উপবৃত্তির টাকায় নজর প্রতারকের, ফোন এলে সাবধান!

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৫ জুন ২৫ ১১:৫৩:১১
উপবৃত্তির টাকায় নজর প্রতারকের, ফোন এলে সাবধান!

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৪ ও জানুয়ারি-জুন ২০২৫ মেয়াদের শিক্ষাবৃত্তির অর্থ বিতরণ কার্যক্রম চালু রয়েছে। কিন্তু এই কার্যক্রমকে ঘিরেই নানা ফাঁদ পেতে বসেছে সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের স্কিম পরিচালক (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ আসাদুল হক জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মোবাইল নম্বরে কল কিংবা বার্তা পাঠিয়ে প্রতারকরা অ্যাকাউন্ট নম্বর, পিন ও ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) দাবি করছে। অথচ এসব তথ্য একান্তই ব্যক্তিগত এবং কারও সঙ্গে তা শেয়ার করলেই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে—বিশেষ করে আর্থিকভাবে।

ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সরকারি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সবার উদ্দেশে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, উপবৃত্তির অর্থ সরাসরি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। এই লেনদেন প্রক্রিয়ায় পিন বা ওটিপি জানানোর কোনো প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ কেউ যদি ট্রাস্টের প্রতিনিধি পরিচয়ে ফোন করে এসব তথ্য চায়, তা নিঃসন্দেহে প্রতারণা।উপবৃত্তির টাকায় নজর প্রতারকের, ফোন এলে সাবধান!এ ধরনের প্রতারকচক্র সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিচ্ছে বলে মনে করছে ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ। এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে এবং কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত ব্যাংক বা এমএফএস সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার না করতে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে।

ট্রাস্টের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যদি এমন কোনো ফোন বা মেসেজ আসে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নম্বরটি সংরক্ষণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট হস্তান্তর করতে হবে। একইসঙ্গে নিচের মাধ্যমগুলোতে দ্রুত অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে:

? হটলাইন নম্বর: ০২-৫৫০০২০৯৩? ই-মেইল ঠিকানা: [email protected]

এছাড়া, প্রতারণা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশব্যাপী প্রচারণাও শুরু হয়েছে।

ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষের আহ্বান:

“একটি ফোনকল বা মেসেজেই পুরো উপবৃত্তির টাকা হারাতে পারেন। তাই সজাগ থাকুন, নিজের তথ্য নিজের কাছে রাখুন।”


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন গণবিজ্ঞপ্তি জারি, বেসরকারি স্কুল-কলেজের জন্য বড় সুখবর

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৭ ২১:২৫:২০
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন গণবিজ্ঞপ্তি জারি, বেসরকারি স্কুল-কলেজের জন্য বড় সুখবর
ছবি : সংগৃহীত

বেসরকারি স্কুল ও কলেজ এমপিওভুক্ত করার লক্ষ্যে নতুন করে আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার (৭ জানুয়ারি ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, আগামী ১৪ জানুয়ারি থেকে অনলাইনে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাইয়েদ এ জেড মোরশেদ আলী স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে যে, আগ্রহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। ২০২৫ সালে জারি হওয়া সংশোধিত ‘স্কুল-কলেজ এমপিও নীতিমালা’-এর আলোকে এবারের এমপিওভুক্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যারা শর্ত পূরণ করতে পারবে, কেবল তারাই এই তালিকায় স্থান পাবে।

সবথেকে বড় সুখবর হলো, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকেই নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও আর্থিক সুবিধা ভোগ করতে পারবে। ইতিপূর্বে দীর্ঘ সময় ধরে এমপিওভুক্তি বন্ধ থাকায় অনেক নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। সরকারের এই নতুন উদ্যোগের ফলে কয়েক হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাগ্য খুলতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবেদন করার জন্য হাতে মাত্র ১১ দিন সময় থাকায় দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য সংগ্রহ করার পরামর্শ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।


এইচএসসি ফরম পূরণের তারিখ ফের পরিবর্তন, জানুন নতুন সময়সূচি

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১৮:০৪:৩৭
এইচএসসি ফরম পূরণের তারিখ ফের পরিবর্তন, জানুন নতুন সময়সূচি
ছবি : সংগৃহীত

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার ফরম পূরণের তারিখ তৃতীয়বারের মতো পরিবর্তন করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, এইচএসসি ২০২৬ পরীক্ষার ফরম পূরণ আগামী ১ মার্চ থেকে শুরু হবে।

নতুন এই নির্দেশনার ফলে গত ৪ জানুয়ারি প্রকাশিত আগের বিজ্ঞপ্তিটি বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা (টেস্ট পরীক্ষা) যথাসময়ে সম্পন্ন করে আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ১ মার্চ থেকে শিক্ষার্থীরা অনলাইনে ফরম পূরণের সুযোগ পাবেন।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে যে, ফরম পূরণের বিস্তারিত সময়সূচি, ফি-এর হার এবং অন্যান্য নিয়মাবলী সংবলিত একটি পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি খুব শীঘ্রই ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। উল্লেখ্য যে, এর আগেও দুইবার ফরম পূরণের তারিখ ঘোষণা করা হলেও বিভিন্ন প্রশাসনিক ও বাস্তব পরিস্থিতির কারণে তা পরিবর্তন করতে হয়েছে। বারবার তারিখ পরিবর্তন হওয়ায় পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকলেও নতুন এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সব সংশয় দূর হবে বলে আশা করছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ।


পাঠ্যবইয়ে এমন কী বদলালো, যা নিয়ে শুরু আলোচনা

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১২:০৬:৩৪
পাঠ্যবইয়ে এমন কী বদলালো, যা নিয়ে শুরু আলোচনা
ছবি: সংগৃহীত

নতুন শিক্ষাবর্ষ ২০২৬ সালে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বিতরণকৃত পাঠ্যবইয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। সর্বশেষ সংস্করণে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র জনতার আন্দোলনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রথমবারের মতো পাঠ্যবইয়ের ইতিহাস অংশে স্থান পেল।

সূত্র অনুযায়ী, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং **জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি**র সুপারিশের ভিত্তিতে পাঠ্যবইগুলো পুনর্গঠন করেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের সামনে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি বাস্তবভিত্তিক ও বহুমাত্রিক চিত্র উপস্থাপন করা।

নবম ও দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে **শেখ হাসিনা**র শাসনামলকে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী রূপে চিহ্নিত করা হয়েছে। বইয়ের ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা’ অধ্যায়ে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সরকার ধীরে ধীরে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে থাকে। পাঠ্যবইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বিরোধী দল ও ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমনপীড়ন, দুর্নীতির বিস্তার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করার মাধ্যমে দলীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।

ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বইয়ে ধাপে ধাপে ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে উদ্ভূত ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পটভূমি, বিস্তার ও পরিণতি তুলে ধরা হয়েছে। নবম ও দশম শ্রেণির পাঠে জাতিসংঘ–এর তদন্ত প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত হন, যাদের একটি বড় অংশ ছিল শিশু ও কিশোর।

২০২৬ সালের পাঠ্যবই সংস্কারের অন্যতম আলোচিত সিদ্ধান্ত হলো অষ্টম শ্রেণির সাহিত্য কণিকা বই থেকে শেখ মুজিবুর রহমান–এর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া। পূর্ববর্তী সংস্করণে ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ শিরোনামে ভাষণটি পূর্ণাঙ্গভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও নতুন সংস্করণে সেটি আর নেই।

ষষ্ঠ শ্রেণির চারুপাঠ বইয়ের ‘কার্টুন, ব্যঙ্গচিত্র ও পোস্টারের ভাষা’ অধ্যায়ে রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের প্রতীক হিসেবে একটি নতুন কার্টুন সংযোজন করা হয়েছে। এতে আকাশপথ থেকে গুলি ছোড়ার দৃশ্য ব্যবহার করে ক্ষমতা প্রয়োগ ও সহিংসতার ইঙ্গিত তুলে ধরা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে সহায়ক হবে বলে পাঠ্যবই প্রণেতাদের ধারণা।

-রাফসান


ছুটির দিনেও ছুটি গণনা? প্রাথমিকের আজব তালিকা নিয়ে তোলপাড় ফেসবুক

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৬ ১১:১৪:১৩
ছুটির দিনেও ছুটি গণনা? প্রাথমিকের আজব তালিকা নিয়ে তোলপাড় ফেসবুক
ছবি : সংগৃহীত

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের বাৎসরিক ছুটির তালিকায় নানা অসংগতি ও ত্রুটির অভিযোগ তুলে তা দ্রুত সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি ২০২৬) প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির মতে, বর্তমান তালিকায় শুক্র ও শনিবারের ছুটি গণনায় যেমন অসামঞ্জস্য রয়েছে, তেমনি পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখে পাঠদান পরিচালনা করা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত অমানবিক।

পরিষদের আহ্বায়ক মো. আবুল কাসেম ও অন্যান্য নেতাদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছুটির তালিকায় দেখা গেছে যে, কিছু জায়গায় সাপ্তাহিক ছুটি শুক্র ও শনিবারকে ‘শূন্য দিন’ ধরা হলেও অন্য জায়গায় তা মোট ছুটির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশেষ করে ৮ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ এবং ২০ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বরের ছুটিতে মোট ৬টি শুক্র ও শনিবারকে সাধারণ ছুটি হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা গতানুগতিক নিয়মের পরিপন্থী। এই বৈষম্যমূলক ও ত্রুটিপূর্ণ তালিকার কারণে সাধারণ শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিবৃতিতে শিক্ষকরা আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষকই নারী। রোজা রেখে দিনভর পাঠদান শেষে বাসায় ফিরে ইফতারের প্রস্তুতি নেওয়া তাঁদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। একইসঙ্গে কোমলমতি অনেক শিশুও রোজা রাখে, যাদের জন্য প্রখর রোদে বা দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ে থাকা শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বাস্তবসম্মত ও ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে রমজান মাসে বিদ্যালয় বন্ধ রাখা এবং ছুটির তালিকার ভুলগুলো সংশোধন করে পুনরায় প্রকাশের জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন শিক্ষকরা।


৭ম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, শিক্ষক নিয়োগে বড় সুযোগ

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৮:৩৬:৪০
৭ম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, শিক্ষক নিয়োগে বড় সুযোগ
ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। সংস্থাটি আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিজ্ঞপ্তিটি খুব শিগগিরই এনটিআরসিএর নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

এই গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশের এমপিওভুক্ত সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি এবং ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা শাখায় শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এনটিআরসিএ জানিয়েছে, বৈধ শিক্ষক নিবন্ধন সনদধারী যোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত শর্তে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হচ্ছে।

প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে মোট ২৯ হাজার ৫৭১টি, মাদ্রাসা পর্যায়ে ৩৬ হাজার ৮০৪টি এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮৩৩টি শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে এই গণবিজ্ঞপ্তির আওতায় ৬৭ হাজারেরও বেশি শিক্ষক পদ পূরণ করা হবে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় নিয়োগ উদ্যোগগুলোর একটি।

এনটিআরসিএর বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, e-Application ফরম পূরণ ও আবেদন ফি জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ রাত ১২টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদনকারীর বয়স ও নিবন্ধন সনদ সংক্রান্ত শর্তাবলীও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। ০৪ জুন ২০২৫ তারিখে প্রার্থীর সর্বোচ্চ বয়স হতে হবে ৩৫ বছর। একই সঙ্গে শিক্ষক নিবন্ধন সনদের মেয়াদ গণনা করা হবে নিবন্ধন পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ থেকে তিন বছর পর্যন্ত। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের নির্দেশনা অনুযায়ী, বর্তমানে কর্মরত ইনডেক্সধারী শিক্ষকরা একই পদে আবেদন করতে পারবেন না।

শূন্য পদের বিস্তারিত তালিকা, আবেদন পদ্ধতি, ফি সংক্রান্ত তথ্য এবং নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলী এনটিআরসিএর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.ntrca.gov.bd এবং টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নির্ধারিত পোর্টাল ngi.teletalk.com.bd–এ পাওয়া যাবে।

-রফিক


উচ্চশিক্ষায় বৃত্তির বড় ঘোষণা: মাউশির নতুন মহাপরিকল্পনা প্রকাশ

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৮:২৪:০০
উচ্চশিক্ষায় বৃত্তির বড় ঘোষণা: মাউশির নতুন মহাপরিকল্পনা প্রকাশ
ছবি : সংগৃহীত

মাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষা স্তর পর্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তার পরিধি বাড়াতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সম্প্রতি এসএসসি, এইচএসসি এবং স্নাতক পর্যায়ের সব ধরনের ‘মেধা’ ও ‘সাধারণ’ বৃত্তির সংখ্যা ২০ শতাংশ বাড়ানোর পাশাপাশি বৃত্তির অর্থের পরিমাণ বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ করার একটি সমন্বিত প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে বর্তমানের ৪১ হাজার বৃত্তির সঙ্গে নতুন করে আরও ৮ হাজার ১৯২ জন শিক্ষার্থী যুক্ত হবে।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে নির্ধারিত হারে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। তবে গত এক দশকে জীবনযাত্রার ব্যয় ও শিক্ষা উপকরণের দাম বহুগুণ বাড়লেও বৃত্তির অর্থে কোনো পরিবর্তন আসেনি। আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি ২০২৬) মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক বি. এম. আব্দুল হান্নান জানান, জুনিয়র শিক্ষাবৃত্তির সুবিধা বাড়ানোর পর উচ্চতর স্তরে সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই নতুন পরিকল্পনা। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অর্থ বিভাগের অনুমোদন পেলে চলতি অর্থবছর থেকেই এই বর্ধিত সুবিধা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

নতুন প্রস্তাবে বৃত্তির চিত্র

এসএসসি বৃত্তি: বর্তমানের ২৫ হাজার ৫০০টি বৃত্তির সংখ্যা বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৬০০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ট্যালেন্টপুল বৃত্তির মাসিক হার ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তির হার ৩৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

এইচএসসি বৃত্তি:এই স্তরে বৃত্তির সংখ্যা ১২ হাজার ৬০০-তে উন্নীত হচ্ছে। ট্যালেন্টপুল বৃত্তির মাসিক হার ১ হাজার ৬৫০ টাকা এবং সাধারণ বৃত্তির হার ৭৫০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য এই বৃত্তির মেয়াদ ৫ বছর পর্যন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্নাতক (সম্মান ও পাস) বৃত্তি: স্নাতক সম্মানে বৃত্তির সংখ্যা ৫ হাজার ৫৮০ এবং পাস কোর্সে ৩৭১টিতে উন্নীত হচ্ছে। সম্মান শ্রেণির ট্যালেন্টপুল বৃত্তির মাসিক হার ১ হাজার ১২৫ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ২৫০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম-সচিব সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, মাউশি থেকে পাঠানো এই সমন্বিত প্রস্তাবটি বর্তমানে যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। এটি চূড়ান্ত হওয়ার পর অর্থ বরাদ্দের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বর্তমান বাজারদরের সাথে সংগতি রেখে শিক্ষার্থীরা তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে এবং মেধাবীরা পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত হবে।


মেডিকেল ভর্তির নতুন সময়সূচি

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ১৩:২২:৩৪
মেডিকেল ভর্তির নতুন সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস এবং ডেন্টাল কলেজ ও ইউনিটে বিডিএস কোর্সে ভর্তি কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। সংশোধিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্বঘোষিত ৩০ ডিসেম্বরের পরিবর্তে এখন ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে আগামী ১০ জানুয়ারি এবং তা চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে রোববার (২৮ ডিসেম্বর) জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই পরিবর্তিত সময়সূচির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) ও কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. মো. মহিউদ্দিন মাতুব্বর। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য প্রশাসনিক ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পূর্বনির্ধারিত ভর্তি সূচিতে এই সংশোধন আনা হয়েছে।

এর আগে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত এমবিবিএস ও বিডিএস শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৬ জানুয়ারির মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত অফিস সময়ের মধ্যে ভর্তি প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সময় বাড়ানোর ফলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও যাচাইয়ের জন্য বাড়তি প্রস্তুতির সুযোগ পাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ সরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ অথবা সংশ্লিষ্ট ইউনিটে সরাসরি উপস্থিত হয়ে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। অনুপস্থিত থাকলে বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি না করলে সংশ্লিষ্ট আসন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করা হয়েছে।

ভর্তি কার্যক্রমের সময় শিক্ষার্থীদের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এমবিবিএস বা বিডিএস ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও ফলাফলের প্রিন্ট কপি, এইচএসসি পরীক্ষার মূল রেজিস্ট্রেশন কার্ড, এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট বা নম্বরপত্র, মূল সনদ ও প্রশংসাপত্র। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের মেয়র, পৌর মেয়র, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা ওয়ার্ড কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত মূল নাগরিক সনদ জমা দিতে হবে।

এছাড়া পার্বত্য জেলার উপজাতীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সার্কেল চিফ ও জেলা প্রশাসকের প্রদত্ত সনদ, অ-উপজাতীয় প্রার্থীদের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সনদ এবং অন্যান্য জেলার উপজাতীয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে গোত্রপ্রধান ও জেলা প্রশাসকের মূল সনদপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস এবং ডেন্টাল কলেজে বিডিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত ১২ ডিসেম্বর। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত দেশের ১৭টি কেন্দ্র ও ৪৯টি ভেন্যুতে একযোগে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবারের পরীক্ষায় উপস্থিতির হার ছিল ৯৮ শতাংশেরও বেশি, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।

পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় ১৪ ডিসেম্বর। এতে মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভর্তি কার্যক্রমের সময়সূচি পরিবর্তনের ফলে শিক্ষার্থীরা কিছুটা স্বস্তি পেলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চিত করতে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

-রফিক


ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ফল প্রকাশ: পাসের হারে বিশাল ধস

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ০৯:০১:৪৬
ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ফল প্রকাশ: পাসের হারে বিশাল ধস
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) রাত ১০টার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল জনসমক্ষে আনে। এবারের ফলাফলে সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো পরীক্ষার্থীদের পাসের হারের ব্যাপক অবনতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর জানিয়েছে, পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের প্রায় ৯০ শতাংশই ন্যূনতম পাস নম্বর অর্জন করতে পারেননি, যার ফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ১ হাজার ৫০টি আসনের বিপরীতে ৩৪ হাজার ৬২ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। সেই হিসেবে প্রতিটি আসনের বিপরীতে গড়ে ৩২ জন পরীক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। আসন বণ্টনের তথ্যানুযায়ী, ১ হাজার ৫০টি আসনের মধ্যে ব্যবসায় শিক্ষা শাখার জন্য ৯৩০টি, বিজ্ঞান শাখার জন্য ৯৫টি এবং মানবিক শাখার জন্য ২৫টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লগইন করে অথবা মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারছেন।

ফলাফলের সঙ্গে সঙ্গে তিন শাখা থেকে মেধাতালিকায় শীর্ষস্থান অধিকারীদের নামও প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে প্রথম হয়েছেন রাজধানীর নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী তাসলিম সুলতান হিমেল। তিনি ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮৫ নম্বর পেয়েছেন এবং জিপিএসহ তাঁর মোট স্কোর দাঁড়িয়েছে ১০৫। বিজ্ঞান শাখা থেকে শীর্ষস্থান দখল করেছেন একই কলেজের আদিব বিন জামান, যাঁর মোট স্কোর ১০১। মানবিক শাখা থেকে প্রথম হয়েছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী লুবাইনা আনজুম, যাঁর মোট স্কোর ১০৭।

উল্লেখ্য, গত ৬ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের আরও চারটি বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রে একযোগে এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে পাসের হার এত নিচে নেমে যাওয়ায় শিক্ষার মান ও প্রশ্নপত্রের ধরন নিয়ে শিক্ষাবিদদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ভর্তি কার্যক্রমের জন্য দ্রুতই অনলাইনে পছন্দক্রম বা সাবজেক্ট চয়েস দেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


নতুন নীতিমালায় বড় ধাক্কা: এমপিও বন্ধ হচ্ছে যেসব শিক্ষকের

শিক্ষা ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জানুয়ারি ০৫ ০৮:৫২:৫৬
নতুন নীতিমালায় বড় ধাক্কা: এমপিও বন্ধ হচ্ছে যেসব শিক্ষকের
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো শিক্ষকদের বেতন-ভাতা চালু করতে যারা বাধা সৃষ্টি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে এবার চূড়ান্ত আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্যকারী প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এমপিও (মানি পে অর্ডার) আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বন্ধ করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে (মাউশি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার (৪ জানুয়ারি ২০২৬) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হয়।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই জোরপূর্বক পদত্যাগকৃত শিক্ষকদের হেনস্তা বন্ধ এবং তাদের বেতন-ভাতা নিয়মিত করার বিষয়ে দফায় দফায় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। সেই আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছিল যে, কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার বেতন-ভাতা বন্ধ করা যাবে না। তবে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও পরিচালনা কমিটি সরকারি এই আদেশ তোয়াক্কা না করে শিক্ষকদের বেতন আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর প্রেক্ষিতেই এবার সংশ্লিষ্টদের এমপিও বন্ধের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে মন্ত্রণালয়।

নতুন জারি করা এই চিঠিতে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২৫’ এর ১৮(১) (খ) ধারাটি কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান সরকারের নির্দেশনা প্রতিপালন করতে ব্যর্থ হন, তবে তার বেতন-ভাতা স্থগিত বা বাতিল করার বিধান রয়েছে। এমনকি পরিচালনা কমিটির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণাসহ তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের ফলে গত এক বছরে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার হয়ে যে সকল শিক্ষক কর্মস্থল হারিয়েছেন বা বেতন পাচ্ছেন না, তাদের অধিকার পুনরুদ্ধারে বড় ধরণের সহায়তা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আইন ও বিধিবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো শিক্ষককে হেনস্তা করা কিংবা তাদের ন্যায়সঙ্গত বেতন-ভাতা আটকে রাখা এখন থেকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই কঠোর বার্তা পৌঁছানোর পর দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

ব্যক্তিগত দায় বনাম প্রাতিষ্ঠানিক দায়: দায়মুক্তির এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের ঘটনা কাগজে পড়লে প্রথমে মনে হয় এটা যেন কোনো যুদ্ধের খবর। এক তরুণকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে হাত–পা প্রায়... বিস্তারিত