সাধারণ মানুষ ভোট চায়, চাপানো গণভোট বা সনদ নয়: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, গণভোট ও সনদ-এর মতো বিষয়গুলো দেশের সাধারণ জনগণ বোঝে না। তাঁর মতে, এসব বিষয় বোঝেন কিছু শিক্ষিত ওপরতলার লোক, "যাঁরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে এসব আমাদের ঘাড়ের ওপর চাপাচ্ছেন।" তিনি বলেন, বিএনপি সব সংস্কারে রাজি আছে, তবে নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে হবে।
রোববার (৯ নভেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের দৌলতপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গণভোট ও সংকটের রাজনীতি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, "কয়েকটা দল বলছে, নির্বাচনের আগে গণভোট দিতে হবে। আর আমরা বলছি, নির্বাচনের দিনই গণভোট হতে হবে।" তিনি উপস্থিত লোকজনকে প্রশ্ন করেন, "আপনারা কি গণভোট, সনদ এসব বোঝেন? এসব বোঝেন শিক্ষিত কিছু ওপরতলার লোক। যাঁরা আমেরিকা থেকে এসে এসব আমাদের ঘাড়ের ওপর চাপাচ্ছেন।"
তবে তিনি জানান, বিএনপি সব সংস্কার প্রস্তাবে রাজি আছে। তিনি বলেন, "যেটাতে রাজি হব, সেটা বাস্তবায়িত হবে। যেটাতে রাজি হব না, সেটা পার্লামেন্টে যাবে। সেখানে তর্ক-বিতর্ক হবে, এরপর তা পাস হবে।"
মির্জা ফখরুল দাবি করেন, দেশে এখন যত সংকট দেখা যাচ্ছে, তার সবই তৈরি করা এবং নাটক। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ এত কিছু বোঝেন না, তাঁরা শুধু ভোট দিতে চান। তিনি বলেন, "গত ১৫ বছর আমরা কোনো নির্বাচন করতে পারিনি। এবার আমরা সবাই ভোট দিতে চাই।"
শেখ হাসিনা ও অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আল্লাহর অশেষ রহমতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, হাসিনা পালিয়ে গিয়ে নিজের দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের অসহায় অবস্থায় ফেলে গেছেন। এতে বোঝা যায়, কর্মী ও জনগণের ওপর শেখ হাসিনার কোনো দরদ নেই। মির্জা ফখরুল বলেন, "আমাদের এই মাটিতেই জন্ম। মারা গেলে এখানেই মারা যাব, কিন্তু দেশের মাটি ছেড়ে কখনো যাব না।"
তিনি বর্তমান সরকারের প্রতিও বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, "অন্তর্বর্তী সরকার ভোট করে আসেনি, আমরা সবাই মিলে এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছি। সরকারের পেছনে তো কোনো লোক নেই। এ কারণে মানুষের কষ্ট এই সরকার বোঝে না। কৃষকের কষ্ট কোথায়, সমস্যা কোথায়, এই সরকার বোঝে না।"
শেষ নির্বাচন ও ভোটের আবেদন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই নির্বাচনকে তাঁর জীবনের শেষ নির্বাচন হবে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি তেমন ভালো নয়।
তিনি আবেগঘন আবেদন জানিয়ে বলেন, "আমি আপনাদের মানুষ। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে। কত দিন বাঁচব, জানি না। আমি এই আসন থেকে নির্বাচন করি। কখনো হেরেছি, কখনো জিতেছি। কিন্তু আপনাদের ছেড়ে যাইনি। আমি বলেছি, এটা আমার জীবনের শেষ নির্বাচন।" তিনি বলেন, "আপনাদের কাছে আকুল আবেদন, আমার শেষ নির্বাচনে, আমাকে সাহায্য করবেন, সহযোগিতা করবেন। আমাকে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আপনাদের কাজ করার সুযোগ করে দেবেন।"
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কৃষকদের ন্যায্য দামে ধান বিক্রির ব্যবস্থা এবং ফ্যামিলি কার্ড চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এ সময় তিনি উপস্থিত লোকজনকে মনে করিয়ে দেন, "দাঁড়িপাল্লাও এখানে নির্বাচন করছে। ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার মধ্যে আপনাদের বেছে নিতে হবে।"
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, সদর থানা বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলামসহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দর থেকে ফাঁসির মঞ্চে নিতে শহীদ পরিবারই যথেষ্ট: সারজিস আলম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করলে তাঁকে বিমানবন্দর থেকেই ফাঁসির মঞ্চ পর্যন্ত নিয়ে যেতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্বজনরাই যথেষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঝালকাঠি শহরের একটি রেস্তোরাঁয় জেলা এনসিপি আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালা শুরুর প্রাক্কালে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
সারজিস আলম উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানে যারা নিজেদের প্রিয়জনকে হারিয়েছেন এবং যারা এখনো পঙ্গুত্ব ও ক্ষতের যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন, সেই পরিবারগুলোর রক্তক্ষরণ আজও থামেনি। ফলে শেখ হাসিনা দেশে পা রাখা মাত্রই সেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষোভ ও প্রতিবাদই তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করার জন্য যথেষ্ট হবে। একই সঙ্গে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার স্বাভাবিক প্রয়াণ কিংবা শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা—কোনোটিই বাংলাদেশের মাটিতে ঘটবে না।
রাজনৈতিক অবস্থানের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই শীর্ষ সংগঠক। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে শুরুতে ফ্যামিলি কার্ডসহ নানামুখী নাগরিক কার্ড বিতরণের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কেবল এসব কার্ড তৈরির প্রকল্পের জন্যই সরকারি কোষাগার থেকে ২৪২ কোটি টাকার বিশাল বরাদ্দ রাখা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, সাধারণ মানুষের উপকারের দোহাই দিয়ে বিপুল ব্যয়ের এমন অনেক উদ্যোগ নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে বরাবরের মতোই বড় ধরনের সংশয় থেকে যায়। ফ্যামিলি কার্ডের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছে যে এটি কার্যকরভাবে রূপায়ণ করা সম্ভব নয়, যে কারণে বর্তমানে এই উদ্যোগ নিয়ে নীতি-নির্ধারকদের মাঝে এক ধরনের নীরবতা তৈরি হয়েছে। জনগণের ঘাম ঝরানো রাজস্ব ব্যয় করে এমন কোনো অনিশ্চিত ও অবাস্তব পরিকল্পনা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার তাগিদ দিয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় অর্থের শতভাগ স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীল প্রয়োগের দাবি জানান।
/আশিক
ঢাকার দুই সিটির লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ: মাঠে নামছে তরুণ নেতৃত্ব
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কৌশল ও মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে রয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। নিজেদের ভোটার এলাকা রদবদলের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই দুই তরুণ রাজনীতিক।
এর আগে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এবং মাঠপর্যায়ে জনসংযোগও চালিয়েছিলেন। দলগতভাবেও তাকে দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করার কথা জানানো হয়েছিল। তবে সর্বশেষ দলীয় সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে মেয়র পদে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অপরদিকে দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে সোমবার তারা দুজনেই নিজেদের ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন।
এনসিপির নীতিনির্ধারক পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, বিদ্যমান নির্বাচনী আইন এবং সামগ্রিক রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবেই শীর্ষ দুই নেতার ভোটার এলাকা অদলবদল করা হয়েছে। রাজধানীর তুরাগ থেকে বুড়িগঙ্গা পর্যন্ত বিস্তৃত পুরো ঢাকা জুড়েই তরুণ নেতৃত্বের রাজনৈতিক অবস্থান সুসংহত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই তাদের প্রার্থিতা আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণা করা হবে। দলীয় নেতৃত্বের প্রত্যাশা, আসিফ মাহমুদ উত্তরে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দক্ষিণে লড়াইয়ে নামলে ঢাকার নির্বাচনী মাঠে ভিন্নমাত্রার প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন জানান, শীর্ষ এই দুই নেতা আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। এটি তাদের নির্বাচনী কৌশলেরই অংশ এবং নির্ধারিত দুই সিটি থেকেই তারা প্রার্থী হচ্ছেন, যা খুব শিগগিরই দল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে।
ভোটার এলাকা বদলের বিষয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানান, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় দায়িত্ব পালনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন। সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই এই লড়াই উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো বিষয়টি দ্রুতই দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হবে। পূর্বে তিনি দক্ষিণ সিটির ভোটার থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ফরম-১৩ পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ আবেদন করেন। কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে তা অনুমোদন দেওয়ায় তিনি এখন উত্তর সিটির আফতাবনগর এলাকার ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে সোমবার একই প্রক্রিয়ায় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ভোটার এলাকা ঢাকা উত্তর থেকে ঢাকা দক্ষিণে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ঢাকা-৮ আসন থেকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ডিএসসিসির ৮ থেকে ১৩ এবং ১৯ থেকে ২১ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ওই আসনে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭১ জন ভোটারের মধ্যে তিনি ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন।
আসনটিতে ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পেয়ে জয়ী হন বিএনপির মির্জা আব্বাস। নির্বাচনের পর অবশ্য অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে ভোট পুনর্গণনা ও বিজয়ীর শপথ স্থগিতের আবেদন জানিয়েছিলেন পাটওয়ারী। উল্লেখ্য, সে সময় তার ভোটার এলাকা ঢাকা-৮ আসনের বাইরে থাকায় তিনি নিজের আসনে ভোট দিতে পারেননি; ভোটের দিন তিনি জানিয়েছিলেন, নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই তখন তার কাছে প্রধান অগ্রাধিকার ছিল।
/আশিক
সংসদে ডা. শফিকুর রহমানের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দোয়া
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশন চলাকালে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের জন্য দাঁড়িয়ে দোয়া চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার শুরুতে তিনি বিরোধীদলীয় নেতার দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে এই দোয়া করেন।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইতিপূর্বে বিরোধীদলীয় নেতাও এই সংসদে দাঁড়িয়ে তাঁর জন্য দোয়া ও মোনাজাত করেছিলেন। সেই সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের প্রতিদান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. শফিকুর রহমানকে একজন শুভ্র ও সম্মানিত দ্বীনি ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর সুস্থতা, নেক হায়াত এবং ধৈর্যের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা জানান।
/আশিক
লংমার্চে পথচারীদের ভোগান্তি: দেশবাসীর কাছে জামায়াত জোটের দুঃখ প্রকাশ
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী সাম্প্রতিক লংমার্চ কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের সাময়িক ভোগান্তির জন্য আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে গত ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় দেশবাসী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে জোটটি। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে লংমার্চ বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এ তথ্য জানান।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার উল্লেখ করেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার, গ্যাস-বিদ্যুৎ-সার সংকট নিরসন, নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ, চাঁদাবাজি-দুর্নীতি দমন এবং প্রশাসনে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ দাবিতে এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কর্মসূচি চলাকালে মহাসড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের যে সাময়িক অসুবিধা হয়েছে, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত লাখ লাখ সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে এই দাবিগুলো কেবল জোটের নয়, বরং পুরো জাতির প্রাণের দাবি।
কর্মসূচি বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতার জন্য পুলিশ ও সিভিল প্রশাসন, ট্রাফিক বিভাগ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। একই সঙ্গে তিনি পরবর্তী আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করে জানান, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর একইভাবে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের পরবর্তী লংমার্চ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এই কর্মসূচিকেও সুশৃঙ্খল ও সর্বাত্মকভাবে সফল করতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
/আশিক
আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর লংড্রাইভ: রাশেদ খাঁনের দাবি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ নেতার প্রাডো গাড়িতে চড়ে লংড্রাইভ করার অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। একই সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের সাম্প্রতিক লংমার্চ কর্মসূচির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল ক্ষমতাচ্যুত দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি করা। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসভবনে আলোচনার সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রায়ই আওয়ামী লীগের বাড়িঘর ও সম্পদ দখলের কথা বলতেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগ নেতার ওই বিলাসবহুল গাড়িটি নিরাপত্তার বিনিময়ে উপহার হিসেবে নেওয়া হয়েছে, নাকি দখলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে—তা খতিয়ে দেখা দরকার। এছাড়া লংমার্চ থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে জোরালো বক্তব্য না আসার অভিযোগ করে তিনি দাবি করেন, উসকানিমূলক স্লোগান ও লাঠিসোঁটা বহনের মাধ্যমে জামায়াত যে ফাঁদ পেতেছিল, বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাতে পা দেয়নি। এ ঘটনায় এনসিপি কোনো সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় কি না, তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া, জনদুর্ভোগ নিরসন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিরোধসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত ১১ দলীয় জোটের এই লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে গ্যাস-বিদ্যুতের বিকল্প পরিকল্পনা দিন: রিজভী
রাজপথে আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে দেশে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে সরকারকে বাস্তবসম্মত বিকল্প পরিকল্পনা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শিল্পকলা অ্যাকাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
রিজভী বলেন, সংকট নিয়ে বিরোধী দল লংমার্চ বা রাজনৈতিক কর্মসূচি দিতেই পারে, তবে শুধু কর্মসূচি না দিয়ে কীভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়, তার একটি বিকল্প রূপরেখা তাদের উপস্থাপন করা উচিত। তিনি দাবি করেন, বর্তমান জ্বালানি সংকট সরকারের নিজস্ব কোনো ব্যর্থতার কারণে সৃষ্টি হয়নি; বরং আন্তর্জাতিক যুদ্ধাবস্থা ও বিগত সরকারের দীর্ঘদিনের ভুল পরিকল্পনার ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি পরিবহনে বাধার কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় যে বিঘ্ন ঘটেছে, তা বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে বড় চাপ তৈরি করেছে।
সংসদে বিরোধী দলের পর্যাপ্ত কথা বলার সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, সরকারের সমালোচনা করা কিংবা রাজপথে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চা হলেও জাতীয় সংকটে গঠনমূলক পরামর্শ দেওয়া প্রয়োজন। একটি পরিকল্পিত অচলাবস্থা তৈরি না করে সংকট উত্তরণের পথ খোঁজার তাগিদ দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, অতীতের অন্ধ পুনরাবৃত্তি দেশকে আরও সংকটের দিকে ঠেলে দেবে। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রতিবাদী গান ও নৃত্যের অনুপ্রেরণাদায়ী ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন তিনি। নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি ফারহানা বেবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
দীর্ঘ বিরতির পর সংসদে ফিরে আবেগাপ্লুত শীর্ষ নেতা
দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার পর জাতীয় সংসদে ফিরে জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, মানুষের কাছে ফিরে এসে দেশ ও জাতির সেবায় আত্মনিয়োগ করাই এখন তাঁর জীবনের প্রধান ব্রত। দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থতার কারণে সংসদীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে না পারার প্রেক্ষাপটও বক্তব্যে তুলে ধরেন তিনি।
অধিবেশনে মির্জা আব্বাস স্মৃতিচারণ করে জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই একটি দলীয় সভায় তিনি গুরুতর ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এরপর থেকে তাঁকে দীর্ঘ সময় বিদেশে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ চিকিৎসাপর্ব শেষে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি দেশে ফেরেন। তবে তাঁর শারীরিক চিকিৎসা পুরোপুরি শেষ না হলেও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও আবেগের টানেই তিনি দ্রুত ফিরে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন। কঠিন সংকটের দিনগুলোতে পাশে থাকা, নিয়মিত খোঁজখবর রাখা এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, সহকর্মী সংসদ সদস্যসহ সমগ্র দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
২০০৬ সালের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে পুনরায় জাতীয় সংসদে কথা বলার সুযোগ পাওয়াকে রাজনৈতিক জীবনের এক অত্যন্ত আবেগঘন এবং গর্বের মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেন ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্য। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনীতি কেবল পারস্পরিক মতপার্থক্য কিংবা বিতর্কের জায়গা নয়; রাজনীতি হলো মানুষের জন্য এবং সংসদ হলো সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রকৃত প্রতিফলন।
বক্তব্যের শেষভাগে নিজের নির্বাচনী এলাকার জনগণ এবং দেশের মানুষের স্বার্থে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রত্যয় জানান মির্জা আব্বাস। মহান আল্লাহর দরবারে পূর্ণ সুস্থতা ও শক্তি কামনা করে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চান, যাতে জীবনের বাকি সময়টুকু তিনি দেশ ও জাতির সেবায় নিবেদিত রাখতে পারেন।
/আশিক
সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাঁদের মেয়াদকালের বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কেনাকাটা ও দরপত্র সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র তলব করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুদকের বিশেষ তদন্ত বিভাগের অনুমোদন পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরে চিঠি পাঠিয়ে এসব রেকর্ডপত্র চেয়েছে কমিশন। বিষয়টি তদন্তসংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের পাশাপাশি তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম-সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং যুব-১ শাখার উপ-সচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে সমন্বিতভাবে এই অনিয়মের অভিযোগ জমা পড়েছে। অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধানে দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে, যেখানে সদস্য হিসেবে রয়েছেন সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন, উপ-সহকারী পরিচালক ইমরান আকন এবং রোমান উদ্দিন।
আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মেয়াদকালের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির পূর্ণাঙ্গ ফাইল এবং ২০২৫ ও ২০২৬ সালের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্মারকের সত্যায়িত ছায়ালিপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা, বগুড়া, বরিশাল, পাবনা, ধামরাই ও নরসিংদীতে কর্মরত অন্তত ১২ জন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথিও তলব করা হয়েছে।
দুদকে আসা অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, বদলি ও পদোন্নতিকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার আর্থিক লেনদেন সংঘটিত হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ৩৮ জন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও নতুন পদায়নের মাধ্যমে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতি বাবদ দেড় কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে সুবিধাজনক স্থানে পদায়নের বিনিময়ে আরও দুই কোটি টাকাসহ মোট চার কোটি ২৬ লাখ টাকার ঘুষ লেনদেনের সুনির্দিষ্ট দাবি করা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যের এসব তথ্যের ভিত্তিতেই পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক এই বাণিজ্যের বাইরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভিন্ন কেনাকাটা ও টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগও খতিয়ে দেখছে কমিশন। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ লেনদেন, অর্থ পাচার, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বিটকয়েনে লেনদেন, চাঁদাবাজি এবং স্বজনপ্রীতির মতো গুরুতর বিষয়গুলোও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হচ্ছে। এমনকি ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রিকেট বোর্ডের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার এবং সাবেক এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের বিভিন্ন অভিযোগও পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করছে অনুসন্ধান দল।
/আশিক
ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: পার্থ
বিগত সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমান প্রশাসনকে গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের অপশাসনের ফলে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। এমন এক চরম অস্থিতিশীল ও দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রতিকূল মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকেই দেশকে পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে তিন দিনের সরকারি সফরের অংশ হিসেবে নিজের সংসদীয় এলাকা ভোলার নতুনবাজারে আয়োজিত এক জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ভোলার দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ‘ভোলা-বরিশাল সেতু’ নির্মাণ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দ্বীপজেলা ভোলার প্রতিটি নাগরিক এই সেতুর স্বপ্ন দেখছেন এবং এর বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষ আন্দোলন-সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং সেতু নির্মাণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মহাসড়কের বিষয়টিও যথাযথভাবে বিবেচনা করছে। তিনি এই মেগা প্রকল্প ঘিরে কোনো ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য ভোলাবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। জাতীয় সংসদে এই সেতুর পক্ষে জোরালো দাবি উত্থাপনের বিষয়টি মনে করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, ভোলা-বরিশাল সেতুর ডিপিপি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর পাশাপাশি ভোলার সার্বিক উন্নয়নে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা, নদীভাঙন রোধে ৭০০ কোটি টাকা এবং সড়ক সংস্কারের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক সততা ও অবস্থান তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে গত ছয় মাসের দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে একটি টাকার দুর্নীতিরও কোনো নজির মেলেনি। এই সময়ে এলাকায় কোনো রাজনৈতিক মিথ্যা মামলা, অহেতুক হয়রানি কিংবা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো অপরাধী, চোর কিংবা সন্ত্রাসী তাঁর দলের লোক হতে পারে না। দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি, ডাকাতি বা অপকর্মে জড়ালে তাকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, টিআর, জিআর, ঠিকাদারি কমিশন কিংবা দুর্নীতির মানসিকতা তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আদর্শের পরিপন্থী। আল্লাহর রহমত ও সাধারণ ভোলাবাসীর নিঃস্বার্থ সমর্থনেই তিনি আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছেন বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এর আগে বুধবার সকালে সড়কপথে রাজধানী ঢাকা থেকে বরিশাল নদী বন্দরে পৌঁছান তথ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে স্পিডবোটে করে দুপুরে ভোলার খেয়াঘাট লঞ্চঘাটে পৌঁছালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানান জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান এবং পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ কাওছার। এ সময় ভোলা জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর, সদস্য সচিব রাইসুল আলম, জেলা বিজেপির সভাপতি আমিরুল ইসলাম রতন, সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহ, উপজেলা বিজেপির সভাপতি আব্দুল জলিল ও সম্পাদক বুলবুলসহ বিএনপি এবং বিজেপির বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দর থেকে ফাঁসির মঞ্চে নিতে শহীদ পরিবারই যথেষ্ট: সারজিস আলম
- অটোরিকশার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বার্তা
- সাইকেলে ছয় দেশ পাড়ি দিয়ে হজ পালনের উদ্দেশ্যে নরসিংদীর সজিবের যাত্রা
- ক্যালেন্ডারের সংখ্যা নাকি মনের অনুভূতি: বার্ধক্যের আসল পরিচয় আসলে কী?
- ঢাকার দুই সিটির লড়াইয়ে নতুন সমীকরণ: মাঠে নামছে তরুণ নেতৃত্ব
- ১২ মাসের গড় হিসাবে দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি কিছুটা নিম্নমুখী
- জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রা ও ভবিষ্যৎ এআই: মানব মূল্যবোধ রক্ষা কতটা কঠিন?
- অল্প পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট ও ক্লান্তির পেছনে যেসব অজানা কারণ
- এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের সূচি প্রকাশ, পদক জয়ের অভিযানে বাংলাদেশ
- যুদ্ধ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর বিল দিচ্ছে পুরো বিশ্ব: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
- যানজট কমাতে রাজধানীতে ফের কার্যকর হচ্ছে বিকল্প নৌপরিবহন
- সংসদে ডা. শফিকুর রহমানের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের দোয়া
- ইসরায়েলি দূতাবাসের কাছে ফ্ল্যাট বিক্রিতে খামেনির নাম যেভাবে সামনে এল
- মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্যের প্রভাবে চাপে মূল্যবান ধাতুর বাজার
- দেশে শেখ হাসিনার নামে কত টাকার সম্পদ, জানা গেল হিসাব
- যানজট কমাতে নৌপথে আসছে নতুন গণপরিবহন ব্যবস্থা
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী: ভারতীয় হাইকমিশনার
- বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর বিরোধীদলীয় নেতাকে স্পিকারের ধন্যবাদ
- আইপিএলের ধাক্কা এড়াতে পিএসএলের সূচিতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব
- ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে রেখে আইসিসির বহুজাতিক সিরিজের পরিকল্পনা
- সন্তান ফ্ল্যাটে যাবে আর বাবা-মা বৃদ্ধাশ্রমে এটা মেনে নেওয়া যায় না: রুমিন ফারহানা
- ৩ ইরানি ট্যাংকারে আঘাতের পর মার্কিন ড্রোন জাহাজে হামলার দাবি তেহরানের
- লংমার্চে পথচারীদের ভোগান্তি: দেশবাসীর কাছে জামায়াত জোটের দুঃখ প্রকাশ
- আমি কাতারে হামলা করেছি, বোমাও ফেলেছি: আই২৪ নিউজে নেতানিয়াহুর দম্ভোক্তি
- আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতি টানলেও ক্লাবে নতুন কীর্তি মহাতারকার
- ছেঁড়া-ফাটা টাকা বদল স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের অংশ: সংসদে অর্থমন্ত্রী
- ‘সংঘাত-প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসার সমাজ চাই’: মির্জা ফখরুল
- আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর লংড্রাইভ: রাশেদ খাঁনের দাবি
- ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন: বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে আবেদন
- চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বিপর্যয়: গিরং বন্দরে চলছে জটিল উদ্ধার তৎপরতা
- বিপিএল না হওয়ার বিষয়ে কিছুই জানেন না যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
- অস্ত্রের ঘাটতির তথ্য ফাঁস: পেন্টাগনের ৫০ শীর্ষ কর্মকর্তার পলিগ্রাফ পরীক্ষা
- বাংলাদেশ ব্যাংক এখন চাঁদের মতো, দেখা যায় কিন্তু যাওয়া যায় না: এমপি মনিরুল
- ওয়াশিংটনকে ‘যন্ত্রণাদায়ক জবাবের’ নতুন হুঁশিয়ারি শীর্ষ নেতার
- জাতীয় সংসদে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের হিসাব তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্র
- গুপ্তদের আড়ালে স্বৈরাচার ফেরার শঙ্কা, অরাজকতা নিয়ে সতর্ক করলেন তারেক রহমান
- মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে তেল আবিবের বড় লক্ষ্য প্রকাশ
- রাতে রাজধানীর আবহাওয়া নিয়ে নতুন পূর্বাভাস
- আর্জেন্টিনার জার্সিতে আবারও দেখা যেতে পারে মেসিকে
- শেখ হাসিনার বক্তব্য ইস্যুতে ‘নো কমেন্ট’, তারেক রহমানের সফর নিয়ে যা বলল ভারত
- দেবিদ্বারে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বল্লভপুর শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন
- নরসিংদীতে ছেলের হাতে বাবা খুন, আহত মা-ভাই
- নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা
- বিনা মূল্যে ২ লাখ টাকার আইটি প্রশিক্ষণ, রয়েছে চাকরির সুযোগ
- ‘চিকেনস নেক’-এ সমান্তরাল মহাসড়ক এনএইচ-৩২৭ বানাচ্ছে ভারত
- দলবদলের বাজারে নতুন চমক, ইউরোপ ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যে তরুণ উইঙ্গার
- লিপজিগে ড্রোন হামলা: রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ অভিযোগ জার্মানির
- কারণ ছাড়া ওজন কমছে বা ক্লান্ত লাগছে? ক্যানসারের ৫ সংকেত জানাল জনস হপকিন্স
- সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি
- ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- টানা পতনের পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পরিবর্তন
- নবম পে-স্কেল অনুমোদনের আড়ালে দুঃসংবাদ: বাতিল হচ্ছে বিশেষ সুবিধা
- ধর্ম নয়, নাগরিক পরিচয়ে দেশ গড়ে উঠবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- অস্ত্রের মজুদ ফাঁকা হওয়ার খবর ‘শতভাগ ভুল’: ট্রাম্পের হুঙ্কার
- বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে সহযোগিতা বাড়াবে আইপিইউ: শামা ওবায়েদ
- হতাশাজনক হারে এশিয়ান কাপ বাছাই থেকে বিদায় নিশ্চিত বাংলাদেশের
- গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে নতুন সংকট তৈরি হতে পারে: ডা. শফিকুর রহমান
- লন্ডনের ইলফোর্ডে গ্রেটার চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
- তিন দফা পতনের পর স্বর্ণের দামে বড় লাফ
- ইরানের পাশে পুতিন: ‘ক্ষুধার্ত হাঙরদের’ দাঁতভাঙা জবাবের হুঁশিয়ারি
- বড় সংঘাতের আশঙ্কায় বেইজিংয়ের নজিরবিহীন পদক্ষেপ
- ক্রিকেটের নতুন বিশ্বমঞ্চের দায়িত্ব পেল ভারত
- দক্ষিণ ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলায় ব্যাপক হতাহত
- মেসিকে ছাড়া বিশ্বকাপ আগের মতো থাকবে না: জোসে মরিনিও
- ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: পার্থ








