সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, নাহিদ ইসলামের জেরা অব্যাহত ট্রাইব্যুনালে

জুলাই–আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপক্ষের ৪৭তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেওয়ার পর বর্তমানে আসামিপক্ষের জেরার মুখোমুখি আছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জেরা কার্যক্রম রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নাহিদ ইসলামের জবানবন্দি গ্রহণ শেষে দুপুর আড়াইটায় পুনরায় কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেল চারটা পর্যন্ত তাকে জেরা করেন শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োজিত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। তবে জেরা শেষ না হওয়ায় তা পরবর্তী তারিখে মুলতবি করা হয়।
সেদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম। উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম, আবদুস সাত্তার পালোয়ান ও মামুনুর রশীদসহ অন্যান্যরা। এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নাহিদ ইসলাম জবানবন্দি দেন, যার অবশিষ্ট অংশ বৃহস্পতিবার শেষ করা হয়।
একই মামলায় বুধবার দ্বিতীয় দিনের মতো দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে জেরা করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী। এখন পর্যন্ত মোট ৪৭ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে হাজির করা হয় মামলার অন্যতম আসামি থেকে রাজসাক্ষীতে পরিণত হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে। তিনি এর আগে ২ সেপ্টেম্বর ৩৬তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন এবং ৪ সেপ্টেম্বর তা শেষ করেন। তার সাক্ষ্যে উঠে আসে, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে দেশজুড়ে ব্যাপক গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে। এ জন্য তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চান এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অন্যান্য সাক্ষীরাও একই সময়ে আন্দোলনের মধ্যে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ভয়াবহ বর্ণনা আদালতে উপস্থাপন করেছেন। শহীদ পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, এসব অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয়। এরপর ৩ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রটি প্রায় আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার, যার মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দকৃত প্রমাণাদি ও দলিল চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা এবং শহীদ পরিবারের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠায় সন্নিবেশিত। রাষ্ট্রপক্ষের তালিকাভুক্ত সাক্ষীর সংখ্যা ৮১ জন।
এর আগে, চলতি বছরের ১২ মে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কাছে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর মামলার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এবং বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে।
জয়-পুতুলসহ আটজনের মামলায় সিআরআইয়ের কর নথিপত্র জব্দের নির্দেশ আদালতের
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলসহ আটজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আলোচিত মামলায় সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির দুদকের এই আবেদন মঞ্জুর করেন।
দুদকের অনুসন্ধানী আবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুদান গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশেষ আয়কর সুবিধা প্রদান এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় জয় ও পুতুল ছাড়াও অভিযুক্ত অন্যান্য আসামিরা হলেন সিআরআইয়ের ট্রাস্টি রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, সিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক শাব্বির বিন শামস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং কর আপিলের সাবেক সদস্য রওশন আরা আক্তার।
দুদক জানায়, ২৩টি বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে অনুদান হিসেবে সিআরআইয়ের ব্যাংক হিসাবে মোট ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়েছে। ২০১৩-২০১৪ থেকে ২০২৩-২০২৪ করবর্ষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় দেখানো হয়েছে ১০০ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৪৮৬ টাকা। এর মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি ৬৮ লাখ ৫৯ হাজার ৫২১ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দুদকের পক্ষ থেকে আদালতে আরও জানানো হয়, সিআরআইয়ের ২৫টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ২৪৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার বেশি জমা এবং ১৯১ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি উত্তোলন করা হয়েছে, যার মোট লেনদেন ৪৩৯ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি, ৩৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৪২ টাকা আয়কর পরিশোধ না করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের আর্থিক ক্ষতি সাধনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, সিআরআইকে অবৈধভাবে কর সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশেষ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। মূলত বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ এবং সেই অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর বিভিন্ন ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এই মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সিআরআইয়ের টিআইএন নম্বরের বিপরীতে কর অঞ্চল-৬, ঢাকার সার্কেল-১১১৬-এ সংরক্ষিত ২০২৫-২০২৬ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথির স্থায়ী ও বিবিধ অংশসহ সমস্ত সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র জব্দের আবেদন করেছিলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর। আদালত সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে এই নথি জব্দের আদেশ প্রদান করেন।
সূত্র: বাসস
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত এই রায়ে আগামী তিন অর্থবছরের মধ্যে এনবিআরের উল্লেখিত বকেয়া কর পরিশোধের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারকদের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর এই পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়।
এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে দায়ের করা দুটি পৃথক রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। ফলে এনবিআরের দাবি করা এই বিপুল অঙ্কের বকেয়া আয়কর আদায়ের আইনি প্রক্রিয়ায় আর কোনো বাধা রইল না।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, এনবিআরের পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত টানা পাঁচ বছরের আয়কর দাবি করা হলে, ২০১৭ সালে সরকারের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দুটি রিট করে গ্রামীণ কল্যাণ। প্রাথমিক শুনানির পর আদালত এনবিআরের সিদ্ধান্তের ওপর রুল জারি করলেও পরবর্তীতে চূড়ান্ত শুনানি শেষে নতুন বেঞ্চ রিট আবেদন দুটি খারিজ করে দেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী খাজা তানভীর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, তাদের দায়ের করা রিটের আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় এনবিআরের আগের ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির সিদ্ধান্তই বহাল বহাল রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর আদায় সংক্রান্ত হাইকোর্টের পূর্বের একটি রায় আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বাতিল করে দেন। এরপর বিষয়টি পুনরায় শুনানির জন্য নতুন হাইকোর্ট বেঞ্চে পাঠানো হয়। সেখানে সব পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠানের কর পরিশোধের বিষয়টি চূড়ান্ত আইনি রূপ পেল।
/আশিক
বহুল আলোচিত আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলার আইনি কার্যক্রমে নতুন মোড়
দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন তৃতীয় দফার মতো খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আল বিরুনী মীরের আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এ দিন আদালতে আসামির পক্ষে জামিন চেয়ে শুনানি করেন আইনজীবী মাহবুবুর রহমান, অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ এর তীব্র বিরোধিতা করে।
এর আগে গত ৭ অক্টোবর গাজী নজরুলের জামিন শুনানিকালে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, আসামি বয়স্ক এবং ভিকটিম অতি অল্প বয়সের নারী। আসামির নিজস্ব হেফাজতে থাকা অবস্থায় ভিকটিম আত্মহত্যা করেছেন এবং এই পর্যায়ে পর্যাপ্ত হাজতবাস না হওয়ায় জামিন মঞ্জুর করা সম্ভব নয়। আদালত আরও উল্লেখ করেন যে, এই স্পর্শকাতর মামলায় এ মুহূর্তে আসামি জামিন পেলে সমাজে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।
এরও আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই মামলায় সংসদ সদস্য নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন আবেদন করা হয়েছিল। সে সময় আদালত প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে জামিন দিলেও সংসদ সদস্য নজরুলের জামিন নামঞ্জুর বহাল রাখেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকার সংসদ ভবনের বিপরীতে অবস্থিত ন্যাম ভবনের একটি সরকারি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর নিহতের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
উক্ত মামলায় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পরদিন আদালত নজরুলকে চার দিন এবং মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে চাঞ্চল্যকর এই মামলাটির তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে আরও এক দফায় রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ার পর দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর সংসদ সদস্য নজরুলকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত। অন্যদিকে, মামলার অন্যতম আসামি ওবায়দুর রহমানকেও ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
/আশিক
আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় নতুন মোড়, আদালতে বাদীর বিশেষ আবেদন
মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার বাদী ও তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আদালতে একটি আপসনামা দাখিল করে জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের জামাই গাজী নজরুল ইসলাম ও প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের প্ররোচনা বা রাগ-অভিমানের কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেননি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি এই লিখিত আবেদন জমা দেন এবং আসামিদের জামিনে তাঁর কোনো আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করেন। এতে বলা হয়, মামলা দায়েরের পর অনুসন্ধানে ও নিকটাত্মীয়দের মধ্যে শান্তির স্বার্থে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে তিনি এই আপসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে শুনানি চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ এই আপসনামার তীব্র বিরোধিতা করে দাবি করে যে, বাদীপক্ষের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এই আপসনামা করানো হয়েছে এবং আইনানুযায়ী এ ধরনের প্ররোচনা মামলায় আপসের কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বাদী সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পেরেই আদালতকে এটি অবহিত করেছেন। বাদী উপস্থিত থেকে জামিনে সম্মতি প্রকাশের পর আদালত শুনানি শেষে প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করলেও প্রধান আসামি গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় মরিয়মের বাবা বাদী হয়ে স্বামী গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী ও মামার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জামিন ও আপসনামার বিষয়ে এসব সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত করেন।
/আশিক
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ারসহ ৪ জন গ্রেপ্তার
ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে’ হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বেইলি রোড এবং আশপাশের এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত মূল আসামিরা হলেন হামলার মাস্টারমাইন্ড শাহরিয়ার, ভাসানটেক বস্তি এলাকার মো. মামুন এবং মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্না। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মূলত যে জমিতে স্টুডিওটি অবস্থিত, তার মালিক ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড’-এর সাথে স্থানীয় অন্য জমি মালিকদের যাতায়াতের পথ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। নিউ গিনি প্রপার্টিজ বিরোধপূর্ণ জমিতে একটি গেট নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন এই হামলা চালায়। তবে এর নেপথ্যে কোনো চাঁদা দাবির বিষয় যুক্ত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে দুটি ট্রাকে করে আসা সশস্ত্র একদল লোক ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভেতরের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়। রাত পৌনে ২টায় ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার তাণ্ডব দেখান সালমান মুক্তadir এবং স্টুডিও ধ্বংসের অভিযোগ তোলেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আশঙ্কা জানিয়েছিলেন যে, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য হয়তো ভবনের মালিক কিংবা চাঁদা আদায় সংক্রান্ত কোনো উদ্দেশ্য ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
/আশিক
বারিধারায় ফুটপাতে গাড়ির চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু: ৯ লাখ টাকায় মামলার আপস
রাজধানীর বারিধারায় অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেট কার ফুটপাতে উঠে পড়ে এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মামলার শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে এই তথ্য জানানো হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন আদালতকে নিশ্চিত করেন যে, দুই পক্ষের মধ্যে আর্থিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে আসামিদের জামিন বা মামলা থেকে খালাস পাওয়ার বিষয়ে বাদীপক্ষের আর কোনো আপত্তি নেই। জীবনহানির বিপরীতে ৯ লাখ টাকার আপস প্রসঙ্গে আইনজীবী দাবি করেন, নিহত পথচারী শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং বাদীরা এই আপস চুক্তিতে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। মামলাটির পরবর্তী শুনানি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এ অনুষ্ঠিত হবে।
সম্পাদিত আপসনামা সূত্র অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে এ সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রথম পক্ষের একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো গ-১৮-৬৬৭৬) হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে পড়লে সেখানে বসে থাকা মেহেদী হাসান মিম (২৪) নামের ওই নির্মাণ শ্রমিক গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে মারা যান। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন চালক আকাশ মারক (৪৪) এবং গাড়িতে উপস্থিত ছিলেন প্রথম পক্ষের ১৭ বছর বয়সী ছোট ভাই আজান আলী শারীফ। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার বাদী হয়ে গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়ের করেছিল।
চুক্তিতে বলা হয়, ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনিচ্ছাকৃত হওয়ায় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো পূর্বশত্রুতা না থাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে এই আপস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নিহত মেহেদী হাসান মিমের দাফন-কাফনের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য নগদ ১ লাখ টাকা এবং তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের সহায়তায় আরও ৮ লাখ টাকা—সর্বমোট ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করেছে প্রথম পক্ষ। এর বিনিময়ে বাদীপক্ষ দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে এবং আসামিদের জামিনে পূর্ণ অনাপত্তি জানাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই দুর্ঘটনা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো আদালতে নতুন করে অভিযোগ উত্থাপন করা যাবে না বলেও চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়।
/আশিক
ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কর মামলায় চেম্বার আদালতের নতুন আদেশ
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে ২০১২ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত পাঁচ করবর্ষের ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের একক বেঞ্চ আবেদনটি শুনানির কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার (ডিলিট) এই আদেশ দেন। শুনানিকালে আদালত মন্তব্য করেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পর্যবেক্ষণ না করে ওই রায়ের ওপর হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা আয়করের বৈধতা নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। সেই রায়ের কারণে গ্রামীণ কল্যাণকে বকেয়া এই আয়কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতার মুখে পড়তে হয়। হাইকোর্টের আদেশের চার দিনের মাথায় এর কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদন নিয়ে চেম্বার আদালতের দ্বারস্থ হন গ্রামীণ কল্যাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। শুনানিতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন অংশ নেন এবং রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ আজাদ।
শুনানি শেষে আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন সাংবাদিকদের জানান, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও প্রকাশ না হওয়ায় নিয়মানুযায়ী লিভ টু আপিল দায়ের করা সম্ভব হচ্ছে না। সে কারণে পূর্ণাঙ্গ রায় ও আপিল করার পূর্ব পর্যন্ত রায়ের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, সেজন্যই স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছিল। তবে চেম্বার আদালত জানিয়েছেন, লিখিত রায় প্রকাশের আগে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়। অন্যদিকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, চেম্বার কোর্ট গ্রামীণ কল্যাণের বিবিধ আবেদনটি তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকার ১৪ নম্বর কর অঞ্চল পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ টাকার বেশি কর দাবি করে এবং শুনানির দিন ধার্য করে। প্রতিষ্ঠানটি নথিপত্র প্রস্তুতের জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করলেও তা খারিজ করে কর অফিস। পরবর্তীতে পুনর্বিবেচনার আবেদনও নাকচ হলে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং কর দাবির বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা কয়েক দফায় স্থগিত রাখা হয়।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের আরেকটি দ্বৈত বেঞ্চ কর অঞ্চলের আদেশ বাতিল করে পর্যবেক্ষণসহ রুল নিষ্পত্তি করেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এনবিআর আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ হাইকোর্টে মূল বিষয়ের ওপর পুনরায় শুনানির আদেশ দেন। সেই নির্দেশের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের আগস্টে রিট খারিজ করে রায় হলেও অক্টোবরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সর্বশেষ প্রধান বিচারপতি নতুন বেঞ্চ গঠন করে দেওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর সেই বেঞ্চই গ্রামীণ কল্যাণের রুল চূড়ান্তভাবে খারিজ করে রায় প্রদান করেন।
/আশিক
ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। হামের টিকা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বাইরে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি এই লিগ্যাল নোটিশটি প্রেরণ করেন।
নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম জানান, হামের টিকাদান কার্যক্রমকে রাষ্ট্রীয় আওতা থেকে বেসরকারি খাতে স্থানান্তরের মতো জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় ড. ইউনূসের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এই আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তবে নোটিশে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা তাঁর প্রতিনিধির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
/আশিক
সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও কাড়তে পারবে না অধিকার: সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন খসড়া
বাবা-মা বা দাতা কোনো সম্পত্তি দান করার পরও যেন তাদের নিজ জীবদ্দশায় সেটি নির্বিঘ্নে ভোগ ও ব্যবহার করতে পারেন, সে বিধান রেখে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংশোধনীটি অনুমোদন পায়। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
আইন ও বিচার বিভাগের উদ্যোগে প্রণীত এই আইনটির মাধ্যমে ১৮৮২ সালের মূল ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’-এ দাতার জীবদ্দশায় ভোগাধিকার (লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট) সুরক্ষার নতুন ধারা সংযোজন করা হলো। ইতিপূর্বে বলবৎ আইনে এ নিয়ে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা না থাকায় বাবা-মা বা বয়োবৃদ্ধরা সন্তান বা নিকটাত্মীয়দের জমি বা ঘরবাড়ির মালিকানা হস্তান্তর করার পর অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের সম্পত্তিতে অধিকার হারিয়ে চরম আর্থিক ও সামাজিক অসহায়ত্বের মুখোমুখি হতেন। প্রস্তাবিত আইনি কাঠামোর ফলে এই জটিলতার একটি স্থায়ী আইনি ভিত্তি ও সুরক্ষা বলয় তৈরি হয়েছে।
বিদ্যমান হেবা বা অন্যান্য উপায়ে সম্পত্তি দানের ফলে দাতা তাৎক্ষণিকভাবে তার স্বত্ব হারাতেন। সরকারের নতুন প্রস্তাবিত ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা জীবনস্বত্বের নিয়ম অনুযায়ী, সন্তান বা গ্রহীতাকে সম্পত্তি উপহার হিসেবে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরও দাতা বেঁচে থাকা পর্যন্ত সেটির ভোগদখল ও ব্যবহারের পূর্ণ এখতিয়ার নিজ হাতে রেখে দিতে পারবেন। একই সঙ্গে বিধান রাখা হয়েছে যে, দাতার জীবদ্দশায় কোনো পক্ষই—সন্তান বা দাতা এককভাবে—উক্ত সম্পত্তি অন্য কারও কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবে না।
/আশিক
পাঠকের মতামত:
- সীমান্ত থেকে পোশাক শিল্পে উসকানি দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- দেশের পাঁচ বিভাগে হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি
- প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে জেলে পাঠানোর হুংকার রাহুল গান্ধীর
- পোশাক খাতের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক: জামায়াত আমির
- পোশাক খাতের নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- উত্তপ্ত সাজেকে সশস্ত্র দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ
- মাত্র দশ মিনিটে কি ধ্বংস সম্ভব ইরানের পরমাণু শক্তি
- শীতের সকালে ব্যায়ামের আগে কী খাবেন
- সারাদেশে তিন দিন গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্প চাপ থাকবে
- ১২৫তম প্রাইজবন্ড ড্র: বিজয়ী হলো যেসব নম্বর
- জুমার খুতবায় শেখ হাসিনাকে ‘স্বৈরাচার’ বলায় খতিবকে অব্যাহতি
- নিউজিল্যান্ড সিরিজেই ঐতিহাসিক ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করল ভারত
- সোলার এক্সপো উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতে তীব্র রাজনৈতিক সংকট
- এইচএসসিতে শতভাগ ফেল: এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবস্থার নির্দেশ
- নেতানিয়াহুর পতনে আইজেনকোটকে সাহসী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান আহমেদ টিবির
- বেতনের দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ: ৭ লাখের বেশি শ্রমিক কর্মবিরতিতে
- কালিয়াকৈর থানার ওসির হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক হলো ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক
- বিএনপি মাঠে নামলে পালানোর পথ পাবেন না: মির্জা আব্বাস
- সিসিটিভি ফুটেজে মিলল তাহসিফের মৃত্যুর আগের রাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য
- রাজপথে লংমার্চ নয়, সংবিধান সংস্কারে আলোচনার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- নতুন বেতনকাঠামো: কাল যারা টাকা পাচ্ছেন, যাদের অপেক্ষা করতে হবে
- খুলনায় ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের বহরে ককটেল বিস্ফোরণ
- চীন ও জাপানের বিনিয়োগে সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশের অর্থনীতি
- চোখের নিচে কালো দাগের পেছনে লুকিয়ে থাকা কারণ
- মুক্তির আগেই রেকর্ড গড়ল শাহরুখ খানের ‘কিং’
- ক্যারিবীয় স্পিনারদের বিপক্ষে আবারও ব্যর্থতার পরিচয় বাংলাদেশের
- চাঁদের বুকে পারমাণবিক চুল্লি বসাতে লড়ছে তিন পরাশক্তি
- আইন না মেনে গায়ের জোরে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চায় বিরোধী দল: রিজভী
- এইচএসসির ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট? যেভাবে আবেদন করবেন অনলাইনে
- সারাদেশের কোমর ভাঙা, তাই দেশ মেরামত করতে হবে: জামায়াত আমির
- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে মোজতবা খামেনির চরম হুঙ্কার: মানা হবে না কোনো সীমানা
- কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুরে পৌঁছাল ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান
- মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তাপ: প্রস্তুত থাকার নির্দেশ আমেরিকার
- সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদসহ পুলিশের আট কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অঙ্গীকার, গণভোট ও সাংবিধানিক বৈধতার জটিল সমীকরণ
- ধানের শীষের প্রার্থীর কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছেন জামায়াত প্রার্থী
- ই-রিকশা চলাচলে নতুন বিধিমালা জারি: মানতে হবে যেসব কড়া শর্ত
- টাকার বিনিময়ে ভোট ও কারচুপির অভিযোগে বিতর্কিত রোনালদোর ‘ব্যালন ডি’অর অব অল টাইম’ জয়
- যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কায় তেহরান আগাম আক্রমণ চালাতে পারে: এফডিডি কর্মকর্তা
- যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে ঢাকার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
- রূপপুর প্রজেক্টের ঐতিহাসিক মাইলফলক: মিলল বায়েরার অনুমোদন
- নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ
- কফি স্ক্রাবেই মিলবে কোরিয়ানদের মতো ‘গ্লাস স্কিন’
- ডিজিটাল পদ্ধতিতে আসামি হাজিরে বিচার ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী
- সংকটের মাঝেই এলপিজির কমিশন ২ থেকে ৩ গুণ বাড়ানোর দাবি
- ফের ঊর্ধ্বমুখী মার্কিন মুদ্রা: খোলা বাজারে ও ব্যাংকে বাড়ছে ডলারের দাম
- নেতানিয়াহুর দলের অভিযোগ খারিজ করে দিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
- ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের ফল নিজেদের অনুকূলে নেওয়ার চেষ্টা করছে বিএনপি: গোলাম পরওয়ার
- ডিভি লটারি ২০২৭-এ বাংলাদেশ কি সুযোগ পাবে?
- জুলাই সনদ বাস্তবায়ন: রাজনৈতিক অঙ্গীকার, গণভোট ও সাংবিধানিক বৈধতার জটিল সমীকরণ
- আরও শক্তিশালী হয়ে অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে ‘অর্ণব’
- নতুন পে-স্কেলে ভাতা না বাড়ায় বড় ধাক্কা, হতাশ সরকারি কর্মচারীরা
- এনবিআরের ই-রিটার্ন সিস্টেমে যেভাবে দেখবেন বিলম্বের প্রদেয় অর্থের পরিমাণ
- সবচেয়ে কম বয়সে ব্যালন ডি’অর জয়ের অনন্য রেকর্ড
- আবেদন শুরুর তারিখ ঘোষণা, আবারও আসছে ডিভি লটারি সুযোগ
- মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- সৌদি গমনে ব্যর্থ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুখবর, স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলবে প্রবেশের সুযোগ
- বিক্রির কদিন না যেতেই অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং আইফোনে ফাটল!
- পর্যটকদের জন্য বড় স্বস্তি: সেন্টমার্টিনে রাতে থাকতে আর বাধা নেই
- নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন মূল্যতালিকা প্রকাশ
- রাজনীতিতে পারিবারিক প্রভাব ও মন্ত্রীদের স্বজনপ্রীতির কঠোর সমালোচনা এনসিপি নেতার
- হুথিদের হামলা থামাতে তেহরানকে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদির?
- শেষ হলো বিসিবির নতুন ডি-থ্রি টুর্নামেন্টের আকর্ষণীয় ক্রিকেটার নিলাম
- তাপপ্রবাহের পর ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই এলো ঘূর্ণিঝড়ের আপডেট








