অনিদ্রা দূর করতে রাতের সহজ অভ্যাস

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ ডিসেম্বর ২১ ১৮:২২:১২
অনিদ্রা দূর করতে রাতের সহজ অভ্যাস
ছবি: সংগৃহীত

ব্যস্ত জীবন, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার এবং মানসিক চাপের কারণে অনিদ্রা এখন একটি নীরব জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শুধু ক্লান্তিই বাড়ে না, দীর্ঘমেয়াদে মনোযোগহীনতা, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া, মানসিক অস্থিরতা এবং শারীরিক নানা জটিলতাও দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওষুধের ওপর নির্ভর না করে রাতের কিছু নিয়মিত অভ্যাস বদলালেই অনিদ্রা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

কেন রাতের রুটিন ঘুমে প্রভাব ফেলে

মানুষের শরীর একটি নির্দিষ্ট জৈব ছন্দ অনুযায়ী কাজ করে। রাতে আলো, শব্দ, খাবার ও মানসিক উত্তেজনা এই ছন্দকে বিঘ্নিত করলে ঘুম দেরিতে আসে অথবা গভীর হয় না। ফলে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যাওয়া বা সকালে ক্লান্ত বোধ করার প্রবণতা বাড়ে। সুশৃঙ্খল রাতের রুটিন শরীরকে নিয়মে ফেরাতে সহায়তা করে।

অনিদ্রা দূর করতে রাতের কার্যকর অভ্যাস

নির্দিষ্ট ঘুমের সময়সূচী বজায় রাখা

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা শরীরকে একটি স্থায়ী সংকেত দেয়। ছুটির দিনেও সময়সূচী বদল না করলে ঘুমের গভীরতা ও স্থায়িত্ব বাড়ে।

ঘুমের আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানো

ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও টিভি বন্ধ রাখা জরুরি। এসব ডিভাইসের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়, যা ঘুম আসার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে।

আরামদায়ক প্রাক-ঘুম রুটিন তৈরি করা

হালকা গরম পানিতে গোসল, বই পড়া, ধীর গতির সঙ্গীত শোনা বা কয়েক মিনিটের ধ্যান মস্তিষ্ককে শান্ত করে। এই অভ্যাসগুলো শরীরকে জানিয়ে দেয় যে বিশ্রামের সময় এসেছে।

খাবার ও পানীয়ের বিষয়ে সতর্কতা

রাতে ভারী ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। ক্যাফেইন, অ্যালকোহল ও নিকোটিন স্নায়ুকে উত্তেজিত করে ঘুমের স্বাভাবিক ধাপ নষ্ট করে। ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধ বা ক্যাফেইন-মুক্ত ভেষজ চা আরাম দিতে পারে।

শোবার ঘরের পরিবেশ ঠিক রাখা

ঘুমের জন্য ঘর অন্ধকার, নীরব এবং তুলনামূলক শীতল রাখা সবচেয়ে উপযোগী। তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে শরীর দ্রুত বিশ্রামে যেতে পারে।

ব্যায়ামের সঠিক সময় নির্বাচন

নিয়মিত শরীরচর্চা ঘুমের মান উন্নত করে, তবে শোবার ঠিক আগে ব্যায়াম করলে শরীর অতিরিক্ত সজাগ হয়ে ওঠে। অন্তত চার ঘণ্টা আগে ব্যায়াম শেষ করা ভালো।

দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণের কৌশল

ঘুমানোর আগে মাথায় ঘুরতে থাকা চিন্তাগুলো কাগজে লিখে রেখে নিজেকে আশ্বস্ত করা যেতে পারে যে এগুলো পরদিন ভাবা হবে। এতে মানসিক চাপ কমে এবং ঘুম সহজ হয়।

ঘুম না এলে করণীয়

বিছানায় শুয়ে ১৫ মিনিটের বেশি সময় ঘুম না এলে উঠে অন্য ঘরে গিয়ে শান্ত কোনো কাজ করা ভালো। ঘুম ভাব ফিরে এলে আবার বিছানায় যাওয়া উচিত।

যে অভ্যাসগুলো অনিদ্রা বাড়ায়

দিনের বেলায় দীর্ঘ সময় ঘুমানো, সন্ধ্যার পর ক্যাফেইন গ্রহণ, রাতে পেট ভরে খাওয়া এবং ঘুমের সময় বারবার পরিবর্তন করা অনিদ্রাকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে। এসব অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষ সতর্কতা

অনিদ্রা হঠাৎ তৈরি হয় না, আবার দ্রুত সেরে যায়ও না। তবে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর রাতের অভ্যাস গড়ে তুললে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘুমের মানে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়। দীর্ঘদিন অনিদ্রা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।


ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে একবেলার প্রশান্তি: ঢাকার কাছেই সেরা ৫টি পিকনিক স্পট

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১৮:১৪:২৯
ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে একবেলার প্রশান্তি: ঢাকার কাছেই সেরা ৫টি পিকনিক স্পট
ছবি : সংগৃহীত

রোজার সংযম শেষে ঈদ মানেই পুনর্মিলন। আর এই আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে ঢাকার চারপাশেই গড়ে উঠেছে অসাধারণ সব পর্যটন কেন্দ্র। এবারের ঈদে দর্শনার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকা স্থানগুলো হলো

গাজীপুরের নুহাশ পল্লী ও সাফারি পার্ক

প্রকৃতি ও সাহিত্যের মেলবন্ধন যারা খুঁজছেন, তাদের প্রথম পছন্দ প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের নুহাশ পল্লী। এখানে কৃত্রিমতাহীন গ্রামীণ স্নিগ্ধতা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। অন্যদিকে, অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক অন্যতম আকর্ষণ। উন্মুক্ত পরিবেশে বাঘ, সিংহ ও বন্যপ্রাণী দেখার সুযোগ শিশুদের জন্য এটি একটি বড় শিক্ষণীয় স্থান হয়ে উঠেছে।

বিলাসবহুল রিসোর্ট (সারাহ ও ড্রিম স্কয়ার)

গাজীপুরেই অবস্থিত সারাহ রিসোর্ট তার অত্যাধুনিক সুইমিং পুল ও সবুজ বাগানের জন্য পরিচিত। এছাড়া স্থাপত্য ও প্রকৃতির অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায় ড্রিম স্কয়ার রিসোর্টে। নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে জল ও জঙ্গলের কাব্য একটি অনন্য কাব্যিক গন্তব্য।

জিন্দা পার্ক, রূপগঞ্জ

পরিবেশবান্ধব ভ্রমণের জন্য নারায়ণগঞ্জের জিন্দা পার্ক একটি আদর্শ উদাহরণ। সুপরিকল্পিত লেক, শত প্রজাতির গাছ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে এটি বর্তমানে ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় পিকনিক স্পট।

ঐতিহাসিক সোনারগাঁও ও পানাম সিটি

ইতিহাস প্রেমীদের জন্য পানাম সিটি যেন টাইম মেশিনে অতীতে ফিরে যাওয়া। সারি সারি প্রাচীন ভবন আর তার পাশেই বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর বাংলার লোকজ ঐতিহ্যকে জীবন্ত করে রেখেছে।

বালিয়াটি জমিদার বাড়ি, মানিকগঞ্জ

স্থাপত্যশৈলী ও ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে মানিকগঞ্জের বালিয়াটি জমিদার বাড়ি। বিশাল দালান আর স্মৃতিময় পরিবেশ পর্যটকদের দারুণভাবে টানে।

ঢাকার ভেতরে বিনোদন কেন্দ্র

শহরের ভেতরে হাতিরঝিল এখন আধুনিক আড্ডার কেন্দ্রবিন্দু। সন্ধ্যার আলোকসজ্জা ও ওয়াটার বাস ভ্রমণ ঈদের আনন্দকে রাঙিয়ে দেয়। এছাড়া প্রাতঃভ্রমণকারীদের প্রিয় রমনা পার্ক এবং তরুণদের নতুন আড্ডাস্থল বিচারপতি শাহাবুদ্দিন পার্ক এখন উৎসবমুখর।

ঈদের স্পেশাল রসনাবিলাস

ঘোরার পাশাপাশি খাওয়া-দাওয়ায় ঐতিহ্য ধরে রেখেছে পুরান ঢাকার হাজীর বিরিয়ানি। তবে আধুনিক রুচির তরুণদের ভিড় দেখা যাচ্ছে বনানীর যাত্রা বিরতি, টাগোর টেরেস কিংবা টেরাকোটা টেইলস-এর মতো নান্দনিক রেস্তোরাঁগুলোতে।

/আশিক


পেট ফাঁপা ও বুক ভার ভাব; ঈদের খাবারের পর অস্বস্তি দূর করার সহজ উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ২২ ১০:৪০:৪১
পেট ফাঁপা ও বুক ভার ভাব; ঈদের খাবারের পর অস্বস্তি দূর করার সহজ উপায়
ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই বাহারি সব খাবারের আয়োজন। সেমাই, পোলাও, রোস্ট থেকে শুরু করে খাসির রেজালা—কি নেই মেন্যুতে! তবে এই খুশির জোয়ারে নিজের ঘরের পাশাপাশি আত্মীয়র বাড়িতেও কবজি ডুবিয়ে খাওয়ার পর শুরু হয় আসল বিপত্তি।

অনেকেরই বুক ভার লাগা, পেট ফাঁপা বা হাঁসফাঁস অনুভূতির মতো অস্বস্তিকর সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘ বিরতির পর অতিরিক্ত খাবার খেলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যাওয়ায় এমনটা হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

তবে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, এই অস্বস্তি থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে আপনি কিছু সহজ ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করতে পারেন। খাওয়ার পর পেটে গ্যাস বা ভারী ভাব অনুভূত হলে সাথে সাথেই শুয়ে না পড়ে ১০-১৫ মিনিট হালকা পায়চারি করুন।

এতে হজম প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। টাইট পোশাক এড়িয়ে ঢিলেঢালা পোশাক পরলে পেটের ওপর চাপ কমবে এবং স্বস্তি মিলবে। এছাড়া আদা চা বা পুদিনা পাতা কুচি চিবিয়ে খেলে প্রাকৃতিক উপায়ে গ্যাসের সমস্যা দূর হয়। মনে রাখবেন, অতিরিক্ত ঠান্ডা পানীয় বা কার্বোনেটেড ড্রিংক সাময়িক আরাম দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা হজমের ক্ষতি করতে পারে।

/আশিক


মস্তিষ্কের জন্য ‘স্লো পয়জন’ এই ১১ অভ্যাস! আজই সতর্ক না হলে বিপদ

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১৯:৫৭:৫৭
মস্তিষ্কের জন্য ‘স্লো পয়জন’ এই ১১ অভ্যাস! আজই সতর্ক না হলে বিপদ
ছবি : সংগৃহীত

বাইরে না গিয়ে অন্ধকার ঘরে একা থাকা কিংবা সারাক্ষণ কানে হেডফোন গুঁজে রাখা—শুনতে আরামদায়ক মনে হলেও এগুলো আপনার মস্তিষ্কের জন্য এক ধরনের স্লো পয়জন। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলসহ বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানের গবেষণা বলছে, আমাদের দৈনন্দিন কিছু অনিয়মিত অভ্যাস তিলে তিলে ব্রেনকে অকেজো করে দিচ্ছে। আপনার মস্তিষ্ককে রক্ষা করতে এবং এর কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে যে ১১টি অভ্যাস দ্রুত বদলানো প্রয়োজন, তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো

ঘুমের অভাব

২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম মস্তিষ্কের জন্য বাধ্যতামূলক। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক নিজের বিষাক্ত পদার্থ পরিষ্কার করে নতুন কোষ তৈরি করে। কম ঘুমালে স্মৃতিশক্তি কমে যায় এবং ভবিষ্যতে অ্যালঝেইমার্স বা স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়ে। তাই ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে সব গ্যাজেট বন্ধ রাখুন এবং অন্ধকার ও আরামদায়ক পরিবেশে ঘুমানোর অভ্যাস করুন।

সকালের নাস্তা না খাওয়া

সারা রাত না খেয়ে থাকার পর মস্তিষ্ক চালানোর প্রধান জ্বালানি আসে সকালের নাস্তা থেকে। এটি বাদ দিলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে মস্তিষ্কের কোষের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়।

পর্যাপ্ত পানি পান না করা

আমাদের মস্তিষ্কের ৭৫ শতাংশই পানি। শরীরে পানি কম হলে মস্তিষ্কের টিস্যু সংকুচিত হয়ে যায়, যা আপনার চিন্তা করার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই সারাদিনে অন্তত ২ লিটার পানি পান নিশ্চিত করুন।

অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও বিশ্রামহীনতা

অসুস্থ অবস্থায় কাজ করা বা সারাক্ষণ স্ট্রেসের মধ্যে থাকলে মস্তিষ্কের কোষ মারা যায়। যারা সব কাজ নিখুঁত করতে চান বা কাউকে 'না' বলতে পারেন না, তারা এই ঝুঁকিতে বেশি থাকেন। শরীর খারাপ থাকলে জোর করে কাজ না করে মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেওয়া উচিত।

অলস জীবনযাপন

সারাদিন শুয়ে-বসে থাকলে শুধু শরীর নয়, মস্তিষ্কও স্থবির হয়ে পড়ে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে। তাই সপ্তাহে অন্তত ৩ দিন ৩০ মিনিট করে হাঁটার অভ্যাস করুন।

প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা

ছোটখাটো হিসাব বা সাধারণ তথ্যের জন্য সবসময় গুগলের ওপর নির্ভর করবেন না। এতে ব্রেনের নিজস্ব ক্ষমতা কমে যায়। স্মৃতিশক্তি ধারালো রাখতে ধাঁধা মেলানো, বই পড়া বা ফোন নম্বর মুখস্থ রাখার চেষ্টা করুন।

হেডফোনে উচ্চশব্দে গান শোনা

হেডফোনে ৩০ মিনিটের বেশি জোরে গান শুনলে শ্রবণশক্তি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর শ্রবণশক্তি কমলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কের টিস্যুর ওপর। ভলিউম সবসময় ৬০ শতাংশের নিচে রাখার চেষ্টা করুন।

একাকীত্ব ও অসামাজিক হওয়া

মানুষের সাথে মেলামেশা মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত রাখে। দীর্ঘ সময় একা থাকলে বিষণ্নতা বাড়ে এবং ব্রেন দ্রুত বুড়িয়ে যায়। তাই প্রিয়জন ও ইতিবাচক মানুষের সাথে সময় কাটান।

নেতিবাচক চিন্তা

"আমাকে দিয়ে কিছু হবে না"—এমন চিন্তা মস্তিষ্কে ক্ষতিকর প্রোটিন জমা করে, যা ডিমেনশিয়ার কারণ হতে পারে। নেতিবাচক খবর বা মানুষ এড়িয়ে ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করুন।

অন্ধকার ঘরে থাকা

মস্তিষ্কের জন্য সূর্যের আলো ও প্রাকৃতিক বাতাস খুব জরুরি। দীর্ঘ সময় অন্ধকার বা বদ্ধ ঘরে থাকলে ডিপ্রেশন বাড়ে। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় রোদে যান বা ঘরের জানালা খোলা রাখুন।

ভুল খাদ্যাভ্যাস ও অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম

অতিরিক্ত চিনি, জাঙ্ক ফুড এবং মদ্যপান মস্তিষ্কের স্নায়ু সংকুচিত করে দেয়। এছাড়া মোবাইল বা ল্যাপটপের অতিরিক্ত ব্যবহার (বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে) মস্তিষ্কের গঠন পাতলা করে দেয়। ঘুমানোর সময় ফোন মাথা থেকে দূরে রাখুন এবং পরিমিত পুষ্টিকর খাবার খান।

সূত্র : বিবিসি বাংলা


ঈদ শপিংয়ে অনলাইন জালিয়াতি থেকে বাঁচবেন যেভাবে; ৬টি জরুরি টিপস

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৭ ১২:৩৯:২০
ঈদ শপিংয়ে অনলাইন জালিয়াতি থেকে বাঁচবেন যেভাবে; ৬টি জরুরি টিপস
ছবি : সংগৃহীত

অনলাইন কেনাকাটার জনপ্রিয়তা বাড়ার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে ফেসবুক বা বিভিন্ন ভুয়া ওয়েবসাইটে আকর্ষণীয় অফারের আড়ালে ওত পেতে থাকে জালিয়াতরা। একটু অসতর্ক হলেই শখের কেনাকাটা পরিণত হতে পারে দুঃস্বপ্নে। অনলাইন শপিংয়ে প্রতারণা এড়াতে এবং আপনার শপিংকে নিরাপদ করতে বিশেষজ্ঞরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রথমেই ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। ব্রাউজারের অ্যাড্রেস বারে ‘https’ এবং একটি লক (Lock) আইকন আছে কি না তা দেখে নিন। ভুয়া বা ফিশিং সাইটে সাধারণত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে না। এছাড়া অপরিচিত কোনো পেজ বা সাইট থেকে অর্ডারের আগে অবশ্যই তাদের কাস্টমার রিভিউ ও রেটিং যাচাই করে নেওয়া উচিত। অনেক সময় অবিশ্বাস্য ছাড়ের (যেমন: ৮০-৯০ শতাংশ ডিসকাউন্ট) প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা হয়, যা আসলে একটি বড় ফাঁদ।

লেনদেনের ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। যেকোনো সাইটে নিজের কার্ডের তথ্য বা পিন নম্বর দেওয়ার আগে তার বিশ্বস্ততা যাচাই করুন। সম্ভব হলে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ বা পণ্য হাতে পেয়ে টাকা দেওয়ার অপশনটি বেছে নিন। ডেলিভারি ও রিটার্ন পলিসি আগেভাগেই পড়ে রাখা ভালো, যাতে পণ্য পছন্দ না হলে বা ভুল পণ্য এলে ফেরত দেওয়া সহজ হয়। মনে রাখবেন, ই-মেইল বা মেসেজে আসা অজানা কোনো লিংকে ক্লিক করে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা মানেই নিজেকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া।

/আশিক


দৃষ্টিহীনের চোখে ফিরবে আলো! লিকুইড কর্নিয়ায় বিজ্ঞানের অবিশ্বাস্য সাফল্য

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৬ ১২:২৩:৫৮
দৃষ্টিহীনের চোখে ফিরবে আলো! লিকুইড কর্নিয়ায় বিজ্ঞানের অবিশ্বাস্য সাফল্য
ছবি : সংগৃহীত

দৃষ্টিহীনের চোখের আলো ফেরাতে এবার বিজ্ঞানের এক বিস্ময়কর আবিষ্কার হিসেবে হাজির হয়েছে ‘লিকুইড কর্নিয়া’। বয়সজনিত কারণে বা কোনো দুর্ঘটনায় যাদের দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে গেছে কিংবা যারা পুরোপুরি অন্ধত্বের শিকার, তাদের জন্য এটি হতে পারে এক নতুন আশার আলো। এতদিন এই সমস্যার একমাত্র সমাধান ছিল কর্নিয়া প্রতিস্থাপন, যা অত্যন্ত জটিল, সময়সাপেক্ষ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু বেঙ্গালুরুর বিজ্ঞানীদের তৈরি এই বায়ো-পলিমার চিকিৎসা বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে যাচ্ছে।

লিকুইড কর্নিয়া মূলত হাইড্রোজেল দিয়ে তৈরি এক ধরনের বিশেষ বায়ো-পলিমার। এতে কোলাজেন, ফাইব্রিনোজোন এবং স্টেম কোষের মিশ্রণ থাকে, যা চোখের ভেতরে নতুন কোষ তৈরি করতে সক্ষম। এটি ইনজেকশনের মাধ্যমে চোখে প্রবেশ করানো হবে এবং কর্নিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে গিয়ে তা ধীরে ধীরে আসল কর্নিয়ার মতোই একটি স্বচ্ছ স্তর গঠন করবে। এর মধ্য দিয়ে আলোকরশ্মি রেটিনায় প্রবেশ করতে পারবে, ফলে দৃষ্টিহীন ব্যক্তি ফিরে পাবেন তাঁর স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি।

যাদের কর্নিয়া অস্বচ্ছ হয়ে গেছে, কর্নিয়াল আলসার হয়েছে কিংবা সংক্রমণের কারণে চোখে স্থায়ী দাগ পড়ে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে এই লিকুইড কর্নিয়া জাদুর মতো কাজ করবে। প্রচলিত কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে মৃত দাতার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা এবং নিখুঁত অস্ত্রোপচারের যে ঝুঁকি থাকে, লিকুইড কর্নিয়ার ক্ষেত্রে সেই ভয় নেই। বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, এটি অবিকল আসল কর্নিয়ার মতোই আচরণ করবে এবং কোনো জটিলতা ছাড়াই চোখের ভেতরেই নতুন কর্নিয়া তৈরি হবে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের এই অভাবনীয় সাফল্য অন্ধত্ব নিবারণে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


ঈদের আগে চুলের জেল্লা ফেরাতে টক দই; ট্রাই করুন এই ৪টি জাদুকরী মাস্ক

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৫ ১২:৪৮:২৮
ঈদের আগে চুলের জেল্লা ফেরাতে টক দই; ট্রাই করুন এই ৪টি জাদুকরী মাস্ক
ছবি : সংগৃহীত

সামনেই খুশির ঈদ। উৎসবের এই দিনটিতে নিজেকে সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখাতে ত্বকের পাশাপাশি চুলের যত্ন নেওয়া খুবই প্রয়োজন। ঈদের আগে চুলের হারানো স্বাস্থ্য ও উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে রান্নাঘরের সাধারণ উপকরণ টক দই হতে পারে আপনার সেরা সমাধান। টক দই দিয়ে তৈরি করা যায় এমন ৪টি কার্যকরী হেয়ার মাস্কের বিস্তারিত দেওয়া হলো

১. উজ্জ্বলতা ও আর্দ্রতা ফেরাতে দই-মধু-অলিভ অয়েল

দইয়ের সঙ্গে মধু ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে একটি মাস্ক তৈরি করুন। এটি চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে হালকা শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। দই ও মধু চুলকে প্রাকৃতিকভাবে ময়েশ্চারাইজ করে, আর অলিভ অয়েল চুলের গভীরে গিয়ে আর্দ্রতা ধরে রাখে। এটি চুলকে কন্ডিশনড এবং চকচকে করে তোলে।

২. ভঙ্গুর চুলের যত্নে দই ও ডিম

দুর্বল ও ভেঙে যাওয়া চুলের জন্য প্রোটিন মাস্ক অত্যন্ত জরুরি। একটি আস্ত ডিমের সঙ্গে চার চামচ দই ভালো করে ফেটিয়ে নিন। চুলের ডগা বেশি শুষ্ক হলে শুধু ডিমের কুসুম ব্যবহার করা ভালো। মিশ্রণটি চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। ডিমের ন্যাচারাল পেপটাইড চুলের ক্ষতি পূরণ করে চুলকে মজবুত করে। মনে রাখবেন, এই মাস্ক ব্যবহারের পর চুল অবশ্যই ঠান্ডা পানি দিয়ে ধোবেন।

৩. মাথার ত্বকের অস্বস্তি কমাতে দই ও অ্যালোভেরা

গরমের ঘাম থেকে হওয়া মাথার ত্বকের চুলকানি বা ফোলা ভাব কমাতে ৩ চামচ দইয়ের সঙ্গে ২ চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিন। অ্যালোভেরার এনজাইম মাথার ত্বকের মৃত কোষ মেরামত করে এবং দইয়ের সাথে মিলে ত্বককে ঠান্ডা রাখে। মিশ্রণটি ৩০-৪৫ মিনিট রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

৪. চুল পড়া বন্ধ করতে দই ও মেথি

যাদের অতিরিক্ত চুল পড়ছে বা চুল পাতলা হয়ে যাচ্ছে, তাদের জন্য মেথি ও দইয়ের মিশ্রণ আদর্শ। মেথিতে থাকা নিকোটিনিক অ্যাসিড ও প্রোটিন চুল পড়া আটকায়। ১ চামচ মেথি গুঁড়ো বা বাটা মেথির সঙ্গে ৩ চামচ দই মিশিয়ে ১৫ মিনিট রেখে দিন। এরপর এটি মাথার ত্বকে ম্যাসাজ করে ৪০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

/আশিক


মাস শেষে বিল দেখে কপালে ভাঁজ? জেনে নিন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সাশ্রয়ের ৭টি ম্যাজিক টিপস!

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১৯:২৫:৫০
মাস শেষে বিল দেখে কপালে ভাঁজ? জেনে নিন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সাশ্রয়ের ৭টি ম্যাজিক টিপস!
ছবি : সংগৃহীত

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান দামের এই সময়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বিল কমানো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো জনবহুল শহরগুলোতে যেখানে জীবনযাত্রার খরচ আকাশচুম্বী, সেখানে কিছু ছোট কিন্তু কার্যকর অভ্যাস আপনার মাসিক খরচ অনেকাংশেই কমিয়ে দিতে পারে। জীবনযাত্রায় সামান্য সচেতনতা ফিরিয়ে আনলে কীভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল সাশ্রয় করা সম্ভব, তার ৭টি কার্যকরী কৌশল নিচে আলোচনা করা হলো।

১. বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী অভ্যাস গড়ে তোলা

ঘর থেকে বের হওয়ার আগে লাইট, ফ্যান এবং এয়ার কন্ডিশনারের সুইচ বন্ধ করার অভ্যাস করা সবচেয়ে প্রাথমিক পদক্ষেপ। দিনের বেলা যতটা সম্ভব জানালা খুলে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহারের চেষ্টা করুন। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টার সচেতনতা মাস শেষে আপনার বিলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

২. এনার্জি সেভিং বা এলইডি বাল্বের ব্যবহার

পুরনো ফিলামেন্ট বাল্ব বা সাধারণ টিউবলাইটের তুলনায় এলইডি (LED) বাল্ব ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এলইডি বাল্বগুলো সাধারণ বাল্বের চেয়ে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। দীর্ঘস্থায়ী এবং সাশ্রয়ী হওয়ায় ঘরের সব লাইট পর্যায়ক্রমে এলইডিতে রূপান্তর করা উচিত।

৩. ফ্রিজ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতির সঠিক ব্যবহার

ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা বা দীর্ঘক্ষণ খোলা রাখলে ভেতরে ঠান্ডা বজায় রাখতে কম্প্রেসরকে বেশি কাজ করতে হয়, যা বিল বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া ফ্রিজে গরম খাবার সরাসরি রাখা থেকে বিরত থাকুন। টিভি, মাইক্রোওভেন বা কম্পিউটার ব্যবহার শেষে শুধু রিমোট দিয়ে বন্ধ না করে সরাসরি প্লাগ পয়েন্ট থেকে সুইচ বন্ধ করা ভালো, কারণ স্ট্যান্ডবাই মোডেও সামান্য বিদ্যুৎ খরচ হয়।

৪. এসির তাপমাত্রা ও রক্ষণাবেক্ষণ

গরমের দিনে এসি চালানোর সময় তাপমাত্রা সর্বদা ২৪ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করে রাখুন। এর ফলে কম্প্রেসরের ওপর চাপ কম পড়ে এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। পাশাপাশি এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে এর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এবং বিদ্যুৎ বিল কম আসে।

৫. গ্যাসের চুলা ও আগুনের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার

রান্নার ক্ষেত্রে পাত্রের আকার অনুযায়ী আগুনের শিখা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। ছোট পাত্রে অতিরিক্ত আগুন দিলে তা হাঁড়ির পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং গ্যাসের অপচয় হয়। এ ছাড়া রান্নার আগে সব মসলা ও সবজি গুছিয়ে নিয়ে চুলা জ্বালালে গ্যাস সাশ্রয় হয়। রান্না শেষে চুলা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা নিরাপত্তার জন্যও জরুরি।

৬. প্রেসার কুকার ও ঢাকনা ব্যবহার

ডাল বা মাংসের মতো শক্ত খাবার দ্রুত সেদ্ধ করার জন্য প্রেসার কুকার ব্যবহার করা সবচেয়ে সেরা উপায়। এটি রান্নার সময় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমিয়ে দেয়, ফলে গ্যাস খরচও কমে। এ ছাড়া সাধারণ হাঁড়িতে রান্না করার সময় সব সময় ঢাকনা ব্যবহার করুন, এতে খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়।

৭. নিয়মিত সার্ভিসিং ও সচেতনতা

বৈদ্যুতিক লাইনে কোনো লিকেজ বা পুরনো ওয়্যারিং থাকলে বিদ্যুৎ অপচয় বেশি হয়। তাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে ঘরের ওয়্যারিং পরীক্ষা করা উচিত। গ্যাস লাইনের লিকেজ রোধে নিয়মিত পরীক্ষা করা শুধু বিল নয়, জীবন রক্ষার জন্যও প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সাশ্রয় কেবল আপনার ব্যক্তিগত সঞ্চয় বাড়ায় না, এটি জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখে। এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করলে আপনি মাস শেষে সাশ্রয়ী ও নিশ্চিন্ত জীবন উপভোগ করতে পারবেন।

/আশিক


অতিরিক্ত ওজন কি আপনার সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য কেড়ে নিচ্ছে? জেনে নিন বাঁচার উপায়

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১২:৪৮:০০
অতিরিক্ত ওজন কি আপনার সৌন্দর্য ও স্বাস্থ্য কেড়ে নিচ্ছে? জেনে নিন বাঁচার উপায়
ছবি : সংগৃহীত

বর্তমান বিশ্বে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন কেবল একটি শারীরিক গঠনগত সমস্যা নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি আসক্তি এবং অলস জীবনযাপন এই সমস্যার প্রধান কারণ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সময়মতো স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ না করলে এটি হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো প্রাণঘাতী রোগের পথ প্রশস্ত করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থূলতা প্রতিরোধের প্রধান হাতিয়ার হলো সচেতনতা। প্রাকৃতিক ও পুষ্টিগুণ সম্পন্ন খাবার গ্রহণ এবং অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার বর্জন করার মাধ্যমেই ওজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সুষম খাদ্যাভ্যাস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী সুস্থতা নিশ্চিত করে। খাবারের পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রমের গুরুত্বও অপরিসীম। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করলে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি পুড়ে যায় এবং হৃদযন্ত্র সচল থাকে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে ঘুমের ভূমিকাও অনস্বীকার্য। আধুনিক জীবনে ঘুমের স্বল্পতা স্থূলতার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে, যা ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই একটি সুস্থ ও রোগমুক্ত জীবন পেতে হলে পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। স্থূলতাকে জয় করতে হলে আজই জীবনধারায় পরিবর্তন আনা জরুরি।

তথ্যসূত্র: সামাটিভি।


ঝাল মাংস তো অনেক হলো, এবার ঈদে পাতে থাকুক জিভে জল আনা সাদা কোরমা

জীবনযাপন ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মার্চ ১৪ ১২:৩৮:৪৯
ঝাল মাংস তো অনেক হলো, এবার ঈদে পাতে থাকুক জিভে জল আনা সাদা কোরমা
ছবি : সংগৃহীত

আসন্ন ঈদুল ফিতরের আনন্দকে দ্বিগুণ করতে খাবারের মেনুতে থাকা চাই রাজকীয় ছোঁয়া। ঈদের সকালে বা দুপুরের পোলাওয়ের সাথে যদি থাকে সুস্বাদু চিকেন কোরমা, তবে তো কথাই নেই। ঝাল মাংসের পাশাপাশি এবার রান্নায় ভিন্নতা আনতে আপনি সহজেই তৈরি করতে পারেন এই পদটি। আপনার দেওয়া রেসিপি অনুযায়ী সাদা পোলাওয়ের সাথে খাওয়ার উপযোগী করে নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

শাহী চিকেন কোরমা তৈরির উপকরণ

মুরগি: ১টি (মাঝারি সাইজ)

আলু: ২টি (টুকরো করে কাটা)

বাটা মসলা: পেঁয়াজ বাটা ১/৪ কাপ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, জিরা বাটা ১ চা চামচ।

আস্ত মসলা ও ফোড়ন: দারুচিনি ২টি, এলাচ ৪টি, তেজপাতা ২টি, কাঁচামরিচ ৪টি।

রান্নার বিশেষ উপকরণ: টক দই বা দুধ ১/২ কাপ, চিনি ১ চা চামচ, লেবুর রস ১ টেবিল চামচ, কিশমিশ ৭/৮টি, গরম মসলা গুঁড়া ১/২ চা চামচ।

তেল ও ঘি: তেল ১ কাপ, ঘি ১ টেবিল চামচ।

লবণ: পরিমাণমতো।

রান্নার সঠিক প্রস্তুতি ও ধাপসমূহ

প্রথমে মুরগির মাংস ভালো করে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এখন আলু, কাঁচামরিচ, কিশমিশ, লেবুর রস, চিনি, দুধ/দই ও ঘি বাদে বাকি সব বাটা মসলা ও লবণ দিয়ে মাংসটি মেখে ৩০ মিনিট রেখে দিন। এতে মাংসের ভেতর পর্যন্ত মসলার স্বাদ পৌঁছাবে।

কড়াইতে তেল গরম করে প্রথমে আলুগুলো হালকা লাল করে ভেজে তুলে রাখুন। এরপর সেই তেলেই ম্যারিনেট করা মাংস দিয়ে কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করুন। এবার আস্ত গরম মসলা (এলাচ, দারুচিনি, তেজপাতা) ও ভাজা আলু দিয়ে ২৫-৩০ মিনিট সময় নিয়ে ভালো করে কষিয়ে নিন।

মাংস কষানো হয়ে গেলে পরিমাণমতো গরম পানি দিন। ঝোল ফুটে উঠলে চুলার আঁচ কমিয়ে ঢেকে রান্না করুন। ঝোল ঘন হয়ে এলে ওপর থেকে টক দই বা দুধ দিয়ে দিন। নামানোর ঠিক আগ মুহূর্তে দুধ দিলে কোরমার রঙ সাদাটে ও শাহী ভাব বজায় থাকে।

রান্না প্রায় শেষ পর্যায়ে এলে কিশমিশ, লেবুর রস, চিনি, কাঁচামরিচ ও ঘি ছড়িয়ে দিন। এরপর ৫ মিনিটের জন্য দমে রাখুন। যখন মাংসের ওপর তেল ভেসে উঠবে, তখন চুলা বন্ধ করে দিন।

পাঠকের মতামত: