নির্বাচন নিয়ে কেউ কেউ গাছে কাঁঠাল রেখে গোঁফে তেল দিচ্ছেন: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ১৯ ১৫:৪৫:৪৭
নির্বাচন নিয়ে কেউ কেউ গাছে কাঁঠাল রেখে গোঁফে তেল দিচ্ছেন: জামায়াত আমির
ছবিঃ সংগৃহীত

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ মহল এখনই ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি মন্তব্য করেছেন, কেউ কেউ 'গাছে কাঁঠাল রেখে গোঁফে তেল' দিচ্ছেন এবং পেশিশক্তি ও কালো টাকার জোরে অন্যের ভোট ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছেন। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর কাফরুল দক্ষিণ থানা জামায়াতের এক প্রীতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এই অসাধু চক্রের উদ্দেশে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যুবকদের ভোট নিয়ে কোনো ছিনিমিনি খেলা বরদাস্ত করা হবে না। ডাকাতরা যেন ভোট চুরির দুঃসাহস না দেখায়, কারণ প্রয়োজন হলে যুবকরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিস্ফোরিত হবে। তিনি তরুণদের আশ্বস্ত করে বলেন, তাদের পছন্দের প্রার্থীকেই তারা ভোট দেবে, জামায়াত তাদের ভোটাধিকার রক্ষায় পাহারাদারের ভূমিকা পালন করবে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মামলার রায় প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে মজলুম মানুষের কান্না কিছুটা হলেও থামবে এবং স্বজনহারা পরিবারগুলো সাময়িক সান্ত্বনা পাবে। বিচারপ্রক্রিয়াটি সরাসরি সম্প্রচারিত হওয়ায় একে ন্যায়বিচারের মানদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সরকার ও বিচার বিভাগকে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জামায়াত কারও ওপর অবিচার চায় না, এমনকি প্রতিপক্ষের ওপরও নয়। ক্ষমতায় গেলে তারা কারও সম্পদ কেড়ে নেবে না, বরং বিত্তশালীদের সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

দেশের অর্থনীতি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ যদি চাঁদাবাজমুক্ত হয়, তবে উন্নয়নের গতি বহুগুণ বেড়ে যাবে এবং দ্রব্যমূল্য অর্ধেকে নেমে আসবে। তিনি অভিযোগ করেন, উৎপাদন পর্যায় থেকে শুরু করে ফুটপাতের হকার পর্যন্ত সবাই এখন চাঁদাবাজির শিকার। তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন যে, ভবিষ্যতে কাউকে ব্যবসা করতে গিয়ে কোনো দলের বা গোষ্ঠীর মুখাপেক্ষী হতে হবে না। বাপ-দাদার জমিদারি মনে করা চাঁদাবাজদের সমাজ থেকে নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একইসঙ্গে ফুটপাতের হকারদের জন্য সম্মানজনক পুনর্বাসনের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে পড়া দুর্নীতির বিষবাষ্প দূর না হওয়া পর্যন্ত তাদের লড়াই থামবে না। বিচার বিভাগের মর্যাদা পুনরুদ্ধারের ওপর জোর দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বিচারকদের এমন সম্মানের আসনে থাকা উচিত যেন কেউ তাদের প্রভাবিত করার সাহস না পায়। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, একসময় বিচারকদের যে গাম্ভীর্য ও সম্মান ছিল, তা আজ নেই। পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে, বিচার করতে করতে শেষ পর্যন্ত পালাতে গিয়ে কাউকে কাউকে কলাপাতায় ঘুমানোর মতো পরিস্থিতিতেও পড়তে হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও বিমা খাতসহ লুণ্ঠিত হওয়া জনগণের সম্পদ পুনরুদ্ধারেও তার দল লড়াই চালিয়ে যাবে বলে জানান।

পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে দলের অবস্থান পরিষ্কার করে শফিকুর রহমান বলেন, সভ্য সব দেশের সঙ্গেই তারা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চান, তবে কারও প্রভুত্ব মেনে নেওয়া হবে না। একটি স্বাধীন দেশের মতোই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র হবে।

নারীদের কর্মসংস্থান ও কর্মঘণ্টা নিয়ে তার আগের একটি বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ইনসাফের স্বার্থেই নারীদের কর্মঘণ্টা কমানোর কথা বলা হয়েছিল, যা অনেকে ভুল ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি মনে করেন, একজন নারী শুধু কর্মী নন, তিনি একটি পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু এবং একজন মা। কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিলে নারীরা পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ শেষ করে পরিবারের ও সন্তানের যত্ন নিতে পারবেন, যা দিনশেষে সমাজ ও রাষ্ট্রকেই শক্তিশালী করবে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে নারীরা যেভাবে কাজ করছেন, ভবিষ্যতে তাদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আরও ভালো কর্মপরিবেশ তৈরি করা হবে। সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন।


সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: জামায়াত আমির

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১১:২৩:২০
সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: জামায়াত আমির
ছবি : সংগৃহীত

২১ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ভাষা দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান তিনি। বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, “২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের গৌরবময় ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস’। ১৯৫২ সালে এ দেশের ছাত্র-যুবসমাজ বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার দাবিতে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে তোলে।

আন্দোলন দমনে তৎকালীন রাষ্ট্রীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মিছিলকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অনেকেই শাহাদাতবরণ করেন। বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। আমি মহান আল্লাহর কাছে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।” তিনি বলেন, ‘২১ ফেব্রুয়ারি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃত। এটি ভাষাশহীদদের প্রতি বৈশ্বিক সম্মান ও স্বীকৃতির প্রতীক। বাংলা ভাষাকে যথাযথ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক জীবনের সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিকে সম্প্রসারণ ও সুরক্ষিত রাখতে সচেষ্ট হতে হবে। তবেই ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশবাসী এমন এক সময়ে ভাষা দিবস পালন করতে যাচ্ছে, যখন বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে পতিত ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।’ বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, ‘দেশের মানুষের প্রত্যাশা—নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার, ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে। জনগণ যেন জানমাল ও ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তা বজায় রেখে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।’

তিনি আরো বলেন, “২১ ফেব্রুয়ারি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজনের মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনের জন্য আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সব শাখা ও দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

/আশিক


যশোরে তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ অফিসে ছবি টাঙালো ছাত্রলীগ

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১০:৪৭:১৬
যশোরে তালা ভেঙে আওয়ামী লীগ অফিসে ছবি টাঙালো ছাত্রলীগ
আ.লীগ কার্যালয় খুলে টানানো ছবি। ছবি : সংগৃহীত

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি টাঙানো হয়েছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত দুই মিনিট ১৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যার পর তারাবির নামাজের সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন ৩০ থেকে ৩৫ জন।

এরপর তারা কার্যালয়ের দেয়ালে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি টাঙিয়ে দেন। ওই সময় ‘জয় বাংলা‘ স্লোগান দিতে শোনা যায়। এরপর ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশে হাসবে’, ‘বিপুল ভাই ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ স্লোগান দিতে দিতে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন তারা।

স্থানীয়রা জানান, আওয়ামী লীগ অফিসে তালা ভেঙে ঢুকে পড়া যুবকরা বাঘারপাড়া ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। তারা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বিপুল ফারাজীর অনুসারী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা বিতাড়িত হওয়ার পর থেকে বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল।

এ বিষয়ে বাঘারপাড়া থানার ওসি মাহমুদুল হাসান জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

/আশিক


১৭ বছর পর ক্ষমতায় এসে এমন আচরণ কাম্য নয়: রুমিন ফারহানা

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২১ ১০:০২:০৩
১৭ বছর পর ক্ষমতায় এসে এমন আচরণ কাম্য নয়: রুমিন ফারহানা
ছবি : সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ফুল দেওয়ার সময় চরম হট্টগোলের সম্মুখীন হন। পরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খুলেছেন নবনির্বাচিত এই এমপি।

সংবাদমাধ্যমকে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিএনপির কিছু লোক আমার নেতাকর্মীদের ওপর রীতিমতো হামলা করেছে। আমাকে একপাশে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়।’ নিজের দলের কর্মীদের এমন আচরণে তিনি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপিকে বলব, ১৭ বছর পর তারা ক্ষমতায় এসেছে। লোকাল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। বিএনপির নতুন সরকার এসেছে। আশা করি, তারা দল ও সরকার হিসেবে এসব উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীদের ব্যাপারে তড়িৎ ব্যবস্থা নেবে।’ এই ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

/আশিক


ঢাকায় ১০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান ইশরাকের

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১৪:০০:৩৮
ঢাকায় ১০ দিনের অ্যাকশন প্ল্যান ইশরাকের
ছবি: সংগৃহীত

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং ইশরাক হোসেন, যিনি বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে একটি ধাপভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি ঢাকা-৬ আসনকেন্দ্রিক জনদুর্ভোগ কমানো, আইনশৃঙ্খলা জোরদার এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে তাৎক্ষণিক ও মধ্যমেয়াদি পদক্ষেপের রূপরেখা তুলে ধরেন।

প্রথম ১০ দিনের তাৎক্ষণিক উদ্যোগ

রমজানে গ্যাস সংকট নিরসনে তিতাস গ্যাসের প্রকৌশলীদের সরাসরি মাঠপর্যায়ে কাজের নির্দেশ দেওয়া হবে। বাসাবাড়িতে সংযোগজনিত সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। গ্যাস সরবরাহের চাপ বৃদ্ধি নিয়ে উচ্চপর্যায়ে বৈঠকও হবে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে থানা-ওসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা আয়োজন করে প্রতিরোধমূলক টহল জোরদার করা হবে। ছিনতাই, চুরি ও সড়ক অপরাধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা জানানো হয়েছে।

মাদকবিরোধী অবস্থান আরও কঠোর করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, মাদক স্পট বন্ধ, রুট নিষ্ক্রিয়করণ এবং চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা হবে। বিদেশে অবস্থানরতদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে গোপন নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং ডিএসসিসি ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে যৌথ অভিযান চালানো হবে। মজুতদারি ও অস্বাভাবিক মুনাফার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

যানজট নিরসনে ঢাকা মহানগর পুলিশ–এর ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হবে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, অবৈধ পার্কিং অপসারণ এবং ফুটপাত দখলমুক্তের উদ্যোগ থাকবে।

ঈদের আগে ও পরবর্তী পর্যায়ের কর্মসূচি

ঈদকে সামনে রেখে ওয়ার্ডভিত্তিক সড়ক পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হবে। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, খোলা নর্দমা স্ল্যাব দিয়ে ঢেকে দেওয়া এবং আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন ক্যামেরা দিয়ে পরীক্ষা করে ব্লক অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত তদারকি, নির্ধারিত স্থানে ময়লা ফেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং সড়ক পরিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করা হবে। ধুলাপ্রবণ এলাকায় পানি ছিটানো গবেষণাভিত্তিক সমীক্ষার মাধ্যমে পরিচালনার কথাও বলা হয়েছে।

পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক পর্যালোচনা করে যেখানে প্রয়োজন সেখানে নতুন সংযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি স্ট্রিট লাইট মেরামত ও নতুন আলোকসজ্জা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে থানা পুলিশ, ট্রাফিক বিভাগ, ভোক্তা অধিকার সংস্থা, ডিএসসিসি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রকৌশল বিভাগ, ঢাকা ওয়াসা এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


"আই হ্যাভ এ প্ল্যান" বাস্তবায়ন শুরু 

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২০ ১০:০৮:১৭
"আই হ্যাভ এ প্ল্যান" বাস্তবায়ন শুরু 
ছবি: সংগৃহীত

সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগেই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পাইলট আকারে কার্যক্রম শুরু করে ধাপে ধাপে দেশের প্রায় ৫ কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান–এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের জানান, কর্মসূচিটি হবে সর্বজনীন এবং এতে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা বা মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না। বাস্তবায়ন কাঠামো চূড়ান্ত করতে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী–এর নেতৃত্বে একটি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে, যা তিন দিনের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন দেবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, ফ্যামিলি কার্ড দ্রুত বিতরণ শুরু হবে এবং ঈদের আগেই অন্তত পরীক্ষামূলকভাবে কার্যক্রম চালু করা হবে। কার্ড সরাসরি পরিবারের নারীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে। বর্তমানে চালু থাকা ভাতা কর্মসূচিগুলো বহাল থাকবে, তবে ফ্যামিলি কার্ডে প্রদত্ত অর্থ আগের যেকোনো ভাতার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। আগামী ছয় মাসের মধ্যে অন্তত ৫০ শতাংশ বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী আমিন উর রশীদ বলেন, প্রথম ধাপে হতদরিদ্র নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং তাদের হাতে মাসিক ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা পৌঁছাতে পারে। কোন ভিত্তিতে নির্বাচন করা হবে—এ বিষয়ে তিনি জানান, কিছু নির্ধারিত অঞ্চল দিয়ে শুরু করা হবে; পরে ধাপে ধাপে বিস্তৃত করা হবে।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এটি ছিল ক্ষমতাসীন দলের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, প্রাথমিকভাবে অতি দরিদ্র পরিবার দিয়ে শুরু করে পরে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন তদারকিতে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাগণ, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ একাধিক সচিব। কমিটি ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন দেবে।

কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, সুবিধাভোগী নির্বাচনের মানদণ্ড নির্ধারণ, ডিজিটাল ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম প্রণয়ন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র ও ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডেটাবেসের সমন্বয়ে ডেটাবেস তৈরির সুপারিশ করবে কমিটি। প্রথম পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের প্রতিটিতে একটি করে উপজেলায় পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

একই বৈঠকে জাতীয় পর্যায়ে নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, ১৮০ দিনের মধ্যে খাল খনন কর্মসূচির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দৃশ্যমান হবে। পানিসম্পদ, স্থানীয় সরকার, কৃষি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এই চার মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সামাজিক সুরক্ষা জালের সম্প্রসারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষত মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে। তবে সফল বাস্তবায়নের জন্য স্বচ্ছ ডেটাবেস, নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা হবে এমনটাই সরকারের অঙ্গীকার।

-রফিক


এতিমদের মধ্য থেকেই কেউ একদিন প্রধানমন্ত্রী হবে: শফিকুর রহমান

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ২২:০৪:০১
এতিমদের মধ্য থেকেই কেউ একদিন প্রধানমন্ত্রী হবে: শফিকুর রহমান
ছবি : সংগৃহীত

ভবিষ্যতে এতিমদের মধ্য থেকে কেউ যাতে প্রধানমন্ত্রী হতে পারে, দেশে এমন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কাজ করার কথা জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরে ‘ইয়াতিমদের সম্মানে’ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বক্তব্যকালে এমনটা জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একদিন দেশে এতিমদের কেউ হয়তো প্রধানমন্ত্রী হবে৷ জামায়াত সে ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ সময় সবাইকে দলীয় রাজনৈতিক সংকীর্ণতা ও হিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা দায়িত্বশীল বিরোধীদল হিসেবে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে ন্যায় এবং সত্যের পথে, সুবিচার কায়েমের পথে, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের পথে, মানবিক সমাজ গঠনের পথে আপনাদের পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চাই। এই সহযোগিতা নেয়া আপনাদের দায়িত্ব। কিন্তু এর বিপরীত কিছু হলে, আমরা ১৮ কোটি মানুষের পক্ষে থাকব, আমরা কোনো আপস করব না।

/আশিক


ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত মন্ত্রিসভা, জনস্বার্থ উপেক্ষিত: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৯:০৪:৩২
ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত মন্ত্রিসভা, জনস্বার্থ উপেক্ষিত: নাহিদ ইসলাম
ছবি : সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রশ্ন রেখে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা বলছেন। কিন্তু তার নিজের মন্ত্রিসভা এবং দলে যে সংসদ সদস্য রয়েছেন, তারা ঋণগ্রস্ত। তারা কবে ঋণ পরিশোধ করবেন? বাংলাদেশের মানুষ সেটা জানতে চায়। সেই ঋণ পরিশোধ করে তারপরেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা উচিত। কারণ, দুর্নীতির প্রতিরোধ আসলে নিজের ঘর, নিজের দল এবং মন্ত্রিসভা থেকে করতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে নাহিদ বলেন, স্বাভাবিকভাবে আমরা আশা করেছিলাম যে, নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তী যে মন্ত্রিসভা গঠিত হবে, তা নতুন বাংলাদেশের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। কিন্তু এই মন্ত্রিসভা দেখে আমাদের কাছে কোনোভাবে মনে হয়নি পরিবর্তনের যে আকাঙ্ক্ষা, সে আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বরং আমরা পুরোনো বন্দোবস্তের ধারাবাহিকতা দেখতে পাচ্ছি। এই মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা করা হয়নি। ২৫টি জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি। অর্থাৎ এখানে একটা আঞ্চলিক বৈষম্য রয়েছে স্পষ্টভাবে। এ মন্ত্রিসভা অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রতিনিধিত্বশীল হয়নি। এই মন্ত্রিসভায় কিছু তরুণদেরকে নেওয়া হলেও কিন্তু মন্ত্রিসভার গড় বয়স কিন্তু ৬০ বছর। অর্থাৎ আমরা যে তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশের কথা বলেছি, তার প্রতিফলন এই মন্ত্রিসভায় দেখতে পাইনি।

তিনি বলেন, এই মন্ত্রিসভার প্রায় ৬২ শতাংশ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীরা ব্যবসায়ী। অর্থাৎ অর্ধেকেরও বেশি হচ্ছে ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী হওয়াটা অপরাধ নয়। কিন্তু মন্ত্রিসভা প্রতিনিধিত্বমূলক হওয়া উচিত। রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ থাকা উচিত। কিন্তু যখন অর্ধেকেরও বেশি ব্যবসায়ীদেরকে মন্ত্রিত্ব দিবেন, তারা ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা করবে। জনগণের স্বার্থ রক্ষা করবে না। এই ব্যবসায়ীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য আছেন, যাদের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপির অভিযোগ রয়েছে। বিএনপির নমিনেশনে দেওয়ার ক্ষেত্রে যেমন আমরা কোনো নতুনত্ব পাইনি, এই মন্ত্রিসভা গঠনেও আমরা কোনো নতুনত্ব পাইনি। খেলাপিদের মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি বিএনপিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমি নাম না নিয়ে যদি বলি, সবচেয়ে বড় বাজেটের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে এমন একজনকে দেওয়া হলো, যিনি রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং হত্যা মামলার আসামি। দলেও তিনি অত গুরুত্বপূর্ণ কেউ না। শুধুমাত্র আর্থিক ব্যাবসায়িক এবং দুর্নীতির কারণেই তাকে সে মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে। এরকম আরও ঋণখেলাপি রয়েছে যাদের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে। বিএনপির প্রায় ৬২ শতাংশ নির্বাচিত সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি। এসব সংসদ সদস্যদের ঋণের পরিমাণ হচ্ছে ১৮ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনেক ব্যক্তিকে বিদেশ থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল। আমরাও দেশের স্বার্থে বিশেষজ্ঞদের ব্যবহার করতে চেয়েছি; যাতে দেশ এবং সরকার উপকৃত হয়। এখন সেই বিশেষজ্ঞদেরকে যদি ব্যবহার করতে হয়, সেটা সমস্যাজনক নয়। কিন্তু এটা অবশ্যই একটা ঐকমত্যের ভিত্তিতে হতে হবে। কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই যদি অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন, এমন একজনকে যদি নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়, তাহলে জনমনে এই প্রশ্ন আসবে। আমরা আশা করব যে, এই প্রশ্নের সুরাহা প্রধানমন্ত্রী করবেন।

তিনি নাহিদ আরও বলেন, গত দুই একদিন ধরে দেশে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগদেরকে পুনর্বাসনের একটা প্রচেষ্টা চলমান আছে। বিভিন্ন জেলা–উপজেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে খুলে দেওয়া হচ্ছে। আওয়ামী লীগ কার্যত এবং আইনতভাবে নিষিদ্ধ একটি সংগঠন। তার বিচার প্রক্রিয়া চলমান আছে। এই যে আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলো খোলা হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, আমরা মনে করি, নতুন সরকারের প্রশাসনের এবং সরকারি দলের প্রশ্রয়ে এটা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে সিগন্যাল ছাড়া আওয়ামী লীগ এটা করার সুযোগ বা সাহস পেত না।

/আশিক


ঈদের আগেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, ধাপে ধাপে পাবে পাঁচ কোটি পরিবার

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১৫:৫১:৩৬
ঈদের আগেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, ধাপে ধাপে পাবে পাঁচ কোটি পরিবার
ছবি: সংগৃহীত

দেশের সামাজিক সুরক্ষা কাঠামো জোরদারে প্রাথমিকভাবে পাঁচ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বৈঠক শেষে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দীন স্বপন সাংবাদিকদের জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নগদ সহায়তা প্রদানের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রকল্প ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে হতদরিদ্র পরিবার ও নারী সদস্যরা।

পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জানান, ঈদের আগেই পরীক্ষামূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে এর কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী সম্প্রসারণ করা হবে।

কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ বলেন, কার্ডধারীদের নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। এতে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ সহজ হবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী হবে।

একই বৈঠকে শ্রম ও গণমাধ্যমসংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে কাউকে চাকরিচ্যুত করতে হলে বিদ্যমান আইন ও বিধি মেনে চলতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘মব’ বা অনিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে কাউকে চাকরি থেকে সরানো যাবে না।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতি প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সরকারি মহল বলছে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু হলে তা দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বচ্ছ ডাটাবেজ ও কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে এ উদ্যোগ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

-রফিক


অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ফখরুল: চাঁদাবাজদের তথ্য দিতে ওয়েবসাইট চালু

রাজনীতি ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৯ ১২:৫৭:১৯
অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ফখরুল: চাঁদাবাজদের তথ্য দিতে ওয়েবসাইট চালু
ছবি : সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচিত হওয়ার পর নিজ আসনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এক ব্যতিক্রমী ও ডিজিটাল পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের যেকোনো এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি, অন্যায় বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সরাসরি শোনার জন্য ‘alamgirfortomorrow.com’ নামে একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মির্জা ফখরুল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার জনগণের উদ্দেশে জানান, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের যেকোনো জায়গায় যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা অন্যায়-অপরাধের শিকার হলে অথবা যেকোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে সরাসরি তাঁর ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তাঁকে জানাতে পারবেন। কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ সরাসরি গ্রহণ করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত ৭ জানুয়ারি ওয়েবসাইটটি উদ্বোধন হওয়ার পর থেকেই ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ওয়েবসাইট উদ্বোধন হওয়ার পর থেকে আমরা ইতোমধ্যে অনেক মেসেজ পেয়েছি। আমার টিম সেই মেসেজগুলো কম্পাইল বা বিন্যস্ত করছে। শীঘ্রই আমরা এগুলোর ওপর ভিত্তি করে রেস্পন্ড বা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে গত মঙ্গলবার বিএনপি নতুন সরকার গঠন করেছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে শপথ গ্রহণ করেছেন। নতুন এই মন্ত্রিসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকারের মন্ত্রী হওয়ার পাশাপাশি নিজ আসনের জনগণের সরাসরি সেবায় এমন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গঠন রাজনৈতিক মহলে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত: