জান্নাতে সব থাকলেও যেসব জিনিস নাই

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৩ ১২:০৫:৪৯
জান্নাতে সব থাকলেও যেসব জিনিস নাই
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী জান্নাত হলো আল্লাহ তাআলার প্রতিশ্রুত চিরস্থায়ী শান্তি ও সুখের আবাস। দুনিয়ার জীবনে যারা ঈমানের সঙ্গে নেক আমল করেন, ধৈর্য ধারণ করেন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের মূল লক্ষ্য বানান তাদের জন্য জান্নাত নির্ধারিত পুরস্কার। কোরআন ও সহিহ হাদিসে জান্নাতের সৌন্দর্য, প্রশান্তি ও নিয়ামতের বিস্তারিত বর্ণনার পাশাপাশি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে দুনিয়ার কষ্টকর ও নেতিবাচক বিষয়গুলোর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।

জান্নাতে দুঃখ, শোক ও মানসিক অশান্তি নেই

কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, জান্নাতবাসীদের জন্য কোনো ভয় বা দুঃখ থাকবে না। সেখানে কান্না, হতাশা কিংবা মানসিক অস্থিরতার অবসান ঘটবে। অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, জান্নাতিরা সেখানে কোনো ক্লান্তি বা কষ্ট অনুভব করবেন না (সূরা আল-বাকারা: ৬২; সূরা আল-হিজর: ৪৮)। ইসলামি ব্যাখ্যাকারদের মতে, এটি জান্নাতের পরিপূর্ণ মানসিক শান্তিরই প্রতিফলন।

মৃত্যু নেই, জীবন চিরস্থায়ী

জান্নাতে মৃত্যুর কোনো ধারণা নেই। জান্নাতিরা চিরকাল সেখানে অবস্থান করবেন। কোরআনে বলা হয়েছে, তারা সেখানে স্থায়ীভাবে থাকবে (সূরা আল-বাইয়্যিনা: ৮)। সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, জান্নাতে এক ঘোষক ঘোষণা করবেন “হে জান্নাতবাসীরা, তোমরা চিরকাল জীবিত থাকবে, আর কখনো মরবে না” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮৩৭)।

রোগ-ব্যাধি ও বার্ধক্যের অবসান

ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী জান্নাতে কোনো রোগ, ব্যথা বা শারীরিক দুর্বলতা থাকবে না। জান্নাতিরা কখনো অসুস্থ হবে না, বৃদ্ধও হবে না। তারা সর্বদা তরুণ ও সুস্থ থাকবে এমন তথ্য এসেছে হাদিসে (জামে তিরমিজি, হাদিস: ২৫৪৫)।

অপবিত্রতা ও দুর্গন্ধের অনুপস্থিতি

জান্নাত হবে সম্পূর্ণ পবিত্র এক জগৎ। সেখানে মল-মূত্র, ঘাম বা কোনো অপবিত্র বর্জ্য থাকবে না। হাদিসে বলা হয়েছে, জান্নাতিরা যা খাবে, তা শরীর থেকে সুগন্ধি হিসেবে নির্গত হবে (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮৩৫)। ফলে জান্নাতের পরিবেশ হবে পরিচ্ছন্ন ও মনোরম।

হিংসা, বিদ্বেষ ও শত্রুতার অবসান

কোরআনে আল্লাহ তাআলা জানাচ্ছেন, জান্নাতিদের অন্তর থেকে সব বিদ্বেষ দূর করে দেওয়া হবে এবং তারা ভাইয়ের মতো পরস্পরের মুখোমুখি বসবাস করবে (সূরা আল-হিজর: ৪৭)। সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হাদিসে বলা হয়েছে, জান্নাতবাসীদের অন্তর হবে এক ব্যক্তির অন্তরের মতো তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ বা হিংসা থাকবে না (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৪৬)।

ক্লান্তি ও পরিশ্রমহীন জীবন

দুনিয়ার জীবনের পরিশ্রম, কাজের চাপ ও ক্লান্তির কোনো কিছুই জান্নাতে থাকবে না। কোরআনে বলা হয়েছে, জান্নাতবাসীরা সেখানে কোনো ক্লান্তি অনুভব করবেন না (সূরা ফাতির: ৩৫)। ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, এটি জান্নাতের আরামদায়ক ও পরিপূর্ণ জীবনের প্রতীক।

অভাব ও অপূর্ণতার অস্তিত্ব নেই

জান্নাতে কোনো চাহিদা অপূর্ণ থাকবে না। আল্লাহ তাআলা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, জান্নাতিরা যা চাইবে, তাই পাবে; বরং তাঁর কাছে রয়েছে আরও বেশি (সূরা কাফ: ৩৫)। হাদিসে এসেছে, জান্নাতবাসীরা যা চাইবে, তা সঙ্গে সঙ্গেই দেওয়া হবে (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৫০১)।

অশ্লীলতা ও অসৌজন্যহীন পরিবেশ

কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, জান্নাতে কোনো অশ্লীল বা মন্দ কথা শোনা যাবে না; সেখানে থাকবে কেবল শান্তির বাক্য (সূরা মারিয়াম: ৬২)। ইসলামি ব্যাখ্যায় এটিকে জান্নাতের নৈতিক ও ভাষাগত পবিত্রতার নিদর্শন হিসেবে ধরা হয়।

শয়তান ও পাপের প্রলোভন নেই

জান্নাতে শয়তানের প্রবেশাধিকার নেই। কোরআনে বলা হয়েছে, শয়তান জান্নাতবাসীদের কাছে পৌঁছাতে পারবে না (সূরা আল-হিজর: ৪২)। ফলে সেখানে পাপের আহ্বান বা বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ থাকবে না।

চরম আবহাওয়ার কষ্ট নেই

জান্নাতে গরম বা ঠান্ডার কোনো অস্বস্তি থাকবে না। কোরআনে জানানো হয়েছে, জান্নাতবাসীরা ছায়ার নিচে থাকবে এবং তাদের জন্য ফলমূল ও পানীয় প্রস্তুত থাকবে (সূরা আল-মুরসালাত: ৪১–৪৩)।

কোরআন ও সহিহ হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, জান্নাত এমন এক পরিপূর্ণ জগৎ যেখানে দুঃখ, মৃত্যু, রোগ, বিদ্বেষ ও অভাবের কোনো স্থান নেই। হাদিসে এসেছে, জান্নাতে এমন সব নিয়ামত রয়েছে, যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয় কল্পনাও করতে পারেনি (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩২৪৪)। ইসলামের দৃষ্টিতে জান্নাত আল্লাহ তাআলার রহমত ও ন্যায়বিচারের সর্বোচ্চ প্রতিফলন।


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২১ ১০:১৪:০২
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

পার্থিব জীবনের চরম ব্যস্ততা ও কোলাহলের মাঝেও অন্তরের গভীর আত্মিক প্রশান্তি, শৃঙ্খলা এবং পরকালীন চিরস্থায়ী কল্যাণ নিশ্চিত করার একমাত্র নিখুঁত মাধ্যম হলো নিয়মিত নামাজ। মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে প্রেরিত মানবজাতির পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে নামাজ হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য আবশ্যিক (ফরজ) ইবাদত। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী, জীবনের পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর পরম কর্তব্য। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে ২০২৬) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অফিশিয়াল ডাটা ও সময়সূচি অনুযায়ী ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের চূড়ান্ত সময় প্রকাশ করা হলো।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নির্ধারিত আজকের (৩ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি) নামাজের অফিশিয়াল সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকায় আজ ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩টা ৫০ মিনিটে।

এরপর জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫৮ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিটে।

মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে এবং সর্বশেষ ওয়াক্ত অর্থাৎ এশার নামাজ শুরু হবে রাত ৮টা ০৩ মিনিটে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার অফিশিয়াল সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর ও প্রত্যন্ত জেলাগুলোর নামাজের সময়ের কিছুটা ব্যবধান বা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার মূল সময়ের সঙ্গে নির্দিষ্ট মিনিট যোগ বা বিয়োগ করে আপনার এলাকার সঠিক সময় জেনে নিতে পারেন।

ঢাকার সময়ের আগে যেসব জেলায় নামাজ শুরু হবে, তার মধ্যে সিলেটে ঢাকার সময়ের ৬ মিনিট আগে এবং চট্টগ্রামে ৫ মিনিট আগে ওয়াক্ত শুরু হবে।

অর্থাৎ, ঢাকার সময় থেকে এই মিনিটগুলো বিয়োগ করতে হবে। অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের পর যেসব জেলায় ওয়াক্ত শুরু হবে, তার মধ্যে রংপুরে ৮ মিনিট, রাজশাহীতে ৭ মিনিট, খুলনায় ৩ মিনিট এবং বরিশালে ১ মিনিট পর নামাজ শুরু হবে। অর্থাৎ, ঢাকার সময়ের সঙ্গে এই মিনিটগুলো যোগ করে আপনার এলাকার সঠিক সময় নির্ধারণ করতে হবে।

সঠিক সময়ে নামাজ আদায় করা আল্লাহর অন্যতম প্রিয় আমল। তাই আপনার নিকটস্থ মসজিদের জামাত ও আজানের সঠিক সময় জেনে নিয়ে সময়মতো সালাত কায়েম করুন।

/আশিক


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সর্বশেষ সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ২০ ১০:১০:১৪
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সর্বশেষ সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বজনীন জীবনব্যবস্থা, যার প্রতিটি নিখুঁত বিধান মানুষের ইহলৌকিক কল্যাণ, সামাজিক শৃঙ্খলা এবং আত্মিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার মহৎ উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ তাআলা কর্তৃক প্রণীত হয়েছে। ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে নামাজ ও রোজা ধনী-গরিব ও শ্রেণি-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর আবশ্যিক (ফরজ) ইবাদত হিসেবে নির্ধারিত। জীবনের শত ব্যস্ততা, জাগতিক কোলাহল এবং রাষ্ট্রীয় ও পেশাগত দায়িত্ব যতই থাকুক না কেন, নির্দিষ্ট ওয়াক্ত অনুযায়ী সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুমিনের প্রধান ও অন্যতম পবিত্র দায়িত্ব।

আজ বুধবার (২০ মে ২০২৬ ইংরেজি / ০৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বাংলা / ০২ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি)। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (ইফা) কর্তৃক নির্ধারিত ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সর্বশেষ ও সঠিক সময়সূচি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

ফজর: ভোর ৩টা ৫১ মিনিট

জোহর: দুপুর ১১টা ৫৮ মিনিট

আসর: বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিট

মাগরিব: সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিট

এশা: রাত ৭টা ৫৯ মিনিট

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলার নামাজের সময়ের কিছুটা তারতম্য বা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের সঙ্গে নিচের মিনিটগুলো যোগ বা বিয়োগ করে আপনি আপনার নির্দিষ্ট এলাকার আজান ও নামাজের সঠিক সময় জেনে নিতে পারেন

ঢাকার সময় থেকে বিয়োগ করতে হবে

সিলেট: ০৬ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৬ মিনিট আগে আজান হবে)

চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৫ মিনিট আগে আজান হবে)

ঢাকার সময়ের সঙ্গে যোগ করতে হবে

রংপুর: ০৮ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৮ মিনিট পর আজান হবে)

রাজশাহী: ০৭ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৭ মিনিট পর আজান হবে)

খুলনা: ০৩ মিনিট (ঢাকার সময়ের ৩ মিনিট পর আজান হবে)

বরিশাল: ০১ মিনিট (ঢাকার সময়ের ১ মিনিট পর আজান হবে)

/আশিক


একই ভাগে দুই ভাই মিলে কোরবানি দেওয়া নিয়ে কী বলছে ইসলামি শরিয়ত?

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৯ ২১:৫৪:১৪
একই ভাগে দুই ভাই মিলে কোরবানি দেওয়া নিয়ে কী বলছে ইসলামি শরিয়ত?
ছবি : সংগৃহীত

প্রত্যেক সামর্থ্যবান ও নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক মুসলিমের জন্য কোরবানি করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যাবশ্যকীয় বিধান (ওয়াজিব)। এই বিধানের গুরুত্ব বোঝাতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “যার কোরবানি করার সামর্থ্য আছে অথচ সে কোরবানি করল না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের নিকটবর্তী না হয়।” (মুসনাদে আহমদ: ২/৩২১, মুস্তাদরাকে হাকেম: ৭৬৩৯, আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব: ২/১৫৫)।

পবিত্র কোরআনেও মহান আল্লাহ তায়ালা সুরা কাওসারের ২ নম্বর আয়াতে নির্দেশ দিয়েছেন, “অতএব তুমি তোমার রবের উদ্দেশে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো।” শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থমস্তিষ্ক সম্পন্ন প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যিনি ১০ জিলহজ ফজর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে নিজের প্রয়োজন-অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক থাকবেন, তাঁর ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব (আলমুহিতুল বুরহানি: ৮/৪৫৫, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া: ১৭/৪০৫)।

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশুর হাটে বা পারিবারিক পরিমণ্ডলে একটি প্রশ্ন প্রায়ই দেখা যায় যে, ‘দুই ভাই মিলে বা যৌথভাবে এক ভাগে কোরবানি দেওয়া জায়েজ কি না?’ এই প্রথাগত জিজ্ঞাসার জবাবে রাজধানীর জামিয়া ইসলামিয়া বায়তুস সালামের সিনিয়র মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী কালবেলাকে জানিয়েছেন, দুই ভাই বা যেকোনো দুজন ব্যক্তি মিলে এক ভাগে অর্থ ভাগাভাগি করে কোরবানি দিলে তা ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী মোটেও সহিহ বা বিশুদ্ধ হবে না।

কারণ, কোরবানির মূল নিয়ম হচ্ছে একটি ভাগে কেবল একজন একক ব্যক্তিই শরিক হতে পারেন; এক ভাগে একাধিক ব্যক্তি শরিক হলে কোরবানি বিশুদ্ধ হয় না (আদদুররুল মুহতার: ৯/৪৫৭)। তবে এই জটিলতা এড়ানোর একটি বৈধ সুরত বা বিকল্প পথ বাতলে দিয়ে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, যদি দুই ভাই মিলে এক ভাগেই কোরবানি দিতে চান, তবে তাঁদের একজন অপরজনকে তাঁর সমপরিমাণ টাকার মালিক (হেবা বা উপহার) বানিয়ে দেবেন। অতঃপর টাকা গ্রহণকারী ব্যক্তি নিজের একক নামে ওই ভাগের কোরবানিটি সম্পন্ন করবেন; তাহলে কোরবানি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ ও বৈধ হবে।

ইসলামি শরিয়তের সামগ্রিক পশুর শরিকানা বিধিমালা অনুযায়ী, একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দ্বারা কেবল একজন ব্যক্তিই এককভাবে কোরবানি দিতে পারবেন। এই ধরনের ছোট পশুতে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মিলে শরিক হলে কারোর কোরবানিই সহিহ হবে না। অন্যদিকে উট, গরু কিংবা মহিষের মতো বড় পশুর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাতজন ব্যক্তি পৃথক সাতটি ভাগে শরিক হতে পারবেন; সাতের অধিক শরিক হলে কারও কোরবানি সহিহ হবে না (মুসলিম: ১৩১৮, মুয়াত্তা মালেক: ১/৩১৯, কাযীখান: ৩/৩৪৯, বাদায়ে উস সানায়ে: ৪/২০৭-২০৮)। নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে কোনো শরিকেরই কোরবানি আল্লাহর দরবারে কবুল বা সহিহ হবে না।

/আশিক


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সর্বশেষ সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৯ ১১:৩২:৫৬
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সর্বশেষ সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলাম এমন এক পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি বিধানই মানুষের কল্যাণ, শৃঙ্খলা ও আত্মিক প্রশান্তির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে নামাজ ও রোজা, ধনী-দরিদ্র সবার জন্যই ফরজ। তাই যতই ব্যস্ততা থাকুক, ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করে নেওয়া প্রতিটি মুমিনের প্রধান দায়িত্ব।

আজ মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ ইংরেজি (০৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বাংলা, ১ জিলহজ ১৪৪৭ হিজরি)-এর ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সর্বশেষ সময়সূচি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে নিচে তুলে ধরা হলো।

আজকের সময়সূচি অনুযায়ী, ঢাকায় পবিত্র ফজরের ওয়াক্ত শুরু হচ্ছে ভোর ৩টা ৫১ মিনিটে এবং জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫৮ মিনিটে।

এরপর যথাক্রমে আসরের ওয়াক্ত বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিট, মাগরিবের ওয়াক্ত (আজকের ইফতারের সময়) সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিট এবং এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৭টা ৫৯ মিনিটে।

ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে; যা হিসাব করে দেশের যেকোনো প্রান্তের মুসলমানরা তাঁদের নিজ নিজ এলাকার সঠিক নামাজের সময় জেনে নিতে পারবেন।

ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, ঢাকার সময় থেকে চট্টগ্রাম জেলায় ৫ মিনিট এবং সিলেট জেলায় ৬ মিনিট বিয়োগ করে নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

অন্যদিকে, ঢাকার সময়ের সঙ্গে খুলনা জেলায় ৩ মিনিট, বরিশাল জেলায় ১ মিনিট, রাজশাহী জেলায় ৭ মিনিট এবং রংপুর জেলায় ৮ মিনিট যোগ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের ওয়াক্তভিত্তিক নামাজ আদায় করতে হবে।

/আশিক


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৮ ১০:১২:০৫
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

ইসলাম এমন এক পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা, যেখানে প্রতিটি বিধানই মানুষের ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ, শৃঙ্খলা এবং আত্মিক প্রশান্তির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে নামাজ অন্যতম, যা ধনী-দরিদ্র সর্বস্তরের মুসলিমদের জন্য আবশ্যকীয় কর্তব্য।

তাই জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিটি মুসলমানের উচিত নির্দিষ্ট ওয়াক্ত অনুযায়ী সময়মতো নামাজ আদায় করে নেওয়া। আজ সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ ইংরেজি (২৯ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি) তারিখের জন্য দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের সুবিধার্থে পবিত্র নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আজ ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য নামাজের সময়সূচি হলো— ফজর: ভোর ৩.৫২ মিনিট, জোহর: দুপুর ১১.৫৮ মিনিট, আসর: বিকেল ৪.৪৩ মিনিট, মাগরিব: সন্ধ্যা ৬.৪০ মিনিট এবং এশা: রাত ৮.০১ মিনিট।

এছাড়া আগামীকালের (মঙ্গলবার) ফজর নামাজের ওয়াক্ত শুরু হবে ভোর ৩.৫২ মিনিটে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলার সময়ের কিছুটা তারতম্য রয়েছে। ঢাকার সময় থেকে চট্টগ্রাম জেলায় ৫ মিনিট এবং সিলেট জেলায় ৬ মিনিট বিয়োগ করে স্থানীয় সময় হিসাব করতে হবে।

অন্যদিকে ঢাকার সময়ের সঙ্গে খুলনা জেলায় ৩ মিনিট, রাজশাহী জেলায় ৭ মিনিট, রংপুর জেলায় ৮ মিনিট এবং বরিশাল জেলায় ১ মিনিট যোগ করে নামাজ আদায় করতে হবে।

/আশিক


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৭ ১০:১৬:১৯
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজ রবিবার (১৭ মে) ৫ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে এবং আগামীকাল সোমবার সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ১৯ মিনিটে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, আজ রবিবার জোহরের ওয়াক্ত শুরু হবে দুপুর ১১টা ৫৮ মিনিটে এবং আসরের ওয়াক্ত শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩৩ মিনিটে।

সন্ধ্যায় সূর্য ডোবার পর ৬টা ৩৮ মিনিটে মাগরিবের ওয়াক্ত শুরু হবে।

এরপর রাত ৮টা ০০ মিনিটে শুরু হবে এশার ওয়াক্ত।

অন্যদিকে, আগামী কাল সোমবার (১৮ মে) ভোর ৩টা ৫৪ মিনিটে ফজরের ওয়াক্ত শুরু হবে।

উল্লেখ্য, দূরত্বের তারতম্যের কারণে ঢাকার সময়ের সাথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নামাজের সময়ের কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। ঢাকার সময়ের সাথে ১ থেকে সর্বোচ্চ ১১ মিনিট পর্যন্ত যোগ বা বিয়োগ করে অন্যান্য জেলার বাসিন্দাদের নামাজের সময় নির্ধারণ করতে হয়।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।


ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি 

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৬ ১০:১৩:৪১
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি 
ছবি : সংগৃহীত

ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে ইমানের পরই সালাত বা নামাজের স্থান। নামাজকে ইসলামের প্রাণ এবং মুমিন ও কাফেরের মধ্যকার প্রধান পার্থক্যকারী হিসেবে গণ্য করা হয়। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ যথাসময়ে আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যিক কর্তব্য।

আজ শনিবার, ১৬ মে ২০২৬ ইংরেজি (২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বাংলা, ২৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি)-এর জন্য ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো।

ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি

জোহর: ১১:৫৮ মিনিট।

আসর: ০৪:৩২ মিনিট।

মাগরিব: ০৬:৩৮ মিনিট।

এশা: ০৮:০০ মিনিট।

ফজর (১৭ মে, রোববার): ০৩:৫২ মিনিট।

বিভাগীয় শহর অনুযায়ী সময় পরিবর্তন

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ঢাকার সময়ের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলার সময়ের কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ঢাকার সময়ের সঙ্গে নিচের সময়গুলো যোগ বা বিয়োগ করে আপনার এলাকার সঠিক সময় জেনে নিতে পারেন

ঢাকার সময় থেকে বিয়োগ করতে হবে

সিলেট: ০৬ মিনিট

চট্টগ্রাম: ০৫ মিনিট

ঢাকার সময়ের সঙ্গে যোগ করতে হবে

রংপুর: ০৮ মিনিট

রাজশাহী: ০৭ মিনিট

খুলনা: ০৩ মিনিট

বরিশাল: ০১ মিনিট

নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে কয়েক মিনিট সতর্কতামূলক সময় হাতে রেখে নামাজ আদায় করা উত্তম ও নিরাপদ।

/আশিক


আজকের নামাজের সময় এক নজরে

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৫ ১১:০৬:০০
আজকের নামাজের সময় এক নজরে
ছবি: সংগৃহীত

আজ শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬। পবিত্র জুমার দিনে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নামাজ আদায়ের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজ ঢাকায় জুমার সময় শুরু হবে সকাল ১১টা ৫৮ মিনিটে। মুসল্লিরা এ সময় থেকে জুমার নামাজ আদায় করতে পারবেন। ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ এবং এই দিনে বেশি বেশি ইবাদত, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াত করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আজকের আসরের নামাজের সময় শুরু হবে বিকেল ৪টা ৩২ মিনিটে। এরপর মাগরিবের নামাজের সময় হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে। দিনের শেষ ফরজ নামাজ এশার ওয়াক্ত শুরু হবে রাত ৮টায়।

এদিকে আগামীকাল শনিবারের ফজরের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ভোর ৩টা ৫৫ মিনিটে। এছাড়া আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে সকাল ৫টা ১৯ মিনিটে।

ইসলামি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নামাজ শুধু ফরজ ইবাদতই নয়, বরং এটি মানুষের আত্মিক প্রশান্তি, শৃঙ্খলা এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার অন্যতম মাধ্যম। বিশেষ করে জুমার দিনে সময়মতো নামাজ আদায় এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে মসজিদে যাওয়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত।


হালাল হলেও নবীজি (সা.) অপছন্দ করতেন পশুর যে ৭টি অংশ

ধর্ম ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ১৪ ২১:২৯:১৯
হালাল হলেও নবীজি (সা.) অপছন্দ করতেন পশুর যে ৭টি অংশ
ছবি : সংগৃহীত

ইসলাম কেবল খাবারের হালাল-হারামের সীমারেখাই টেনে দেয়নি, বরং মানুষের রুচি ও স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছে। হালাল পশুর সব অংশই যে সুস্বাদু বা স্বাস্থ্যকর নয়, তা মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়। বিশেষ করে কোরবানির পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাত করার সময় কোন অংশগুলো বর্জনীয়, তা জানা প্রত্যেক মুমিনের জন্য জরুরি।

রক্ত পান করা কেন সরাসরি হারাম?

ইসলামী শরিয়তে প্রবাহিত রক্ত গ্রহণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা হারাম করা হয়েছে। এ বিষয়ে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন

حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ

অর্থাৎ: ‘তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত প্রাণী, রক্ত এবং শূকরের মাংস।’ (সুরা আল-মায়িদা: আয়াত ৩)

এছাড়া সুরা আল-আনআমে প্রবাহিত রক্তের নিষিদ্ধতা সম্পর্কে আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে

قُل لَّآ أَجِدُ فِى مَآ أُوحِىَ إِلَىَّ مُحَرَّمًا عَلَىٰ طَاعِمٍ يَطْعَمُهُۥٓ إِلَّآ أَن يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوحًا

অর্থাৎ: ‘বলুন, আমার প্রতি যে ওহি নাজিল হয়েছে তাতে আমি ভক্ষণকারীর জন্য কোনো খাদ্য হারাম পাই না, তবে মৃত প্রাণী অথবা প্রবাহিত রক্ত হলে (তা হারাম)।’ (সুরা আল-আনআম: আয়াত ১৪৫)

নবীজি (সা.) যে ৭টি অংশ অপছন্দ করতেন

হালাল পশুর গোশত খাওয়া বৈধ হলেও কিছু নির্দিষ্ট অঙ্গ খাওয়ার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সা.) নিরুৎসাহিত করেছেন। তাবেয়ি হজরত মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে

عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَكْرَهُ مِنَ الشَّاةِ سَبْعًا: الدَّمَ، وَالْمَرَارَةَ، وَالْمَثَانَةَ، وَالْغُدَّةَ، وَالذَّكَرَ، وَالْأُنْثَيَيْنِ

অর্থাৎ: ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) বকরির সাতটি জিনিস খাওয়া অপছন্দ করতেন— প্রবাহিত রক্ত, পিত্ত, মূত্রথলি, মাংসগ্রন্থি, নর পশুর গুপ্তাঙ্গ এবং অণ্ডকোষ।’ (সুনানে কুবরা লিল বায়হাকি)

বর্জনীয় অংশগুলোর তালিকা

হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে হালাল পশুর নিম্নোক্ত অংশগুলো পরিহার করা উত্তম ও তাকওয়ার পরিচায়ক

১. প্রবাহিত রক্ত (যা খাওয়া সরাসরি হারাম)।

২. পিত্ত (Gallbladder)।

৩. মূত্রথলি (Urinary Bladder)।

৪. মাংসগ্রন্থি বা চামড়া ও মাংসের মাঝখানে থাকা টিউমার সদৃশ জমাট মাংস।

৫. পুরুষ প্রাণীর গুপ্তাঙ্গ।

৬. স্ত্রী প্রাণীর গুপ্তাঙ্গ।

৭. অণ্ডকোষ (Testicles)।

ইসলাম মানুষকে কেবল পেট ভরার শিক্ষা দেয় না, বরং রুচিশীল ও পবিত্র আহারের মাধ্যমে শারীরিক ও আত্মিক উন্নতির পথ দেখায়। কোরবানির পশু থেকে বর্জনীয় এই অংশগুলো সরিয়ে রাখা রাসুল (সা.)-এর পছন্দকে সম্মান জানানো এবং দ্বীনি সচেতনতারই অংশ।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

কুরবানির চামড়া শিল্প: ন্যায্য মূল্য, বাজার কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জরুরি প্রয়োজন

কুরবানির চামড়া শিল্প: ন্যায্য মূল্য, বাজার কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের জরুরি প্রয়োজন

বাংলাদেশের অর্থনীতি, গ্রামীণ জীবিকা এবং ধর্মীয়-সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হলো কুরবানি ঈদের চামড়া শিল্প। প্রতি বছর... বিস্তারিত