নির্বাচনের আগে সংলাপ ম্যারাথন- সকালে ৬ দল, বিকেলে আরও ৬ দল

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নির্বাচন কমিশন ধাপে ধাপে যে ধারাবাহিক সংলাপ আয়োজন করছে, তার দ্বিতীয় দিনের বৈঠক আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মূলত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত গ্রহণ, নির্বাচনব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, নির্বাচনী পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনই এই সংলাপের উদ্দেশ্য। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, বিস্তৃত পরিসরের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসলে নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে এবং সম্ভাব্য সংকটগুলো আগেভাগেই শনাক্ত ও সমাধানের পথ সুস্পষ্ট হবে।
রোববার সকালেই নির্বাচন ভবনে প্রথম পর্বের সংলাপ শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয়টি রাজনৈতিক দল ইসির সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয়। এ সময় গণফোরাম, গণফ্রন্ট, ইসলামীক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এসব দল দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন ভিন্ন আদর্শ, তাত্ত্বিক অবস্থান ও সংগঠনগত কাঠামো নিয়ে কাজ করলেও নির্বাচন প্রসঙ্গে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও দৃষ্টিভঙ্গি ইসির বিবেচনায় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিকেলের দ্বিতীয় অংশে, বেলা ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আরও ছয়টি দলের সঙ্গে ইসির সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এসব দলের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), তৃণমূল বিএনপি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এদের মধ্যে কেউ কেউ জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে, আবার কেউ অপেক্ষাকৃত নতুন হলেও মাঠ পর্যায়ে তাদের জনপ্রিয়তা বিবেচ্য।
রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ, প্রত্যাশা, দাবি, নির্বাচনী পরিবেশ, পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি, প্রবাসী ভোট, প্রশাসনের ভূমিকা, ইভিএম ব্যবহারের অনিশ্চয়তা, ভোটের নিরাপত্তা ও আস্থা পুনরুদ্ধার—এসবই এই সংলাপের আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিছু দল আগেই জানিয়েছে যে স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে বিরোধী প্রার্থীদের সমান সুযোগ তৈরি করা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তা বলয়ের জবাবদিহিতা বাড়ানো জরুরি।
আগামীকাল সোমবারও নির্বাচন কমিশন আরও ১২টি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসবে। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সংলাপে অংশ নেবে বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (বিএমএল)। এসব দল যদিও আকারে ছোট, তবুও তারা জাতীয় নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে।
এদিন বিকেলে দ্বিতীয় দফায় সংলাপে উপস্থিত হবে আরও ছয়টি দল। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আলোচনা হবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, খেলাফত মজলিস এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)-র প্রতিনিধিদের সঙ্গে। বিশেষ করে জামায়াত ও এবি পার্টির মতো বিতর্কিত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
নির্বাচন কমিশন বলছে, এই সংলাপের মাধ্যমেই তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করবে এবং সব রাজনৈতিক দলের মতামত পর্যালোচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য নীতিমালা প্রণয়ন করবে। কমিশনের মতে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিভিন্ন দলের দাবি যদি গঠনমূলক হয়, তাহলে সেগুলো নির্বাচনী রোডম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
-শরিফুল
নির্বাচন ছিল উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ: ঢাকাকে বড় স্বীকৃতি দিল রাশিয়া
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সামগ্রিক পরিবেশ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং উৎসবমুখর ছিল বলে জানিয়েছে রাশিয়ান ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন (সিইসি)। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার রুশ দূতাবাস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই পর্যবেক্ষণের কথা জানানো হয়। ১১-১২ ফেব্রুয়ারি কমিশনার পাভেল আন্দ্রেয়েভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে এই ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন।
রাশিয়ার পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিরা ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের আটটি কেন্দ্রের ৪০টিরও বেশি ভোটকক্ষ পরিদর্শন করেন। ভোটগ্রহণ শুরুর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে ব্যালট গণনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। তাঁদের মতে, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর এটি ছিল সাধারণ মানুষের জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি নির্বাচন, যা ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষ করে অনেক ভোটারকে সন্তানদের নিয়ে কেন্দ্রে আসতে দেখে তারা মুগ্ধ হয়েছেন।
পর্যবেক্ষক দল আরও জানায়, বাংলাদেশের নির্বাচন কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি ছিল অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা জাতীয় আইন মেনেই দায়িত্ব পালন করেছেন। ৯ লাখের বেশি পুলিশ ও সেনা সদস্যের উপস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল নিশ্ছিদ্র, যা ভোটারদের মধ্যে ভরসা জুগিয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটলেও তা সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেনি বলে তারা মন্তব্য করেন। এছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের সাথে বৈঠকে পাভেল আন্দ্রেয়েভ বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের রাশিয়ার স্টেট ডুমা নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
/আশিক
এমপিদের বেতন-ভাতা কত জানেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সংসদ গঠনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে ২৯৭ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। এর মধ্য দিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে শপথ ও সংসদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পথ সুগম হয়েছে।
বাংলাদেশে সংসদ সদস্যদের বেতন, ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’ অনুযায়ী। এই আইন সময়ের সঙ্গে একাধিকবার সংশোধিত হয়েছে; সর্বশেষ বড় সংশোধন আনা হয় ২০১৬ সালে।
মাসিক বেতন ও ভাতা কাঠামো
বর্তমান বিধান অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্যের মূল মাসিক বেতন ৫৫ হাজার টাকা। নির্বাচনী এলাকা পরিচালনার জন্য অতিরিক্ত ১২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা প্রদান করা হয়। আপ্যায়ন বাবদ মাসে ৫ হাজার টাকা এবং পরিবহন খাতে ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকে। এই পরিবহন ভাতার আওতায় জ্বালানি ব্যয়, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত।
এ ছাড়া অফিস পরিচালনা খরচ হিসেবে ১৫ হাজার টাকা, লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং বিবিধ খরচের জন্য ৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়। অর্থাৎ মূল বেতনের বাইরে দায়িত্ব পালনের বাস্তব খরচ মেটাতে পৃথক ভাতা নির্ধারিত রয়েছে।
যানবাহন ও ভ্রমণ সুবিধা
সংসদ সদস্যরা শুল্ক, ভ্যাট ও অন্যান্য করমুক্তভাবে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানির সুযোগ পান। পাঁচ বছরের দায়িত্বকাল পূর্ণ হলে একই সুবিধায় পুনরায় একটি গাড়ি আমদানির অনুমতি রয়েছে।
ভ্রমণ সংক্রান্ত সুবিধার মধ্যে বিমান, রেল বা নৌপথে যাতায়াত করলে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা প্রাপ্য। সড়কপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি নির্ধারিত হারে ভাতা দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ভ্রমণ ভাতা অথবা বিকল্প হিসেবে ট্রাভেল পাসের সুযোগ রয়েছে।
দৈনিক ভাতা ও অধিবেশন সুবিধা
দায়িত্বস্থলে অবস্থানকালে প্রতিদিন ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা এবং ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা প্রযোজ্য। সংসদ অধিবেশন বা সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকলে দৈনিক ভাতা ৮০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ২০০ টাকা নির্ধারিত।
চিকিৎসা ও বীমা সুবিধা
সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসাভাতাও বরাদ্দ রয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার সরকারি বীমা প্রযোজ্য।
অতিরিক্ত সুবিধা
সংসদ সদস্যদের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ প্রদান করা হয় এবং মাসিক টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ ৭ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ থাকে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো সংসদ সদস্যদের প্রাপ্ত ভাতাগুলো আয়করমুক্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
সব মিলিয়ে দেখা যায়, মূল বেতনের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনের কার্যকরতা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের জন্য একাধিক আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত রয়েছে। নতুন সংসদ গঠনের প্রেক্ষাপটে এসব সুবিধা নিয়ে জনমনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
-রাফসান
শপথে যে ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর নেতৃত্বে নতুন সরকার আগামী মঙ্গলবার শপথ নিতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ মোট ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং সরকার গঠনে প্রস্তুত বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনুষ্ঠানটির গুরুত্ব তুলে ধরতে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শনিবার রাতে সরকারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান। দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর অন্তর্ভুক্তি নতুন সরকারের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
আগামী মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর আগে একই দিন সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন এ এম এম নাসির উদ্দীন, যিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর রাষ্ট্রপতি নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি জোট দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে, যা নতুন সরকারকে শক্তিশালী সংসদীয় সমর্থন দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শপথ অনুষ্ঠানে একাধিক দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নতুন প্রশাসনের কূটনৈতিক সক্রিয়তার সূচক। এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্যিক সহযোগিতা এবং কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের বার্তা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান, বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায়, নতুন সরকারের প্রথম পদক্ষেপগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
-রফিক
জাতীয় নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর এবার শপথের পালা: চূড়ান্ত হলো দিনক্ষণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর এবার নতুন সরকার গঠনের চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গভবন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন শেষে এক নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনা হতে যাচ্ছে।
বঙ্গভবন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকালে প্রথমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ ভবনে এই শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। সংসদ সদস্যদের শপথ শেষ হওয়ার পর একই দিন বিকেলে বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত হবে মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠান। সেখানে রাষ্ট্রপতি নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।
এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই বঙ্গভবন ও জাতীয় সংসদ এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নতুন মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন এবং কারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব নিচ্ছেন, তা নিয়ে এখন দেশজুড়ে চলছে টানটান উত্তেজনা। সোমবারের এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে ২০২৬ সালের এই নতুন নির্বাচিত সরকার।
জামায়াত আমিরের প্রশংসা করে ইউনূসের বিশেষ বার্তা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মর্যাদাপূর্ণ ফলাফল এবং তা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় তিনি জামায়াতের এই নতুন রাজনৈতিক অবস্থানকে স্বাগত জানান। প্রধান উপদেষ্টা মনে করেন, নির্বাচনের পর জামায়াত আমিরের দায়িত্বশীল বক্তব্য এবং কর্মীদের প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বার্তায় ড. ইউনূস বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনী প্রচার পর্ব থেকে শুরু করে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত জামায়াত যে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সংযম প্রদর্শন করেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব পালনকালেও জামায়াত যে গঠনমূলক সমর্থন ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছে, তার জন্যও তিনি ডা. শফিকুর রহমানকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন এক গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের সময় পার করছে, যেখানে সামাজিক ন্যায়বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক গণতন্ত্র সুসংহত করা অপরিহার্য।
প্রধান উপদেষ্টা তাঁর প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, সংসদ ও রাজপথে জামায়াতে ইসলামী একটি নীতিগত ও দায়িত্বশীল বিরোধী শক্তি হিসেবে কাজ করবে। তিনি আশা করেন, শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে আইন প্রণয়ন, জনপ্রত্যাশা পূরণ এবং সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে জামায়াত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ড. ইউনূসের মতে, একটি সুস্থ ও কার্যকর গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সরকার ও বিরোধী দলের এই পারস্পারিক শ্রদ্ধাবোধ এবং নীতিনিষ্ঠ অবস্থান অত্যন্ত জরুরি।
নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
শফিকুল আলম জানিয়েছেন, আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রেস সচিব বলেন, বিজয়ীদের শপথ অনুষ্ঠান বিলম্ব না করে দ্রুত আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে ১৬ বা ১৭ ফেব্রুয়ারির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সরকারি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন-পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা সরকারের অগ্রাধিকার। শপথ গ্রহণের মাধ্যমে নতুন মেয়াদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে এবং প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হবে।
-রফিক
তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের রেশ এখন সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলে পৌঁছে গেছে। এই বড় বিজয়ের পরপরই দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েক। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে স্বাগত জানান। প্রতিবেশী একটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কাছ থেকে আসা এই দ্রুত অভিনন্দন বার্তাকে নতুন সরকারের জন্য একটি ইতিবাচক কূটনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
লঙ্কান প্রেসিডেন্ট তাঁর বার্তায় বাংলাদেশের জনগণের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, এই নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের অগাধ আস্থা আবারও পুনর্ব্যক্ত হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনে বিএনপির এই বিশাল বিজয় মূলত তাঁর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং জনগণের আস্থারই এক বলিষ্ঠ প্রতিফলন। দিশানায়েকের এই টুইটটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারেক রহমানের ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ দেয়।
শুভেচ্ছা বার্তার শেষ অংশে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। এই কূটনৈতিক বার্তার ফলে আগামী দিনে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিএনপির এই জয়কে কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, বরং আঞ্চলিক কূটনীতিতে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশ; ৩ দিনের মধ্যে বড় চমকের অপেক্ষা!
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নবনির্বাচিত ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই অফিসিয়াল গেজেটটি প্রকাশিত হয়। এর মধ্য দিয়ে বিজয়ী প্রার্থীদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। বৃহস্পতিবার সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল শুক্রবার দুপুরে ঘোষণার পর থেকেই গেজেট তৈরির কাজ শুরু করেছিল কমিশন। আইনি জটিলতা এবং প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে তিনটি আসন বাদে বাকি ২৯৭টি আসনের বেসরকারি ফলাফল যাচাই-বাছাই শেষে এই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলো।
গেজেট প্রকাশের আগে ঢাকা-৮ আসনের ফলাফল নিয়ে তৈরি হওয়া সংশয় নিরসন করেছেন নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ। তিনি গণমাধ্যমকে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন যে, ঢাকা-৮ আসনের ভোট পুনর্গণনার কোনো সিদ্ধান্ত কমিশনের নেই। যদি কোনো প্রার্থী বা ব্যক্তি এই ফলাফলে সংক্ষুব্ধ থাকেন, তবে তিনি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন। ইসির এই অনড় অবস্থানের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সব তথ্য মিলিয়ে গেজেটে সই করেন ইসি সচিব। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।
ইসি সচিবালয়ের চূড়ান্ত গেজেটে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২১২টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৭৭টি আসনে জয়ী হয়ে সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তরুণদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৭টি আসনে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। বাকি আসনগুলোতে স্বতন্ত্র এবং অন্যান্য ছোট দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের এই গেজেট প্রকাশের ফলে এখন সবার নজর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার দিকে। গেজেটের কপি সংসদ সচিবালয় এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর কাজও শুরু হয়েছে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
গেজেট প্রকাশের কাউন্টডাউন শুরু: নতুন প্রতিনিধিদের অপেক্ষায় দেশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের গণভোটের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত ২৯৭টি আসনের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এককভাবে ২১১টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। দলটির নেতৃত্বাধীন জোটের মিত্ররা আরও ৩টি আসনে জয়ী হওয়ায় বিএনপির মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১৪টি। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭৭টি আসনে জয় পেয়েছে, যার মধ্যে জামায়াত এককভাবে জিতেছে ৬৮টি আসনে।
তরুণদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি আসনে জয়ী হয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি এবং অন্যান্য ছোট দলগুলো বাকি আসনগুলোতে জয় পেয়েছে। প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হওয়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বা সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮ দফা প্রস্তাবনার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হয়েছে। ইসি সচিবালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে ৫৯.৪৪ শতাংশ এবং গণভোটে ৬০.২৬ শতাংশ ভোটার তাদের অধিকার প্রয়োগ করেছেন। গণভোটে মোট ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দিয়েছেন, আর সংস্কারের বিপক্ষে ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের জোর প্রস্তুতি চলছে এবং আজ শনিবারের মধ্যেই তা সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত রেজাল্ট শিটগুলো কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার পর দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে। তবে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন, তা গেজেট প্রকাশের পর রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল করতে পারেনি। অন্যদিকে জামায়াত জোট এই তিন বিভাগে শক্তিশালী লড়াই দিলেও মব জাস্টিস বিতর্ক এবং রক্ষণশীল মনোভাবের কারণে সারাদেশের হিসেবে পিছিয়ে পড়েছে। এক সময়কার শাসক দল জাতীয় পার্টি এবারের নির্বাচনে একটি আসনও লাভ করতে পারেনি। এমনকি দলটির হেভিওয়েট প্রার্থীদের অনেককেই জামানত হারাতে হয়েছে। অনেক পরিচিত মুখ এবং প্রভাবশালী নেতার পরাজয় এবারের নির্বাচনের অন্যতম বড় চমক হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
নির্বাচনের দিন বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই নির্বাচনকে জাতির জন্য এক চূড়ান্ত বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, এই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ফলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে এবং দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ফলাফল ঘোষণার পর জানিয়েছেন, জনগণ আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব তারেক রহমানের ওপর অর্পণ করেছে।
তিনি গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, সঠিক তথ্য প্রচারের কারণেই জনগণ তাদের ভোট দিতে উৎসাহিত হয়েছে। তবে পোস্টাল ব্যালট গণনায় কিছু জায়গায় সমন্বয়হীনতা ও বিলম্বের কারণে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণায় কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, যা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, মির্জা আব্বাস ও ববি হাজ্জাজ জয়ী হলেও সারজিস আলম, মামুনুল হক ও মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো হেভিওয়েট প্রার্থীরা পরাজয় বরণ করেছেন।
পাঠকের মতামত:
- ১৫ ফেব্রুয়ারি শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- ১৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরপতনের শেয়ার
- ১৫ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- নির্বাচনের পর শেয়ারবাজারে বড় উত্থান, বিনিয়োগকারীর ভিড়
- নির্বাচন ছিল উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ: ঢাকাকে বড় স্বীকৃতি দিল রাশিয়া
- আজকের মুদ্রার হার: ডলারের বিপরীতে টাকার মান কত? জেনে নিন বিনিময় হার
- কারাগার থেকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে ইমরান খানকে
- ২৭ মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে গুচ্ছের ভর্তিযুদ্ধ: প্রবেশপত্র সংগ্রহ করবেন যেভাবে
- কালিগঞ্জে শতবর্ষী মাদ্রাসার জমি জোরপূর্বক বিক্রয়ের অভিযোগ, দখলের পায়তারা
- বদলা নাকি দাপট? হাইভোল্টেজ ম্যাচে ৫টি ব্যক্তিগত দ্বৈরথ কাঁপাবে ক্রিকেটবিশ্ব
- সরকার গঠনের আগেই ঐক্যের বড় বার্তা: আজ শরিকদের মুখোমুখি তারেক রহমান
- ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ
- রমজানে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার গোপন মন্ত্র: পাতে রাখুন এই ৪ ধরনের খাবার
- ভারত-পাকিস্তান হাইভোল্টেজ লড়াই: কেমন হতে পারে দুই দলের চূড়ান্ত একাদশ?
- লোপেরামাইড নাকি ঘরোয়া উপায়? ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী কিছু সমাধান
- সরাসরি গ্লিসারিন ব্যবহারেই বিপদ! ত্বকের সুরক্ষায় জানুন সঠিক নিয়ম
- হিজবুল্লাহর স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা: দক্ষিণ লেবাননে তুমুল উত্তেজনা
- ব্যক্তিগত মুহূর্ত বেচবেন না বিজয়-রাশমিকা: মোটা অঙ্কের অফার নাকচ
- এমপিদের বেতন-ভাতা কত জানেন
- ২৩৩ মেট্রিক টন ইফতার নিয়ে প্রস্তুত শায়খ আহমাদুল্লাহ: এবার যুক্ত হচ্ছে বিশেষ উপহার
- কোনো দুর্বলতা দেখানোর সুযোগ নেই: জামায়াত আমির
- আজকের আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ পূর্বাভাস
- বাজুসের নতুন দর! ২ লাখ ১৩ হাজারে মিলবে ১ ভরি সোনা
- শপথে যে ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ
- শপথে থাকছেন কি না মোদি জানা গেল
- রবিবার কেনাকাটায় সতর্কতা জরুরি, বহু মার্কেট বন্ধ আজ
- ঢাকায় আজকের গুরুত্বপূর্ণ সব কর্মসূচি
- মঙ্গলবারই কি শপথ নিচ্ছে নতুন সরকার
- সূর্যাস্ত-সূর্যোদয়সহ আজকের নামাজের সময়সূচী প্রকাশ
- জিন, জাদু, হিংসা ও মানসিক অস্থিরতার প্রতিকার: সূরা নাস
- রক্তাক্ত রাজপথ থেকে এখন সংসদ ভবনে ভিপি নুর
- তারেক রহমানের সম্ভাব্য ক্যাবিনেটে একঝাঁক নতুন মুখ: দৌড়ে এগিয়ে যারা
- জাতীয় নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর এবার শপথের পালা: চূড়ান্ত হলো দিনক্ষণ
- বৃহস্পতির আকার নিয়ে পুরোনো সব হিসাব ভুল: নতুন তথ্য দিল নাসা
- বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ঐতিহাসিক রেকর্ড
- কাল শফিকুর ও নাহিদের বাসায় যাচ্ছেন তারেক রহমান: নতুন রাজনীতির সংকেত?
- খালি পেটে না ভরা পেটে? লেবু পানি পানের আসল সময় জানালেন পুষ্টিবিদরা
- আল্লাহ আমার ধৈর্য পরীক্ষা নিচ্ছিলেন: মির্জা আব্বাস
- কে হচ্ছেন দেশের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী?
- ফের রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিলেন ডাকসু ভিপি
- ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে কারচুপি? ৩০টি আসনে জয়ের দাবি নিয়ে সরব জামায়াত
- পরাজিত হয়ে মনে মনে ক্রীড়ামন্ত্রী বসে থাকা একজনের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে: আসিফ মাহমুদ
- জামায়াত আমিরের প্রশংসা করে ইউনূসের বিশেষ বার্তা
- রক্তক্ষয়ী ১৭ বছর আর ৬ লাখ মামলা: বিজয়ী বেশে সব হিসাব দিলেন ফখরুল
- ভঙ্গুর অর্থনীতি ও অকার্যকর প্রতিষ্ঠানই এখন বড় চ্যালেঞ্জ: তারেক রহমান
- নির্বাচনোত্তর ব্রিফিংয়ে ভবিষ্যৎ রূপরেখা দিলেন তারেক রহমান
- কীভাবে বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হলো "ভ্যালেন্টাইনস ডে": জানুন পূর্নাঙ্গ ইতিহাস
- ফরিদপুরের সালথা সহিংসতায় কঠোর বার্তা শামা ওবায়েদের
- নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
- ঘরে বানান রেস্টুরেন্ট-স্টাইল সুইট কর্ন স্যুপ
- আবার বাড়ছে স্বর্ণের দাম, কী কারণ?
- ২০০৮–এর পর প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন: গণতন্ত্রের গুণগত মানের এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা
- জুয়েলারি দোকানে যাওয়ার আগে সাবধান: স্বর্ণের নতুন দাম কার্যকর
- বিশ্ববাজারের প্রভাবে দেশে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম
- স্বর্ণের বাজারে নতুন অস্থিরতা: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন চড়া দাম
- নির্বাচনে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে লন্ডনে উদ্বেগ: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা
- ১০ ফেব্রুয়ারি আজকের শেয়ারবাজারের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
- স্বর্ণের বাজারে বড় দরপতন: আজ থেকে কার্যকর স্বর্ণের নতুন দাম
- কালিগঞ্জে ধানের শীষের জনসমুদ্র: সাতক্ষীরা-৩ আসনে কাজী আলাউদ্দীনের হুঙ্কার
- ৮ ফেব্রুয়ারি ডিএসইতে শীর্ষ ১০ দরবৃদ্ধিকারী শেয়ার
- কালিগঞ্জের ফতেপুরে দখলমুক্ত হল দুই দোকান, মালিক পরিবারের হাতে চাবি
- বাজুসের নতুন দর! ২ লাখ ১৩ হাজারে মিলবে ১ ভরি সোনা
- ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের শুভ সূচনা: প্রথম কেন্দ্রের ফলে বড় ব্যবধানে এগিয়ে
- এবার সোনার দামে রেকর্ড উত্থান
- ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াত আমিরের দাপুটে সূচনা: প্রথম কেন্দ্রে বড় ব্যবধানে লিড








