ইরান ইস্যুতে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একজোট ইউরোপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ এপ্রিল ২৫ ২১:২২:৩২
ইরান ইস্যুতে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিভক্তি: যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একজোট ইউরোপ
ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের প্রভাবে যখন বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত টালমাটাল, ঠিক তখনই পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে ফাটল ধরার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। পেন্টাগনের একটি গোপন ইমেইল ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাইপ্রাসে আয়োজিত ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন এখন চরম উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। ফাঁস হওয়া ওই তথ্যে দেখা গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানে সমর্থন না দেওয়ায় স্পেনকে ন্যাটো থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া মেইলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, স্পেন যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানে পাশে না থাকে, তবে তাদের ন্যাটো থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার চেষ্টা করতে পারে ওয়াশিংটন। তবে ন্যাটোর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো সদস্য রাষ্ট্রকে বহিষ্কারের সরাসরি কোনো বিধান নেই। স্পেনের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হলে জোটের সব সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের এমন একতরফা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টায় ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলো ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

সাইপ্রাস সম্মেলনে পৌঁছে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সাংবাদিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্পেন ন্যাটোর প্রতি দায়বদ্ধ। তবে ন্যাটোভুক্ত অন্য ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি স্পেনের সমর্থনে দাঁড়িয়েছে। ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব জেটেন স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, স্পেন ন্যাটোর পূর্ণ সদস্য এবং সবসময় তাই থাকবে। জার্মানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও একই সুর মিলিয়েছেন। অন্যদিকে, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ওয়াশিংটন ও মাদ্রিদের মধ্যকার এই উত্তেজনাকে ‘ইতিবাচক নয়’ বলে অভিহিত করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হার্ডলাইন নীতির কারণে ইতালিসহ গোটা ইউরোপের জনমত এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চলে গেছে। এমনকি ট্রাম্পের একসময়ের বন্ধু হিসেবে পরিচিত মেলোনিও এখন চাপের মুখে তাঁর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন। ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন এবং জ্বালানি সংকটের এই নাজুক সময়ে ন্যাটোর ভেতর এমন অন্তর্দ্বন্দ্ব পুরো পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

/আশিক


রাডারের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন ২১ লাখ ব্যারেল তেলের গোপন প্রবাহ সচল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ২১:৫১:৩২
রাডারের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিদিন ২১ লাখ ব্যারেল তেলের গোপন প্রবাহ সচল
ছবি : সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধের জের ধরে গত তিন মাস ধরে কার্যত অচল বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের ফুসফুসখ্যাত ‘হরমুজ প্রণালী’। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে জলপথটি বন্ধ থাকায় ইতিহাসে অন্যতম বড় জ্বালানি সরবরাহ সংকটে পড়েছে বিশ্ব। কিন্তু বিস্ময়করভাবে, এই মহাকটূক্তির মাঝেও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আশঙ্কার চেয়ে অনেক কম এবং তুলনামূলক শান্ত রয়েছে, যা বর্তমানে বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় ধাঁধায় পরিণত হয়েছে।

বৈশ্বিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগানের (JPMorgan) হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের আগের তুলনায় বর্তমানে এই রুটে দৃশ্যমান জাহাজ চলাচল মাত্র ১৫ শতাংশে নেমে এলেও বাজার কেন এখনও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি, তার নেপথ্য কারণ উদ্ঘাটন করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকেরা।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর ওপর আরোপিত এই কঠোর সামরিক ও নৌ নিয়ন্ত্রণের মধ্যেও বাজারের স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছে মূলত একটি ‘গোপন প্রবাহ’ (Clandestine Flow)। কিছু তেলবাহী জাহাজ তাদের ট্র্যাকিং ব্যবস্থা বা ট্রান্সপন্ডার (Transponder) সম্পূর্ণ বন্ধ রেখে, আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়িয়ে ‘ভূতের মতো’ অন্ধকারে হরমুজ প্রণালী পার হচ্ছে। জেপি মরগানের তথ্যানুযায়ী, মে মাসের শেষ দুই সপ্তাহে প্রতিদিন প্রায় ২১ লাখ ব্যারেল তেল এভাবে অলৌকিকভাবে পরিবহন হয়েছে।

যুদ্ধের আগে প্রতিদিন এই পথে ১ কোটি ৫৬ লাখ ব্যারেল তেল যেতো; সেই তুলনায় এই গোপন প্রবাহ কম হলেও বৈশ্বিক বাজারে তাৎক্ষণিক বড় ধাক্কা সামলানোর ক্ষেত্রে এটি লাইফলাইন হিসেবে কাজ করছে। জেপি মরগানের বৈশ্বিক পণ্যবাজার কৌশল বিভাগের প্রধান নাতাশা কানেভা এক নোটে বিস্ময় প্রকাশ করে লিখেছেন, “কঠোর নৌ অবরোধ সত্ত্বেও আশ্চর্যজনক পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য এখনও হরমুজ প্রণালী দিয়ে গোপনে পার হচ্ছে।”

অন্যদিকে পাইপার স্যান্ডলারের বৈশ্বিক জ্বালানি অর্থনীতিবিদ জান স্টুয়ার্টের হিসাব অনুযায়ী, মে মাসে প্রতিদিন মোট ২৯ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ দিয়ে বের হয়েছে, যার মধ্যে ৯ লাখ ব্যারেল ছিল সম্পূর্ণ ‘ভূতুড়ে’ বা অন্ধকারে চলাচল করা জাহাজ এবং বাকি ২১ লাখ ব্যারেল ইরানি সংস্থাকে ফি দিয়ে পার হয়েছে। র‍্যাপিডান এনার্জি গ্রুপের সভাপতি বব ম্যাকন্যালিও স্বীকার করেছেন যে, এই গোপন প্রবাহের কারণে হরমুজ দিয়ে তেল চলাচল আমরা যতটা শূন্যের কোঠায় ভেবেছিলাম, বাস্তবে তার চেয়ে কিছুটা বেশি হচ্ছে।

গোপন প্রবাহের পাশাপাশি তেলের বাজার শান্ত থাকার পেছনে আরও কয়েকটি বড় কৌশলগত কারণ কাজ করছে। পাইপার স্যান্ডলারের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৪৫ লাখ ব্যারেল তেল পারস্য উপসাগরের মূল রুট এড়িয়ে বিকল্প পথে বের করা হচ্ছে, যার বড় অংশ যাচ্ছে ‘সৌদি ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের’ মাধ্যমে—যা সৌদি আরবের তেলক্ষেত্রগুলোকে সরাসরি লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।

এ ছাড়া বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি ব্যবহারকারী দেশ চীন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানি এক ধাক্কায় অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে এবং তাদের বিশাল কৌশলগত মজুত (Strategic Reserve) থেকে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ সংকটের তীব্র চাপ অনেকটাই প্রশমিত হয়েছে। আর এসব কারণেই আন্তর্জাতিক তেলের মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’ (Brent Crude) সম্প্রতি সর্বোচ্চ ১১৪ ডলারে ওঠার পর গত শুক্রবার প্রতি ব্যারেল ৯৩ ডলারে নেমে এসেছে, যা যুদ্ধের আগের ৭০ ডলারের চেয়ে বেশি হলেও বর্তমান যুদ্ধাবস্থার তুলনায় বেশ কম।

তবে এই আপেক্ষিক শান্তি সাময়িক এবং সামনে আরও ভয়াবহ বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বিশ্ববাজার বর্তমানে বিকল্প ব্যবস্থার কারণে প্রকৃত ঝুঁকিটি পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারছে না। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিক তেলের মজুত দ্রুত কমছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব কৌশলগত তেলের মজুত (SPR) ১৯৮০-এর দশকের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। জান স্টুয়ার্ট অত্যন্ত কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, “পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে যাচ্ছে।” তিনি পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, আগামী জুলাই ও আগস্টের তীব্র গরমে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি একলাফে ১৩০ ডলারে উঠে যেতে পারে।

আর এমনটি হলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দাম প্রতি গ্যালন বর্তমানের ৪.২০ ডলার থেকে বেড়ে ৫ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। স্টুয়ার্টের মতে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি ব্যবহারের অপচয় কমাতে এবং মানুষকে ব্যবহারে বাধ্য করতে তেলের দাম দ্রুত বাড়া প্রয়োজন। ফলে হরমুজ প্রণালীর বর্তমান ‘গোপন বাণিজ্য’ সাময়িকভাবে বাজার ধরে রাখলেও, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যেকোনো মুহূর্তে এক প্রলয়ংকরী সুনামি আছড়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন


দুই ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান: চালকবিহীন স্পিডবোট ড্রোনে প্রাণ বাঁচল ২ মার্কিন পাইলটের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ২১:৩০:৩৪
দুই ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান: চালকবিহীন স্পিডবোট ড্রোনে প্রাণ বাঁচল ২ মার্কিন পাইলটের
ছবি : সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির কাছে ওমান উপকূলসংলগ্ন জলসীমায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি শক্তিশালী 'এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি' (AH-64 Apache) যুদ্ধবিমান সাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনার চেয়েও বিশ্বজুড়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এর উদ্ধার অভিযানটি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো মানবহীন চালকবিহীন স্পিডবোট ড্রোনের (Unmanned Surface Vessel) সফল ব্যবহারের মাধ্যমে সাগরে ভাসমান দুই মার্কিন পাইলটকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সোমবারের এই রোমাঞ্চকর উদ্ধার অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, ওমান উপকূলে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার সাগরে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর দুই মার্কিন পাইলটকে মার্কিন যৌথ বাহিনী অত্যন্ত দ্রুততার সাথে উদ্ধার করে। তবে কীভাবে এবং কোন প্রযুক্তিতে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে সেন্টকমের মূল বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি এবং শুরুতে চালকবিহীন বিশেষ নৌযান ব্যবহারের বিষয়টিও তারা গোপন রেখেছিল।

সেন্টকম জানায়, স্থানীয় সময় সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উদ্ধার অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ, হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যেই দুই সেনাসদস্যকে লাইফ জ্যাকেটসহ সমুদ্রের বুক থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বর্তমানে দুই পাইলটই মার্কিন সামরিক হাসপাতালে সম্পূর্ণ স্থিতিশীল ও সুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে উচ্চপর্যায়ের সামরিক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

তবে সেন্টকম বিস্তারিত না জানালেও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে (CBS News) জানিয়েছেন, এই ঐতিহাসিক উদ্ধারকাজে মূলত ব্যবহার করা হয়েছিল একটি সর্বাধুনিক চালকবিহীন স্পিডবোট ড্রোন। বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (US Fifth Fleet) অধীনে পরিচালিত অত্যন্ত গোপনীয় ও বিশেষ প্রযুক্তিগত ইউনিট ‘টাস্ক ফোর্স ৫৯’ (Task Force 59) এই উদ্ধারকারী ড্রোনটি সফলভাবে চালনা করে।

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে সাগরে ক্র্যাশ করা পাইলটদের জলপথ উদ্ধার অভিযানে সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা রিমোট-কন্ট্রোলড ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও টাস্ক ফোর্স ৫৯-এর ২০২৩ সালের একটি সামরিক নথিতে বিভিন্ন ধরনের আত্মঘাতী ও গোয়েন্দা নৌ ড্রোনের উল্লেখ ছিল, তবে সোমবারের এই উদ্ধার অভিযানে ঠিক কোন মডেলের স্পিডবোট ড্রোন ব্যবহৃত হয়েছে, তা কৌশলগত কারণে এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বংসের এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা সম্পর্কে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত স্বস্তির সাথে বলেন, "আমাদের সাহসী পাইলটরা এখন সম্পূর্ণ ভালো আছে। সবচেয়ে বড় কথা, অলৌকিকভাবে কেউ গুরুতর আহত হননি।" উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান পরমাণু চুক্তির উত্তেজনার মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছে এই মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনাটি নিয়ে চিরবৈরী ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

তবে তারা বিদেশি সংবাদমাধ্যমের তথ্য উদ্ধৃত করা ছাড়া নতুন কোনো নিজস্ব বা সামরিক তথ্য দিতে পারেনি। হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত ও ড্রোনের মাধ্যমে পাইলট উদ্ধারের এই এক্সক্লুসিভ খবরটি বিশ্বে প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদপত্র 'নিউইয়র্ক টাইমস'।

/আশিক


ইরান ও ইসরায়েল বড় যুদ্ধ থামিয়ে বিষয়টি এখানেই চুকিয়ে দিয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ১৮:৩১:০৬
ইরান ও ইসরায়েল বড় যুদ্ধ থামিয়ে বিষয়টি এখানেই চুকিয়ে দিয়েছে: ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবি : সংগৃহীত

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরাতে এক ‘ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী’ চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) ওয়াশিংটনে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে জানান, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অত্যন্ত কঠোর ও নিটোল চুক্তির একেবারে শেষ প্রান্তে রয়েছে, যা কোনো অবস্থাতেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেবে না। ট্রাম্প আরও যোগ করেন, এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে; যা আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই বাস্তবে রূপ নিতে পারে।

এর আগে গতকাল সোমবার মধ্যপ্রাচ্যের দুই চিরবৈরী দেশ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর আজ নতুন করে এক বড় তথ্য দিলেন ট্রাম্প। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, ইসরায়েল এবং ইরান অন্তত আগামী এক সপ্তাহের জন্য একে অপরের ওপর নতুন করে কোনো ধরনের সামরিক আক্রমণ করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকবে। গত রোববারের রক্তক্ষয়ী মিসাইল ও বিমান হামলার রেশ টেনে ট্রাম্প সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়ে বলেন, "তিনি (নেতানিয়াহু) প্রথমে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং এর জবাবে তিনি পাল্টা আঘাত করেছেন; আর নিজের দেশের সুরক্ষায় নেওয়া এই পদক্ষেপের জন্য আমি তাকে কোনোভাবেই দোষ দিতে পারি না।"

মার্কিন প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিকে শান্ত দাবি করে আরও বলেন, "নেতানিয়াহু আক্রান্ত হওয়ার পর পাল্টা আঘাত করেছেন এবং এখন তারা (ইরান ও ইসরায়েল) বিষয়টি এখানেই চুকিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং, তারা অন্তত আরও এক সপ্তাহ বা এই রকম কিছু সময়ের জন্য একে অপরকে আর কোনোভাবে ঘাঁটাবে না বা আক্রমণ করবে না।" হোয়াইট হাউজের এই সর্বোচ্চ আশ্বাসের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যেমন স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে, তেমনি হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণায় বিশ্ব অর্থনীতিতেও স্বস্তির হাওয়া বইছে। ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে এই বহুপ্রতীকিত ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি সই হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।

সূত্র: আলজাজিরা


হরমুজের আকাশে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, কী ঘটেছে?

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ১৩:৫৩:২৮
হরমুজের আকাশে মার্কিন হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, কী ঘটেছে?
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডরগুলোর একটি হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী এলাকায় মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি গানশিপ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অঞ্চলজুড়ে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে এ ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

তবে দুর্ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারটি ধ্বংস হলেও এর পাইলট ও ক্রুরা নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন এবং কেউ আহত হননি। ফলে প্রাণহানির আশঙ্কা আপাতত দূর হয়েছে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি মার্কিন প্রশাসন। হেলিকপ্টারটি কোনো বৈরী হামলার শিকার হয়েছিল, নাকি প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নেভিগেশনজনিত সমস্যা অথবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা নির্ধারণে তদন্ত শুরু হয়েছে।

ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে এবং দ্রুত প্রাথমিক তথ্য প্রকাশ করা হবে।

সামরিক সূত্রগুলো বলছে, দুর্ঘটনার সময় হেলিকপ্টারটি নিয়মিত টহল, নজরদারি অথবা অপারেশনাল মিশনে অংশ নিয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তাদের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে।

এই অভিযানের অংশ হিসেবে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, নজরদারি প্ল্যাটফর্ম এবং অ্যাপাচি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনার যেকোনো ঘটনা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে।

ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর এই প্রথম কোনো মার্কিন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ধ্বংস হওয়ার খবর সামনে এলো। যদিও এখনো কোনো পক্ষ সরাসরি শত্রুপক্ষের হামলাকে দায়ী করেনি।

অন্যদিকে, ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তারা মার্কিন বাহিনীর একাধিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের সময় অন্তত ৩০টি মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলো প্রধানত উপকূলীয় টহল, সুরক্ষা এবং সীমিত আক্রমণাত্মক মিশনে ব্যবহৃত হতো। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মার্কিন বাহিনী এগুলোকে আরও গভীর সমুদ্রাঞ্চল ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে ব্যবহার করছে।

ফলে সম্ভাব্য ঝুঁকিও আগের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থার যুগে যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

ড্রোন ধ্বংসের দাবি সেন্টকমের

এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী এলাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা দুটি ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।

সেন্টকমের দাবি, আন্তর্জাতিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যেকোনো ধরনের সামরিক হুমকির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালী মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রধান প্রবেশদ্বার। সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে।

এ কারণে হরমুজ অঞ্চলে সামরিক সংঘাত, নৌ অবরোধ কিংবা বিমান দুর্ঘটনার মতো যেকোনো ঘটনা বিশ্ববাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপাচি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনাটিও শুধু একটি সামরিক দুর্ঘটনা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, হেলিকপ্টারটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে নাকি কোনো ধরনের আক্রমণের মুখে পড়েছিল। তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পরই এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

-রফিক


ইউরেনিয়াম কর্মসূচিতে ছাড় নয়, ট্রাম্প হলেন ‘অবিশ্বস্ত’- ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ০৮:১২:৩০
ইউরেনিয়াম কর্মসূচিতে ছাড় নয়, ট্রাম্প হলেন ‘অবিশ্বস্ত’- ইরান
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে আবারও কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছে তেহরান। ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা ও সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার মোহসেন রেজায়ি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের সামরিক বা নৌ অবরোধ মেনে নেবে না ইরান। প্রয়োজনে এমন অবরোধ শক্তি প্রয়োগ করে ভেঙে দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

রাশিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ি বলেন, ইরান বর্তমানে আলোচনার মাধ্যমে তার লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে আন্তর্জাতিক জলপথে ইরানের বৈধ অধিকার খর্ব করার যেকোনো প্রচেষ্টা সরাসরি প্রতিরোধ করা হবে। তার ভাষায়, হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত কোনো অবরোধ ইরানের সার্বভৌম অধিকারের বিরুদ্ধে যাবে এবং সে ধরনের পদক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে দৃঢ়ভাবে।

ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, কূটনীতি এবং আত্মরক্ষা একে অপরের পরিপূরক। তেহরান আলোচনায় আন্তরিক হলেও জাতীয় নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে আরও বেশি দৃঢ়। তিনি দাবি করেন, ইরান কখনোই তার বৈধ অধিকার বা কৌশলগত অবস্থান থেকে সরে আসবে না।

রেজায়ির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, ইরান নিজেকে শুধু আলোচনার টেবিলে নয়, প্রয়োজন হলে সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রস্তুত রাখতে চায়। তার মতে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র একই সঙ্গে কূটনৈতিক সাফল্য, প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার মাধ্যমে বিজয় অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।

সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকারও তীব্র সমালোচনা করেন। রেজায়ির দাবি, সাম্প্রতিক সংকটগুলো বিশ্ববাসীর সামনে ওয়াশিংটনের প্রকৃত চরিত্র উন্মোচন করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে, আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করেছে এবং মানবাধিকারের প্রশ্নেও দ্বৈত নীতি অনুসরণ করেছে।

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত প্রসঙ্গে রেজায়ি স্পষ্ট বার্তা দেন। তিনি বলেন, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের বৈধ অধিকার এবং এটি পরমাণু অস্ত্র তৈরির জন্য নয়, বরং কৃষি, চিকিৎসা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার মতো শান্তিপূর্ণ খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে এই কর্মসূচি বন্ধ করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

তার মতে, পরমাণু অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি (এনপিটি)-এর আওতায় থেকে ইরান যেভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করেছে, ভবিষ্যতেও একইভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, সেই সিদ্ধান্তও একমাত্র তেহরানই নেবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন রেজায়ি। তিনি বলেন, কোনো চুক্তি তখনই সম্ভব যখন ইরানি জনগণের অধিকার আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের আলোকে পূর্ণ সম্মান পাবে। তবে ট্রাম্পের অবস্থান বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় একটি স্থায়ী সমঝোতা নিয়ে তিনি আশাবাদী নন।

রেজায়ির অভিযোগ, ট্রাম্প প্রায়ই ভিন্ন ভিন্ন বার্তা দেন এবং ইসরায়েলের রাজনৈতিক চাপ থেকে নিজেকে আলাদা রাখতে পারেন না। তার ভাষায়, মার্কিন নেতৃত্বের এই অস্থির অবস্থান কূটনৈতিক অগ্রগতির পথে অন্যতম বড় বাধা।

হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হিসেবে পরিচিত এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ইরান গুরুত্বের সঙ্গে পালন করছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত থাকবে, তবে কোনো বৈরী সামরিক উপস্থিতি বা অবরোধের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করে। ফলে এ অঞ্চলে নতুন কোনো সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্র: প্রেস টিভি


দুই সপ্তাহে ‘চূড়ান্ত বিজয়’, নতুন বার্তা ট্রাম্পের

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ০৭:৫১:৫৭
দুই সপ্তাহে ‘চূড়ান্ত বিজয়’, নতুন বার্তা ট্রাম্পের
ছবি: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই ওয়াশিংটন ইরান ইস্যুতে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ‘চূড়ান্ত বিজয়’ ঘোষণা করতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের গতিপথ বদলে দিতে পারে।

মঙ্গলবার (৮ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সমর্থনে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। রিপাবলিকান দলের প্রভাবশালী এই সিনেটর দলীয় প্রাইমারি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন এবং সেই প্রচারণা মঞ্চ থেকেই ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

বক্তৃতায় ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে এবং তেহরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। তার ভাষ্যমতে, ইরান এমন একটি চুক্তিতে সম্মত হতে প্রস্তুত, যেখানে দেশটি পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতিও দিতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে তারা এই সংঘাতে এগিয়ে আছে। ট্রাম্পের মতে, খুব শিগগিরই এমন একটি পর্যায় আসতে পারে যখন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের ঘোষণা দেবে এবং সেটি হবে একটি পূর্ণাঙ্গ সফলতা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, যদি প্রত্যাশিত অগ্রগতি বাস্তবে রূপ নেয়, তাহলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় প্রভাব পড়তে পারে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা কমে গেলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে চাপ কমবে এবং জ্বালানির দাম দ্রুত নিম্নমুখী হতে পারে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ‘দুই সপ্তাহের মধ্যে বড় অগ্রগতি’ বা ‘চূড়ান্ত সমাধান’ ধরনের সময়সীমাভিত্তিক আশাবাদী বক্তব্য ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার দিয়েছেন। বিশেষ করে গত এপ্রিল মাসে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সময়ও তিনি অনুরূপ সময়সীমার কথা উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। সূত্র: সিএনএন


নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ইরানে হামলা বন্ধের চাপ

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৯ ০৭:০৭:১১
নেতানিয়াহুকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, ইরানে হামলা বন্ধের চাপ
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালালে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করা ঠেকাতে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেখানে তিনি ইসরায়েলি নেতৃত্বকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করেন।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নেতানিয়াহুকে স্পষ্টভাবে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপ ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনকে স্বতঃসিদ্ধ ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে ওয়াশিংটনের অবস্থানও পুনর্বিবেচনার মুখে পড়তে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, বৈরুতে ইসরায়েলি হামলার পর ইরান যে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, তার পরপরই উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়। ওই পরিস্থিতিতে তিনি সরাসরি নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলে ইরানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পাল্টা আক্রমণ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান।

ট্রাম্প আরও বলেন, তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানিয়েছে যে তারা আর নতুন কোনো হামলার পরিকল্পনা করছে না। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছে যাতে ইসরায়েলকেও সামরিক অভিযান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত করা হয়। তার মতে, এটি সংকট নিরসনের একটি সম্ভাব্য সুযোগ তৈরি করেছে, যা কাজে লাগানো জরুরি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রধান মিত্র হলেও চলমান সংঘাতকে আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে গড়াতে না দিতে ওয়াশিংটন এখন আরও সতর্ক কৌশল গ্রহণ করছে।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলা শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এমন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ সংঘাত প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। একদিকে ইসরায়েল নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরে সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রেখেছে, অন্যদিকে ইরানও নিজেদের প্রতিরক্ষার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান বজায় রাখছে। ফলে সাময়িক শান্তির ইঙ্গিত মিললেও উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়েছে বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকরা।

-রফিক


ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানে বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করল ইসরায়েল

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ২১:৪৮:০৩
ট্রাম্পের অনুরোধে ইরানে বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করল ইসরায়েল
ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি ও দফায় দফায় অনুরোধের পর অবশেষে ইরানের অভ্যন্তরে চলমান প্রতিশোধমূলক বিমান হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সরাসরি অনুরোধের প্রেক্ষিতেই ইসরায়েল আপাতত ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালাচ্ছে না। তবে একই সঙ্গে ওই কর্মকর্তা কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী শহরগুলো লক্ষ্য করে রকেট ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রাখে, তবে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপশহরগুলোতে (দাহিয়েহ) আবারও বিমান হামলা শুরু করবে আইডিএফ।

চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইরানের ক্ষেত্রে সামরিক অভিযান সাময়িক শিথিল করা হলেও দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলি স্থল ও আকাশ অভিযান আগামী কয়েক দিন পূর্ণ শক্তিতে অনবরত অব্যাহত থাকবে। অবশ্য ইসরায়েলি কর্মকর্তার এই চাঞ্চল্যকর দাবিগুলোর সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং তেল আবিব বা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

এর ঠিক কিছু সময় আগে ইরানের পক্ষ থেকেও ইসরায়েলে তাদের চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ইরানের জরুরি সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ ঘাঁটি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে জানায়, "সশস্ত্র বাহিনীর সাময়িক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হলো।" তবে আইআরজিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননসহ অন্যান্য স্থানে যদি ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ না হয়, তবে পরবর্তী জবাব হবে আরও ধ্বংসাত্মক।

মধ্যপ্রাচ্যের এই নজিরবিহীন উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছিল গত রোববার ভোরে, যখন হিজবুল্লাহর রকেট হামলার জবাবে ইরানের লাল রেখা (রেড লাইন) অতিক্রম করে বৈরুতে বড় ধরনের বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েল। এর প্রতিশোধ হিসেবে রোববার রাতে ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ঝাঁকে ঝাঁকে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ে ইরান।

হামলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার সকালে নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দুই দেশকে অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের নির্দেশ দেন। যদিও প্রথম কয়েক ঘণ্টা ট্রাম্পের এই বার্তা উপেক্ষা করে তেহরান, তাবরিজ ও ইসফাহানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ)। তবে ট্রাম্পের চূড়ান্ত কূটনৈতিক চাপের মুখে সোমবার রাতে এসে দুই পক্ষই সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতির অলিখিত সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হলো, যা পুরো বিশ্বকে এক পারমাণবিক মহাযুদ্ধের হাত থেকে সাময়িক স্বস্তি দিল।

/আশিক


ইসরায়েলে সামরিক অভিযান স্থগিত করল ইরান

বিশ্ব ডেস্ক . সত্য নিউজ
২০২৬ জুন ০৮ ১৮:৩৫:২৫
ইসরায়েলে সামরিক অভিযান স্থগিত করল ইরান
ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির জোরালো আহ্বান এবং তীব্র কূটনৈতিক চাপের মুখে অবশেষে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে—তেল আবিব যদি লেবাননে পুনরায় আগ্রাসন শুরু করে, তবে এবার আরও কঠোর ও বিধ্বংসী আঘাত হানা হবে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে এই যুদ্ধবিরতির খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইরানের এই নাটকীয় ঘোষণার ঠিক কিছু সময় আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের দুই চিরবৈরী দেশকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ ও যুদ্ধবিরতির টেবিলে ফেরার আহ্বান জানান। গত রোববার রাতে দুই দেশের মধ্যে শুরু হওয়া নজিরবিহীন পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলার কারণে গত এপ্রিলে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিটি চরম হুমকির মুখে পড়েছিল।

পরিস্থিতি সামাল দিতে আজ সোমবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করে লিখেন, "ইরান ও ইসরায়েল এখন অবিলম্বে একটি যুদ্ধবিরতির দিকে এগোচ্ছে। কোনো পক্ষের বোকামি যদি মাঝপথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত আলোচনা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে এগিয়ে চলছে।"

এদিকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক যৌথ বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তাদের সবশেষ ক্ষেপণাস্ত্র অভিযান থেকে জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী এবং তাদের পশ্চিমা সমর্থকদের অবশ্যই শিক্ষা নিতে হবে। যদি তাদের আগ্রাসন ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে, তবে পরবর্তী সময়ে আগের চেয়ে আরও অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে সফল সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ইরান এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, "জায়নবাদী ইসরায়েলি শক্তি এবং তাদের লাগামহীন আন্তর্জাতিক আগ্রাসনই মূলত এই আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়ার একমাত্র মূল কারণ।"

ইরানের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি ও অভিযান স্থগিতের ঘোষণার পর ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে এর আগে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) এক উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, তাঁর দেশ ইরানের অভ্যন্তরে কেবল এক দিন নয়, বরং বেশ কয়েক দিন ধরে একটানা বড় ধরনের বিমান অভিযান চালানোর মতো সব ধরনের সামরিক প্রস্তুতি সম্পূর্ণ নিয়ে রেখেছে। ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

/আশিক

পাঠকের মতামত: