ফ্যাসিবাদ পরবর্তী বাংলাদেশের দিশারি যখন খালেদা জিয়ার আদর্শ

বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির সদ্য প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ও কর্মজীবনের অনন্য অবদান এবং গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনরা। গতকাল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে বেগম জিয়া ছিলেন এক আপসহীন প্রতিমূর্তি। বিগত সরকারের আমলে চরম রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া সত্ত্বেও তিনি কখনো আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। এমনকি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর যখন সারা দেশে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল, তখনও তিনি কোনো ধরণের বিদ্বেষ বা প্রতিহিংসা ছড়াননি; বরং তরুণ সমাজকে ধৈর্য ধরার ও দেশ পুনর্গঠনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে এক বিরল রাজনৈতিক শিষ্টাচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন শোকসভাটি আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চলে এবং শেষ হয় বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে। শোকসভার প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন। ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক, লেখক, গবেষক, ধর্মীয় প্রতিনিধি এবং পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকলেও রাজনৈতিক প্রথা ভেঙে বিএনপি বা খালেদা জিয়ার পরিবারের কোনো সদস্য বক্তব্য দেননি। গত ৩০ ডিসেম্বর বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এই বর্ষীয়ান নেত্রী।
শোকসভায় অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, “খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচারপ্রক্রিয়া ছিল অদ্ভুত ও জঘন্য। যখন তাকে ভুয়া মামলায় সাজা দেওয়া হয়, তখন ভয়ের সংস্কৃতি এতটাই প্রকট ছিল যে অনেক গণমাধ্যম তার পক্ষে কোনো বিবৃতি ছাপাতে সাহস পায়নি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সময়ের পরিক্রমায় আজ খালেদা জিয়া মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন, আর তার প্রতিপক্ষ আজ বিতাড়িত। অন্যদিকে দৈনিক যায় যায় দিন সম্পাদক শফিক রেহমান আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, খালেদা জিয়ার শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে সবাইকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজরদারি রাখতে হবে।
ডেইল স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম গণতন্ত্রের প্রতি খালেদা জিয়ার শ্রদ্ধাশীল মনোভাবের কথা স্মরণ করে বলেন, “বিগত সরকারের চরম নির্যাতনের পরও ৭ আগস্ট তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তা তার মহানুভবতার পরিচয় দেয়। তিনি ধ্বংসের পরিবর্তে ভবিষ্যতে ভালোবাসা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার ডাক দিয়েছিলেন।” নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর তার আলোচনায় খালেদা জিয়ার রুচিশীলতা ও পরিমিতিবোধের প্রশংসা করে বলেন, চরম রাজনৈতিক সংকটেও তিনি বা তার পরিবারের কেউ কখনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অশালীন শব্দ ব্যবহার করেননি, যা বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিরল।
বিস্ময়কর ও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের প্রধান অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রয়োজনীয় সুচিকিৎসা পাননি। চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলা’ বা উইলফুল নেগলিজেন্স-এর ফলেই তার লিভার ফাংশন দ্রুত অকেজো হয়ে পড়ে এবং তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়।” তিনি এই ঘটনার পেছনে কোনো সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার দাবি জানান। অন্যদিকে লেখক ও সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রামের পতাকা এখন তারেক রহমানের হাতে এবং এটি তার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। তিনি তারেক রহমানের সক্ষমতার জন্য স্রষ্টার কাছে প্রার্থনা করেন।
শোকসভায় পারিবারিক সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, ডা. জুবাইদা রহমান, ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন। অধ্যাপক ড. রাশেদ আল তিতুমীর খালেদা জিয়ার শাসনামলে দেশের অর্থনীতির কাঠামোগত রূপান্তর ও শিল্পায়নের প্রশংসা করেন। সভার সভাপতি বিচারপতি সৈয়দ জে আর মোদাচ্ছির হোসেন রাষ্ট্রীয়ভাবে খালেদা জিয়াকে সর্বোচ্চ সম্মানজনক উপাধি দেওয়ার দাবি জানান।
"খালেদা জিয়া কেবল একজন রাজনীতিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক রাজনৈতিক আদর্শ। দেশ, মাটি ও মানুষকে তিনি কতটা ভালোবাসতেন তা তার ত্যাগের মধ্য দিয়েই প্রমাণিত। তার মৃত্যু হলেও তার আদর্শ এ দেশের ভবিষ্যৎ পথচলার মূল শক্তি হয়ে থাকবে।"
— ড. মাহবুব উল্লাহ, শোকসভার প্রধান উদ্যোক্তা।
শোকসভাটি ঘিরে সংসদ ভবন এলাকায় নেওয়া হয়েছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসারসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা পুরো এলাকা নজরদারিতে রাখেন। নির্ধারিত কার্ড ছাড়া প্রবেশাধিকার সীমিত থাকলেও হাজার হাজার সমর্থক ও সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ভিড় করেন। তাদের কথা বিবেচনা করে আয়োজকরা বাইরে বড় স্ক্রিনে পুরো অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেন। শেষে মোনাজাত ও দোয়ার মাধ্যমে এই নাগরিক শোকসভার সমাপ্তি ঘটে।
গণভোটের রায় নিয়ে আদালতে খেলা চলবে না: নাহিদ ইসলাম
গণভোটের বৈধতাকে আদালতে নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে বলে কঠোর মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কুমিল্লা স্টেশন ক্লাবে আয়োজিত এনসিপির বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের রায়কে নিয়ে আদালতে ছিনিমিনি খেললে রাজপথেই তার ফয়সালা হবে। নাহিদ ইসলাম বলেন, "আমরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে গণরায়ের জয় নিশ্চিত করেছি, কিন্তু এখন সেই রায়কে প্রশ্নবিদ্ধ করতে আদালতে নেওয়া হচ্ছে। আমাদের বাধ্য করবেন না আবারও ‘হাইকোর্ট না রাজপথ’ স্লোগান দিয়ে মাঠে নামতে।" তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে এনসিপি রাজপথে নামতে দ্বিধা করবে না।
ইফতার মাহফিলে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়েও কড়া বার্তা দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ভারতে অবস্থানরত পতিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত না পাঠালে ভারতের সঙ্গে কোনো সম্পর্কই স্বাভাবিক হবে না। তাঁর মতে, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং শেখ হাসিনাসহ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা না পর্যন্ত ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কোনো ইতিবাচক চিন্তা করার সুযোগ নেই। অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও একই সুরে কথা বলেন। তিনি জানান, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, কিন্তু এখন তা নিয়ে চোর-পুলিশ খেলা চলছে। সরকার শান্তিতে দেশ চালাতে চাইলে জুলাই সনদ ও সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে এনসিপির অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও বিভিন্ন বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সংগঠনের সদস্য সচিব আখতার হোসেন অভিযোগ করেন যে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার নামে কিছু মিডিয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম দাবি করেন যে, বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ও আইনজীবী দেশকে পুরোনো পথে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন এবং মাঠপর্যায়ে এনসিপি নেতাদের হুমকি দিচ্ছেন। মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী শরিফ ওসমান হাদি হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করে বলেন, এই বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আন্দোলন থেকে সরবেন না। ইফতার মাহফিলে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহসহ কুমিল্লা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার হওয়ার প্রস্তাব বিএনপির: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকারের পদটি প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। সোমবার (২ মার্চ ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে পরিচিত 'জুলাই জাতীয় সনদ'-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ঐকমত্যের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা দলগতভাবে প্রধান বিরোধী দলকে মৌখিকভাবে এবং সরাসরি এই প্রস্তাব দিয়েছি। আমরা চাইছি তারা যেন তাদের মধ্য থেকে একজনকে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে মনোনীত করেন, যাতে স্পিকার নির্বাচনের দিনই ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়াটিও সম্পন্ন করা যায়।"
উচ্চকক্ষ গঠনের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলমান রয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নির্বাচিত হবেন। সরকার এখন থেকেই সেই সমঝোতা বাস্তবায়ন করতে চায় এবং একটি ‘গুড উইল’ বা সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের রাজনীতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সমঝোতার নতুন পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
/আশিক
খামেনি হত্যা ও শিশু নিধনের প্রতিবাদ: রাজধানীতে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলা এবং সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদে আজ রোববার (১ মার্চ ২০২৬) রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকা। বাদ জোহর জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, পবিত্র রমজান মাসে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর এমন বর্বরতা শান্তিকামী বিশ্ব কখনোই মেনে নেবে না।
ড. আহমদ আবদুল কাদের তাঁর বক্তব্যে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে বলেন, এই যৌথ হামলায় ইরানের একটি স্কুলের শতাধিক নিষ্পাপ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের চরম বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও দাবি করেন, খামেনিকে হত্যার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক আইন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব রীতিনীতিও লঙ্ঘন করেছে। ইরানের এই দুঃসময়ে তিনি বিশ্ববাসীকে তেহরানের পাশে দাঁড়ানোর এবং আরব দেশগুলোকে মার্কিন দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার আহ্বান জানান।
সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এক বিশেষ দাবি উত্থাপন করা হয়। খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এই হামলার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব আনতে হবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে শক্ত প্রতিবাদ জানাতে হবে। মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল উত্তর গেট থেকে বের হয়ে পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে, যেখানে হাজার হাজার মানুষ ‘মার্কিন-ইসরায়েল’ বিরোধী স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে তোলে।
/আশিক
রমজানে হামলা হৃদয়বিদারক: খামেনি হত্যায় গভীর ক্ষোভ জামায়াত আমিরের
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাহাদাতের সংবাদে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ রোববার (১ মার্চ ২০২৬) সকালে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই শোক প্রকাশ করেন। শোকসন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “মহান আল্লাহ তাদের এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ও শক্তি দান করুন।”
খামেনির প্রয়াণ ও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, এই পরিস্থিতি যদি আরও সামরিক উত্তেজনার দিকে যায়, তবে তা কেবল একটি দেশের নয়, বরং পুরো অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে এ ধরণের হামলা বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি করছে, যা বিশ্বশান্তিকে আরও বিপন্ন করে তুলবে বলে তিনি মনে করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রতি অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করার জোরালো আহ্বান জানান। তিনি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন। ডা. শফিকুর রহমান আরও যোগ করেন, আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ। বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ ও বিশ্বনেতাদের এখনই কার্যকর ও শক্তিশালী ভূমিকা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
/আশিক
সংসদে নতুন বিরোধী দল দেখবে দেশ: জামায়াত আমির
জাতীয় সংসদে কেবল বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা না করে একটি দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা রাখার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে দলটির আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এই নতুন রাজনৈতিক অবস্থানের কথা স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, দেশের মানুষ দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে একটি ঐক্যবদ্ধ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশের প্রতীক্ষায় ছিল। সাধারণ মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানিয়েই জামায়াত তাদের সংসদীয় নীতিতে এই পরিবর্তন এনেছে।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশের সার্বিক উন্নয়নে সরকার যদি কোনো ইতিবাচক ও জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে জামায়াত তাতে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, কেবল বিরোধিতার রাজনীতি দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। তবে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে এটিও জানিয়েছেন যে, সরকারের কোনো সিদ্ধান্ত যদি জনস্বার্থের পরিপন্থী হয় বা দেশের মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করে, তবে বিরোধী দল হিসেবে তারা রাজপথে ও সংসদে কঠোরভাবে তার প্রতিবাদ জানাবে। মূলত অন্ধ বিরোধিতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি আধুনিক ও কল্যাণকামী রাজনৈতিক ধারা তৈরি করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
ইফতার মাহফিলে উপস্থিত রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে এমন দায়িত্বশীল আচরণ সাধারণ মানুষের মনে আস্থার সঞ্চার করবে। তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদে এসেছি, তাই আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ হবে জনগণের কল্যাণে।” জামায়াতের এই নতুন কৌশল আগামী দিনে সরকারের ওপর গঠনমূলক চাপ সৃষ্টি এবং সংসদকে কার্যকর করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
/আশিক
গণতন্ত্রের জয়যাত্রায় আমরা ঐক্যবদ্ধ: জামায়াতের ইফতারে প্রধানমন্ত্রীর বড় বার্তা
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অনন্য সম্প্রীতির নজির স্থাপন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিনি এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ইফতারে প্রধানমন্ত্রী ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান একই টেবিলে বসে ইফতার করেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ সময় পর দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এমন হৃদ্যতাপূর্ণ উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইফতারের আগে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে আমন্ত্রণের জন্য জামায়াতকে ধন্যবাদ জানান। তিনি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন আমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করি যে, আমাদের আগামী দিনের কাজগুলো হবে এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য। আল্লাহ যেন আমাদের সেই তৌফিক দান করেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের মানুষ আজ রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। বিশেষ করে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা গুম, খুন এবং অকথ্য নির্যাতনের পর অর্জিত এই গণতন্ত্রকে রক্ষা করা সবার দায়িত্ব।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্মরণ করিয়ে দেন যে, লাখো মানুষের আত্মত্যাগ ও নির্যাতনের বিনিময়ে আজ দেশে বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চার সুযোগ ফিরে এসেছে। নির্বাচনের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই গণতান্ত্রিক যাত্রাকে অর্থবহ করতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। ইফতার মাহফিলে রাজনৈতিক নেতাদের এক বিশাল মিলনমেলা লক্ষ্য করা গেছে। বিএনপি ও জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মামুনুল হক, মির্জা আব্বাস, মঈন খান, মাহমুদুর রহমান মান্না এবং অলি আহমদসহ বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এই আয়োজনটি কেবল একটি ইফতার মাহফিল নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের এক শক্তিশালী বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
/আশিক
অতীতের কাদা ছোঁড়াছুড়িতে সময় নষ্ট নয়: মির্জা ফখরুল
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে, বর্তমান সরকার কখনো দুর্নীতি প্রশ্রয় দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেবে না। আজ শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক উপদেষ্টাদের দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত চাঞ্চল্যকর সংবাদগুলো নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান যে, অতীতের কাদা ছোঁড়াছুড়িতে সময় নষ্ট না করে দেশের সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, ব্যক্তিগতভাবে এসব নেতিবাচক বিষয়ে সময় ব্যয় করার চেয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বেশি জরুরি। তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত কীভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা যায় এবং দেশকে একটি সমৃদ্ধ অর্থনীতিতে পরিণত করা যায়।” তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাধীনভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যাবে। সরকারের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় কোনো ধরণের হস্তক্ষেপ করা হবে না এবং অপরাধীদের ছাড় দেওয়া হবে না।
ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত এই সভায় মন্ত্রী জেলার সার্বিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের এক হয়ে কাজ করার জোরালো আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও স্বচ্ছতা বজায় থাকলে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডগুলো সরাসরি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়তে মির্জা ফখরুল ইসলামের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ।
/আশিক
সাকিবের জাতীয় পতাকা বহন করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই: আসিফ মাহমুদ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে সাকিব আল হাসানকে জাতীয় দলে ফেরানোর তোড়জোড় চললেও মাঠের বাইরের উত্তাপ থামছে না। গত বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ের সামনে একদল সাকিব সমর্থক সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। প্রায় ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল দুদকের সেগুনবাগিচা কার্যালয়ের বাইরে সাকিবের নামে স্লোগান দেন এবং এক পর্যায়ে ভেতরে প্রবেশ করে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা শেষ পর্যন্ত তাদের অভিযোগটি গ্রহণ করেন। যদিও বেনামে দায়ের করা এই অভিযোগটি বর্তমানে পর্যবেক্ষণের জন্য রাখা হয়েছে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত না থাকলে তা বাতিল করা হতে পারে বলে দুদক সূত্রে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সাকিব এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো ধরণের সম্পৃক্ততার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছেন। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকফ্রেনজিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেহরি খাওয়ার জন্য ঘুম থেকে উঠে তিনি এই বিচিত্র ঘটনার কথা জানতে পেরেছেন। সাকিব স্পষ্ট করে বলেন যে, কারা তাঁর নাম ব্যবহার করে এসব করছে সে সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না এবং এর সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ নেই। তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, আজকাল যে যেভাবে পারছে তাঁর নাম ব্যবহার করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। দেশের মাটিতে শেষবার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ইচ্ছা থাকলেও বাইরের এই অস্থিরতা তাঁর ফেরার পথকে আরও জটিল করে তুলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অন্যদিকে, সমর্থকদের এই অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যায় এক ইফতার মাহফিল শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সাকিব আল হাসানকে খেলতে না দেওয়াটা যদি অপরাধ বা দুর্নীতি হয়ে থাকে, তবে তিনি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত আছেন। তিনি সমর্থকদের এই কর্মকাণ্ডকে ‘মব’ সৃষ্টি বলে অভিহিত করেন এবং কেন গণমাধ্যমে অভিযোগকারীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আসিফ মাহমুদ আরও যোগ করেন যে, জুলাই অভ্যুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সাকিবের জাতীয় পতাকা বহন করার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। দুদকে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে তিনি তা হাসিমুখে মেনে নেবেন বলে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
/আশিক
আওয়ামী আমলেও এমনটা দেখিনি: ছাত্র রাজনীতির নতুন কালচার নিয়ে ক্ষুব্ধ সারজিস
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ছাত্ররাজনীতির বর্তমান সংস্কৃতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেলে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। সারজিস আলম বলেন যে, লাখ লাখ ছাত্রের নেতৃত্ব দেওয়া একজন শীর্ষ ছাত্রনেতা যখন প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির পেছনে দৌড়ান, তখন সেটি তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট দেয়। এমনকি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও শীর্ষ পর্যায়ের কোনো ছাত্রনেতাকে এভাবে নেতার পেছনে দৌড়াতে দেখেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সারজিস আলম তাঁর বক্তব্যে অমর একুশে বইমেলার একটি ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়ি বহরের পেছনে বর্তমান ছাত্রদল সভাপতির দৌড়ানোর বিষয়টি তাঁর কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে হয়েছে। তিনি ছাত্রদলসহ সকল ছাত্র সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, ছাত্ররাজনীতিতে নতুন একটি মানদণ্ড বা স্ট্যান্ডার্ড তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন যা দেখে আগামী দিনের ছাত্ররাজনীতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কেবল ক্ষমতার পেছনে না ছুটে ছাত্রদের নিজেদের মর্যাদা বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা করে সারজিস আলম আরও বলেন যে, বর্তমানে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। একদিকে ক্ষমতাসীন দল পূর্ববর্তী সরকারের চেয়েও নিজেদের কর্মকাণ্ডে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক কার্যক্রমের বদলে সর্বত্র যেন এক ধরণের অভিনয় প্রতিযোগিতা চলছে। দেশে সমঝোতার রাজনীতি এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য ছাত্রশক্তিকে আরও সুসংগঠিত হওয়ার এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান এই প্রভাবশালী সংগঠক।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- ইউরেনিয়ামের বিশাল স্তূপ তেহরানে: যুদ্ধের আবহে জাতিসংঘের বিস্ফোরক মন্তব্য
- গণভোটের রায় নিয়ে আদালতে খেলা চলবে না: নাহিদ ইসলাম
- পেন্টাগনের গোপন সতর্কবার্তা: ট্রাম্পের দোটানায় বিপাকে মার্কিন সামরিক বাহিনী
- খামেনি কি বেঁচে আছেন? সাহারা মরুভূমিতে থাকার ছবির আসল সত্য ফাঁস
- রামাদান মাসে কোরানের হাফেজ দের নিয়ে মোস্তফা হাকিম ব্লাড ব্যাংকের সেহেরি আয়োজন
- কালিগঞ্জে ৩৭ শতাংশ জমি দখলের অভিযোগ ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ
- আকাশে দেখা যাবে রক্তাভ চাঁদ: আজ পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণের সাক্ষী হবে বিশ্ব
- কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার সহজ উপায়: সুস্থ থাকবে আপনার হৃদয়
- ২০২৬ সালেই শুরু হবে মহাযুদ্ধ: ভাইরাল বাবা ভাঙ্গার সেই রহস্যময় ভবিষ্যদ্বাণী
- জায়নবাদ মানবতার জন্য হুমকি: ইরানের যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া দাবি পাকিস্তানের
- আলভীর সঙ্গে প্রেম না কি বন্ধুত্ব? দেশে ফিরে যা বললেন তিথি
- পাল্টাপাল্টি হামলায় রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য: বাড়ছে লাশের মিছিল ও জ্বালানির দাম
- গোপনে নিজেকে ভিভিআইপি ঘোষণা করে বিশেষ সুবিধা নিলেন ড. ইউনূস
- ৫ বছরের জন্য এসে ৩ মাসেই বিদায়: দুদক কমিশনের নাটকীয় পদত্যাগ
- ইরান যুদ্ধ, পরিচয়ের রাজনীতি এবং বৈশ্বিক সংকটের নতুন সমীকরণ
- বিলবোর্ডে নিজের ছবি সরাতে নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- আজকের মুদ্রার রেট: প্রবাসীদের জন্য ৩ মার্চের সর্বশেষ টাকার মান
- চাঁদ হবে লালচে তামাটে: বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হতে প্রস্তুত বাংলাদেশ
- ইফতারে আনুন নতুন স্বাদ: বানিয়ে ফেলুন মচমচে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই পেঁয়াজু
- ইফতারে স্বাদ বাড়াতে ঘরেই বানান ক্রিস্পি কাবাব স্টিকস
- জুলাই সনদ ও গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল জারি
- বাহরাইনে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটি ধ্বংস করেছে ইরান
- মার্কিন সেনাদের সরাসরি গুলিতে করাচি রণক্ষেত্র
- বিশ্বজুড়ে পক্ষ-বিপক্ষ: ইরান ইস্যুতে কে দিচ্ছে হুংকার, কেই বা দিচ্ছে সমর্থন?
- ১২ মার্চ কি নতুন ইতিহাস? প্রথম অভিশংসনের মুখে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
- ঈদের অগ্রিম টিকিট যুদ্ধ শুরু! অনলাইনে মিলছে ট্রেনের শতভাগ টিকিট
- রেকর্ডের পর রেকর্ড: বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দামী হলো আজ থেকে স্বর্ণ
- বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল সৌদি রাজধানী
- মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়! ১৪ দেশে ছড়িয়ে পড়ল যুদ্ধ, কাঁপছে বিশ্ব অর্থনীতি
- কেনাকাটার আগে সাবধান! আজ মঙ্গলবার ঢাকার যেসব নামী মার্কেট বন্ধ
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- মার্কিন ঋণের জালে আঘাত হানল ইরান: হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধের নতুন মোড়
- রাজধানীতে আজ কোথায় কী? এক নজরে দেখে নিন কর্মসূচির তালিকা
- আজ ১৩ রমজান: জেনে নিন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সঠিক সময়
- হঠাৎ বদলাচ্ছে আবহাওয়া! রাজধানীসহ ৭ বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস
- তেহরানকে চীনের অভয়বাণী: সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরানকে সব ধরনের সমর্থনের ঘোষণা
- রমজানে পানিশূন্যতা রুখতে জাদুকরী '৪-২-২-২' নিয়ম: পুষ্টিবিদের বিশেষ টিপস
- আরামের যাত্রায় বিঘ্ন ঘটলেই বিপদ! এসি কোচে কড়াকড়ি করছেন রেলমন্ত্রী
- পশ্চিমের সাথে সংলাপ নাকি সংঘাত? হাসান খোমেনির দিকে তাকিয়ে বিশ্বশক্তি
- উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্যের মাঝে ৩ প্রভাবশালী দেশের ফোন: প্রবাসীদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত
- ইফতারের প্রশান্তি কেড়ে নিচ্ছে মাথাব্যথা? জেনে নিন মুক্তির পূর্ণাঙ্গ গাইড
- জাতীয় সংসদে নতুন টিম: প্রজ্ঞাপনে ৬ হুইপকে রাজকীয় নিয়োগ
- খামেনি হত্যার চরম প্রতিশোধ! এবার খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে আঘাত হানল ইরান
- মার্চে রান্নার গ্যাসের দাম কত? বড় সুখবর দিল বিইআরসি
- নারীদের জন্য সুখবর! রাজধানীতে আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- কালিগঞ্জের পল্লীতে আদালতে নিষেধাজ্ঞা মামলা, থানায় জিডি-অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ
- পরিবারের একমাত্র আশার প্রদীপ নিভিয়ে দিল বিদেশের যুদ্ধ
- জামায়াতকে ডেপুটি স্পিকার হওয়ার প্রস্তাব বিএনপির: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- রেড ক্রিসেন্টের ভয়াবহ তথ্য: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলায় ইরানে লাশের মিছিল
- ২ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- অনলাইনে ও মোবাইলে যেভাবে দেখবেন জুনিয়র বৃত্তির ফলাফল
- স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড: ভরিতে বাড়ল ৩ হাজার ২৬৬ টাকা
- বন্ধকী কূটনীতির দেশে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির স্বপ্ন
- মহাকাশে বিরল মহোৎসব: বাংলাদেশ থেকে এক সারিতে দেখা যাবে ৬ গ্রহ!
- স্বর্ণের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা; এক বছরে দাম বাড়ল ৬৪ শতাংশ
- ইরান যুদ্ধ, পরিচয়ের রাজনীতি এবং বৈশ্বিক সংকটের নতুন সমীকরণ
- ক্ষমতার লড়াইয়ে ইরান: খামেনির আসনে বসতে আইআরজিসি’র চাপ
- আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম! জানুন নতুন মূল্যতালিকা
- কালিগঞ্জে ঘেরের বাসায় আগুন, দখলচেষ্টা ও মাছ লুটের অভিযোগ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
- শহীদ হলেন আয়াতুল্লাহ খামেনি
- ২ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ইরানে সরাসরি হামলা চালাল ইসরায়েল: মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের ভয়াবহ দামামা
- কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানকে আক্রমণ করছে?
- বাহরাইন প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির সভাপতি সম্রাট নজরুল ও সম্পাদক নোমান সিদ্দিকী
- বিজিবি না কি বিডিআর? নাম ও পরিচয় পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত








