জনগণের প্রত্যক্ষ পরামর্শে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে বিএনপি:তারেক রহমান

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের ডাক দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে এখন থেকে দলের প্রতিটি কর্মকাণ্ড এবং ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনার সব পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে। এই মহৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য তিনি ম্যাচ মাই পলিসি নামের একটি অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন। বিএনপি সূত্র জানিয়েছে যে দেশের প্রতিটি নাগরিক এখন থেকে একটি কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে সরাসরি তাঁদের মতামত ও পরামর্শ তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দিতে পারবেন। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি পলিসি নির্ধারণে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এই উদ্যোগের বিষয়ে জানান যে জনগণের আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোই তাঁদের মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক অংশগ্রহণের এই ডিজিটাল পদ্ধতিটি মূলত জেন-জি বা তরুণ প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যাপটিতে একটি বিশেষ অপশন রাখা হয়েছে যার মাধ্যমে যে কেউ লিখিতভাবে তাঁদের মতামত প্রদান করতে পারবেন। বিএনপি মনে করে এই প্রযুক্তিনির্ভর রাজনীতি বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের এক নতুন যুগের সূচনা করবে। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ম্যাচ মাই পলিসি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে খুব সহজেই যে কেউ দলটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার সাথে নিজের মতামত যাচাই করে নিতে পারবেন।
নির্বাচনি প্রচারণার বিষয়েও বিএনপি তাদের চূড়ান্ত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের দিন শেষ হওয়ার পর ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামবেন তারেক রহমান। তিনি আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেট থেকে তাঁর এই নির্বাচনি যাত্রা শুরু করবেন। হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষ করে তিনি পথসভা ও জনসভার মাধ্যমে সাধারণ জনগণের কাছে ভোট প্রার্থনা করবেন। সিলেট থেকে সড়কপথে ঢাকা ফেরার সময় তিনি মৌলভীবাজার এবং শ্রীমঙ্গলে বড় ধরণের নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নেবেন। ইতিমধেই তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এই সফরের মাধ্যমে তিনি জনগণের সাথে সরাসরি সংযোগ তৈরির যে ঘোষণা দিয়েছেন তা রাজনৈতিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
আগামী ১০০ বছরেও বাংলাদেশে আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা
গত ২০২৪ সালের চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের চরম প্রত্যাশাভঙ্গ ও উগ্রবাদের নতুন উত্থানের প্রসঙ্গ টেনে আগামী ১০০ বছরেও বাংলাদেশে আর কোনো নতুন গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
শনিবার (১১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক রাজনৈতিক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রুমিন ফারহানা তাঁর বক্তব্যে অভ্যুত্থান-পরবর্তী ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে মানুষের মনে যে সুনির্দিষ্ট স্বপ্ন ছিল, তার জন্য দেশের সাধারণ মানুষ শেষবারের মতো নিজের জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিল। কিন্তু অভ্যুত্থানের পর যখন মানুষ দেখল যে এই পরিবর্তনটি আদতে কতিপয় মানুষের নিজস্ব সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছে, এটি বাংলাদেশে এক ভয়াবহ উগ্রবাদের নতুন উত্থান ঘটিয়েছে এবং অদ্ভুতভাবে কিছু শূন্য থেকে হঠাৎ শতকোটি টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার একটি নতুন প্রকল্পে রূপ নিয়েছে; তখন স্বাভাবিকভাবেই এ দেশের গণমানুষ ভবিষ্যতে এই ধরনের আর কোনো গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়ার আগে হাজারবার, লক্ষবার ও কোটিবার চিন্তা করবে।’
তিনি চব্বিশের আন্দোলনের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রশ্ন তোলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় হিজাব পরা এবং হিজাব ছাড়া প্রগতিশীল—সব শ্রেণির নারীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে এসে সেই সম্প্রীতি ও বৈষম্যহীন পরিবেশ কেন রক্ষা করা গেল না? চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ঠিক পরপরই সারা দেশে মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক ম্যুরাল ও বিভিন্ন ভাস্কর্যগুলো সুনির্দিষ্টভাবে কারা ভাঙল এবং কেন একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ আর চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানকে কৃত্রিমভাবে মুখোমুখি দাঁড় করানো হলো, তিনি সেই জবাবও দাবি করেন।
গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে এক ‘ভয়াবহ উগ্রবাদের উত্থান হয়েছে’ বলে দাবি করে রুমিন ফারহানা উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন, আন্দোলনের পর দেশের পরিস্থিতি এমন উগ্র রূপ ধারণ করবে—এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যৎ যদি আগে থেকে জানা থাকত, তবে চব্বিশে কয়জন সাধারণ মানুষ জীবন বাজি রেখে রাস্তায় আন্দোলনে নামতেন?
ইতিহাসের ধারাবাহিকতা টেনে তিনি আরও বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনের পরও এই দেশের সাধারণ মানুষ রাজনৈতিকভাবে বারবার প্রতারিত হয়েছে। এ দেশের আমপাবলিক বা সাধারণ মানুষ প্রতিবারই নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে বুক পেতে রক্ত দিয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে প্রতিবারই তারা চূড়ান্ত প্রতারণার শিকার হয়েছে।
‘গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)। অনুষ্ঠানে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
নাহিদ, আসিফ ও পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নুরের
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। এক সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ব্যঙ্গ করে ‘জাতীয় নেতা শেখ মুজিব’ বলে উল্লেখ করেন এবং তার ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে নুর দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অবগত ছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পাটওয়ারী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তিনি জানতেন। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় গোপন রেখে ছাত্র ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নুর আরও দাবি করেন, ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে জানতে পারার পর সংগঠন থেকে অব্যাহতির প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর সীমান্ত হত্যা ইস্যুতে কয়েকটি মানববন্ধনের মাধ্যমে নাসীরুদ্দীন পরিচিতি পান বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পরবর্তীতে পাটওয়ারী বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ছিলেন এবং একসময় তাদের সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে ঘন ঘন সংগঠন পরিবর্তনের প্রবণতা বিবেচনায় তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন নুর।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, আন্দোলনের সূচনা ও প্রাথমিক নেতৃত্বে তার সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের কৃতিত্ব অন্যদের দিকে চলে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, যারা আন্দোলনের শুরুর দিকে সক্রিয় ছিলেন, তাদের আড়ালে রেখে পরবর্তীতে কিছু নতুন মুখকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।
নিজের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গে নুর বলেন, একজন ব্যক্তি হিসেবে আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ নেতাকর্মীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন বলেও উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী রাজনৈতিক নেতৃত্বের কয়েকজনের মূল্যায়নও করেন। নুরের ভাষ্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদ আন্দোলনের শেষ পর্যন্ত সক্রিয় ও সংগ্রামী ভূমিকা পালন করেছেন। অন্যদিকে নাহিদ ইসলামের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি সময়ে তিনি তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকলেও আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ ছিল।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর প্রসঙ্গে ফিরে নুর বলেন, বর্তমানে তাকে ঘিরে যেভাবে বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ভাবমূর্তি তৈরি করা হচ্ছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে তার ধারণা। তিনি ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে মন্তব্য করেন, অনেকেই তাকে এমনভাবে উপস্থাপন করছেন যেন তিনি একজন ঐতিহাসিক জাতীয় নেতা।
ডাকসুর সাবেক এই ভিপি আরও দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আন্দোলন, মিছিল বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সক্রিয় উপস্থিতি তিনি কখনো দেখেননি। তাই বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত ভূমিকার মধ্যে তিনি স্পষ্ট অসামঞ্জস্য দেখেন বলে মন্তব্য করেন।
-রফিক
অনেক রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে: রিজভী
ব্যাপক গণ-আন্দোলন ও দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। এমতাবস্থায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং পরাজিত অপশক্তির নানামুখী চক্রান্ত নস্যাৎ করতে দেশের সব গণতান্ত্রিক শক্তি ও সাধারণ জনগণকে সর্বদা সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর নয়াপল্টনে অবস্থিত দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব রথযাত্রা উপলক্ষে হিন্দুধর্মাবলম্বী নাগরিকদের সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঠে থাকার বিশেষ সাংগঠনিক নির্দেশ দেন রিজভী।
রুহুল কবির রিজভী তাঁর বক্তব্যে দাবি করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভেঙে পড়া গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধার ও সুরক্ষায় এক অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। আর এই কারণেই বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে নানামুখী দেশী-বিদেশী চক্রান্ত ও গভীর ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে। পরাজিত শক্তিগুলো সুযোগ পেলেই সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাতে পারে।
এমন আশঙ্কা থেকেই দলের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন তারা প্রতিটি এলাকায় পাহারাদারের মতো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিএনপি বরাবরই পাশে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিগত দুর্গাপূজাগুলোর মতো এবারও প্রতিটি রথযাত্রা উৎসবে নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহযোগিতা করবেন, যাতে কেউ কোনো উসকানি বা ধর্মীয় বিষয় নিয়ে নোংরা রাজনীতি করার সুযোগ না পায়।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গোটা জাতি আজ এক সুদৃঢ় ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও অন্যান্য সব নৃগোষ্ঠী এখন বুঝতে পেরেছে যে, অতীতে কারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করেছিল। সাম্প্রতিক নির্বাচন এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসবগুলোতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, কোনো অপশক্তিই আর এ দেশের মজবুত সামাজিক সম্প্রীতি ভাঙতে সক্ষম হবে না।
দেশকে সামগ্রিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে সরকার প্রধান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে একইভাবে কাজ করে যাবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তিনি অন্যান্য সব গণতান্ত্রিক শক্তি ও রাজনৈতিক দলকেও একযোগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, সরকার গঠনের পর পরই গরিব মানুষের সুবিধার্থে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং পরবর্তীতে হেলথ কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ ছাড়া দেশের কৃষিখাত ও নদী-নালাকে সচল করতে ঐতিহ্যবাহী ‘খাল কাটা’ কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়েছে।
এই বৃহৎ কর্মসূচির মাধ্যমে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ এবং শুকনো মৌসুমে সেচ কাজ ও মৎস্য চাষের সুবিধা মিলবে, যা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে। পাশাপাশি প্রাথমিক স্তরের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশের প্রায় ১৫০টি উপজেলায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য বিশেষ ‘স্কুল ফিডিং’ বা টিফিন কর্মসূচির আওতায় খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নয়াপল্টনের এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-প্রচার সম্পাদক আসাদুল করিম শাহীন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।
/আশিক
নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১১ দলকে হারানো হয়েছে: শফিকুর রহমান
নির্বাচনে সুক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটকে পরিকল্পিতভাবে পরাজয়ের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে জামায়াতে ইসলামীসহ এই জোটের শরিকরা যদি সেদিন কোনো তীব্র প্রতিক্রিয়া বা বিদ্রোহ দেখাত, তবে সারা দেশে যে ভয়াবহ অরাজকতা তৈরি হতো, তার পরিণতি কেউ আন্দাজ করতে পারত না। মূলত দেশের স্থিতিশীলতার কথা চিন্তা করে অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণের পরিচয় দিয়েছে এই ১১ দলীয় ঐক্য।
বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ জাতীয় সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মূল্যায়ন তুলে ধরেন। ‘জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার এবং আমাদের দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।
অনুষ্ঠানে জামায়াত আমির তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থাকা সেই প্রশাসনও এই নির্বাচনী ষড়যন্ত্রের অংশীদার ছিল এবং পরবর্তী সময়ে এর সত্যতাও প্রকাশ পেয়েছে।
একই মঞ্চ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, দলটি জনগণের কাছে দেওয়া নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে স্পষ্ট প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে। জাতীয় সংসদের মতো একটি উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে খোদ প্রতারণার পক্ষে সাফাই গাওয়ার ঘটনাকে তিনি নজিরবিহীন ও লজ্জাজনক বলে আখ্যায়িত করেন।
তিনি বলেন, সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এই বক্তব্য প্রত্যাহার বা এক্সপাঞ্জ না হওয়ায় এটি ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় হিসেবে স্থায়ীভাবে নথিবদ্ধ হয়ে রইল এবং এর মাধ্যমে জনগণ সংশ্লিষ্ট দলটির প্রকৃত চরিত্র চিনে নেওয়ার সুযোগ পেল।
বিএনপির পক্ষ থেকে গণভোটের চার দফা প্রশ্নকে জটিল ও সাধারণ মানুষের বোঝার অযোগ্য বলে যে দাবি করা হয়েছিল, তার জবাবে জামায়াত আমির পাল্টা যুক্তি দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, দেশের সাধারণ মানুষ যদি ৪টি সহজ প্রশ্ন বুঝতে না পারে, তবে বিএনপির দেওয়া বিস্তারিত ৩১ দফা কীভাবে অনুধাবন করল।
জনগণকে এভাবে অজ্ঞ ভাবার মানসিকতাকে চরম অপমানজনক আখ্যা দিয়ে তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান। সেই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক দল ও নেতৃবৃন্দ যদি নিজেদের সুবিধামতো ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করে, তবে তা সামগ্রিকভাবে দেশের রাজনীতির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস চিরতরে নষ্ট করে দেবে।
গণভোটের মাধ্যমে উঠে আসা জনগণের রায় যদি সরকার বাস্তবায়ন না করে, তবে সংসদ এবং রাজপথ—উভয় মাঠেই একযোগে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন এই বিরোধীদলীয় নেতা। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে কর্মীরা যে দীর্ঘ সংগ্রাম চালিয়ে আসছে, তা আরও বেগবান করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, জনমনে জমে থাকা ক্ষোভ যখন চূড়ান্ত রূপ নেবে, তখন সাধারণ মানুষই এর উপযুক্ত জবাব দেবে।
অতীতের দীর্ঘ রাজনৈতিক সহাবস্থান ও জোটবদ্ধ আন্দোলনের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বিএনপির নাম উল্লেখ না করে বলেন, একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধারা আজ এমন আচরণ করছেন যেন তারা জামায়াতকে চেনেনই না। তবে এই রাজনৈতিক বিস্মৃতি কাটানোর জন্য সরকারের নীতিতে জনগণের একটিমাত্র জোরালো ধাক্কাই যথেষ্ট হবে।
কোনো ধরনের নতুন কিংবা পুরোনো স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে দেশের মাটিতে আর মাথাচাড় দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দেন শফিকুর রহমান। যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি বা কারাবরণের মুখোমুখি হতে নিজের দল প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত এই লড়াই অব্যাহত থাকবে। তিনি পরিষ্কার করে বলেন, জনগণের ঐতিহাসিক রায়কে অবমূল্যায়ন করার চেষ্টা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং এই চেতনাকে সমুন্নত রাখতেই তাদের বর্তমান সংগ্রাম।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীর যোদ্ধাদের অবদানকে খাটো করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন জামায়াত আমির। আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার পক্ষে মত দিলেও তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও সংগ্রামীদের নিয়ে কোনো ধরনের অশালীনতা বা ধৃষ্টতা প্রদর্শন করা হলে তরুণ সমাজ ও সাধারণ ছাত্র-জনতা তা স্তব্ধ করে দেবে।
১১ দলীয় ঐক্যের এই সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান।
অনুষ্ঠানের সভাপতি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ তাঁর সমাপনী বক্তব্যে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে ১১ দলীয় জোট তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বা শত্রু নয়, বরং তারা দেশের সামগ্রিক মঙ্গল কামনা করে। প্রধানমন্ত্রীর চারপাশে নানামুখী রাজনৈতিক সংকট ও শত্রুর উপস্থিতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি তাঁকে ঢাকার বাইরে রাত্রিযাপন না করার পরামর্শ দেন এবং দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের প্রস্তাবগুলো ইতিবাচকভাবে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।
/আশিক
এক দলের বদলে অন্য দলের লুটপাটের জন্য ছাত্র-জনতা জীবন দেয়নি: নাহিদ ইসলাম
দেশে আবারো একদলীয় শাসন কায়েম ও প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা চলছে বলে তীব্র ক্ষোভ ও গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনা স্মরণ করিয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এদেশের সাধারণ মানুষ ও ছাত্র-জনতা এক দলের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়ে আরেক দলের নতুন করে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করার জন্য নিজেদের তাজা জীবন উৎসর্গ করেনি।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে টাঙ্গাইলের সখীপুর পৌর শহরের ঐতিহাসিক তালতলা চত্বরে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক বিশাল পদযাত্রা ও পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশে অবিলম্বে গণভোট বাস্তবায়ন, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, তীব্র বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জাতীয় সীমান্ত সুরক্ষার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে এনসিপি। এই রাজনৈতিক পদযাত্রায় নাহিদ ইসলামের সঙ্গে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশ নেন।
পথসভায় বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিগত সময়ে দেশে এক দলের চরম শাসন ও জুলুম ছিল। কেউ নিজের অধিকারের কথা বলতে পারতো না, গুম ও খুনের শিকার হতে হতো। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, আবারো বাংলাদেশকে সেই পুরোনো একদলীয় শাসনের অন্ধকারের দিকেই ধাবিত করা হচ্ছে। এমনকি পবিত্র সংসদেও এখন আমাদের জনগণের পক্ষে কথা বলতে দেওয়া হয় না। আমরা বাইরে শান্তিপূর্ন জনসভায় কথা বলতে গেলে বিরোধী কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে বোমা মারা হয় এবং ককটেল নিক্ষেপ করা হচ্ছে।’
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শোচনীয় পতনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘এই একদলীয় শাসনব্যবস্থা কেউ যদি নতুন করে আবার শুরু করতে চায়, তবে তাদের আওয়ামী লীগের নির্মম পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। দীর্ঘ ষোলো বছর একদলীয় শাসন ও নির্যাতন চালিয়ে শেষ পর্যন্ত হেলিকপ্টার দিয়ে আওয়ামী লীগ দিল্লী পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ককটেল ফাটিয়ে ও বোমা মেরে তারা মনে করেছিল এই পদযাত্রা বন্ধ করে দেবে, কিন্তু সখীপুরবাসী রাজপথে নেমে সব ষড়যন্ত্র ও কালো পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে।’
লুটপাট ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনড় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে নাহিদ ইসলাম এমপি বলেন, ‘২০২৪ সালে আমাদের তরুণ ও ছাত্ররা জীবন দিয়েছে দেশের একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য। যদি সেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না-ই আসে, যদি সমাজে মাদক, লুটপাট ও রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি অব্যাহত থাকে, তবে আমাদের সেই বীরদের আত্মত্যাগের কোনো মূল্য থাকে না। এক দলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আরেক দলের নতুন করে লুটপাটের লাইসেন্স দেওয়ার জন্য এদেশের ছাত্র-জনতা রক্ত দেয়নি।’
দেশের বিচার ব্যবস্থা ও ৫ আগস্ট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা সবখানে ন্যায়বিচারের কথা বলেছি। কিন্তু ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে একটি চক্র নিরীহ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ঢালাও মামলা দিয়ে নোংরা মামলা বাণিজ্য শুরু করেছে। অপরাধী আওয়ামী লীগের সুনির্দিষ্ট বিচার অবশ্যই করেন, কিন্তু কোনো নিরীহ মানুষকে হয়রানি, চাঁদাবাজি ও সাধারণের সম্পদ লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।’
/আশিক
সারা দেশের আওয়ামী লীগের পার্টি অফিস ছাত্রদল-বিএনপি পুড়িয়ে দিয়েছিল: রাকিব
বিগত ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সারা দেশের আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়গুলো পুড়িয়ে দেওয়ার পেছনে এবং ৪ আগস্টের রাজপথের লড়াইয়ে ছাত্রদল ও যুবদল অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল বলে প্রকাশ্য বক্তব্য দিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র) জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সম্মেলনের মূল বক্তব্যে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব স্পষ্ট করে বলেন, সারা দেশের আওয়ামী লীগের পার্টি অফিসগুলো মূলত বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতারাই পুড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, ৪ আগস্ট ঢাকা শহরের যাত্রাবাড়ী ও শাহবাগসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্পট থেকে ছাত্রলীগকে রাজপথ থেকে বিতাড়িত করার ক্ষেত্রে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীরা সবচেয়ে সামনের কাতারে থেকে মূল ভূমিকা পালন করেছেন।
এদিকে উক্ত সম্মেলনে অংশ নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম সারির শহীদ আবু সাইদের বড় ভাই আবু হোসেন তাঁর ছোট ভাইয়ের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও রায় দ্রুত কার্যকর করার জোর দাবি জানান। এর পাশাপাশি তিনি গণঅভ্যুত্থানে নিহত সকল শহীদ পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পুনর্বাসন করা, জুলাইয়ের ঐতিহাসিক স্মৃতিসমূহ সংরক্ষণ করা এবং দেশের অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ অর্থনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানান।
আবু হোসেন আবেগঘন কণ্ঠে স্মরণ করেন যে, তাঁর ছোট ভাই আবু সাইদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একজন অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁকে যেভাবে নির্মমভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, সেই ভয়াবহ দৃশ্য শুধু দেশের মানুষই নয়, বরং পুরো বিশ্ববাসী স্তম্ভিত হয়ে দেখেছে। তিনি উল্লেখ করেন, আবু সাইদের সেই ঐতিহাসিক ও অকুতোভয় আত্মত্যাগই মূলত দেশের সাধারণ মানুষকে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমে আসতে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করেছিল।
বক্তব্যের শেষাংশে আবু হোসেন বলেন, এ দেশের আপামর জনসাধারণের দীর্ঘ আন্দোলন ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটে। তবে এই বিজয় সহজে আসেনি, স্বৈরাচারমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়তে গিয়ে দেশের বহু পরিবার তাদের একমাত্র প্রিয়জনকে চিরতরে হারিয়েছে এবং অসংখ্য তরুণ ও সাধারণ মানুষ নিজেদের অঙ্গ হারিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
/আশিক
বর্তমান সরকারকে বিগত ফ্যাসিবাদের আয়না বলে জি এম কাদেরের কড়া সমালোচনা
বিগত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের দেখানো পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি বলেছেন, দেশে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, দমন-পীড়ন এবং বৈষম্য কমেনি, বরং আরও তীব্র হয়েছে। সরকার যদি দ্রুত অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশে আবারও বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘জাতীয় আইনজীবী ফেডারেশন কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি-২০২৬’ এর পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
একটি আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংকের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জি এম কাদের বলেন, ‘‘শক্তিশালী জনমতের ওপর ভিত্তি করে সরকার গঠিত হলেও তা দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতার গ্যারান্টি দেয় না। রাজনৈতিক দলগুলোকে একীভূত করতে না পারলে এবং গণতান্ত্রিক চর্চাকে গুরুত্ব না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে।’’
বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘আমরা জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী যে গণঅভ্যুত্থান দেখেছিলাম, সেই চেতনার প্রতিফলন এখনকার রাষ্ট্র পরিচালনায় দেখছি না। বরং জুলাইয়ের চেতনার নামে এখন নতুন করে বৈষম্য ও দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে। রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারীদের রাস্তাঘাটে হেনস্তা করা, হাটে-বাজারে বাধা দেওয়া এবং আইন করে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার মতো কর্মকাণ্ড ফ্যাসিবাদী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।’’
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার চলমান ইস্যু নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, শুধু একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে বাদ দেওয়া বা দমন করলেই দেশে স্থায়ী স্থিতিশীলতা আসবে না। বরং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দার কারণে দেশের সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে, যার দায়ভার এই সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
দেশের যুবসমাজের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে জি এম কাদের বলেন, তরুণ সমাজ আজ ব্যাপকভাবে হতাশাগ্রস্ত। তাদের সামনে কর্মসংস্থান ও নিশ্চিত ভবিষ্যৎ না থাকায় তারা মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া, বিচার বিভাগসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত দলীয়করণের মাধ্যমে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
/আশিক
স্থানীয় নির্বাচনে একক পথে হাঁটতে চায় এনসিপি
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এককভাবে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় গড়ে ওঠা তরুণদের এই দলটি স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি বিস্তারের কৌশল হিসেবে জোটের বদলে নিজস্ব প্রতীকে ও নিজস্ব প্রার্থী নিয়ে নির্বাচন করার পথে এগোচ্ছে। দলটির ওয়েবসাইটেও নিজেদের জুলাই ২০২৪ অভ্যুত্থান-উদ্ভূত ছাত্রনেতৃত্বাধীন দল হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছেন, দলটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রতিটি স্তরে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এনসিপির অবস্থান হলো এককভাবে নির্বাচন করা। তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণা, সম্ভাব্য প্রার্থী যাচাই এবং সাংগঠনিক যোগাযোগ জোরদার করা হচ্ছে। এর আগে জুন মাসেও তিনি বলেন, এনসিপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রত্যেক স্তরে অংশগ্রহণের ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচনে জোটগত সমীকরণ থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি ও জামায়াত এখন পর্যন্ত আলাদা পথে হাঁটছে। দল দুটি পৃথকভাবে প্রার্থী ঘোষণা শুরু করায় ১১ দলীয় জোটের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতা বা সীমিত ঐক্যের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা।
এনসিপি নেতাদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় বাস্তব শক্তি যাচাইয়ের বড় সুযোগ। জাতীয় পর্যায়ের জোট রাজনীতির বাইরে গিয়ে ইউনিয়ন, পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক উপস্থিতি দেখাতে চায় দলটি। তাদের ধারণা, একক নির্বাচনে অংশ নিলে ভোটের ফল যাই হোক, প্রতিটি ইউনিটে কর্মী, সমর্থক ও স্থানীয় নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ তৈরি হবে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিটিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি। পাঁচ সিটিতে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি সিটিগুলোতেও প্রার্থী চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি উপজেলা ও পৌরসভায় শতাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণার কথা জানানো হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী বাছাইয়ে তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত পদ্ধতি অনুসরণ করছে দলটি। সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পদেও প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এনসিপির ভেতরের সূত্রগুলো বলছে, বিভিন্ন দল থেকে সরে আসা বা বহিষ্কৃত কিছু স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাও এনসিপির সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আসতে পারে।
ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন ঘিরে এনসিপি ও জামায়াতের সম্পর্ক নতুন পরীক্ষার মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। ঢাকা দক্ষিণে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে জামায়াতের ভেতরে ডাকসুর সাবেক ভিপি সাদিক কায়েমকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনার আলোচনা আছে। ফলে একই রাজনৈতিক বলয়ের তরুণ দুই মুখকে কেন্দ্র করে ভোটের সমীকরণ জটিল হতে পারে।
ঢাকা উত্তর সিটিতে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং কুমিল্লা সিটিতে জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলামের নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার কথা দলীয় সূত্রে জানা গেছে। কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে এনসিপি প্রার্থী তারিকুল ইসলাম স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা। তার ভাষায়, এককভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিটি ইউনিটে এনসিপির সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি হবে এবং তরুণ নেতৃত্ব স্থানীয় রাজনীতিতে জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পাবে।
তবে দলের ভেতরেও একক বনাম জোটগত নির্বাচন নিয়ে মতভেদ আছে। একাংশ মনে করছে, জাতীয় রাজনীতিতে জোট থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে আলাদা লড়াই দলীয় পরিচয় স্পষ্ট করবে। অন্য অংশের আশঙ্কা, মাঠপর্যায়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে একা লড়াই করলে ফল প্রত্যাশিত নাও হতে পারে। আবার কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতা জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে অস্বস্তিও প্রকাশ করেছেন।
-রফিক
আপনার বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম: মনিকে ট্যাগ করে ছাত্রদল সভাপতি
বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) নিলোফার চৌধুরী মনির একটি টকশোতে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্ররাজনীতিতে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে ‘অযাচিত’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অত্যন্ত কঠোর ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে ছাত্রদল সভাপতি নিলোফার চৌধুরী মনির বক্তব্যকে ‘ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান’ করার ঘোষণা দেন।
ফেসবুক পোস্টে ছাত্রদল সভাপতি রাকিব লেখেন, ‘‘প্রিয় নিলোফার চৌধুরী মনি আপা, এমপি, আপনি দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন সংগ্রামের সারথি ছিলেন। গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আপনার অনবদ্য ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু গতকাল টকশোতে জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আপনার অযাচিত বক্তব্যে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। আপনার বক্তব্য আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম।’’
এমপি নিলোফার চৌধুরী মনিকে ভবিষ্যতে এই জাতীয় স্পর্শকাতর বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাকিবুল ইসলাম তাঁর পোস্টে আরও যোগ করেন, ‘‘আমরা অবগত রয়েছি, আপনি জুলাইয়ের চেতনা ধারণকারী একজন দেশপ্রেমিক রাজনীতিবিদ। সেহেতু জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বক্তব্যে আপনি আরও বেশি সংযত ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন, সেই প্রত্যাশা করি।’’
বিপ্লব ও গণঅভ্যুত্থানের সংবেদনশীল ইতিহাস নিয়ে বিএনপিরই একজন শীর্ষস্থানীয় নারী নেত্রীর মুখে এমন মন্তব্যে ছাত্রদল সভাপতির এই প্রকাশ্য কড়া অবস্থান দলটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা দ্বিগুণ করল মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়
- ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটছেন বানভাসি মানুষ, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রেড অ্যালার্ট
- ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পিকআপ উদ্ধারের সময় বাসের চাপা, ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু
- দাউদকান্দি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ২১ ও ১৭ মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯
- সুইসদের বিপক্ষে অপরাজেয় রেকর্ডের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেমিফাইনালের লক্ষ্যে মেসিরা
- মার্কার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান: গতির বিচারে ক্রীড়াবিজ্ঞানকে বিস্মিত করছেন মেসি
- ধার-দেনা ও মানসিক চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া হচ্ছে রেশন
- মন্তিয়েল বনাম মোলিনা: সুইজারল্যান্ড ম্যাচে রাইটব্যাকে কে পাচ্ছেন সুযোগ?
- চার বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
- আগামী ১০০ বছরেও বাংলাদেশে আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা
- খিচুড়ি রান্না বা কচুরিপানা দেখতে আমলাদের বিদেশ সফরের যুগ শেষ: শিক্ষামন্ত্রী
- মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থার মাঝেই ওমানে মুখোমুখি হচ্ছে আমেরিকা ও ইরান
- শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না: স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ
- খামেনি হত্যার মোক্ষম প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করলেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা
- পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো শিল্পকারখানা গড়ার সুযোগ নেই: পরিবেশমন্ত্রী
- ট্রফির চেয়েও বড় কোন ‘উত্তরাধিকার’ খুঁজছেন স্কালোনি? সুইজারল্যান্ড বধের আগে বিশ্বজয়ীর আবেগঘন বার্তা
- ঢামেকে তারেক রহমান, উৎসবমুখর ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- ট্রাম্পের হুমকি, ‘ইরানকে নিশ্চিহ্ন করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র’
- ঢাকা মেডিকেলে তারেক রহমান, উদ্বোধন করলেন বৃক্ষরোপণ
- মিয়ামিতে মহাদ্বৈরথ: ইংল্যান্ডকে ফেবারিট মেনেও কোন সমীকরণে হুঙ্কার ছাড়ছে নরওয়ে?
- যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? ইরান-মার্কিন চরম উত্তেজনার মাঝে তেহরানে কাতার, টেবিলে কঠিন শর্ত
- জ্বলছে দক্ষিণ স্পেন: এক রূপকথার অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের নারকীয় তাণ্ডব, নেপথ্যে কী?
- নাহিদ, আসিফ ও পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নুরের
- টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়
- স্পেন-বেলজিয়াম মহারণ, সেমির টিকিট কার হাতে
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ১৪ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, নদীবন্দরে সংকেত
- উত্তরাঞ্চলে দুই নতুন নদীবন্দর নির্মাণে সরকারি ঘোষণা
- যুদ্ধ থামেনি, আরও বড় হামলার বার্তা দিল ইসরায়েল
- আজ মাঠে স্পেন-বেলজিয়াম, জমজমাট ক্রীড়া সূচি
- ৩৪ ম্যাচের অপরাজিত মরক্কোকে বিদায় দিল ফ্রান্স
- ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার দাবি, কী বলছে ইসরাইল?
- স্বর্ণ কিনতে সুখবর, বাজুসের নতুন দামে বড় ছাড়
- শুক্রবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দোকান থাকবে বন্ধ
- শান্তি চুক্তি ভেঙে ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হামলা চালাল আমেরিকা
- রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট: জার্মানিতে গরমে মৃত্যুর রেকর্ড
- মার্কিন হামলার জবাবে এবার সরাসরি পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিল ইরান
- অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে নেওয়া ৬১ কোটির লুটপাটের প্রকল্প বাতিল ঘোষণা
- প্রাকৃতিক দুর্যোগে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানবিক বিপর্যয়, ১৫ জনের প্রাণহানি
- ফিফার নতুন নিয়মের সুবিধা নিয়ে সেমিফাইনালের পথে চার পরাশক্তি
- দেশের ১৯ অঞ্চলে রাতের মধ্যে ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস
- অপ্টার সুপারকম্পিউটারের পূর্বাভাস: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠছে চার পরাশক্তি
- ডলারের দরপতনের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন
- আর্জেন্টিনার বিতর্কিত জয়ের পর মেসিকে ‘লুজার’ বলে তীব্র কটাক্ষ ভারতীয় অভিনেত্রীর
- সিলেটে বিএসএফের পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিল বিজিবি
- অনেক রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে: রিজভী
- শান্তি চুক্তি ভেঙে ইরানে দ্বিতীয় দিনের মতো আমেরিকার ব্যাপক বিমান হামলা
- শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় কোনো কূটনৈতিক ঘাটতি নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আগামী ৫ বছরে বিদেশে ১ কোটি দক্ষ কর্মী পাঠানোর মেগা পরিকল্পনা সরকারের
- ৯ জুলাই ২০২৬: আজকের শেয়ারবাজারের বিস্তারিত বিশ্লেষণ
- নরওয়ের বিপক্ষে নেইমার খেলবেন? জানালেন আনচেলত্তি
- ফন্টেইনের ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙবেন মেসি?
- ‘নেতানিয়াহু জানেন, আসল বস কে’- ট্রাম্প
- ‘অন্য ভাষায় জবাব পাবেন’ ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান
- ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’: সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ার শিক্ষা
- তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু, এবার ঝড়-বন্যার নতুন শঙ্কা
- আমির-গৌরীর বিয়ে, আলোচনায় গৌরীর সম্পদের পরিমাণ
- ৩৪ ম্যাচের অপরাজিত মরক্কোকে বিদায় দিল ফ্রান্স
- খামেনির শোক র্যালিতে জনসমুদ্র, প্রতিশোধের লাল পতাকায় মুখর তেহরান
- স্পেন-বেলজিয়াম মহারণ, সেমির টিকিট কার হাতে
- ৫ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- স্বর্ণ কিনতে বাড়তি খরচ, কার্যকর নতুন মূল্যতালিকা
- ৬ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়
- নাহিদ, আসিফ ও পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নুরের








