শেয়ারপ্রতি আয় শূন্যের কোটায়, কোথায় যাচ্ছে বিডি ফাইন্যান্স?

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুলাই ২০ ১২:২০:৪৪
শেয়ারপ্রতি আয় শূন্যের কোটায়, কোথায় যাচ্ছে বিডি ফাইন্যান্স?
শেয়ারবাজার প্রতীকী ছবি

চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও আয় কমেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স বা বিডি ফাইন্যান্সের। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, এপ্রিল থেকে জুন—এই তিন মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭ পয়সা, যেখানে গত বছর একই সময়ে ছিল ১৩ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ইপিএসে কমেছে প্রায় ৪৬ শতাংশ।

প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিক মিলিয়ে ছয় মাসে (জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৫) বিডি ফাইন্যান্সের ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১২ পয়সা, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক কম। ২০২৪ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে এই আয় ছিল ৩৩ পয়সা।

২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২৯ টাকা ৯২ পয়সা। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট অপারেটিং নগদ প্রবাহ ছিল ঋণাত্মক ১৬ পয়সা।

কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিট সুদ আয় এবং বিনিয়োগ থেকে আসা আয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়াই ইপিএস হ্রাসের মূল কারণ।

এর আগে, ২০২৪ সালজুড়ে বিডি ফাইন্যান্স রেকর্ড পরিমাণ লোকসানের মুখে পড়ে। বছর শেষে প্রতিষ্ঠানটির মোট লোকসান দাঁড়ায় ৭৮৩ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে সাত গুণ বেশি। ফলে ২০২৪ সালের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি কোম্পানিটি।

২০২৩ সালে বিডি ফাইন্যান্সের বার্ষিক লোকসান ছিল ১০৪ কোটি টাকা। অথচ ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে লোকসান ছিল মাত্র ২০ কোটি টাকা। তবে শেষ তিন মাসেই লোকসান বেড়ে দাঁড়ায় ৭৮৩ কোটিতে। বছরের শেষে শেয়ারপ্রতি লোকসান (ইপিএস) দাঁড়ায় ৪১ টাকা ৬১ পয়সা, যেখানে আগের বছর তা ছিল ৫ টাকা ৬০ পয়সা।

বিডি ফাইন্যান্স ১৯৯৯ সালে যাত্রা শুরু করলেও এত বড় লোকসানের রেকর্ড এর আগে কখনো হয়নি।

/আশিক


২১ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১৫:১৩:৫৬
২১ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার Dhaka Stock Exchange PLC-এ লেনদেন শেষে শক্তিশালী ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে, যেখানে অধিকাংশ শেয়ারের দাম বেড়ে বাজারে আস্থা ফিরে আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। দিনজুড়ে লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট ৩৮৯টি কোম্পানি ও সিকিউরিটিজের মধ্যে ২১৫টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ১০৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৬৬টি—যা স্পষ্টভাবে বাজারে ক্রয়চাপের আধিপত্য নির্দেশ করে।

ক্যাটাগরি ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘এ’ ক্যাটাগরির ২০২টি শেয়ারের মধ্যে ১২৫টির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আস্থার প্রতিফলন। একইভাবে ‘বি’ ক্যাটাগরিতেও ইতিবাচক ধারা বজায় ছিল, যেখানে ৮০টির মধ্যে ৫২টি শেয়ার বেড়েছে। তবে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে, যেখানে ৩৮টি শেয়ার বেড়েছে, ৪০টি কমেছে এবং ২৯টি অপরিবর্তিত রয়েছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে তুলনামূলক দুর্বলতা লক্ষ্য করা গেছে। ৩৩টি ফান্ডের মধ্যে মাত্র ৭টির দাম বেড়েছে, বিপরীতে ১১টি কমেছে। অন্যদিকে কর্পোরেট বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজ খাতে সীমিত লেনদেন হলেও সামান্য ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

দিনশেষে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩১ কোটি ৪৪ লাখ শেয়ার, যার বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯২৯ কোটি টাকারও বেশি। লেনদেনের সংখ্যা ২ লাখ ৪৬ হাজার ছাড়িয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় বাজারে অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয়তা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

বাজার মূলধন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৮৩ লাখ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ইক্যুইটি সেগমেন্টের অবদানই সবচেয়ে বেশি, যা বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে, যেখানে মোট ৪১টি কোম্পানির শেয়ারে বড় আকারের লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এই খাতে প্রায় ৩০০ কোটির বেশি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। বিশেষ করে এপেক্স স্পিনিং (এপেক্স স্পিনিং), এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ (এশিয়াটিক ল্যাব) এবং সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স (সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স)-এর মতো কোম্পানিগুলো ব্লক ট্রেডে বড় অংশ দখল করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ইতিবাচক প্রবণতার পেছনে কাজ করছে বিনিয়োগকারীদের পুনঃআস্থা, নির্বাচিত শেয়ারে ক্রয়চাপ বৃদ্ধি এবং স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং কার্যক্রমের প্রসার। একইসঙ্গে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রত্যাশাও বাজারকে সহায়তা করছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বাজারে এমন দ্রুত উত্থানের সময় বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি। শুধুমাত্র দৈনিক প্রবণতা দেখে বিনিয়োগ না করে কোম্পানির মৌলিক শক্তি, আয়ের ধারা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত কৌশল।

-রাফসান


২১ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১৫:০৮:৪০
২১ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে শেয়ারবাজারে লেনদেন শেষে শীর্ষ লুজার তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই আর্থিক খাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, যা বাজারের দুর্বল সেন্টিমেন্ট এবং বিনিয়োগকারীদের বিক্রয়চাপের স্পষ্ট প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। দিনজুড়ে লেনদেন বিশ্লেষণে বোঝা যায়, নির্বাচিত কিছু শেয়ারে ধারাবাহিক বিক্রির কারণে মূল্যহ্রাস ত্বরান্বিত হয়েছে।

দিনের সর্বোচ্চ পতনের শীর্ষে রয়েছে আইএলএফএসএল (ILFSL) এবং প্রিমিয়ার লিজিং (PREMIERLEA), যাদের শেয়ারদর সমানভাবে প্রায় ৭.৬৯ শতাংশ কমে ২.৪ টাকায় নেমে এসেছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক খাতের দুর্বল মৌলভিত্তি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা এসব শেয়ারে চাপ সৃষ্টি করছে।

এরপরেই রয়েছে ফাস ফাইন্যান্স (FASFIN), যার শেয়ারদর ৭ শতাংশের বেশি কমেছে। একইভাবে পিএলএফএসএল (PLFSL) প্রায় ৬.৯ শতাংশ পতন দেখিয়েছে, যা নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও নেতিবাচক ধারা লক্ষ্য করা গেছে। আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড (IFIC1STMF) প্রায় ৫.১৩ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি জিএসপি ফাইন্যান্স (GSPFINANCE) এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স (FAREASTFIN) যথাক্রমে ৪.৫৪ ও ৩.৮৪ শতাংশ হারে মূল্যহ্রাস পেয়েছে।

খাদ্য ও ভোক্তা খাতের কোম্পানি মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক (MEGCONMILK) প্রায় ৩.৭ শতাংশ কমে তালিকায় স্থান পেয়েছে। অন্যদিকে উৎপাদন ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের অ্যাকমে পিএলসি (ACMEPL) এবং বহুমুখী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান শুরউইড ইন্ডাস্ট্রিজ (SHURWID)-এর শেয়ারও যথাক্রমে ৩.৩০ এবং ৩.১৭ শতাংশ কমেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, লুজার তালিকায় আর্থিক খাতের আধিপত্য মূলত বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট, তারল্য সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার ফল। একইসঙ্গে স্বল্পমেয়াদি ট্রেডারদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাও এই পতনকে ত্বরান্বিত করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র দৈনিক লুজার তালিকার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বরং কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা, ঋণ পরিস্থিতি, ব্যবস্থাপনা কাঠামো এবং সামগ্রিক বাজার প্রবণতা বিবেচনা করে বিনিয়োগ কৌশল নির্ধারণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

-রাফসান


২১ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২১ ১৫:০১:০৪
২১ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

২১ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দেশের শেয়ারবাজারে লেনদেন শেষে নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির শেয়ারে শক্তিশালী উত্থান লক্ষ্য করা গেছে, যা সামগ্রিক বাজারের মিশ্র প্রবণতার মধ্যেও বিনিয়োগকারীদের নজর কাড়ছে। দিনজুড়ে লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, শীর্ষ ১০টি গেইনার কোম্পানির প্রায় সবাই উল্লেখযোগ্য হারে মূল্যবৃদ্ধি অর্জন করেছে, যা স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ প্রবণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে।

দিনের শীর্ষে উঠে এসেছে বিডি ল্যাম্পস (BDLAMPS), যার শেয়ারদর প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে ১৮২.৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এই শেয়ারে হঠাৎ করে ক্রয়চাপ বেড়ে যাওয়ায় এমন উত্থান হয়েছে। একইভাবে নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল (NAHEEACP) প্রায় ৯.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ধারাবাহিকভাবে গেইনার তালিকায় শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে, যা বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আস্থার প্রতিফলন।

প্রযুক্তি খাতেও ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। অ্যাগনি সিস্টেমস (AGNISYSL) প্রায় ৯.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে। পাশাপাশি সামাতা লেদার (SAMATALETH) এবং এপেক্স স্পিনিং (APEXSPINN) যথাক্রমে ৯.১১ ও ৮.৭২ শতাংশ হারে বেড়েছে, যা উৎপাদন ও টেক্সটাইল খাতে চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

বীমা খাতে একাধিক কোম্পানি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিয়েছে। প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স (PRAGATILIF), পিপলস ইন্স্যুরেন্স (PEOPLESINS) এবং ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স (PHENIXINS) বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই খাতে সাম্প্রতিক পুনর্মূল্যায়ন এবং ট্রেডিং কার্যক্রম বৃদ্ধি পাওয়ায় শেয়ারদরে এমন উত্থান হয়েছে।

খাদ্য খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এপেক্স ফুডস (APEXFOODS) প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। অন্যদিকে তুলনামূলক ছোট মূলধনী শেয়ার ফেকডিল (FEKDIL) প্রায় ৬.৮ শতাংশ বেড়ে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের শেয়ারভিত্তিক উত্থান সাধারণত স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং, গুজবভিত্তিক বিনিয়োগ এবং নির্দিষ্ট খাতে পুঁজির প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে ঘটে থাকে। তবে শুধুমাত্র গেইনার তালিকা দেখে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কোম্পানির মৌলিক অবস্থা, আয় প্রবৃদ্ধি এবং বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বিনিয়োগ করা উচিত।

-রাফসান


২০ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৪:৫৯:৩০
২০ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকার শেয়ারবাজারে দিনের লেনদেন শেষে আবারও নেতিবাচক প্রবণতা প্রাধান্য পেয়েছে। সার্বিক বাজার চিত্রে দেখা গেছে, অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও বিক্রির চাপের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দিনের সারাংশ অনুযায়ী, মোট ৩৮৯টি কোম্পানির মধ্যে ১২০টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে ২০৭টি কোম্পানি দরপতনের তালিকায় রয়েছে এবং ৬২টি অপরিবর্তিত অবস্থানে ছিল। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে বাজারে ক্রয়ের তুলনায় বিক্রির চাপ বেশি সক্রিয় ছিল।

ক্যাটাগরি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘এ’ ক্যাটাগরির ২০২টি শেয়ারের মধ্যে ১১৮টি দরপতনের মুখে পড়েছে, যেখানে মাত্র ৫৫টি শেয়ার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ৪৫টি শেয়ার বেড়েছে এবং ২৮টি কমেছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে আবারও দুর্বলতা প্রকট, ১০৭টির মধ্যে ৬১টি শেয়ার কমেছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও চাপ অব্যাহত রয়েছে। মোট ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ১০টির দর কমেছে, ৫টি বেড়েছে এবং ১৯টি অপরিবর্তিত রয়েছে। করপোরেট বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজেও খুব সীমিত লেনদেন হয়েছে, যেখানে উল্লেখযোগ্য কোনো ইতিবাচক গতি দেখা যায়নি।

লেনদেনের দিক থেকে বাজারে কার্যক্রম ছিল সক্রিয়। মোট ২ লাখ ২৩ হাজারের বেশি ট্রেড সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রায় ২৯৬ কোটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে। টাকার অঙ্কে মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮২৪৭ কোটি টাকা, যা বাজারে তারল্য থাকলেও দিকনির্দেশনার অভাবের ইঙ্গিত দেয়।

বাজার মূলধন সামান্য কমে মোট প্রায় ৬৮১৬২২৪৫ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এর মধ্যে ইক্যুইটি, মিউচুয়াল ফান্ড ও ডেট সিকিউরিটিজ মিলিয়ে এই পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা নির্দেশ করে।

ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে, যেখানে ৪০টি কোম্পানির প্রায় ২৮ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়েছে এবং মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১৭ কোটি টাকার বেশি। বিশেষ করে ‘এপেক্স স্পিনিং’, ‘লাভেলো’, ‘সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স’ এবং ‘ড্যাফোডিল কম্পিউটার’ শেয়ারে বড় অঙ্কের ব্লক ট্রেড লক্ষ্য করা গেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ধারাবাহিক দরপতন অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা উত্তোলন, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং সামগ্রিক বাজার আস্থার ঘাটতির কারণে হয়ে থাকে। একইসঙ্গে কিছু খাতে অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির পর স্বাভাবিক কারেকশনও এই পতনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

-রাফসান


২০ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৪:৫৬:৩৪
২০ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকার শেয়ারবাজারে লেনদেন চলাকালে বেশ কয়েকটি শেয়ার উল্লেখযোগ্য দরপতনের মুখে পড়েছে, যা বিশেষ করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতে বিক্রির চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। দিনের মধ্যবর্তী সময়ে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, টপ লুজার তালিকায় মূলত নন-ব্যাংকিং ফাইন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান ও ফান্ডভিত্তিক শেয়ারগুলোর আধিপত্য লক্ষ্য করা গেছে।

দরপতনের শীর্ষে রয়েছে ‘এইচএফএল’, যার শেয়ারদর আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৭.৭৩ শতাংশ কমে ১৫.৫ টাকায় নেমে এসেছে। একইসঙ্গে আর্থিক খাতের দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে ‘ফারইস্ট ফাইন্যান্স’, ‘আইএলএফএসএল’ এবং ‘প্রিমিয়ার লিজিং’—এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারই প্রায় ৭.১৪ শতাংশ করে কমে গেছে। এসব কোম্পানির শেয়ারে একযোগে পতন বাজারে এই খাতের প্রতি আস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এর পরেই রয়েছে ‘পিএলএফএসএল’, যা ৬.৪৫ শতাংশ কমে ২.৯ টাকায় নেমেছে। ‘প্রাইম ফাইন্যান্স’ ৫ শতাংশ দর হারিয়ে ৩.৮ টাকায় লেনদেন করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রির প্রবণতা বাড়ার আরেকটি উদাহরণ।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও নেতিবাচক চাপ স্পষ্ট। ‘এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড’ প্রায় ৪.৮৭ শতাংশ কমে ৩.৯ টাকায় নেমেছে এবং ‘ক্যাপিএমবিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড’ ৩.৭৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগেও বিনিয়োগকারীরা এখন কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

অন্যদিকে ‘বিআইএফসি’ ও ‘ফাস ফাইন্যান্স’ যথাক্রমে ৩.৬৩ শতাংশ এবং ৩.৪৪ শতাংশ দর হারিয়ে তালিকার শেষদিকে অবস্থান করছে। আর্থিক খাতের এই ধারাবাহিক পতন বাজারে একটি সেক্টরাল চাপ তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দরপতন অনেক ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সংশোধন প্রক্রিয়ার অংশ, বিশেষ করে যখন কোনো খাত বা নির্দিষ্ট শেয়ার পূর্ববর্তী সময়ে দ্রুত বেড়ে যায়। পাশাপাশি, বিনিয়োগকারীদের মুনাফা উত্তোলন এবং স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং কৌশলও বাজারে বিক্রির চাপ বাড়াতে ভূমিকা রাখে।

তারা আরও বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে মৌলিক দুর্বলতা, ঋণখেলাপি সমস্যা, তারল্য সংকট কিংবা পরিচালনাগত অনিশ্চয়তা থাকলে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত ঝুঁকি কমাতে শেয়ার বিক্রি করে থাকেন। ফলে এই খাতে দরপতন তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, শুধুমাত্র দৈনিক লুজার তালিকার ওপর নির্ভর না করে কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি, পরিচালন কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করা জরুরি। বাজারের স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হতে পারে, তাই তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্তই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

-রাফসান


২০ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২০ ১৪:৫২:৪১
২০ এপ্রিল: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার শেয়ারবাজারে ২০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে লেনদেনের মাঝামাঝি সময়ে বেশ কয়েকটি শেয়ার দামের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখিয়েছে, যা বাজারে নতুন করে ক্রয়চাপ এবং খাতভিত্তিক আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দিনের ট্রেডিং ডেটা বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিভিন্ন খাতের শেয়ার মিলেই টপ গেইনার তালিকাটি গঠিত হয়েছে, যেখানে মিউচুয়াল ফান্ড, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফিড খাতের অংশগ্রহণ স্পষ্ট।

দিনের শীর্ষে উঠে এসেছে ‘নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল’, যার শেয়ারদর সরাসরি ১০ শতাংশ বেড়ে ২৪.২ টাকায় পৌঁছেছে। এর পরেই রয়েছে ‘ইস্টার্ন টিউবস লিমিটেড (ইটিএল)’, যা প্রায় ৯.৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১১.১ টাকায় লেনদেন করছে। এই দুই শেয়ারের দ্রুত উত্থান বাজারে স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং প্রবণতা ও চাহিদা বৃদ্ধির একটি শক্ত ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ইঞ্জিনিয়ারিং খাতের ‘কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ’ ৮.৬৩ শতাংশ বেড়ে ২৩.৯ টাকায় উঠে এসেছে, আর ‘এপেক্স স্পিনিং’ ৮.৪২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৮৩.২ টাকায় লেনদেন করছে। টেক্সটাইল ও শিল্প খাতের এই অগ্রগতি বাজারে উৎপাদনমুখী কোম্পানির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অন্যদিকে ‘বিডি অটোকারস’ আগের দিনের পতন কাটিয়ে প্রায় ৮.২২ শতাংশ বেড়ে ২৫২.৬ টাকায় উঠেছে, যা একটি শক্তিশালী রিবাউন্ড হিসেবে দেখা হচ্ছে। একইভাবে ফিড খাতের ‘আমান ফিড’ ৭.৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৬.১ টাকায় অবস্থান করছে, যা কৃষি ও খাদ্য সংশ্লিষ্ট খাতে ইতিবাচক প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ‘ফার্স্ট প্রাইম ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড’ ৭.২৫ শতাংশ বাড়ায় ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগেও সক্রিয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের ‘এসিএমই পিএল’ ৬.৬৬ শতাংশ বেড়ে ২৭.২ টাকায় পৌঁছেছে, যা স্বাস্থ্যখাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন।

এছাড়া ‘দেশবন্ধু গ্রুপ’-এর শেয়ার ৬.২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৮.৮ টাকায় এবং বহুল আলোচিত ‘লাভেলো আইসক্রিম’ ৫.৪৪ শতাংশ বেড়ে ৭৭.৪ টাকায় লেনদেন করেছে, যা ভোক্তা পণ্য খাতেও নতুন গতি সৃষ্টির ইঙ্গিত দেয়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের উত্থান সাধারণত কয়েকটি কারণে ঘটে থাকে—যেমন স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং, গুজবনির্ভর চাহিদা, কিংবা কোম্পানির আর্থিক পারফরম্যান্স বা লভ্যাংশ প্রত্যাশা। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধুমাত্র দৈনিক গেইনার তালিকার ওপর নির্ভর করে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

-রাফসান


১৯ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১৪:৫৫:৫৭
১৯ এপ্রিল: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
ছবি: সংগৃহীত

১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকার শেয়ারবাজারে লেনদেনের সার্বিক চিত্রে স্পষ্টভাবে নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিনের শেষে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দরপতনের মুখে পড়ে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতার মনোভাবের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দিনের বাজার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ৪০৪টি কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১২৫টির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে ২২৩টি কোম্পানি দরপতনের তালিকায় যুক্ত হয়েছে এবং ৫৬টি অপরিবর্তিত রয়েছে। এই তথ্য থেকে বোঝা যায় যে বাজারে বিক্রির চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল, যা সূচকের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

ক্যাটাগরি অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘এ’ ক্যাটাগরির ২১৭টি শেয়ারের মধ্যে ৭৮টি বেড়েছে এবং ১১১টি কমেছে। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৮০টি শেয়ারের মধ্যে ৪৮টি দরপতনের শিকার হয়েছে। ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে ১০৭টি কোম্পানির মধ্যে ৬৪টির শেয়ারদর কমেছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারগুলোর ওপর চাপ বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও নেতিবাচক প্রবণতা ছিল। মোট ৩৪টি ফান্ডের মধ্যে ১২টির দর কমেছে, ৮টি বেড়েছে এবং ১৪টি অপরিবর্তিত রয়েছে। করপোরেট বন্ড ও সরকারি সিকিউরিটিজেও একই চিত্র দেখা গেছে, যেখানে অধিকাংশ ইস্যু দরপতনের দিকে গেছে।

লেনদেনের পরিমাণ ও মূল্য বিবেচনায় বাজারে সক্রিয়তা কিছুটা বেড়েছে। মোট লেনদেনের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ১৪ হাজারের বেশি, যেখানে শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮৮ কোটি ইউনিটে। টাকার অঙ্কে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৮১৯২ কোটি টাকা, যা বাজারে উল্লেখযোগ্য তারল্যের উপস্থিতি নির্দেশ করে।

বাজার মূলধনের দিক থেকে মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮৪৭২৩৩৯ কোটি টাকার বেশি, যেখানে ইক্যুইটি, মিউচুয়াল ফান্ড এবং ডেট সিকিউরিটিজ মিলিয়ে এই পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে। এটি সামগ্রিকভাবে বাজারের আকার ও বিনিয়োগের পরিধি তুলে ধরে।

ব্লক মার্কেটেও উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে। মোট ৪৫টি কোম্পানির শেয়ার ব্লক ট্রেডে লেনদেন হয়েছে, যেখানে প্রায় ১০৪ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়ে প্রায় ৩৯৩ কোটি টাকার বেশি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে পিটিএল, সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, আল-আরাফাহ ব্যাংক ও উত্তরা ব্যাংকের মতো কোম্পানিগুলোতে বড় অঙ্কের ব্লক ট্রেড লক্ষ্য করা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে এই ধরনের দরপতন স্বাভাবিক কারেকশন হতে পারে, বিশেষ করে যখন আগের দিনগুলোতে কিছু শেয়ারের দ্রুত উত্থান ঘটে। একইসঙ্গে বিনিয়োগকারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাও বাজারে বিক্রির চাপ বাড়িয়েছে।

-রাফসান


১৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১৪:৫১:৫২
১৯ এপ্রিল: শেয়ারবাজারের দরপতনের শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার শেয়ারবাজারে ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দিনের লেনদেনে যেমন কিছু কোম্পানি বড় উত্থান দেখিয়েছে, তেমনি বেশ কয়েকটি শেয়ার উল্লেখযোগ্য দরপতনের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। দুপুর ২টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু মিউচুয়াল ফান্ড, ব্যাংকিং, ফার্মা ও শিল্পখাতের শেয়ারে চাপ তৈরি হয়েছে, যা বাজারের স্বল্পমেয়াদি দুর্বলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দিনের সর্বোচ্চ দরপতন হয়েছে ‘পপুলার ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড’-এ, যার দাম আগের দিনের তুলনায় ৬.২৫ শতাংশ কমে ৩ টাকায় নেমে এসেছে। এর পরেই রয়েছে ‘বিডি অটোকারস’, যার শেয়ার ৫.৫৮ শতাংশ কমে ২৩৩.৪ টাকায় লেনদেন হয়েছে। উচ্চমূল্যের এই শেয়ারে দরপতন বিনিয়োগকারীদের লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের ‘সিলভা ফার্মা’ প্রায় ৫ শতাংশ কমে ১১.২ টাকায় নেমে এসেছে, যা স্বাস্থ্যখাতেও সাময়িক চাপের ইঙ্গিত দেয়। একইভাবে সিমেন্ট খাতের ‘মেঘনা সিমেন্ট’ ৪.৭৪ শতাংশ কমে ৩২.১ টাকায় অবস্থান করছে, যা অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগকারীদের কিছুটা সতর্কতার বার্তা বহন করছে।

মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ‘ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড’ ৪.০৮ শতাংশ কমে ৪.৭ টাকায় নেমেছে এবং ‘এসইএমএল এফবিএসএলজি ফান্ড’ও ৩.৬৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগেও কিছুটা বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে।

খাদ্য ও শিল্পখাতের ‘বিডি থাই ফুড’ ৩.৫৮ শতাংশ কমে ১৮.৮ টাকায় লেনদেন করেছে, যা ভোক্তা খাতেও সামান্য দুর্বলতা নির্দেশ করে। একইসঙ্গে বহুল আলোচিত ‘কেবিপিপিডব্লিউবিল’ শেয়ার ৩.৫৬ শতাংশ কমে ৫১.৪ টাকায় নেমেছে, যা আগের দিনের তুলনায় একটি সংশোধনমূলক পতন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে ‘পিডিএল’ ও ‘আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক’ যথাক্রমে ৩.৫০ শতাংশ ও ৩.৪৪ শতাংশ কমে তালিকার শেষদিকে অবস্থান করছে। ব্যাংকিং খাতের এই পতন বাজারের সামগ্রিক আস্থার ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

-রাফসান


১৯ এপ্রিল: লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

শেয়ারবাজার ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ১৯ ১৪:৪৮:০৫
১৯ এপ্রিল: লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার শেয়ারবাজারে সপ্তাহের নতুন কার্যদিবসে সূচকের ওঠানামার মাঝেও কিছু কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের জন্য উল্লেখযোগ্য রিটার্ন এনে দিয়েছে। ১৯ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ২টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত লেনদেনের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি শেয়ার দামের দিক থেকে শীর্ষ গেইনার তালিকায় উঠে এসেছে, যা বাজারে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগ প্রবণতা ও সেক্টরভিত্তিক আগ্রহের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি দামে উত্থান দেখা গেছে ‘রানার অটো’-তে, যার শেয়ার মূল্য আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৯.৯৫ শতাংশ বেড়ে ৪৩ টাকা ১০ পয়সায় পৌঁছেছে। একইভাবে ‘জনতা ইন্স্যুরেন্স’ এবং ‘সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স’ প্রায় সমান হারে ৯ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৩৬.৫ টাকা এবং ৩১.৩ টাকায় লেনদেন হয়েছে। এই তিনটি কোম্পানির ধারাবাহিক উত্থান বাজারে ইন্স্যুরেন্স ও অটোমোবাইল খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করছে।

এর পাশাপাশি ‘পিএফ১এসটিএমএফ’ মিউচুয়াল ফান্ড ৮.৬৯ শতাংশ বেড়ে ৭.৫ টাকায় উঠে এসেছে, যা ফান্ডভিত্তিক বিনিয়োগেও সক্রিয়তা বাড়ার দিকটি তুলে ধরছে। ওষুধ ও কেমিক্যাল খাতের ‘এশিয়াটিক ল্যাব’ প্রায় ৮.৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯৬.২ টাকায় অবস্থান করছে, যা স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর প্রতি বাজারের আস্থা প্রতিফলিত করে।

ইন্স্যুরেন্স খাতের আরও কয়েকটি কোম্পানি যেমন ‘অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স’ ও ‘কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স’ যথাক্রমে ৭.৬১ শতাংশ এবং ৫.১৫ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি টেক্সটাইল খাতের ‘তামিজ টেক্সটাইল’ ৭ শতাংশের বেশি বাড়ায় এ খাতেও কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

অন্যদিকে প্রযুক্তি ও ওষুধ খাতের ‘টেকনো ড্রাগ’ ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮ টাকায় লেনদেন করেছে। একইসঙ্গে ‘আইসিবি ইপিএমএফ১এস১’ ফান্ডও ৭.৪০ শতাংশ বেড়ে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের শেয়ারদরের দ্রুত উত্থান অনেক সময় স্বল্পমেয়াদি ট্রেডিং বা বাজারে তারল্য প্রবাহের কারণে ঘটে থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে কোম্পানির আর্থিক পারফরম্যান্স, লভ্যাংশ প্রত্যাশা বা খাতভিত্তিক ইতিবাচক খবরও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ইন্স্যুরেন্স ও ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে সাম্প্রতিক সক্রিয়তা বাজারে একটি নির্দিষ্ট সেক্টরাল রোটেশনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে বলছেন, শুধুমাত্র দৈনিক গেইনার তালিকার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে কোম্পানির মৌলিক ভিত্তি, আয়-ব্যয়, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং সামগ্রিক বাজার প্রবণতা বিশ্লেষণ করা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে টেকসই রিটার্ন পেতে হলে তথ্যভিত্তিক ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

-রাফসান

পাঠকের মতামত: