ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপট
মঞ্জু বনাম হেলাল: খুলনার রাজনীতিতে দুই পরীক্ষিত নেতার লড়াই, কে এগিয়ে এই কঠিন সমীকরণে?

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা-২ (খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—উভয় দলই প্রার্থী দেওয়ায় ভোটের সমীকরণ বেশ জটিল এবং তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই আসনে বিএনপির পক্ষে লড়ছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, আর জামায়াতের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল।
খুলনা-২ আসনটি ঐতিহাসিকভাবেই বিএনপির একটি শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতা পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনগুলোতে বিএনপি এই আসনটিতে মোট চারবার জয়লাভ করেছে, যেখানে আওয়ামী লীগ জিতেছে দুবার। তবে এই নির্বাচনে দুই ইসলামপন্থী দলের প্রার্থীর উপস্থিতির কারণে ভোটের ফল অপ্রত্যাশিত হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর শক্তি ও চ্যালেঞ্জ
নজরুল ইসলাম মঞ্জু এই আসনের একজন পরীক্ষিত নেতা। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং দলের কঠিন সময়েও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ ধরে রাখার কারণে তার একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে।
অতীতের ফলাফল
মঞ্জু এই আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেবার সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হলেও তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ৯০,৯৫০ (৫০.০%), যা তাঁর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেয়।
নেতৃত্বের মূল্যায়ন
দলের দুর্দিনে হাইকমান্ড তাকে এই আসন থেকে এককভাবে মনোনয়ন দেওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে, যা তাঁর নির্বাচনী গতিকে আরও বেগবান করতে পারে।
তবে এবার জামায়াতের প্রার্থী থাকায় ইসলামপন্থী ভোটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিভক্ত হয়ে যেতে পারে, যা মঞ্জুর জয় নিশ্চিত করার পথে বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করবে।
জামায়াত প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের প্রভাব
শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলালের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিতি এবং জামায়াতের শক্তিশালী সাংগঠনিক কাঠামো।
স্থানীয় পরিচিতি
হেলাল খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করার সুবাদে তিনি স্থানীয় জনগণের মধ্যে একটি পরিচিতি ও ভিত্তি তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
ভোটের ব্যাংক
জামায়াতে ইসলামীর খুলনাসহ এই অঞ্চলে নিজস্ব একটি শক্তিশালী ভোট ব্যাংক রয়েছে। যদিও ১৯৯৬ সালের পর থেকে জামায়াত এই আসনে সরাসরি প্রার্থী দেয়নি, এবার হেলালের মতো একজন পরিচিত মুখকে প্রার্থী দেওয়ায় জামায়াতের ভোটগুলো পুরোপুরি একত্রিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোটের সমীকরণ ও বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই প্রধান প্রার্থীর উপস্থিতির কারণে ইসলামপন্থী ও জাতীয়তাবাদী ঘরানার ভোটগুলো বিভক্ত হওয়ার প্রবল শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
১. ভোট বিভাজন: মঞ্জু এবং হেলাল উভয়েরই লক্ষ্য থাকবে ইসলামপন্থী ও জাতীয়তাবাদী ঘরানার ভোটারদের আকৃষ্ট করা। দুই নেতার উপস্থিতিতে এই ভোট ভাগ হয়ে গেলে তা শেষ পর্যন্ত অন্য দলের প্রার্থীর জন্য সুবিধা এনে দিতে পারে।
২. জোটের অভাব: দুই দলই (বিএনপি ও জামায়াত) গত ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে থাকলেও নির্বাচনে কোনো আনুষ্ঠানিক জোট না হওয়ায় তাদের এই স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুলনার ভোটের হিসাবে নতুন পরিবর্তন আনবে। জামায়াত এই আসনে পূর্ণ শক্তি নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভোটাররা মনে করছেন, এই খুলনা শহরে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে প্রার্থীর অতীতের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ই শেষ পর্যন্ত প্রাধান্য পাবে। এই দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর দ্বৈরথ খুলনা-২ আসনকে এবারের নির্বাচনের অন্যতম আকর্ষণীয় আসনে পরিণত করেছে।
তারেক রহমানকে মাইনাস করার নীল নকশা দিয়েছিল এজেন্সিগুলো: আসিফ
২০২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার জন্য ‘ডিপ স্টেট’ বা শক্তিশালী কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে কৌশলগত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন এনসিপি মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ ২০২৬) বিকেলে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। আসিফ মাহমুদের দাবি অনুযায়ী, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার শুরুর দিকেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যেখানে শেখ হাসিনার মেয়াদের অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
আসিফ মাহমুদ জানান, সেই ‘ডিপ স্টেট’ এজেন্সিগুলো নির্দিষ্ট কিছু শর্তের বিনিময়ে রোডম্যাপও তৈরি করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, “তারা আমাদের অফার করেছিল যেন আমরা ২০২৯ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করি। তাদের স্ট্র্যাটেজি ছিল বিএনপির সাজাপ্রাপ্ত নেতাদের আইনি মারপ্যাঁচে নির্বাচনের বাইরে রাখা। এমনকি তারেক রহমানের সাজার বিষয়টি ব্যবহার করে কীভাবে তাঁকে নির্বাচনের বাইরে রেখে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা যায়, সেই পরিকল্পনাও তারা দিয়েছিল। কিন্তু আমরা সেই আপস বা সমঝোতায় রাজি হইনি।”
তিনি বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তাঁরা নির্বাচন দিয়ে পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু বর্তমান সরকারে বিগত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তিকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’কে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা আগে নির্বাচনের সমান সুযোগের কথা বলে তাঁদের পদত্যাগ চেয়েছিল, তারাই এখন সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করছে। আসিফ মাহমুদের মতে, ‘সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার’ দোহাই দিয়ে চাইলে তাঁরাও ২৯ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারতেন, যদি তারা ‘ডিপ স্টেট’-এর সঙ্গে সেই সমঝোতা করতেন।
/আশিক
শাসক বদলালেও বদলায়নি শোষণের ধারা: জামায়াত আমির
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দেশে শাসক বদলালেও শোষণের ধারা এখনো বদলায়নি।
বুধবার (২৫ মার্চ ২০২৬) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট দল নির্বাচিত হয়েই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিজেদের লোক নিয়োগ দিয়ে জনগণের রায় অমান্য করার চেষ্টা করছে।
ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিরা জনরায় মূল্যায়ন না করায় যেমন তরুণরা অস্ত্র হাতে নিয়েছিল, বর্তমান সরকারও যদি ২০২৪ সালের গণআকাঙ্ক্ষা তথা জুলাই সনদ মেনে না নেয়, তবে তরুণ সমাজ আবারও কঠিন জবাব দেবে।
তিনি আরও যোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী সংসদের ভেতরে এবং বাইরে জনগণের অধিকার আদায়ে লড়তে প্রস্তুত। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদ আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।
আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, বৈষম্যহীন সেবা নিশ্চিত করতেই তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন, কিন্তু এখনো সেই বৈষম্য কাটেনি।
তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, জনগণের রায়ের বিপক্ষে না হেঁটে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে জাতির কাছে স্মরণীয় হওয়ার সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলনসহ অন্য বক্তারা জুলাই সনদ নিয়ে হাইকোর্টে রিট এবং সরকারের ‘৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়ার’ চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন।
/আশিক
সুনামগঞ্জে জামায়াত নেতার বাড়িতে বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল অস্ত্র উদ্ধার
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় একটি বিশেষ গোয়েন্দা অভিযানে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তি পিয়ার আলী, যিনি উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের শ্রীরামিসি (রসুলপুর) গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর আঞ্চলিক শাখার সভাপতি হিসেবে পরিচিত। অভিযানের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার গভীর রাতে, আনুমানিক রাত ২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ পদাতিক ডিভিশনের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় পিয়ার আলীর নিজ বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি বিদেশি রিভলভার, একটি একনলা বন্দুক এবং একটি দেশীয় পাইপগান রয়েছে। পাশাপাশি ১৩ রাউন্ড গুলি, ১৪ বক্স ক্যালিবারের এয়ারগানের গুলি এবং একটি খালি পিস্তলের ম্যাগাজিনও জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি ধারালো প্রাণঘাতী অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযান শেষে সেনাবাহিনী উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ জগন্নাথপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে পুলিশ অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করে, যেখানে পিয়ার আলীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অবৈধ অস্ত্র মজুদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
-রাফসান
ঈদের সরকারি বরাদ্দের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকার মানবিক সহায়তা বিতরণের পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। বুধবার (২৪ মার্চ ২০২৬) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি এই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সংসদ সদস্য তাঁর নির্বাচনী এলাকা দেবিদ্বারের দুস্থ ও গরিব জনসাধারণের মাঝে এই অর্থ বিতরণের বিস্তারিত তালিকা এবং সুবিধাভোগীদের তথ্য সংবলিত ছবিও শেয়ার করেছেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন যে, দেবিদ্বার উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার মোট ১৪৪টি ওয়ার্ডে এই অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী ১০০০ জন সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিকে নগদ ১০০০ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া একই তালিকার অবশিষ্ট ৫০০ জন ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী উপহার দেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তার স্বার্থে এনআইডি এবং মোবাইল নম্বর ঢেকে দেওয়া হলেও প্রশাসনিক অনুসন্ধানের জন্য যেকোনো তথ্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এই সহায়তা বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি বলে দাবি করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের এই এমপি। তিনি জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত এবং প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই পুরো তালিকাটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। সংসদ সদস্যের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ স্থানীয় রাজনীতিতে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে, যা জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
/আশিক
ধন্যবাদ বিএনপি সরকারকে: আসিফ নজরুল
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী 'জুলাই যোদ্ধাদের' আইনি সুরক্ষা বা দায়মুক্তি দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিএনপি সরকারকে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের জন্য ধন্যবাদ জানান। এর আগে সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ঘোষণা করেছিলেন যে, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে যোদ্ধাদের ইনডেমনিটি বা দায়মুক্তি দেওয়ার অধ্যাদেশটি সংসদীয় বিশেষ কমিটি গ্রহণ করতে যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, মঙ্গলবার সকালে সংসদের বিশেষ কমিটির বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হবে। এছাড়া বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দলীয় নেতাদের নামে করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তটিও আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হচ্ছে। ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ায় ৩০ দিনের আইনি বাধ্যবাধকতার মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার তোড়জোড় চলছে।
আসিফ নজরুল তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, "আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দেওয়ার অধ্যাদেশ গ্রহণ করবে সরকার। ধন্যবাদ বিএনপি সরকারকে।" তার এই প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী ২৯ মার্চ সংসদের পরবর্তী অধিবেশন বসার কথা রয়েছে, যার আগেই জুলাই বিপ্লবের চেতনার আলোকে এই সংস্কারমূলক অধ্যাদেশগুলো চূড়ান্তভাবে পাসের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিশেষ কমিটি। এই পদক্ষেপকে জুলাই বিপ্লবের কুশীলবদের জন্য এক বড় ধরনের আইনি বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
/আশিক
৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পেলাম না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের জ্বালানি বাজারে এক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। রাজধানীর ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে এবং দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) রাত থেকেই অনেক গ্রাহক দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান। তিনি লেখেন, ‘৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পেলাম না।’ তার এই স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই দেশে তেলের পাম্পগুলোতে ভিড় বেড়েছে।
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বস্ত করা হচ্ছে যে, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের কোনো ঘাটতি নেই এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সরকারি এই আশ্বাসের পরও মাঠপর্যায়ে পাম্পগুলোতে তেলের অপ্রাপ্যতা এবং দীর্ঘ লাইনের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও ক্ষোভ বেড়েই চলেছে।
/আশিক
গত নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, স্থিতিশীলতার স্বার্থে ফল মেনেছি: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গত নির্বাচন নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। সোমবার (২৩ মার্চ ২০২৬) দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা এলাকায় গ্রামবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়কালে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গত নির্বাচন যে সুষ্ঠু হয়েছে তা তারা কখনো দাবি করেননি।
তবে দেশের চরম অচল অবস্থা এড়ানো এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে তারা সেই নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলেন। নিজের জন্মভূমিতে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
কুশল বিনিময় অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান প্রধান বিরোধী দল বিএনপির উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, “আপনারা যদি সঠিক ধারায় ফিরে না আসেন, তাহলে মনে রাখবেন—সারাদেশের মানুষ এখন ‘জুলাই যোদ্ধা’। এই জাগ্রত জনতা আপনাদের ক্ষমা করবে না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, জামায়াত চায় না বিএনপির পরিণতি অতীতের ফ্যাসিবাদীদের মতো হোক। জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, এ চেতনায় উদ্বুদ্ধ মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং তারা কোনো ধরনের রাজনৈতিক বিচ্যুতি মেনে নেবে না।
এদিন ডা. শফিকুর রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। কুলাউড়ার ভাটেরা ইউনিয়নের মুমিনছড়া চা বাগান এলাকায় শত শত নেতা-কর্মী তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং একটি মিছিলের মাধ্যমে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।
পরে তিনি সেখানে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেন। অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর জেলা সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার শাহেদ আলী, সাধারণ সম্পাদক ইয়ামির আলীসহ স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
/আশিক
সংসদে সমাধান না হলে রাজপথই শেষ ভরসা: গণভোট নিয়ে অনড় অবস্থানে জামায়াত
রাজধানীর মিরপুরে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় শেষে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) সকালে মণিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন—"ভোট আর গণভোট; একটা হালাল হলে আরেকটা হারাম হবে কেন?" তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জামায়াত আমির হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি সংসদীয় উপায়ে গণভোটের সমস্যার সমাধান না হয়, তবে দেশের ৭০ শতাংশ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই দাবি আদায় করা হবে। ঈদযাত্রা নিয়ে সরকারের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, এবারের ঈদযাত্রায় ভাড়ার নৈরাজ্য এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বক্তব্য জাতির জন্য লজ্জাজনক। এটাকে 'অমানবিক ও অপরাধ' আখ্যা দিয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, সাধারণ মানুষের যাত্রা আরামদায়ক করতে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া, দেশবাসী ও প্রবাসীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি গাজা ও ইরানে চলমান সংঘাতের কথা উল্লেখ করে তিনি মজলুমদের বিজয়ের জন্য দোয়া করেন।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যস্ততায় কাটছে বিরোধীদলীয় নেতার ঈদের দিনটি। বেলা ১১টা থেকে ২৯ মিন্টো রোডে তাঁর সরকারি বাসভবনে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় শুরু করেছেন তিনি। এরপর বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচি রয়েছে তাঁর।
/আশিক
এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছে দুই নতুন সংগঠন
রাজনৈতিক সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন করে সাংগঠনিক বিস্তারের উদ্যোগ নিয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের পরপরই ‘জাতীয় কৃষক শক্তি’ এবং ‘জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি’ নামে দুটি নতুন সহযোগী সংগঠনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে পারে।
দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মতে, ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ ফোরামে এ দুটি সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। কৃষিখাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বৃহৎ জনগোষ্ঠী এবং বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে যুক্ত স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এর মাধ্যমে দলটি পেশাভিত্তিক অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে চায়, যা রাজনৈতিক কাঠামোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে।
নেতারা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতিতে কৃষি খাতের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও এই খাতের মানুষদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা তুলনামূলকভাবে সীমিত। ‘জাতীয় কৃষক শক্তি’ গঠনের মাধ্যমে কৃষকদের দাবি, অধিকার এবং অর্থনৈতিক স্বার্থকে সরাসরি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে ‘জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তি’ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সহায়তা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
এনসিপির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্তরে বিস্তৃত হয়েছে। এর আগে দলটি জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাতীয় যুবশক্তি, জাতীয় শ্রমিক শক্তি এবং জাতীয় নারীশক্তি নামে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন গঠন করেছে। নতুন দুটি সংগঠন যুক্ত হলে দলটির সংগঠনভিত্তিক বিস্তার আরও গভীর ও সুসংগঠিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, নতুন সংগঠন দুটি নিয়ে প্রাথমিক কাঠামোগত পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদের পর কেন্দ্রীয়ভাবে উদ্বোধনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, দলীয় আলোচনার ভিত্তিতেই এই দুটি সংগঠনের ধারণা এসেছে। তিনি জানান, একটি অনানুষ্ঠানিক কৃষক উইং আগে থেকেই থাকলেও সেটিকে এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রমকে আরও সংগঠিত ও সক্রিয় করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দলের অন্যতম লক্ষ্য হলো কৃষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের অর্থনৈতিক মুক্তির পথ সুগম করা। এই লক্ষ্যে রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে কৃষকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এনসিপির সাংগঠনিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জুলাই আন্দোলনের পর উদ্ভূত ছাত্রনেতৃত্বের ধারাবাহিকতা থেকেই দলটির ছাত্রভিত্তিক সংগঠনগুলোর বিকাশ ঘটেছে। পরবর্তীতে যুব, শ্রমিক ও নারী সংগঠন যুক্ত হয়ে একটি বিস্তৃত রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যা এখন পেশাভিত্তিক সংগঠন ও সেক্টরভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে।
এছাড়াও পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করতে এনসিপি ইতোমধ্যে ন্যাশনাল প্রফেশনাল অ্যালায়েন্স, ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্স, ইউনিভার্সিটি টিচার্স ফোরাম, ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলসহ একাধিক সংগঠন গঠন করেছে। প্রকৌশলী, আইনজীবী, চিকিৎসক এবং প্রবাসীদের নিয়েও পৃথক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যা দলটির বহুমাত্রিক সাংগঠনিক কৌশলকে নির্দেশ করে।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে তিন গুণ বেশি: তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে হিমশিম প্রশাসন
- নয়াপল্টনে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর: তারেক রহমানকে ঘিরে উৎসবের আমেজ
- আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে বাড়ছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- ভারতকে রুখে দিয়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ: মালেতে লাল-সবুজের গর্জন
- ইরান যুদ্ধে হুতিদের অংশগ্রহণে বিপাকে ইসরায়েল
- ঢাকাসহ ১৯ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস: নদীবন্দরে সতর্কতা জারি
- স্বর্ণের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে: মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বদলে গেল সব হিসাব
- জেট ইঞ্জিন ও এআই প্রযুক্তির মিশেল: ইরানের হাতে এখন রাশিয়ার সুপার ড্রোন
- শিক্ষাবিদ দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক: জাতি হারাল এক নক্ষত্রকে
- অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমেদের সহধর্মিনী ও ভাষা সৈনিক আমেনা আহমেদ আর নেই
- খারগ দ্বীপে হামলা করলে কেউ জীবিত ফিরবে না: ইরানের নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি
- সৌদি ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আহত ২৯ মার্কিন সেনা, কুয়েতে ড্রোন আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত রাডার
- তাসের ঘরের মতো বিধ্বস্ত মার্কিন প্রতিরক্ষা: মধ্যপ্রাচ্যের সব ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ইরানের
- বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি: সংকটের মুখে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা
- যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ডাক: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজপথে নামছে লাখো মানুষ
- খেলাধুলা নিয়ে রাজনীতি নয়: আইপিএল সম্প্রচার নিয়ে ইতিবাচক তথ্যমন্ত্রী
- নেপালে ওলি যুগের অবসান:শপথের পরদিনই গ্রেপ্তার হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী
- আজকের মুদ্রা বিনিময় হার: ২৮ মার্চ ২০২৬: কোন দেশের কত টাকা?
- কেন্দুয়ায় রামপুর বাজারে বড় অভিযান: গোপন গুদাম থেকে বিপুল পেট্রোল জব্দ!
- নকল হলে ব্যবস্থা শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও: এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি
- বুশেহর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা
- মুক্তিযুদ্ধ কোনো দল বা ব্যক্তির নয়, এটি ছিল সম্মিলিত জনযুদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- সোনার বাজারে বড় ধস: দেশের সব জুয়েলারি দোকানে নতুন দাম কার্যকর
- আজ রাজধানীর কোথায় কোন কর্মসূচি? বের হওয়ার আগে জেনে নিন জরুরি তথ্য
- সৌদি আরবে প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলা
- ২৮ মার্চ ২০২৬: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সঠিক সময়
- ঢাকাসহ ১৫ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস: নদীবন্দরে সতর্কতা
- হরমুজ প্রণালির নতুন নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’? মিয়ামিতে ট্রাম্পের বিদ্রূপাত্মক ঘোষণা
- কালিগঞ্জে চুরির ঘটনায় সংঘবদ্ধ হামলা, গুরুতর আহত ১ জন
- কালিগঞ্জের রতনপুরে জমি বিরোধের জেরে নৃশংস হামলা, গুরুতর আহত ১ জন
- ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার গোপন সহায়তার নতুন তথ্য
- ইসরায়েলে রাজনৈতিক সংকট, চাপ বাড়ছে নেতানিয়াহুর
- চীনের চিপ সরঞ্জাম যাচ্ছে ইরানে, অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের
- শাওয়ালের ৬ রোজায় এক বছরের সওয়াবসহ নানা ফজিলত
- খামেনির শেষ মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করল ইরান
- আজকের বৈদেশিক মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার
- ইরানে ১২ বছর বয়সিদের যুদ্ধে যুক্ত করার ঘোষণা
- সৌদিতে মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যাপক বিস্ফোরণ
- যুদ্ধ থামাতে ইরানকেই এগোতে হবে: ট্রাম্প
- এবার ইরানে প্রকাশ্যেই উঠছে পারমাণবিক বোমা তৈরির জোর দাবি
- সূর্যাস্ত-সূর্যোদয়সহ আজকের নামাজের সময় এক নজরে
- রাতে বড় ম্যাচ, এক নজরে আজকের খেলার তালিকা
- রেকর্ড পতন, মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজারে পাচ্ছেন ১ ভরি সোনা
- ইরানে ২৭ দিনের ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, বাড়ছে দুর্ভোগ
- ঢাকায় আজ আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানুন বিস্তারিত
- ১০ হাজার টন ডিজেল ও জেট ফুয়েল নিয়ে নতুন জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে
- ইরান বোকা নয়, কিছু ক্ষেত্রে খুবই বুদ্ধিমান: ট্রাম্প
- স্বাধীনতা দিবসের সন্ধ্যায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে লাশের মিছিল
- আকাশে মার্কিন এফ-১৮ যুদ্ধবিমানের চরম পরিণতি: চাবাহার উপকূলে বড় ধামাকা
- রিলস ভিডিওতে বৈপ্লবিক ফিচার আনছে মেটা; বদলে যাবে আপনার অভিজ্ঞতা
- স্বর্ণের বাজারে বড় ধস: গত বছরের রেকর্ড ভাঙছে ২০২৬-এর স্বর্ণের বাজার
- স্বর্ণ কিনতে চান? আজই সুযোগ: রেকর্ড হারে দাম কমাল বাজুস
- ট্রাম্পের যুদ্ধ স্থগিতের ঘোষণায় সোনার বাজারে ধস: ১০ শতাংশ কমল দাম
- তেজাবি স্বর্ণের বাজারে ধস: ঈদের কেনাকাটায় স্বস্তি নিয়ে এল নতুন দাম
- পদ্মার গভীরে শনাক্ত ডুবে যাওয়া বাস: উদ্ধারে লড়ছে ‘হামজা’ ও ডুবুরি দল
- সোনার বাজারে বড় ধস: দেশের সব জুয়েলারি দোকানে নতুন দাম কার্যকর
- রেকর্ড পতন, মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজারে পাচ্ছেন ১ ভরি সোনা
- নিজের রক্ষকই যখন ভক্ষক: বাহরাইনে মার্কিন প্যাট্রিয়ট বিপর্যয়ের গোপন খবর ফাঁস
- ইসরায়েলের আকাশ এখন ইরানের নিয়ন্ত্রণে? যুদ্ধবিরতিতে ৬ কঠিন শর্ত তেহরানের
- শাওয়ালের ৬ রোজা: ফজিলত ও করণীয় জানুন
- পদ্মার অতলে বাস ট্র্যাজেডি: ২৩ প্রাণহানির মধ্য দিয়ে শেষ হলো উদ্ধার অভিযান
- রমজানের পর কেন রাখবেন শাওয়ালের ৬ রোজা? হাদিসের আলোকে বিশেষ ফজিলত
- লেনদেন ছাড়াল ৬শ কোটি টাকা: উত্থানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ
- ঈদ পরবর্তী বাজারে সোনার বড় ধস: ভরিতে বড় ছাড় দিয়ে সোনার দাম পুনর্নির্ধারণ
- আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধস, দেশে কমলো কত








