সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বসুন্ধরা, ঢাকা।
জান্নাতে সব থাকলেও যেসব জিনিস নাই

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী জান্নাত হলো আল্লাহ তাআলার প্রতিশ্রুত চিরস্থায়ী শান্তি ও সুখের আবাস। দুনিয়ার জীবনে যারা ঈমানের সঙ্গে নেক আমল করেন, ধৈর্য ধারণ করেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের মূল লক্ষ্য বানান তাদের জন্য জান্নাত নির্ধারিত পুরস্কার। কোরআন ও সহিহ হাদিসে জান্নাতের সৌন্দর্য, প্রশান্তি ও নিয়ামতের বিস্তারিত বর্ণনার পাশাপাশি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে দুনিয়ার কষ্টকর ও নেতিবাচক বিষয়গুলোর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।
জান্নাতে দুঃখ, শোক ও মানসিক অশান্তি নেই
কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, জান্নাতবাসীদের জন্য কোনো ভয় বা দুঃখ থাকবে না। সেখানে কান্না, হতাশা কিংবা মানসিক অস্থিরতার অবসান ঘটবে। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, জান্নাতিরা সেখানে কোনো ক্লান্তি বা কষ্ট অনুভব করবেন না (সূরা আল-বাকারা: ৬২; সূরা আল-হিজর: ৪৮)। ইসলামি ব্যাখ্যাকারদের মতে, এটি জান্নাতের পরিপূর্ণ মানসিক শান্তিরই প্রতিফলন।
মৃত্যু নেই, জীবন চিরস্থায়ী
জান্নাতে মৃত্যুর কোনো ধারণা নেই। জান্নাতিরা চিরকাল সেখানে অবস্থান করবেন। কোরআনে বলা হয়েছে, তারা সেখানে স্থায়ীভাবে থাকবে (সূরা আল-বাইয়্যিনা: ৮)। সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, জান্নাতে এক ঘোষক ঘোষণা করবেন “হে জান্নাতবাসীরা, তোমরা চিরকাল জীবিত থাকবে, আর কখনো মরবে না” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮৩৭)।
রোগ-ব্যাধি ও বার্ধক্যের অবসান
ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী জান্নাতে কোনো রোগ, ব্যথা বা শারীরিক দুর্বলতা থাকবে না। জান্নাতিরা কখনো অসুস্থ হবে না, বৃদ্ধও হবে না। তারা সর্বদা তরুণ ও সুস্থ থাকবে এমন তথ্য এসেছে হাদিসে (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৫৪৫)।
অপবিত্রতা ও দুর্গন্ধের অনুপস্থিতি
জান্নাত হবে সম্পূর্ণ পবিত্র এক জগৎ। সেখানে মল-মূত্র, ঘাম বা কোনো অপবিত্র বর্জ্য থাকবে না। হাদিসে বলা হয়েছে, জান্নাতিরা যা খাবে, তা শরীর থেকে সুগন্ধি হিসেবে নির্গত হবে (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮৩৫)। ফলে জান্নাতের পরিবেশ হবে পরিচ্ছন্ন ও মনোরম।
হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতার অবসান
কোরআনে আল্লাহ তাআলা জানাচ্ছেন, জান্নাতিদের অন্তর থেকে সব বিদ্বেষ দূর করে দেওয়া হবে এবং তারা ভাইয়ের মতো পরস্পরের মুখোমুখি বসবাস করবে (সূরা আল-হিজর: ৪৭)। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, জান্নাতবাসীদের অন্তর হবে এক ব্যক্তির অন্তরের মতো তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ বা হিংসা থাকবে না (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৪৬)।
ক্লান্তি ও পরিশ্রমহীন জীবন
দুনিয়ার জীবনের পরিশ্রম, কাজের চাপ ও ক্লান্তির কোনো কিছুই জান্নাতে থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, জান্নাতবাসীরা সেখানে কোনো ক্লান্তি অনুভব করবেন না (সূরা ফাতির: ৩৫)। ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, এটি জান্নাতের আরামদায়ক ও পরিপূর্ণ জীবনের প্রতীক।
অভাব ও অপূর্ণতার অস্তিত্ব নেই
জান্নাতে কোনো চাহিদা অপূর্ণ থাকবে না। আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জান্নাতিরা যা চাইবে, তাই পাবে; বরং তাঁর কাছে রয়েছে আরও বেশি (সূরা কাফ: ৩৫)। হাদিসে এসেছে, জান্নাতবাসীরা যা চাইবে, তা সঙ্গে সঙ্গেই দেওয়া হবে (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৫০১)।
অশ্লীলতা ও অসৌজন্যহীন পরিবেশ
কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, জান্নাতে কোনো অশ্লীল বা মন্দ কথা শোনা যাবে না; সেখানে থাকবে কেবল শান্তির বাক্য (সূরা মারিয়াম: ৬২)। ইসলামি ব্যাখ্যায় এটিকে জান্নাতের নৈতিক ও ভাষাগত পবিত্রতার নিদর্শন হিসেবে ধরা হয়।
শয়তান ও পাপের প্রলোভন নেই
জান্নাতে শয়তানের প্রবেশাধিকার নেই। কোরআনে বলা হয়েছে, শয়তান জান্নাতবাসীদের কাছে পৌঁছাতে পারবে না (সূরা আল-হিজর: ৪২)। ফলে সেখানে পাপের আহ্বান বা বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ থাকবে না।
চরম আবহাওয়ার কষ্ট নেই
জান্নাতে গরম বা ঠান্ডার কোনো অস্বস্তি থাকবে না। কোরআনে জানানো হয়েছে, জান্নাতবাসীরা ছায়ার নিচে থাকবে এবং তাদের জন্য ফলমূল ও পানীয় প্রস্তুত থাকবে (সূরা আল-মুরসালাত: ৪১–৪৩)।
কোরআন ও সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, জান্নাত এমন এক পরিপূর্ণ জগৎ যেখানে দুঃখ, মৃত্যু, রোগ, বিদ্বেষ ও অভাবের কোনো স্থান নেই। হাদিসে এসেছে, জান্নাতে এমন সব নিয়ামত রয়েছে, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয় কল্পনাও করতে পারেনি (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৪৪)। ইসলামের দৃষ্টিতে জান্নাত আল্লাহ তাআলার রহমত ও ন্যায়বিচারের সর্বোচ্চ প্রতিফলন।
রমজানের আগমনী বার্তা: রজব মাস ও মেরাজের তাৎপর্য
ইসলামি বর্ষপঞ্জির সপ্তম মাস রজব মহান আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মানপ্রাপ্ত একটি মাস। এই মাসটি মুমিনের হৃদয়ে ইবাদতের আগ্রহ জাগিয়ে তোলে এবং রমজানের জন্য মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করে। গাফিলতির অন্ধকার থেকে আত্মশুদ্ধির আলোয় ফিরে আসার জন্য রজব মাস এক অনন্য সময়। রজব মাস শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি বিশেষ দোয়া পড়তেন, বাংলা অর্থ হলো “হে আল্লাহ! আপনি আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দিন” (বায়হাকি-ইমান)। এই দোয়ার মাধ্যমে রজব ও শাবানে বরকত লাভ, নেক আমলের তৌফিক বৃদ্ধি এবং সুস্থতার সঙ্গে রমজানে পৌঁছার প্রার্থনা করা হয়েছে।
রজব মাসের মর্যাদা ও কোরআনিক রেফারেন্স
রজব মাস চারটি সম্মানিত মাসের অন্যতম। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারো, এর মধ্যে চারটি সম্মানিত মাস’ (সুরা তওবা-৩৬)। হাদিসেও এই চার মাসের মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘বছর বারো মাসে; এর মধ্যে চারটি সম্মানিত, এর একটি হলো মুদার গোত্রের রজব’ (সহিহ বুখারি)। অধিকাংশ আলেমের মতে, এই মাসেই সংঘটিত হয়েছিল মহান মেরাজ—যেখানে রাসুল (সা.) আল্লাহর বিশেষ নৈকট্য লাভ করেন এবং উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান নিয়ে আসেন।
মেরাজ: এক অলৌকিক ও আধ্যাত্মিক সফর
ইসলামের ইতিহাসে মেরাজ অত্যন্ত গৌরবময় ও শিক্ষাপূর্ণ একটি ঘটনা। মক্কা জীবনের অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত সময়ে, প্রিয় স্ত্রী খাদিজা (রা.) ও চাচা আবু তালিবের ইন্তেকালের পর, যখন রাসুল (সা.) গভীর শোকে নিমজ্জিত ছিলেন, তখন আল্লাহ তাঁকে এই অনন্য সম্মান দান করেন। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘পবিত্র তিনি, যিনি তাঁর বান্দাকে এক রাতে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় ভ্রমণ করিয়েছেন’ (সুরা আল-ইসরা-১)। এই ভ্রমণকে ‘ইসরা’ বলা হয়। সেখানে তিনি সব নবীদের ইমামতি করেন, যা নবুয়তের নেতৃত্বের এক ঐতিহাসিক ঘোষণা।
এরপর শুরু হয় ‘মেরাজ’ বা আসমানে আরোহণ। জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) সাত আসমান অতিক্রম করে আদম (আ.), ঈসা (আ.), ইউসুফ (আ.), মুসা (আ.) ও ইব্রাহিম (আ.)-এর মতো মহান নবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সবশেষে তিনি পৌঁছে যান সৃষ্টির সীমান্ত ‘সিদরাতুল মুনতাহায়’। সেখানে তিনি লাভ করেন আল্লাহর সান্নিধ্য এবং লাভ করেন উম্মতের জন্য মেরাজের শ্রেষ্ঠ উপহার—পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ।
মেরাজ কেবল একটি অলৌকিক ভ্রমণের কাহিনি নয়; এটি বিশ্বাস, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার এক চিরন্তন শিক্ষা। এটি মুসলমানদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, পৃথিবীর সব সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে রয়েছে আল্লাহর করুণা ও রহমতের অসীম আকাশ। আল্লাহর ক্ষমতার কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই—এই বিশ্বাসই মুমিনের পাথেয়।
লেখক : গবেষক, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা
আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
সলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে নামাজ দ্বিতীয় এবং অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ। ইমান বা বিশ্বাসের পর একজন মুসলিমের জীবনে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে কিয়ামতের দিন বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বারবার তাগিদ দেন যে, পার্থিব জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি তারিখের নামাজের সময়সূচি ঢাকার সময়ের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে।
আজকের জোহরের সময় শুরু হবে ১২টা ১০ মিনিটে এবং আসরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩টা ৫৫ মিনিটে।
দিনের শেষে মাগরিবের আজান হবে ৫টা ৩১ মিনিটে এবং এশার সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫১ মিনিটে।
আগামীকাল মঙ্গলবার ভোরে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ৫টা ২৪ মিনিটে। বর্তমান সময়টি পবিত্র রজব মাসের ২২ তারিখ হওয়ায় মুমিন মুসলমানরা নফল রোজা ও বাড়তি ইবাদতের প্রতিও গুরুত্ব দিচ্ছেন।
উল্লেখ্য যে, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় নামাজের সময়ের কিছুটা তারতম্য ঘটে থাকে। ঢাকার সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম বিভাগে ৫ মিনিট এবং সিলেট বিভাগে ৬ মিনিট সময় বিয়োগ করতে হবে।
অন্যদিকে, ঢাকা থেকে পশ্চিমাঞ্চলীয় ও উত্তরাঞ্চলীয় জেলাগুলোর ক্ষেত্রে সময় যোগ করতে হবে। খুলনা বিভাগে ৩ মিনিট, রাজশাহী বিভাগে ৭ মিনিট, রংপুর বিভাগে ৮ মিনিট এবং বরিশাল বিভাগে ১ মিনিট সময় যোগ করে স্থানীয় নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে। নিখুঁতভাবে ইবাদত সম্পন্ন করতে স্থানীয় মসজিদের আজান অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আজ ১১ জানুয়ারি ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
আজ রোববার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আজ ২৭ পৌষ ১৪৩২ এবং হিজরি ২১ রজব ১৪৪৭। ব্যস্ত জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও নামাজের ওয়াক্ত সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ইসলামের আরও বিভিন্ন নফল ও সুন্নত নামাজ থাকলেও ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আজকের দিনের ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে।
আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৩টা ৫৩ মিনিটে এবং মাগরিবের আজান হবে সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিটে।
এছাড়া এশার নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে। আগামীকালের অর্থাৎ সোমবারের ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ২৬ মিনিটে।
নামাজের এই সময়সূচি মূলত ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য প্রযোজ্য। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোতে এই সময়ের কিছুটা তারতম্য ঘটে।
ঢাকার সময়ের সাথে বেশ কিছু এলাকার সময় বিয়োগ বা যোগ করে নিতে হবে। যেমন চট্টগ্রাম এলাকার বাসিন্দাদের ঢাকার সময় থেকে ৫ মিনিট এবং সিলেট এলাকার জন্য ৬ মিনিট সময় বিয়োগ করতে হবে।
অন্যদিকে ঢাকার সময়ের সাথে কিছু এলাকাকে বাড়তি সময় যোগ করতে হবে। খুলনা বিভাগের জন্য ৩ মিনিট, রাজশাহী বিভাগের জন্য ৭ মিনিট এবং রংপুর বিভাগের জন্য ৮ মিনিট সময় যোগ করা প্রয়োজন।
এছাড়া বরিশাল বিভাগের জন্য ঢাকার সময়ের সাথে অতিরিক্ত ১ মিনিট সময় যোগ করে নামাজের ওয়াক্ত নির্ধারণ করতে হবে।
সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা কেবল ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা নয়, এটি মানুষের আত্মিক প্রশান্তি ও শৃঙ্খলারও একটি মাধ্যম। তাই মুসুল্লিদের উচিত নিজ নিজ এলাকার সঠিক সময় অনুযায়ী জামাতে শরিক হওয়া। উল্লিখিত সময়গুলো সূর্য ও ছায়ার অবস্থানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, যা ঋতুভেদে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। তাই নিয়মিত সঠিক সময়সূচি সম্পর্কে অবগত থাকা প্রতিটি সচেতন মুসলিমের জন্য জরুরি। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক সময়ে নামাজ আদায়ের তৌফিক দান করুন।
আজ ১০ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম একটি স্তম্ভ হলো নামাজ। ইমান বা বিশ্বাসের পর নামাজই হলো ইসলামের প্রধান ভিত্তি। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন বা হাশরের ময়দানে মানুষের কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। তাই একজন মুমিনের জীবনে যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, সময়মতো পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করা অত্যন্ত আবশ্যক।
আজ শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি (২৬ পৌষ ১৪৩২ বাংলা এবং ২০ রজব ১৪৪৭ হিজরি)। রাজধানী ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের জন্য সময়ের হ্রাস-বৃদ্ধির বিস্তারিত তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
জোহর: দুপুর ১২টা ১০ মিনিট
আসর: বিকেল ৩টা ৫২ মিনিট
মাগরিব: সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিট
এশা: রাত ৬টা ৫০ মিনিট
ফজর (আগামীকাল রোববার): ভোর ৫টা ২৫ মিনিট
বিভাগীয় শহরভেদে সময়ের পার্থক্য ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে রাজধানী ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের সঙ্গে নিচের বিভাগগুলোর সময় সমন্বয় করতে হবে:
সময় বিয়োগ করতে হবে
চট্টগ্রাম: ঢাকার সময় থেকে ০৫ মিনিট আগে নামাজ শুরু হবে।
সিলেট: ঢাকার সময় থেকে ০৬ মিনিট আগে নামাজ শুরু হবে।
সময় যোগ করতে হবে
খুলনা: ঢাকার সময়ের সঙ্গে ০৩ মিনিট যোগ করতে হবে।
রাজশাহী: ঢাকার সময়ের সঙ্গে ০৭ মিনিট যোগ করতে হবে।
রংপুর: ঢাকার সময়ের সঙ্গে ০৮ মিনিট যোগ করতে হবে।
বরিশাল: ঢাকার সময়ের সঙ্গে ০১ মিনিট যোগ করতে হবে।
পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে নামাজের গুরুত্ব অপরিসীম। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের পাশাপাশি ওয়াজিব, সুন্নত ও নফল নামাজ আদায়ের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করতে পারে। প্রতিকূল পরিস্থিতি বা ব্যস্ততা সত্ত্বেও নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা পরকালীন মুক্তির অন্যতম মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয়।
কোরআন ও হাদিসে জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত
‘জুমা’ শব্দটি আরবি ‘জমা’ ধাতু থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ একত্রিত হওয়া বা সমবেত হওয়া। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে, অর্থাৎ শুক্রবার, জোহরের চার রাকাত ফরজের পরিবর্তে জামাতের সঙ্গে দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করাকে সালাতুল জুমা বা জুমার নামাজ বলা হয়। এটি প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ, মুকিম (মুসাফির নন) পুরুষ মুসলমানদের জন্য ফরজ আইন, যা ব্যক্তিগত ইবাদতের পাশাপাশি সামাজিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
কোরআনের আলোকে জুমার নামাজের ফজিলত ও গুরুত্ব
পবিত্র কোরআনে জুমার নামাজের গুরুত্ব এত স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র সূরা নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে ঈমানদারগণ, জুমার দিনে যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও এবং বেচাকেনা পরিত্যাগ করো। এটি তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা উপলব্ধি করো” [সূরা আল-জুমু‘আ: ৬২:৯]। এই আয়াত থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে জুমার নামাজ ফরজ এবং এর সময় দুনিয়াবি সব কাজ স্থগিত রাখা ঈমানের দাবি।
এর পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ আবার ভারসাম্যের শিক্ষা দিয়ে বলেন, “নামাজ শেষ হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করো” [সূরা আল-জুমু‘আ: ৬২:১০]। অর্থাৎ জুমার নামাজের মাধ্যমে আখিরাতের হক আদায়ের পর দুনিয়ার দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
হাদিসের আলোকে জুমার দিনের বিশেষ মর্যাদা
জুমার দিন ও জুমার নামাজ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বহু সহিহ হাদিসে ফজিলত বর্ণনা করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করে প্রথমে মসজিদে আসে, সে যেন একটি উট কোরবানি করল; দ্বিতীয় ব্যক্তি গরু, তৃতীয় ব্যক্তি ছাগল, চতুর্থ ব্যক্তি মুরগি এবং পঞ্চম ব্যক্তি ডিম সদকা করার সওয়াব পায়। এরপর ইমাম যখন খুতবার জন্য বের হন, ফেরেশতারা তাদের আমলনামা বন্ধ করে খুতবা শুনতে বসে যায়” [সহিহ বুখারি: ৮৮১]। এই হাদিস জুমার দিনে আগেভাগে মসজিদে যাওয়ার গুরুত্ব সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
খুতবা শোনা ও নীরব থাকার সওয়াব
অন্য এক সহিহ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি জুমার দিনে উত্তমরূপে গোসল করল, তাড়াতাড়ি মসজিদে গেল, ইমামের নিকটে বসে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শুনল এবং নীরব থাকল, তার প্রতিটি কদমের বিনিময়ে এক বছরের রোজা ও নামাজের সওয়াব লেখা হয়” [সহিহ মুসলিম: ৮৫৪]। এ থেকে বোঝা যায়, শুধু নামাজ আদায় নয়, বরং খুতবার প্রতি মনোযোগ ও শিষ্টাচার রক্ষা করাও জুমার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
জুমার দিন: ইতিহাস ও দোয়া কবুলের সময়
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো শুক্রবার। এই দিনেই আদম (আ.) কে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এই দিনেই কিয়ামত সংঘটিত হবে” [সহিহ মুসলিম: ৮৫৪]। এছাড়া তিনি আরও বলেন, “জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, যখন কোনো মুসলমান বান্দা দোয়া করলে তা অবশ্যই কবুল হয়” [তিরমিজি: ৪৮৭]। এই বিশেষ মুহূর্তকে ‘সাআতে ইজাবা’ বলা হয়, যা জুমার দিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নিয়ামত।
জুমার নামাজ অবহেলার ভয়াবহ পরিণতি
জুমার নামাজ ইচ্ছাকৃতভাবে পরিত্যাগ করা ইসলামে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেন, “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তিনটি জুমার নামাজ ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার হৃদয়ে মোহর মেরে দেন” [আবু দাউদ: ৩৪৫]। এর অর্থ হলো, ধারাবাহিকভাবে জুমা ত্যাগ করলে ঈমান দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
সামাজিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে জুমার তাৎপর্য
জুমার নামাজ কেবল একটি ফরজ ইবাদত নয়, বরং এটি মুসলিম সমাজের জন্য একটি সাপ্তাহিক সমাবেশ, যেখানে ধর্মীয় শিক্ষা, সামাজিক দায়িত্ববোধ ও নৈতিক শুদ্ধতার বার্তা প্রচারিত হয়। খুতবার মাধ্যমে সমাজের অনাচার, অন্যায় ও অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা হয়, যা একটি ন্যায়ভিত্তিক ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রেফারেন্স (References)
পবিত্র কোরআন, সূরা আল-জুমু‘আ, আয়াত ৯–১০
সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৮৮১ ও ৮৮৩
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৮৫৪
সুনান তিরমিজি, হাদিস নং ৪৮৭
সুনান আবু দাউদ, হাদিস নং ৩৪৫
আজ নামাজের সময়সূচি ও সূর্যাস্ত
আজ শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬, বাংলা সনের ২৫ পৌষ ১৪৩২ এবং হিজরি সনের ১৯ রজব ১৪৪৭। পবিত্র শুক্রবার উপলক্ষে মুসলমানদের জন্য নামাজের সময়সূচি জানা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের নির্ধারিত সময় প্রকাশ করা হয়েছে।
আজ রাজধানীতে জুমার নামাজের সময় শুরু হবে দুপুর ১২টা ০৯ মিনিটে। শুক্রবারের প্রধান ইবাদত হওয়ায় এ সময়ের আগে মুসল্লিদের মসজিদে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এরপর আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৩টা ৫২ মিনিটে।
সন্ধ্যার নামাজ মাগরিব আদায় করা যাবে ৫টা ৩২ মিনিটে। এর কিছুক্ষণ পর এশার নামাজের সময় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে। ইশার নামাজের মাধ্যমে দিনের নিয়মিত ফরজ নামাজ শেষ হবে।
এদিকে আগামীকাল শনিবার ফজরের নামাজের সময় শুরু হবে ভোর ৫টা ২৭ মিনিটে। আবহাওয়া ও সূর্যের অবস্থান বিবেচনায় এই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে ৫টা ২৮ মিনিটে, যা মাগরিবের সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অপরদিকে আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৬টা ৪৩ মিনিটে। নামাজের সময়সূচি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ের ভিত্তিতেই নির্ধারিত হয়ে থাকে।
আজ ০৮ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম এবং ইমান বা বিশ্বাসের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো নামাজ। পরকালে প্রথম হিসাব নেওয়া হবে এই নামাজেরই। তাই শত ব্যস্ততার মাঝেও ওয়াক্তমতো ফরজ নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অপরিহার্য। আজ বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬ (১৮ রজব ১৪৪৭ হিজরি) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য নামাজের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী,
আজ ঢাকার জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১২:০৭ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকাল ৩:৪৮ মিনিটে। মাগরিবের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যা ৫:২৯ মিনিটে এবং এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৬:৪৬ মিনিটে। এছাড়া আগামীকাল শুক্রবারের ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৫:২৩ মিনিটে।
তবে ভৌগোলিক অবস্থানভেদে দেশের বিভিন্ন বিভাগে এই সময়ের কিছুটা তারতম্য রয়েছে। চট্টগ্রামের মুসল্লিদের ঢাকার সময়ের চেয়ে ৫ মিনিট এবং সিলেটের মুসল্লিদের ৬ মিনিট বিয়োগ করে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে। অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের সঙ্গে খুলনায় ৩ মিনিট, বরিশালে ১ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট এবং রংপুরে ৮ মিনিট যোগ করে ওয়াক্ত নির্ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করে পরকালের পাথেয় সংগ্রহের আহ্বান জানানো হয়েছে।
আজ ০৭ জানুয়ারি নামাজের সময়সূচি
ইসলামের পাঁচটি রুকনের মধ্যে নামাজ দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ইমান বা বিশ্বাসের পর নামাজের মাধ্যমেই একজন মুমিন তার আনুগত্যের পরিচয় দেয়। কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তায়ালা বান্দার কাছ থেকে সর্বপ্রথম নামাজেরই হিসাব নেবেন। তাই শত ব্যস্ততা থাকলেও সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬), ১৭ রজব ১৪৪৭ হিজরি।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ
জোহর: ১২.০৭ টা
আসর: ৩.৪৮ টা
মাগরিব: ৫.২৯ টা
এশা: ৬.৪৬ টা
ফজর (আগামীকাল বৃহস্পতিবার): ৫.২৩ টা
ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের অন্যান্য এলাকার সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের ৫ মিনিট এবং সিলেটের বাসিন্দাদের ৬ মিনিট বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে, খুলনার ক্ষেত্রে ৩ মিনিট, রাজশাহীর জন্য ৭ মিনিট, রংপুরের জন্য ৮ মিনিট এবং বরিশালের জন্য ১ মিনিট সময় যোগ করতে হবে। তীব্র শীতের এই সময়ে ওজু ও নামাজের মাধ্যমে আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পাওয়াই হোক মুমিনের লক্ষ্য।
সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী পাঠের বিস্ময়কর ফজিলত
কোরআনুল কারিমে এমন কিছু আয়াত রয়েছে, যা ঈমানি বিশ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত। আয়াতুল কুরসী তেমনই একটি আয়াত, যা আল্লাহ তায়ালার একত্ব, চিরঞ্জীবতা, জ্ঞান ও সার্বভৌম ক্ষমতাকে এক আয়াতেই সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরে। এই আয়াতটি সূরা বাকারার ২৫৫ নম্বর আয়াত এবং ইসলামের আলোকে এটি কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে স্বীকৃত।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই আয়াতুল কুরসীকে কোরআনের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আয়াত হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সাহাবায়ে কেরামের মাধ্যমে বর্ণিত সহীহ হাদীসগুলোতে এই আয়াতের ফজিলত, নিরাপত্তা ও আত্মিক শক্তির দিকগুলো বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।
ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী: জান্নাতের প্রতিশ্রুতি
হযরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে একমাত্র বাধা হবে মৃত্যু। অর্থাৎ, মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই তার জন্য জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
এই হাদীস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর নিয়মিত আয়াতুল কুরসী পাঠ করা মুমিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৈনিক আমল। এটি কেবল ইবাদতের অংশ নয়, বরং জান্নাত লাভের একটি সুসংবাদও বটে।
ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসী: শয়তান থেকে অলৌকিক সুরক্ষা
সহীহ বুখারীতে বর্ণিত হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর ঘটনাটি আয়াতুল কুরসীর ফজিলতের এক অনন্য প্রমাণ। রমজান মাসে সাদাকাতুল ফিতরের খাদ্য পাহারা দেওয়ার সময় তিনি তিন রাত ধরে এক রহস্যময় আগন্তুকের মুখোমুখি হন। শেষ রাতে সেই আগন্তুক তাকে জানায়, ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা সকাল পর্যন্ত একজন রক্ষাকর্তা নিযুক্ত করেন এবং শয়তান আর কাছে আসতে পারে না।
পরবর্তীতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিশ্চিত করেন যে, ওই আগন্তুক ছিল এক শয়তান, যে মিথ্যাবাদী হলেও এই বিষয়ে সত্য কথা বলেছে। এটি প্রমাণ করে, আয়াতুল কুরসীর শক্তি এমন যে শয়তানও তা অস্বীকার করতে পারেনি।
সকাল-সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী: জিনের স্বীকারোক্তি
আরেকটি সহীহ বর্ণনায় দেখা যায়, হযরত উবাই ইবনে কা‘ব (রা.)-এর খাদ্য ভাণ্ডার থেকে নিয়মিত খেজুর কমে যাচ্ছিল। পাহারা দিতে গিয়ে তিনি এক জিনের মুখোমুখি হন, যে স্বীকার করে নেয়—সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী পাঠ করলে জিন ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে।
এই ঘটনার সত্যতা রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই নিশ্চিত করেছেন। ফলে আয়াতুল কুরসীর মাধ্যমে সকাল-সন্ধ্যায় আত্মরক্ষার বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়।
আয়াতুল কুরসীর মূল শিক্ষা: তাওহীদের পরিপূর্ণ ঘোষণা
আয়াতুল কুরসীর প্রতিটি বাক্য আল্লাহর পরিচয়কে সুসংহতভাবে তুলে ধরে। এতে বলা হয়েছে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী, তাঁর ওপর কোনো তন্দ্রা বা ঘুম আসে না। আসমান ও জমিনের সবকিছু তাঁর অধীন, তাঁর অনুমতি ছাড়া কেউ সুপারিশ করতে পারে না।
এই আয়াতে আল্লাহর জ্ঞান ও ক্ষমতার এমন বিস্তৃত বর্ণনা রয়েছে, যা মানুষের ঈমানকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে এবং আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়ে দেয়।
মুফাসসিরদের দৃষ্টিতে আয়াতুল কুরসী
ইমাম কুরতুবি (রহ.) আয়াতুল কুরসীকে আল্লাহর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর মতে, এই আয়াত আল্লাহর জীবন, জ্ঞান ও কুদরতের পূর্ণতার ঘোষণা।
ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন, এই আয়াতে উল্লেখিত ‘কুরসি’ আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছে, যা আল্লাহর অসীম ক্ষমতার প্রতীক। ইবনুল কাইয়িম (রহ.) উল্লেখ করেন, আয়াতুল কুরসী তাওহীদের সর্বাধিক সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা এবং এটি পাঠ করলে ঈমান দৃঢ় হয় ও অন্তর আল্লাহমুখী হয়।
কেন আয়াতুল কুরসী মুমিন জীবনে অপরিহার্য
আয়াতুল কুরসী কেবল একটি তিলাওয়াতযোগ্য আয়াত নয়, বরং এটি মুমিনের জন্য হেফাজতের ঢাল, আত্মিক প্রশান্তির উৎস এবং ঈমানের শক্ত ভিত্তি। নিয়মিত পাঠের মাধ্যমে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায় এবং হৃদয়ে আল্লাহর স্মরণ জাগ্রত থাকে।
কখন ও কীভাবে আয়াতুল কুরসী পড়া উচিত
ইসলামি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি ফরজ নামাজের পর, ঘুমানোর আগে এবং সকাল ও সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসী পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। সন্তানদেরও ছোটবেলা থেকেই এই আয়াত শেখানো উচিত, যাতে তারা আল্লাহর হেফাজতে বড় হতে পারে।
আয়াতুল কুরসী কোরআনের এমন একটি আয়াত, যেখানে আল্লাহর পরিচয়, ক্ষমতা ও করুণার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে। কোরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে প্রমাণিত, এই আয়াত নিয়মিত পাঠ করলে ঈমান দৃঢ় হয়, শয়তান দূরে থাকে এবং জান্নাতের সুসংবাদ নিশ্চিত হয়।
অতএব, প্রতিটি মুমিনের কর্তব্য হলো আয়াতুল কুরসীকে দৈনন্দিন জীবনের স্থায়ী অযীফা হিসেবে গ্রহণ করা এবং উপলব্ধিসহ পাঠ করার মাধ্যমে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের চেষ্টা করা।
সূত্রঃ মাসিক আল কাউসার
পাঠকের মতামত:
- স্বর্ণের দামে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ: মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে সোনা
- শরীরে ভিটামিন ডি কমে যাওয়ার লক্ষণ, বাড়াবেন যেভাবে
- পে-স্কেল নিয়ে দুঃসংবাদ! বড় সিদ্ধান্তের পথে সরকার
- জোট গঠনে অনেক ছাড় দিয়েছে এনসিপি লক্ষ্য এবার সরকার গঠন: আসিফ মাহমুদ
- হিটার ছাড়াই ঘর থাকবে আগুনের মতো গরম; জানুন ৫টি জাদুকরী কৌশল
- আইসিসির ‘বার্তা’ নিয়ে বিভ্রান্তি: উপদেষ্টা ও উপ-প্রেস সচিবের ভিন্ন সুর
- রেমিট্যান্সে একের পর এক ম্যাজিক: গত বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেল জানুয়ারি
- স্তন ক্যানসার রুখতে আজই বদলে ফেলুন আপনার ৫টি ভুল অভ্যাস
- যে দেশে মা ও দাদির সাথে সুর মিলিয়ে কান্না না করলে অসম্পূর্ণ থেকে যায় বিয়ে
- পুরোনো ফোন থেকে মিলবে সোনা: চীনা বিজ্ঞানীদের চমকপ্রদ আবিষ্কার
- ট্রাম্পের হুমকির মুখে তেহরানের হুঁশিয়ারি : সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর ইরান
- বিজয় আমাদের হয়ে গেছে, এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা : নুরুল নুর
- মুস্তাফিজকে দলে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ? আইসিসির অদ্ভুত শর্তে ক্রিকেট বিশ্বে তোলপাড়
- বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের ৪ প্রেস কর্মকর্তাকে অব্যাহতি
- পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় প্রকল্পের নামে গণহারে বৃক্ষনিধন
- শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় কাটছাঁট : আরএডিপির নতুন চিত্র
- বিশ্বকাপের ভেন্যু নিয়ে বাংলাদেশ–আইসিসি টানাপোড়েন
- ১২ জানুয়ারি ডিএসইর পূর্ণাঙ্গ শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- ১২ জানুয়ারি ডিএসইতে দরপতনের শীর্ষ ১০ কোম্পানি
- ১২ জানুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধির তালিকা
- বহুবিবাহ আইনে রিট খারিজ, আইনি বিধান কার্যকর
- ক্রিকেটারকে অপমান মানেই দেশকে অপমান: মির্জা ফখরুল
- শেয়ারহোল্ডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্পট নিউজ
- মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজের Q2 প্রকাশ এবং সংশোধন
- ডিএসইতে আজ প্রকাশিত সব মিউচুয়াল ফান্ড এনএভির বিশ্লেষণ
- ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীদের তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস : আতঙ্কে বিশ্ব
- নির্বাচন ও ক্রিকেট নিয়ে বড় বার্তা দিলেন বিএনপি মহাসচিব
- নিজেকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন ট্রাম্প
- তেলহীন সয়া কাবাব ও টিক্কা তৈরির জাদুকরী রেসিপি জানুন
- পরিমিত খেয়েও খেয়েও কমছে না ওজন যে সমাধান দিলেন চিকিৎসক
- ব্রণের দাগ দূর করতে ঘরোয়া ফেসপ্যাকের কার্যকারিতা জানুন
- স্বাস্থ্যকর মনে হলেও লিভার ধ্বংস করছে এই ৩টি খাবার
- জনগণের প্রত্যক্ষ পরামর্শে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে বিএনপি:তারেক রহমান
- আজকের স্বর্ণের দাম: ১২ জানুয়ারি ২০২৬
- হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে উত্তরের জনপদ: তীব্র শীতে কর্মহীন হাজারো মানুষ
- লুটপাট ও দুর্নীতির ভয় কাটিয়ে ব্যাংকমুখী গ্রাহক: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- রমজানের আগমনী বার্তা: রজব মাস ও মেরাজের তাৎপর্য
- খেলা প্রেমীদের জন্য টিভির পর্দায় আজকের সব খেলার সময়সূচি
- জেনে নিন আজকের আবহাওয়ার হালচাল
- আজ ১২ জানুয়ারি ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি
- আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- লাশ আর গ্রেপ্তার নিয়ে বিশ্ববিবেকের দরজায় ইরান
- জেঁকে বসছে শীত, ১৩ জেলার জন্য বড় দুঃসংবাদ দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর
- এক সময়ের খামেনি অনুগতরাই কেন এখন বিক্ষোভে? নেপথ্যের কারণ জানুন
- প্রধান উপদেষ্টার জাপান সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বড় তথ্য জানালেন সচিব
- মানবাকৃতি রোবটে চীনের দাপট: বক্সিং থেকে নাচ—সবই করছে রোবট!
- দ্বিতীয় বিয়েতে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক নয়: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়
- শীতে গোলাপী ও নরম ঠোঁট পেতে নারকেল তেলের ৩টি জাদুকরী ব্যবহার
- বোয়ালখালী'র শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন
- এসএসসি পরীক্ষায় বড় পরিবর্তন, চূড়ান্ত কেন্দ্র তালিকা প্রকাশ
- বুধবার টানা ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকবে যেসব এলাকা
- ৮ জানুয়ারি ডিএসই মেইন বোর্ডের লেনদেন চিত্র
- শেয়ারবাজারে লেনদেনের গতি, শীর্ষ ২০ শেয়ারের তালিকা বিশ্লেষণ
- বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্ক সংকেত: মিউচুয়াল ফান্ড বিশ্লেষণ
- এক চড়, দশ হাজার টাকা, আর চিরকালের নত মেরুদণ্ড
- ওষুধের দরে বড় চমক! এবার ২৯৫টি ওষুধের দাম বেঁধে দিল অন্তর্বর্তী সরকার
- ডলারের আধিপত্য ও তেলের নিয়ন্ত্রণ: ট্রাম্পের শুল্কের রাজনীতিতে কাঁপছে বিশ্ববাজার
- শীতে এলপিজির হাহাকার রুখতে বড় পদক্ষেপ নিল সরকার
- মধ্যদুপুরে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা: টপ টেন লুজারে কারা
- ডিভিডেন্ড পরিশোধে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তিন প্রতিষ্ঠানের
- ০৬ জানুয়ারি বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার
- আজ ঢাকায় বন্ধ থাকবে যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান
- আজ ঢাকায় কোথায় কোন কর্মসূচি, দেখে নিন এক নজরে
- নবম পে-স্কেলে সর্বনিম্ন বেতন নিয়ে তিন প্রস্তাব








