সৌদি রাজতন্ত্রের অজানা অধ্যায়: ক্ষমতার জন্য বাবা ও ভাইদের ছাড় দিলেন না মোহাম্মদ বিন সালমান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ সেপ্টেম্বর ০৩ ১৭:২৬:০৪
সৌদি রাজতন্ত্রের অজানা অধ্যায়: ক্ষমতার জন্য বাবা ও ভাইদের ছাড় দিলেন না মোহাম্মদ বিন সালমান
ছবি: সংগৃহীত

প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহর মৃত্যুর পর সৌদি আরবের সিংহাসনে বসেন সালমান বিন আবদুল আজিজ। কিন্তু উত্তরাধিকার সূত্রে ক্ষমতার এই পালাবদল মোটেই সহজ ছিল না। এটি ছিল নাটকীয় সিদ্ধান্ত আর অপ্রত্যাশিত উত্থানের এক নতুন অধ্যায়।

শুরুতে বাদশাহ সালমান ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে তার ৬৯ বছর বয়সী সৎভাই মুকরিন বিন আবদুল আজিজের নাম ঘোষণা করেন। কিন্তু মাত্র তিন মাস পরেই তিনি হঠাৎ করে সিদ্ধান্ত বদল করেন। মুকরিনকে সরিয়ে তার স্থানে নিয়ে আসেন নিজের ভাইপো ৫৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ বিন নায়েফকে। পাশাপাশি ২৯ বছরের ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানকে ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন তিনি।

প্রায় ৯ বছর আগে যখন একের পর এক এসব ঘটনা ঘটছিল, সে সময় মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম সৌদি আরবের রাজনীতিতে কেউ শোনেননি। তাঁর সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানতেনও না কেউ।

অন্যদিকে মোহাম্মদ বিন নায়েফের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিল মার্কিন প্রশাসন। তিনি প্রতিরক্ষা বিষয়ে এফবিআইয়ের (যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো) কোর্স করেছিলেন। নিয়েছিলেন স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে সন্ত্রাস দমন কৌশলের প্রশিক্ষণও; কিন্তু ২০০৯ সালের আগস্টে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যার ব্যর্থ চেষ্টা চালানো হয়। ওই হামলার জন্য সে সময় দায়ী করা হয়েছিল আল-কায়েদাকে।

সৌদি বাদশাহর ‘দ্বাররক্ষক’

মোহাম্মদ বিন সালমান এমবিএস নামে বহুল পরিচিত। লেখক ডেভিড বি ওটাওয়ে তাঁর বইয়ে মোহাম্মদ বিন সালমান সম্পর্কে লিখেছেন, ‘প্রতিরক্ষামন্ত্রী হওয়ার পরপরই তিনি (মোহাম্মদ বিন সালমান) বাদশাহর গেট কিপার (দ্বাররক্ষক) হওয়ার জন্য নিজের পদকে ব্যবহার করতে শুরু করেন।’ উদ্দেশ্য ছিল, বাবাকে নজরে রাখা।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দ্রুতই মোহাম্মদ বিন সালমান তাঁর বাবাকে পরিবার ও বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের থেকে আলাদা করে ফেলেন। এমনকি এ-ও বলা হয় যে বাদশাহকে তাঁর স্ত্রী, মানে এমবিএসের মায়ের সঙ্গেও দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়।

লেখক বেন হাবার্ড তাঁর বই ‘দ্য রাইজ টু পাওয়ার, মোহাম্মদ বিন সালমান’-এ উল্লেখ করেছেন, ‘মোহাম্মদ বিন নায়েফ ও তাঁর দুই রক্ষী বাদশাহর সঙ্গে দেখা করার জন্য লিফটে উঠেছিলেন। দোতলায় লিফটের দরজা খুলতেই বাদশাহর সৈন্যরা এগিয়ে গিয়ে নায়েফের রক্ষীদের অস্ত্র ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন।’

ডেভিড বি ওটাওয়ের বইয়ে দাবি করা হয়েছে, মোহাম্মদ বিন সালমান কার্যত তাঁর মা এবং দুই বোনকে গৃহবন্দী করেন এবং বাবাকে এ সম্পর্কে ঘুণাক্ষরেও কিছু টের পেতে দেননি। বাদশাহ নিজের স্ত্রীর কথা জিজ্ঞাসা করলেই বলা হতো চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে তাঁকে।

ইয়েমেন আক্রমণ

প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দ্রুতই নিজের প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তাঁর তত্ত্বাবধানে সে বছরের ২৬ মার্চ (২০১৫ সাল) হুতি বিদ্রোহীদের কাছ থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানাকে মুক্ত করতে হামলা চালায় সৌদি বিমানবাহিনী।

মোহাম্মদ বিন সালমান ছোটবেলায় খুব দুষ্টু ছিলেন। ইংরেজি পড়ার চেয়ে ওয়াকিটকিতে প্রাসাদের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলতেই বেশি আগ্রহ ছিল তাঁর।—রশিদ সেকাই, সৌদি যুবরাজের ইংরেজি শিক্ষক

ওটাওয়ে তাঁর বইয়ে লিখেছেন, ‘প্রাথমিকভাবে সৌদি জনগণ ওই হামলার প্রশংসা করেছিলেন। ভেবেছিলেন, শেষ পর্যন্ত ইরানের সম্প্রসারণবাদী প্রবণতার বিরোধিতা করার সাহস দেখিয়েছে তাঁদের দেশ।’

‘কিন্তু কিছুদিন পর এ হামলা বাদশাহ, মোহাম্মদ বিন সালমান ও সৌদি আরবের জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটিকে মোহাম্মদ বিন সালমানের পররাষ্ট্রনীতির গাফিলতি হিসেবে বিবেচনা করা হতে থাকে।’

মোহাম্মদ বিন নায়েফকে আটক

কাছাকাছি সময়েই তৎকালীন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন নায়েফকে অপসারণ করে ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স করার সিদ্ধান্ত নেন বাদশাহ সালমান।

পবিত্র রমজান মাসের শেষ দিকে ২০১৫ সালের ২০ জুন রাতে রাজপরিবারের একাধিক সদস্য পবিত্র মক্কায় জড়ো হন। সেই রাতে, রাজনৈতিক ও সুরক্ষাবিষয়ক কাউন্সিলের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, যার সভাপতিত্ব করার কথা ছিল মোহাম্মদ বিন নায়েফের; কিন্তু বৈঠক শুরুর কিছুক্ষণ আগেই তিনি একটি বার্তা পান। সেখানে বলা হয়েছিল, বাদশাহ সালমান তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান।

বলা হয়, সৌদি আরবে অন্তত ১০ হাজার প্রিন্স রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। তাঁদের সবাইকে সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভাতা দেওয়া হয়। সর্বনিম্ন ভাতা ৮০০ ডলার এবং সর্বোচ্চ পৌনে ৩ লাখ ডলার। ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করার পরই এ ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেন মোহাম্মদ বিন সালমান।

তড়িঘড়ি হেলিকপ্টারে সওয়ার হয়ে বাদশাহর সঙ্গে দেখা করার জন্য সাফা মহলে পৌঁছান বিন নায়েফ। সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই দেহরক্ষী।

লেখক বেন হাবার্ড তাঁর বই ‘দ্য রাইজ টু পাওয়ার, মোহাম্মদ বিন সালমান’-এ উল্লেখ করেছেন, ‘মোহাম্মদ বিন নায়েফ ও তাঁর দুই রক্ষী বাদশাহর সঙ্গে দেখা করার জন্য লিফটে উঠেছিলেন। দোতলায় লিফটের দরজা খুলতেই বাদশাহর সৈন্যরা এগিয়ে গিয়ে নায়েফের রক্ষীদের অস্ত্র ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন।’

‘পাশের একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয় নায়েফকে। তিনি চলে যেতে উদ্যত হলে, বাধা দেওয়া হয় এবং ক্রাউন প্রিন্স পদ থেকে পদত্যাগ করার জন্য চাপ দেওয়া হতে থাকে। কিন্তু তাঁদের কথা শুনতে নারাজ ছিলেন বিন নায়েফ।’

নায়েফের পদত্যাগ

ওই রাতেই বিন নায়েফকে গৃহবন্দী করা হয় এবং রয়্যাল কোর্টের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রয়্যাল কাউন্সিলের সদস্যদের ডেকে জানতে চান, তাঁরা মোহাম্মদ বিন সালমানকে যুবরাজ বানানোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে একমত কি না।

কাউন্সিলের ৩৪ সদস্যের মধ্যে ৩১ জন সমর্থন জানান। তাঁদের ফোনকল রেকর্ড করা হয় এবং মোহাম্মদ বিন নায়েফকে জানানো হয়, তাঁর কতজন আত্মীয় বাদশাহর এ সিদ্ধান্তে সমর্থন করেছেন।

মোহাম্মদ বিন সালমান তখনো ক্রাউন প্রিন্স হননি। রিয়াদে একটি মূল্যবান জমির ওপর নজর পড়ে তাঁর বাবার; কিন্তু জমির মালিক সেটি বিক্রি করতে চাইছিলেন না। এ নিয়ে চাপ দিতে একজন বিচারকের কাছে যান মোহাম্মদ বিন সালমান। বিচারকও এ নিয়ে কথা বলতে তেমন আগ্রহী ছিলেন না। তখন মোহাম্মদ বিন সালমান বিচারকের টেবিলে রিভলবারের একটি বুলেট রাখেন। ইঙ্গিত ছিল, বিচারক তাঁর কথা না মানলে হয়তো তাঁকে গুলি করা হবে।—রিচার্ড লেসি, সৌদি রাজপরিবারের ইতিহাস পর্যবেক্ষক

বেন হাবার্ড তাঁর বইয়ে উল্লেখ করেছেন, ‘বিন নায়েফ ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। কিন্তু সে রাতে তাঁকে ওষুধ দেওয়া হয়নি। ফলে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত পরদিন সকালে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করার জন্য তৈরি হয়ে যান।’ তাঁকে পাশের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে বাদশাহ সালমান ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা ক্যামেরাসহ হাজির ছিলেন।

বিন নায়েফকে অভ্যর্থনা জানান বাদশাহ এবং তাঁর হাতে চুম্বন করেন। নায়েফ খুব নিচু স্বরে সালমানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। তাঁদের এই সাক্ষাতের ভিডিও সৌদি টিভি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সে সময় বারবার সম্প্রচার করা হয়।

‘এরপর মোহাম্মদ বিন নায়েফ কক্ষ থেকে বেরোনোর পর অবাক হয়ে দেখেন যে তাঁর রক্ষীরা সেখানে নেই। জেদ্দায় নিজের প্রাসাদে পৌঁছানোর পর তাঁকে সেখানে গৃহবন্দী করে রাখা হয়।’

বিন নায়েফের নীরবতা

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রশ্নের জবাবে রয়্যাল কোর্টের একজন মুখপাত্র অবশ্য ওই রাত সম্পর্কে ভিন্ন কথা বলেছেন। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থে ক্রাউন প্রিন্সের পদ থেকে মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সরিয়েছিল রয়্যাল কাউন্সিল। রয়্যাল কোর্ট আরও জানায়, তাঁকে বরখাস্ত করার কারণগুলো গোপন রাখা হয়েছে এবং সেগুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।

ঘটনার প্রায় এক মাস পর নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সৌদি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, মরফিন ও কোকেনে আসক্ত থাকার কারণে বিন নায়েফকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাদশাহ।

ওই বছরের শেষের দিকে বিন নায়েফের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়। তাঁর প্রতি এমন আচরণ নিয়ে মোহাম্মদ বিন নায়েফ অবশ্য প্রকাশ্যে কোনো কথা বলেননি।

বর্তমানে পরিস্থিতি এমন যে ১৯৮৫ সালের ৩১ আগস্ট জন্ম নেওয়া মোহাম্মদ বিন সালমানের পোস্টার সৌদি আরবের সর্বত্র দেখা যায়। তিনি সৌদি রাজপরিবারের অন্যতম যুবরাজ, যিনি বিদেশে পড়াশোনা করেননি। তিনি কখনোই সৌদি সেনাবাহিনী বা বিমান বাহিনীর সদস্য ছিলেন না। রিয়াদের রয়্যাল অ্যান্ড সেকেন্ডারি স্কুলে পড়াশোনা করেন তিনি।

মোহাম্মদ বিন সালমানের ইংরেজি শিক্ষক রশিদ সেকাই বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘মোহাম্মদ বিন সালমান ছোটবেলায় খুব দুষ্টু ছিলেন। ইংরেজি পড়ার চেয়ে ওয়াকিটকিতে প্রাসাদের নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে কথা বলতেই বেশি আগ্রহ ছিল তাঁর।’

স্নাতক হওয়ার পর ২০০৭ সালে সারা বিনতে মাশুরকে বিয়ে করেন মোহাম্মদ বিন সালমান। এই যুগলের চারটি সন্তান রয়েছে।

পিয়ানোতে ধ্রুপদি সুর

মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় তাঁকে নিজের বাড়িতে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি।

বইয়ে সে প্রসঙ্গে বেন হাবার্ড লিখেছেন, পুরো সন্ধ্যাটাই কেরির সঙ্গে কথা বলে কাটান মোহাম্মদ বিন সালমান। সে সময় বিন সালমানের চোখ পড়ে সেখানে রাখা পিয়ানোর ওপর।

জন কেরি বিন সালমানের কাছ থেকে জানতে চান, ‘আপনি পিয়ানো বাজাতে জানেন? পিয়ানোতে ধ্রুপদি সুর বাজিয়ে তাক লাগিয়ে দেন মোহাম্মদ বিন সালমান।’

‘ঘরে উপস্থিত সবাই অবাক হয়েছিলেন। যেহেতু ‘‘ওয়াহাবি ঘরানার’’ মানুষেরা সংগীত অপছন্দ করে, ফলে জন কেরি আশা করেননি যে মোহাম্মদ বিন সালমান পিয়ানো বাজাবেন।’

বিচারকের টেবিলে বুলেট

শুরু থেকেই যুবরাজ বিন সালমানের ঝোঁক ছিল বিনিয়োগের মাধ্যমে নিজস্ব অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তোলার দিকে।

সৌদি রাজপরিবারের ইতিহাস পর্যবেক্ষক রিচার্ড লেসি লিখেছেন, ‘মোহাম্মদ বিন সালমান তখনো ক্রাউন প্রিন্স হননি। রিয়াদে একটি মূল্যবান জমির ওপর নজর পড়ে তাঁর বাবার। কিন্তু জমির মালিক সেটি বিক্রি করতে চাইছিলেন না।’

‘এ নিয়ে চাপ দিতে একজন বিচারকের কাছে যান মোহাম্মদ বিন সালমান। বিচারকও এ নিয়ে কথা বলতে তেমন আগ্রহী ছিলেন না। তখন মোহাম্মদ বিন সালমান বিচারকের টেবিলে রিভলবারের একটি বুলেট রাখেন। ইঙ্গিত ছিল, বিচারক তাঁর কথা না মানলে হয়তো তাঁকে গুলি করা হবে।’

যুবরাজের এহেন আচরণ সম্পর্কে বাদশাহ আবদুল্লাহর কাছে অভিযোগ করেন বিচারক। এ খবর কখনো অস্বীকার করেননি সালমান। এরপর ২০১১ সালে বাদশাহ আবদুল্লাহ যখন মোহাম্মদ বিন সালমানের বাবাকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন, তখন শর্ত দিয়েছিলেন যে এমবিএস যেন কখনোই মন্ত্রণালয়ের ভবনে প্রবেশ না করে।

নারীদের গাড়ি চালানোর স্বাধীনতা

মোহাম্মদ বিন সালমানের বাবা যখন সৌদি আরবের বাদশাহ হিসেবে দায়িত্ব নেন, তখন তাঁর বয়স ছিল ৭৯ বছর। শোনা যায়, বেশ কয়েক বছর ধরেই আলঝেইমারে ভুগছিলেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষমতার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেন মোহাম্মদ বিন সালমান।

সৌদি আরবের যুবক ও নারীদের মন জয় করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন বিন সালমান। তিনি ২০১৮ সালে নারীদের জন্য প্রচলিত ড্রেস কোড (পোশাকবিধি) শিথিল করে বলেছিলেন, প্রকাশ্যে নারীদের ‘আবায়া’ পরার দরকার নেই।

সেই বছরই নারীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা নিজেরাই কাজে বা কেনাকাটার জন্য গাড়ি চালিয়ে যেতে পারেন। এ জন্য সঙ্গে পুরুষ অভিভাবক রাখার প্রয়োজন নেই।

লেখক মার্ক থম্পসন তাঁর ‘বিয়িং ইয়ং, মেল অ্যান্ড সৌদি’ শীর্ষক বইয়ে লিখেছেন, ‘অর্থনৈতিক কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, নারীদের স্বাধীনতা দেওয়ার জন্য নয়।’ তাঁর মতে, ‘নারীরা পুরুষের অনুমতি ছাড়াই যাতে কাজ করতে ও উপার্জন করা অর্থ ব্যয় করতে পারেন, সে কথা মাথায় রেখেই নেওয়া হয় এ পদক্ষেপ।’

‘শুরা’র সমাপ্তি

সৌদি আরববিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে ‘শুরা’ ও জ্যেষ্ঠ প্রিন্সদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঐতিহ্যে বিরাম টেনেছেন মোহাম্মদ বিন সালমান। ‘শুরা’ বলতে পরামর্শমূলক পরিষদকে বোঝায়। এর বদলে নিজেকে এক ও একমাত্র শাসক হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি।

নিজের সিদ্ধান্ত ও রাজনীতির বিরুদ্ধে কোনো ধরনের প্রতিবাদ বা সমালোচনা যে বিন সালমান বরদাস্ত করবেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

চেজ ফ্রিম্যান ১৯৯০-এর দশকের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় সৌদি আরবে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর মতে, ‘সৌদি রাজপরিবারের ঐক্যের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হলো শুরার ধারণার প্রতি সম্পূর্ণ অবজ্ঞা।’

বিলাসবহুল সামগ্রীর প্রতি আকর্ষণ

ক্রাউন প্রিন্স হওয়ার আগেও দামি সামগ্রীর প্রতি আকর্ষণের জন্য পরিচিত ছিলেন মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি ৪৪০ ফুট লম্বা বিলাসবহুল ইয়ট কিনতে ৫০ কোটি ডলার খরচ করেছিলেন। এর আগে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে লেওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্রকর্ম কেনার জন্য ৪৫ কোটি ডলার খরচ করেন।

সমালোচনা এড়াতে বিন সালমান প্রথমে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ওই বিখ্যাত চিত্রকর্ম আবুধাবির জাদুঘরে দিয়ে দেবেন; কিন্তু তেমনটা হয়নি। এর কিছুদিন পরই তাঁর বিলাসবহুল নৌযান ‘সেরিন’-এ দেখা যায় ওই চিত্রকর্ম।

একের পর এক গ্রেপ্তার, হারিরির পদত্যাগ

বলা হয়, সৌদি আরবে অন্তত ১০ হাজার প্রিন্স রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১০০ জন রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। তাঁদের সবাইকে সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভাতা দেওয়া হয়। সর্বনিম্ন ভাতা ৮০০ ডলার এবং সর্বোচ্চ পৌনে ৩ লাখ ডলার।

ক্রাউন প্রিন্স হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করার পরই এ ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেন মোহাম্মদ বিন সালমান।

২০১৭ সালের ৪ নভেম্বর মোহাম্মদ বিন সালমান সরকারি তহবিল তছরুপের অভিযোগে প্রিন্স, ব্যবসায়ী ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা মিলিয়ে ৩৮০ জনকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন।

বেন হাবার্ড লিখেছেন, ‘তাঁদের মধ্যে কমপক্ষে ১১ জন প্রিন্স ছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আদিল ফিকিয়া এবং অর্থমন্ত্রী ইব্রাহিম আবদুল আজিজও ছিলেন।’

‘তাঁদের সবার মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং পাঁচ তারকা রিটজ-কার্লটন হোটেলে নিয়ে গিয়ে গৃহবন্দী করা হয়। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করা অর্থ সরকারকে ফেরত দেওয়ার পর তাঁদের সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁরা মোট ১০০ কোটি ডলার জরিমানাও দেন।’

একই ভাবে সৌদি আরব সফরে যাওয়া লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সাদ আল-হারিরিকে গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে বিন সালমানের বিরুদ্ধে। সে সময় ওই অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়।

বেন হাবার্ড লিখেছেন, ‘আল-হারিরি মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দেখা করতে এলে তাঁকে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর গাড়িবহরে থাকা ব্যক্তিদের বাইরে থাকতে বলা হয়। ওই কক্ষেই হারিরিকে পদত্যাগ করতে বলা হয়।’

‘আল-হারিরি লেবাননের পতাকার পাশে দাঁড়িয়ে পদত্যাগের ঘোষণা করেন এবং একটা বিবৃতি পাঠ করেন। সে বিবৃতি বিশ্বজুড়ে টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়েছিল।’

আল-হারিরিকে বলতে শোনা যায়, তাঁর পদত্যাগ লেবাননকে আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন করে তুলবে। এই বিবৃতি পাঠের সময় তিনি বেশ কয়েকবার থামেন এবং এমন একটা ইঙ্গিত দেন যে ওই বিবৃতি তিনি নিজে লেখেননি।

অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, ‘হারিরি যদি পদত্যাগই করতে চাইতেন, তবে বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে কেন পদত্যাগ করলেন?’

এর কয়েকদিন পর আল-হারিরি দেশে ফেরেন এবং তাঁর সেই পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এই অদ্ভুত ঘটনার নেপথ্যের কাহিনি অবশ্য কখনোই জানা যায়নি।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০১৮ সালের মে মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি সরকার ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ২ হাজার ৩০৫ জনকে আটক করেছে, যাঁদের মধ্যে ২৫১ জন তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন এবং তাঁদের কখনো বিচারকের সামনে হাজির করা হয়নি।

শুধু তা-ই নয়, নিউইয়র্কভিত্তিক ‘কমিটি ফর দ্য প্রটেকশন অব জার্নালিস্ট’ও তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, সৌদি আরবে ২৬ জন সাংবাদিক বন্দী রয়েছেন। এ সংখ্যা চীন ও তুরস্কের পর বিশ্বে সর্বোচ্চ। আবার ২০১৯ সালে এক হাজার সৌদি নাগরিকের ওপর ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।

জামাল খাসোগি হত্যা মামলা

মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্য সবচেয়ে বিব্রতকর ব্যাপার ছিল, যখন তুরস্কের সৌদি দূতাবাসে গিয়ে এমবিএসের অন্যতম সমালোচক সাংবাদিক জামাল খাসোগি খুন হন।

খাসোগি আরব নিউজ ও আল-ওয়াতানের মতো সংবাদপত্রের সম্পাদক ছিলেন। সব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মোহাম্মদ বিন সালমান এক বছর ধরে ওই হত্যার দায় অস্বীকার করেন।

ডেভিড বি ওটাওয়ে লিখেছেন, ‘মোহাম্মদ বিন সালমানের দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগীর তত্ত্বাবধানে এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে সিআইএ এ সিদ্ধান্তে আসে যে এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ স্বয়ং যুবরাজই দিয়েছিলেন।’

‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনএসএ) মোহাম্মদ বিন সালমানের একটা পুরোনো রেকর্ডিং খুঁজে পায়, যেখানে সৌদি আরবে না ফিরলে খাসোগিকে গুলি করার কথা বলেছিলেন তিনি।’

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উপস্থাপক নোরা ডোনেল যুবরাজকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি খাসোগিকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন?’

জবাবে মোহাম্মদ বিন সালমান বলেছিলেন, ‘একেবারেই না। এটি একটি জঘন্য অপরাধ। কিন্তু সৌদি আরবের নেতা হিসেবে আমি এর সম্পূর্ণ দায় নিচ্ছি। বিশেষত, যখন অপরাধীরা সৌদি সরকারের হয়ে কাজ করছিল।’

এরপর ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবের এক আদালত সাংবাদিক খাসোগিকে হত্যার দায়ে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড ও তিনজনকে ২৪ বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে ২০২০ সালের ২০ মে প্রয়াত সাংবাদিকের পুত্র সালেহ খাসোগি তাঁর বাবার হত্যাকারীদের ক্ষমা করে দেন।


৬০০ বার হামলা চালায় ইরান ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় 

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১৯:৩১:৫৯
৬০০ বার হামলা চালায় ইরান ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় 
ছবি : সংগৃহীত

ইরাকে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে একের পর এক হামলার ঘটনায় ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইরান যুদ্ধ চলাকালে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ৬০০টিরও বেশি হামলার তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস, ইউএস ডিপ্লোম্যাটিক সাপোর্ট সেন্টার এবং এরবিলে মার্কিন কনস্যুলেট লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো এই হামলাগুলোর পেছনে রয়েছে এবং তারা ভবিষ্যতে মার্কিন নাগরিক ও স্থাপনাগুলোতে আরও বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছে।

সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করেছে যে ইরাক সরকারের কিছু অংশ এসব মিলিশিয়া গোষ্ঠীকে রাজনৈতিক ও আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। ওয়াশিংটন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এখন শুধু কথা নয়, বরং মিলিশিয়াদের বিরুদ্ধে ‘কাজ’ দেখতে চায়।

মিলিশিয়াদের সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে সরানো, তাদের অর্থায়ন বন্ধ করা এবং বেতন দেওয়া থামানোর জন্য ইরাক সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরাক সরকার ও এসব মিলিশিয়ার মধ্যের সীমারেখা স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তাদের ওপর আস্থা রাখা কঠিন।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছে শান্তি! ইরান-আমেরিকার আলোচনায় বড় মোড়

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১৭:২৯:৩৯
মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছে শান্তি! ইরান-আমেরিকার আলোচনায় বড় মোড়
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে অবশেষে আলোর মুখ দেখছে বিশ্ব। দুদেশের মধ্যে যুদ্ধ বিরতির লক্ষ্যে একটি সংক্ষিপ্ত ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক (মেমো) চূড়ান্ত হওয়ার পথে রয়েছে। বুধবার (৬ মে) শান্তি প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত একটি পাকিস্তানি সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই পক্ষের দীর্ঘ আলোচনার পর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং দ্রুতই এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস'ও একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছিল। একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছে, “আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ের খুব কাছাকাছি আছি এবং শিগগিরই এই স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।”

প্রকাশিত তথ্য মতে, এই ১৪ দফার মেমোটি মূলত যুদ্ধ অবসানের একটি প্রাথমিক কাঠামো বা ফ্রেমওয়ার্ক হিসেবে কাজ করবে। এটি কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘমেয়াদি সমাধান এবং বিস্তারিত শর্তাবলি নিয়ে পরবর্তী ধাপে আলোচনা চলবে। অ্যাক্সিওস আরও উল্লেখ করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কয়েকটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া আশা করছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি সই হয়নি, তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে ফলপ্রসূ এবং অগ্রসর পর্যায়ের আলোচনা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সমঝোতা যদি বাস্তবে রূপ নেয় তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের ভয়াবহ উত্তেজনা কমাবে না, বরং অস্থিতিশীল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। এখন পুরো বিশ্বের নজর আগামী ৪৮ ঘণ্টার ওপর, যা নির্ধারণ করতে পারে এই অঞ্চলের ভবিষ্যতের শান্তি ও স্থিতিশীলতা।

/আশিক


অনুপ্রবেশ রুখতে 'অ্যাকশন মোডে' বিজেপি: ৪৫ দিনেই সীমান্তে জমি বরাদ্দের ঘোষণা

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১২:২৮:০২
অনুপ্রবেশ রুখতে 'অ্যাকশন মোডে' বিজেপি: ৪৫ দিনেই সীমান্তে জমি বরাদ্দের ঘোষণা
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর রাজ্য ও কেন্দ্রের দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি বরাদ্দ দেবে নবগঠিত বিজেপি সরকার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করতে চায়। মূলত সীমান্ত পার হয়ে অনুপ্রবেশ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাই গেরুয়া শিবিরের প্রধান লক্ষ্য। বিজেপি নেতাদের মতে, রাজ্য সরকারের পূর্ণ সহযোগিতায় বিএসএফ এবং পুলিশ যৌথ অভিযান চালাতে সক্ষম হবে, যা সীমান্ত জেলাগুলোর জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন রোধে সহায়ক হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দলটি ‘শনাক্ত করো, নির্মূল করো এবং বিতাড়িত করো’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করার ঘোষণা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার নিয়ে তৃণমূল ও কেন্দ্রের মধ্যে তুমুল বিরোধ চলে আসছিল। ২০২১ সালে বিএসএফ-এর কার্যপরিধি বৃদ্ধি থেকে শুরু করে সিএএ (CAA) এবং এনআরসি (NRC) বাস্তবায়নে মমতা ব্যানার্জির সরকারের তীব্র বাধার মুখে পড়েছিল মোদি সরকার। এছাড়া খাগড়াগড় ও ভূপতিনগর বিস্ফোরণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনাগুলোর তদন্তেও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের ফলে এখন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ রোধে দিল্লি-কলকাতা একযোগে কাজ করতে পারবে।

/আশিক


এরদোগানের বড় চমক: ইস্তাম্বুলে প্রকাশ্যে এলো দানবীয় ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১১:৫৮:১৯
এরদোগানের বড় চমক: ইস্তাম্বুলে প্রকাশ্যে এলো দানবীয় ক্ষেপণাস্ত্র ‘ইলদিরিমহান’
ছবি : সংগৃহীত

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে প্রথমবারের মতো নিজেদের তৈরি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (ICBM) ‘ইলদিরিমহান’ উন্মোচন করেছে তুরস্ক। মঙ্গলবার (৫ মে) ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ‘সাহা ২০২৬’ প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রকাশ্যে আনা হয়। তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রটি দেশটির দূরপাল্লার আঘাত হানার সক্ষমতায় এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ইলদিরিমহান’ ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার, যার ফলে এটি ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার বিশাল অংশ জুড়ে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এর গতিবেগ সর্বোচ্চ ম্যাক ২৫ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে যা একে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্রে পরিণত করেছে।

চারটি রকেট ইঞ্জিন সম্বলিত এই প্ল্যাটফর্মে জ্বালানি হিসেবে তরল নাইট্রোজেন টেট্রঅক্সাইড ব্যবহৃত হয়েছে। প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াশার গুলারসহ দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তুরস্কের এই প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রশংসা করেন।

তুরস্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন, বিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করে প্রতিরক্ষা খাতে অভাবনীয় স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। ‘সাহা ২০২৬’ প্রদর্শনীর মাধ্যমে দেশটি বিশ্বের সামনে তাদের কারিগরি শ্রেষ্ঠত্ব এবং প্রতিরক্ষা রপ্তানি বৃদ্ধির উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যকেই তুলে ধরেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই আয়োজনটি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে পরিণত হয়েছে।

/আশিক


মধ্যপ্রাচ্যে নাটকীয় মোড়: পাকিস্তানের অনুরোধে কি নমনীয় হলেন ট্রাম্প?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৬ ১০:১১:৫৯
মধ্যপ্রাচ্যে নাটকীয় মোড়: পাকিস্তানের অনুরোধে কি নমনীয় হলেন ট্রাম্প?
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এবং একটি টেকসই সমঝোতার লক্ষ্যে হরমুজ প্রণালিতে চলমান সামরিক অভিযান 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আজ বুধবার (৬ মে) সকালে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আকস্মিক ঘোষণা দেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তানসহ কয়েকটি মিত্র দেশের বিশেষ অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত চুক্তির পথে ইতিবাচক সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, প্রজেক্ট ফ্রিডম স্থগিত করা হলেও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ বা ব্লকড আগের মতোই পুরোপুরি কার্যকর থাকবে। মূলত প্রস্তাবিত চুক্তিটি চূড়ান্ত করা এবং এতে স্বাক্ষর করা সম্ভব কি না, তা যাচাই করার জন্য মার্কিন সেনাবাহিনী এই সামরিক বিরতি নিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার থেকে হরমুজে আটকে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে উদ্ধারে 'প্রজেক্ট ফ্রিডম' শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, যাকে ইরান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে কঠোর প্রতিরোধের হুমকি দিয়েছিল।

/আশিক


যুদ্ধের উসকানি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: আমিরাত সংকটে ইরানের বিস্ফোরক মন্তব্য

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১৭:২০:৩৯
যুদ্ধের উসকানি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: আমিরাত সংকটে ইরানের বিস্ফোরক মন্তব্য
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ চড়ে আকাশচুম্বী হয়েছে, যার ফলে পুরো অঞ্চলটি এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় ইরান থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ব্যালেস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী। একই সময়ে আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দরের একটি তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে, যার ফলে সেখানে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এই পাল্টাপাল্টি হামলা ও প্রতিরোধের ঘটনায় ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

তেল শোধনাগারে হামলার অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে একজন সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, কোনো জ্বালানি স্থাপনায় পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়নি। বরং বর্তমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য তিনি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা ও তাদের ‘দুঃসাহসিক’ কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে, এ ধরনের কোনো নাশকতামূলক ঘটনার সাথে তাদের সম্পৃক্ততা নেই।

এদিকে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান এই উত্তেজনার মধ্যে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর আক্রমণ চালানো হলে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বর্তমানে ওই পথে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বিশেষ পাহারায় পার করে দিচ্ছে। এ সময় তাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করায় বেশ কয়েকটি ইরানি ছোট নৌকা ডুবিয়ে দিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী।

পুরো মধ্যপ্রাচ্য যখন এক মহাযুদ্ধের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে, তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির কণ্ঠে কিছুটা নমনীয়তার সুর শোনা গেছে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান হতে পারে না। যুদ্ধ এড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও জানান যে, এই সংকট নিরসনে বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলছে এবং সেই আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে।

সূত্র: আল-জাজিরা


ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে: ট্রাম্পের নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১১:৪৫:৩৩
ইরানকে পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে: ট্রাম্পের নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন স্বার্থে কোনো প্রকার আঘাত এলে ইরানকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ফক্স নিউজের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া বার্তা প্রদান করেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ওই অঞ্চলে চলমান মার্কিন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর আওতাধীন কোনো জাহাজে হামলা চালানো হলে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হবে। প্রেসিডেন্টের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

সাক্ষাৎকার চলাকালীন ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সামরিক শক্তি ও সক্ষমতার বিষয়ে ব্যাপক আত্মবিশ্বাস প্রদর্শন করেন। তিনি দাবি করেন, বিগত কয়েক বছরে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আমূল আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত এবং বিপুল পরিমাণ অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে সজ্জিত এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা বিশ্বের সেরা সক্ষমতার অধিকারী।

ইরান থেকে আসতে পারে এমন যেকোনো হুমকি রুখতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, সাগরে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একমাত্র পথ হলো শক্তিশালী সামরিক অবস্থান নিশ্চিত করা। প্রেসিডেন্ট জানান, মার্কিন রণতরি এবং কৌশলগত সামরিক সরঞ্জামগুলো ইতোমধ্যে নির্দিষ্ট অবস্থানে মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রয়োজন পড়লে এর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এবং ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন যেকোনো চরম পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।

কঠোর হুমকির পাশাপাশি ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও নিজ ধারণা ব্যক্ত করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের মতে, ক্রমাগত অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে তেহরান এখন আগের তুলনায় কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখাচ্ছে। তিনি মনে করেন, এই চাপের কারণেই হয়তো ইরান এখন শান্তি আলোচনার বিষয়ে কিছুটা নমনীয় হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আলোচনার পথ খোলা রাখার অর্থ এই নয় যে কোনো প্রকার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে।

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বিশাল অংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, ফলে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হোয়াইট হাউসের এই কঠোর অবস্থান তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধকে সরাসরি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই প্রকাশ্য হুমকির জবাবে ইরান পাল্টা কোনো সামরিক মহড়া বা কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখায় কি না।

সূত্র: আলজাজিরা


মার্কিন হামলায় ইরানের ছয় যুদ্ধযান ধ্বংসের দাবি, উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১১:৩৯:০৭
মার্কিন হামলায় ইরানের ছয় যুদ্ধযান ধ্বংসের দাবি, উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, তারা ইরানের ছয়টি ছোট যুদ্ধযান ধ্বংস করেছে এবং বেশ কিছু ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, ইরান এর আগেই দাবি করেছিল যে তারা মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স এই উত্তেজনার খবরটি নিশ্চিত করেছে।

মার্কিন বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় সচল করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি বিশেষ নৌ অভিযান শুরু করার পর ইরান তাতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে এই অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ইরান এই প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছিল, যা পুনরায় মুক্ত করতেই ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপ।

বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে কি না, সে বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি মার্কিন অভিযানে বিঘ্ন ঘটাতে অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। কুপারের ভাষ্যমতে, আইআরজিসি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন পাহারায় থাকা জাহাজগুলোতে আক্রমণের চেষ্টা চালিয়েছিল, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নস্যাৎ হয়ে যায়।

এই বিশাল সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ১৫ হাজার সেনা, নৌবাহিনীর শক্তিশালী ডেস্ট্রয়ার, শতাধিক যুদ্ধবিমান এবং উন্নত ডুবো সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কমান্ডারদের যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার হরমুজ প্রণালিতে একটি দক্ষিণ কোরীয় জাহাজে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন যে সেই জাহাজটি মার্কিন অভিযানের অংশ ছিল না। একই সাথে তিনি সাতটি ইরানি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার দাবিও করেন।

বিপরীত দিকে, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবিগুলো ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, গত কয়েক ঘণ্টায় কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করেনি এবং ইরানি নৌযান ধ্বংস হওয়ার খবরটিও তারা অস্বীকার করেছে। এদিকে মার্কিন বাহিনী প্রণালিটি সচল করতে ধাপে ধাপে এগোচ্ছে। প্রথমে সমুদ্রের মাইন অপসারণ করে পথ নিরাপদ করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ সেই পথ দিয়ে সফলভাবে পার করা হয়েছে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই রুটে সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে তেল ও এলপিজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই সম্পন্ন হয়ে থাকে। অ্যাডমিরাল কুপার জানিয়েছেন, ইরানের হুমকির মুখে বর্তমানে অন্তত ৮৭টি দেশের জাহাজ উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকা পড়ে আছে। তবে মার্কিন প্রশাসন জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন দেশের শিপিং কোম্পানিগুলোর সাথে নিয়মিত যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে। উত্তপ্ত এই পরিস্থিতিতে মার্কিন অবরোধ বহাল থাকায় সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক যাতায়াত আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।

/আশিক


মমতার পতন না কি বিজেপির উত্থান? পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদলে ৫টি বড় কারণ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১১:১৮:১৩
মমতার পতন না কি বিজেপির উত্থান? পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার পালাবদলে ৫টি বড় কারণ
ছবি : সংগৃহীত

প্রায় দেড় দশক ধরে চলা তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের ইতি টেনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রাথমিক ফলাফলের ইঙ্গিত বলছে, এক সময় বামপন্থীদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই রাজ্যে বিজেপির নিরঙ্কুশ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের এই পরাজয়ের পেছনে অন্যতম কারণ ছিল নির্বাচনী কৌশলে অতিরিক্তভাবে আই-প্যাকের ওপর নির্ভরতা।

অতীতে এই সংস্থার পরিকল্পনা দলকে সুবিধা দিলেও, এবার কার্যকর দিকনির্দেশনার অভাব পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। এছাড়া মুসলিম ভোটব্যাংকে ভাঙনও বড় একটি কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আগে এই ভোটের বড় অংশ তৃণমূলের দখলে থাকলেও, এবার ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট ও অন্যান্য ছোট দলের উত্থানে তা বিভক্ত হয়ে যায়, যার প্রভাব সরাসরি নির্বাচনের ফলে পড়ে। অন্যদিকে হিন্দু ভোটের একটি বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এবং দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বও বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি গ্রামীণ ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। বিজেপির এই সাফল্যের পেছনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত কয়েক বছরে দলটি নীরবে নিজেদের সংগঠন শক্তিশালী করেছে এবং এবারের নির্বাচনে বহিরাগত নেতাদের বদলে স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা গেছে।

এছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ‘ভুয়া’ ও ‘বহিরাগত’ ভোটার বাদ পড়াও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নতুন সরকার গঠনের পর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সমন্বয় এবং সীমান্তসংক্রান্ত নানা ইস্যুতে কী ধরনের অবস্থান নেওয়া হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? ধারণা করা হচ্ছে, যদি শুভেন্দু অধিকারী গুরুত্বপূর্ণ আসনে জয় পান, তাহলে তিনি এই দৌড়ে এগিয়ে থাকতে পারেন। এছাড়া রাজ্য বিজেপির আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রায়ই চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নেয়। তাই চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

৬ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

৬ মে: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

সপ্তাহের মাঝামাঝি লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বেশ কয়েকটি শেয়ারে শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে। বিশেষ করে সিরামিক, টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস ও... বিস্তারিত