ফ্যাসিবাদের কবর খুঁড়তে গণভোট! জানুন কেন ‘হ্যাঁ’ জয়ী করতে মরিয়া সব দল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ১০ ০৯:২১:২১
ফ্যাসিবাদের কবর খুঁড়তে গণভোট! জানুন কেন ‘হ্যাঁ’ জয়ী করতে মরিয়া সব দল
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন ও একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে এবং এর সপক্ষে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা শুরু করেছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো, ক্ষমতার ভারসাম্য ও সংবিধান সংস্কারের এই প্রশ্নে দেশের প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এখন একই মোহনায় এসে দাঁড়িয়েছে। গত ১৩ নভেম্বর জারি করা ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫’ অনুযায়ী এই গণভোট পরিচালিত হবে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ে এক অনুষ্ঠানে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এই গণভোটে ‘না’ দেওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, সংস্কারের যেসব প্রস্তাব নিয়ে এই গণভোট হতে যাচ্ছে, তার অধিকাংশই বিএনপি অনেক আগে ২০১৬ এবং ২০২৩ সালে তাদের ‘৩১ দফা’ রূপরেখার মাধ্যমে জাতির সামনে তুলে ধরেছিল। সংস্কারকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়া তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল।

সম্প্রতি বিএনপির কোনো কোনো স্তরের নেতাকর্মী সামাজিক মাধ্যমে ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালে রাজনৈতিক মহলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। এমনকি শেরপুরের এক বিএনপি নেতার বক্তব্য ভাইরাল হয়, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ১৬ ডিসেম্বর বা ২৬ মার্চের অস্তিত্ব থাকবে না। তবে বিএনপি নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা দলগতভাবে ‘না’ ভোটের পক্ষে নয় এবং এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণার সাথে দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের কোনো সম্পর্ক নেই। বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফাইড পেজ থেকেও মহাসচিবের বক্তব্য প্রচার করার মাধ্যমে দলটির ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন সুনিশ্চিত করা হয়েছে।

সরকারের প্রচার কৌশল ও নীতিগত পরিবর্তন

শুরুতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, তারা কেবল গণভোটের আয়োজন করবে এবং এর পক্ষে-বিপক্ষে কোনো প্রচারণা চালাবে না। তবে গত সোমবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই অবস্থানে আমূল পরিবর্তন এসেছে। সরকার এখন সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে মাঠ পর্যায়ে প্রচার শুরু করেছে। এই প্রচারণায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি দপ্তর এবং এনজিওগুলোকেও যুক্ত করা হয়েছে। প্রচারপত্র ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে জনগণকে বোঝানো হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রুখতে এবং জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়া অপরিহার্য।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে সংস্কারের রূপরেখা তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নেই ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, আরেক বিশেষ সহকারী মনির হায়দার জানিয়েছেন, প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজে মসজিদের ইমাম-খতিবরা মুসল্লিদের গণভোটে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করবেন। একই সাথে মন্দির, প্যাগোডা ও চার্চ থেকেও এই প্রচারণা চালানো হবে। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধাভোগীদের মাধ্যমেও এই বার্তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ ১১টি দলের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী সমঝোতা জোট শুরু থেকেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে কাজ করছে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নিয়মিতভাবে এই সংস্কারের পক্ষে জনমত গঠন করছেন। এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন জানিয়েছেন, শেখ হাসিনার মতো আর কোনো স্বৈরাচার যাতে ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই তাঁরা জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট চাইছেন। এ ছাড়া বিএনপির জোট শরিক গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ সাকি এবং গণঅধিকার পরিষদও সরাসরি সংস্কারের সপক্ষে প্রচারণায় নেমেছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে জনগণ রঙিন ব্যালটের মাধ্যমে তাদের সিদ্ধান্ত দেবেন। মূলত গত ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’ এবং এর অধীনে প্রস্তাবিত ৪৮টি সাংবিধানিক সংস্কারের ওপর ভিত্তি করেই এই ভোট হবে। যদি ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হয়, তবে পরবর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ এসব প্রস্তাবনা চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন করবে। এর ফলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সংবিধানে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


পিলখানা হত্যার প্রতিটি খুনিকে আইনের আওতায় আনা হবে: মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১২:৫২:২২
পিলখানা হত্যার প্রতিটি খুনিকে আইনের আওতায় আনা হবে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (এলজিআরডি) মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : সংগৃহীত

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর সাজার ব্যবস্থা করা হবে বলে দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন যে ২০০৯ সালের এই কালো দিনে বিডিআরের ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তাসহ প্রায় ৭২ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং একটি কলঙ্কিত অধ্যায়। তাঁর মতে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে চিরতরে ভেঙে দেওয়া এবং একযোগে এত বিপুল সংখ্যক মেধাবী সেনা কর্মকর্তাকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মনোবল গুঁড়িয়ে দেওয়ার এক গভীর দেশবিরোধী চক্রান্ত করা হয়েছিল।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ষড়যন্ত্রকারীরা চেয়েছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতে কিন্তু এদেশের সচেতন জনগণ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন যে বিএনপি সরকার গঠনের মাধ্যমে পুনরায় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সুযোগ পেয়েছে এবং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পিলখানা ট্র্যাজেডির প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

তিনি বিশ্বাস করেন যে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত জাতির বুক থেকে কলঙ্কের এই বোঝা নামবে না। পরিশেষে তিনি দেশের জন্য জীবন বিসর্জন দেওয়া বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং পিলখানায় নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

/আশিক


পিলখানা হত্যার এমন বিচার হবে যা ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১১:৪৩:০৭
পিলখানা হত্যার এমন বিচার হবে যা ইতিহাসে নজির হয়ে থাকবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ‘শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর বনানী সামরিক কবরস্থানে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন যে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের জন্য নতুন করে আর কোনো তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথোপযুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়েই একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল এবং সেই কমিশনের রিপোর্ট বর্তমান সরকারের হাতে রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন যে আজ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় যথাযথ গুরুত্বের সাথে শহীদ সেনা দিবস পালন করা হয়েছে যেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা জীবন দিয়েছেন তাদের আত্মত্যাগকে চিরভাস্বর অভিহিত করে তিনি বলেন যে পিলখানা হত্যাকাণ্ড শুধু বাংলাদেশের নয় বরং পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস একটি ঘটনা।

সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেন যে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য উদঘাটনের জন্য তৎকালীন সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করলেও দীর্ঘ সময়েও তার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় গঠিত জাতীয় কমিশনের রিপোর্টটি বর্তমানে সরকারের সামনে রয়েছে এবং সেখানে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে গত সরকার ওই রিপোর্ট বাস্তবায়নে তেমন কোনো উদ্যোগ না নিলেও বর্তমান সরকার কমিশনের দেওয়া সুপারিশগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।

বিশেষ করে বিচারিক প্রক্রিয়ায় থাকা মামলাগুলো দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি অন্যান্য সুপারিশগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। শহীদ পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন যে এই হত্যাকাণ্ডের এমনভাবে যথাযথ বিচার করা হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কখনো এমন বর্বরোচিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে মূলত আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র ছিল এবং যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না তারাই এই ধরনের ন্যক্কারজনক কাজ করতে পারে।

/আশিক


বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১১:৩৫:৪৭
বনানী সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন
ছবি : সংগৃহীত

পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে ২০০৯ সালে সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শহীদ সেনাসদস্যদের স্মরণে রাজধানীর বনানীস্থ সামরিক কবরস্থানে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে শহীদদের বীরত্ব ও ত্যাগের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানো হয়। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার ও সত্য উদ্ঘাটনের এই নতুন আবহে দিনটি আজ রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে।

এদিন সকাল ১০টার দিকে বনানী সামরিক কবরস্থানে বীর শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদনের পরপরই পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জ্ঞাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থেকে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন এবং পরে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে আয়োজিত বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।

শোকাবহ এই শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধানরা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা যারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। উল্লেখ্য যে আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বিভীষিকাময় ও কলঙ্কিত দিন হিসেবে পরিচিত কারণ ২০০৯ সালের এই দিনে রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর এবং বর্তমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি সদর দপ্তরে বিদ্রোহের নামে ৫৭ জন চৌকশ সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

ইতিহাসের সেই বর্বরোচিত ও কলঙ্কিত অধ্যায়টি দীর্ঘ সময় অবহেলিত থাকলেও ২০২৪ সালের পর থেকে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে দিনটি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে যথাযোগ্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে। আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত শহীদ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের সকল ষড়যন্ত্র উন্মোচন করার বিষয়ে পুনরায় দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

/আশিক


পিলখানা হত্যার নেপথ্যে ছিল সার্বভৌমত্ব বিরোধী তৎপরতা: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১০:৩১:২৮
পিলখানা হত্যার নেপথ্যে ছিল সার্বভৌমত্ব বিরোধী তৎপরতা: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন যে দেশ ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোই হোক আজকের জাতীয় শহীদ সেনা দিবসের মূল প্রত্যয়। আজ বুধবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, পিলখানায় সংঘটিত নারকীয় সেনা হত্যাযজ্ঞের ১৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ২০০৯ সালের সেই কালো দিনের কথা স্মরণ করে বলেন যে ২৫ ফেব্রুয়ারি আমাদের ইতিহাসের এক কলঙ্কিত দিন যখন বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন যে ২০০৯ সালের পর দীর্ঘ সময় এই দিনটিকে যথাযোগ্য গুরুত্ব ও মর্যাদার সাথে পালন করা হয়নি। তবে ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে এই দিনটি পুনরায় রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে যা আমাদের জাতীয় সংহতির পরিচয় দেয়। আজকের এই বিশেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী সকল শহীদের মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন যে যেহেতু এটি একটি বিচারাধীন বিষয়, তাই এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলার অবকাশ নেই। তবে তিনি দেশবাসীকে সচেতন করে বলেন যে নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার উপলব্ধিতে থাকা জরুরি যে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী এক গভীর তৎপরতা বিদ্যমান ছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী সময়ে নানা রকম মিথ্যা তথ্য এবং সুপরিকল্পিত অপতথ্য দিয়ে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল যাতে এই জঘন্য অপরাধের পেছনের প্রকৃত রহস্য আড়ালে থাকে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে সশস্ত্র বাহিনীকে একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব এবং গৌরবের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে আমাদের গৌরবময় সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে কোনো প্রকার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, আজ আমাদের সকলকে পুনরায় সেই শপথে বলীয়ান হতে হবে। দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় যেকোনো অভ্যন্তরীণ বা বাহ্যিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকারই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

/আশিক


বিজিবি না কি বিডিআর? নাম ও পরিচয় পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ০৯:৪৪:১০
বিজিবি না কি বিডিআর? নাম ও পরিচয় পরিবর্তনের নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত
ছবি : সংগৃহীত

রক্তক্ষয়ী পিলখানা ট্র্যাজেডির ১৭ বছর আজ। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে হত্যার সেই ক্ষত আজও দগদগে। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবারের পিলখানা দিবস পালিত হচ্ছে ভিন্ন আবহে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনের আগের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর নাম বদলে পুনরায় ‘বিডিআর’ রাখা এবং তাদের আগের ইউনিফর্ম পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত অনুবিভাগের যুগ্মসচিব রেবেকা খান জানিয়েছেন, বিডিআর নাম ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এখন কেবল ফাইল প্রসেসের অপেক্ষা। বিজিবি বা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিক চাহিদা এলেই দ্রুততম সময়ে এই পরিবর্তনের কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দিনটিকে ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের বিষয়েও তাঁর বাণীতে গুরুত্বারোপ করেছেন।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটনে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত ‘জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন’ তাদের রিপোর্টে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ও প্রতিবেশী একটি রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার তথ্য দিয়েছিল। কমিশনের রিপোর্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপসসহ বেশ কয়েকজন নেতার নাম আসলেও বর্তমান সরকার সেই রিপোর্টে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা দিয়েছেন, প্রকৃত সত্য বের করতে সরকার নতুন করে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করবে।

তবে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে। গত বছর এক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান স্পষ্ট করে বলেছিলেন, এই বর্বরতা কোনো সেনাসদস্য করেনি, এটি ছিল তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের কাজ। এর বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো সংশয় থাকা উচিত নয়। অন্যদিকে, ২০০৯ সালের সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) মইন ইউ আহমেদ সম্প্রতি জানিয়েছেন, তৎকালীন সরকার তদন্তে তাকে যথাযথ সহযোগিতা করেনি।

পিলখানার সেই দুই দিনের নৃশংসতা আজও বাঙালির হৃদয়ে বড় এক বেদনার নাম। শহীদদের স্মরণে আজ সকাল থেকেই বনানী সামরিক কবরস্থানে ও পিলখানায় শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

/আশিক


পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন জনগণের কাছে বোধগম্য: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ২১:৪৮:১২
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন জনগণের কাছে বোধগম্য: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

পিলখানায় সংঘটিত নারকীয় সেনা হত্যাযজ্ঞের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী গভীর ষড়যন্ত্র বিদ্যমান ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামীকাল বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের পতনের পর এখন মুক্ত বাংলাদেশে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জনগণের কাছে অত্যন্ত বোধগম্য।

তারেক রহমান তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় দিনটিকে যথাযোগ্য গুরুত্ব দেওয়া না হলেও, ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে এটি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “সশস্ত্র বাহিনী আমাদের সম্মান ও গৌরবের প্রতীক। ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে না পারে, আজ আমাদের সেই শপথে বলীয়ান হতে হবে।”

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ বর্তমানে চলমান। বিচারাধীন বিষয় হওয়ায় বিস্তারিত মন্তব্য না করলেও তিনি মনে করিয়ে দেন যে, এই ঘটনার পর নানা ধরনের অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। শহীদদের মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী যেকোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানোই হোক এই দিবসের মূল প্রত্যয়।

/আশিক


৫ আগস্টের পর নিরীহদের আসামি করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১৯:৩৫:৫৭
৫ আগস্টের পর নিরীহদের আসামি করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়া নেতাকর্মীদের জন্য বড় সুখবর দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরও ১ হাজার ২০২টি রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে এবং সুবিধা হাসিলের জন্য নিরীহ মানুষকে আসামি করে যে সব ‘হয়রানিমূলক’ মামলা করা হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “কিছু সুবিধাবাদী শ্রেণি ব্যক্তিগত সুবিধা চরিতার্থ করতে নিরীহ লোকদের আসামি করেছে, যা আমাদের নজরে এসেছে। আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর; কেউ যাতে অহেতুক হয়রানির শিকার না হন, তা যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত করা হবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, ঢালাওভাবে সব মামলা প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। হত্যা, মাদক, অস্ত্র, বিস্ফোরক এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের মামলাগুলো এই তালিকার বাইরে থাকবে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলোই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এর আগে ১ হাজার ৬টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। মামলাগুলো প্রকৃতপক্ষেই রাজনৈতিক কি না, তা আরও সতর্কতার সাথে যাচাই করতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হচ্ছে এবং আজ-কালের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

/আশিক


জাকাত ও ফিতরা কত দেবেন? জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১৯:২২:৫৮
জাকাত ও ফিতরা কত দেবেন? জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ সালের (১৪৪৭ হিজরি) জাকাত ও সদকায়ে ফিতরের নেসাব এবং পরিমাণ ঘোষণা করেছে রাজধানীর জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার ফতোয়া বিভাগ। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) প্রতিষ্ঠানটির দারুল ইফতা থেকে এই সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ইসলামি শরিয়তের মানদণ্ড অনুযায়ী ৫২.৫ ভরি রুপার বর্তমান বাজারমূল্য ধরে এ বছর জাকাতের নেসাব ধরা হয়েছে ২,৩০,০০০ টাকা।

স্বর্ণালংকারের জাকাত আদায়ের হিসাব

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) ঘোষিত মূল্য অনুযায়ী, স্বর্ণের খাদ ও মজুরি বাদ দিয়ে জাকাতযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট স্বর্ণমূল্যের ওপর ২.৫% হারে জাকাত প্রদান করতে হবে।

স্বর্ণের মান বাজারমূল্য (প্রতি ভরি) ১৫% বাদে জাকাতযোগ্য মূল্য
২২ ক্যারেট ২৫৮,৮২৫ টাকা ২,২০,০০০ টাকা
২১ ক্যারেট ২৪৭,১০০ টাকা ২,১০,০০০ টাকা
১৮ ক্যারেট ২১১,৭৬০ টাকা ১,৮০,০০০ টাকা
সনাতন ১৭৩,৩৩০ টাকা ১,৫০,০০০ টাকা

সদকায়ে ফিতরের হিসাব

সামর্থ্য অনুযায়ী আটা, যব, খেজুর, কিসমিস বা পনিরের যেকোনো একটির মাধ্যমে ফিতরা আদায় করা যাবে। জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার হিসাব অনুযায়ী এ বছরের ফিতরার হার হলো

খাদ্যদ্রব্য পরিমাণ প্রতি কেজি দর ১টি ফিতরা
গম/ আটা ১.৬৫ কেজি ৬০/- ১০০/-
যব ৩.৩ কেজি ১৩৬/- ৪৫০/-
খেজুর ৩.৩ কেজি ৬০৬/- ২,০০০/-
পনির ৩.৩ কেজি ৮০৩/- ২,৬৫০/-
কিশমিশ ৩.৩ কেজি ৮৫০/- ২,৮০০/-

দারুল ইফতার প্রধান মুফতি মনসূরুল হক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রুপার বাজারদর এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই নিজ নিজ এলাকার দর যাচাই করে জাকাত পরিশোধ করা উত্তম। উল্লেখ্য, জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য নিসাব পরিমাণ সম্পদ বছরের শুরু ও শেষে থাকা শর্ত, তবে ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার জন্য ঈদের দিন সকালে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকাই যথেষ্ট।

/আশিক


পুলিশের শীর্ষ পদে রদবদল: আলী হোসেন ফকিরের হাতে নতুন মিশন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৪ ১৬:০৯:৫২
পুলিশের শীর্ষ পদে রদবদল: আলী হোসেন ফকিরের হাতে নতুন মিশন
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অতিরিক্ত আইজিপি ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর প্রধান মো. আলী হোসেন ফকির। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে তাঁকে। বিসিএস (পুলিশ) ১৫তম ব্যাচের এই চৌকস কর্মকর্তার আইজিপি পদে নিয়োগ পাওয়ার বিষয়টি পুলিশ বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বাগেরহাটের সন্তান মো. আলী হোসেন ফকিরের কর্মজীবন ছিল চড়াই-উতরাইয়ে পূর্ণ। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে তিনি প্রথম দফায় চাকরি হারান। পরবর্তীতে তাঁকে দ্বিতীয় দফায় বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। দীর্ঘ সময় বঞ্চনার শিকার হওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে চাকরিতে ফেরার সুযোগ পান।

পুনরায় চাকরিতে ফেরার পর প্রথমে এসপি পদমর্যাদায় দায়িত্ব পান তিনি। এরপর যোগ্যতার ভিত্তিতে সুপার নিউমারারি ডিআইজি এবং গত বছরের ১১ আগস্ট অতিরিক্ত আইজিপি (গ্রেড-২) পদে পদোন্নতি লাভ করেন। সর্বশেষ এপিবিএন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আজ সরকার তাঁকে বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে আসীন করল। পুলিশ সংস্কার এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি আজ থেকেই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

জেনে নিন আজকের বাজারে মুদ্রার বিনিময় হার

জেনে নিন আজকের বাজারে মুদ্রার বিনিময় হার

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং এর একটি বড় চালিকাশক্তি হলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স। বর্তমানে... বিস্তারিত