আইসিসি-কে বাঁচাতে মাঠে যুক্তরাজ্য

ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে, আইসিসি’র কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া ঠেকাতে মার্কিন প্রশাসনের কাছে সক্রিয়ভাবে লবিং করছে যুক্তরাজ্য। মিডল ইস্ট আই (MEE) নিশ্চিত করেছে, এর আগে যুক্তরাজ্য ট্রাম্প প্রশাসনকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছে যেন ব্রিটিশ নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা না দেওয়া হয়, যারা আইসিসি’র গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পেছনে ইসরায়েল ইস্যু
আইসিসির ব্রিটিশ প্রধান কৌঁসুলি কারিম খান এবং আদালতের চারজন বিচারপতির ওপর আর্থিক ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এদের মধ্যে রয়েছেন বেনিন, পেরু, স্লোভেনিয়া এবং উগান্ডা থেকে আসা বিচারকরা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ—এরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ পদক্ষেপে’ যুক্ত।
আইসিসি যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তার পেছনে রয়েছেন খ্যাতিমান ব্রিটিশ মানবাধিকার আইনজীবী আমাল ক্লুনি, সাবেক আইসিসি বিচারক লর্ড জাস্টিস অ্যাড্রিয়ান ফুলফোর্ড এবং ব্যারোনেস হেলেনা কেনেডি। তারা সবাই ২০২৩ সালে আইসিসি কৌঁসুলির আহ্বানে গঠিত একটি স্বাধীন আইনি উপদেষ্টা প্যানেলের সদস্য ছিলেন। তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াওভ গ্যালান্ট সহ সিনিয়র ইসরায়েলি ও হামাস নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন।
লেবার সরকারের নীতিগত পালাবদল
এমন সময় যুক্তরাজ্য লবিং করছে যখন ক্ষমতায় এসেছে কেয়ার স্টারমার নেতৃত্বাধীন লেবার সরকার। এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলে কনজারভেটিভ সরকারে থাকা অবস্থায় তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ফোনে আইসিসি কৌঁসুলি কারিম খানকে সরাসরি হুমকি দিয়েছিলেন—যদি ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়, তাহলে যুক্তরাজ্য আইসিসি থেকে নিজেদের অর্থায়ন প্রত্যাহার করবে এবং সদস্যপদও বাতিল করতে পারে।
২০২৪ সালের ১০ জুন ব্রিটিশ সরকার আইসিসিতে আনুষ্ঠানিকভাবে আপত্তি জানায়, যুক্তি ছিল—ইসরায়েলি নাগরিকদের বিরুদ্ধে আদালতের বিচারিক ক্ষমতা নেই। তবে মাসখানেক পর নতুন লেবার সরকার ক্ষমতায় এসে সেই আপত্তি প্রত্যাহার করে নেয়। প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র সে সময় বলেন, “আইনের শাসন এবং আদালতের স্বাধীনতা—দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে—আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখি।”
যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত এবং আইসিসি’র অস্তিত্বের সংকট
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি তার মিত্রদের জানিয়েছে, যদি আইসিসি তার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা এড়াতে চায়, তাহলে তাকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সব মামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে, এমন প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে, আইসিসি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেবে না, যদি না তারা আদালতের বিচারাধীনতা স্বীকার করে।
এই শর্তগুলোর ফলে আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তি মারাত্মকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল রোম সংবিধির স্বাক্ষরকারী নয়, তবে আফগানিস্তান সই করেছে—যার ফলে আইসিসি সেখানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্ত করতে পারে।
আইসিসিকে যদি প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়, তবে আদালতের ব্যাংকিং, সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি পরিষেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে—যা সরাসরি এর কার্যক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেবে।
কৌঁসুলির ব্যক্তিগত পরিণতি
ইতোমধ্যেই কারিম খানের মার্কিন ভিসা বাতিল হয়েছে, তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে এবং পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ছুটিতে রয়েছেন, কারণ তার বিরুদ্ধে একজন সহকর্মীর প্রতি যৌন অসদাচরণের অভিযোগে জাতিসংঘ তদন্ত চালাচ্ছে—যা তিনি অস্বীকার করেছেন এবং এখন পর্যন্ত ডাচ পুলিশের কাছে এই অভিযোগ হস্তান্তর করা হয়নি।
এই অবস্থায় ইসরায়েল ইস্যুতে আইসিসির পরবর্তী পদক্ষেপের দায়িত্ব এখন দুইজন উপ-কৌঁসুলির হাতে।
আইসিসির প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ
আইসিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা কারিম খান এবং সংশ্লিষ্ট বিচারকদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানায়। আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়:
“এই ধরনের পদক্ষেপ একটি আন্তর্জাতিক বিচারিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা এবং বৈধতা ক্ষুণ্ণ করার স্পষ্ট চেষ্টা, যে প্রতিষ্ঠান ১২৫টি রাষ্ট্রপক্ষের ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে।”
এছাড়া, আদালত আরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, প্যালেস্টাইন তদন্ত সংক্রান্ত ভবিষ্যতের কোনও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আর জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।
যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আইসিসি ইস্যুতে কূটনৈতিক টানাপড়েন এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই বিরোধ শুধু আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে না, বরং বিশ্বব্যাপী যুদ্ধাপরাধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিতে আইসিসির ভবিষ্যৎ সক্ষমতাকেও অনিশ্চিত করে তুলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই প্রক্রিয়ায় আইসিসির ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, তবে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন ও বৈশ্বিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যে লক্ষ্য তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইরানের দুঃসময়ে পুতিনের ঘোষণা; মস্কো থাকবে ‘নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হয়ে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই পারস্য নববর্ষ 'নওরোজ' উপলক্ষে ইরানের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) ক্রেমলিন থেকে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় পুতিন স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে তেহরানের পাশে ‘বিশ্বস্ত বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে থাকবে মস্কো।
ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, পুতিন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে আলাদা আলাদা বার্তা পাঠিয়েছেন। বার্তায় তিনি ইরানি জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি কামনার পাশাপাশি চলমান সংকট মোকাবিলায় তেহরানের দৃঢ়তা কামনা করেন। পুতিন আরও উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার কারণেই পুরো মধ্যপ্রাচ্য আজ অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। একইসঙ্গে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার হত্যাকাণ্ডকে পুতিন ‘নির্মম ও নিন্দনীয়’ বলে কঠোর সমালোচনা করেন।
তবে রাশিয়ার এই মৌখিক সমর্থনের বিপরীতে বাস্তব সহায়তার মাত্রা নিয়ে খোদ ইরানি মহলেই প্রশ্ন উঠেছে। কিছু ইরানি সূত্র দাবি করেছে যে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মস্কোর কাছ থেকে যে ধরনের কার্যকর সামরিক বা কৌশলগত সহায়তা প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে পুতিনের এই ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’র আশ্বাস কেবল কূটনৈতিক শিষ্টাচার না কি ভবিষ্যতে কোনো বড় সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
সূত্র: রয়টার্স
নাতাঞ্জে ফের মহাপ্রলয়: মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় কাঁপছে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র
ইরানের পরমাণু কর্মসূচির হৃৎপিণ্ড হিসেবে পরিচিত নাতাঞ্জ (Natanz) ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে আবারও ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ ২০২৬) পবিত্র ঈদুল ফিতরের সকালে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা নিশ্চিত করেছে যে, নাতাঞ্জের ‘শহীদ আহমাদি রোশন’ সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অপরাধমূলক হামলার’ লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা (Al Jazeera) এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে।
ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার দাবি অনুযায়ী, শনিবারের এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তির (NPT) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই স্পর্শকাতর স্থাপনাটি যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেই একবার বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছিল, যার প্রমাণ মিলেছিল স্যাটেলাইট ছবিতে। ২০২৫ সালের জুনেও ইরান-ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় এই স্থাপনাটিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছিল।
এদিকে, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলমান এই বিধ্বংসী সংঘাত থামার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। ইসরায়েল দাবি করেছে, শনিবার ভোরেও ইরান তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। পাল্টা জবাবে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর দিকে ধেয়ে আসা অন্তত ২০টি ইরানি ড্রোন মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভূপাতিত করা হয়েছে। পারস্য উপসাগরজুড়ে এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
/আশিক
রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর খবর: ভারতসহ এশিয়ার টার্গেট এখন ইরান
বিশ্বের জ্বালানি বাজারে এক বিশাল পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে সমুদ্রের বিভিন্ন প্রান্তে ভাসমান জাহাজগুলোতে প্রায় ১৭ কোটি (১৭০ মিলিয়ন) ব্যারেল ইরানি তেল মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলার (Kpler)। অন্যদিকে, ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters)-এর এক প্রতিবেদনে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি আসপেক্টস (Energy Aspects)-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ১৯ মার্চ পর্যন্ত এই তেলের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩ থেকে ১৪ কোটি ব্যারেল।
সবচেয়ে বড় খবর হলো, গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেলের ওপর থেকে এক মাসের জন্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রে আটকে থাকা এই বিশাল পরিমাণ তেল এখন খালাস ও বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারতসহ এশিয়ার প্রধান আমদানিকারক দেশগুলো দ্রুত এই তেল কেনার পরিকল্পনা করছে। উল্লেখ্য যে, এশিয়ার দেশগুলো তাদের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল।
কিন্তু চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের শোধনাগারগুলো মারাত্মক সংকটে পড়ে উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। এখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় শিথিলতা আসার পর এই বিশাল মজুত বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স
হরমুজ উত্তেজনার প্রভাব, ইরান তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত

আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে তেলের দাম ও সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি প্রথম প্রকাশ করে আল জাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এই ৩০ দিনের সাময়িক অনুমোদন শুধুমাত্র সেইসব তেলের জন্য প্রযোজ্য, যেগুলো ইতোমধ্যে পরিবহন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। নতুন কোনো ক্রয়াদেশ বা রপ্তানির ক্ষেত্রে এই শিথিলতা প্রযোজ্য হবে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন। এর ফলে সীমিত পরিসরে হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে কিছু পরিমাণ তেল প্রবাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান উত্তেজনা। ইরান ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা এমন জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে যেগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যা সরাসরি বৈশ্বিক বাজারে মূল্য অস্থিরতা তৈরি করছে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সমুদ্রে অবস্থানরত ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে। তার মতে, প্রায় ১৪ কোটি ব্যারেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে, যা দামের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে।
তবে এই দাবির বিপরীতে ইরান ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছে। ইরানের তেল মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সামান গোদ্দোসি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করার মতো অতিরিক্ত অপরিশোধিত তেল তাদের কাছে নেই। তিনি দাবি করেন, সমুদ্রে ভাসমান বা অন্য কোথাও মজুদ হিসেবে এমন কোনো অতিরিক্ত তেল নেই যা দ্রুত বাজারে আনা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন অর্থমন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্য মূলত সম্ভাব্য ক্রেতাদের মধ্যে একটি মনস্তাত্ত্বিক আস্থা তৈরির প্রচেষ্টা, যা বাস্তব সরবরাহ পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সার্বিকভাবে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জ্বালানি বাজার এখন কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং গভীরভাবে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই সাময়িক সিদ্ধান্ত বাজারে স্বল্পমেয়াদি স্বস্তি আনতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ প্রণালী, আঞ্চলিক সংঘাত এবং সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা বৈশ্বিক অর্থনীতিকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
হরমুজের সংকট মোকাবেলায় ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনায় ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন এক কৌশল বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল বা অবরোধের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে, যা দেশটির তেল রপ্তানির মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত এই দ্বীপটি ইরানের মোট তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ধারণা করা হচ্ছে যে, সামরিক চাপ আরও বৃদ্ধি করে খার্গ দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া গেলে ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করা সম্ভব হতে পারে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথমে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা, এরপর দ্বীপটি দখল করে সেটিকে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানা গেছে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দ্বীপটিতে একাধিক হামলা চালিয়ে সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্থল অভিযান পরিচালনার বিষয়টি আরও জটিল, কারণ এতে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা সরাসরি ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। খার্গ দ্বীপের ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে, সেখানে সেনা মোতায়েন করলে তারা সহজেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আওতায় চলে আসবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে, যা এই সম্ভাব্য পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে যে পরিস্থিতি অনুযায়ী উপকূলীয় অভিযানও বাস্তবায়িত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, খার্গ দ্বীপকে কেন্দ্র করে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা কেবল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করবে না, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সমুদ্রপথের নিরাপত্তার ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলবে। কারণ হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ, যেখানে যেকোনো সামরিক উত্তেজনা তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
সার্বিকভাবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও গভীর পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, যেখানে কৌশলগত অবকাঠামো দখল এবং জ্বালানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ হয়ে উঠবে প্রধান শক্তির লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু।
চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েলের অস্ত্র কারখানায় আগুন
চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েল-সংযুক্ত একটি অস্ত্র কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ইউরোপভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত এবং ইসরায়েলের বৃহৎ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত এই স্থাপনাটি ভোরের দিকে আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনাটিতে কারখানার একাধিক ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
চেক পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অগ্নিকাণ্ডের পেছনে সম্ভাব্য ‘সন্ত্রাসী সংযোগ’ রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও উদ্দেশ্য নির্ধারণে ফরেনসিক তদন্ত চলছে।
এদিকে ‘আর্থকোয়েক ফ্যাকশন’ নামের একটি আন্ডারগ্রাউন্ড সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ইউরোপে ইসরায়েলের অন্যতম বড় অস্ত্র প্রস্তুতকারকের কার্যক্রম পরিচালনায় এই স্থাপনাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিল। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে।
উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানটি স্থল ও আকাশভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের জন্য পরিচিত, যা সাম্প্রতিক বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে ব্যবহৃত হয়েছে। ফলে এই কারখানায় হামলার ঘটনা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন অগ্নিকাণ্ড নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের ভেতরে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে তা শুধু নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াবে না, বরং চলমান আন্তর্জাতিক সংঘাতের ভৌগোলিক বিস্তৃতিও নতুন মাত্রা পেতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি ঘিরে তদন্তের অগ্রগতি এবং এর সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
সুত্রঃ আল জাজিরা।
তেলের দামের ধাক্কায় সংকটে ভারতীয় বিমান খাত, রুট বন্ধের সতর্কতা

আশিকুর রহমান
স্টাফ রিপোর্টার
বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে ভারতের বেসামরিক বিমান খাতে। দেশটির শীর্ষ বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন সরকারের কাছে সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেক রুট বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং নতুন উড়োজাহাজ সংযোজনেও বিলম্ব দেখা দিতে পারে। এই সংগঠনের আওতায় থাকা বড় বিমান সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এবং স্পাইসজেট।
সংগঠনটি সরকারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিমান পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে, যা তাদের আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে তারা ডিসেম্বর মাসে আরোপিত ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নীতিও প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে, কারণ এই সীমাবদ্ধতার কারণে বাড়তি ব্যয় যাত্রী ভাড়ার মাধ্যমে সমন্বয় করা সম্ভব হচ্ছে না।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে বড় ধরনের রাজস্ব ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং পরিচালন ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে একাধিক সংস্থা গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়তে পারে, যা তাদের টিকে থাকার সক্ষমতাকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির দামের সামান্য পরিবর্তনও এই খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। একটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি ব্যারেল তেলের দামে এক ডলার বৃদ্ধি একটি বড় বিমান সংস্থার বার্ষিক জ্বালানি ব্যয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে দিতে পারে, যা সামগ্রিক আর্থিক ভারসাম্যকে নড়বড়ে করে দেয়।
সার্বিকভাবে পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধি কেবল একটি অর্থনৈতিক ইস্যু নয়, বরং এটি বৈশ্বিক পরিবহন ব্যবস্থার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। ভারতের মতো দ্রুতবর্ধনশীল বিমান বাজারেও এই চাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যেখানে রুট সংকোচন, বহর সম্প্রসারণে বিলম্ব এবং ভাড়া নীতির পুনর্বিবেচনা এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
ঈদের আনন্দ ম্লান: যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিশ্ব

আহমেদ ইশতিয়াক
স্টাফ রিপোর্টার (আন্তর্জাতিক)
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান যুদ্ধ, ধ্বংস এবং বাস্তুচ্যুতির গভীর সংকটে এবারের ঈদুল ফিতর এক ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। যে উৎসব সাধারণত আনন্দ, পারিবারিক বন্ধন এবং আধ্যাত্মিক প্রশান্তির প্রতীক, তা এবার বহু মানুষের কাছে পরিণত হয়েছে অনিশ্চয়তা, ক্ষতি এবং বেঁচে থাকার সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে। বৈরুত থেকে গাজা পর্যন্ত বিস্তৃত এই সংকট দেখাচ্ছে, কীভাবে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত একটি অঞ্চলের সামাজিক ও মানবিক কাঠামোকে ভেঙে দিতে পারে।
লেবাননের রাজধানী বৈরুতের সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় আশ্রয়ের সন্ধানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আলা নামের এক শরণার্থী। সিরিয়ার অধিকৃত গোলান মালভূমি থেকে আগত এই মানুষটি একসময় বসবাস করতেন দাহিয়েহ এলাকায়, যা সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলায় লেবাননে ইতোমধ্যে হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নিজের বাসস্থান হারিয়ে তিনি এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত জীবনে নিপতিত, যেখানে প্রতিদিনের প্রধান লক্ষ্য একটি নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাওয়া। এই বাস্তবতায় ঈদের মতো উৎসব তার কাছে অর্থহীন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি আরও গভীর ও বেদনাদায়ক। দীর্ঘ সময় ধরে চলমান সংঘাতে এই অঞ্চল কার্যত মানবিক বিপর্যয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছে। অব্যাহত হামলা, অবরোধ এবং অবকাঠামোগত ধ্বংসের ফলে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং বিপুল সংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং চিকিৎসাসেবার মতো মৌলিক প্রয়োজনীয়তাও অনেক ক্ষেত্রে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় ঈদ উদযাপন করা মানুষের কাছে একপ্রকার অসম্ভব অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।
এই অঞ্চলের অসংখ্য পরিবার আজ এমন এক অবস্থায় রয়েছে, যেখানে উৎসবের আনন্দ নয়, বরং নিরাপত্তা এবং টিকে থাকার প্রশ্নই মুখ্য হয়ে উঠেছে। শিশুদের স্বাভাবিক শৈশব, নতুন পোশাক কিংবা পরিবারকেন্দ্রিক আনন্দময় মুহূর্তগুলো যুদ্ধের বাস্তবতায় হারিয়ে যাচ্ছে। ঈদের প্রার্থনাও অনেক ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে শান্তি, নিরাপত্তা এবং একটি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষায়।
সার্বিকভাবে এবারের ঈদ মধ্যপ্রাচ্যে কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং একটি গভীর মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। এটি স্মরণ করিয়ে দেয় যে, যুদ্ধের প্রভাব কেবল ভূরাজনৈতিক বা সামরিক সীমারেখায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সংস্কৃতি এবং আবেগের গভীরে গিয়ে আঘাত হানে। এই বাস্তবতায় ঈদ হয়ে উঠেছে আশ্রয়, নিরাপত্তা এবং শান্তির জন্য মানুষের এক নীরব আবেদন।
ইসরায়েলে প্রথমবার 'নাসরুল্লাহ' মিসাইল ব্যবহার করল ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটি দাবি করেছে, তাদের ঘোষিত ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ধারাবাহিকতায় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ৬৫তম দফায় ব্যাপক প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, এই অভিযানে প্রথমবারের মতো উন্নত প্রযুক্তির মাল্টি-ওয়ারহেড সমৃদ্ধ ‘নাসরুল্লাহ’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এই নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্রটি কদর সিরিজের আধুনিকায়িত ও গাইডেড সংস্করণ, যা লক্ষ্যবস্তুতে আরও নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম।
ইরানের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র আশদোদ ও হাইফা অঞ্চলের তেল শোধনাগার। এই অবকাঠামোগুলো দেশটির জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত, ফলে এগুলোতে আঘাতের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।
তবে এই সামরিক অভিযানের পরিধি শুধু ইসরায়েলেই সীমাবদ্ধ ছিল না বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কিছু মার্কিন সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের আল-খারজ বিমানঘাঁটি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা ও আল-জাফরা ঘাঁটিতে বিভিন্ন ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘাঁটিগুলো মূলত মার্কিন ও মিত্রবাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ফলে এসব স্থাপনায় হামলার দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক পদক্ষেপের জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, তাদের লক্ষ্য পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এই ধরনের সামরিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকতে পারে।
তবে এসব দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের পাল্টাপাল্টি দাবি ও পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।
-রাফসান
পাঠকের মতামত:
- ইরানের দুঃসময়ে পুতিনের ঘোষণা; মস্কো থাকবে ‘নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হয়ে
- নাতাঞ্জে ফের মহাপ্রলয়: মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় কাঁপছে ইরানের পরমাণু কেন্দ্র
- সংসদে সমাধান না হলে রাজপথই শেষ ভরসা: গণভোট নিয়ে অনড় অবস্থানে জামায়াত
- রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর খবর: ভারতসহ এশিয়ার টার্গেট এখন ইরান
- প্রত্যাশিত দেশ গড়তে দেশবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
- নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রথম ঈদ: উৎসব, ঐক্য ও প্রত্যাশার বাংলাদেশ
- হরমুজ উত্তেজনার প্রভাব, ইরান তেলে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত
- বিরোধী দলীয় নেতার ঈদের শুভেচ্ছা: সরকারি বাসভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন
- রমজানের শিক্ষা থেকে ঐক্যের ডাক: ঈদের আনন্দ ভাগাভাগির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- হরমুজের সংকট মোকাবেলায় ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনায় ট্রাম্প
- চেক প্রজাতন্ত্রে ইসরায়েলের অস্ত্র কারখানায় আগুন
- তেলের দামের ধাক্কায় সংকটে ভারতীয় বিমান খাত, রুট বন্ধের সতর্কতা
- ঈদের আনন্দ ম্লান: যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিশ্ব
- ইসরায়েলে প্রথমবার 'নাসরুল্লাহ' মিসাইল ব্যবহার করল ইরান
- জুমাতুল বিদা: ফজিলত, দোয়া ও করণীয় জানুন
- ইসরায়েলকে বড় জরিমানা ফিফার, কারণ কী
- শ্রমিকদের বেতন-বোনাস শতভাগ পরিশোধ করছে সরকার
- ট্রাম্প ও মিত্রদের জন্য ‘অপ্রত্যাশিত চমক’ প্রস্তুত রয়েছে- ইরান
- ইরান যুদ্ধে আটকে পড়ে পালানোর পথ খুঁজছেন ট্রাম্প
- সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন দেশের যেসব জায়গায়
- ‘বিশ্বকে রক্ষা করছি’ নেতানিয়াহুর দাবি
- আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তা
- ২০ মার্চ ঢাকার নামাজের পূর্ণ সময়সূচি
- দুই দফায় কমলো স্বর্ণের দাম, ভরি মিলবে মাত্র ২ লাখ ২ হাজার টাকায়
- ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
- জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হলে আর ছাড় নয়: ইরান
- চাঁদ দেখার পর যে দোয়া পড়তেন নবী (সা.)
- কাতারের জ্বালানি কমপ্লেক্সে হামলা ইরানের সামরিক সক্ষমতার সীমিত অংশ
- ইরানের হামলায় ইসরাইলের তেল শোধনাগারে আগুন
- ‘আমি বেঁচে আছি’- গুজব ভেঙে সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু
- ইরান মিশনের পর জরুরি অবতরণ মার্কিন F-35, F-35 ক্ষতিগ্রস্ত?
- গ্যাস শক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে ইরানের আঘাত: বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তার নতুন ঢেউ
- ‘কোরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে নিজেই বদলে গেলাম’
- যুদ্ধের মাঝেই হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরানের মাস্টারপ্ল্যান
- যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত নেই: পেন্টাগনের ব্রিফিংয়ে ইরান ধ্বংসের নতুন নীল নকশা
- মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে ড্রোন হানা: ওয়াশিংটনের সামরিক ঘাঁটিতে আতঙ্ক
- বৃষ্টির বাধায় কি ম্লান হবে ঈদের আনন্দ? আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ আপডেট
- ২০২৬ সালে ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারবেন
- এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছে দুই নতুন সংগঠন
- কুমিল্লা শেষ সময়ে জমজমাট আতর-টুপির বাজার
- ক্যাম্পাসের ব্যস্ততা পেরিয়ে ঈদের ছুটিতে কুবি শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফেরার আনন্দ
- ‘আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে’: ইরানকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী
- ইরান হামলার নিন্দা, আমিরাতের পাশে মিশর
- কালিগঞ্জের পল্লীতে ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
- এক বছরে দুই রমজান ও তিন ঈদের অপেক্ষায় মুসলিম উম্মাহ
- জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত; শনিবারই উদযাপিত হবে ঈদ
- মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয় রুখতে ইউরোপের আল্টিমেটাম
- ৬ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও ধস: সোনার দামে বাজুসের ঐতিহাসিক রেকর্ড পতন
- কাতারের গ্যাসে ইরানের আগুন: অন্ধকারে ডুবতে পারে বাংলাদেশের ৭০ শতাংশ এলাকা
- বাড়তি ভাড়া নিলেই কড়া অ্যাকশন: সেতুমন্ত্রীর
- সৌদিতে আজ কি দেখা যাবে ঈদের চাঁদ? সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে
- বিলাসবহুল ধাতু স্বর্ণ এখন আরও সস্তা: বাজুসের নতুন মূল্য তালিকা প্রকাশ
- ঈদ কি তবে শুক্রবার? সৌদি আরবের চাঁদ দেখা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটল!
- ‘৫০তম অভিযান’ ঘোষণা ইরানের, রণক্ষেত্র চার দেশে
- কালিগঞ্জের পল্লীতে ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে জখম, টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
- ঈদুল ফিতর ২০২৬: প্রধান জামাতের সময় ও জাতীয় ঈদগাহের সুযোগ-সুবিধা জেনে নিন
- আজ ডিএসইর সেরা ১০ গেইনার কোনগুলো
- ১৪৪৭ হিজরির রমজান কি ২৯ দিনে শেষ হবে? সৌদি সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
- ১৬ মার্চ ডিএসই: আজকের শেয়ারবাজার বিশ্লেষণ
- পবিত্র রমজানের ২৫তম দিন; ১৫ মার্চের নামাজের সঠিক সময়সূচি জানুন
- হাজার মাসের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত: জেনে নিন শবে কদরের করণীয় ও বর্জনীয়
- শেয়ারবাজারে দরপতনে এগিয়ে যেসব শেয়ার
- সংসদে নয়া ইতিহাস: প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি পেল জামায়াতে ইসলামী
- ঈদের ছুটিতে ব্যাংকিং সেবা কীভাবে পাবেন, জানুন বিস্তারিত
- ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের পূর্বাভাস; ৪ জেলায় কালবৈশাখীর বড় সতর্কবার্তা








