কেন শুক্রবার মুসলমানদের জন্য ব্যতিক্রম ও শ্রেষ্ঠ: জুমার দিনের ফজিলত, আমল ও তাৎপর্য এক নজরে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১৬ ১০:০১:৪৫
কেন শুক্রবার মুসলমানদের জন্য ব্যতিক্রম ও শ্রেষ্ঠ: জুমার দিনের ফজিলত, আমল ও তাৎপর্য এক নজরে

শুক্রবার কি শুধু সপ্তাহের আরেকটি দিন, নাকি মুসলমানদের জন্য আল্লাহ নির্ধারিত এক বিশেষ রহমতের সময়? হাদিস ও কোরআনের আলোকে দেখা যায়, জুমার দিন কেবল একটি সাপ্তাহিক ইবাদতের দিন নয়; বরং এটি এই উম্মতের জন্য এক অনন্য পরিচয়, সম্মান ও আখিরাতমুখী সৌভাগ্যের প্রতীক। দুনিয়ার সময়ক্রমে যেমন শুক্রবারের অবস্থান আলাদা, তেমনি কেয়ামতের দিনও এই উম্মতের অবস্থান হবে অগ্রগণ্য।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, আল্লাহ তায়ালা পূর্ববর্তী উম্মতদের জুমার দিনের জ্ঞান থেকে বঞ্চিত রেখেছিলেন। ইহুদিদের জন্য নির্ধারিত ছিল শনিবার, খ্রিষ্টানদের জন্য রবিবার। এরপর আল্লাহ তায়ালা এই উম্মতকে দুনিয়ায় পাঠিয়ে শুক্রবারকে ফজিলতপূর্ণ দিন হিসেবে দান করেন। পৃথিবীর সময়ধারায় যেমন শনিবার ও রবিবার শুক্রবারের পরে এসেছে, তেমনি কেয়ামতের দিনেও ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা মুসলমানদের পরে থাকবে, যদিও দুনিয়াতে মুসলমানরা এসেছে সর্বশেষ (সহিহ মুসলিম: ১৪৭৩)।

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, পৃথিবীতে সূর্য উদিত হওয়া সব দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার। এই দিনেই হজরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে এবং আবার জান্নাত থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করানো হয়েছে। এমনকি কেয়ামতও সংঘটিত হবে এই শুক্রবারেই (সহিহ মুসলিম: ৮৫৪)। এ কারণেই ইসলামি দৃষ্টিতে শুক্রবার কেবল ইবাদতের দিন নয়, বরং মানব ইতিহাস ও ভবিষ্যতের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি দিন।

হাদিসে শুক্রবারকে মুসলমানদের ঈদের দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা জুমার দিনকে এই উম্মতের জন্য ঈদের দিন বানিয়েছেন (সহিহ ইবনে মাজাহ: ৯০৮)। ঈদের মতোই এ দিন পরিচ্ছন্নতা, উত্তম পোশাক, সুগন্ধি ব্যবহার এবং সম্মিলিত ইবাদতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জুমার দিনের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো গুনাহ মাফের সুযোগ। যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করে, পরিষ্কার পোশাক পরে, সুগন্ধি ব্যবহার করে, আগে আগে মসজিদে আসে, অন্য মুসল্লিদের কষ্ট না দিয়ে মনোযোগসহকারে খুতবা শোনে এবং অনর্থক কথা থেকে বিরত থাকে, তার আগের জুমা থেকে পরের জুমা পর্যন্ত সব সগিরা গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয় (আবু দাউদ: ৩৪৩)।

এই দিনের প্রতিটি আমলের সওয়াবও অসাধারণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ভালোভাবে গোসল করে হেঁটে মসজিদে যায়, ইমামের কাছাকাছি বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে এবং অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকে, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি কদমের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও এক বছরের নামাজের সওয়াব দান করেন (তিরমিজি: ৪৫৬)।

হাদিসে আরও এসেছে, কোনো মুসলমান যদি শুক্রবার দিনে বা রাতে ইন্তেকাল করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করেন (তিরমিজি: ১০৭৪)। এ কারণেও শুক্রবারকে রহমত ও নিরাপত্তার দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

জুমার দিনের বিশেষ কিছু আমল কোরআন ও হাদিসে গুরুত্বসহকারে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জামাতে ফজরের নামাজ আদায়, গোসল করা, উত্তম পোশাক পরা, সুগন্ধি ব্যবহার, আগেভাগে মসজিদে যাওয়া এবং খুতবা চলাকালে সম্পূর্ণ নীরব থাকা। কোরআনে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, জুমার দিনে আজান দেওয়া হলে আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হতে হবে এবং বেচাকেনা বন্ধ রাখতে হবে (সুরা জুমা: ৯)।

এ দিন সূরা কাহাফ তেলাওয়াতের বিশেষ ফজিলত রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূরে আলোকিত করা হবে (আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইল: ৯৫২)। পাশাপাশি বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ জুমার দিনে পাঠ করা দরুদ সরাসরি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট পেশ করা হয় (আবু দাউদ: ১০৪৭)।

জুমার খুতবা ও নামাজের শৃঙ্খলা ইসলামি সমাজব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। খুতবার সময় কথা বলা তো দূরের কথা, কাউকে চুপ থাকতে বলাও অনর্থক কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে (বুখারি: ৯০৬)। তাফসিরবিদরা বলেন, সুরা জুমার আগের সুরা ‘সফ’ এবং পরের সুরা ‘মুনাফিকুন’। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, জুমার নামাজে কাতারবদ্ধ হওয়া ঈমানি ঐক্যের প্রতীক এবং জুমা পরিত্যাগ করা কপটতার লক্ষণ।

রাসূলুল্লাহ (সা.) কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন, বিনা কারণে যারা ধারাবাহিকভাবে জুমা পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর এঁটে দেন এবং তারা গাফিলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় (সহিহ মুসলিম)। এমনকি তিন জুমা অবহেলা করলে অন্তর সিলমোহর হয়ে যাওয়ার কথাও হাদিসে এসেছে (তিরমিজি)।

সব মিলিয়ে শুক্রবার মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, সামষ্টিক ইবাদত, দোয়া কবুলের বিশেষ সময় এবং ঈমান নবায়নের এক অনন্য সুযোগ। নারী-পুরুষ সবার জন্যই শুক্রবারের আমল সমানভাবে প্রযোজ্য। তাই এই দিনের ফজিলত উপলব্ধি করে সচেতনভাবে আমল করাই একজন মুমিনের দায়িত্ব।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে জুমার দিনের মর্যাদা উপলব্ধি করে কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন।


আজকের নামাজের সময়সূচি, এক নজরে দেখে নিন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৫ ১০:২৬:৩৭
আজকের নামাজের সময়সূচি, এক নজরে দেখে নিন
ছবি : সংগৃহীত

মুসলিমদের দৈনন্দিন ইবাদতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। তাই প্রতিটি ওয়াক্তের নির্ধারিত সময় সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা থাকা প্রয়োজন। বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা।

আজ ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং ৩০ মহররম ১৪৪৮ হিজরি। ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নতুন দিনের ইবাদত ও দৈনন্দিন আমল যথাসময়ে আদায়ের সুবিধার্থে নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজকের সময়সূচি অনুযায়ী জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৮ মিনিটে। এরপর আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে।

দিনের শেষভাগে মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ মিনিটে। এরপর এশার নামাজের সময় শুরু হবে রাত ৮টা ১৭ মিনিটে।

আগামী দিনের সূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৫৮ মিনিটে।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে। আর আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৯ মিনিটে।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়ের শুরুতেই নামাজ আদায় করা উত্তম। বিশেষ করে মসজিদে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ভ্রমণ, কর্মব্যস্ততা বা অন্যান্য কারণে বাইরে অবস্থানকারীদেরও সময় জেনে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার জানিয়েছে, ভৌগোলিক অবস্থানভেদে দেশের বিভিন্ন জেলার নামাজের সময় কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। তাই নিজ নিজ এলাকার স্থানীয় সময়সূচি অনুসরণ করাই সবচেয়ে উপযুক্ত।

সূত্র: ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।


আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, জেনে নিন বিস্তারিত

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১৪ ১০:০৯:২৮
আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ, জেনে নিন বিস্তারিত
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী আজ ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জিতে ২৯ মহররম ১৪৪৮। প্রতিদিনের মতো ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।

ইসলামে নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই প্রতিদিনের ওয়াক্ত অনুযায়ী সময় জেনে ইবাদতের প্রস্তুতি নেওয়া মুসল্লিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝেও সঠিক সময় সম্পর্কে ধারণা থাকলে নামাজ আদায় সহজ হয় এবং ধর্মীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হয়।

আজকের সময়সূচি অনুযায়ী জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৮ মিনিটে। এরপর আসরের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে। দিনের শেষ ভাগে মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ মিনিটে, আর এশার নামাজের সময় শুরু হবে রাত ৮টা ১৭ মিনিটে।

পরবর্তী দিনের প্রস্তুতির জন্যও সময় জানা জরুরি। বুধবার (১৫ জুলাই) ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৫৭ মিনিটে।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে। অন্যদিকে আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৯ মিনিটে।

উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলার নামাজের সময়সূচিতে কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। তাই নিজ নিজ এলাকার নির্ভুল সময় জানতে স্থানীয় মসজিদের ঘোষণা অথবা সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সময়সূচি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।


৩০০ পরিবারের জন্য নতুন পাকা ঘর করে দিচ্ছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ২০:৩২:৩৭
৩০০ পরিবারের জন্য নতুন পাকা ঘর করে দিচ্ছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন
ছবি : সংগৃহীত

ভয়াবহ ও প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতিবারই সবচেয়ে বেশি লণ্ডভণ্ড ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রান্তিক সাধারণ মানুষ। আকস্মিক বন্যার পানির তীব্র তোড়ে যখন একটি নিম্নবিত্ত পরিবারের সারাজীবনের ঘরবাড়ি, শেষ সহায়-সম্বল ও বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিমিষেই ভেসে যায়, তখন তাদের জন্য একটি নিরাপদ স্থায়ী আশ্রয়ই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় ও মানবিক প্রয়োজন।

মাঠপর্যায়ের এমন চরম ও রূঢ় বাস্তবতায় উপদ্রুত বানভাসি মানুষের পাশে আবারও অনন্য মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন’। বন্যাকবলিত এলাকায় তাৎক্ষণিক জরুরি খাদ্য ও ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি এবার বন্যায় সম্পূর্ণ ঘরহারা ও গৃহহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলোর টেকসই পুনর্বাসনের লক্ষ্যে সম্পূর্ণ নতুন পাকা ঘর নির্মাণের এক বিশাল ও যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চলমান বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে ঠাঁই নেওয়া ৩০০টি চরম ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে দুই কক্ষবিশিষ্ট আধুনিক ও মজবুত ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল টিনের নতুন পাকা ঘর’ নির্মাণের এই বিশেষ কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। ঘর নির্মাণের পাশাপাশি বন্যাদুর্গত লাখো মানুষের জন্য জরুরি শুকনো ও ভারী ত্রাণ বিতরণ এবং অন্যান্য পুনর্বাসন কার্যক্রমও সমানতালে অব্যাহত রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি।

আজ রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন ও দিকনির্দেশনামূলক পোস্টে দেশের সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতি ও নতুন এই পুনর্বাসন প্রজেক্টের বিস্তারিত তথ্য দেশবাসীকে জানান আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এবং বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সেই পোস্টে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বন্যাপরবর্তী টেকসই পুনর্বাসন প্রকল্পের প্রথম ধাপের আওতায় ঘরহারা ও অতিদরিদ্র ৩০০টি পরিবারকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দুই কক্ষের উন্নত ও টেকসই ইন্ডাস্ট্রিয়াল টিনের নতুন পাকা ঘর নির্মাণ করে হস্তান্তর করা হবে। এর পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকে তাদের বিশেষ ফান্ডে তহবিল সংগ্রহের পরিমাণ যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে ঘর নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা এবং জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমের পরিধিও জ্যামিতিক হারে আরও সম্প্রসারণ ও বৃদ্ধি করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহর ফেসবুক পোস্টে চলমান ত্রাণের ডেটা উল্লেখ করে আরও জানানো হয়, চট্টগ্রামের সবচেয়ে উপদ্রুত অঞ্চল বাঁশখালীর চরম ক্ষতিগ্রস্ত চারটি দুর্গম ইউনিয়নের দুই হাজার বন্যাদুর্গত পরিবারের দ্বারে দ্বারে আস-সুন্নাহর ভলান্টিয়ারদের মাধ্যমে ইতোমধ্যে জরুরি উন্নত মানের খাদ্যসামগ্রী সফলভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বন্যার্তদের তাৎক্ষণিক ক্ষুধা নিবারণের জন্য রাজধানী ঢাকায় ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আরও চার হাজার বিশেষ খাদ্যসামগ্রীর (প্যাকেজ) বস্তা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই বিশাল ত্রাণের বহর আজ রাতেই বিশেষ ট্রাকে করে সরাসরি চট্টগ্রামে পাঠানো হবে এবং পরদিন সোমবার সকাল থেকেই জেলার মোট আটটি বন্যাকবলিত উপজেলার প্রান্তিক ও প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে সুশৃঙ্খলভাবে বিতরণের চূড়ান্ত পরিকল্পনা রয়েছে।

দেশের এই জাতীয় দুর্যোগের মুহূর্তে দেশ ও বিদেশের সমস্ত বিত্তবান, সামর্থ্যবান ও মানবিক হৃদয়ের মানুষদের প্রতি আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের এই মহৎ পুনর্বাসন কার্যক্রমে সাধ্যানুযায়ী আর্থিক ও লজিস্টিক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিগত বছরগুলোতে এবং চলমান বন্যার একদম শুরু থেকেই আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় লাখ লাখ মানুষের মাঝে ভারী ও শুকনো খাদ্য, নিরাপদ বিশুদ্ধ খাবার পানি, জরুরি জীবনরক্ষাকারী ওষুধসহ নানাবিধ জরুরি তাৎক্ষণিক সহায়তা নিরবচ্ছিন্নভাবে পৌঁছে দিয়ে সর্বমহলে সমাদৃত হয়েছে। তবে এবার কেবল সাময়িক খাদ্য সহায়তার গণ্ডি পেরিয়ে গৃহহারা ও নিঃস্ব মানুষের মাথার ওপর স্থায়ী ছাদ তৈরি করে দিতে নতুন ঘর নির্মাণের এই মেগা ঘোষণা প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই পুনর্বাসন কার্যক্রমের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং মাইলফলক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ক্রীড়া ও সমাজকল্যাণ বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্যোগের পর মাঠে চাল-ডাল বা ত্রাণ বিতরণ সাময়িকভাবে ক্ষুধার তীব্র সংকট লাঘব করলেও, একটি স্থায়ী ও নিরাপদ পাকা ঘর একটি বিপর্যস্ত পরিবারকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর এবং নতুনভাবে জীবন শুরু করার চরম মানসিক শক্তি ও সাহস জোগায়। তাই বন্যায় পুরোপুরি ঘরহারা ৩০০টি পরিবারের জন্য আধুনিক ঘর নির্মাণের এই দূরদর্শী উদ্যোগ শুধু প্রথাগত মানবিক সহায়তাই নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে দুর্যোগ পুনর্বাসনের একটি অনন্য ও টেকসই দৃষ্টান্ত।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের এই মহৎ উদ্যোগের সঙ্গে দেশের আপামর বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে আসেন, তবে বন্যার তোড়ে ভেসে যাওয়া আরও হাজারো অসহায় পরিবার নতুন স্থায়ী আশ্রয়, সামাজিক নিরাপত্তা এবং একটি স্বাভাবিক সুন্দর জীবনে ফিরে আসার সুবর্ণ সুযোগ লাভ করবে।

/আশিক


আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ১০:০৬:০৬
আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

আজ রোববার (১২ জুলাই ২০২৬)। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ এবং হিজরি তারিখ ২৬ মহররম ১৪৪৮। প্রতিদিনের মতো আজও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকার প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ জোহরের নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৮ মিনিটে। এরপর আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে।

দিনের শেষভাগে মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ মিনিটে। আর এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৮টা ১৮ মিনিটে।

পরদিন অর্থাৎ সোমবার (১৩ জুলাই) ভোরে ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে সকাল ৩টা ৫৬ মিনিটে। তাই যারা তাহাজ্জুদ, সেহরি বা ফজরের জামাতের প্রস্তুতি নেন, তারা আগেভাগেই সময় জেনে রাখতে পারেন।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে। অন্যদিকে আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৯ মিনিটে।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, নামাজ নির্ধারিত ওয়াক্তে আদায় করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। তাই প্রতিদিনের সময়সূচি সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং যথাসময়ে সালাত আদায়ের প্রস্তুতি নেওয়া প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

-ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা


৮ জুলাইয়ের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১০:৫৮:৪৩
৮ জুলাইয়ের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

আজ বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬। বাংলা তারিখ ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ এবং হিজরি ২২ মহররম ১৪৪৮। প্রতিদিনের মতো আজও মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঢাকা ও আশপাশের এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সময় এবং বিভাগীয় শহরগুলোর জন্য সময়ের পার্থক্যও জানানো হয়েছে।

আজকের সময়সূচি অনুযায়ী, ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে। এরপর জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে। বিকেলে আসরের নামাজের সময় শুরু হবে ৪টা ৪৩ মিনিটে। মাগরিবের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৩ মিনিটে, আর এশার নামাজ শুরু হবে রাত ৮টা ১৯ মিনিটে।

এদিকে আজ ঢাকায় সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত ঘটবে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৩টা ৫২ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বিভাগীয় শহরগুলোর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার সময়ের সঙ্গে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। সে অনুযায়ী চট্টগ্রামের জন্য ৫ মিনিট এবং সিলেটের জন্য ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে।

অন্যদিকে খুলনায় ৩ মিনিট, বরিশালে ১ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট এবং রংপুরে ৮ মিনিট যোগ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

ইসলামিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নামাজের ওয়াক্ত যথাসময়ে আদায় করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। তাই প্রতিদিন হালনাগাদ সময়সূচি অনুসরণ করলে ওয়াক্ত সম্পর্কে বিভ্রান্তির সুযোগ থাকে না এবং নির্ধারিত সময়েই ইবাদত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন


মঙ্গলবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় প্রকাশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ১০:২৫:৩৩
মঙ্গলবারের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

মুসলমানদের দৈনন্দিন জীবনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত সময়ে আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই প্রতিদিনের নামাজের সময়সূচি জেনে রাখা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য প্রয়োজনীয়। আজ মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬ (২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২১ মহররম ১৪৪৮ হিজরি) উপলক্ষে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।

আজকের সূচি অনুযায়ী, জোহরের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৭ মিনিটে। এরপর আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে। দিনের শেষভাগে মাগরিবের আজান হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৪ মিনিটে, আর এশার সময় শুরু হবে রাত ৮টা ১৯ মিনিটে।

আগামী দিনের প্রস্তুতির জন্যও ফজরের সময় উল্লেখ করা হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) ফজরের সময় শুরু হবে ভোর ৩টা ৫৩ মিনিটে। এছাড়া আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে।

ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, নামাজ নির্ধারিত ওয়াক্তে আদায় করা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিধান। তাই সময়সূচি অনুযায়ী ইবাদতের প্রস্তুতি নেওয়া এবং মসজিদে জামাতে অংশ নেওয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নামাজের সময় কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। তাই নিজ নিজ এলাকার নির্ভরযোগ্য সময়সূচি অনুসরণ করা উত্তম।

সূত্র: ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।


সহিহ হাদিসে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত হওয়ার ১২ আমল

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ১২:১৪:৩৩
সহিহ হাদিসে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত হওয়ার ১২ আমল
ছবি : সংগৃহীত

মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা হলো আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন এবং জান্নাতে প্রবেশের সৌভাগ্য লাভ করা। পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসে এমন বহু আমলের কথা এসেছে, যেগুলো একজন মুসলিমকে জান্নাতের পথে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে। কিছু আমল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ ﷺ বিশেষ সুসংবাদ দিয়েছেন যে আমলের কারণে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হবে, জান্নাতের নির্দিষ্ট দরজা দিয়ে আহ্বান করা হবে অথবা জান্নাতে বিশেষ মর্যাদা লাভের আশা করা যায়।

১. পরিপূর্ণভাবে অজু করে শাহাদাত পাঠ

সহিহ মুসলিমের বর্ণনা অনুযায়ী, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে অজু সম্পন্ন করে এরপর শাহাদাতের দোয়া পাঠ করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজা খুলে দেন। সে ইচ্ছামতো যেকোনো দরজা দিয়ে প্রবেশ করার সম্মান লাভ করবে।

২. আল্লাহর পথে আন্তরিক দান

সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে এসেছে, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে উদারভাবে দান করেন, কিয়ামতের দিন তাদের জান্নাতের বিভিন্ন দরজা থেকে আহ্বান করা হবে। ইসলামে দান শুধু সম্পদ ব্যয়ের বিষয় নয়; এটি ঈমান, তাকওয়া ও আত্মত্যাগেরও প্রতীক।

৩. নারীদের জন্য বিশেষ সুসংবাদ

রাসূল ﷺ বলেছেন, যে নারী নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করেন, রমজানের রোজা রাখেন, নিজের পবিত্রতা রক্ষা করেন এবং স্বামীর বৈধ বিষয়ে আনুগত্য করেন, তাকে জান্নাতের যেকোনো দরজা দিয়ে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।

৪. রমজানের রোজা

সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জান্নাতে ‘রাইয়্যান’ নামে একটি বিশেষ দরজা রয়েছে। কিয়ামতের দিন এই দরজা দিয়ে কেবল রোজাদারদেরই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে। অন্য কেউ সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।

৫. আল্লাহর পথে সংগ্রাম

সহিহ বুখারির বর্ণনায় রাসূল ﷺ বলেছেন, আল্লাহ তাঁর পথে সংগ্রামকারীদের জন্য জান্নাতে একশত উচ্চ মর্যাদার স্তর প্রস্তুত করে রেখেছেন। আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বৈধ ও শরিয়তসম্মত সংগ্রামের মর্যাদা নির্দেশ করে।

৬. ফরজ ইবাদতের প্রতি অবিচল থাকা

এক সাহাবি যখন জানতে চাইলেন তিনি যদি ফরজ সালাত আদায় করেন, রমজানের রোজা রাখেন এবং হালাল-হারাম মেনে চলেন, তাহলে কি জান্নাতে প্রবেশ করবেন? তখন রাসূল ﷺ সংক্ষেপে উত্তর দেন, "হ্যাঁ।" এটি ফরজ বিধান পালনের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

৭. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণ

সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে এসেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর নির্মাণ করেন। ইসলামে এটি একটি চলমান সদকার (সাদাকায়ে জারিয়া) অন্যতম উত্তম উদাহরণ।

৮. এতিমের দায়িত্ব গ্রহণ

রাসূল ﷺ নিজের তর্জনী ও মধ্যমা আঙুল পাশাপাশি রেখে বলেছেন, জান্নাতে তিনি এবং এতিমের দায়িত্ব গ্রহণকারী ব্যক্তি এতটাই নিকটবর্তী অবস্থানে থাকবেন। এতিমদের দেখাশোনা ও লালন-পালনের গুরুত্ব ইসলামে অত্যন্ত বেশি।

৯. উত্তম চরিত্র

ইসলামের অন্যতম প্রধান শিক্ষা হলো সুন্দর চরিত্র। রাসূল ﷺ জানিয়েছেন, যিনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী, তার জন্য জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তরে একটি ঘরের জামিন তিনি নিজেই।

১০. তাওহীদের ওপর জীবন শেষ করা

রাসূল ﷺ বলেছেন, যার জীবনের শেষ কথা হবে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ", সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আলেমরা ব্যাখ্যা করেছেন, এটি এমন ব্যক্তির জন্য, যিনি ঈমানের ওপর অবিচল থেকে জীবন অতিবাহিত করেন।

১১. জান্নাতের জন্য নিয়মিত দোয়া

সুনান তিরমিজির বর্ণনায় এসেছে, যে ব্যক্তি তিনবার আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করে, জান্নাত নিজেই আল্লাহর কাছে তার জন্য জান্নাত কামনা করে। এটি দোয়ার গুরুত্ব এবং আল্লাহর রহমতের প্রতি আশা রাখার শিক্ষা দেয়।

১২. ফজর ও আসরের সালাতের বিশেষ মর্যাদা

রাসূল ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত ফজর ও আসরের সালাত আদায় করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এই দুই সালাতকে হাদিসে "বারদাইন" বা দুই শীতল সময়ের সালাত বলা হয়েছে।

ইসলামের মূল শিক্ষা কী?

আলেমদের মতে, কোনো একটি আমলকে বিচ্ছিন্নভাবে নয়, বরং ঈমান, ইখলাস, ফরজ বিধান পালন, হারাম থেকে বেঁচে থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ধারাবাহিক নেক আমলের সমন্বয়ই একজন মুমিনকে জান্নাতের পথে এগিয়ে নেয়। তাই এসব হাদিস একজন মুসলিমকে নেক আমলে উৎসাহিত করে এবং আল্লাহর রহমতের প্রতি আশাবাদী হতে শেখায়।

তথ্যসূত্র: সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনান আবু দাউদ, সুনান আত-তিরমিজি, মুসনাদ আহমাদ।


৬ জুলাইয়ের নামাজের সময় প্রকাশ, জেনে নিন এখনই

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৬ ০৯:৪৫:২৩
৬ জুলাইয়ের নামাজের সময় প্রকাশ, জেনে নিন এখনই
ছবি : সংগৃহীত

আজ সোমবার (৬ জুলাই ২০২৬)। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ এবং হিজরি বর্ষপঞ্জিতে ২০ মহররম ১৪৪৮। প্রতিদিনের মতো আজও মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের জন্য সময়ের প্রয়োজনীয় যোগ-বিয়োগও উল্লেখ করা হয়েছে।

আজকের সময়সূচি অনুযায়ী, ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে। এরপর জোহরের নামাজ দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে, আসরের নামাজ বিকেল ৪টা ৪৩ মিনিটে, মাগরিবের নামাজ সন্ধ্যা ৬টা ৫৪ মিনিটে এবং ইশার নামাজ রাত ৮টা ২০ মিনিটে আদায় করা হবে।

আজ সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৬ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের এই সময়ের ভিত্তিতেই নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগামীকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) ফজরের নামাজের সময় ভোর ৩টা ৫০ মিনিট এবং সূর্যোদয় সকাল ৫টা ১৬ মিনিটে হবে বলে জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

তবে দেশের সব অঞ্চলে একই সময় প্রযোজ্য নয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিভাগভেদে নামাজের সময়ে সামান্য পার্থক্য দেখা যায়। চট্টগ্রামে ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেটে ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনায় ৩ মিনিট, বরিশালে ১ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট এবং রংপুরে ৮ মিনিট যোগ করে স্থানীয় সময় অনুযায়ী নামাজ আদায় করতে হবে।

সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।


আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় জেনে নিন

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ১০:১৫:২৪
আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় জেনে নিন
ছবি : সংগৃহীত

আজ শনিবার (৪ জুলাই ২০২৬)। বাংলা তারিখ ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ এবং হিজরি ১৮ মহররম ১৪৪৮। প্রতিদিনের ইবাদত যথাসময়ে আদায়ের সুবিধার্থে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সময় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরের সময়ের পার্থক্যও জানানো হয়েছে, যাতে মুসল্লিরা নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী নামাজ আদায় করতে পারেন।

আজকের সময়সূচি অনুযায়ী ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৪৯ মিনিটে। এরপর জোহরের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৪২ মিনিটে। সূর্যাস্তের পর মাগরিবের নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫৪ মিনিটে, আর ইশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৮টা ২০ মিনিটে।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে এবং সূর্যোদয় হয়েছে সকাল ৫টা ১৫ মিনিটে। আগামীকাল রোববার (৫ জুলাই) ফজরের সময় অপরিবর্তিত থেকে ভোর ৩টা ৪৯ মিনিটে শুরু হবে এবং সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৬ মিনিটে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ঢাকা সময়ের সঙ্গে অন্যান্য বিভাগীয় শহরের নামাজের সময়ের কিছু পার্থক্য রয়েছে। সে অনুযায়ী চট্টগ্রামে ৫ মিনিট এবং সিলেটে ৬ মিনিট সময় বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে খুলনায় ৩ মিনিট, বরিশালে ১ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট এবং রংপুরে ৮ মিনিট সময় যোগ করে স্থানীয় নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।

-রফিক

পাঠকের মতামত: