রিমান্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জামিন: সুরভীকে নিয়ে নাটকীয় মোড়

২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৮:৪৮:০৭
রিমান্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জামিন: সুরভীকে নিয়ে নাটকীয় মোড়

সকাল থেকে চলা টানটান উত্তেজনা ও বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জামিন পেলেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম লড়াকু মুখ তাহমিনা জান্নাত সুরভী। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তাঁর জামিন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুলিশের তোলা অভিযোগ ও রিমান্ড আদেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সুরভীর কারামুক্তির পথ সুগম হলো।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অফিশিয়াল পেজে লেখা হয়েছে, “আলহামদুলিল্লাহ, তাহমিনা সুরভীর জামিন মঞ্জুর হয়েছে।” আজ সকালে গাজীপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সুরভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। প্রিজন ভ্যানে ওঠার সময় সুরভী চিৎকার করে পুলিশ কর্মকর্তা এসআই ফারুকের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির যে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন, তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের মুখে সন্ধ্যার পর তাঁর জামিনের এই আদেশ এল।

উল্লেখ্য যে, গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর টেকপাড়া এলাকার নিজ বাসা থেকে সুরভীকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীকে জুলাই-আগস্টের হত্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে সুরভীর পরিবার ও আইনজীবীরা শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, এটি একটি ভুয়া মামলা এবং পুলিশ মূলত ঘুষ না পেয়েই এই হয়রানি চালিয়েছে।

সুরভীর জামিন মঞ্জুরের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গাজীপুর আদালত চত্বরে উপস্থিত তাঁর সহযোদ্ধা ও স্বজনদের মধ্যে খুশির জোয়ার বয়ে যায়। সুরভীর আইনজীবী জানিয়েছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং শীঘ্রই সুরভী কারাগার থেকে বাড়িতে ফিরবেন। একজন জুলাইযোদ্ধাকে এভাবে সাজানো মামলায় হয়রানি করার ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।


আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় নতুন মোড়, আদালতে বাদীর বিশেষ আবেদন

২০২৬ সেপ্টেম্বর ৩০ ১৮:২৫:৫২
আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলায় নতুন মোড়, আদালতে বাদীর বিশেষ আবেদন
ছবি : সংগৃহীত

মরিয়ম আক্তারের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলার বাদী ও তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ আদালতে একটি আপসনামা দাখিল করে জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ের জামাই গাজী নজরুল ইসলাম ও প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের প্ররোচনা বা রাগ-অভিমানের কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেননি। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি এই লিখিত আবেদন জমা দেন এবং আসামিদের জামিনে তাঁর কোনো আপত্তি নেই বলে উল্লেখ করেন। এতে বলা হয়, মামলা দায়েরের পর অনুসন্ধানে ও নিকটাত্মীয়দের মধ্যে শান্তির স্বার্থে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে তিনি এই আপসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তবে শুনানি চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ এই আপসনামার তীব্র বিরোধিতা করে দাবি করে যে, বাদীপক্ষের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে এই আপসনামা করানো হয়েছে এবং আইনানুযায়ী এ ধরনের প্ররোচনা মামলায় আপসের কোনো সুযোগ নেই। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বাদী সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় ও বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে পেরেই আদালতকে এটি অবহিত করেছেন। বাদী উপস্থিত থেকে জামিনে সম্মতি প্রকাশের পর আদালত শুনানি শেষে প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন মঞ্জুর করলেও প্রধান আসামি গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় মরিয়মের বাবা বাদী হয়ে স্বামী গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী ও মামার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর গাজী নজরুল ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী জামিন ও আপসনামার বিষয়ে এসব সিদ্ধান্তের তথ্য নিশ্চিত করেন।

/আশিক


সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ারসহ ৪ জন গ্রেপ্তার

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৭ ১৯:২২:৪৬
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ারসহ ৪ জন গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে’ হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী শাহরিয়ারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বেইলি রোড এবং আশপাশের এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃত মূল আসামিরা হলেন হামলার মাস্টারমাইন্ড শাহরিয়ার, ভাসানটেক বস্তি এলাকার মো. মামুন এবং মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্না। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মূলত যে জমিতে স্টুডিওটি অবস্থিত, তার মালিক ‘নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড’-এর সাথে স্থানীয় অন্য জমি মালিকদের যাতায়াতের পথ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। নিউ গিনি প্রপার্টিজ বিরোধপূর্ণ জমিতে একটি গেট নির্মাণ করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দিলে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন এই হামলা চালায়। তবে এর নেপথ্যে কোনো চাঁদা দাবির বিষয় যুক্ত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে দুটি ট্রাকে করে আসা সশস্ত্র একদল লোক ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভেতরের অধিকাংশ যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়। রাত পৌনে ২টায় ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার তাণ্ডব দেখান সালমান মুক্তadir এবং স্টুডিও ধ্বংসের অভিযোগ তোলেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আশঙ্কা জানিয়েছিলেন যে, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য হয়তো ভবনের মালিক কিংবা চাঁদা আদায় সংক্রান্ত কোনো উদ্দেশ্য ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

/আশিক


বারিধারায় ফুটপাতে গাড়ির চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু: ৯ লাখ টাকায় মামলার আপস

২০২৬ সেপ্টেম্বর ২৪ ১৭:৫৯:৫৯
বারিধারায় ফুটপাতে গাড়ির চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু: ৯ লাখ টাকায় মামলার আপস
অভিযুক্ত কিশোর এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বারিধারায় অনিয়ন্ত্রিত প্রাইভেট কার ফুটপাতে উঠে পড়ে এক নির্মাণ শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া কিশোরের পরিবারের সঙ্গে ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে আপস-মীমাংসা চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) মামলার শুনানি শেষে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক মো. আব্দুল মোক্তাদিরের আদালতে এই তথ্য জানানো হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী আলমগীর হোসেন আদালতকে নিশ্চিত করেন যে, দুই পক্ষের মধ্যে আর্থিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে আসামিদের জামিন বা মামলা থেকে খালাস পাওয়ার বিষয়ে বাদীপক্ষের আর কোনো আপত্তি নেই। জীবনহানির বিপরীতে ৯ লাখ টাকার আপস প্রসঙ্গে আইনজীবী দাবি করেন, নিহত পথচারী শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন এবং বাদীরা এই আপস চুক্তিতে সন্তুষ্ট প্রকাশ করেছেন। মামলাটির পরবর্তী শুনানি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এ অনুষ্ঠিত হবে।

সম্পাদিত আপসনামা সূত্র অনুযায়ী, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে গুলশান থানাধীন বারিধারা ডিপ্লোম্যাটিক এলাকার ১ নম্বর সড়কে এ সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রথম পক্ষের একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো গ-১৮-৬৬৭৬) হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে পড়লে সেখানে বসে থাকা মেহেদী হাসান মিম (২৪) নামের ওই নির্মাণ শ্রমিক গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে মারা যান। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটি চালাচ্ছিলেন চালক আকাশ মারক (৪৪) এবং গাড়িতে উপস্থিত ছিলেন প্রথম পক্ষের ১৭ বছর বয়সী ছোট ভাই আজান আলী শারীফ। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার বাদী হয়ে গুলশান থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়ের করেছিল।

চুক্তিতে বলা হয়, ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনিচ্ছাকৃত হওয়ায় এবং উভয় পক্ষের মধ্যে কোনো পূর্বশত্রুতা না থাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতিতে এই আপস প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নিহত মেহেদী হাসান মিমের দাফন-কাফনের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার জন্য নগদ ১ লাখ টাকা এবং তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যতের সহায়তায় আরও ৮ লাখ টাকা—সর্বমোট ৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করেছে প্রথম পক্ষ। এর বিনিময়ে বাদীপক্ষ দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে এবং আসামিদের জামিনে পূর্ণ অনাপত্তি জানাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই দুর্ঘটনা সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো আদালতে নতুন করে অভিযোগ উত্থাপন করা যাবে না বলেও চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়।

/আশিক


ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কর মামলায় চেম্বার আদালতের নতুন আদেশ

২০২৬ সেপ্টেম্বর ১৪ ১৮:৫৯:৫০
ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের কর মামলায় চেম্বার আদালতের নতুন আদেশ
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে ২০১২ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত পাঁচ করবর্ষের ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের একক বেঞ্চ আবেদনটি শুনানির কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার (ডিলিট) এই আদেশ দেন। শুনানিকালে আদালত মন্তব্য করেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পর্যবেক্ষণ না করে ওই রায়ের ওপর হস্তক্ষেপ করার কোনো সুযোগ নেই।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা আয়করের বৈধতা নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর রায় দিয়েছিলেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। সেই রায়ের কারণে গ্রামীণ কল্যাণকে বকেয়া এই আয়কর পরিশোধের বাধ্যবাধকতার মুখে পড়তে হয়। হাইকোর্টের আদেশের চার দিনের মাথায় এর কার্যকারিতা স্থগিতের আবেদন নিয়ে চেম্বার আদালতের দ্বারস্থ হন গ্রামীণ কল্যাণের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এ কে এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। শুনানিতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন অংশ নেন এবং রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ আজাদ।

শুনানি শেষে আইনজীবী আবদুল্লাহ-আল-মামুন সাংবাদিকদের জানান, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও প্রকাশ না হওয়ায় নিয়মানুযায়ী লিভ টু আপিল দায়ের করা সম্ভব হচ্ছে না। সে কারণে পূর্ণাঙ্গ রায় ও আপিল করার পূর্ব পর্যন্ত রায়ের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যাতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, সেজন্যই স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছিল। তবে চেম্বার আদালত জানিয়েছেন, লিখিত রায় প্রকাশের আগে এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া আদালতের পক্ষে সম্ভব নয়। অন্যদিকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, চেম্বার কোর্ট গ্রামীণ কল্যাণের বিবিধ আবেদনটি তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকার ১৪ নম্বর কর অঞ্চল পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ টাকার বেশি কর দাবি করে এবং শুনানির দিন ধার্য করে। প্রতিষ্ঠানটি নথিপত্র প্রস্তুতের জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন করলেও তা খারিজ করে কর অফিস। পরবর্তীতে পুনর্বিবেচনার আবেদনও নাকচ হলে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৬ নভেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং কর দাবির বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতা কয়েক দফায় স্থগিত রাখা হয়।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের আরেকটি দ্বৈত বেঞ্চ কর অঞ্চলের আদেশ বাতিল করে পর্যবেক্ষণসহ রুল নিষ্পত্তি করেন। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এনবিআর আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ আপিল বিভাগ হাইকোর্টে মূল বিষয়ের ওপর পুনরায় শুনানির আদেশ দেন। সেই নির্দেশের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের আগস্টে রিট খারিজ করে রায় হলেও অক্টোবরে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। সর্বশেষ প্রধান বিচারপতি নতুন বেঞ্চ গঠন করে দেওয়ার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর সেই বেঞ্চই গ্রামীণ কল্যাণের রুল চূড়ান্তভাবে খারিজ করে রায় প্রদান করেন।

/আশিক


ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ

২০২৬ আগস্ট ১৬ ১৮:২৮:৫৬
ড. ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনি নোটিশ
ছবি : সংগৃহীত

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। হামের টিকা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বাইরে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার সাথে তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

রোববার (১৬ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রতি এই লিগ্যাল নোটিশটি প্রেরণ করেন।

নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম জানান, হামের টিকাদান কার্যক্রমকে রাষ্ট্রীয় আওতা থেকে বেসরকারি খাতে স্থানান্তরের মতো জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় ড. ইউনূসের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এই আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তবে নোটিশে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বা তাঁর প্রতিনিধির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

/আশিক


সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও কাড়তে পারবে না অধিকার: সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন খসড়া

২০২৬ আগস্ট ০৩ ২২:০০:৫২
সন্তানকে সম্পত্তি দিলেও কাড়তে পারবে না অধিকার: সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের নতুন খসড়া
ছবি : সংগৃহীত

বাবা-মা বা দাতা কোনো সম্পত্তি দান করার পরও যেন তাদের নিজ জীবদ্দশায় সেটি নির্বিঘ্নে ভোগ ও ব্যবহার করতে পারেন, সে বিধান রেখে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংশোধনীটি অনুমোদন পায়। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

আইন ও বিচার বিভাগের উদ্যোগে প্রণীত এই আইনটির মাধ্যমে ১৮৮২ সালের মূল ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’-এ দাতার জীবদ্দশায় ভোগাধিকার (লাইফটাইম ইউসুফ্রাক্ট) সুরক্ষার নতুন ধারা সংযোজন করা হলো। ইতিপূর্বে বলবৎ আইনে এ নিয়ে সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা না থাকায় বাবা-মা বা বয়োবৃদ্ধরা সন্তান বা নিকটাত্মীয়দের জমি বা ঘরবাড়ির মালিকানা হস্তান্তর করার পর অনেক ক্ষেত্রেই নিজেদের সম্পত্তিতে অধিকার হারিয়ে চরম আর্থিক ও সামাজিক অসহায়ত্বের মুখোমুখি হতেন। প্রস্তাবিত আইনি কাঠামোর ফলে এই জটিলতার একটি স্থায়ী আইনি ভিত্তি ও সুরক্ষা বলয় তৈরি হয়েছে।

বিদ্যমান হেবা বা অন্যান্য উপায়ে সম্পত্তি দানের ফলে দাতা তাৎক্ষণিকভাবে তার স্বত্ব হারাতেন। সরকারের নতুন প্রস্তাবিত ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ বা জীবনস্বত্বের নিয়ম অনুযায়ী, সন্তান বা গ্রহীতাকে সম্পত্তি উপহার হিসেবে রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার পরও দাতা বেঁচে থাকা পর্যন্ত সেটির ভোগদখল ও ব্যবহারের পূর্ণ এখতিয়ার নিজ হাতে রেখে দিতে পারবেন। একই সঙ্গে বিধান রাখা হয়েছে যে, দাতার জীবদ্দশায় কোনো পক্ষই—সন্তান বা দাতা এককভাবে—উক্ত সম্পত্তি অন্য কারও কাছে বিক্রি বা হস্তান্তর করতে পারবে না।

/আশিক


১৩ বছর পর আলোর মুখে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত প্রস্তুতি

২০২৬ জুলাই ১৯ ১৮:১১:০৪
১৩ বছর পর আলোর মুখে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড, ট্রাইব্যুনালে চূড়ান্ত প্রস্তুতি
ছবি : সংগৃহীত

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্তে ৬১ জনের মৃত্যুর অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। নিহতদের মধ্যে ৫৮ জনের সুনির্দিষ্ট পরিচয় ইতিমধ্যেই শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই ২০২৬) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম তার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে তদন্তের এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি প্রকাশ করেন। তিনি জানান, প্রসিকিউশনের খসড়া তালিকায় এখন পর্যন্ত মোট ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিবদ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের বিস্তারিত পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও বাকি ৩ জনের পরিচয় এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি, যা নিয়ে কাজ চলছে।

তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে হেফাজত নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন, তারা রিপোর্টের খসড়া বিবরণী নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছেন। প্রসিকিউশনের মূল লক্ষ্য হলো অপরাধের সাথে জড়িত প্রকৃত কোনো আসামি যেন বাদ না পড়ে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক বা প্রশাসনিকভাবে বলির পাঁঠা না হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত আইনি সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই হত্যাযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র বা ফরমাল চার্জ দাখিল করা সম্ভব হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক তদন্ত প্রতিবেদনের সীমাবদ্ধতা ও তৎকালীন বাস্তবতার কথা তুলে ধরে বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই তারা দাবি করে আসছেন যে নিহতের প্রকৃত সংখ্যার একটি বড় অংশ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা শাপলা চত্বরের শহীদদের লাশ গুম ও তথ্য গোপনের অপচেষ্টা চালিয়েছিল, যার ফলে অনেক ভুক্তভোগীর বিবরণ এই প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। তবে তথ্যগতভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে যে ৬১ জনের তালিকা তাদের কাছে সংরক্ষিত ছিল, এই প্রতিবেদনে মূলত তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিল। তাদের মধ্যে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এবং মুফতি হারুন ইজহারসহ অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, একই দিন অর্থাৎ রোববার সকালে শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে চালানো ওই নৃশংস সামরিক ও পুলিশি অভিযানের ওপর ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তৈরি করা মূল তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশন টিমের হাতে এসে পৌঁছায়। স্পর্শকাতর এই মামলায় দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও সামরিক ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সংস্থা বর্তমানে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তৎকালীন বিতর্কিত সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ মোট ৪১ জনকে প্রধান আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

এ ছাড়া এই মামলার আসামির তালিকায় তৎকালীন সরকারের নীতিনির্ধারক ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের পাশাপাশি বিতর্কিত গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদেরও যুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বেসরকারি একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, একই টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির অন্যতম নেতা ও সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। সেই সঙ্গে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের অভিযানে মাঠপর্যায়ে নেতৃত্ব দেওয়া তৎকালীন পুলিশ প্রধান (আইজিপি), র‌্যাবের মহাপরিচালক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারকেও এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।

/আশিক


বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন সুপ্রিম কোর্টের ১৭ সরকারি আইনজীবী

২০২৬ জুন ২৩ ১৭:৫৫:১৩
বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন সুপ্রিম কোর্টের ১৭ সরকারি আইনজীবী
পদত্যাগের পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরা। ছবি : সংগৃহীত

জুলাই চার্টার বাস্তবায়ন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা এবং বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে তীব্র মতপার্থক্যের জের ধরে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের ১৭ জন পদস্থ আইন কর্মকর্তা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের মধ্যে ১০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবং ৭ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সংশ্লিষ্ট এই কর্মকর্তারা সবাই মূলত জামায়াতপন্থি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো পৃথক পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে তারা নিজেদের দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে সরে দাঁড়ানোর এই ঘোষণা দেন। পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভূঁইয়া, আসাদ উদ্দিন এবং মুহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এ ছাড়া সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভূঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির এবং রেজাউল ইসলাম।

রাষ্ট্রপতির কাছে পেশ করা পদত্যাগপত্রে এই আইন কর্মকর্তারা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাদের সুনির্দিষ্ট আপত্তির কথা তুলে ধরেন। তারা উল্লেখ করেন, সাধারণ জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী জুলাই চার্টার পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন না করা, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য একটি পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে সরকারের অনীহা এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, সরকারের এসব সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কারণে দেশের সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পদত্যাগপত্রে তারা আরও স্পষ্টভাবে জানান, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার এই বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের পেশাগত বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থেকে সরকারের পক্ষে আইনি দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখা তাদের জন্য আর সম্ভব নয়। এই নৈতিক অবস্থান থেকেই তারা অবিলম্বে কার্যকর করার শর্ত সাপেক্ষে নিজ নিজ পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। সরকারের আইনি কর্মকর্তাদের এই একযোগে পদত্যাগের ঘটনা দেশের উচ্চ আদালত ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

/আশিক


লাল-সবুজ খাতায় নাম রাখছি, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারক ও আইনজীবীদের হুমকি ইনুর

২০২৬ জুন ২২ ১৮:৩৩:১১
লাল-সবুজ খাতায় নাম রাখছি, কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিচারক ও আইনজীবীদের হুমকি ইনুর
ছবি : সংগৃহীত

আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েই রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও বিচারকদের হুমকি দিয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু। সোমবার (২২ জুন) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে শুনানির একপর্যায়ে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে এ হুমকি দেন।

আজ জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর বংশাল এলাকায় মো. মোখলেছিনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনের শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হয়। বংশাল থানার উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফ হোসেনের করা এই আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হারুন অর রশিদ।

শুনানি শেষে আদালতের অনুমতি নিয়ে হাসানুল হক ইনু দীর্ঘ চার ঘণ্টা হাজতখানায় আটকে রাখার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে জেলে আছি। কোন আদালতের কোন বিচারক, কোন আইন কর্মকর্তা কী করতেছে, তা কারাগারের একটা লাল খাতা ও একটা সবুজ খাতায় সংরক্ষণ করে রাখছি।’ বিচার ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তিনি আরও মন্তব্য করেন, ‘বর্তমানে বিচার ব্যবস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটা শাখা হিসেবে কাজ করছে।’

ইনুর এমন বক্তব্যের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ তাকে থামাতে বললে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে ‘আপনি চুপ করেন’ বলে ধমক দেন এবং বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানালে আদালত এ বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান। এরপর শুনানির প্রক্রিয়া শেষে ইনু ও মেননকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক এমপি আসামি হাসানুল হক ইনু রীতিমতো আজ আদালতসহ আমাদের সবাইকে হুমকি দিয়েছেন। বিচার ব্যবস্থা নাকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি শাখা। তার এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে আমরা আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছি।’

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখাঁরপুল মোড়ের নাজিমউদ্দীন রোড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিল চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন মো. মোখলেছিন। পরে এ ঘটনায় চলতি বছরের ১ জানুয়ারি তিনি বাদী হয়ে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ইনু ও মেনন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: