বিমানের শেষ ২ মিনিট ৫০ সেকেন্ড

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ মে ১৭ ০৯:১৩:৩০
বিমানের শেষ ২ মিনিট ৫০ সেকেন্ড

সত্য নিউজ: কক্সবাজার থেকে উড্ডয়ন করার কিছুক্ষণ পরই একটি চাকা খুলে পড়ে যায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৪৩৬ ফ্লাইটটির। আর সেই মুহূর্ত থেকে শুরু হয় এক নিঃশ্বাসে বলা যায় এমন এক উত্তেজনাকর ও প্রশংসাযোগ্য নিয়ন্ত্রণযজ্ঞ। ঢাকার আকাশে এসে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ককপিট ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) রুমের মধ্যে গড়ে ওঠে সমন্বয়ের এক সুদৃঢ় সেতু। শেষ পর্যন্ত দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও পেশাগত সংবেদনশীলতার এক দুর্লভ উদাহরণ হয়ে উঠে এই ফ্লাইটের জরুরি অবতরণ।

রেকর্ডে ধরা পড়ে উত্তেজনার শেষ ২ মিনিট ৫০ সেকেন্ড

শুক্রবার (১৬ মে) দুপুর ২টা ১৯ মিনিটে ঢাকার আকাশে প্রবেশ করে ফ্লাইটটি। এটিসি তখন পাইলটকে জিজ্ঞেস করে, ‘আপনি কী এই অবস্থায় রানওয়ে ১৪ দিয়ে অবতরণের বিষয়টি কনফার্ম করছেন?’ ককপিট থেকে ক্যাপ্টেন জামিল বিল্লাহ নিশ্চয়তা দিয়ে জানান, “অ্যাফার্ম।” এরপর এটিসি জানায়, রানওয়ে প্রস্তুত তিনি অবতরণ করতে পারেন।

ঠিক ৯০ সেকেন্ড পর, দুপুর ২টা ২২ মিনিটে বিমানটি রানওয়েতে নিরাপদে অবতরণ করে। এক নিঃশ্বাসে এটিসির বার্তা শোনার পর ককপিট থেকে ভেসে আসে প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতার বার্তা: “আলহামদুলিল্লাহ, আমরা নিরাপদে অবতরণ করেছি। কন্ট্রোল টাওয়ারকে অনেক ধন্যবাদ, আপনাদের সহযোগিতা ছিল প্রশংসনীয়।”

এটিসি নিশ্চিত হতে চায়, সবকিছু স্বাভাবিক কিনা। ক্যাপ্টেন জামিল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান, “এভরিথিং ইজ অ্যাবসালুটলি ফাইন।” এর উত্তরে এটিসি জানায়, “আলহামদুলিল্লাহ, ধন্যবাদ আপনাকে।” পাইলট তখন কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের এটিসিকেও ধন্যবাদ জানান।

উড্ডয়নের সময়েই সংকেত

বিমানবন্দরের সূত্র অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ১টা ৩০ মিনিটে ফ্লাইটটি ৭১ যাত্রী নিয়ে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। রানওয়ে থেকে টেক অফের সময় বাম পাশের একটি ল্যান্ডিং গিয়ার চাকা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে খুলে পড়ে যায়। তবুও পাইলট পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে রেখে ফ্লাইটটিকে নিরাপদে ঢাকায় নিয়ে আসেন।

দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের জয়

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য পাইলটকে শুধু প্রশিক্ষণ নয়, মানসিক স্থিরতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হয়। ক্যাপ্টেন জামিল বিল্লাহ তা যথার্থভাবে দেখিয়েছেন।

সাধারণত জরুরি অবতরণের আগে ফ্লাইটকে আকাশে চক্কর দিয়ে অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ করে নিতে হয়, যাতে অবতরণের সময় আগুন লাগার ঝুঁকি না থাকে। তবে ক্যাপ্টেন জামিল আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন এবং সফলভাবে সেটি সম্পন্ন করেন।

বিমানবন্দরে প্রস্তুতি ছিল সর্বোচ্চ মানের

জরুরি পরিস্থিতির কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ফায়ার সার্ভিসসহ সব রকম প্রস্তুতি রাখা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তার কিছুই ব্যবহার করতে হয়নি—কারণ পাইলট ও এটিসির চমৎকার সমন্বয়েই ফ্লাইটটি মাটিতে ফিরে আসে নিরাপদে।

বিজি ৪৩৬ ফ্লাইটের এই সফল জরুরি অবতরণ কেবল প্রযুক্তিগত নয়, বরং মানবিক দৃঢ়তা, প্রশিক্ষণের গভীরতা এবং পেশাগত উৎকর্ষের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে রইল বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে।


লোডশেডিংয়ে নাকাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিদ্যুৎ উৎপাদন করেও অন্ধকারে ২১ জেলা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১৯:৫৬:৪৪
লোডশেডিংয়ে নাকাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, বিদ্যুৎ উৎপাদন করেও অন্ধকারে ২১ জেলা
ছবি : সংগৃহীত

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সচল থাকা কেন্দ্রগুলোতেও জ্বালানি স্বল্পতার জেরে বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই অঞ্চলের ২০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ইতিমধ্যে অন্তত ৯টি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি অব্যাহত রাখা হয়েছে। এরপরও খুলনা ও বরিশাল বিভাগসহ পদ্মার এপারেন ২১টি জেলার মানুষকে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা তীব্র লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে।

অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে উৎপাদিত এবং বিদেশ থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের একটি বড় অংশ জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে সরাসরি ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হওয়া সত্ত্বেও চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের। স্থানীয় নাগরিক নেতাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল উৎপাদন সংকটের কারণে তৈরি হয়নি, বরং এটি বিদ্যুৎ বণ্টনের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আঞ্চলিক বৈষম্যের একটি স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।

ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) সূত্রে জানা গেছে, গ্যাস স্বল্পতার কারণে ৪১০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ভেড়ামারা নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট কয়েকদিন ধরে সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর পাশাপাশি ১১৫ মেগাওয়াটের খুলনা কেপিসিএল, ২২৫ মেগাওয়াটের নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট এবং ১০৫ মেগাওয়াটের রূপসা ওরিয়ন পাওয়ার প্ল্যান্টসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। শুধু কেন্দ্র বন্ধ হওয়াই নয়, জ্বালানি সংকটে চালু থাকা বেশিরভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্রও এখন তাদের প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে অনেক নিচে নেমে এসেছে।

ওজোপাডিকোর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের গত বুধবার (১৭ জুন)-এর প্রতিবেদনে দেখা যায়, ৩৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার খুলনা পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে মাত্র ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদন করেছে ৫১০ মেগাওয়াট। এছাড়া ১৫০ মেগাওয়াটের পায়রা ইউনাইটেড পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে এসেছে মাত্র ১৭ মেগাওয়াট, ১২০ মেগাওয়াটের বরিশাল সামিট পাওয়ার প্ল্যান্ট উৎপাদন করেছে ১৬ মেগাওয়াট এবং ১০৫ মেগাওয়াটের গোপালগঞ্জের মধুমতি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মিলেছে মাত্র ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই দিন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে সর্বমোট চার হাজার ৪১৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল। তবে ওজোপাডিকোর নিজস্ব গ্রাহকদের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র দুই হাজার ৩১৫ মেগাওয়াট। অবশিষ্ট দুই হাজার ১০৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। এই বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় নাগরিক সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো এই অঞ্চলে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এখানকার মানুষজন পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় লোড ডেসপাস সেন্টার (এলডিসি) বিদ্যুৎ বণ্টন নিয়ন্ত্রণ করায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে তুলনামূলকভাবে কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলেও নাগরিক নেতারা দাবি করেন।

ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, খুলনা ও বরিশাল জোনে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ মেগাওয়াট করে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। দুই জোনে মোট বিদ্যুতের চাহিদা ৬০০ থেকে ৭০০ মেগাওয়াট হলেও প্রতিদিন সরবরাহ ঘাটতি থাকছে ১৫০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট। ফলে শহর ও গ্রামাঞ্চলে দৈনিক আট থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকা এবং ভিআইপি ফিডারের বাইরে থাকা সাধারণ এলাকাগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা সবচেয়ে বেশি।

এদিকে, দীর্ঘস্থায়ী এই বিদ্যুৎ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কোল্ড স্টোরেজ, আইটি সেবা, হাসপাতাল এবং ভারী উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এতে করে উদ্যোক্তাদের উৎপাদন ব্যয় বহুলাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বর্তমানে তাদের স্বাভাবিক সক্ষমতার অর্ধেক বা তার চেয়েও কম উৎপাদনে পরিচালিত হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে ওজোপাডিকোর প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ওজোপাডিকো মূলত একটি বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান। এলডিসির মাধ্যমে পিডিবি থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া যায়, সেটিই গ্রাহকদের মাঝে বণ্টন করা হয়। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলে বাধ্য হয়েই কিছু এলাকায় লোডশেডিং করতে হয়। তবে বন্ধ থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আবার পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে ফিরলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়।

বিদ্যুৎ বণ্টনের এই বৈষম্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান। তিনি অভিযোগ করেন, খুলনা অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই উন্নয়ন ও সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। এখানে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হলেও তার সিংহভাগ অন্য অঞ্চলে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয় জনগণকে লোডশেডিংয়ের চরম ভোগান্তির মধ্যে ফেলে রাখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, দীর্ঘমেয়াদে এই বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ সুরক্ষা মঞ্চের সভাপতি অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশনের সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কটি যদি অল্প ব্যয়ে পুনরায় সচল করা যায়, তবে স্থানীয়ভাবে বিদ্যুতের একটি বড় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে সরকারি উদ্যোগে বড় প্রকল্প নেওয়া হলে জাতীয় গ্রিডের ওপর থেকে বাড়তি চাপ অনেকটাই কমে আসবে।

/আশিক


বের হওয়ার আগে দেখে নিন আজ কোথায় মার্কেট বন্ধ

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১০:১৭:০৯
বের হওয়ার আগে দেখে নিন আজ কোথায় মার্কেট বন্ধ
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিনই হাজারো মানুষ কেনাকাটা, ব্যক্তিগত কাজ কিংবা অবসর কাটাতে বিভিন্ন মার্কেট ও বাণিজ্যিক এলাকায় যান। তবে নির্দিষ্ট এলাকার সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা না থাকলে ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। তাই বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) বাসা থেকে বের হওয়ার আগে রাজধানীর কোন কোন এলাকার দোকানপাট ও শপিং সেন্টার বন্ধ থাকবে, তা জেনে নেওয়া জরুরি।

সাপ্তাহিক ছুটির অংশ হিসেবে আজ রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে মগবাজার, বেইলি রোড, সিদ্ধেশ্বরী, মালিবাগের একটি অংশ, শাজাহানপুর, মোহাম্মদপুর, আদাবর, শ্যামলী, গাবতলী, মিরপুর-১, মিরপুর স্টেডিয়াম এলাকা, জাতীয় চিড়িয়াখানা সংলগ্ন বাণিজ্যিক এলাকা, টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, আসাদগেট, ইস্কাটন, শান্তিনগর, শহীদবাগ, শান্তিবাগ, ফকিরাপুল, পল্টন, মতিঝিল, টিকাটুলি, আরামবাগ, কাকরাইল, বিজয়নগর, সেগুনবাগিচা, হাইকোর্ট ভবন এলাকা, রমনা শিশু পার্ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার বেশিরভাগ দোকানপাট।

এছাড়া রাজধানীর জনপ্রিয় ও ব্যস্ততম বেশ কয়েকটি মার্কেটও আজ বন্ধ থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে শাহ্ আলী সুপার মার্কেট, মিরপুর স্টেডিয়াম মার্কেট, মৌচাক মার্কেট, আনারকলি মার্কেট, আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স, কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি, কনকর্ড টুইন টাওয়ার, ইস্টার্ন প্লাস, সিটি হার্ট, মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট, কৃষি মার্কেট, আড়ং, বিআরটিসি মার্কেট, শ্যামলী হল মার্কেট, মিরপুর মুক্তিযোদ্ধা সুপার মার্কেট, মাজার কো-অপারেটিভ মার্কেট, মুক্ত বাংলা শপিং কমপ্লেক্স, জোনাকি সুপার মার্কেট, গাজী ভবন, পল্টন সুপার মার্কেট, স্টেডিয়াম মার্কেট-১ ও ২, গুলিস্তান কমপ্লেক্স, রমনা ভবন, খদ্দর মার্কেট, পীর ইয়ামেনি মার্কেট, বাইতুল মোকাররম মার্কেট, আজিজ কো-অপারেটিভ মার্কেট এবং সাকুরা মার্কেট।

-রাফসান


আজ ঢাকায় কোথায় কী? এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৮ ১০:১১:৩৬
আজ ঢাকায় কোথায় কী? এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) সরকারি, বেসরকারি ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের উদ্যোগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কৃষি, অবকাঠামো, বিনিয়োগ, জাতীয় বাজেট এবং গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আয়োজনকে ঘিরে দিনভর ব্যস্ত থাকবে রাজধানীর একাধিক এলাকা।

দিনের শুরুতেই ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রাঙ্গণে জাতীয় ফল মেলা-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৯টায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের। ফল উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দেশীয় ফলের বহুমুখী ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা তৈরিই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। একইসঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) অডিটোরিয়ামে একটি বিশেষ সেমিনারেরও আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে সকাল ১১টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একই সময়ে পূর্বাচল এলাকায় নির্মাণাধীন কায়েতপাড়া-নগরপাড়া সেতুর কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনে যাবেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং জনভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে এই পরিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর গুলশানে ফেডারেশন অব ইন্টারন্যাশনাল চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইন বাংলাদেশ (ফিক্কি) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নিয়ে পোস্ট-বাজেট সংবাদ সম্মেলন। এতে ফিক্কির সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী এবং পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা নতুন বাজেটের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করবেন এবং ব্যবসাবান্ধব নীতিমালা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরবেন।

দিনের শেষ ভাগে বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) মাল্টিপারপাস হলে ‘Bangladesh’s Investment Flows and Investment Facilitation’ শীর্ষক একটি বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। বিনিয়োগবিষয়ক রিপোর্টিংয়ের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

-রফিক


রোববার ১৮ ঘণ্টা পানি পাবে না যেসব এলাকা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৭ ১১:৪৬:১৭
রোববার ১৮ ঘণ্টা পানি পাবে না যেসব এলাকা
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা পানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় হিজড়া খালের কাপাসগোলা ব্রিজের নির্মাণকাজ পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসা তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনের অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসা জানিয়েছে, আগামী রোববার (২১ জুন) সকাল ৯টা থেকে টানা ১৮ ঘণ্টার জন্য কালুরঘাট বুস্টার পাম্প স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। ফলে নগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় স্বাভাবিক পানি সরবরাহ ব্যাহত হবে।

বুধবার (১৭ জুন) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, হিজড়া খালের ওপর নির্মাণাধীন কাপাসগোলা ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করতে ৪৫০ মিলিমিটার ব্যাসের এমএস (মাইল্ড স্টিল) পাইপলাইনের অবস্থান পরিবর্তন করা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এই প্রযুক্তিগত কাজের কারণেই সাময়িকভাবে পাম্প স্টেশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

ওয়াসার তথ্যমতে, সরকার বাস্তবায়নাধীন ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের অংশ হিসেবেই এই কাজ পরিচালিত হচ্ছে। নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

পাম্প স্টেশন বন্ধ থাকায় আরাকান রোড ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় পানি সরবরাহে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে। একই সঙ্গে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বহদ্দারহাট, বাদুরতলা এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলা রোডের বাসিন্দারাও সাময়িক দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে পারেন।

এ ছাড়া চকবাজার, চন্দনপুরা, বাকলিয়া, আন্দরকিল্লা এবং খাজা রোড এলাকার বাসিন্দাদেরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক ও সংলগ্ন এলাকা, কেবি আমান আলী রোড, রাহাত্তারপুল, মিয়া খান নগর রোড, কালামিয়া বাজার, করলক আবাসিক এলাকা, তুলাতলী ও রাজাখালী এলাকার গ্রাহকদেরও আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসা জানিয়েছে, এ ধরনের অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ ভবিষ্যতে নগরবাসীর জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল বয়ে আনবে। তবে সাময়িক অসুবিধার জন্য তারা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

ওয়াসা কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি আগে থেকেই সংরক্ষণ করে রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে নগর এলাকায় পানি সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তাই এমন পরিস্থিতিতে নাগরিকদের আগাম প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

পানি ব্যবহারে অপচয় কমানো, সংরক্ষিত পানি পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা এবং জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প উৎসের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শও দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম ওয়াসা জানিয়েছে, কাজ শেষ হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক পানি সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে। তবে কাজের অগ্রগতি ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তনও আসতে পারে।

-রফিক


নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ২০:২৯:৪৬
নানিয়ারচর জোনের উদ্যোগে জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

রাঙ্গামাটি জেলায় নানিয়ারচর জোনে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অর্গানিক কম্পোস্ট সার প্রস্তুতকরণ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

১৬ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার ১০.৩০ মি‌নি‌টে উক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে নানিয়ারচর জোনের জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান, পিএসসি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, জোনের উপ-অধিনায়ক, এ্যাডজুটেন্ট, কৃষি কর্মকর্তা, বন বিভাগ কর্মকর্তা, স্থানীয় চেয়ারম্যানবৃন্দ, নানিয়ারচর থানা প্রতিনিধি, নানিয়ারচর বাজার কমিটির সভাপতি, সাংবাদিকবৃন্দ, গ্রাম পুলিশ ও আনসার ভিডিপি সদস্যবৃন্দ এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপনের গুরুত্ব, প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা, জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা এবং পরিবেশবান্ধব কর্মকান্ডে সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের অংশগহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রধান অতিথি পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

এছাড়াও, সভায় গৃহস্থালি ও কৃষিজ বর্জ্য ব্যবহার করে অর্গানিক কম্পোস্ট সার তৈরির পদ্ধতি, এর পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক উপকারিতা এবং কৃষিক্ষেত্রে জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীদেরকে জৈব সার উৎপাদণের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ হ্রাস, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

সভায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ পরিবেশ সংরক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জৈব সার উৎপাদনের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে মতামত প্রদান করেন। একইসঙ্গে নানিয়ারচর উপজেলাকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

নানিয়ারচর জোন ভবিষ্যতেও পরিবেশ সংরক্ষণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, টেকসই কৃষি উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।


মৌলভীবাজারবাসীর প্রাণের ১০ দফা দাবি: প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিকে তাকিয়ে ২৫ লক্ষ মানুষ

শ‌হিদুল ইসলাম
শ‌হিদুল ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার
সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ২০:২১:০১
মৌলভীবাজারবাসীর প্রাণের ১০ দফা দাবি: প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিকে তাকিয়ে ২৫ লক্ষ মানুষ
ছবি : শ‌হিদুল ইসলাম

মৌলভীবাজার জেলার ২৫ লক্ষ মানুষের প্রাণীর দাবি,মৌলভীবাজারে মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়,ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু এবং মনুনদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন, জেলার হাওরগুলো সংরক্ষণ ও সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যানজট নিরসনে শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার, কুলাউড়া বাইপাস সড়ক নির্মাণ, ঢাকা-সিলেট রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপন এবং রেলসেবার মান উন্নয়ন করা সহ ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের চুড়ান্ত অনুমোদনের দাবীতে বিআইএস মৌলভীবাজার এর উদ্যোগে গত ১৪ জুন সোমবার দুপুর ১টার দিকে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের কনফারেন্স হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

এসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শেখ বোরহান উদ্দিন (রহ.) ইসলামী সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এম মুহিবুর রহমান মুহিব সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্ত‌রদেন। মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অব ওয়ালর্ড ওয়াইড এর উপদেষ্টা বৃটেনের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী নুরুল ইসলাম মাহবুব। উপস্থিত ছিলেন বিআইএস এর আজীবন সদস্য দেলওয়ার হোসেন, কার্যকরী পরিষদের রেদয়ান আহমদ ছামী সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এদিকে মৌলভীবাজারে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চাই ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ক্যাম্পেইন গ্রুপের এডমিন ও গ্রুপ ক্রিয়েটার এবং মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অব ওয়ার্ল্ড ওয়াইড এর ফাউন্ডার্স প্রেসিডেন্ট কমিউনিটি লিডার ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর ব'লেন ১৭ জুন মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে আমরা শুধু একটি রাজনৈতিক সফর হিসেবে নয়, বরং আমাদের জেলার ভবিষ্যৎ উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছি।

মৌলভীবাজার সম্ভাবনাময় একটি জেলা। পর্যটন, কৃষি, চা-শিল্প এবং প্রবাসীদের অবদানে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কিছু ন্যায্য প্রত্যাশা রয়েছে। বিশেষ করে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা আজ সময়ের অপরিহার্য দাবি। এটি শুধু চিকিৎসা শিক্ষার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে না, বরং সমগ্র অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে মৌলভীবাজার জেলার শিক্ষার আলোকে আর ও বেগবান প্রসারিত করতে মৌলভীবাজার জেলায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং পর্যটন জেলার যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নয়নের মানসে শমশেরনগর বিমানবন্দর চালু ও মনুনদী খনন সহ ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের চুড়ান্ত অনুমোদন দেখতে চায় জেলাবাসী যাহা মৌলভীবাজার জেলার ২৫ লক্ষ মানুষের প্রাণীর দাবি।

উল্লেখ্য যে, মৌলভীবাজার সদরে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু, মৌলভীবাজার জেলা সড়ককে চার লেইনে উত্তীর্ণ, মৌলভীবাজারে বাই পাস সড়ক সহ মনুনদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন, মনুনদীতে আরেকটি ব্রিজ নির্মাণ, শ্রীমঙ্গল থেকে মৌলভীবাজার হয়ে শেরপুর ইপিজেড জোন অবধি রেললাইন করা,মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের বর্তমান সমস্যা দূরিকরণ, চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি ও মৌলভীবাজার জেলা থেকে নিরক্ষতা দূরীকরণ, দারিদ্র মুক্ত করা এই অঞ্চলের হাওর রক্ষায় এবং পরিবেশ বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিঘাত থেকে মৌলভীবাজার জেলাকে সুরক্ষা সহ দশ দফা দাবি দাওয়া বাস্তবায়নে বিগত একযুগ ধরে ক্যাম্পেইন গ্রুপ হিসাবে মৌলভীবাজারে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চাই ওয়ালর্ড ওয়াইড ক্যাম্পেইন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও মৌলভীবাজার জেলা সম্মিলিত সামাজিক উন্নয়ন পরিষদের মাধ্যমে সমগ্র বিশ্বময় জেলাবাসী ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে দেশে বিদেশে সভা সমাবেশ গোলটেবিল বৈঠক, মানববন্ধন, গণ সাক্ষর অভিযান ও প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান সহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এছাড়াও ইউনিটি অব মৌলভীবাজার, বি আই এস মৌলভীবাজার, মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অব মৌলভীবাজার ওয়ার্ল্ড ওয়াইড সহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান এর পক্ষ থেকে মৌলভীবাজার জেলাবাসী বিশ্বময় ক্যাম্পেইন চালিয়ে আসছেন। মৌলভীবাজার সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে ২০১৭ সাল থেকে আন্দোলন করে আসছে বিশ্বময় মৌলভীবাজার জেলাবাসী। সেই দাবি এখন গণদাবীতে পরিণত হয়েছে।

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে দেশে-প্রবাসে গোলটেবিল বৈঠক, সেমিনার, আলোচনা সভা, স্মারকলিপি প্রদান, জেলাব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচি, মানববন্ধনসহ আমাদের কর্মসূচি চলমান। নানা স্থানে লিখিত ও মৌখিক ধর্না দিচ্ছি আমরা। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। এই সব কর্মসূচীতে সকলেই মৌলভীবাজারে একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার যৌক্তিক দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করেন।​মৌলভীবাজার একটি অগ্রসরমান ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ এলাকা। সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এই জেলার বনজ ও খনিজ সম্পদ শিল্প, পর্যটন শিল্প, চা শিল্প ও আগর শিল্প ইত্যাদি।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতিকে করেছে সমৃদ্ধ। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে এই জেলার আরো উন্নয়ন সময়ের দাবি। পর্যটনের জন্য সমৃদ্ধ এই জেলা। এই জেলার অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আছে যারা প্রাইভেট মেডিকেলে টাকার অভাবে পড়তে পারে না। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় না থাকায় প্রতি বছর উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেও উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী। যার ফলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার বাড়ছে। ৭টি উপজেলার প্রায় ২৫ লক্ষ মানুষের জন্য নাই কোনো মেডিকেল কলেজ। অনেক মুমূর্ষ রোগীকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয় না। যে কারণে অনেক মুমূর্ষ রোগী সিলেট অথবা ঢাকা নেওয়ার পথেই মৃত্যুমুখে পতিত হন। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় মৌলভীবাজারে দ্রুত মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া অনতিবিলম্বে শুরু করার জন্য আমরা সবিনয় নিবেদন করছি।

বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও অর্থনীতিতে হাওরাঞ্চলের অবদান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বর্ষায় হাওরের দৃষ্টিনন্দন বিশাল জলরাশি দেশের প্রাকৃতিক মৎস্যের সবচেয়ে বড় উৎসস্থল। শুকনো মৌসুমে এসব হাওর হয়ে ওঠে বাংলাদেশের শস্যভাণ্ডার। দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ুর নিয়ন্ত্রণ তথা বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি রোধে নিরন্তর ভূমিকা রাখছে হাওরাঞ্চল। হাওর-নদী-চা বাগান-ঝরনা-পাহাড়ি টিলা-খাল-বিলের অপূর্ব সমন্বয়ে সৃষ্ট আমাদের মৌলভীবাজার। জেলার ভূপ্রকৃতির ফুসফুসের ভূমিকা পালন করছে: উজানের চা-বাগান বেষ্টিত পাহাড়-জঙ্গল। আর কিডনির ভূমিকা পালন করছে: ভাটি অঞ্চলের ছোট-বড় হাওর, এই হাওরগুলো রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের অগ্রগতির জন্য সিলেট বিভাগের পর্যটন শিল্পের বিকাশ, বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে এবং আন্তর্জাতিক চা নিলাম কেন্দ্রে আগতদের যাতাযাতের সুবিধার্থে প্রবাসী জনগোষ্ঠী অধ‍্যুষিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক শমশেরনগর বিমান বন্দরটি আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সরাসরি ফ্লাইট চালুর জোর দাবি জানাচ্ছি।যোগাযোগ ব্যবস্থা আমাদের যে বেহাল দশা তা থেকে মুক্ত করতে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ বিশেষ করে আঞ্চলিক সড়ক ও রেলপথের উন্নয়ন করতে হবে ঢাকা সিলেট রেলপথের ডাবল লাইন এবং জেলা সদর,কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গলের যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক জরুরী মানুষের চরম ভোগান্তি লাঘবের জন্য।

উন্নত সমৃদ্ধশালী জাতিগঠনে উচ্চ শিক্ষার বিকল্প নাই। দেশের মানুষ অবগত আছেন আপনার সরকার শিক্ষাখাতে বরাদ্ধ বৃদ্ধিসহ শিক্ষার উন্নয়নে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবী রাখে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব পাওয়ার প্রথম মেয়াদেই স্বল্পতম সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের কর্ম প্রচেষ্টা শুরু করেছেন। এ উদ্যোগ গ্রহণ করার কারণে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষার সুযোগ সহজলভ্য করা হয়েছে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আমরা চাই সরকারের এ প্রশংসনীয় উদ্যোগের বাস্তবায়ন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মৌলভীবাজার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাত সমৃদ্ধ হোক। আমাদের মৌলভীবাজার এর রয়েছে গর্ব করার মত বিভিন্ন গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ইতিহাসের সেই গৌরবকে ধরে রাখতে হলে তরুণ প্রজন্মকে যোগ্য ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। তরুণরাই সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। প্রধানমন্ত্রীর কাছে জেলাবাসীর দাবি ও প্রত্যাশা মৌলভীবাজারবাসীর প্রাণের দাবি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা সহ ১০ দফা দাবি উপস্থাপন করার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী বিমানে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর যাবেন। সেখান থেকে সড়ক পথে মৌলভীবাজার যাবেন।


আজ কোথায় কেনাকাটা করা যাবে না? দেখুন তালিকা

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৬ ০৮:২৯:২২
আজ কোথায় কেনাকাটা করা যাবে না? দেখুন তালিকা
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিনই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত নানা প্রয়োজনে হাজারো মানুষ বিভিন্ন মার্কেট, শপিং মল ও বাণিজ্যিক এলাকায় যাতায়াত করেন। তবে সাপ্তাহিক বন্ধের দিন সম্পর্কে আগে থেকে ধারণা না থাকলে অনেক সময় দীর্ঘ যানজট পেরিয়ে গিয়েও বন্ধ দোকানপাট ও শপিং সেন্টারের সামনে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাই অপ্রয়োজনীয় সময় ও ভোগান্তি এড়াতে বের হওয়ার আগে আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) কোন কোন এলাকার দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ থাকবে, তা জেনে নেওয়া জরুরি।

মঙ্গলবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অঞ্চল এবং জনপ্রিয় কেনাকাটার কেন্দ্র নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বন্ধ থাকবে। বিশেষ করে ধানমন্ডি, ফার্মগেট, নিউ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুল এলাকায় কেনাকাটার পরিকল্পনা থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আজ যেসব এলাকায় দোকানপাট বন্ধ থাকবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, রাজাবাজার, মণিপুরিপাড়া, তেজকুনীপাড়া, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, নীলক্ষেত, কাঁটাবন, এলিফ্যান্ট রোড, শুক্রাবাদ, সোবহানবাগ, ধানমন্ডি, হাজারীবাগ, জিগাতলা, রায়েরবাজার, পিলখানা ও লালমাটিয়া এলাকা। এসব অঞ্চলে অধিকাংশ দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

এদিকে রাজধানীর কয়েকটি অত্যন্ত জনপ্রিয় শপিং মল ও মার্কেটেও আজ সাপ্তাহিক ছুটি পালন করা হচ্ছে। ফলে সেখানে কেনাকাটার সুযোগ থাকবে না। বন্ধ থাকা মার্কেটগুলোর মধ্যে রয়েছে বসুন্ধরা সিটি, ইস্টার্ন প্লাজা, মোতালেব প্লাজা, সেজান পয়েন্ট, নিউ মার্কেট, চাঁদনী চক, চন্দ্রিমা মার্কেট, গাউসিয়া, ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট, বদরুদ্দোজা মার্কেট, প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টার, গাউসল আজম মার্কেট, রাইফেলস স্কয়ার, অরচার্ড পয়েন্ট, ক্যাপিটাল মার্কেট, ধানমন্ডি প্লাজা, মেট্রো শপিং মল, প্রিন্স প্লাজা, রাপা প্লাজা, কারওয়ান বাজার ডিআইটি মার্কেট এবং অর্কিড প্লাজা।

রাজধানীর এই শপিং কেন্দ্রগুলো প্রতিদিন হাজার হাজার ক্রেতার সমাগমে মুখর থাকে। বিশেষ করে নিউ মার্কেট, গাউসিয়া, বসুন্ধরা সিটি ও ধানমন্ডি এলাকার মার্কেটগুলো পোশাক, ইলেকট্রনিকস পণ্য, বই, গৃহস্থালি সামগ্রী ও বিভিন্ন ফ্যাশন সামগ্রীর জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়। তাই এসব এলাকায় যাওয়ার আগে সাপ্তাহিক বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

-রাফসান


টেকনাফে বোটসহ ৭ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি!

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৫ ২১:৫৬:০৫
টেকনাফে বোটসহ ৭ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি!
ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীর মোহনা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর থেকে দুটি মাছ ধরার ইঞ্জিনচালিত নৌকাসহ সাতজন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। সোমবার (১৫ জুন) সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন সমুদ্রসীমার কাছাকাছি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিকেলে গণমাধ্যমকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী।

ইউএনও জানান, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মাধ্যমে জেলেরা অপহৃত বা আটক হওয়ার খবরটি পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রশাসন নিশ্চিত হয়েছে যে, বাংলাদেশের জলসীমার একদম প্রান্তিক এলাকা থেকে সাতজন জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাছ ধরার সময় জেলেরা অসচেতনতাবশত বা ভুলক্রমে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করায় আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের স্পিডবোট নিয়ে এসে আটক করে। অপহৃত এই জেলেদের দ্রুত ও নিরাপদে স্বদেশে ফিরিয়ে আনতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড এবং স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসন সমন্বিত কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় কাজ শুরু করেছে।

শাহপরীর দ্বীপ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল মান্নান ঘটনার ভৌগোলিক বিবরণ দিয়ে জানান, টেকনাফ ২-বিজিবির ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ শাহপরীর দ্বীপ বিওপির (সীমান্ত ফাঁড়ি) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মিয়ানমারের ‘নাইক্ষ্যংদিয়া’ নামক এলাকার কাছাকাছি স্থান থেকে ওই জেলেদের বোটসহ ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্থানীয় জেলে ও মাঝিমাল্লাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শাহপরীর দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব পাড়া ঘাট থেকে দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার বা বোট নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন ওই জেলেরা। দিনভর মাছ ধরা শেষে উপকূলে ফেরার পথে সাগরের তীব্র স্রোতের কারণে তারা অনিচ্ছাকৃতভাবে মিয়ানমারের জলসীমার ভেতরে কিছুটা ঢুকে পড়েন। ঠিক তখনই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যরা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসে তাদের ঘিরে ফেলে এবং বোটসহ ধরে নিয়ে যায়।

আরাকান আর্মির হাতে আটক হওয়া টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ এলাকার বাসিন্দা ওই সাত জেলে হলেন— ফয়সাল (২৬), জলিল (১৬), আজম (১২), হেলাল (১১), লালয়া (১৯), সৈয়দ আলম (২১) ও ফয়সাল (২২)। আটক হওয়া দুটি মাছ ধরার বোটের প্রকৃত মালিক শাহপরীর দ্বীপের কোনাপাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাজ্জাক (৪০)।

সীমান্তবর্তী এই উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মাছ ধরতে গিয়ে বাংলাদেশি জেলেরা প্রায় সময়ই মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বা সে দেশের বিভিন্ন বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীর অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানি, মারধর ও অপহরণের শিকার হন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চরম দুশ্চিন্তায় থাকা ভুক্তভোগী পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের দ্রুত ও অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

/আশিক


আর্থিক অনটন ও পারিবারিক অশান্তিতে অবচেতন মনে রামিসা খুন

সারাদেশ ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ১৪ ২০:২৪:৪২
আর্থিক অনটন ও পারিবারিক অশান্তিতে অবচেতন মনে রামিসা খুন
ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করে বিচারালয়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দায়ের করা এক বিশেষ জেল আপিলে নিজের দোষ স্বীকার করে এই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দাবি করেন, সে সময় তীব্র আর্থিক অনটন, চরম পারিবারিক অশান্তি এবং অতিরিক্ত মাদকাসক্তির কারণেই সম্পূর্ণ অবচেতন মনে এই ভয়াবহ অপরাধটি সংঘটিত হয়ে গেছে। নিজের একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের চরম বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরে তিনি আদালতের কাছে প্রাণভিক্ষার আর্জি জানিয়েছেন।

রোববার (১৪ জুন) হাইকোর্ট বেঞ্চে অনুষ্ঠিত জেল আপিল শুনানিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা নিজের সপক্ষে যুক্তি ও সাফাই গেয়ে বলেন, তিনি অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত অসচ্ছল এবং দরিদ্র। পেশাগত জীবনে একটি অটোরিকশা গ্যারেজের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি তিনি নিয়মিত ইয়াবাসহ অন্যান্য মরণঘাতী মাদকে তীব্রভাবে আসক্ত ছিলেন। এই মাদকাসক্তির কারণে তাঁর নিজের পরিবারে প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়া-বিবাদ ও কলহ লেগেই থাকত। তবে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পূর্বে তিনি আর অন্য কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কখনো জড়িত ছিলেন না বলে দাবি করেন।

আসামি তাঁর জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করেন, শিশু ভিকটিমের সঙ্গে যে পাশবিক ও নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে, তা সম্পূর্ণভাবে তীব্র নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ঘটেছে। তাঁর ভাষ্যমতে, চরম আর্থিক অভাব, অনবরত পারিবারিক অশান্তি এবং অতিরিক্ত নেশা করার কারণেই ঘটনাটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ও অবচেতনভাবে হয়ে গেছে; ঠিক কীভাবে যে এই ঘটনাটি ঘটে গেল তা তিনি নিজেও বুঝতে পারেননি। বর্তমানে তাঁর একমাত্র ছেলের পড়াশোনা ও পরিবারের সামগ্রিক ভরণ-পোষণ করার মতো দ্বিতীয় আর কোনো অভিভাবক নেই উল্লেখ করে তিনি আদালতের কাছে ক্ষমা ভিক্ষা করেন।

অন্যদিকে, এই জঘন্য মামলার অপর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এবং প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে জেল আপিলে খালাস চেয়ে আবেদন করেছেন। এর আগে গত ১১ জুন কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে নিজেদের ফাঁসির দণ্ড মওকুফের আবেদন জানিয়ে জেল আপিল করেন এই দুই সাজাপ্রাপ্ত আসামি। রোববার হাইকোর্ট আসামিদের করা এই জেল আপিলটি পরবর্তী আইনি শুনানির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন।

/আশিক

পাঠকের মতামত: