জোট গঠনে অনেক ছাড় দিয়েছে এনসিপি লক্ষ্য এবার সরকার গঠন: আসিফ মাহমুদ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১২ ২১:০০:০৬
জোট গঠনে অনেক ছাড় দিয়েছে এনসিপি লক্ষ্য এবার সরকার গঠন: আসিফ মাহমুদ
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের রণকৌশল চূড়ান্ত করেছে। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে এনসিপির মুখপাত্র এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান যে, তাঁর দল এবার দেশের ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, এবারের জোটটি ইনশাআল্লাহ সরকার গঠন করবে। জোটের স্থায়িত্ব এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে এনসিপি অনেক ছাড় দিয়েছে এবং অন্যান্য শরিক দলগুলোর মধ্যেও একই ধরণের ইতিবাচক মানসিকতা থাকায় একটি শক্তিশালী জোট গঠন সম্ভব হয়েছে।

আসিফ মাহমুদ তাঁর বক্তব্যে দলের অভ্যন্তরীণ সংহতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। সম্প্রতি যারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদেরকে দলের ‘অ্যাসেট’ বা সম্পদ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন যে, তাঁদের পদত্যাগপত্র এখনো গ্রহণ করা হয়নি। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এখনো সবার একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। দলের এই নমনীয় মনোভাব নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

জোটের প্রকৃতি নিয়ে আসিফ মাহমুদ একটি স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, বর্তমান জোটটি কোনো ‘আদর্শিক জোট’ নয় বরং এটি একটি ‘স্ট্রেটেজিক’ বা কৌশলী জোট। নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি কার্যকর সরকার উপহার দিতেই এই ধরণের কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের ফলাফল বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণ করবে এবং এনসিপি এই পরিবর্তনের মূল কারিগর হতে চায় বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।


শেখ হাসিনা দিল্লিতে পালিয়েছে, আপনারা বঙ্গোপসাগরেও জায়গা পাবেন না: পাটওয়ারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ২১:৫৪:৩১
শেখ হাসিনা দিল্লিতে পালিয়েছে, আপনারা বঙ্গোপসাগরেও জায়গা পাবেন না: পাটওয়ারী
পোরশার সারাইগাছী মোড়ে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ছবি: কালবেলা

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, “এত গরম দেখাবেন না। আমরা যদি ভালো মতো একটু গরম দেখাই, শেখ হাসিনা তো দিল্লিতে পালিয়েছে, আপনারা কই পালাবেন—বঙ্গোপসাগরে? বঙ্গোপসাগরেও পালানোর জায়গা পাবেন না।” একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানে সিএনজি স্ট্যান্ড, বাস স্ট্যান্ড ও দোকানপাট দখলদারির ব্যাপারেও তিনি দলটির নেতাকর্মীদের তীব্র ভাষায় সতর্ক করেছেন।

রোববার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নওগাঁর পোরশা উপজেলার সারাইগাছী মোড়ে আয়োজিত ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর বক্তব্যে ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের বিচারের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে খুনি হাসিনা ১ হাজার ৪০০ লোককে হত্যা করে পালিয়ে গিয়েছে। আমরা এখনও তার বিচার করতে পারি নাই। আমরা শহীদ আবু সাঈদের রক্তের বিচার করতে চাই। এ বিচার চাওয়া আমাদের অপরাধ না। যারা এখন মিডিয়ায় বড় বড় কথাবার্তা বলছেন, বিভিন্ন মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন, তাদের বলছি—এত গরম দেখাবেন না।”

বিদ্যমান ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দাবি তুলে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা সরাসরি হুংকার দিয়ে বলেন, “যদি বাংলাদেশে সংস্কার বাস্তবায়ন না হয়, তবে বিএনপি সরকারের পতন আমরা করব ইনশাআল্লাহ। যদি বাংলাদেশে শেখ হাসিনার বিচার বাস্তবায়ন না হয়, তবুও এই বিএনপি সরকারের পতন আমরা করব। আমরা ইনশাআল্লাহ, আগামীতে সরকার গঠন করে শেখ হাসিনাকে ফাঁসিতে ঝুলাব, আওয়ামী লীগের খুনিদের ফাঁসিতে ঝুলাব এবং বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন করব।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও জেতার পর তাদের আর জনগণের পাশে পাওয়া যায় না।

দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “দক্ষিণবঙ্গে ভয়াবহ বন্যা হচ্ছে, মানুষ মারা যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের যিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, তাকে শুধু নির্বাচনের আগেই খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। এই বন্যাগ্রস্ত মানুষের মধ্যে তাকে একদিনও আমরা মাঠে দেখতে পাইনি। আপনারা কি তাকে টিভিতে দেখতে পেয়েছেন? এরা হলো জাতির মহাপ্রতারক, যারা বর্তমানে দুর্নীতি, সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত রয়েছে।”

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা সমাজে যথেষ্ট ভদ্র আচরণ করছি, কারণ আমরা সবাইকে নিয়ে একটি সভ্য ও সুন্দর বাংলাদেশ দাঁড় করাতে চাই। কিন্তু এ সুযোগে কেউ যদি বেশি লাফ দেওয়া শুরু করেন, তবে কীভাবে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাতে হয় তা আমাদের ভালো করেই জানা আছে। আপনাদের ঘাড়ে যে চাঁদাবাজির ভূত আর দিল্লির ভূত চেপেছে, তা আমরা ইনশাআল্লাহ নামিয়ে ছাড়ব।”

বক্তব্যের শেষাংশে ভারতের কট্টরপন্থি রাজনৈতিক দল বিজেপি এবং হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন আরএসএস-কে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এক হয়ে ৪৭-এর আজাদির লড়াই করেছে, ৭১-এ যুদ্ধ করেছে, ৯০ ও ২৪-এ রাজপথে রক্ত দিয়েছে। ফলে তোমাদের কোনো ষড়যন্ত্রই বাংলাদেশে কখনো বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ স্বাধীন আছে এবং স্বাধীন থাকবে। বাংলাদেশের মানুষ জানবাজি রেখে লড়ে যাবে, তবুও আমরা কখনোই ভারতের সেবাদাস বা গোলাম হব না।”

এনসিপির নওগাঁ জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাহফুজার রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পদযাত্রা সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ এবং জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার ফরহাদ সোহেলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


আনোয়ারার বেড়িবাঁধের বরাদ্দের একটি টাকাও দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১২ ১৮:১৭:৪৭
আনোয়ারার বেড়িবাঁধের বরাদ্দের একটি টাকাও দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না: নাহিদ ইসলাম
ছবি : কালবেলা

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ ও প্রধান সমস্যা টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকা এবং এই বাঁধ নির্মাণের নামে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাপক লুটপাট ও দুর্নীতি হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, চলতি অর্থবছরেও এই বাঁধ নির্মাণের জন্য রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং এবার এই বরাদ্দের একটি টাকাও কাউকে দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না।

রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের অন্তর্গত গহিরা দোভাষী বাজার এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতায় পানিবন্দী ও অসহায় মানুষের মাঝে ব্যক্তিগত ও দলীয় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শেষে গণমাধ্যমের সামনে তিনি এসব কথা বলেন।

সার্বিক উপকূলীয় বেড়িবাঁধের বেহাল দশা নিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, এলাকার মানুষের সুরক্ষার স্বার্থে জাতীয় সংসদে আনোয়ারার এই প্রধান সংকটটি অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে টেকসই বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন করার জন্য সরকারের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করা হবে।

সারা দেশের চলমান বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সরকারের সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, যে কারণেই হোক না কেন, বর্তমান সরকার এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সঠিকভাবে সামাল দিতে পারছে না। তবে এই চরম সংকটের মুহূর্তে রাজনৈতিক দোষারোপের কাদা ছোঁড়াছুড়ি করে কোনো লাভ নেই। সবচেয়ে বড় এবং রূঢ় বাস্তব সত্য হলো, দেশের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাই এই জাতীয় দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করতে দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সব সামর্থ্যবান ব্যক্তি, সচেতন ছাত্রসমাজ এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে দুর্গতদের পাশে এগিয়ে আসতে হবে।

চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকার চিত্র তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, “চট্টগ্রামের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বর্তমানে সারা দেশের মানুষ গভীর উদ্বিগ্ন। আমাদের দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা একদম শুরু থেকেই এই উপদ্রুত অঞ্চলগুলোতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। আমি নিজে সশরীরে এসে দেখলাম, গত পাঁচ থেকে সাত দিন ধরে এই এলাকার কয়েকশ পরিবার পানির নিচে সম্পূর্ণ পানিবন্দী অবস্থায় অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই চরম সংকটে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে কার্যকরভাবে দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। এমনকি বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম ত্রাণও এখন পর্যন্ত অনেক মানুষ পাননি।”

তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, আনোয়ারা উপজেলার এই ত্রাণ কার্যক্রম শেষ করার পর অবিলম্বে বাঁশখালীসহ চট্টগ্রামের অন্যান্য সমস্ত বন্যাকবলিত ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতেও এনসিপির পক্ষ থেকে ধারাবাহিক ত্রাণ ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আনোয়ারার এই ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপের সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, দলটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বকর মজুমদার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি, মোহাম্মদ শাহেদসহ স্থানীয় অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

/আশিক


আগামী ১০০ বছরেও বাংলাদেশে আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১১ ১৯:২৫:০৮
আগামী ১০০ বছরেও বাংলাদেশে আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা
ছবি : সংগৃহীত

গত ২০২৪ সালের চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের চরম প্রত্যাশাভঙ্গ ও উগ্রবাদের নতুন উত্থানের প্রসঙ্গ টেনে আগামী ১০০ বছরেও বাংলাদেশে আর কোনো নতুন গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

শনিবার (১১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক রাজনৈতিক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে অভ্যুত্থান-পরবর্তী ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে মানুষের মনে যে সুনির্দিষ্ট স্বপ্ন ছিল, তার জন্য দেশের সাধারণ মানুষ শেষবারের মতো নিজের জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিল। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর যখন মানুষ দেখল যে এই পরিবর্তনটি আদতে কতিপয় মানুষের নিজস্ব সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে, এটি বাংলাদেশে এক ভয়াবহ উগ্রবাদের নতুন উত্থান ঘটিয়েছে এবং অদ্ভুতভাবে কিছু শূন্য থেকে হঠাৎ শতকোটি টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার একটি নতুন প্রকল্পে রূপ নিয়েছে; তখন স্বাভাবিকভাবেই এ দেশের গণমানুষ ভবিষ্যতে এই ধরনের আর কোনো গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার আগে হাজারবার, লক্ষবার ও কোটিবার চিন্তা করবে।’

তিনি চব্বিশের আন্দোলনের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় হিজাব পরা এবং হিজাব ছাড়া প্রগতিশীল—সব শ্রেণির নারীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এসে সেই সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন পরিবেশ কেন রক্ষা করা গেল না? চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক পরপরই সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ম্যুরাল ও বিভিন্ন ভাস্কর্যগুলো সুনির্দিষ্টভাবে কারা ভাঙল এবং কেন একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ আর চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকে কৃত্রিমভাবে মুখোমুখি দাঁড় করানো হলো, তিনি সেই জবাবও দাবি করেন।

গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে এক ‘ভয়াবহ উগ্রবাদের উত্থান হয়েছে’ বলে দাবি করে রুমিন ফারহানা উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন, আন্দোলনের পর দেশের পরিস্থিতি এমন উগ্র রূপ ধারণ করবে—এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ যদি আগে থেকে জানা থাকত, তবে চব্বিশে কয়জন সাধারণ মানুষ জীবন বাজি রেখে রাস্তায় আন্দোলনে নামতেন?

ইতিহাসের ধারাবাহিকতা টেনে তিনি আরও বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনের পরও এই দেশের সাধারণ মানুষ রাজনৈতিকভাবে বারবার প্রতারিত হয়েছে। এ দেশের আমপাবলিক বা সাধারণ মানুষ প্রতিবারই নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে বুক পেতে রক্ত দিয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে প্রতিবারই তারা চূড়ান্ত প্রতারণার শিকার হয়েছে।

‘গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। অনুষ্ঠানে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


নাহিদ, আসিফ ও পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নুরের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ১০ ২০:০৭:৩৩
নাহিদ, আসিফ ও পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নুরের
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ব্যঙ্গ করে ‘জাতীয় নেতা শেখ মুজিব’ বলে উল্লেখ করেন এবং তার ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে নুর দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অবগত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পাটওয়ারী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তিনি জানতেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে ছাত্র ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নুর আরও দাবি করেন, ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে জানতে পারার পর সংগঠন থেকে অব্যাহতির প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর সীমান্ত হত্যা ইস্যুতে কয়েকটি মানববন্ধনের মাধ্যমে নাসীরুদ্দীন পরিচিতি পান বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পরবর্তীতে পাটওয়ারী বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ছিলেন এবং একসময় তাদের সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে ঘন ঘন সংগঠন পরিবর্তনের প্রবণতা বিবেচনায় তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন নুর।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, আন্দোলনের সূচনা ও প্রাথমিক নেতৃত্বে তার সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের কৃতিত্ব অন্যদের দিকে চলে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, যারা আন্দোলনের শুরুর দিকে সক্রিয় ছিলেন, তাদের আড়ালে রেখে পরবর্তীতে কিছু নতুন মুখকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।

নিজের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গে নুর বলেন, একজন ব্যক্তি হিসেবে আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ নেতাকর্মীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন বলেও উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী রাজনৈতিক নেতৃত্বের কয়েকজনের মূল্যায়নও করেন। নুরের ভাষ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদ আন্দোলনের শেষ পর্যন্ত সক্রিয় ও সংগ্রামী ভূমিকা পালন করেছেন। অন্যদিকে নাহিদ ইসলামের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি সময়ে তিনি তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলেও আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ ছিল।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রসঙ্গে ফিরে নুর বলেন, বর্তমানে তাকে ঘিরে যেভাবে বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ভাবমূর্তি তৈরি করা হচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে তার ধারণা। তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে মন্তব্য করেন, অনেকেই তাকে এমনভাবে উপস্থাপন করছেন যেন তিনি একজন ঐতিহাসিক জাতীয় নেতা।

ডাকসুর সাবেক এই ভিপি আরও দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আন্দোলন, মিছিল বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সক্রিয় উপস্থিতি তিনি কখনো দেখেননি। তাই বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত ভূমিকার মধ্যে তিনি স্পষ্ট অসামঞ্জস্য দেখেন বলে মন্তব্য করেন।

-রফিক


অনেক রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে: রিজভী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৯ ১৮:১১:৩৬
অনেক রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে: রিজভী
ছবি : সংগৃহীত

ব্যাপক গণ-আন্দোলন ও দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এমতাবস্থায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং পরাজিত অপশক্তির নানামুখী চক্রান্ত নস্যাৎ করতে দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তি ও সাধারণ জনগণকে সর্বদা সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা উপলক্ষে হিন্দুধর্মাবলম্বী নাগরিকদের সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার বিশেষ সাংগঠনিক নির্দেশ দেন রিজভী।

রুহুল কবির রিজভী তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভেঙে পড়া গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষায় এক অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। আর এই কারণেই বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানামুখী দেশী-বিদেশী চক্রান্ত ও গভীর ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে। পরাজিত শক্তিগুলো সুযোগ পেলেই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাতে পারে।

এমন আশঙ্কা থেকেই দলের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা প্রতিটি এলাকায় পাহারাদারের মতো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিএনপি বরাবরই পাশে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত দুর্গাপূজাগুলোর মতো এবারও প্রতিটি রথযাত্রা উৎসবে নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহযোগিতা করবেন, যাতে কেউ কোনো উসকানি বা ধর্মীয় বিষয় নিয়ে নোংরা রাজনীতি করার সুযোগ না পায়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গোটা জাতি আজ এক সুদৃঢ় ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও অন্যান্য সব নৃগোষ্ঠী এখন বুঝতে পেরেছে যে, অতীতে কারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করেছিল। সাম্প্রতিক নির্বাচন এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসবগুলোতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, কোনো অপশক্তিই আর এ দেশের মজবুত সামাজিক সম্প্রীতি ভাঙতে সক্ষম হবে না।

দেশকে সামগ্রিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে সরকার প্রধান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে একইভাবে কাজ করে যাবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি অন্যান্য সব গণতান্ত্রিক শক্তি ও রাজনৈতিক দলকেও একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, সরকার গঠনের পর পরই গরিব মানুষের সুবিধার্থে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং পরবর্তীতে হেলথ কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া দেশের কৃষিখাত ও নদী-নালাকে সচল করতে ঐতিহ্যবাহী ‘খাল কাটা’ কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে।

এই বৃহৎ কর্মসূচির মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ এবং শুকনো মৌসুমে সেচ কাজ ও মৎস্য চাষের সুবিধা মিলবে, যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে। পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের প্রায় ১৫০টি উপজেলায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ ‘স্কুল ফিডিং’ বা টিফিন কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নয়াপল্টনের এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।

/আশিক


নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১১ দলকে হারানো হয়েছে: শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৮ ১৮:৪৩:৩৯
নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১১ দলকে হারানো হয়েছে: শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

নির্বাচনে সুক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটকে পরিকল্পিতভাবে পরাজয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে জামায়াতে ইসলামীসহ এই জোটের শরিকরা যদি সেদিন কোনো তীব্র প্রতিক্রিয়া বা বিদ্রোহ দেখাত, তবে সারা দেশে যে ভয়াবহ অরাজকতা তৈরি হতো, তার পরিণতি কেউ আন্দাজ করতে পারত না। মূলত দেশের স্থিতিশীলতার কথা চিন্তা করে অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণের পরিচয় দিয়েছে এই ১১ দলীয় ঐক্য।

বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন। ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।

অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থাকা সেই প্রশাসনও এই নির্বাচনী ষড়যন্ত্রের অংশীদার ছিল এবং পরবর্তী সময়ে এর সত্যতাও প্রকাশ পেয়েছে।

একই মঞ্চ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দলটি জনগণের কাছে দেওয়া নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে স্পষ্ট প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। জাতীয় সংসদের মতো একটি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে খোদ প্রতারণার পক্ষে সাফাই গাওয়ার ঘটনাকে তিনি নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক বলে আখ্যায়িত করেন।

তিনি বলেন, সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এই বক্তব্য প্রত্যাহার বা এক্সপাঞ্জ না হওয়ায় এটি ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় হিসেবে স্থায়ীভাবে নথিবদ্ধ হয়ে রইল এবং এর মাধ্যমে জনগণ সংশ্লিষ্ট দলটির প্রকৃত চরিত্র চিনে নেওয়ার সুযোগ পেল।

বিএনপির পক্ষ থেকে গণভোটের চার দফা প্রশ্নকে জটিল ও সাধারণ মানুষের বোঝার অযোগ্য বলে যে দাবি করা হয়েছিল, তার জবাবে জামায়াত আমির পাল্টা যুক্তি দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের সাধারণ মানুষ যদি ৪টি সহজ প্রশ্ন বুঝতে না পারে, তবে বিএনপির দেওয়া বিস্তারিত ৩১ দফা কীভাবে অনুধাবন করল।

জনগণকে এভাবে অজ্ঞ ভাবার মানসিকতাকে চরম অপমানজনক আখ্যা দিয়ে তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান। সেই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দ যদি নিজেদের সুবিধামতো ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করে, তবে তা সামগ্রিকভাবে দেশের রাজনীতির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস চিরতরে নষ্ট করে দেবে।

গণভোটের মাধ্যমে উঠে আসা জনগণের রায় যদি সরকার বাস্তবায়ন না করে, তবে সংসদ এবং রাজপথ—উভয় মাঠেই একযোগে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন এই বিরোধীদলীয় নেতা। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে কর্মীরা যে দীর্ঘ সংগ্রাম চালিয়ে আসছে, তা আরও বেগবান করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জনমনে জমে থাকা ক্ষোভ যখন চূড়ান্ত রূপ নেবে, তখন সাধারণ মানুষই এর উপযুক্ত জবাব দেবে।

অতীতের দীর্ঘ রাজনৈতিক সহাবস্থান ও জোটবদ্ধ আন্দোলনের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বিএনপির নাম উল্লেখ না করে বলেন, একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধারা আজ এমন আচরণ করছেন যেন তারা জামায়াতকে চেনেনই না। তবে এই রাজনৈতিক বিস্মৃতি কাটানোর জন্য সরকারের নীতিতে জনগণের একটিমাত্র জোরালো ধাক্কাই যথেষ্ট হবে।

কোনো ধরনের নতুন কিংবা পুরোনো স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে দেশের মাটিতে আর মাথাচাড় দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দেন শফিকুর রহমান। যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি বা কারাবরণের মুখোমুখি হতে নিজের দল প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, জনগণের ঐতিহাসিক রায়কে অবমূল্যায়ন করার চেষ্টা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং এই চেতনাকে সমুন্নত রাখতেই তাদের বর্তমান সংগ্রাম।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীর যোদ্ধাদের অবদানকে খাটো করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন জামায়াত আমির। আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার পক্ষে মত দিলেও তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও সংগ্রামীদের নিয়ে কোনো ধরনের অশালীনতা বা ধৃষ্টতা প্রদর্শন করা হলে তরুণ সমাজ ও সাধারণ ছাত্র-জনতা তা স্তব্ধ করে দেবে।

১১ দলীয় ঐক্যের এই সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।

অনুষ্ঠানের সভাপতি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ তাঁর সমাপনী বক্তব্যে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে ১১ দলীয় জোট তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রু নয়, বরং তারা দেশের সামগ্রিক মঙ্গল কামনা করে। প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে নানামুখী রাজনৈতিক সংকট ও শত্রুর উপস্থিতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি তাঁকে ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করার পরামর্শ দেন এবং দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

/আশিক


এক দলের বদলে অন্য দলের লুটপাটের জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দেয়নি: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৭ ২০:০৮:৪২
এক দলের বদলে অন্য দলের লুটপাটের জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দেয়নি: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

দেশে আবারো একদলীয় শাসন কায়েম ও প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চলছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনা স্মরণ করিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এদেশের সাধারণ মানুষ ও ছাত্র-জনতা এক দলের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে আরেক দলের নতুন করে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করার জন্য নিজেদের তাজা জীবন উৎসর্গ করেনি।

আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌর শহরের ঐতিহাসিক তালতলা চত্বরে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক বিশাল পদযাত্রা ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশে অবিলম্বে গণভোট বাস্তবায়ন, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তীব্র বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে এনসিপি। এই রাজনৈতিক পদযাত্রায় নাহিদ ইসলামের সঙ্গে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশ নেন।

পথসভায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিগত সময়ে দেশে এক দলের চরম শাসন ও জুলুম ছিল। কেউ নিজের অধিকারের কথা বলতে পারতো না, গুম ও খুনের শিকার হতে হতো। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আবারো বাংলাদেশকে সেই পুরোনো একদলীয় শাসনের অন্ধকারের দিকেই ধাবিত করা হচ্ছে। এমনকি পবিত্র সংসদেও এখন আমাদের জনগণের পক্ষে কথা বলতে দেওয়া হয় না। আমরা বাইরে শান্তিপূর্ন জনসভায় কথা বলতে গেলে বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে বোমা মারা হয় এবং ককটেল নিক্ষেপ করা হচ্ছে।’

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শোচনীয় পতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এই একদলীয় শাসনব্যবস্থা কেউ যদি নতুন করে আবার শুরু করতে চায়, তবে তাদের আওয়ামী লীগের নির্মম পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। দীর্ঘ ষোলো বছর একদলীয় শাসন ও নির্যাতন চালিয়ে শেষ পর্যন্ত হেলিকপ্টার দিয়ে আওয়ামী লীগ দিল্লী পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে‌। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ককটেল ফাটিয়ে ও বোমা মেরে তারা মনে করেছিল এই পদযাত্রা বন্ধ করে দেবে, কিন্তু সখীপুরবাসী রাজপথে নেমে সব ষড়যন্ত্র ও কালো পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে।’

লুটপাট ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, ‘২০২৪ সালে আমাদের তরুণ ও ছাত্ররা জীবন দিয়েছে দেশের একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য। যদি সেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না-ই আসে, যদি সমাজে মাদক, লুটপাট ও রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি অব্যাহত থাকে, তবে আমাদের সেই বীরদের আত্মত্যাগের কোনো মূল্য থাকে না‌। এক দলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আরেক দলের নতুন করে লুটপাটের লাইসেন্স দেওয়ার জন্য এদেশের ছাত্র-জনতা রক্ত দেয়নি।’

দেশের বিচার ব্যবস্থা ও ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা সবখানে ন্যায়বিচা‌রের কথা বলেছি। কিন্তু ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে একটি চক্র নিরীহ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলা দিয়ে নোংরা মামলা বাণিজ্য শুরু করেছে। অপরাধী আওয়ামী লীগের সুনির্দিষ্ট বিচার অবশ্যই করেন, কিন্তু কোনো নিরীহ মানুষকে হয়রানি, চাঁদাবাজি ও সাধারণের সম্পদ লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।’

/আশিক


সারা দেশের আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস ছাত্রদল-বিএনপি পুড়িয়ে দিয়েছিল: রাকিব

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৫ ১৯:৫৮:০১
সারা দেশের আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস ছাত্রদল-বিএনপি পুড়িয়ে দিয়েছিল: রাকিব
ছবি : সংগৃহীত

বিগত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সারা দেশের আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়গুলো পুড়িয়ে দেওয়ার পেছনে এবং ৪ আগস্টের রাজপথের লড়াইয়ে ছাত্রদল ও যুবদল অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল বলে প্রকাশ্য বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র) জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সম্মেলনের মূল বক্তব্যে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব স্পষ্ট করে বলেন, সারা দেশের আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসগুলো মূলত বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতারাই পুড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, ৪ আগস্ট ঢাকা শহরের যাত্রাবাড়ী ও শাহবাগসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্পট থেকে ছাত্রলীগকে রাজপথ থেকে বিতাড়িত করার ক্ষেত্রে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীরা সবচেয়ে সামনের কাতারে থেকে মূল ভূমিকা পালন করেছেন।

এদিকে উক্ত সম্মেলনে অংশ নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম সারির শহীদ আবু সাইদের বড় ভাই আবু হোসেন তাঁর ছোট ভাইয়ের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও রায় দ্রুত কার্যকর করার জোর দাবি জানান। এর পাশাপাশি তিনি গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদ পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পুনর্বাসন করা, জুলাইয়ের ঐতিহাসিক স্মৃতিসমূহ সংরক্ষণ করা এবং দেশের অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ অর্থনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানান।

আবু হোসেন আবেগঘন কণ্ঠে স্মরণ করেন যে, তাঁর ছোট ভাই আবু সাইদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একজন অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁকে যেভাবে নির্মমভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, সেই ভয়াবহ দৃশ্য শুধু দেশের মানুষই নয়, বরং পুরো বিশ্ববাসী স্তম্ভিত হয়ে দেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আবু সাইদের সেই ঐতিহাসিক ও অকুতোভয় আত্মত্যাগই মূলত দেশের সাধারণ মানুষকে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমে আসতে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছিল।

বক্তব্যের শেষাংশে আবু হোসেন বলেন, এ দেশের আপামর জনসাধারণের দীর্ঘ আন্দোলন ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে। তবে এই বিজয় সহজে আসেনি, স্বৈরাচারমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে গিয়ে দেশের বহু পরিবার তাদের একমাত্র প্রিয়জনকে চিরতরে হারিয়েছে এবং অসংখ্য তরুণ ও সাধারণ মানুষ নিজেদের অঙ্গ হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

/আশিক


বর্তমান সরকারকে বিগত ফ্যাসিবাদের আয়না বলে জি এম কাদেরের কড়া সমালোচনা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুলাই ০৪ ১৮:১০:২৪
বর্তমান সরকারকে বিগত ফ্যাসিবাদের আয়না বলে জি এম কাদেরের কড়া সমালোচনা
ছবি : সংগৃহীত

বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের দেখানো পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেছেন, দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন-পীড়ন এবং বৈষম্য কমেনি, বরং আরও তীব্র হয়েছে। সরকার যদি দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশে আবারও বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি-২০২৬’ এর পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

একটি আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংকের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘‘শক্তিশালী জনমতের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠিত হলেও তা দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দেয় না। রাজনৈতিক দলগুলোকে একীভূত করতে না পারলে এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে।’’

বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী যে গণঅভ্যুত্থান দেখেছিলাম, সেই চেতনার প্রতিফলন এখনকার রাষ্ট্র পরিচালনায় দেখছি না। বরং জুলাইয়ের চেতনার নামে এখন নতুন করে বৈষম্য ও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের রাস্তাঘাটে হেনস্তা করা, হাটে-বাজারে বাধা দেওয়া এবং আইন করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো কর্মকাণ্ড ফ্যাসিবাদী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।’’

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার চলমান ইস্যু নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, শুধু একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে বাদ দেওয়া বা দমন করলেই দেশে স্থায়ী স্থিতিশীলতা আসবে না। বরং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দেশের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে, যার দায়ভার এই সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

দেশের যুবসমাজের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে জি এম কাদের বলেন, তরুণ সমাজ আজ ব্যাপকভাবে হতাশাগ্রস্ত। তাদের সামনে কর্মসংস্থান ও নিশ্চিত ভবিষ্যৎ না থাকায় তারা মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত দলীয়করণের মাধ্যমে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: