একই খরচে মিলবে সুপারফাস্ট ইন্টারনেট: জেনে নিন কোন প্যাকেজে কত গতি

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১৮:৫৮:১৫
একই খরচে মিলবে সুপারফাস্ট ইন্টারনেট: জেনে নিন কোন প্যাকেজে কত গতি
ছবি : সংগৃহীত

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, গ্রাহকরা এখন থেকে আগের মাসিক খরচেই বহুগুণ বেশি গতিসম্পন্ন ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। অনলাইন শিক্ষা, দাপ্তরিক কাজ, ভিডিও স্ট্রিমিং এবং গেমিংয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিটিসিএল মনে করছে, এই উদ্যোগের ফলে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষও উচ্চগতির ইন্টারনেটের সুফল ভোগ করতে পারবে।

বিটিসিএলের আপগ্রেড করা নতুন প্যাকেজগুলোর সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

সাশ্রয়ী-২০ প্যাকেজ: আগে ৩৯৯ টাকায় ছিল ৫ এমবিপিএস, এখন পাওয়া যাবে ২০ এমবিপিএস।

সাশ্রয়ী-২৫ প্যাকেজ: ৫০০ টাকায় ১২ এমবিপিএসের জায়গায় এখন মিলবে ২৫ এমবিপিএস।

ক্যাম্পাস-৫০ প্যাকেজ: শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০ টাকার ক্যাম্পাস প্যাকেজ ১৫ থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৫০ এমবিপিএস করা হয়েছে।

সাশ্রয়ী-৫০ প্যাকেজ: ৮০০ টাকার ১৫ এমবিপিএস প্যাকেজটি এখন হয়েছে ৫০ এমবিপিএস।

সাশ্রয়ী-১০০ প্যাকেজ: ১০৫০ টাকায় ২০ এমবিপিএসের পরিবর্তে গ্রাহকরা পাবেন ১০০ এমবিপিএস।

সাশ্রয়ী-১২০ প্যাকেজ: ১১৫০ টাকায় ২৫ এমবিপিএস থেকে বেড়ে হয়েছে ১২০ এমবিপিএস।

সাশ্রয়ী-১৫০ প্যাকেজ: ১৫০০ টাকায় ৪০ এমবিপিএস প্যাকেজটি এখন হয়েছে ১৫০ এমবিপিএস।

সাশ্রয়ী-১৭০ প্যাকেজ: উচ্চ ব্যবহারকারীদের জন্য ১৭০০ টাকায় ৫০ এমবিপিএসের পরিবর্তে মিলবে ১৭০ এমবিপিএস।

বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, দ্রুতগতির ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই দেশের ডিজিটাল রূপান্তর পূর্ণতা পাবে। এই আপগ্রেডেশনের ফলে বিটিসিএলের গ্রাহক সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রাহকরা কোনো বাড়তি ফি বা আবেদন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই নতুন গতি উপভোগ করতে পারবেন। নির্ভরযোগ্য ও উচ্চগতির ইন্টারনেটের মাধ্যমে স্মার্ট সেবা ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আরও উন্নত হবে বলে বিটিসিএল দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেছে।


মরুভূমির বালু হবে উর্বর জমি: চীনের বিজ্ঞানীদের নতুন আবিষ্কারে সবুজের বিপ্লব

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৯:৩৯:২২
মরুভূমির বালু হবে উর্বর জমি: চীনের বিজ্ঞানীদের নতুন আবিষ্কারে সবুজের বিপ্লব
ছবি : সংগৃহীত

মরুভূমি মানেই শুধু ধূ ধূ বালু আর অনুর্বর জমি—পরম্পরাগত এই ধারণাটি বদলে দিতে চলেছেন চীনের একদল বিজ্ঞানী। তাঁরা এমন এক বৈপ্লবিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন যার মাধ্যমে মাত্র ১০ থেকে ১৬ মাসের মধ্যেই মরুভূমির আলগা বালুকে অত্যন্ত উর্বর মাটিতে পরিণত করা সম্ভব হচ্ছে। চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের তাকলামাকান মরুভূমির কাছে চালানো এই গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘সয়েল বায়োলজি অ্যান্ড বায়োকেমিস্ট্রি’-তে প্রকাশিত হয়েছে। চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের গবেষকেরা এই অসম্ভবকে সম্ভব করতে গবেষণাগারে তৈরি বিশেষ

এক ধরনের অণুজীব ব্যবহার করেছেন যার নাম সায়ানোব্যাকটেরিয়া। প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন বছর আগে পৃথিবীতে আসা এই অণুজীব অত্যন্ত প্রতিকূল ও কঠিন পরিবেশেও অনায়াসে বেঁচে থাকতে পারে যা মরুভূমির রূপান্তরে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে এই সায়ানোব্যাকটেরিয়া বালুর ওপর একটি কালো রঙের জৈব আস্তরণ তৈরি করে যা বালুর আলগা কণাগুলোকে আঠার মতো শক্তভাবে একসঙ্গে ধরে রাখে। এর ফলে বালু দ্রুত মাটির মতো আচরণ শুরু করে এবং সেখানে চারাগাছের শিকড় খুব সহজে গজাতে পারে। এই পদ্ধতির আরও একটি বড় সুবিধা হলো কালো রঙের এই আস্তরণটি বালুর পানি ধরে রাখার ক্ষমতা অনেক বাড়িয়ে দেয় এবং বাষ্পীভবন কমিয়ে মাটিতে দীর্ঘক্ষণ আর্দ্রতা বজায় রাখে যা চারাগাছ বেড়ে ওঠার জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে।

এছাড়া এই বিশেষ অণুজীব বাতাস থেকে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে মাটিতে জমা করতে পারে যার ফলে প্রথম বছরেই বালুর উপরের এক ইঞ্চি অংশে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন ও ফসফরাস জমা হতে দেখা গেছে। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে যে এই জৈব স্তর ব্যবহারের ফলে বাতাসে বালু উড়ে যাওয়ার হার ৯০ শতাংশের বেশি কমে যায় যা মরু এলাকায় ধূলিঝড় নিয়ন্ত্রণেও ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এই অভাবনীয় আবিষ্কার ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য মরুভূমিকে ধীরে ধীরে সবুজে ভরিয়ে তোলার এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

/আশিক


ল্যাপটপ কি সবসময় চালু রাখেন? অজান্তেই নিজের প্রিয় যন্ত্রটির যে বড় ক্ষতি করছেন

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১১:৫৫:২৭
ল্যাপটপ কি সবসময় চালু রাখেন? অজান্তেই নিজের প্রিয় যন্ত্রটির যে বড় ক্ষতি করছেন
ছবি : সংগৃহীত

কাজের সুবিধার্থে বা অলসতার কারণে আমরা অনেকেই দিনের পর দিন ল্যাপটপ শাটডাউন না করে রেখে দিই। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাসটি ল্যাপটপের কর্মক্ষমতা, সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং হার্ডওয়্যারের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত শাটডাউন বা রিস্টার্ট না করলে আপনার দামী যন্ত্রটি যে কেবল ধীরগতি হবে তাই নয়, বরং এর ভেতরের স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশগুলোও স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ল্যাপটপ দীর্ঘসময় চালু থাকলে নেপথ্যে (Background) অনেক অ্যাপ সক্রিয় থাকে, যা র‍্যামকে (RAM) রিফ্রেশ হতে দেয় না। ফলে সাধারণ কোনো সফটওয়্যার খুলতেও অনেক বেশি সময় লাগে। এছাড়া ল্যাপটপ বন্ধ না করলে অপারেটিং সিস্টেম ও সিকিউরিটি আপডেটগুলো সঠিকভাবে ইনস্টল হতে পারে না, যা আপনার ডিজিটাল তথ্যকে সাইবার ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারে। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে ব্যাটারির ওপর—একটানা চার্জে থাকা ও অতিরিক্ত তাপ তৈরির ফলে ব্যাটারির চার্জ ধারণক্ষমতা দ্রুত কমে যায়।

টানা কয়েকদিন ল্যাপটপ চালু না রেখে নিয়মিত বিরতিতে এটি শাটডাউন অথবা অন্তত রিস্টার্ট করা উচিত। এতে ল্যাপটপের মেমোরি পুরোপুরি ক্লিন হয়, সফটওয়্যারের ছোটখাটো ত্রুটি বা বাগগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠিক হয়ে যায় এবং হার্ডওয়্যারকে বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। দীর্ঘ মেয়াদে আপনার ল্যাপটপের স্থায়িত্ব ও গতি বজায় রাখতে এই সামান্য সচেতনতাই হতে পারে সেরা সমাধান।

/আশিক


৫২ বছরের অপেক্ষা শেষ: আবারও চাঁদে যাচ্ছে মানুষ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১৯:৫৫:০৭
৫২ বছরের অপেক্ষা শেষ: আবারও চাঁদে যাচ্ছে মানুষ
ছবি : সংগৃহীত

অর্ধশতাব্দীর দীর্ঘ খরা কাটিয়ে আবারও চাঁদের বুকে ফিরছে মানুষ। অনেক জল্পনা-কল্পনা আর যান্ত্রিক লুকোচুরির পর মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ঘোষণা করেছে যে, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৬ মার্চ তাদের ‘আর্টেমিস ২’ মিশনের চার মহাকাশচারী চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবেন। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো মিশনের পর এই প্রথম মানববাহী কোনো যান পৃথিবীর উপগ্রহটির সীমানায় যাচ্ছে। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে এখন সাজ সাজ রব, যেখানে ৩২২ ফুট লম্বা এক দানবীয় রকেট লঞ্চ প্যাডে গর্জে ওঠার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। নাসার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহে একটি চূড়ান্ত ‘ফ্লাইট রেডিনেস রিভিউ’ বা মহড়া অনুষ্ঠিত হবে; সেখানে সবুজ সংকেত পেলেই ৬ মার্চ সকালে ইতিহাস গড়বে নাসা।

এই ঐতিহাসিক যাত্রার পথ অবশ্য খুব একটা মসৃণ ছিল না। এর আগে বেশ কয়েকবার হাইড্রোজেন লিক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার কারিগরি ত্রুটির কারণে উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দিতে হয়েছিল। তবে বিজ্ঞানীরা নাছোড়বান্দা হয়ে দিনরাত এক করে সেই সব যান্ত্রিক গোলযোগ সারিয়ে তুলেছেন। এবার হাইড্রোজেনের সিলবদল থেকে শুরু করে সফটওয়্যারের সূক্ষ্ম কোড—সবকিছুতেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। নাসার এক্সপ্লোরেশন সিস্টেম ডেভেলপমেন্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লরি গ্লেজ জানান, মহাকাশযানের জ্বালানি সমস্যা এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এবং ব্যাকআপ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে শক্তিশালী।

আর্টেমিস ২ মিশনের এই রোমাঞ্চকর অভিযানে থাকছেন চার মহাকাশচারী— রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। বর্তমানে তারা কঠোর কোয়ারেন্টাইন বা নিভৃতবাসে রয়েছেন, যাতে কোনো প্রকার অসুস্থতা মহাকাশযাত্রায় বাধা হতে না পারে। প্রায় ৬ লক্ষ মাইলের দীর্ঘ এই পথে তারা চাঁদের মাটিকে স্পর্শ না করলেও এর চারপাশ ঘুরে আসবেন। মানুষের চোখ দিয়ে খুব কাছ থেকে চাঁদকে দেখে আসার এই অভাবনীয় অভিজ্ঞতা পরবর্তী মিশনের জন্য ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। আবহাওয়া আর ভাগ্য সহায় থাকলে ৬ মার্চ সকালে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এক নতুন মহাকাশ যুগের সাক্ষী হতে যাচ্ছে।

সূত্র: এনপিআর


আজ বিরিয়ানি কোন মসজিদে? সব খবর মিলবে এক ক্লিকেই বিরিয়ানি দিবে অ্যাপে

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১১:৫৪:০৬
আজ বিরিয়ানি কোন মসজিদে? সব খবর মিলবে এক ক্লিকেই বিরিয়ানি দিবে অ্যাপে
ছবি : সংগৃহীত

বাঙালির কাছে বিরিয়ানি শুধু একটি খাবার নয়, বরং এটি একটি গভীর আবেগ। যেকোনো উৎসব বা বিশেষ দিনে এক প্লেট ধোঁয়া ওঠা গরম বিরিয়ানি যেন সব ক্লান্তি দূর করে মন ভরিয়ে দেয়। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে ইফতারের টেবিলে এই প্রিয় পদটি অনেকেরই প্রথম পছন্দ। সারা বছর রেস্টুরেন্টে বিরিয়ানি বা তেহারি খাওয়া হলেও রোজার মাসে ইফতারে বিভিন্ন মসজিদে দেওয়া বিরিয়ানি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক অন্যরকম আগ্রহ কাজ করে।

প্রতি বছরই এই মসজিদের বিরিয়ানি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা ধরনের মজার পোস্ট ও মিম দেখা যায়। তবে চলতি বছরের রোজার শুরুতেই এই জনপ্রিয়তা ও কৌতুহলকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) এক মেধাবী শিক্ষার্থী।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল জুবায়ের প্রিন্স ‘বিরিয়ানি দিবে’ নামে একটি সম্পূর্ণ নতুন ও কার্যকরী অ্যাপ ডেভেলপ করে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। এই অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের সবচেয়ে বিশেষ দিক হলো এখানে ‘লাইভ লোকেশন’ অ্যাড করার সুবিধা রয়েছে। এর মাধ্যমে যে কেউ খুব সহজেই জানতে পারবেন আজ রাজধানীর কোন মসজিদে ইফতারে বিরিয়ানি দেওয়া হচ্ছে।

ব্যবহারকারীরা নিজেরাই এখানে তথ্য যুক্ত করতে পারেন, ফলে অন্য ব্যবহারকারীরাও লাইভ লোকেশন দেখে সেই মসজিদে বিরিয়ানি খাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। জুবায়েরের এই অভিনব আইডিয়াটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটি নিয়ে বেশ জোর আলোচনা ও প্রশংসা চলছে।

নিজের এই উদ্ভাবন সম্পর্কে জুবায়ের বলেন, এটি আসলে একটি ‘ফান প্রজেক্ট’ হিসেবে শুরু করা হয়েছিল। মূলত ইফতারের সময় বিরিয়ানি খুঁজে পাওয়ার মানুষের সহজাত আগ্রহকে প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজ করার চেষ্টা করা হয়েছে। যে কেউ চাইলে এই প্ল্যাটফর্মে ভিজিট করে তার আশেপাশের মসজিদের বিরিয়ানি বিতরণের তথ্য পেতে পারেন এবং অন্যকেও তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারেন। প্রযুক্তির এমন হিউমারাস এবং ব্যবহারিক প্রয়োগ তরুণ প্রজন্মের উদ্ভাবনী শক্তিরই পরিচয় দিচ্ছে। রমজানের ইফতারে একটু ভিন্ন স্বাদের খোঁজ করা শিক্ষার্থীদের কাছে এই অ্যাপটি ইতোমধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

/আশিক


আজ কিছু মোবাইল সংযোগে সাময়িক নেটওয়ার্ক বিঘ্ন

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২২ ১১:২৫:৩২
আজ কিছু মোবাইল সংযোগে সাময়িক নেটওয়ার্ক বিঘ্ন
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির ধারাবাহিক প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়েছে দেশের স্বর্ণ ও রুপার বাজারে। টানা দুই দফা মূল্যহ্রাসের পর এবার হঠাৎ করেই প্রতি ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। এর ফলে প্রথমবারের মতো উন্নত মানের স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকার সীমা অতিক্রম করল, যা বাজারে নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন সংক্ষেপে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংশোধিত মূল্যতালিকা প্রকাশ করে। সকাল ১০টা ১৫ মিনিট থেকে সারাদেশে এই নতুন দর কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়।

নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সমন্বয় করা হয়েছে।

স্বর্ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে রুপার দামও বেড়েছে। প্রতি ভরিতে ৩৫০ টাকা বৃদ্ধি করে ২২ ক্যারেট রুপার নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৭০৭ টাকা, যা একই সময় থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। এর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সরবরাহ সংকট ও আমদানি ব্যয়ের চাপও দামের ঊর্ধ্বগতিতে ভূমিকা রাখছে।

বর্তমানে বিয়ের মৌসুম চলমান থাকায় গহনার চাহিদা তুলনামূলক বেশি। এমন প্রেক্ষাপটে দাম বৃদ্ধি সাধারণ ক্রেতা, বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হলে সামনে আরও সমন্বয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

-রফিক


১০ থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল কমবে; কেবল নিয়মিত এই একটি কাজ করলেই

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১৯:৩৯:৪৪
১০ থেকে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল কমবে; কেবল নিয়মিত এই একটি কাজ করলেই
ছবি : সংগৃহীত

মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল দেখে অনেকেই অবাক হন—কখন এত বিদ্যুৎ ব্যবহার হলো তা বোঝা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। বড় ধরণের কোনো পরিবর্তন না আনলেও ঘরের কিছু সাধারণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ভুল ব্যবহার এবং অবহেলা অজান্তেই বিদ্যুৎ খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে কিছু যন্ত্র ব্যবহার না করলেও বা সুইচ বন্ধ থাকলেও কেবল প্লাগে লাগানো থাকার কারণেই নিরবিচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ খরচ করতে থাকে, যা মাসের শেষে বিলে বড় ধরণের প্রভাব ফেলে।

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র যেমন—রুম হিটার বা এসি ঘরের সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ খরচকারী যন্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই যন্ত্রগুলো যদি দরজা-জানালার ফাঁক বা যেখানে সরাসরি রোদ বা গরম বাতাস লাগে এমন স্থানে থাকে, তবে সেগুলো সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণ করতে পারে না। ফলে ঘর ঠান্ডা বা গরম করতে যন্ত্রগুলোকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় চালু থাকতে হয়, যা সরাসরি বিদ্যুৎ বিল বাড়িয়ে দেয়। আবার দীর্ঘদিনের পুরোনো ফ্রিজও বিদ্যুৎ খরচের একটি বড় কারণ। ১৫ বছরের বেশি পুরোনো ফ্রিজে নিরোধক ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে যায় এবং কম্প্রেসারও কম কার্যকর থাকে, যার ফলে বছরে প্রায় এক হাজার ইউনিট পর্যন্ত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হতে পারে। তাই শক্তি সাশ্রয়ী নতুন ফ্রিজ ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

অনেক যন্ত্র বন্ধ থাকলেও কেবল প্লাগে লাগানো থাকলে অল্প পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে থাকে, যাকে ‘ভ্যাম্পায়ার পাওয়ার’ বলা হয়। টেলিভিশন, গেমিং ডিভাইস, কম্পিউটার, মোবাইল চার্জার, কেবল বক্স, মাইক্রোওয়েভ কিংবা কফি মেকারের মতো যন্ত্রগুলো এভাবে নিয়মিত বিদ্যুৎ টানে। তাই ব্যবহার শেষে কেবল সুইচ বন্ধ না করে প্লাগ খুলে রাখা সবচেয়ে সাশ্রয়ী উপায়। এছাড়া এসি বা বায়ু পরিশোধন যন্ত্রের ফিল্টারে ধুলো জমলে বাতাস চলাচলে বাধা পায় এবং যন্ত্রকে বাতাস টানতে বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এতে বিদ্যুৎ খরচ ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। একইভাবে পানি গরম করার যন্ত্র বা গিজারের তাপমাত্রা বেশি সেট করা থাকলে তা নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ধরে রাখতে সারাক্ষণ কাজ করে, যা বিল বাড়িয়ে দেয়। তাই সচেতনভাবে যন্ত্র ব্যবহার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলে সহজেই বিদ্যুৎ বিল অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

/আশিক


এলিয়েন ও ইউএফও রহস্যে ট্রাম্পের বড় ঘোষণা: সব গোপন ফাইল হচ্ছে উন্মুক্ত

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১২:২৬:৩৮
এলিয়েন ও ইউএফও রহস্যে ট্রাম্পের বড় ঘোষণা: সব গোপন ফাইল হচ্ছে উন্মুক্ত
ছবি : সংগৃহীত

ভিন্ন গ্রহের বাসিন্দা বা এলিয়েনদের অস্তিত্ব নিয়ে দশকের পর দশক ধরে চলে আসা জল্পনা-কল্পনা এবার নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন যেখানে তিনি ভিনগ্রহের প্রাণী ও অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু বা ইউএফও সংক্রান্ত সমস্ত গোপন ফাইল জনসমক্ষে আনার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা ও ষড়যন্ত্র তত্ত্বের জাল ছিঁড়ে সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন মহাকাশপ্রেমীরা। তিনি ফেডারেল সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন অত্যন্ত জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি নিয়ে সরকারের কাছে থাকা প্রতিটি তথ্য যাচাই করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

বহু বছর ধরে সাধারণ মানুষ ও ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকরা অভিযোগ করে আসছিলেন, পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের অকাট্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ তা লুকিয়ে রাখছে। বিশেষ করে পেন্টাগন এবং নাসার মতো সংস্থাগুলো বারবার ভিনগ্রহের প্রযুক্তির কথা অস্বীকার করলেও জনসাধারণের কৌতূহল দমে যায়নি। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য এবং মার্কিন নৌবাহিনীর পাইলটদের ক্যামেরায় ধরা পড়া অদ্ভুত সব মহাজাগতিক দৃশ্যের ভিডিও এই আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে। এখন ট্রাম্পের এই নতুন নির্বাহী আদেশ সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আধুনিক ইতিহাসে এলিয়েন বা ইউএফও দেখার ঘটনাগুলো মূলত বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্যাপকতা পায়। ১৯৪৭ সালের নিউ মেক্সিকোর রসওয়েল ঘটনাটি এই তালিকায় সবচেয়ে উপরে রয়েছে, যেখানে একটি উড়ন্ত চাকতি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী তখন একে আবহাওয়া বেলুন বলে ধামাচাপা দিয়েছিল, কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দা ও গবেষকরা বরাবরই সেখানে ভিনগ্রহের যান এবং ভিনগ্রহীদের দেহ উদ্ধারের দাবি জানিয়ে আসছেন। এই একটি ঘটনাই বিশ্বজুড়ে এলিয়েন সংস্কৃতি ও সরকারি গোপনীয়তার প্রতি মানুষের অবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।

বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে তাকালে দেখা যায়, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বরাবরই পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে ভিনগ্রহে প্রাণের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। ১৯৬১ সালে ফ্রাঙ্ক ড্রেকের দেওয়া বিখ্যাত সমীকরণটি আকাশগঙ্গার মতো ছায়াপথে কতগুলো উন্নত সভ্যতা থাকতে পারে তার একটি ধারণা দেয়। যদিও এই সমীকরণ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া সম্ভব হয়নি, তবুও এটি প্রমাণ করে যে মহাবিশ্বের বিশালতায় আমরাই একমাত্র বুদ্ধিমান প্রাণী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। বিজ্ঞানীরা এখন জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মতো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে দূরবর্তী গ্রহগুলোতে অক্সিজেন বা প্রাণের সংকেত খুঁজছেন।

তবে তাত্ত্বিক সম্ভাবনা থাকলেও এখন পর্যন্ত পৃথিবী কোনো ভিনগ্রহের সভ্যতার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেনি। একে বলা হয় ফার্মি প্যারাডক্স, অর্থাৎ মহাবিশ্ব যদি এতই বিশাল এবং পুরনো হয়, তবে অন্য কেউ কেন এখনো আমাদের কাছে পৌঁছাতে পারল না? অনেক বিজ্ঞানীর মতে, বিশাল দূরত্ব কিংবা উন্নত সভ্যতার আত্মবিনাশী স্বভাব এর কারণ হতে পারে। তবুও ৫ হাজারেরও বেশি বহির্গ্রহ আবিষ্কারের পর নাসা এবং অন্যান্য মহাকাশ সংস্থাগুলো এখন মঙ্গল গ্রহ কিংবা বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপাতে অন্তত অণুজীব পর্যায়ের প্রাণের সন্ধান পাওয়ার ব্যাপারে বেশ আশাবাদী।

এলিয়েন বা ইউএফও নিয়ে মানুষের আগ্রহ কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ থাকেনি বরং তা জনপ্রিয় সংস্কৃতি বা পপ কালচারে গভীর প্রভাব ফেলেছে। ১৯৪৭ সালে কেনেথ আর্নল্ডের 'ফ্লাইং সসার' দেখার বর্ণনা সংবাদমাধ্যমে আসার পর থেকেই সায়েন্স ফিকশন সিনেমা ও উপন্যাসের জোয়ার আসে। স্টিভেন স্পিলবার্গের 'ইটি' বা 'ক্লোজ এনকাউন্টারস অব দ্য থার্ড কাইন্ড' যেখানে এলিয়েনদের বন্ধুসুলভ হিসেবে দেখিয়েছে, সেখানে 'ইন্ডিপেন্ডেন্স ডে' বা 'এলিয়েন' সিরিজে তাদের দেখানো হয়েছে ভয়ংকর আক্রমণকারী হিসেবে। এই কাল্পনিক চরিত্রগুলো মানুষের মনে এলিয়েন সম্পর্কে এক রহস্যময় ভাবমূর্তি তৈরি করেছে।

আমেরিকার নেভাডায় অবস্থিত অত্যন্ত গোপনীয় সামরিক ঘাঁটি 'এরিয়া ৫১' এলিয়েন ষড়যন্ত্র তত্ত্বের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ধারণা করা হয় যে, রসওয়েলে উদ্ধার হওয়া এলিয়েন প্রযুক্তি এই ঘাঁটিতে বসেই গবেষণা করা হচ্ছে। ২০১৩ সালে সিআইএ এই ঘাঁটির অস্তিত্ব স্বীকার করলেও সেখানে ঠিক কী ধরণের পরীক্ষা চালানো হয় তা এখনো রহস্যে মোড়া। এছাড়াও যুক্তরাজ্যের রেন্ডলশাম ফরেস্ট কিংবা অ্যারিজোনার ফিনিক্স লাইটসের মতো ঘটনাগুলো বছরের পর বছর ধরে পর্যটক ও গবেষকদের আকৃষ্ট করে চলেছে, যারা বিশ্বাস করেন যে পৃথিবী পরিদর্শনে মাঝে মাঝেই ভিনগ্রহের অতিথিরা আসেন।

শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সাহসী পদক্ষেপ বৈজ্ঞানিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। একদিকে অনেকে মনে করছেন এতে কেবল বিভ্রান্তিই বাড়বে, অন্যদিকে তথ্য অধিকার কর্মীরা একে ঐতিহাসিক স্বচ্ছতা হিসেবে দেখছেন। এই নির্দেশের ফলে কয়েক দশকের জমানো রহস্যের জট খুলবে কি না, তা দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব।

/আশিক


৮৫০ কোটি বছর আগের দৃশ্য! জেলিফিশ গ্যালাক্সির রহস্যময় আবিষ্কার

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ১৯:৫২:০২
৮৫০ কোটি বছর আগের দৃশ্য! জেলিফিশ গ্যালাক্সির রহস্যময় আবিষ্কার
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশের অসীম শূন্যতায় ভেসে চলা এক বিচিত্র ও বিস্ময়কর জেলিফিশ গ্যালাক্সির সবচেয়ে দূরবর্তী ছবি তুলে আবারও বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। কানাডার ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানী এই বিরল আবিষ্কারটি করেছেন। মহাবিশ্বের গভীরে লুকিয়ে থাকা এই গ্যালাক্সিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘কসমস২০২০-৬৩৫৮২৯’। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই দৃশ্যটি প্রায় ৮৫০ কোটি বছর আগের, যখন মহাবিশ্বের বয়স ছিল বর্তমান সময়ের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি পরে যুক্তরাষ্ট্রের জেমিনি নর্থ টেলিস্কোপের মাধ্যমে যাচাই করে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জেলিফিশ গ্যালাক্সি মূলত মহাকাশের এক বিশেষ ধরনের ছায়াপথ, যার পেছনে লম্বা লেজের মতো একটি অংশ থাকে, যা দেখতে অনেকটা সামুদ্রিক জেলিফিশের শুঁড়ের মতো। যখন কোনো গ্যালাক্সি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বিশাল কোনো গ্যালাক্সি ক্লাস্টার বা দলের মধ্যে প্রবেশ করে, তখন চারপাশের উত্তপ্ত ও ঘন গ্যাসের প্রচণ্ড চাপে গ্যালাক্সিটির নিজস্ব গ্যাস ছিটকে বাইরে বেরিয়ে আসে। এই প্রক্রিয়ার ফলেই তৈরি হয় দীর্ঘ লেজ। বিজ্ঞানীরা আকাশের ‘কসমস ফিল্ড’ নামক একটি বিশেষ অংশ পর্যবেক্ষণ করার সময় এই গ্যালাক্সিটি খুঁজে পান। আমাদের নিজস্ব গ্যালাক্সির ধুলো ও তারার বাধা কম থাকায় এই অঞ্চল থেকে মহাবিশ্বের গভীরতম অংশ পরিষ্কারভাবে দেখা সম্ভব হয়েছে।

এই আবিষ্কারটি মহাবিশ্বের সৃষ্টিতত্ত্ব নিয়ে বিজ্ঞানীদের পুরোনো ধারণাকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। আগে মনে করা হতো, মহাবিশ্বের আদি সময়ে গ্যালাক্সির বড় দলগুলো পুরোপুরি গঠিত হয়নি, তাই এ ধরনের তীব্র চাপের ঘটনা ছিল বিরল। কিন্তু এই জেলিফিশ গ্যালাক্সির অস্তিত্ব প্রমাণ করে যে, সেই সুদূর অতীতেও মহাজাগতিক পরিবেশ ছিল অত্যন্ত সক্রিয়। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, গ্যালাক্সিটির লেজে উজ্জ্বল নীল অংশ দেখা গেছে, যা সেখানে নতুন নক্ষত্র বা তারা জন্মের সুস্পষ্ট সংকেত। অর্থাৎ প্রতিকূল পরিবেশে গ্যাস ছিটকে বেরিয়ে গেলেও তারকা তৈরির মহাজাগতিক প্রক্রিয়া থেমে থাকেনি। মহাবিশ্বের শুরুর ইতিহাস আরও স্পষ্টভাবে বুঝতে গবেষকরা এখন আরও গভীর পর্যবেক্ষণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

/আশিক


বিশ্বজুড়ে হঠাৎ অচল ইউটিউব: ভিডিও দেখতে বিপাকে কোটি কোটি মানুষ

প্রযুক্তি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ১১:১৬:৩১
বিশ্বজুড়ে হঠাৎ অচল ইউটিউব: ভিডিও দেখতে বিপাকে কোটি কোটি মানুষ
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব হঠাৎ করেই কারিগরি বিভ্রাটের মুখে পড়ে বিশ্বজুড়ে অচল হয়ে যায়। মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎ করেই এই সমস্যার সূত্রপাত হয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবহারকারীরা অভিযোগ জানাতে থাকেন যে তারা সাইটটিতে প্রবেশ করতে পারছেন না। ব্যবহারকারীদের মতে, ইউটিউবের হোমপেজ ঠিকমতো লোড হচ্ছিল না এবং কোনো ভিডিও চালানো সম্ভব হচ্ছিল না।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে গুগলের মালিকানাধীন এই বিশাল প্ল্যাটফর্মটির ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে। ইউটিউব কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি আমলে নিয়ে তাদের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ব্যবহারকারীদের আশ্বস্ত করে জানায় যে, তাদের কারিগরি টিম সমস্যাটি সমাধানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ইউটিউব কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, মূলত প্ল্যাটফর্মটির ভিডিও সাজেশন বা রেকমেন্ডেশন সিস্টেমে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছিল। এই ত্রুটির কারণে ইউটিউবের মূল ওয়েবসাইট ছাড়াও ইউটিউব অ্যাপ, ইউটিউব মিউজিক এবং ইউটিউব কিডসের মতো পরিষেবাগুলো সরাসরি আক্রান্ত হয়। এর ফলে ব্যবহারকারীরা হোমপেজে গিয়ে নতুন কোনো ভিডিও খুঁজে পাচ্ছিলেন না এবং অনেকেই 'পরে আবার চেষ্টা করুন' এমন বার্তা দেখতে পাচ্ছিলেন। কোম্পানিটি পরবর্তীতে এক বিবৃতিতে জানায় যে, তারা সাময়িকভাবে হোমপেজটি সচল করতে সক্ষম হয়েছে। তবে সিস্টেমের পূর্ণাঙ্গ স্থিতি ফিরিয়ে আনতে এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ এখনও চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটের সমস্যা পর্যবেক্ষণকারী জনপ্রিয় সাইট 'ডাউন ডিটেক্টর'-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বিভ্রাটের সময় ৩ লাখেরও বেশি ব্যবহারকারী সরাসরি সমস্যার কথা রিপোর্ট করেছেন। বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টার দিকে এই অভিযোগের সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ে। এর পর থেকে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে এবং অভিযোগের পরিমাণ কমতে থাকে। উল্লেখ্য যে, প্রতি মাসে বিশ্বের প্রায় ২৫০ কোটিরও বেশি মানুষ সক্রিয়ভাবে ইউটিউব ব্যবহার করেন। এত বিশাল সংখ্যক ব্যবহারকারীর ওপর এই সাময়িক বিভ্রাটের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

/আশিক

পাঠকের মতামত: