জম্মু হত্যাকাণ্ড ১৯৪৭: নির্বিচারে মুসলিমদের হত্যার ভয়াবহ চিত্র, যা তুলে ধরল গবেষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ নভেম্বর ০৮ ১০:৫১:৫৫
জম্মু হত্যাকাণ্ড ১৯৪৭: নির্বিচারে মুসলিমদের হত্যার ভয়াবহ চিত্র, যা তুলে ধরল গবেষণা
মাউন্টব্যাটেনের দেশভাগের সিদ্ধান্তের পর জম্মুতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল।

ভারত বিভাজনের সময় ১৯৪৭ সালে কাশ্মীর উপত্যকার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও জম্মু প্রদেশে পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। ৯৩ দশমিক ৭ শতাংশ মুসলিম অধ্যুষিত কাশ্মীর উপত্যকার বিপরীতে, জম্মুতে দেখা গিয়েছিল এক নজিরবিহীন সহিংসতা ও গণহত্যা। জম্মুর রাজনৈতিক কর্মী এবং দৈনিক কাশ্মীর টাইমসের প্রতিষ্ঠাতা বেদ ভাসিনের লেখা গবেষণা পত্রে সেই সময়কালের জম্মুর ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

প্রয়াত বেদ ভাসিন ২০০৩ সালে জম্মু বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘বিভাজনের অভিজ্ঞতা: জম্মু ১৯৪৭’ শিরোনামের একটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, মাউন্টব্যাটেনের ভারত বিভাজনের পরিকল্পনা ঘোষণার পরপরই জম্মুতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে।

পুঞ্চের অসাম্প্রদায়িক আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িক রূপ

পুঞ্চে মহারাজা হরি সিংয়ের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ এবং কিছু কর আরোপের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে initially এক ধরনের অসাম্প্রদায়িক আন্দোলন শুরু হয়েছিল। তবে মহারাজার নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের নির্মম বল প্রয়োগ মানুষের আবেগকে উস্কে দেয় এবং এই আন্দোলন দ্রুতই অসাম্প্রদায়িক থেকে সাম্প্রদায়িক রূপ নেয়।

বেদ ভাসিন তার গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেছেন, মহারাজার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন শুধু মুসলিমদের আত্মসমর্পণ করতে বলেনি, ডোগরা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক মুসলিম সৈন্য এবং মুসলিম পুলিশ অফিসারদেরও ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল, যাদের আনুগত্য সম্পর্কে প্রশাসনের সন্দেহ ছিল।

সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও হত্যাকাণ্ডের চিত্র

জম্মুতে তীব্র সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করে ভাসিন লিখেছেন, গুজব ছড়ানো হয়েছিল যে মুসলিমরা সাম্প্রদায়িক হত্যাযজ্ঞকে ন্যায্য প্রমাণ করতে অস্ত্র হাতে তুলে নেবে এবং তারা হিন্দুদের ওপর আক্রমণের পরিকল্পনা করছে। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে বিসনা, আরএসপুরা, আখনুরের মতো সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ পাকিস্তানের শিয়ালকোট অঞ্চলে চলে গিয়েছিলেন।

উধমপুর জেলায়, বিশেষত উধমপুর, চেনানি, রামনগর এবং রিয়াসি অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক মুসলিমকে হত্যা করা হয়। এমনকি উধমপুর থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভাদেরওয়াহতেও বহু মুসলিম ব্যক্তি সাম্প্রদায়িকতার শিকার হন। ভাসিনের মতে, এই হত্যাকাণ্ডে আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ)-এর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং তাদের সাহায্য করেছিল সশস্ত্র শিখ শরণার্থীরা, যারা হাতে তলোয়ার নিয়ে জম্মুর রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল।

ছাম্ব, দেবা বাটালা, মানুসার এবং আখনুরের অন্যান্য অংশে বসবাসকারী মুসলিম সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের হত্যার খবর পাওয়া গিয়েছিল, যাদের অনেকেই জম্মুর বিভিন্ন অঞ্চলে পালিয়ে গিয়েছিলেন। কাঠুয়া জেলায় মুসলিমদের গণহত্যা এবং নারীদের অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

প্রশাসনের ভূমিকা ও গণহত্যার প্রমাণ

বেদ ভাসিনের মতে, সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড বন্ধ করে শান্তির পরিবেশ গড়ে তোলার পরিবর্তে মহারাজার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন সাম্প্রদায়িক গুন্ডাদের সাহায্য করেছে এবং তাদের অস্ত্র দিয়েছে। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকার বাইরে বসবাসরত বহু মুসলিম ব্যক্তিকে দাঙ্গাকারীরা নৃশংসভাবে হত্যা করে। শহরে সরকারিভাবে কারফিউ জারি থাকা সত্ত্বেও দাঙ্গায় সামিল এই লোকজন অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে অবাধে গাড়িতে চলাচল করছিল। ভাসিনের দাবি, মুসলিমদের চলাচলে বাধা দেওয়ার জন্যই এই কারফিউ জারি করা হয়েছিল।

এরপর তালাব খাতিকান এলাকায় মুসলিমদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। তাদের প্রথমে যোগী গেট পুলিশ লাইনে স্থানান্তরিত করা হয়। নিরাপত্তা দেওয়ার বদলে প্রশাসন তাদের নিজেদের নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তানে চলে যেতে বলে। প্রথম ব্যাচে প্রায় ৬০টা লরিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষকে বোঝাই করে শিয়ালকোটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। জম্মু শিয়ালকোট রোডের চাট্টায় পৌঁছানোর পর বিপুল সংখ্যক আরএসএস-এর লোক এবং শিখ উদ্বাস্তুরা গাড়িগুলো নিজেদের কব্জায় নিয়ে নেয়। সেখানে গাড়িতে সওয়ার ব্যক্তিদের টেনে বের করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই সময় সৈন্যরা হয় হত্যাকাণ্ডে যোগ দিয়েছিল বা দর্শকের ভূমিকায় ছিল। একইভাবে পরের দিন অন্যান্য পরিবারগুলোও একই পরিণতি বরণ করে।

এই হত্যাকাণ্ডে হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানা নেই, তবে বিভিন্ন অনুমান অনুযায়ী এই সংখ্যা ২০ হাজার থেকে দুই লাখ ৩৭ হাজার। এই সময়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের কিছু অংশে চলে যান।

জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ও ষড়যন্ত্র

১৯৪১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, জম্মু প্রদেশের মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ১ দশমিক ২ মিলিয়নেরও বেশি, যা প্রদেশের মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ ছিল। রাজধানী জম্মুর জনসংখ্যা ছিল মাত্র ৫০ হাজার, যার মধ্যে মুসলিম ছিলেন ১৬ হাজার। জম্মু জেলার মোট জনসংখ্যা ছিল ৪ দশমিক ৫ লাখ, যার মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ১ দশমিক ৭ লাখ।

কাশ্মীর টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক অনুরাধা জামওয়াল বলেন, জম্মু প্রদেশের ঘটনাবলী থেকে বোঝা যায় যে দেশভাগের সময় জনতাত্ত্বিক গঠন পরিবর্তনের সমন্বিত চেষ্টা করা হয়েছিল। ১৯৪১ সালে মোট জনসংখ্যা চার লাখ ২৮ হাজার ৭১৯ জনের ৩৭ শতাংশ ছিল মুসলিম সম্প্রদায়। কিন্তু ১৯৬১ সালে মোট জনসংখ্যা পাঁচ লাখ ১৬ হাজার ৯৩২-এর মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৫১ হাজার ৬৯৩ জন, অর্থাৎ মাত্র ১০ শতাংশ।

'ক্যালকাটা স্টেটসম্যান’-এর সম্পাদক ইয়ান স্টিফেন্স তার বই ‘পাকিস্তান’-এ লিখেছেন, আগস্ট থেকে ১১ সপ্তাহ ধরে পূর্ব পাঞ্জাব, পাতিয়ালা এবং কাপুরথালায় শুরু হওয়া পদ্ধতিগত নৃশংসতা মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে কার্যত নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল।

তৎকালীন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা ভাসিনকে সতর্ক করে বলেছিলেন, "এখন শান্তি কমিটি গঠন করে শান্তির প্রতিষ্ঠার কাজ করার সময় নয়... আমরা ইতিমধ্যে এক হিন্দু-শিখ ডিফেন্স কমিটি গঠন করেছি।" ওই কর্মকর্তা ভাসিন ও তার সঙ্গীদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথাও বলেছিলেন। ওই কর্মকর্তা ভাসিনের সঙ্গীকে বলেছিলেন, তারা রেহারি এলাকায় হিন্দু ও শিখ ছেলেদের সশস্ত্র প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন এবং আরএসএস-এর যুবা সদস্যরা ৩০৩ রাইফেল ব্যবহারের জন্য সৈন্যদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।

‘দ্য হিস্টোরিক্যাল রিয়েলিটি অফ দ্য কাশ্মীর ডিসপিউট’ বইয়ের লেখক পিজি রসুলের মতে, জওহরলাল নেহরু ও শেখ আবদুল্লাহ যখন জম্মুতে মুসলিমদের এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দেখা করেন, তখন তাদের এই 'মর্মান্তিক ঘটনা' সম্পর্কে জানানো হলেও তারা নীরব ছিলেন। রসুল বলেছেন, তারা হয়তো ভেবেছিলেন কাশ্মীর হারালেও জম্মু তাদের হাতে থাকা উচিত এবং এর একমাত্র উপায় হলো সেখানে হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতা তৈরি করা।

জম্মু হত্যাকাণ্ডের পরিণতি

জম্মু হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পরে, পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ (বর্তমানে খাইবার পাখতুনখোয়া) থেকে উপজাতি মিলিশিয়ারা কাশ্মীর আক্রমণ করে। এই সংঘাত প্রথম ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সূত্রপাত করে। ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি মাসে দিল্লি এবং ইসলামাবাদ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং সেই সময় জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য দুই দেশের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দুই দিকের কাশ্মীরিরাই ছয়ই নভেম্বর এই হত্যাকাণ্ডকে স্মরণ করে থাকেন।


ইসরায়েলি নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সেনাবাহিনী: চিফ অব স্টাফ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১৯:৩৬:৪৩
ইসরায়েলি নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সেনাবাহিনী: চিফ অব স্টাফ
ছবি : সংগৃহীত

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের পরম দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনী চরম ব্যর্থ হয়েছিল বলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছেন দেশটির চিফ অব স্টাফ এয়াল জামির। একই সাথে উক্ত নিরাপত্তা বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে বহুবিধ ফ্রন্ট থেকে একযোগে আসা আকস্মিক হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার বরাতে পার্সটুডে জানায়, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকামীদের ‘আল-আকসা তুফান’ অভিযানের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে সামরিক বহরে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে জামির এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি দেন।

ইসরায়েলি সেনাপ্রধান জামির স্পষ্ট মন্তব্য করেন যে, সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা প্রদানই ছিল প্রতিরক্ষা বাহিনীর মূল দায়িত্ব, যা ৭ অক্টোবরের আকস্মিক আক্রমণের মুখে সেনাবাহিনী পুরোপুরি পালনে ব্যর্থ হয়। এর আগে রোববার সামরিক ঘাঁটি গ্লিলটে জ্যেষ্ঠ সেনা কমান্ডারদের এক জরুরি বৈঠকে তিনি চলমান অভ্যন্তরীণ তদন্তের অগ্রগতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ওই ট্র্যাজেডির শিক্ষণীয় দিকগুলো বিশ্লেষণ ও সামরিক যুদ্ধের বিভিন্ন খুঁটিনাটি পর্যালোচনার জন্য ২০২৭ সালকে কেন্দ্র করে কৌশলগত পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।

সেনাপ্রধানের মতে, এই গভীর সামরিক বিপর্যয় থেকে প্রাপ্ত মূল শিক্ষা হলো—ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীর ‘কৌশলগত গভীরতা’ বহুলাংশে বৃদ্ধি করা এবং একই সাথে একাধিক সামরিক ফ্রন্ট থেকে একযোগে আসা হামলা প্রতিহতের সক্ষমতা অর্জন করা। ফলে যেকোনো যুদ্ধক্ষেত্রে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করার ওপর তাগিদ দেন তিনি।

উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবরের ঘটনার পূর্বে ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা অবকাঠামোকে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষার অন্যতম সুরক্ষিত স্তম্ভ ধরা হতো। তবে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের ওই রূঢ় আক্রমণ দেশটির গোয়েন্দা নজরদারি, কমান্ড স্ট্রাকচার ও কৌশলগত প্রস্তুতির কঙ্কালসার চিত্র উন্মোচন করে দেয়। হামলার পূর্বে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, গোয়েন্দা তথ্যের অবমূল্যায়ন ও নিরাপত্তা ব্যর্থতার দায়ভার কার ওপর বর্তায়—তা নিয়ে এখনো ইসরায়েলি রাজনৈতিক ও সামরিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক বহাল রয়েছে।

পার্সটুডে


মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ ও ইরানকে যুক্ত করার দাবি পাকিস্তান জামায়াতের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১৯:১৯:৪৫
মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশ ও ইরানকে যুক্ত করার দাবি পাকিস্তান জামায়াতের
ছবি : সংগৃহীত

ফিলিস্তিন ইস্যুকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত ঐতিহাসিক ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোট’-এ বাংলাদেশ ও ইরানসহ অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী।

সম্প্রতি করাচীতে অনুষ্ঠিত এক বিশাল গাজা পদযাত্রায় (গাজা মার্চ) অংশ নিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় আমির হাফিজ নাঈম উর রহমান মুসলিম বিশ্বের বৃহৎ সার্বভৌম রাজনৈতিক ও সামরিক ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে এই দাবি জানান।

সমাবেশে প্রদত্ত বক্তব্যে হাফিজ নাঈম বলেন, উদীয়মান এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল ও প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত গাজাসহ সমগ্র ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের বর্বর সামরিক আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা। গত আগস্টে এই তিন পরাশক্তির মধ্যে ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়া সত্ত্বেও, চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল আমেরিকার সহায়তায় ফিলিস্তিনে নির্বিচার গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

জামায়াত প্রধান তাঁর বক্তব্যে ভৌগোলিক ও ধর্মীয় মতপার্থক্য ভুলে এক ছাতার নিচে আসার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্ট করেন, কেবল ফিলিস্তিন বা গাজাই নয়, কাশ্মীরের নিপীড়িত জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পবিত্র আল-আকসা মসজিদকে দখলমুক্ত করতে সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে একাত্ম হতে হবে। তিনি শিয়া-সুন্নি ভেদাভেদ ও আঞ্চলিক দূরত্ব ভুলে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের কালানুক্রমিক বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করেন।

একই সাথে বীর ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর অদম্য সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি জানান, পাকিস্তানের জনগণের বিপুল ভালোবাসায় পরিচালিত তাঁদের দল ও জনকল্যাণমূলক সংস্থা ‘আল-খিদমাত’-এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে গাজাবাসীর জন্য প্রায় ১০ বিলিয়ন রুপির (এক হাজার কোটি টাকা) বেশি ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে। গাজার নিপীড়িত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে অক্টোবরের পুরো প্রথম সপ্তাহজুড়ে বিশেষ বৈশ্বিক কর্মসূচির ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য বৃদ্ধি ও উচ্চ কর আরোপের প্রতিবাদে আগামী ৭ অক্টোবরের পর নতুন রাজনৈতিক কৌশল প্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।


মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে নতুন মোড়, মার্কিন জবাবে ইরানের কড়া পর্যবেক্ষণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১৯:০৬:০৩
মধ্যপ্রাচ্য কূটনীতিতে নতুন মোড়, মার্কিন জবাবে ইরানের কড়া পর্যবেক্ষণ
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রাপ্ত গোপন কূটনৈতিক জবাব নিয়ে গভীর ও সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরাশক্তি ইরান। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক ও কূটনৈতিকভাবে নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখার কথা জানিয়েছে তেহরান।

রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) ইরানের এক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি পারমাণবিক ও আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনে একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আসা ফিরতি জবাবে ঠিক কী কী শর্ত বা বার্তা রয়েছে, সে বিষয়গুলোই এখন গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে ইরানি পররাষ্ট্র দপ্তর।

ইরানের উক্ত উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কূটনৈতিক সমাধানের পথ উন্মুক্ত রাখার পাশাপাশি যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতেও তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত। ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের পর মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূরাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় আসবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক পাড়ায় পর্যবেক্ষণ জোরদার হয়েছে।

সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর।


চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল ২০২৬: আলো দিয়ে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের আবিষ্কারে ৩ বিজ্ঞানীর বাজিমাত

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৫ ১৭:৪২:১৩
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল ২০২৬: আলো দিয়ে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের আবিষ্কারে ৩ বিজ্ঞানীর বাজিমাত
নোবেল পুরস্কারজয়ী কার্ল ডেইসেরথ, পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেল। ছবি: স্ট্যানফোর্ড হেলথ কেয়ার

মস্তিষ্ক কীভাবে মানুষের স্মৃতি, গভীর অনুভূতি ও সার্বিক আচরণকে প্রভাবিত করে—সে বিষয়ে যুগান্তকারী অনুসন্ধানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছেন তিন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী। তাঁরা হলেন মার্কিন বিজ্ঞানী কার্ল ডেইসেরথ এবং দুই জার্মান বিজ্ঞানী পিটার হেগেমান ও জর্জ নাগেল।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সুইডেনের স্টকহোমে অবস্থিত ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে এ বছরের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলবিজয়ীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে সূচনা হলো ২০২৬ সালের বিশ্বখ্যাত নোবেল পুরস্কার ঘোষণার আনুষ্ঠানিক সপ্তাহ। বিজয়ী বিজ্ঞানীদের মধ্যে ডেইসেরথ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং হেগেমান ও নাগেল যথাক্রমে জার্মানির বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও ভুর্জবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে নিয়োজিত আছেন।

নোবেল কমিটির আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বিজ্ঞানী হেগেমান ও নাগেল যৌথভাবে প্রথম ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামক একটি বিশেষ আলোক-সংবেদনশীল প্রোটিন আবিষ্কার করেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞানী ডেইসেরথ এই আবিষ্কারকে কাজে লাগিয়ে প্রোটিনটিকে স্নায়ুকোষের ক্রিয়াকলাপ সুনির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণের উপযুক্ত একটি ‘আলোক-নিয়ন্ত্রিত স্যুইচ’-এ রূপান্তর করতে সক্ষম হন। আলো ব্যবহার করে স্নায়ুকোষের সংযোগ কীভাবে তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করা যায়—তা নিয়ে এই তিন বিজ্ঞানীর কাজই মূলতঃ ‘লাইট-গেটেড আয়ন চ্যানেল’ এবং আধুনিক ‘অপটোজেনেটিকস’ প্রযুক্তির গোড়াপত্তন করে স্নায়ুবিজ্ঞানের (নিউরোসায়েন্স) গবেষণায় এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে নোবেল কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আলো দিয়ে মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রণের এই বৈপ্লবিক অপটোজেনেটিকস পদ্ধতিটি এখন বিশ্বজুড়ে গবেষণাগারগুলোতে মানব মস্তিষ্কের জটিল রহস্য উন্মোচন ও নিউরোলজিক্যাল রোগের চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ বছর নোবেল পুরস্কারের মোট অর্থমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমতুল্য), যা যৌথভাবে বিজয়ী তিন বিজ্ঞানীর মধ্যে বণ্টন করা হবে। নোবেল জয়ের এই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান, বুধবার রসায়ন, বৃহস্পতিবার সাহিত্য, শুক্রবার বহুল কাঙ্ক্ষিত শান্তি এবং আগামী ১২ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

সূত্র : সিএনএন ও ফ্রান্স২৪


যুদ্ধ থামানোর নতুন কৌশল? মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়ীদের নজর রাশিয়ার লুকঅয়েলে

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ২১:৫৬:১১
যুদ্ধ থামানোর নতুন কৌশল? মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের ব্যবসায়ীদের নজর রাশিয়ার লুকঅয়েলে
ছবি : সংগৃহীত

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান নেপথ্য আলোচনায় এবার স্থান পেয়েছে বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তেল চুক্তির পরিকল্পনা। প্রস্তাবিত এই সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় রাশিয়ার অন্যতম প্রধান জ্বালানি প্রতিষ্ঠান 'লুকঅয়েল'-এর মালিকানাধীন বিশ্বজুড়ে থাকা বিভিন্ন লাভজনক তেলক্ষেত্র, আন্তর্জাতিক শোধনাগার এবং পেট্রোল পাম্প নেটওয়ার্ক অধিগ্রহণের নতুন কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সুযোগ উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। এতে বিশেষ সুবিধা পেতে পারে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী, যাদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে দায়িত্ব পালন করা প্রধান দুই আলোচক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের পরিবারের সরাসরি ব্যবসায়িক লেনদেনের সম্পর্ক বিদ্যমান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিশেষ আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে এনেছে।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত অবকাঠামো অধিগ্রহণের আলোচনায় মার্কিন বিলিয়নেয়ার বিনিয়োগকারী টড বোয়েলি, মধ্যপ্রাচ্যের দুটি প্রভাবশালী ব্যবসায়িক বিনিয়োগ গোষ্ঠী এবং স্বয়ং মার্কিন সরকারের একটি বিশেষ সরকারি সংস্থার প্রত্যক্ষ যুক্ততার কথা বলা হয়েছে। তবে পুরো লেনদেন ও যৌথ অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াটি আইনিভাবে কার্যকর হতে হোয়াইট হাউস তথা মার্কিন প্রশাসন ও ক্রেমলিনের চূড়ান্ত যৌথ অনুমোদনের আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে।

উক্ত গোপন আলোচনার বিষয়ে ওয়াকিবহাল কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর মস্কোর ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে পুতিন নিজেই স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের কাছে লুকঅয়েল সম্পর্কিত এই তেল চুক্তির রূপরেখাটি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে ধরেন।

আলোচনার বিষয়ে অবগত এক সূত্র দাবি করেছে, এই ধরনের কৌশলগত তেল চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে যুদ্ধ সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বৈশ্বিক আর্থিক সমন্বয় ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ইতিবাচক চিত্র নিজ দেশের নাগরিকদের সামনে তুলে ধরতে চান পুতিন।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে লুকঅয়েল এমন একটি প্রতিষ্ঠান যার অধীনে বিশ্বের বহু দেশে বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিপুল প্রাকৃতিক জ্বালানি সম্পদ ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক বিদ্যমান। তবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটির বিষয়ে হোয়াইট হাউস, মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট এবং রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিগত পর্যায়ে লুকঅয়েল কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বক্তব্য প্রকাশ করা থেকে বিরত থেকেছে।

/আশিক


ওয়াশিংটনের খবরকে মিথ্যা আখ্যা দিল তেহরান, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন আরাগচির

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ২০:৫৩:৩৬
ওয়াশিংটনের খবরকে মিথ্যা আখ্যা দিল তেহরান, যুক্তরাষ্ট্রের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন আরাগচির
ছবি : সংগৃহীত

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন শেষে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইরানি কূটনীতিকদের বের করে দেওয়া বা বহিষ্কারের দাবিকে ভিত্তিহীন ও ভুয়া খবর বলে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সামাজিক মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই অধিবেশনে যোগ দেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা স্বদেশে ফিরে গেছেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) প্রকাশিত ওই পোস্টে পররাষ্ট্র মন্ত্রী আরাগচি স্পষ্ট করেন যে, আগের দিন আগেই চলে যাওয়া একজন সদস্য ছাড়া জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নেওয়া দলের সব ইরানি কূটনীতিক তাদের পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইট সূচি মেরেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেছেন। ফলে কাউকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া কিংবা সময়সীমা অমান্য করে অবস্থান করার যেসব সংবাদ রটানো হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবাস্তব। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও পররাষ্ট্র দপ্তরের সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছিল যে, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী মিশন ও সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে আসা দুই প্রতিনিধিকে দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ প্রদান করা সত্ত্বেও তারা মার্কিন আদেশ অমান্য করেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা বের করে দেওয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি ও প্রচারণাকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করে আরাগচি বলেন, এ ধরনের কাল্পনিক বহিষ্কারের ঘটনা সাজিয়ে গৌরব অনুভব করা কোনো দেশের শীর্ষ কূটনৈতিক প্রধানের জন্য অনুচিত। এটিকে ওয়াশিংটনের ‘হতাশা ও কূটনৈতিক পরাভব’-এর স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, জাতিসংঘের স্বাগতিক দেশ (হোস্ট কান্ট্রি) হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও আইনি নীতি মেনে চলা উচিত। ভুয়া তথ্যের আশ্রয় নিয়ে এমন প্রচারণা জাতিসংঘের স্বাগতিক রাষ্ট্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব ও বৈশ্বিক নিয়মনীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছে তেহরান।

সূত্র: আল-জাজিরা


মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি তে যোগ দিতে চায় ৬টিরও বেশি দেশ, জানালেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৮:৫৫:৪৩
মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি তে যোগ দিতে চায় ৬টিরও বেশি দেশ, জানালেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরের আগস্টে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে সদস্যপদ গ্রহণে ইতোমধ্যে ছয়টির বেশি রাষ্ট্র তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন কূটনৈতিক অগ্রগতির কথা নিশ্চিত করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানান, এই চুক্তিটি সম্পূর্ণ রূপেই একটি আত্মরক্ষামূলক প্রতিরক্ষা কাঠামো। তবে চুক্তির অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন কোনো দেশকে এই সামরিক জোটে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে জোটভুক্ত মূল তিন দেশ—তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সর্বসম্মত অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।

উল্লেখ্য, গত আগস্টে পবিত্র মক্কা নগরীতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মধ্যে এক ঐতিহাসিক শীর্ষ বৈঠকে এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মূল নীতি অনুযায়ী, জোটভুক্ত তিন দেশের যেকোনো একটির আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব বা ভূখণ্ডের ওপর হামলা চালানো হলে তা সমগ্র জোটের ওপর যৌথ আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

একই সাথে খুব দ্রুতই সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে এই যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম উচ্চপর্যায়ের নীতি-নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উক্ত বৈঠকে সদস্য তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানেরা সার্বিক কৌশলগত সামরিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করবেন। সম্প্রতি সৌদি ভূখণ্ডে ইয়ামানের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

এদিকে, সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পন্ন করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে তারা সৌদি আরবের সাথে হুথিদের দীর্ঘদিনের সশস্ত্র সংঘাতের স্থায়ী রাজনৈতিক নিষ্পত্তি দেখতে আগ্রহী। জবাবে ইসহাক দার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, মুসলিম উম্মাহর সুরক্ষায় গঠিত এই যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি রক্ষায় ইসলামাবাদ পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি ওই বৈঠকে হুথি কিংবা ইরাকের স্থানীয় শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তাদের নিজস্ব কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই বলে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করেছে ইরান।

সূত্র: তুর্কিয়ে টুডে।


নতুন স্যাটেলাইটের নির্মাণ শেষ করে মহাকাশ বিজ্ঞানে তেহরানের বড় সাফল্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৮:৪৭:৪০
নতুন স্যাটেলাইটের নির্মাণ শেষ করে মহাকাশ বিজ্ঞানে তেহরানের বড় সাফল্য
ছবি : সংগৃহীত

রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি এবং স্থানিক পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা বাড়াতে ‘পায়া’ স্যাটেলাইটের অত্যাধুনিক সংস্করণ ‘পার্স-২’-এর নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার দাবি করেছে ইরান। তিন মিটারের চেয়েও উচ্চ রেজ্যুলেশনের সুনির্দিষ্ট ছবি ধারণে সক্ষম এই উপগ্রহটিকে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎক্ষেপণের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ‘মহাকাশ সপ্তাহ’ উদযাপনের অংশ হিসেবে ইরানের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে দেশটির মহাকাশ সংস্থার (আইএসএ) প্রধান হাসান সালারিয়া এই স্যাটেলাইট সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

ইরানি মহাকাশ সংস্থার প্রধান হাসান সালারিয়া জানান, প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী লজিস্টিকস মন্ত্রণালয়, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির মহাকাশ খাতে অভাবনীয় অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। বিশেষ করে গত দুই বছরে অর্জিত সাফল্যকে তিনি একটি ঐতিহাসিক রেকর্ড এবং দেশের মহাকাশ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যা দেন।

অনুষ্ঠানে সালারিয়া আরও প্রকাশ করেন যে, ইরানের নির্মিত প্রথম যোগাযোগ উপগ্রহ ‘নাহিদ-২’ সফলভাবে মহাকাশের কক্ষপথে স্থাপন করা হয়েছে এবং এর অধিকাংশ কারিগরি পরীক্ষাই সফল হয়েছে। ইরানিয়ান স্পেস রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও বিভিন্ন গবেষক দলের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই প্রজেক্টের সফলতার পর এখন নাহিদ-২-এর আরও শক্তিশালী ও নতুন সংস্করণ তৈরির কাজ এগিয়ে চলেছে।

উৎক্ষেপণযান ও কক্ষপথ স্থানান্তরের সক্ষমতার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ‘কায়েম-১০০’ এবং ‘চামরান’ স্যাটেলাইটের সফলতার পর বর্তমানে ‘সিমোর্গ’ রকেটের মাধ্যমে ইরানের ইতিহাসের সবচেয়ে ভারী পেলোড ও স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া উচ্চতর কক্ষপথে উপগ্রহ স্থানান্তরের প্রযুক্তি ‘সামান’ অরবিটাল ট্রান্সফার ব্লকের সফটওয়্যার পরীক্ষাও সফল হয়েছে।

ইরানের মহাকাশ কর্মসূচির ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে সালারিয়া জানান, পার্স-২ স্যাটেলাইটের চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার পাশাপাশি ‘শহীদ সোলেমানি কনস্টেলেশন’ প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। টেলিযোগাযোগ, রিমোট সেন্সিং প্রযুক্তি, ভারী উৎক্ষেপণযান এবং নিজস্ব স্যাটেলাইট কনস্টেলেশন তৈরির মাধ্যমে ইরান তার মহাকাশ প্রযুক্তিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কৌশল বাস্তবায়ন করছে।

/আশিক


শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া বার্তা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ অক্টোবর ০৪ ১৮:২৭:০৬
শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের কড়া বার্তা
ছবি : সংগৃহীত

গত জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত অন্তর্বর্তী সমঝোতার সাতটি সুনির্দিষ্ট শর্ত শতভাগ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে ইরান। রোববার (৪ অক্টোবর) দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ একটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তেহরানের এই কঠোর মনোভাবের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরআইবিতে সম্প্রচারিত বক্তব্যে স্পিকার গালিবাফ বলেন, এই ইস্যুতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান সম্পূর্ণ অস্পষ্টতাহীন ও সুদৃঢ়। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের অধীনে নির্ধারিত শর্তাবলি পুরোপুরি কার্যকর না করা পর্যন্ত ওই কৌশলগত সমুদ্রপথে কোনো নৌযান স্বাভাবিকভাবে চলাচলের সুযোগ পাবে না।

এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন চলাকালে ইরান একটি আন্তর্জাতিক প্রস্তাব পেশ করে, যেখানে উল্লেখ করা হয় যে নির্দিষ্ট দাবিগুলো পূর্ণ হলে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব। পরবর্তীতে গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন সেই প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব পাঠায়।

আলোচনা প্রক্রিয়ায় ইরানের প্রধান রূপকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা গালিবাফ মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে বলেন, কূটনীতিকে কৌশলে দীর্ঘায়িত করা কিংবা তেহরানের ওপর একতরফা অনুশাসন চাপিয়ে দেওয়ার দিন পার হয়ে গেছে।

একই দিন এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক প্রস্তাবে তাদের নিজস্ব অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, কাতারসহ মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে তেহরান তাদের নীতিগত জবাব পৌঁছে দিয়েছে, যদিও ওয়াশিংটনকে এখনো কিছু বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বার্তা দেওয়া বাকি রয়েছে।

মুখপাত্র বাঘাই আরও জানান, পারমাণবিক কর্মপদ্ধতি সহ মূল অনুচ্ছেদগুলোতে আমেরিকার আগের মনোভাবের বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। ফলে ইরান স্পষ্টভাবে তাদের অগ্রাধিকার হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচলের ওপর নিবদ্ধ রেখেছে, যেখানে নৌপথটিতে নিরাপত্তা বজায় রাখতে মার্কিন পক্ষকে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই মুখপাত্র একই সাথে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই দাবি খারিজ করে দেন, যেখানে বলা হয়েছিল জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থাকে তাদের স্থাপনা পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার শর্তে ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রস্তাব রেখেছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে পারমাণবিক বিষয়াদিতে মার্কিন প্রশাসনের সাথে তেহরানের নতুন করে কোনো কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।

এই কূটনৈতিক অচলাবস্থা সম্পর্কে অবগত এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সূত্রে জানা গেছে, নথিতে মূলত একটি সাত দিনের সময়সীমাভিত্তিক আস্থাবর্ধক প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যার মূল উদ্দেশ্য জুন মাসের চুক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করা। এতে পারমাণবিক পদক্ষেপের বিষয়সমূহ থাকলেও, কোন শর্ত আগে বাস্তবায়িত হবে তা নিয়েই মূল দরকষাকষি আটকে রয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স

পাঠকের মতামত: