল নেগলিজেন্স-এর ফলেই তার লিভার ফাংশন দ্রুত অকেজো হয়ে পড়ে এবং তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।” তিনি এই ঘটনার পেছনে কোনো সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানান। অন্যদিকে লেখক ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের পতাকা এখন তারেক রহমানের হাতে এবং এটি তার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। তিনি তারেক রহমানের সক্ষমতার জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেন।

শোকসভায় পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক ড. রাশেদ আল তিতুমীর খালেদা জিয়ার শাসনামলে দেশের অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর ও শিল্পায়নের প্রশংসা করেন। সভার সভাপতি বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন রাষ্ট্রীয়ভাবে খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধি দেওয়ার দাবি জানান।

"খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনীতিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক রাজনৈতিক আদর্শ। দেশ, মাটি ও মানুষকে তিনি কতটা ভালোবাসতেন তা তার ত্যাগের মধ্য দিয়েই প্রমাণিত। তার মৃত্যু হলেও তার আদর্শ এ দেশের ভবিষ্যৎ পথচলার মূল শক্তি হয়ে থাকবে।"

— ড. মাহবুব উল্লাহ, শোকসভার প্রধান উদ্যোক্তা।

শোকসভাটি ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় নেওয়া হয়েছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও আনসারসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখেন। নির্ধারিত কার্ড ছাড়া প্রবেশাধিকার সীমিত থাকলেও হাজার হাজার সমর্থক ও সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ভিড় করেন। তাদের কথা বিবেচনা করে আয়োজকরা বাইরে বড় স্ক্রিনে পুরো অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেন। শেষে মোনাজাত ও দোয়ার মাধ্যমে এই নাগরিক শোকসভার সমাপ্তি ঘটে।


শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল, কী বললেন তিনি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১৭:২৪:৫৪
শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল, কী বললেন তিনি
ছবি: সংগৃহীত

দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত শহীদ শরীফ ওসমান হাদি–এর হত্যার বিচার দাবিতে আবারও রাষ্ট্রের প্রতি সরব আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন ও দৃঢ় বার্তায় তিনি জানান, দীর্ঘ সময় পার হলেও ন্যায়বিচার না পাওয়ায় তিনি ও তাঁর সন্তান চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

শুক্রবার বিকেলে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া ওই পোস্টে রাবেয়া ইসলাম শম্পা লেখেন, রাষ্ট্রের কাছে তাঁর এবং তাঁর সন্তানের একমাত্র দাবি হলো—শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত সুবিধার দাবি নয়; বরং একজন স্ত্রী ও মায়ের ন্যায্য অধিকার।

পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জীবনের সব জাগতিক চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে স্বামীর হত্যার ন্যায়বিচার। বিচার প্রতিষ্ঠিত না হলে ক্ষত কখনো শুকাবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষায়, “ন্যায়বিচার ছাড়া শহীদের রক্তের দায় কখনো শেষ হতে পারে না।”

রাবেয়া ইসলাম শম্পা মনে করেন, বিচারহীনতার দীর্ঘসূত্রতা শুধু একটি পরিবারকে নয়, পুরো সমাজকে অনিরাপদ করে তোলে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দোষীরা শাস্তির আওতায় না এলে ভবিষ্যতে এমন হত্যাকাণ্ড আরও উৎসাহিত হবে। তাই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

-রাফসান


রামপাল প্রকল্প নিয়ে তীব্র সমালোচনায় রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১৪:২২:১১
রামপাল প্রকল্প নিয়ে তীব্র সমালোচনায় রিজভী
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উত্তরাধিকার বহনকারী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া–এর ভূমিকা ছিল নির্ধারক এমন মন্তব্য করেছেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার দৃঢ় অবস্থানের কারণেই দেশবিরোধী বহু পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে পারেনি।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্ক–এ বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রিজভী। প্রদর্শনীটির আয়োজন করে বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল ফোরাম, ঢাকা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভারতের ঝাড়খণ্ডে স্থাপিত একটি বিদ্যুৎ প্রকল্পকে ভারতের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ই একসময় বাতিল করেছিল। অথচ পরবর্তী সময়ে স্বৈরাচারী শাসনামলে একই ধরনের প্রকল্প বাংলাদেশের রামপালে বাস্তবায়ন করা হয়। তাঁর ভাষায়, জাতীয় স্বার্থবিরোধী এমন উদ্যোগ কখনোই বেগম খালেদা জিয়াকে দিয়ে করানো সম্ভব হয়নি। এ কারণেই তাঁকে রাজনৈতিকভাবে দমন করতে কারাবন্দী করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রেখে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।

রিজভী আরও অভিযোগ করেন, দেশের বিদ্যমান কয়লা ও গ্যাস সম্পদ দখলে নিতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলো নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তিনি বলেন, এসব সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নতুন নয়, তবে দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব থাকলে এমন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল ফোরামের সভাপতি মারুফা রহমান এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা আতিকুর রহমান, দৈনিক করোতোয়ার সম্পাদক **হেলালুজ্জামান লালু**সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

-শরিফুল


তারেক রহমান–ট্রাম্প প্রশাসনের ভার্চুয়াল বৈঠক

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১৪:১৫:০৭
তারেক রহমান–ট্রাম্প প্রশাসনের ভার্চুয়াল বৈঠক
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে তারেক রহমান–এর সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিদের। ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নীতি ও দক্ষিণ এশিয়া কৌশলের বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পায়।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসা থেকে অনলাইনে বৈঠকে অংশ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, পারস্পরিক শুল্কহার কাঠামো, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার। আলোচনায় আরও অংশ নেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চ এবং একই অঞ্চলের পরিচালক এমিলি অ্যাশবি।

বিএনপির পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির। আলোচনায় বাংলাদেশের রপ্তানি সম্ভাবনা, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের শুল্ক সুবিধা এবং দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী–এর বরাতে দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, এই বৈঠককে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

-শরিফুল


সমঝোতা মানেই পূর্ণ সহযোগিতা: জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নাহিদ ইসলামের বার্তা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১৮:৪১:৫২
সমঝোতা মানেই পূর্ণ সহযোগিতা: জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নাহিদ ইসলামের বার্তা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ১০ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের এক জরুরি বৈঠক শেষে ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি মূলত আসন্ন নির্বাচনে আসন সমঝোতা ও জোটের ঐক্য সুসংহত করার লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়। বৈঠক পরবর্তী প্রেস ব্রিফিংয়ে নাহিদ ইসলাম দাবি করেন যে, আসন সমঝোতা কেবল একটি কৌশলগত বিষয় হলেও এই জোটের রাজনৈতিক গুরুত্ব এ দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনস্বীকার্য। তিনি মনে করেন, এই জোটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যে একটি বড় ধরণের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে এবং জনগণ এই ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারছে।

জোটের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম অত্যন্ত আশাবাদী মনোভাব ব্যক্ত করেন। তিনি স্বীকার করেন যে জোট গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু ক্ষেত্রে মতভিন্নতা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক, তবে তার বিশ্বাস এই ক্ষুদ্র মতানৈক্যগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আলোচনার মাধ্যমে নিরসন করা সম্ভব হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, তাদের মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্র সংস্কার, আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করা। এই অভিন্ন আদর্শকে সামনে রেখেই তারা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে চান। নাহিদ ইসলামের মতে, শরিক দলগুলোর একে অপরকে সহযোগিতার মনোভাবই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের পথ প্রশস্ত করবে এবং শেষ পর্যন্ত দেশে গণতন্ত্রের প্রকৃত উত্তরণ ঘটাবে।

নির্বাচনী কৌশলের ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে এনসিপি আহ্বায়ক জানান যে, এবারের নির্বাচনে জোটের পক্ষ থেকে ৩০০ আসনেই একক প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে সমঝোতার প্রকৃত অর্থ হলো বৃহত্তর স্বার্থে দলীয় পরিচয় সরিয়ে রেখে জোটের মনোনীত প্রার্থীকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া। জোট যাকে যে আসনের জন্য যোগ্য মনে করবে, শরিক প্রতিটি দল তাদের সমস্ত শক্তি দিয়ে সেই প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করবে। নাহিদ ইসলাম দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এই ঐক্য অটুট রাখার জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন এবং কোনো বিচ্ছিন্ন মতানৈক্যই জোট গড়ার এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দিতে পারবে না।


পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিএনপির নতুন প্রস্তাব: সহজ হবে ভোটদান প্রক্রিয়া

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১৭:১৫:০৫
পোস্টাল ব্যালট নিয়ে বিএনপির নতুন প্রস্তাব: সহজ হবে ভোটদান প্রক্রিয়া
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজতর এবং ভোটারবান্ধব করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্যের বিস্তারিত জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দেশের অধিকাংশ ভোটার যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য নির্বাচন প্রক্রিয়াকে জটিল না করে সহজ করার কোনো বিকল্প নেই। ভোটারদের মধ্যে ভোটদানের উৎসাহ বাড়াতে নির্বাচন কমিশন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল ভোটার স্লিপে প্রার্থীর তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা। সালাহউদ্দিন আহমেদ নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেন যেন ভোটার স্লিপে প্রার্থীর ছবি, নির্বাচনী প্রতীক বা দলের নাম যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়। তার মতে, একজন ভোটার হাতে যখন একটি স্লিপ পাবেন এবং সেখানে যদি প্রার্থীর ছবি বা প্রতীক থাকে, তবে তার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। এটি ভোট প্রদান প্রক্রিয়াকে আরও জনবান্ধব করবে। বর্তমান নিয়মে এ ধরণের তথ্যের ঘাটতি থাকায় ভোটাররা অনেক সময় বিভ্রান্ত হন উল্লেখ করে বিএনপি নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশন চাইলে নিজস্ব ক্ষমতাবলেই এই পরিবর্তনটি অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, যা স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য সহায়ক হবে।

এর পাশাপাশি ডাকযোগে ভোট বা পোস্টাল ব্যালট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা দিয়েছে বিএনপি। সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, বর্তমান ব্যবস্থায় সব নির্বাচনী আসনের সব মার্কা সংবলিত সাধারণ ব্যালট না পাঠিয়ে প্রতিটি আসনের জন্য নির্দিষ্ট প্রার্থীর নাম ও প্রতীক সংবলিত ব্যালট যেন পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তিনি যুক্তি দেন যে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় যে ব্যালট পেপারটি ব্যবহার করা হবে, সেটিকেই পোস্টাল ব্যালট হিসেবে গণ্য করলে প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি যৌক্তিক এবং সহজসাধ্য হবে। কমিশন বিএনপির এই প্রস্তাবটি গভীরভাবে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে বলে তিনি জানান।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক সফর স্থগিতের বিষয়টি নিয়েও বিশদ ব্যাখ্যা দেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তারেক রহমানের এই সফরের পেছনে কোনো রাজনৈতিক বা নির্বাচনী প্রচারণার উদ্দেশ্য ছিল না। বরং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করাই ছিল এই সফরের মূল লক্ষ্য। সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন যে, বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনী আচরণবিধির কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি, বরং নির্বাচন কমিশনের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান দেখিয়েই সফরটি স্থগিত করা হয়েছে। তবে এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা যেসব অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন, তাকেই বরং নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে তিনি অভিহিত করেন। এ ধরণের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য চিহ্নিত করে কমিশনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায় বিএনপি।

উল্লেখ্য, আজ দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে বিএনপির এই প্রতিনিধি দল বৈঠকে বসে। প্রতিনিধি দলে সালাহউদ্দিন আহমেদের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, সাবেক ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, বিএনপির উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো বর্তমান আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে কতটা বাস্তবায়নযোগ্য, তা তারা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখবেন।


ভোটপ্রক্রিয়া বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি পক্ষ: মির্জা আব্বাস

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৫ ১৪:৩৬:১৪
ভোটপ্রক্রিয়া বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে একটি পক্ষ: মির্জা আব্বাস
ছবি: সংগৃহীত

পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাকে ঘিরে সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতা ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, একটি বিশেষ পক্ষ পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় তিনি আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

মির্জা আব্বাসের অভিযোগ, নিষিদ্ধ ও প্রশ্নবিদ্ধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর লোকজন এখনও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, এসব ব্যক্তি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে নানা ধরনের কৌশল অবলম্বন করতে পারেন, যার মধ্যে পোস্টাল ব্যালট একটি স্পর্শকাতর ক্ষেত্র।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং যেকোনো ধরনের কারসাজি বা অপপ্রচার রোধ করা। এ ক্ষেত্রে কমিশনের সামান্য শৈথিল্যও পুরো নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে আঙুল তুলছে। তার ভাষায়, এসব অপপ্রচার মূলত দোষারোপের রাজনীতির অংশ, যার মাধ্যমে প্রকৃত ইস্যু থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মির্জা আব্বাস দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, তিনি কথার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। নির্বাচিত হলে ঢাকা-৮ আসনের মানুষের জন্য কী করবেন, তা তিনি কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করবেন। উন্নয়ন ও জনস্বার্থই হবে তার রাজনীতির মূল ভিত্তি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

-শরিফুল


কেন এনসিপি ছাড়লেন, ব্যাখ্যায় ডা. তাসনিম জারা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১৩:৫১:১০
কেন এনসিপি ছাড়লেন, ব্যাখ্যায় ডা. তাসনিম জারা
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা। এনসিপি থেকে তার সরে দাঁড়ানো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটেই নিজের অবস্থান ও সিদ্ধান্তের যুক্তি স্পষ্ট করেছেন তিনি।

ডা. তাসনিম জারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যে পুরনো কাঠামো ও চর্চা চালু রয়েছে, তা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি দলীয় রাজনীতির বাইরে এসে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। তার মতে, প্রচলিত রাজনৈতিক কাঠামো জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ক্রমেই অক্ষম হয়ে পড়ছে।

মঙ্গলবার নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত এক সংলাপে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় জবাবদিহির কাঠামো অত্যন্ত দুর্বল। বিভিন্ন স্তরে জটিলতা ও অস্পষ্টতা বিরাজ করছে, যেখানে ক্ষমতাসীনরাই অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের জবাবদিহির সীমা নিজেরাই নির্ধারণ করেন। এতে গণতান্ত্রিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা হলেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এই আলোচনা ও সংস্কারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা যেমন জরুরি, তেমনি যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকবেন, তাদের কার্যকর ও বাস্তব জবাবদিহি নিশ্চিত করাও সময়ের বড় দাবি।

জনগণের মানসিক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে ডা. তাসনিম জারা বলেন, সাধারণ মানুষ আর পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। রাজনীতিতে নতুন ধারা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা দেখতে চায় জনগণ। এই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাকেই সামনে রেখে তিনি এনসিপি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

তিনি স্পষ্ট করেন, রাজনৈতিক দল ছাড়ার অর্থ রাজনীতি থেকে সরে যাওয়া নয়; বরং দলীয় সীমাবদ্ধতার বাইরে থেকে জনগণের কাছে সরাসরি দায়বদ্ধ থাকার সুযোগ তৈরি করাই তার লক্ষ্য। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি একটি বিকল্প রাজনৈতিক বার্তা দিতে চান।

উল্লেখ্য, শুরুতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-৯ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল ডা. তাসনিম জারার। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি ঘোষণা দেন, আসন্ন নির্বাচনে তিনি দলীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই ঢাকা-৯ আসনে ভোটের লড়াইয়ে নামবেন।

-রাফসান


৩১ দফা ও ‘আই হ্যাভ আ প্লান’ ইশতেহারে যুক্ত করছে বিএনপি

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ১৩:৪৪:৫২
৩১ দফা ও ‘আই হ্যাভ আ প্লান’ ইশতেহারে যুক্ত করছে বিএনপি
ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সময়ের হিসাব মাথায় নিয়েই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহার প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। নির্বাচনের আর মাত্র ২৮ দিন বাকি থাকায় দলটি ইতোমধ্যে ঘোষিত রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা, জনকল্যাণভিত্তিক প্রতিশ্রুতি এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইশতেহারের খসড়া চূড়ান্ত করছে।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ইশতেহারটি এখন বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এটি চূড়ান্ত করা হবে এবং পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, ইশতেহার প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারির মধ্যেই এটি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে এবং খুব শিগগিরই দল জনগণের সামনে ইশতেহার ঘোষণা করবে।

ইশতেহারের অন্যতম নতুন দিক হলো ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া। বিএনপি মনে করছে, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রশ্নে তরুণ সমাজের ভূমিকা এবার নির্ধারক হতে পারে। সে কারণে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া ও পরিবেশের মতো খাতগুলো ইশতেহারে অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

দলীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর সাম্প্রতিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক দর্শন ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে তার ‘আই হ্যাভ আ প্লান’ ধারণাকে ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার অঙ্গীকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাজ্যের আদলে বাংলাদেশে একটি ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও ইশতেহারের অংশ হবে। ক্ষমতায় এলে প্রথম ১৮ মাসে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতিকে দলটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে তুলে ধরতে চায়।

ইশতেহারে ৩১ দফার পাশাপাশি ‘ভিশন ২০৩০’, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সামাজিক আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন থাকবে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, বাকস্বাধীনতা, স্বচ্ছ প্রশাসন ও জাতীয় অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় পৌনে ১৩ কোটি। এর মধ্যে নতুন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি এবং ১৮ থেকে ৩৩ বছর বয়সি ভোটার প্রায় সাড়ে চার কোটি। বিশ্লেষকদের মতে, এই তরুণ ভোটাররাই নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারেন।

এই বাস্তবতায় বিএনপি তরুণদের পাশাপাশি নারী ও প্রবীণ ভোটারদের বিষয়েও বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে। দেশে নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটির বেশি হওয়ায় তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে জায়গা পাচ্ছে। ৬০ বছরের বেশি বয়সি প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ ভোটারের জীবনমান উন্নয়নও দলটির বিবেচনায় রয়েছে।

জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। কৃষকদের জন্য স্বল্পমূল্যে সার ও উন্নত বীজ সরবরাহ, শহর ও গ্রামে শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথাও বলা হচ্ছে।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এসএমই, বস্ত্র খাত, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, আইসিটি, ই-কমার্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্টার্টআপ খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর উদ্যোগের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ থাকবে।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, দলের ঘোষিত ৩১ দফা ও তারেক রহমানের বক্তব্য ইশতেহারের মূল ভিত্তি। স্থায়ী কমিটির আলোচনার পর দ্রুতই এটি ঘোষণা করা হবে।

অন্যদিকে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পুনর্ব্যক্ত করেছেন, বিএনপি মেগা প্রকল্পের চেয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেবে। তাঁর মতে, জনগণের সক্ষমতা বাড়ানোই হবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি।

এ প্রসঙ্গে দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ইশতেহার মূলত ঘোষিত ৩১ দফা ও প্রয়াত নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র ভিশন ২০৩০-এর আলোকে তৈরি হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশাই এবার ইশতেহারের কেন্দ্রে থাকবে।

-রাফসান


তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে বিদ্রোহী দমনে বড় জয়

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৪ ০৯:২৬:২০
তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে বিদ্রোহী দমনে বড় জয়
ছবি : সংগৃহীত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থী দমনে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিএনপি। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যক্তিগতভাবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিচ্ছেন। বিশেষ করে জোট ও শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে দলীয় ঐক্য বজায় রাখাই এখন বিএনপির হাইকমান্ডের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

নির্বাচনী পরিস্থিতির উত্তাপের মধ্যে প্রতিদিন রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিভিন্ন জেলার বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বলছেন তারেক রহমান। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দলীয় প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিদ্রোহীদের সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানাচ্ছেন। চেয়ারম্যান আশ্বাস দিয়েছেন যে, নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে পারে, তবে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। তারেক রহমানের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইতোমধ্যে অনেক বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যা দল ও সমমনা জোটের প্রার্থীদের মধ্যে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিয়েছে।

বিএনপি তাদের সমমনা জোটের জন্য যে ১৭টি আসন ছেড়ে দিয়েছে, সেগুলোতে শরিক দলের শীর্ষ নেতারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই তালিকায় রয়েছেন

বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না।

ভোলা-১ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ।

সিলেট-৫ আসনে জমিয়তের মাওলানা মোহাম্মদ উবায়দুল্লাহ ফারুক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব।

নীলফামারী-১ আসনে মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনির হোসেন কাসেমী।

যশোর-৫ আসনে জমিয়তের (অনিবন্ধিত) রশিদ বিন ওয়াক্কাস।

নড়াইল-২ আসনে এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ।

পটুয়াখালী-৩ আসনে গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর।

ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খান।

ঢাকা-১২ আসনে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক।

ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএমের ববি হাজ্জাজ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বাংলাদেশ এলডিপির শাহাদাত হোসেন সেলিম।

কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির সৈয়দ এহসানুল হুদা।

কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপির ড. রেদোয়ান আহমদ।

হবিগঞ্জ-১ আসনে ড. রেজা কিবরিয়া।

উল্লেখ্য যে, শরিক নেতাদের মধ্যে ড. রেদোয়ান আহমদ, ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, রাশেদ খান, শাহাদাত হোসেন সেলিম, এহসানুল হুদা, রেজা কিবরিয়া ও ববি হাজ্জাজ নিজেদের দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকেই নির্বাচনে লড়ছেন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সূত্র জানিয়েছে, দেশের ২৯৮টি আসনের মধ্যে অন্তত ৯৩টি আসনে দলের নেতারা বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ইতোমধ্যে ১০ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে যারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন না, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা আহ্বান জানিয়েছি দলের সিদ্ধান্তের প্রতি যেন তারা শ্রদ্ধাশীল হন। আশা করছি ২০ জানুয়ারির মধ্যেই পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হবে।”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে জোনায়েদ সাকির বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া দলের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল খালেককে ঢাকায় ডেকে কথা বলেন তারেক রহমান। বৈঠকের পর আবদুল খালেক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বলেন, “চেয়ারম্যান যখন ডেকেছেন, তাঁকে সম্মান করতেই হবে।” একইভাবে নাসিরনগর আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানও তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলার পর ভিডিও বার্তার মাধ্যমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।

তবে ঢাকা-১২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, পটুয়াখালী-৩ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ সহ শতাধিক আসনে এখনো দলের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন। জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও বাম জোটের প্রার্থীদের পাশাপাশি দলের এই বিদ্রোহীদের সামাল দেওয়া এখন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমানের এই ব্যক্তিগত তৎপরতা শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কতটুকু সুফল আনে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত