বিএনপি জাতিকে সঠিক পথ দেখাবে: তারেক রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১৭:০৯:৪৬
বিএনপি জাতিকে সঠিক পথ দেখাবে: তারেক রহমান
ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে বাংলাদেশ আর কখনোই ৫ আগস্টের পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যেতে চায় না। শনিবার (১০ জানুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টায় রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম সম্পাদক ও কর্মীদের সাথে আয়োজিত এই বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতের রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা নিয়ে কথা বলেন। তারেক রহমান তাঁর বক্তৃতায় অতীতের ট্র্যাজেডি এবং সাম্প্রতিক গণ-অভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে বলেন যে ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণগুলোই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে অতীতের অন্ধকার পথে ফিরে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই।

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ইতিহাসের কিছু বেদনাদায়ক অধ্যায়কে প্রতীকীভাবে তুলে ধরেন। তিনি ১৯৮১ সালের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজা এবং ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের একটি ঘটনার জানাজার কথা উল্লেখ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটকে বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন যে একদিকে যেমন শোকের ইতিহাস রয়েছে, অন্যদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আমাদের এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন যে এটি শুধু তাঁর একার জন্য নয়, বরং দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য এক বিশাল শিক্ষা। বিএনপি যদি ভবিষ্যতে সরকার গঠন করার সুযোগ পায়, তবে তারা জাতিকে একটি সঠিক ও ন্যায়ভিত্তিক পথে পরিচালিত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন।

প্রতিহিংসার রাজনীতির করুণ পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে তারেক রহমান বলেন যে হিংসা এবং প্রতিশোধের রাজনীতি একটি দল বা ব্যক্তির জন্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা ৫ আগস্টের ঘটনায় দেশের মানুষ প্রত্যক্ষ করেছে। তিনি দল-মত নির্বিশেষে সকলকে প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে জাতীয় সংহতি গড়ে তোলার অনুরোধ জানান। তারেক রহমানের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকাটা স্বাভাবিক এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ; কিন্তু সেই মতপার্থক্য যেন কোনোভাবেই জাতীয় বিভেদে পরিণত না হয়। বিভেদের রাজনীতি কীভাবে একটি জাতিকে অন্তঃসারশূন্য করে ফেলে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে অনেকের মনে হতাশা থাকলেও তারেক রহমান আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে আশার কথা শোনান। তিনি বলেন যে বিএনপির কাছে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সুনির্দিষ্ট চিন্তা ও পরিকল্পনা রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন এবং এই প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমের ভূমিকাকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে জাতিকে বিভক্ত না করে আলোচনার মাধ্যমে যদি মতপার্থক্য নিরসন করা যায়, তবেই একটি সমৃদ্ধ ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।


নিরাপত্তাজনিত চরম ঝুঁকিতে এনসিপি নেতা: মতিঝিলের অস্থায়ী কার্যালয় তড়িঘড়ি বন্ধের সিদ্ধান্ত

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ১৮:২২:৫০
নিরাপত্তাজনিত চরম ঝুঁকিতে এনসিপি নেতা: মতিঝিলের অস্থায়ী কার্যালয় তড়িঘড়ি বন্ধের সিদ্ধান্ত
ছবি : সংগৃহীত

নিরাপত্তাজনিত চরম ঝুঁকির কারণে রাজধানী মতিঝিলের অস্থায়ী কার্যালয়ের সব ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছেন ন্যাশনাল সিটিজেন্স পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ ও জরুরি পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্ত জনসম্মুখে প্রকাশ করেন। এখন থেকে তাঁর সমস্ত রাজনৈতিক, সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নতুন একটি স্থায়ী কর্পোরেট ঠিকানায় পরিচালিত হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর ফেসবুক পোস্টে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন, "অনিবার্য ও গুরুতর নিরাপত্তাজনিত কারণে মতিঝিলের হোটেল পারাবাতের গ্যারেজে অবস্থিত আমাদের এতদিনের অস্থায়ী অফিস কার্যক্রম আজ থেকে সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হলো। এখন থেকে আমাদের সব ধরনের সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম রূপায়ণ টাওয়ারের ১৫ তলায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হবে।" তিনি ঢাকা-০৮ (মতিঝিল-পল্টন) আসনের সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ, দলীয় নেতা-কর্মী এবং দেশের সব শুভাকাঙ্ক্ষীকে যেকোনো প্রয়োজনে এই নতুন ঠিকানায় যোগাযোগ করার জন্য বিনীত ও আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, জনগণের পূর্ণ আস্থা, রাজনৈতিক শালীনতা, নিরাপত্তা রক্ষা এবং গণমানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার নিয়েই তাঁদের এই রাজনৈতিক পথচলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নতুন কার্যালয় স্থানান্তরের পাশাপাশি নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে একটি কঠোর সতর্কবার্তাও জুড়ে দিয়েছেন এনসিপির এই শীর্ষ সংগঠক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "অফিস স্থানান্তরের এই প্রকাশ্য ঘোষণার পর কেউ যদি পুরোনো ঠিকানায় (হোটেল পারাবাতের গ্যারেজ) গিয়ে কোনো ধরনের নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি, সন্ত্রাসী হামলা, আইনি মামলা বা ব্যক্তিগত ক্ষতির সম্মুখীন হন, তবে তার জন্য সেই ব্যক্তি নিজেই সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকবেন। এর কোনো দায়ভার দল বা কর্তৃপক্ষ নেবে না।" উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সবাইকে নিজেদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন সাবেক এই ছাত্রনেতা।

/আশিক


আমি কিচেন ক্যাবিনেটের সদস্য ছিলাম না: এনসিপি 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৬ ১৮:০৩:২৭
আমি কিচেন ক্যাবিনেটের সদস্য ছিলাম না: এনসিপি 
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের এক সাক্ষাৎকারে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ (ছায় সরকার) থাকার গোপন তথ্য ফাঁসের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই কিচেন ক্যাবিনেটের অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে যার দিকে সবচেয়ে বেশি অভিযোগের আঙুল উঠছিল, সেই ছাত্রনেতা থেকে উপদেষ্টা বনে যাওয়া এবং বর্তমান এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অবশেষে এ নিয়ে মুখ খুলেছেন।

আজ মঙ্গলবার (২৬ মে ২০২৬) এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের সংশ্লিষ্টতা সম্পূর্ণ অস্বীকার করে উল্টো বর্তমান নির্বাচিত সরকারের বড় শরিক দল বিএনপির ওপর সব দায় চাপিয়েছেন। একই সাথে রাজনীতি ও কূটনীতি ছাড়িয়ে ক্রিকেট প্রশাসন নিয়েও বিএনপির বিরুদ্ধে ‘পরিবারকরণ’-এর গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সাবেক এই ক্রীড়া উপদেষ্টা।

জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভেতর কোনো কিচেন ক্যাবিনেট বা বিশেষ চক্রের সদস্য তিনি কখনোই ছিলেন না। তৌহিদ হোসেনের বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে যে কানাঘুষা ও গুঞ্জন চলছিল, তা ভিত্তিহীন। এছাড়া, অতি সম্প্রতি আমেরিকার সাথে বাংলাদেশের যে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি সই হয়েছে, তার সাথেও নিজের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা থাকার কথা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন তিনি।

আসিফ মাহমুদের দাবি, এই বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে তাঁর দল এনসিপির সাথে তৎকালীন বা বর্তমান সময়ে কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা করা হয়নি। তিনি অভিযোগের তির ছুড়ে বলেন, "বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী (যিনি তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন) খলিলুর রহমান মূলত বিএনপির পরামর্শে ও প্রেসক্রিপশনে এখন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর এই চুক্তির দায় চাপাচ্ছেন।"

আসিফ মাহমুদ বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে দাবি করেন, এই আমেরিকার সাথে চুক্তিটি আসলে পর্দার আড়ালে থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান করিয়েছেন। তিনি আরও যোগ করেন, "এই চুক্তির কোনো ধারা যদি বিতর্কিত মনে হয়, তবে তা সংশোধন করার দায়িত্ব বর্তমান বিএনপি সরকারের, তারা চাইলে এটি বাতিলও করতে পারে; কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিশ্বের অনেক দেশই এর আগে চুক্তি বাতিল করেছে।"

কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিষয়ের পর আসিফ মাহমুদ দেশের ক্রীড়াঙ্গন, বিশেষ করে দেশের সবচেয়ে ধনী ও জনপ্রিয় ক্রীড়া সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাম্প্রতিক নির্বাচন ও পুনর্গঠন নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। সাবেক এই যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, এবারের বিসিবি নির্বাচনে যারা কাউন্সিলর হয়েছেন, তাদের একজনও নিজের ক্রিকেটীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতায় আসেননি; সবাই এসেছেন মূলত রাজনৈতিক ও ‘বাবার পরিচয়ে’।

ক্রীড়াঙ্গনকে পরিবারকরণ করার জন্য সরাসরি বিএনপিকে দায়ী করে তিনি বলেন, "আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আমরা বিসিবিসহ দেশের প্রতিটি ক্রীড়া ফেডারেশনে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে যোগ্য, দক্ষ ও সাবেক ক্রীড়াবিদদের কাউন্সিলর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। অথচ এখন খেলাধুলাকে পারিবারিক সম্পত্তিতে রূপ দেওয়া হচ্ছে।" এনসিপির মুখপাত্রের এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পর রাজনৈতিক ও ক্রীড়া পাড়ায় নতুন করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

/আশিক


আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার: হাসনাত আব্দুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ২০:২৫:১০
আওয়ামী লীগের পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার: হাসনাত আব্দুল্লাহ
ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি মামলা এবং নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকার পুলিশ প্রশাসন ও দেশের বিচার বিভাগকে সম্পূর্ণ দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছে এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই পুলিশকে নিজেদের দলীয় লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিণত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আজ সোমবার (২৫ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের পায়রা চত্বরে স্থানীয় জেলা এনসিপি আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে (প্রেস কনফারেন্স) তিনি এসব কড়া বক্তব্য দেন।

সংবাদ সম্মেলনে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ এনে বলেন, "জেলা আদালতগুলোতে কী রায় হবে, বা কে জামিন পাবে—তার সব কিছু এখন সরাসরি ঢাকা থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার ওপর সরকারের এই অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ শুরু হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।" তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের সাধারণ জনগণ আশা করেছিল পুলিশ কোনো দলের নয়, বরং জনগণের প্রকৃত বাহিনী হবে। কিন্তু বাস্তবে অত্যন্ত দুঃখের সাথে দেখা যাচ্ছে যে, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এখনো দলীয় সমর্থকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ মে ঝিনাইদহে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এনসিপি ও ছাত্রদলের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ছাত্রদলের দায়ের করা মামলায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিবসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তারের প্রতিবাদেই মূলত আজ পায়রা চত্বরে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে হাসনাত আব্দুল্লাহ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ যেভাবে বিচার, আদালত ও পুলিশকে নিজেদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের হাতিয়ার বানিয়েছিল, বর্তমান সরকারও যদি একই পথে হাঁটে তবে দেশের সচেতন জনগণ তা কখনোই মেনে নেবে না। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আজ আমরা নিজেরাই ক্ষমতার লোভে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ছি, অথচ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এমন ভ্রাতৃঘাতী পরিস্থিতি হওয়ার কথা ছিল না।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা। সংবাদ সম্মেলন শেষেই এনসিপির কয়েক শত নেতাকর্মী ঝিনাইদহ শহরে একটি বিশাল প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

প্রসঙ্গত, ছাত্রদল নেতার দায়ের করা মামলায় গত রবিবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা তারেক রেজা; তবে আজ সোমবার সকালেই ঝিনাইদহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করায় তিনি কারামুক্ত হয়ে সরাসরি এই সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন।

/আশিক


হাসনাত-সারজিসের বিরুদ্ধে বেইমানির বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ২০:০০:০১
হাসনাত-সারজিসের বিরুদ্ধে বেইমানির বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন
ছবি : সংগৃহীত

ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের ভেতরের সমীকরণ নিয়ে এবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দুই শীর্ষ সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলমের বিরুদ্ধে জাতির সাথে বেইমানির এক গুরুতর ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। আন্দোলন চলাকালীন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে হাসনাত আব্দুল্লাহ অন্য সমন্বয়কদের সাথে হাতাহাতি পর্যন্ত করেছিলেন এবং তাঁরা ডিবি কার্যালয়ে বিশেষ সুবিধা ভোগ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি। আজ সোমবার (২৫ মে ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক চাঞ্চল্যকর পোস্টে তিনি এসব দাবি করেন এবং এর সপক্ষে একটি কথিত অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেন।

রাশেদ খাঁন তাঁর ফেসবুক পোস্টে সরাসরি লেখেন, "শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে অন্য সমন্বয়কদের সাথে হাসনাত আব্দুল্লাহর হাতাহাতি পর্যন্ত হয়েছে! নাহিদ-আসিফ ডিবিতে মার খেতো, আর হাসনাত-সারজিস ডিবি কার্যালয়ের পুকুরপাড়ে জুস খেত।" এই জুস খাওয়ার নেপথ্যের কারণ ও গোপন সমঝোতা ফাঁস করার দাবি জানিয়ে পোস্টে একটি অডিও ক্লিপ আপলোড করেন তিনি। একই সাথে বিএনপির সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, "আমি বিএনপির এমপিদেরকে বলবো, সংসদে সে (হাসনাত) যখন বেশি কথা বলবে, তখন এই অডিওটা বেশি বেশি বাজাবেন।"

হাসনাত ও সারজিসকে 'আওয়ামী লীগের পক্ষের লোক' আখ্যা দিয়ে রাশেদ খাঁন তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় নিজেদের অবক্ষয় ও দুর্বলতা লুকানোর জন্যই মূলত তারা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলন করে মাঠ গরমের চেষ্টা করছে। তিনি আরও দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা শপথ নেওয়ার আগেই গত ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট রাত ২টার দিকে বলেছিলেন যে হাসনাত-সারজিস জাতির সাথে বেইমানি করেছে।

এই অডিও ক্লিপটি সেই বেইমানিরই কিঞ্চিৎ প্রমাণ। বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের লেখা বইয়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বইটিতে গণঅভ্যুত্থানের শুধুমাত্র ইতিবাচক দিকটা উঠে এসেছে, কিন্তু হাসনাত-সারজিসের বেইমানির ইতিহাসটা আড়াল করা হয়েছে। বইটির পরবর্তী সংস্করণে এই সত্য উঠে না এলে একাত্তরের মতো চব্বিশের ইতিহাসও বানোয়াট ইতিহাসে রূপ নেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন এই বিএনপি নেতা। রাশেদ খাঁনের এই বিস্ফোরক পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্ক ও তোলপাড় শুরু হয়েছে।

/আশিক


দেড় বছরেও দিকভ্রান্ত আওয়ামী লীগ: শেখ হাসিনার অনড় অবস্থানে মৃত সংস্কারের সম্ভাবনা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১৮:৩২:১৩
দেড় বছরেও দিকভ্রান্ত আওয়ামী লীগ: শেখ হাসিনার অনড় অবস্থানে মৃত সংস্কারের সম্ভাবনা
ছবি : সংগৃহীত

ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দীর্ঘ দেড় বছর পার হয়ে গেলেও দেশের রাজনীতির মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো সুনির্দিষ্ট কিংবা কার্যকর পথ খুঁজে পাচ্ছে না আওয়ামী লীগ। গত ১৫ বছরের শাসন ব্যবস্থার অপরাধের দায় কাঁধে নিয়ে মাঠের নিয়ন্ত্রণ হারানো দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে সভাপতি শেখ হাসিনা নিজের অবস্থানে অনড় থাকায় দলের অভ্যন্তরে ‘রিফাইন্ড’ বা পরিশুদ্ধ দল গঠনের যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন কার্যত মৃত।

বন্ধুপ্রতিম দেশ ও আন্তর্জাতিক শুভাকাঙ্ক্ষীদের সংস্কারের পরামর্শ উপেক্ষা করে ক্ষমতার শীর্ষ পদ ধরে রাখার অনড় মানসিকতা এবং কট্টরপন্থীদের দাপটে দলটির ভবিষ্যৎ এখন এক চরম সাংগঠনিক অনিশ্চয়তা ও ‘অপেক্ষার রাজনীতিতে’ বন্দি হয়ে পড়েছে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল বিভিন্ন কেন্দ্রের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই দলটিকে পুনর্গঠন ও বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে গ্রহণযোগ্য নতুন নেতৃত্বের হাতে ব্যাটন তুলে দেওয়ার জোর পরামর্শ ছিল। তবে সভাপতি শেখ হাসিনা নিজের পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানানো এবং সাধারণ সম্পাদকের বিকল্প হিসেবে কেবল বিদেশে অবস্থানরত তাঁর নিজের পছন্দের কিছু নেতাকে মুখপাত্র করার ইঙ্গিত দেওয়ায় সংস্কারপন্থীরা চূড়ান্তভাবে হতাশ হয়েছেন।

ফলে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ব্যাপক নিষ্ক্রিয়তা ভর করেছে; দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা এবং বিএনপি সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে ব্যবসায়ী নেতা ও সাবেক এমপিদের অনেকেই এখন স্থায়ীভাবে রাজনীতি থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ভাবছেন। অন্যদিকে, ভারত, ইউরোপ বা মালয়েশিয়ায় আশ্রয় নেওয়া দলটির প্রবাসী নেতারা মারাত্মক আর্থিক ও আইনি সংকটে দিন কাটাচ্ছেন; এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের পর বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই ভারত ছেড়ে মালয়েশিয়া বা সাইপ্রাসে পাড়ি জমাচ্ছেন।

দলের এই মহাবিপর্যয়ের মধ্যেও আওয়ামী লীগের কট্টরপন্থী অংশটি কোনো ধরনের ভুল স্বীকার বা জনগণের কাছে অনুশোচনা প্রকাশের ঘোর বিরোধী। তারা মনে করছেন, বর্তমান সরকার বড় কোনো ভুল বা অজনপ্রিয় হয়ে উঠলে সেই ক্ষোভকে পুঁজি করে তারা মাঠে ফিরবেন— তবে তা অবশ্যই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পুরোনো কাঠামোতেই হতে হবে। বর্তমানে আত্মগোপনে থেকে জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করছেন এবং কলকাতার একটি বিশেষ লবি বিভিন্ন সংস্থার সাথে লিয়াজোঁ রাখছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, কোনো ধরনের অনুশোচনা ছাড়া গায়ের জোরে রাজনীতিতে ফেরার চিন্তা আওয়ামী লীগের জন্য আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনবে। তেমনটি হলে দেশের মাঠে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) যৌথভাবে তাদের প্রতিরোধ করবে, যা ভয়াবহ সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে।

তাঁর মতে, দলটিকে প্রশাসনিকভাবে নিষিদ্ধ করার চেয়ে রাজনৈতিকভাবে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো বেশি কার্যকর হতো; কারণ কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি এখন আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের ‘ভিকটিম’ বা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে প্রচার করার বাড়তি সুযোগ পাচ্ছে। সব মিলিয়ে, সাংগঠনিক ভিত্তি ধসে পড়া এবং মাঠের রাজনীতি থেকে ছিটকে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এখন এক গভীর অন্ধকারের মুখোমুখি।

সূত্র: প্রথম আলো


ফেসবুক পোস্টে বিস্ফোরক হাসনাত আব্দুল্লাহ, নতুন কর্মসূচির জল্পনা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১৮:০৫:১৩
ফেসবুক পোস্টে বিস্ফোরক হাসনাত আব্দুল্লাহ, নতুন কর্মসূচির জল্পনা
ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহে গত ২২ মে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাসহ জেলা নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রদলের বর্বরোচিত হামলা এবং তার পরদিন ২৩ মে উল্টো মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনার প্রতিবাদে এবার সশরীরে মাঠে নামছেন দলটির কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে আজ সোমবার (২৫ মে ২০২৬) ঝিনাইদহের ঐতিহাসিক পায়রা চত্বরে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে এক জরুরি প্রেস কনফারেন্সের (সংবাদ সম্মেলন) ডাক দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এই ঘোষণা দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর পোস্টে ঝিনাইদহের স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছেন। তিনি দাবি করেন, হামলার ঘটনা পরবর্তী সময়ে ডিবির (ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ) পক্ষ থেকে যুবশক্তির শীর্ষ নেতা অয়ন রহমান খান ও আশিককে বেআইনিভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। আটকের পর প্রথমদিকে ডিবি পুলিশ বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে লুকানোর চেষ্টা করলেও, ব্যাপক চাপের মুখে গতকাল রোববার আদালতের সময়সূচি শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে অয়নকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। শুধু তাই নয়, আদালতে তোলার পর সম্পূর্ণ মানবাধিকার লঙ্ঘন করে অয়নকে কোনো আইনি সহায়তার সুযোগ বা আইনজীবী নিয়োগ করতে দেওয়া হয়নি।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও একটি বিস্ফোরক অভিযোগ এনে পোস্টে লিখেছেন, আজ সোমবার (২৫ মে) যুবশক্তি নেতা আশিকের আইনজীবীদেরও আদালত প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে এবং জামিন শুনানিতে অংশ নিতে বহিরাগতদের দ্বারা চরমভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার বিচার না করে উল্টো আক্রান্ত নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার ও আইনি অধিকার খর্ব করার এই পুরো ঘটনাকে একটি গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও প্রহসন বলে আখ্যা দিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এই বিচারহীনতা ও হয়রানির বিরুদ্ধে পায়রা চত্বরের সংবাদ সম্মেলন থেকে দলটির পক্ষ থেকে কঠোর ও চূড়ান্ত আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

/আশিক


ছাত্রদল-যুবদল ও পুলিশের যৌথ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৫ ১১:১৭:০৯
ছাত্রদল-যুবদল ও পুলিশের যৌথ পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহে গত শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজ শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে নিজের ওপর হওয়া বর্বরোচিত ও পরিকল্পিত হামলার ঘটনার তিন দিন পর সেই ভয়াবহ পরিস্থিতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ সোমবার (২৫ মে ২০২৬) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘ফিরে আসা মৃত্যুর মুখ থেকে’ শিরোনামে দেওয়া এক দীর্ঘ ও আবেগঘন পোস্টে তিনি এই দাবি ও অভিযোগগুলো করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, হামলাকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ, উপুর্যপরি ঘুষি, ধাক্কা, ইট-পাটকেল ও হকিস্টিক দিয়ে নৃশংস হামলা চালায়, যা মূলত তাঁকে হত্যার একটি সুপরিকল্পিত নীল নকশা ছিল।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, ঝিনাইদহের প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ প্রয়াত ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরের কবর জিয়ারত এবং আস-সুন্নাহ ট্রাস্ট পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ পথ ও সড়কের দুরবস্থার কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে ঝিনাইদহে পৌঁছে শহরের কোর্ট জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও ছবি তোলার পর হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় মসজিদ প্রাঙ্গণেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রদলের সাবেক একজন আহ্বায়ক তাঁকে প্রথম হুমকি দিতে শুরু করেন। তিনি বিষয়টি উপেক্ষা করে সামনে এগিয়ে গেলেও মুহূর্তের মধ্যে চারপাশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাটওয়ারী দাবি করেন, ‘হঠাৎ করে চোখে অন্ধকার দেখতে শুরু করি।

পাশ থেকে জানানো হয় আমার চোখে ডিম মারা হয়েছে। এরপর পাশ থেকে একজন জোরে ধাক্কা দেয়, একজন ঘুষি মারে, আমার মাথা ভোঁ ভোঁ করতে থাকে। আমাদের সহযোদ্ধারা ব্যারিকেড তৈরি করে আমাকে রক্ষা করে। এর মাঝে কয়েকজনের মাথা থেকে রক্ত ঝরতে থাকে। হঠাৎ দেখি বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ছুড়ছে আমাদের দিকে। এরপর শুরু হয় হকিস্টিক দিয়ে আঘাত।’ তবে তিনি দমে না গিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে প্রতিরোধের ডাক দেন এবং সহযোদ্ধাদের নিয়ে হামলাকারীদের হাত থেকে কিছু হকিস্টিক ও লাঠি উদ্ধার করতে সক্ষম হন— যা পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উল্টো প্রচার করা হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

ফেসবুক পোস্টে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা আরও একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এনে বলেন, হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কিছু পুলিশ সদস্য নীরব ভূমিকা পালন করে প্রকারান্তরে হামলাকারীদেরই পক্ষ নিয়েছেন। তিনি ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপির কর্মী এবং পুলিশের এই রহস্যজনক উপস্থিতিকে একটি ‘পরিকল্পিত যৌথ ষড়যন্ত্রের অংশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন; যদিও স্থানীয় সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে তাঁদের প্রাণ রক্ষা করেন। হামলার পর বিকেলে এনসিপির পূর্বনির্ধারিত একটি যোগদান কর্মসূচির নিরাপত্তা এবং মামলার দাবিতে তাঁরা ঝিনাইদহ সদর থানায় যান। কিন্তু থানায় যাওয়ার পর পুলিশ তাঁদের বিকালের অনুষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেয় এবং কমিউনিটি সেন্টারটি সিলগালা করে দেয়। এমনকি পুলিশ তাঁদের নিরাপত্তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে অবিলম্বে ঝিনাইদহ ছেড়ে চলে যাওয়ার মৌখিক নির্দেশ দেয়।

পাটওয়ারী দাবি করেন, থানায় লিখিত অভিযোগপত্র প্রস্তুত করার পর পুলিশ প্রশাসন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ডাউন সার্ভার সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে মামলা গ্রহণে চরম গড়িমসি শুরু করে। এ নিয়ে থানায় প্রায় আট ঘণ্টা টানটান উত্তেজনা ও অপেক্ষা চলে। একপর্যায়ে তিনি থানায় অবস্থানের ঘোষণা দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিলে পরিস্থিতি বদলে যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত এক প্রভাবশালী নেতার নাম বাদ দেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে মন্ত্রী ও এমপিদের ফোন আসছিল এবং স্থানীয় পুলিশও সেই নাম বাদ দিয়ে মামলা নিতে চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু এনসিপি নেতাদের অনড় অবস্থান এবং উপর মহলের বিশেষ নির্দেশে অবশেষে দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ আসে এবং পুলিশ মামলাটি নথিভুক্ত করতে বাধ্য হয়। মামলা শেষ করে তাঁরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

পোস্টের শেষভাগে তিনি অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে দাবি করেন, হামলার পর থেকেই ঝিনাইদহে এনসিপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে গভীর রাতে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও গেট ভেঙে গ্রেপ্তারের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি বিচার ব্যবস্থার প্রতি হতাশা ব্যক্ত করে লেখেন, ‘আমরা যদি কখনো মারা যাই, আমাদের খুনের বিচার যেন হয়— এটুকুই অনুরোধ। হাদি ভাইয়ের বিচার হয়নি। তাই আশা কম, কিন্তু আল্লাহ আছেন। কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ যেন সব অন্যায়কারীর বিচার করেন— এই দোয়া ছাড়া এই মজলুমের আর কিছু বলার নেই।’

/আশিক


এনসিপি নেতা তানাইমের বাসার গেট ভেঙে গ্রেপ্তারের চেষ্টা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ২১:৪১:৩৫
এনসিপি নেতা তানাইমের বাসার গেট ভেঙে গ্রেপ্তারের চেষ্টা: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) ঝিনাইদহ জেলার সক্রিয় নেতা ও সংগঠক তানাইমের বাসভবনের প্রধান ফটক ভেঙে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দলটির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে দেওয়া এক জরুরি ও বিস্ফোরক পোস্টে তিনি এই অভিযোগটি সামনে আনেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তাঁর ফেসবুক পোস্টে ঝিনাইদহের ওই ঘটনার একটি লাইভ বা ধারণকৃত ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে বাসার ফটক ভাঙার দৃশ্য বা পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন— ‘আইয়্যামে জাহেলিয়াত যেন আবার ফিরে এসেছে।

এই অন্ধকারের বিরুদ্ধে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতেই হবে লাল জুলাইয়ের মতো।’ তিনি দেশের বর্তমান শাসনতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অন্ধকারের সঙ্গে তুলনা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘লাল জুলাই’ বা জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে দেশবাসীকে আবারও রাজপথে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার জোর আহ্বান জানান। তিনি সরাসরি লেখেন, ঝিনাইদহে গভীর রাতে তানাইমের বাসার গেট ভেঙে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাকে গ্রেপ্তারের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

রাজনৈতিক দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) তানাইম হলেন ঝিনাইদহ অঞ্চলের একজন অত্যন্ত সক্রিয় মাঠপর্যায়ের নেতা। সম্প্রতি ঝিনাইদহ শহর ও জেলা এলাকায় এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাংগঠনিক সফর এবং মতবিনিময় সভা চলাকালে স্থানীয় প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক বা ফ্যাসিবাদের দোসরদের দ্বারা তানাইমসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী ও সমন্বয়ক বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছিলেন। সেই হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খোদ ভুক্তভোগী নেতার বাসাতেই গভীর রাতে গ্রেপ্তারি অভিযানের নামে এই ধরনের হয়রানি চালানো হচ্ছে বলে দাবি করছেন দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।

/আশিক


ফ্যাসিবাদী শক্তি পালালেও দেশ এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২৪ ২০:৪০:৩০
ফ্যাসিবাদী শক্তি পালালেও দেশ এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি: জামায়াত আমির

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার মূল চেতনাকে ধারণ করে দেশ থেকে সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং শোষণমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কোরবানির শিক্ষা সবাইকে গভীর অনুপ্রেরণা জোগায় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আজ রবিবার (২৪ মে ২০২৬) আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে ঈদের অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

লিখিত বিবৃতিতে জামায়াত আমির উল্লেখ করেন, মুসলিম জাতির পিতা হজরত ইব্রাহিম (আ.), তাঁর স্ত্রী হজরত হাজেরা ও প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান স্মৃতিবিজড়িত পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের দ্বারে সমাগত। এই উৎসব আমাদের ত্যাগ ও কোরবানির মহান আদর্শে উজ্জীবিত করে এবং একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নিজের প্রিয় সবকিছু উৎসর্গ করার চেতনা জাগ্রত করে। তিনি মনে করেন, কেবল পশু জবেহ করার মধ্য দিয়ে কোরবানি সীমাবদ্ধ নয়; বরং ত্যাগ ও কোরবানির প্রকৃত মানসিকতা নিয়ে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বস্তরে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামকে পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইন-শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে কড়া বক্তব্য দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশ থেকে ফ্যাসিবাদী শক্তি পালিয়ে গেলেও দেশ এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিবাদমুক্ত ও নিরাপদ হয়নি।’ তিনি অভিযোগ করেন, পরাজিত শক্তিরা বিদেশে অবস্থান করে এবং দেশের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে থেকে নানাভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যাতে শান্তি, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য তারা এখনো নানামুখী ষড়যন্ত্র-চক্রান্তে লিপ্ত। এই অবস্থায় দেশবাসীকে সর্বোচ্চ ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদের সব চক্রান্ত রুখে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি সত্যিকারের মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আদর্শিক আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।

বিবৃতির শেষাংশে ইব্রাহিমী ত্যাগের ইতিহাস গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, তাঁদের সেই ত্যাগের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যদি আমরা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নিজেদের জানমাল ও প্রিয় বস্তু কোরবানি করতে পারি, তবেই আমাদের কোরবানি আল্লাহর দরবারে সার্থক হবে। তিনি দেশবাসীর সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবনের জন্য মহান আল্লাহর কাছে বিশেষ মোনাজাত করেন এবং নিজের ও দলের পক্ষ থেকে সবাইকে ঈদুল আজহার আন্তরিক মোবারকবাদ জানান।

/আশিক

পাঠকের মতামত: