‘সামাজিক ব্যবসা তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ অক্টোবর ১৩ ১১:০৩:১০
‘সামাজিক ব্যবসা তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব দিলেন প্রধান উপদেষ্টা
ছবিঃ বি এস এস

বিশ্ব খাদ্য ফোরামের আলোচনাসভায় রোমে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (IFAD) প্রেসিডেন্ট আলভারো লারিওর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস প্রস্তাব দিয়েছেন একটি ‘সামাজিক ব্যবসা তহবিল’ (Social Business Fund) গঠনের। এই তহবিলের লক্ষ্য হবে বাংলাদেশের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা, নারী, ক্ষুদ্র কৃষক ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্পে কর্মরতদের আর্থসামাজিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং কৃষি উদ্ভাবনে উৎসাহ দেওয়া।

অধ্যাপক ইউনুস বলেন, “আমি আপনাদের আহ্বান জানাচ্ছি একটি সামাজিক ব্যবসা তহবিল গঠনের জন্য। এমন একটি তহবিল দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখবে এবং তরুণ, নারী, কৃষক ও মৎস্য উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়নে সহায়ক হবে।”

বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশের কৃষিখাতে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ সহযোগিতা, গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ শিল্পের উন্নয়ন, আম ও কাঁঠালের রপ্তানি সম্প্রসারণ, জলবায়ু সহনশীল কৃষি উদ্যোক্তা গড়ে তোলা, এবং মহিষের দুধ থেকে মোজারেলা চিজ উৎপাদনে সহায়তা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস বাংলাদেশে আইএফএডের প্রেসিডেন্টকে সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং কৃষি, প্রযুক্তি ও সামাজিক ব্যবসায় সম্ভাব্য সহযোগিতা খতিয়ে দেখার জন্য একটি বিশেষ দল পাঠানোর অনুরোধ করেন। জবাবে আলভারো লারিও বাংলাদেশের কৃষিখাতে বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ ও সামাজিক ব্যবসা প্রসারে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে আইএফএডের অর্থায়নে সাতটিরও বেশি কৃষি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

অধ্যাপক ইউনুস বলেন, “বাংলাদেশ এখন ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ, ঠান্ডা সংরক্ষণাগার ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। আমরা ইতোমধ্যেই আম রপ্তানি শুরু করেছি, তবে পরিমাণ এখনো সীমিত। চীন বাংলাদেশ থেকে ব্যাপক হারে আম ও কাঁঠাল আমদানি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।”

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, যিনি বাংলাদেশের নারী দুগ্ধচাষিদের সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের অনেক নারী উদ্যোক্তা এখন মহিষের দুধ থেকে মোজারেলা চিজ উৎপাদন করছেন এবং এই উদ্যোগকে শিল্প পর্যায়ে উন্নীত করতে আইএফএডের সহযোগিতা কামনা করেন।

বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ শিল্পের প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনুস বলেন, “আমাদের মৎস্যজীবীরা এখনো প্রধানত অগভীর সমুদ্রে কাজ করেন। বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবে আমরা গভীর সমুদ্রে প্রবেশ করতে পারিনি। আইএফএড এই খাতে অর্থায়ন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।”

উল্লেখ্য, ১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে আইএফএড এখন পর্যন্ত ৩৭টি প্রকল্পে অংশ নিয়েছে, যার মোট মূল্য ৪.২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ১.১৩ বিলিয়ন ডলার সরাসরি আইএফএডের অর্থায়নে। বর্তমানে ৪১২ মিলিয়ন ডলারের ছয়টি প্রকল্প চলমান রয়েছে এবং আরও একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়।

রোম সময় অনুযায়ী রোববার বিকেল ৫টার দিকে অধ্যাপক ইউনুস বিশ্ব খাদ্য ফোরামে যোগ দিতে রোমে পৌঁছান। খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) আয়োজিত এই ফোরামে তিনি মূল বক্তৃতা প্রদান করবেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (SDG) সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং আইএফএডের সহযোগী সহ-সভাপতি ডোনাল ব্রাউন।

-নাজমুল হাসান


সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন হলে আর ছাড় নয়! ভারতকে কড়া বার্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১৮:১৬:০১
সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন হলে আর ছাড় নয়! ভারতকে কড়া বার্তা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে 'পুশ-ইন' বা জোরপূর্বক অনুপ্রবেশের মতো কোনো ঘটনা ঘটলে বর্তমান সরকার কঠোর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (৫ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় সরকারের এই অনড় অবস্থানের কথা জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে সীমান্তে যদি পুশ-ইনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে ঢাকা তা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। একই সাথে তিস্তা নদীকেন্দ্রিক দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানে ভারতের ইতিবাচক ভূমিকার প্রত্যাশা করেন তিনি। তবে শুধু ভারতের আশ্বাসে বসে না থেকে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে ঢাকা তাদের আলোচনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখবে বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।

এই ব্রিফিংয়ের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকা সফররত মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলা সমালোচনার জবাবে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই চুক্তিটি বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে। যারা সমালোচনা করছেন, তাদের অন্যান্য দেশের সাথে সম্পাদিত চুক্তির তুলনামূলক চিত্র বিশ্লেষণ করার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, এই চুক্তির সুফল দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে চীনের সাথে আলোচনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, তার আসন্ন চীন সফরে এই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে স্থান পাবে। চীন সরকারের বিশেষ আমন্ত্রণে মঙ্গলবারই বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে তার। সফরসূচী অনুযায়ী, আগামী ৭ মে পর্যন্ত তিনি চীনে অবস্থান করবেন এবং সেখানে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুর পাশাপাশি তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

/আশিক


লুটপাট বন্ধে ডিসিদের হাতে বিশেষ ক্ষমতা? নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে যা বললেন মির্জা ফখরুল

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১৮:০১:৫১
লুটপাট বন্ধে ডিসিদের হাতে বিশেষ ক্ষমতা? নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে যা বললেন মির্জা ফখরুল
ছবি : সংগৃহীত

আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কেবল সচল রাখাই নয়, বরং একে পুরোপুরি কার্যকর এবং দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি বর্তমানে চলমান রয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের ষষ্ঠ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব তথ্য জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার হচ্ছে যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধান ভিত্তি এবং তৃণমূল পর্যায়ের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানকে যদি শক্তিশালী ও মজবুত করা যায়, তবে দেশের সামগ্রিক গণতন্ত্র আরও সুসংহত হবে।

অধিবেশনে জেলা প্রশাসকদের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন পরামর্শ ও প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল জানান, ডিসিরা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে বিশদ জানতে চেয়েছেন এবং মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। সরকার এসব ইতিবাচক পরামর্শ গ্রহণ করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে জেলা প্রশাসকদের স্থানীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং সরকারের প্রতিটি কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণকে সরাসরি সম্পৃক্ত করতে হবে। কারণ এ দেশের প্রকৃত মালিকই হচ্ছে সাধারণ জনগণ।

বিগত দেড় দশকের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, গত ১৬ বছরে উন্নয়নের দোহাই দিয়ে স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি জেঁকে বসেছিল। এসব দুর্নীতি ও লুটপাট চিরতরে বন্ধ করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। স্থানীয় পর্যায়ের অনিয়ম ঠেকাতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থানীয় সংসদ সদস্যরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারে জনপ্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।

/আশিক


লোডশেডিংমুক্ত এক সপ্তাহ: বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন স্বস্তি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১২:৫০:৪১
লোডশেডিংমুক্ত এক সপ্তাহ: বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন স্বস্তি
ছবি : সংগৃহীত

দেশে বিদ্যুৎ চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত উৎপাদন নিশ্চিত হওয়ায় টানা এক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে কোনো লোডশেডিং হয়নি। গত ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ মে পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সময়ে গ্রাহকদের কোনো প্রকার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হতে হয়নি। মূলত দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের ফলে সেচ কাজের জন্য বিদ্যুতের বাড়তি চাপ না থাকাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম জানান, বর্তমানে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। আগে ছোট কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রে যান্ত্রিক সমস্যার কারণে উৎপাদনে সামান্য ঘাটতি থাকলেও বর্তমানে তা কাটিয়ে ওঠা গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ বজায় রাখতে কয়লার নিয়মিত জোগান নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। পটুয়াখালীর আরএনপিএল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করায় সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটটিও দ্রুত যুক্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১২ হাজার ৭৯৩ মেগাওয়াট এবং সমপরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করে লোডশেডিং শূন্যে রাখা হয়। পরবর্তী দিনগুলোতেও চাহিদার ওঠানামা থাকলেও (১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে) সরবরাহে কোনো ঘাটতি ছিল না। মে মাসের প্রথম তিনদিনেও এই ধারা বজায় ছিল, যা বিদ্যুৎ খাতে এক ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সরকারি কিছু কৌশলী পদক্ষেপও কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা নিয়ন্ত্রণ এবং এসি ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর চালানোর নির্দেশনা। এছাড়া এলএনজি, জ্বালানি তেল ও কয়লা আমদানির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে কেন্দ্রগুলো সচল রাখা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি ভারতের আদানি পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ আমদানি এবং দেশের বড় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর নিয়মিত উৎপাদন জাতীয় গ্রিডকে সমৃদ্ধ করেছে।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার গ্রাহকরা জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে দিনে বা রাতে কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট লক্ষ্য করা যায়নি। তবে জাতীয়ভাবে লোডশেডিং না থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে গাছ কাটা বা লাইন রক্ষণাবেক্ষণের মতো কারিগরি কারণে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকতে পারে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড। গ্রামাঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া বা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অনেক সময় সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হলেও সেটিকে আনুষ্ঠানিক লোডশেডিং হিসেবে গণ্য করা যাবে না বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে।

/আশিক


অনলাইন লেনদেনে সাবধান! কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি নির্দেশনা জারি

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১২:১৫:১৩
অনলাইন লেনদেনে সাবধান! কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জরুরি নির্দেশনা জারি
ছবি : সংগৃহীত

ডিজিটাল বিপ্লবের এই যুগে কেনাকাটা থেকে শুরু করে মোবাইল রিচার্জ—সবকিছুতেই অনলাইন লেনদেন এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তবে এই সুবিধার সমান্তরালে বাড়ছে আর্থিক ঝুঁকির আশঙ্কা। সামান্য অসতর্কতায় যেকোনো মুহূর্তে আপনিও হতে পারেন বড় কোনো প্রতারণার শিকার। এই প্রেক্ষাপটে অনলাইনে অর্থ লেনদেন, মোবাইল অ্যাপ এবং অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জরুরি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বেশ কিছু গ্রাহক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে এবং গ্রাহকের কষ্টার্জিত অর্থ সুরক্ষিত রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে কিছু কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এসব নির্দেশনার মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষকে ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন (PIN), পাসওয়ার্ড কিংবা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। এমনকি ব্যাংকের কর্মকর্তা পরিচয় দিলেও এই গোপনীয় তথ্যগুলো প্রদান করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া অপরিচিত বা সন্দেহজনক কোনো লিংকে ক্লিক করা, অজানা উৎস থেকে থার্ড পার্টি অ্যাপ ইনস্টল করা এবং অনলাইন জুয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ কিংবা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের নাম ব্যবহার করে অনেক সময় ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়। বিশেষ করে জামানতবিহীন ঋণ বা অতি মুনাফার অনলাইন বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো লাইসেন্সবিহীন অ্যাপগুলো থেকে সাবধান থাকতে বলা হয়েছে। কোনো প্রলোভনমূলক অফার, লটারি জয় বা পুরস্কারের খবর পেলে তা যাচাই না করে বিশ্বাস না করার অনুরোধ জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অপরিচিত কোনো ব্যক্তির সঙ্গে অনলাইনে আর্থিক লেনদেন করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অনলাইন লেনদেনে কোনো প্রকার সন্দেহ বা প্রতারণার আভাস পেলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। ডিজিটাল প্রতারণার ফাঁদ থেকে বাঁচতে এবং অন্যদের সচেতন করতে মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা কাম্য। ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ বা হয়রানির শিকার হলে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের হেল্পলাইন নম্বর ১৬২৩৬-এ কল করে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

/আশিক


হাম নিয়ে ইউনিসেফের আগাম সতর্কবার্তা কানে তোলেনি অন্তর্বর্তী সরকার

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৫ ১১:২৫:০৫
হাম নিয়ে ইউনিসেফের আগাম সতর্কবার্তা কানে তোলেনি অন্তর্বর্তী সরকার
ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাব ও টিকাদান কর্মসূচির সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর তথ্য সামনে এসেছে। জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে, দেশে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তবে অজ্ঞাত কারণে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন সরকার সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেয়নি, যার ফলে টিকাদান কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।

বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই শুরু হওয়ার পর থেকেই ইউনিসেফ কারিগরি ও কৌশলগত সহায়তা দিয়ে আসছে। সংস্থাটির দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টায় দেশে পোলিও ও টিটেনাস নির্মূলসহ টিকাদানের হার ১৯৮০ সালের ২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩ সালে ৮২ শতাংশে উন্নীত হয়। বিশেষ করে স্কুলভিত্তিক পুষ্টি ও স্যানিটেশন কার্যক্রমের সাথে টিকাদানকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত সফল মডেল তৈরি করা হয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার টিকা কেনার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে উন্মুক্ত দরপত্র বা ওপেন টেন্ডার মেথড অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিলে এই সফল ধারায় স্থবিরতা নেমে আসে।

স্ট্যানলি গুয়াভুইয়ার মতে, উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কিনতে গেলে সরবরাহ প্রক্রিয়ায় প্রায় ১২ মাস পর্যন্ত দেরি হতে পারে বলে ইউনিসেফ আগেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু সেই আপত্তি উপেক্ষা করেই নতুন পদ্ধতিতে এগোয় তৎকালীন সরকার। ফলস্বরূপ টিকা সংগ্রহে ব্যাপক বিলম্ব ঘটে এবং দেশের অনেক স্থানে টিকার মজুত শেষ হয়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০২৫ সালে ইউনিসেফ নিজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার আগাম অর্থায়ন করে কিছু টিকার মজুত নিশ্চিত করলেও ২০২৬ সালের শুরুর দিকে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়। মূলত অর্থছাড় না করা এবং ক্রয় নীতিমালার পরিবর্তনের কারণেই এই সংকট ঘনীভূত হয়।

পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিস্থিতি পুনরায় মূল্যায়ণ করা হয়। নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্চ মাসে বিতর্কিত সেই উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি বাতিলের নির্দেশ দেন এবং এপ্রিলে আবার ইউনিসেফের মাধ্যমেই টিকা সংগ্রহের পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে আসে বাংলাদেশ। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে ইউনিসেফ কেবল ২০২৫ সালেই নয়, বরং ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যেও প্রায় ২ কোটি ডলার আগাম ব্যয় করেছিল। বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সংস্থাটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত প্রস্তুতকারকদের কাছ থেকে উন্নতমানের টিকা সংগ্রহ ও জরুরি তহবিল নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক দাতাদের সাথে কাজ করছে।

সংকটের গভীরতা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, দেশে রোগ নজরদারি ও তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের দুর্বলতা ছিল। ইউনিসেফ জানায়, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই তারা সম্ভাব্য ক্যাম্পেইনের জন্য হামের টিকা সংগ্রহ করে রেখেছিল, অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইউনিসেফ আনুষ্ঠানিকভাবে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির তথ্য পায় ২০২৬ সালের মার্চের শেষ দিকে। ক্রয় জটিলতার কারণে টিকার অভাব, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের দ্বিতীয় ধাপ পরিচালনা করতে না পারা এবং নজরদারি ব্যবস্থার ধীরগতির সম্মিলিত প্রভাবে হামের প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করে।

ইউনূস সরকারের উচ্চপর্যায়ের সাথে একাধিক বৈঠকে ইউনিসেফ টিকার ঘাটতি এবং এর ফলে শিশু মৃত্যুহার বাড়ার ঝুঁকি নিয়ে বারবার সতর্কবার্তা দিয়েছিল। প্রতিটি বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমেও এই উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা (এমআর) ক্যাম্পেইন শুরু হলেও বিলম্বিত সিদ্ধান্তের কারণে টিকাদান কাভারেজে যে বড় ধাক্কা লেগেছে, তা এখন স্পষ্ট।

/আশিক


মহাসড়কে চাঁদাবাজদের সরাসরি যুদ্ধের হুমকি সেতুমন্ত্রীর

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১৯:৫৩:৩৭
মহাসড়কে চাঁদাবাজদের সরাসরি যুদ্ধের হুমকি সেতুমন্ত্রীর
ছবি : সংগৃহীত

সড়ক-মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং চাঁদাবাজি নির্মূলে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজি একটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। সোমবার জেলা প্রশাসক সম্মেলন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, ঈদযাত্রায় মানুষের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

মন্ত্রী বলেন, "আগামী ঈদে সড়কে চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি। তবে আমরা মানুষের ভোগান্তি কমাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি।" তিনি ঘোষণা করেন, সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ ও সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এর ফলে অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

সড়ক খাতের উন্নয়ন নিয়ে মন্ত্রী একটি বড় অংকের হিসাব তুলে ধরেন। তিনি জানান, গত দুই মাসে সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে যে পরিমাণ রাস্তা প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নের চাহিদাপত্র জমা পড়েছে, তা বাস্তবায়নে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার প্রয়োজন। তবে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম (৪০ হাজার কোটি টাকা) হলেও জনগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সম্পন্ন করবে সরকার। সীমিত বাজেটেও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

/আশিক


বিগত ১৬ বছর ভোটাধিকার বঞ্চিত ছিল জনগণ: হাফিজ উদ্দিন

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১৯:৪৪:০৩
বিগত ১৬ বছর ভোটাধিকার বঞ্চিত ছিল জনগণ: হাফিজ উদ্দিন
ছবি : সংগৃহীত

বিগত সরকারের আমলে দেশের মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, “বিগত ১৬ বছরের নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আবারও সমুন্নত হয়েছে।” সোমবার দুপুরে সংসদ ভবনের কার্যালয়ে সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে স্পিকার বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান গভীর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি হজ পালন করতে মক্কা ও মদিনায় গমন করেন, যা দুই দেশের জনগণের মাঝে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং দীর্ঘমেয়াদি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে। আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসংসদীয় সম্পর্ক জোরদারকরণ এবং সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে স্পিকার ও রাষ্ট্রদূত চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বিশেষ করে ইরান ও আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় স্পিকার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে মুসলিম দেশগুলোর সংগঠন ওআইসি-কে (OIC) আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রস্তাব করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সৌদি আরব এই মানবিক সংকট সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকবে। অনুষ্ঠানে সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সৌদি দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

/আশিক


পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বদলে প্রভাব পড়বে না ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে: শামা ওবায়েদ

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১৯:৩০:৪০
পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার বদলে প্রভাব পড়বে না ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে: শামা ওবায়েদ
ছবি : সংগৃহীত

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকা এবং তৃণমূলের সম্ভাব্য পরাজয়ের খবরের মাঝেই বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ চালিয়ে যাব।" উল্লেখ্য যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশেও নতুন সরকার (বিএনপি নেতৃত্বাধীন) দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ভারতের কোনো বড় রাজ্যে প্রথম নির্বাচন।

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "গঙ্গা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে এবং বাংলাদেশ একটি ন্যায়সংগত ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের বিষয়ে আশাবাদী।" এছাড়া সীমান্ত দিয়ে ‘পুশইন’ বা অনুপ্রবেশের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

গত কয়েকমাস ধরে ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তিতে বাংলাদেশিদের যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, তা দ্রুতই কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, "ভারতের সঙ্গে শিগগিরই ভিসা প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আমরা আশা করছি।" উল্লেখ্য যে, মে মাসের শুরু থেকেই ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো তাদের কার্যক্রম পুনরায় পুরোদমে শুরু করার ইঙ্গিত দিয়েছে, যা দুই দেশের মানুষের যাতায়াত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে আরও চাঙ্গা করবে।

/আশিক


হামে মৃত্যু ও আক্রান্তের রেকর্ড: আতঙ্কে অভিভাবকরা

জাতীয় ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ মে ০৪ ১৭:৫৯:৪৪
হামে মৃত্যু ও আক্রান্তের রেকর্ড: আতঙ্কে অভিভাবকরা
ছবি : সংগৃহীত

সারা দেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে হাম। সোমবার (৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ২ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১৫ জনসহ মোট ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ৪ মে পর্যন্ত সময়ে নিশ্চিত হামে ৫২ জন এবং হাম সন্দেহে ২৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। অধিদপ্তর জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে একটি বড় অংশই শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ৩০২ জন নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ হাজার ৭৯৩ জনে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৪৬৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৮ হাজার ৮৪২ জন ভর্তি রয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৫ হাজার ১৫১ জন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বমুখী হার প্রতিরোধে শিশুদের দ্রুত টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। হাম অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় জ্বর ও শরীরে লালচে দানা দেখা দিলেই দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

/আশিক

পাঠকের মতামত:

৫ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

৫ মে: শেয়ারবাজার লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার

দেশের পুঁজিবাজারে মঙ্গলবারের লেনদেনে শীর্ষ গেইনার তালিকায় বহুমুখী খাতের কোম্পানির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা বাজারে বিস্তৃত ভিত্তিতে আস্থার ইঙ্গিত... বিস্তারিত