হরমুজ সংকটে জাপানের হাই-অ্যালার্ট: পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর টোকিওর

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে জাপান। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ইয়োশিমাসা কিহারা জানিয়েছেন, টোকিও পরিস্থিতির প্রতিটি দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে সব পক্ষ কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুত একটি শান্তিময় সমাধানে পৌঁছাবে।
হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ বা কোনো সামরিক অভিযানে জাপানি বাহিনীর অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কিহারা জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে জ্বালানি আমদানির জন্য হরমুজ প্রণালি জাপানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দেশটি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। অন্যদিকে, এই সংকট দীর্ঘমেয়াদী হওয়ার আশঙ্কায় এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোও বিকল্প জ্বালানি উৎসের সন্ধান শুরু করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যেই তাদের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় হিলিয়াম চড়া দামে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করছে। পাশাপাশি তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ওমানের সাথে আলোচনা চালাচ্ছে যেন হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সরাসরি তেল ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। এশিয়ার অর্থনীতিগুলো এখন আর পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশায় বসে না থেকে নিজ নিজ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিকল্প পথে হাঁটছে।
/আশিক
ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুসহ ১৩ বিশ্বনেতাকে হত্যার ‘হিট লিস্ট’ প্রকাশ করল ইরানের গণমাধ্যম
সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এবার সরাসরি মার্কিন ও ইউরোপীয় শীর্ষ নেতাদের ওপর প্রতিশোধমূলক হামলার এক ভয়াবহ 'হিট লিস্ট' বা লক্ষ্যবস্তুর তালিকা প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় প্রভাবশালী গণমাধ্যম। তেহরানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও কট্টর রক্ষণশীল হিসেবে পরিচিত ‘হামশাহরি’ পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে এই বিস্ফোরক তালিকা ও ইনফোগ্রাফিকটি প্রকাশ করা হয়। এই তালিকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ ইউরোপের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপদস্থ সামরিক-কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের ছবি ও নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তাঁর বাবার হত্যাকাণ্ডের কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকার করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই এই উসকানিমূলক ও চাঞ্চল্যকর তালিকাটি জনসমক্ষে এলো। শনিবার (১১ জুলাই) দেওয়া এক কড়া বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, “প্রতিশোধ আমাদের সমগ্র ইরানি জাতির একক ইচ্ছা এবং এটি যেকোনো মূল্যে অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। এই অপরাধীরা বিছানায় শান্তিতে মৃত্যুবরণ করার ইচ্ছা মনে নিয়েই কবরে যাবে।” নতুন সর্বোচ্চ নেতা তাঁর বিবৃতিতে সুনির্দিষ্টভাবে 'তালিকা' শব্দটির উল্লেখ করলেও সে সময় তিনি জনসমক্ষে কারও নাম প্রকাশ করেননি।
মোজতবার এই অনমনীয় বিবৃতির রেশ ধরে শনিবার গভীর রাতে হামশাহরি তাদের অনলাইন পোর্টালে একটি বিশেষ ইনফোগ্রাফিক প্রকাশ করে, যেখানে বিশ্বের ১৩ জন প্রভাবশালী বিদেশি নেতার ছবি প্রদর্শন করে তাঁদের সরাসরি ইরানের 'টার্গেট' বা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যদিও প্রকাশিত এই বিশেষ হিট লিস্টটি ইরানের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক বা শাসকদের দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত কি না তা নিশ্চিত করা যায়নি, তবে তেহরানের নীতিনির্ধারক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে গণমাধ্যমটির গভীর ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকায় আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এটি চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
হামশাহরির প্রকাশিত ইনফোগ্রাফিকটিতে প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রাখা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং যুক্তরাজ্যের (ব্রিটেন) প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে। এ ছাড়া মার্কিন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ও নীতিনির্ধারক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও রয়েছেন এই তালিকায়। ইউরোপীয় নেতাদের মধ্যে ইরানের এই সরাসরি হিট লিস্টে জায়গা পেয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ, ইতালির কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং জার্মানির বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি (AFP) তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে বাকি ৫ জন নেতার নাম প্রকাশ করেনি। তবে তারা উল্লেখ করেছে, হামশাহরির এই মারাত্মক ইনফোগ্রাফিকটি অনলাইনে প্রকাশ পেয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করলেও, রোববার (১২ জুলাই) প্রকাশিত পত্রিকার মূল প্রিন্ট বা ছাপা সংস্করণে এটি দেখা যায়নি। কূটনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপের পেছনে একটি বড় ভূরাজনৈতিক কারণ রয়েছে।
চলমান পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চলাকালে তেহরান সরাসরি অভিযোগ তুলেছিল যে, ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের ওপর সামরিক আগ্রাসন চালানোর জন্য মার্কিন বাহিনীকে নিজেদের ভূখণ্ড, ঘাঁটি ও আকাশসীমা নির্বিচারে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। ফলে তেহরানের দৃষ্টিতে এই যুদ্ধে ইউরোপীয় নেতারাও ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের প্রত্যক্ষ যুদ্ধাপরাধের সমান সহযোগী, আর সেই কারণেই তাঁদেরও এই প্রতিশোধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
/আশিক
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে বিশ্ব কাঁপানো আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ও প্রভাবশালী কৌশলগত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘দ্য কিলওয়েন গ্রুপ’-এর সম্মানিত চেয়ারম্যান এবং সাবেক তুখোড় মার্কিন নৌ কর্মকর্তা হারলান উলম্যান এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভৌগোলিক ও সামরিক দিক থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের যে একক ও একচেটিয়া প্রভাব রয়েছে, তা পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক রাজনীতির মঞ্চে এক চরম ও কঠিন কৌশলগত ফাঁদে ফেলে দিয়েছে।
কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সাবেক এই মার্কিন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ওয়াশিংটনের যুদ্ধনীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, একেবারে শুরু থেকেই এটি সম্পূর্ণ অস্পষ্ট ও কুয়াশচ্ছন্ন ছিল যে, ইরানের বিরুদ্ধে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত ও চূড়ান্ত লক্ষ্য আসলে কী ছিল। আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে অনেকেই এখন জোরালো প্রশ্ন তুলছেন—ইরানের সাথে এই নজিরবিহীন ও একতরফা যুদ্ধাবস্থা তৈরি করে দিনশেষে হোয়াইট হাউস বা যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কী অর্জন করতে চেয়েছিল, তার কোনো স্পষ্ট জবাব মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কাছে নেই।
হারলান উলম্যানের সূক্ষ্ম সামরিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রতিপক্ষের চেয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ও আধুনিক সমরাস্ত্রের আধিপত্য বহুগুণ বেশি হলেও, সেই বিপুল সামরিক ক্ষমতাকে বাস্তবে একটি টেকসই ‘কৌশলগত সাফল্যে’ রূপান্তর করার ক্ষেত্রে এক চরম ও জট পাকানো সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে পেন্টাগন।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নৌবাহিনীর সামরিক ক্ষমতা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা কি এই বোমাবর্ষণের মাধ্যমে ইরানের ওপর এতটা মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টি করতে পারবে, যার ফলে তেহরান তাদের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্র নীতি কিংবা মার্কিন-বিরোধী মনোভাব রাতারাতি বদলে ফেলবে? আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, মার্কিন সামরিক শক্তি দিয়ে ইরানের আদর্শিক নীতি পরিবর্তন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক সুবিধার দিক থেকে ইরানই যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক ও ভালো অবস্থানে রয়েছে। কারণ, তেহরানকে ওয়াশিংটনের মতো বিশাল যুদ্ধাস্ত্রের বহর নিয়ে হামলা চালাতে হবে না; ইরানকে আন্তর্জাতিক মহলে কেবল এইটুকু প্রচ্ছন্ন হুমকি দিতে হবে যে, ‘প্রয়োজন হলে আমরা জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেব এবং আমাদের পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিনপন্থী প্রতিবেশী দেশগুলোর সামরিক ঘাঁটির ওপর সরাসরি হামলা চালাব।’ ইরানের এই একটিমাত্র মাত্রার হুমকিই বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও হোয়াইট হাউসের ওপর এক নজিরবিহীন ও বিশাল মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করার জন্য যথেষ্ট।
উলম্যানের মতে, ইরানি এই মরণকামড়ের বিপরীতে পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মূলত আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ও বিমান হামলা চালানো ছাড়া স্থলভাগে তেমন কোনো কার্যকর বা বিকল্প সামরিক উপায় নেই। কিন্তু মার্কিন এই উপর্যুপরি বিমান হামলায় যুদ্ধক্ষেত্রে এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বা ফলপ্রসূ ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না, যা চলমান সংকটে দুই পক্ষের কারও জন্যই কোনো ইতিবাচক বা ভালো ভবিষ্যৎ বয়ে আনতে পারে।
সবশেষে এই প্রবীণ সামরিক বিশ্লেষক গভীর উদ্বেগ ও সতর্কবার্তা জারি করে বলেন, বর্তমানের এই সীমিত আকারের সংঘাতটি যেকোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ব্যাপক ও সর্বগ্রাসী ‘বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে’ রূপ নেওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আর সবচেয়ে বড় আশঙ্কার কথা হলো, বর্তমান ভঙ্গুর বিশ্ব অর্থনীতি কোনোভাবেই এই মারাত্মক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও তার ধাক্কা সামাল দিতে মোটেও প্রস্তুত নয়।
নিজের দাবির সপক্ষে বিশ্ব জ্বালানি বাজারের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান তুলে ধরে হারলান উলম্যান বলেন, “সমগ্র বিশ্বে প্রতিদিন যে পরিমাণ খনিজ জ্বালানি ও তেল ব্যবহৃত হয়, তার প্রায় ২০ শতাংশ বা এক-পঞ্চমাংশ একমাত্র এই হরমুজ প্রণালির সরু জলপথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়ে থাকে। মার্কিন-ইরান যুদ্ধের জের ধরে যদি এই আন্তর্জাতিক নৌপথটি মাত্র এক দিন, এক সপ্তাহ, এক মাস কিংবা তার চেয়েও দীর্ঘ সময়ের জন্য সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ বা বন্ধ হয়ে যায়, তবে তার চড়া মূল্য দিতে হবে পুরো বিশ্বকে এবং বিশ্ব অর্থনীতির ওপর তার এক চরম বিপর্যয়কর ও ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা সামলানো অসম্ভব।”
/আশিক
‘প্রতিশ্রুতি না রাখলে মূল্য দিতে হবে’: গালিবাফ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি নতুন করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ‘একমুখী চুক্তির যুগ শেষ। আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম প্রতিশ্রুতি রক্ষা করুন, অন্যথায় তার মূল্য দিতে হবে।’
নিজের বার্তায় গালিবাফ আরও লেখেন, ‘বাস্তবতা এখন দরজায় কড়া নাড়ছে।’ তার এই মন্তব্যকে সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরানের রাজনৈতিক অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
পোস্টের সঙ্গে তিনি একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অংশও সংযুক্ত করেন। সেখানে ৫ নম্বর অনুচ্ছেদে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়টি উল্লেখ ছিল। বিশেষভাবে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে’ এই বাক্যটি হাইলাইট করা হয়, যা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে ইরানের অবস্থানকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এবং ওই কৌশলগত জলপথের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের মতবিরোধই সাম্প্রতিক সংঘাতের অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এখানকার যেকোনো সামরিক উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র চলতি সপ্তাহে টানা তৃতীয়বারের মতো ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে রাতভর সামরিক অভিযান চালিয়েছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। হামলায় সামরিক অবকাঠামো ও প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
অন্যদিকে, মার্কিন হামলার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত কয়েকটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একযোগে হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব অভিযান তাদের প্রতিরক্ষামূলক কৌশলের অংশ এবং দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
-রফিক
মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থার মাঝেই ওমানে মুখোমুখি হচ্ছে আমেরিকা ও ইরান
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান বিধ্বংসী যুদ্ধাবস্থা ও তীব্র সামরিক উত্তেজনার পারদ কিছুটা নামিয়ে আনতে অত্যন্ত আকস্মিকভাবে কূটনৈতিক আলোচনার পথ বেছে নিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ওমানের মাটিতে ইরানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য মার্কিন প্রশাসনের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারক ও কর্মকর্তাদের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন।
মার্কিন শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই স্পর্শকাতর আলোচনার জন্য তাঁর একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের হাই-প্রোফাইল প্রতিনিধি দল গঠন করেছেন। এই বিশেষ দলের নেতৃত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবিলম্বে ওমানের মধ্যস্থতায় ইরানের সাথে কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার (১১ জুলাই) ওমানের রাজধানী মাস্কাটে এই অত্যন্ত গোপন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক উদ্যোগের সমান্তরালে তেহরানও তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা (IRNA) এক বিশেষ বুলেটিনে জানিয়েছে, ওমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর বর্তমান বিপজ্জনক পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে জরুরি আলোচনার উদ্দেশ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ ওমান সফরে যাচ্ছেন।
তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ওমান সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আড়ালে মূলত মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পর্দার অন্তরালে সরাসরি সংলাপে বসাই এই সফরের মূল লক্ষ্য। মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীর ওপর একক নিয়ন্ত্রণই এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মূল ও প্রধান এজেন্ডা।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইরানের বিরুদ্ধে একযোগে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল জুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা ও যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। ওই ঐতিহাসিক ও বিধ্বংসী বিমান হামলায় ইরানের তত্কালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হন, যা দুই পক্ষকে সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে দাঁড় করিয়ে দেয়।
পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে গত জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি যুগান্তকারী সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়, যার অধীনে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সাময়িক যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কাতার ও পাকিস্তানের যৌথ মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে সেই সময় দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকদের মধ্যে সফল ও ফলপ্রসূ আলোচনাও সম্পন্ন হয়।
তবে সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত শান্তি প্রক্রিয়া বিশ্বমঞ্চে বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেনি। গত ৮ জুলাই রাতে হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দায় ও চুক্তি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে ওপার থেকে আকস্মিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেন এবং পুনরায় ইরানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় মার্কিন বিমানবাহিনী।
এর চরম জবাবে হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি ইরানও; তারা জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টারগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এমন এক চরম ও ভয়াবহ পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই আজ ওমানের মাটিতে ফের মুখোমুখি কূটনৈতিক টেবিলে বসতে যাচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই শীর্ষ প্রতিনিধিরা। রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে এই বৈঠক কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পথ তৈরি করতে পারবে কিনা, এখন সেদিকেই গভীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে সমগ্র বিশ্ববাসী।
সূত্র: সিবিএস
ট্রাম্পের হুমকি, ‘ইরানকে নিশ্চিহ্ন করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র’
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানকে ঘিরে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যদি তার বিরুদ্ধে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের গুপ্তহত্যার চেষ্টা করা হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র এমন সামরিক জবাব দেবে যা দেশটির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। একই সময়ে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে, কোনো চাপ বা সামরিক হুমকির মুখে তেহরান আত্মসমর্পণ করবে না।
শনিবার (১১ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তার নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কোনো হামলা বা হত্যাচেষ্টা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র পূর্বনির্ধারিত সামরিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে লক্ষ্য করে বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে ধারাবাহিকভাবে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই নির্দেশ এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং প্রয়োজন হলে এর মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজন দেখা দিলে ইরানের যেকোনো অংশে বৃহৎ পরিসরের সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা রাখে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আবারও টানাপোড়েনের মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষের এমন কঠোর ভাষার বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরান কখনোই কোনো বিদেশি শক্তির কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটি সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
গালিবাফ বলেন, তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই সম্ভাব্য সব ধরনের সামরিক পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি ধরে রেখেছে। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো সমঝোতা থেকে সরে দাঁড়ায় কিংবা নতুন করে আগ্রাসী অবস্থান নেয়, তাহলে ইরান আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সংঘাতের অবসান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইরানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে কখনোই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে না। বরং পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতেই টেকসই সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, সামরিক প্রস্তুতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনার পথ সংকুচিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও পড়তে পারে।
-রফিক
যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? ইরান-মার্কিন চরম উত্তেজনার মাঝে তেহরানে কাতার, টেবিলে কঠিন শর্ত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা হ্রাসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা নতুন করে জোরদার হয়েছে। থমকে যাওয়া দ্বিপাক্ষিক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছে। কাতারের এই দলটি ইরানি নীতিনির্ধারক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করছেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো বর্তমান সংঘাতময় পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে একটি বৃহত্তর ও ফলপ্রসূ আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা। তবে এই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই আমেরিকার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং সদিচ্ছা নিয়ে গভীর সংশয় ও চরম অবিশ্বাস প্রকাশ করেছে তেহরান। বিশেষ করে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পূর্বে সম্পাদিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নে ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন ইরানি কর্মকর্তারা।
তেহরানের এই অনীহা ও গভীর সংশয়ের পেছনে রয়েছে অতি সাম্প্রতিক কিছু নজিরবিহীন সামরিক ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ। সম্প্রতি ইরানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশে আকস্মিক ও ভয়াবহ বিমান হামলা চালায় মার্কিন বিমানবাহিনী। এই হামলায় ইরানের বেশ কিছু কৌশলগত সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু ইরানি নাগরিক হতাহত হন। এই রক্তক্ষয়ী সামরিক আগ্রাসনের পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সেই সমঝোতা স্মারকটি সম্পূর্ণ বাতিলের ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও একমুখী পদক্ষেপের ফলেই ওয়াশিংটনের ওপর থেকে তেহরান সম্পূর্ণ আস্থা হারিয়েছে, যার ফলে কাতারের মধ্যস্থতা মিশন এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
মার্কিন বিমান হামলা ও চুক্তি বাতিলের জবাবে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং দেশটির প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এক বিশেষ বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, মার্কিন চাপ বা যেকোনো ধরনের জবরদস্তিমূলক কূটনীতির কাছে ইরান কখনই মাথা নত বা আত্মসমর্পণ করবে না। উল্টো পরিস্থিতি যদি আরও অবনতির দিকে যায়, তবে দেশ রক্ষায় ইরান এখন ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের’ (Full-scale war) জন্য সামরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা বারবার জোর দিয়ে বলছেন যে, কোনো ধরনের হুমকি বা ব্ল্যাকমেইলের মুখে তারা আলোচনার টেবিলে বসবেন না।
বর্তমান অচলাবস্থা কাটিয়ে ওয়াশিংটনের সাথে পুনরায় আলোচনা শুরু করার জন্য তেহরান অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং কঠোর কিছু শর্তারোপ করেছে। ইরান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, যেকোনো আলোচনার পূর্বে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই পূর্বে বাতিলকৃত সমঝোতা স্মারকের মূল ধারাগুলো অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করতে হবে। এই শর্তগুলোর মধ্যে প্রধান শর্ত হলো—সমঝোতা স্মারকের ১ নম্বর ধারা অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। এর পাশাপাশি ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ ব্যবস্থাপনায় ইরানের সার্বভৌম অধিকারকে পূর্ণ স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল রপ্তানির বৈধ ও অবাধ অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই মৌলিক শর্তগুলো পূরণ না হলে আমেরিকার সাথে কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতা সম্ভব নয়।
জ্বলছে দক্ষিণ স্পেন: এক রূপকথার অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের নারকীয় তাণ্ডব, নেপথ্যে কী?
দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহের মধ্যে স্পেনের পর্যটন স্বর্গ হিসেবে পরিচিত আন্দালুসিয়া অঞ্চল এখন এক জ্বলন্ত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ এই দাবানলে এ পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের নির্মম মৃত্যু হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২৩ জন। আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক নেতা হুয়ানমা মোরেনো এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা রাতদিন অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে একটি বড় অংশই বিদেশী নাগরিক, যার মধ্যে অন্তত চারজন ব্রিটিশ পর্যটক থাকতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করে হুয়ানমা মোরেনো জানিয়েছেন যে, এই আকস্মিক দুর্যোগে তাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত এবং তারা শোকে স্তব্ধ। বর্তমানে আগুনে গুরুতর দগ্ধ ৪ জনসহ মোট ৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের চিকিৎসা চলছে নিবিড় পর্যবেক্ষণে।
এই নারকীয় অগ্নিকাণ্ডের সময় সাধারণ মানুষের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত, যা মৃত্যুর সংখ্যা বাড়িয়ে তুলেছে। আন্দালুসিয়ার স্বাস্থ্য ও জরুরি বিষয়ক মন্ত্রী আন্তোনিও সাঞ্জ জানান যে, আগুন খুব দ্রুত এবং অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করেছিল। উদ্ধারকর্মীরা লস গ্যালার্দোসের নিকটবর্তী বেদার নামক একটি ছোট গ্রাম থেকে একটি ডান-হ্যান্ড ড্রাইভ কার উদ্ধার করেন, যার ভেতর থেকে চারজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তারা ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাকি আটটি মরদেহ উদ্ধার করা হয় বনাঞ্চল ও রাস্তার বিভিন্ন স্থান থেকে, যা দেখে প্রতীয়মান হয় যে তারা মূলত আগুন থেকে বাঁচতে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। মন্ত্রী সাঞ্জ একে আন্দালুসিয়ার ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বিধ্বংসী দাবানল’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রশাসনের নির্ধারিত নিরাপদ ও সঠিক এক্সিট রুট ব্যবহারের পরিবর্তে ভিন্ন পথ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করায় সরাসরি আগুনের মরণফাঁদে পড়ে যান।
ভয়াবহ এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল আন্দালুসিয়ার আলমেরিয়া প্রদেশের লস গ্যালার্দোস এলাকার বনাঞ্চল থেকে, তবে এর নেপথ্য কারণ নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তীব্র দ্বিমুখী বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আঞ্চলিক নেতা মোরেনো জানান, প্রাথমিক আলামত ও তদন্ত অনুযায়ী একটি বৈদ্যুতিক লাইনের খুঁটি ভেঙে পড়ার কারণে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ থেকেই এই আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'এনদেসা' (Endesa) প্রশাসনের এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, ভেঙে পড়া বিদ্যুৎ লাইনটি দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ছিল এবং সেটি কোনোভাবেই তাদের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো লাইন নয়। এই নিয়ে তদন্ত চলমান থাকলেও আগুনের প্রকৃত উৎস নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও কাটেনি।
চলতি গ্রীষ্মে সমগ্র দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১০৪ ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গেছে, যার ফলে দীর্ঘস্থায়ী এই তাপদাহের কারণে ফ্রান্স, পর্তুগাল ও স্পেনের বিভিন্ন বনাঞ্চল একেকটি বারুদের বাক্সে পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পেনের সরকার সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করছে এবং ইতিমধ্যে উপদ্রুত এলাকা থেকে অন্তত এক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ও বেশ কয়েকটি প্রধান সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে স্পেনের মিলিটারি ইমার্জেন্সি ইউনিট ২২০ জন সেনা ও ৭০টি বিশেষ যান মোতায়েন করেছে। এর পাশাপাশি সিভিল গার্ডের আরও ১৬০ জন সদস্য ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধারকাজ ও নিখোঁজদের অনুসন্ধানের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। ১২ জনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এটি স্পেনের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দাবানলে পরিণত হয়েছে, যা ২০০৫ সালে রিবা দে সায়েলিসেস গ্রামে ১১ জন দমকলকর্মীর মৃত্যু এবং ১৯৭৯ সালে লরেত দে মারের দাবানলে ২১ জনের প্রাণহানির মর্মন্তুদ স্মৃতিকে মনে করিয়ে দেয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে তীব্র দাবানল ও চরম তাপদাহের এই ভয়াবহ রূপ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি সরাসরি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ইউরোপীয় জলবায়ু সংস্থা ‘কোপারনিকাস’-এর দেওয়া তথ্যমতে, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে। একই সুর শোনা গেছে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’ গ্রুপের এক গবেষণাতেও। তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, কার্বন নিঃসরণ ও বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি রোধ করা না গেলে ভবিষ্যতে এই ধরণের প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ আরও ঘনঘন এবং আরও মারাত্মক আকারে আঘাত হানবে।
যুদ্ধ থামেনি, আরও বড় হামলার বার্তা দিল ইসরায়েল
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানকে ঘিরে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এখনো শেষ হয়নি এবং সামনে আরও কঠিন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক নেতৃত্বও জানিয়েছে, পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে আরও বড় পরিসরের অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইসরায়েলের হাতজেরিম বিমানঘাঁটিতে বিমানবাহিনীর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আকাশে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা ইসরায়েলের কৌশলগত অগ্রাধিকার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ভারসাম্য রক্ষায় এই সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ইঙ্গিত দেন যে, চলমান সংঘাতকে সমাপ্ত বলে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বরং সামনের সময়কে আরও জটিল বলে উল্লেখ করে তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ধরে রাখার আহ্বান জানান।
একই অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে—এমন ধারণা সঠিক নয়। তার দাবি, নতুন পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় আরও বিস্তৃত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি সেনাসদস্যদের সর্বক্ষণ প্রস্তুত থাকার নির্দেশনাও দেন।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজও একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, প্রয়োজন দেখা দিলে ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বা তৃতীয় দফার সামরিক অভিযান চালানোর সক্ষমতা ইসরায়েলি বাহিনীর রয়েছে। তিনি দাবি করেন, সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় বিমানবাহিনীসহ পুরো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে। এর আগে পাকিস্তরের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে গেছে। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার খবর সামনে এসেছে। ওয়াশিংটন এসব অভিযানের যৌক্তিকতা তুলে ধরলেও তেহরান সেগুলোকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং আগ্রাসী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সেই সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছিল।
-রাফসান
ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার দাবি, কী বলছে ইসরাইল?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা করছে ইরান—এমন দাবি করেছে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা। বিষয়টি নিয়ে ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে আগেই সতর্ক করেছে বলেও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও এ দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার কিংবা ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি, ফলে অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এমন কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছে, যার ভিত্তিতে তারা ট্রাম্প প্রশাসনকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে অবহিত করেছে। ওই তথ্যে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এদিকে সিএনএন-এর এক পৃথক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের শেয়ার করা গোয়েন্দা তথ্যটি শুধু সাধারণ হুমকি নয়; বরং ট্রাম্পকে হত্যার একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মার্কিন কর্মকর্তারা মূল্যায়ন করছেন। তবে ওই পরিকল্পনার প্রকৃতি, সম্ভাব্য বাস্তবায়ন পদ্ধতি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এ পর্যন্ত হোয়াইট হাউস, মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থা কিংবা তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না আসায় অভিযোগের সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এর আগেও ওয়াশিংটন একাধিকবার অভিযোগ করেছিল যে, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে কয়েকটি হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা করেছিল এবং মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সেসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়। যদিও ইরান অতীতেও এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
চলতি সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্ক সফরকালে ট্রাম্প নিজেও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান তাকে তাদের অন্যতম লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে এবং এ কারণে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অবনতি এবং ইসরাইলকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই নতুন দাবি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এমন অভিযোগ সামনে এলে কূটনৈতিক যোগাযোগ, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আরও বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হতে পারে।
তবে এ মুহূর্তে প্রকাশিত তথ্যের বেশিরভাগই গোয়েন্দা সূত্রভিত্তিক দাবি। যেহেতু সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি, তাই ঘটনাটির প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হতে আরও সরকারি তথ্য ও স্বাধীন যাচাইয়ের অপেক্ষা করতে হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিএনএন।
পাঠকের মতামত:
- শেখ হাসিনা দিল্লিতে পালিয়েছে, আপনারা বঙ্গোপসাগরেও জায়গা পাবেন না: পাটওয়ারী
- সাত জেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি, ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১
- ছাত্র দিয়ে এসএসসি খাতা মূল্যায়ন: দেবিদ্বারের আলোচিত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ছাত্র গ্রেপ্তার
- কুমিল্লার বাজারে সবজির দামে আগুন: কাঁচা মরিচ ২৮০ ও টমেটো ২৪০ টাকা কেজি
- ৩০০ পরিবারের জন্য নতুন পাকা ঘর করে দিচ্ছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন
- ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ ও আর্জেন্টিনার রেফারিং সুবিধা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি
- দেশের ৭ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, নতুন করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা
- রেফারিই হারিয়ে দিল আমাদের, এমবোলোর বিতর্কিত লাল কার্ডে ফুঁসছেন মুরাত ইয়াকিন
- বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের ভবিষ্যদ্বাণী: আর্জেন্টিনাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে ইংল্যান্ড!
- শিক্ষকের মর্যাদা যখন প্রশ্নবিদ্ধ: সংকটে শিক্ষাঙ্গন, সংকটে আমাদের ভবিষ্যৎ
- সাত জেলায় বন্যার্তদের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ মাত্র ২৮ টাকা ও ৩ কেজি চাল!
- ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুসহ ১৩ বিশ্বনেতাকে হত্যার ‘হিট লিস্ট’ প্রকাশ করল ইরানের গণমাধ্যম
- প্রত্যর্পণ চুক্তিতে ফিরলে সরাসরি কারাগারে যেতে হবে শেখ হাসিনাকে, ট্রাইব্যুনালের কড়া বার্তা
- মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে বিশ্ব কাঁপানো আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি
- আনোয়ারার বেড়িবাঁধের বরাদ্দের একটি টাকাও দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না: নাহিদ ইসলাম
- তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুখবর: বিনা জামানতে মিলবে ১০ লাখ টাকার ঋণ
- ‘আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন’- রেফারিকে মেসি
- ‘প্রতিশ্রুতি না রাখলে মূল্য দিতে হবে’: গালিবাফ
- রোববার রাজধানীর কোথায় মার্কেট বন্ধ? জেনে নিন
- আজকের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
- প্রাথমিক বৃত্তির ফল আজ, যেভাবে জানবেন রেজাল্ট
- সোনা-রুপার নতুন দাম কার্যকর, জানুন সর্বশেষ তালিকা
- বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিট সুবিধা, তবু কেন অনীহা ব্যাংকগুলোর?
- বন্যার্তদের পাশে সরকার, প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনা
- বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সংখ্যা দ্বিগুণ করল মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়
- ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ছুটছেন বানভাসি মানুষ, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রেড অ্যালার্ট
- ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পিকআপ উদ্ধারের সময় বাসের চাপা, ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু
- দাউদকান্দি পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ২১ ও ১৭ মামলার আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯
- সুইসদের বিপক্ষে অপরাজেয় রেকর্ডের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেমিফাইনালের লক্ষ্যে মেসিরা
- মার্কার অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান: গতির বিচারে ক্রীড়াবিজ্ঞানকে বিস্মিত করছেন মেসি
- ধার-দেনা ও মানসিক চাপ কমাতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেওয়া হচ্ছে রেশন
- মন্তিয়েল বনাম মোলিনা: সুইজারল্যান্ড ম্যাচে রাইটব্যাকে কে পাচ্ছেন সুযোগ?
- চার বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অফিস
- আগামী ১০০ বছরেও বাংলাদেশে আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না: রুমিন ফারহানা
- খিচুড়ি রান্না বা কচুরিপানা দেখতে আমলাদের বিদেশ সফরের যুগ শেষ: শিক্ষামন্ত্রী
- মধ্যপ্রাচ্যে চরম যুদ্ধাবস্থার মাঝেই ওমানে মুখোমুখি হচ্ছে আমেরিকা ও ইরান
- শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তান ভাঙার ইচ্ছা ছিল না: স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ
- খামেনি হত্যার মোক্ষম প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করলেন নতুন সর্বোচ্চ নেতা
- পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো শিল্পকারখানা গড়ার সুযোগ নেই: পরিবেশমন্ত্রী
- ট্রফির চেয়েও বড় কোন ‘উত্তরাধিকার’ খুঁজছেন স্কালোনি? সুইজারল্যান্ড বধের আগে বিশ্বজয়ীর আবেগঘন বার্তা
- ঢামেকে তারেক রহমান, উৎসবমুখর ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
- ট্রাম্পের হুমকি, ‘ইরানকে নিশ্চিহ্ন করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র’
- ঢাকা মেডিকেলে তারেক রহমান, উদ্বোধন করলেন বৃক্ষরোপণ
- মিয়ামিতে মহাদ্বৈরথ: ইংল্যান্ডকে ফেবারিট মেনেও কোন সমীকরণে হুঙ্কার ছাড়ছে নরওয়ে?
- যুদ্ধ নাকি কূটনীতি? ইরান-মার্কিন চরম উত্তেজনার মাঝে তেহরানে কাতার, টেবিলে কঠিন শর্ত
- জ্বলছে দক্ষিণ স্পেন: এক রূপকথার অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের নারকীয় তাণ্ডব, নেপথ্যে কী?
- নাহিদ, আসিফ ও পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নুরের
- টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়
- স্পেন-বেলজিয়াম মহারণ, সেমির টিকিট কার হাতে
- আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম
- ফন্টেইনের ৬৮ বছরের রেকর্ড ভাঙবেন মেসি?
- ‘অন্য ভাষায় জবাব পাবেন’ ট্রাম্পকে কড়া হুঁশিয়ারি দিল ইরান
- তাপপ্রবাহে যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু, এবার ঝড়-বন্যার নতুন শঙ্কা
- আমির-গৌরীর বিয়ে, আলোচনায় গৌরীর সম্পদের পরিমাণ
- ৩৪ ম্যাচের অপরাজিত মরক্কোকে বিদায় দিল ফ্রান্স
- সোনা-রুপার নতুন দাম কার্যকর, জানুন সর্বশেষ তালিকা
- শিক্ষকের মর্যাদা যখন প্রশ্নবিদ্ধ: সংকটে শিক্ষাঙ্গন, সংকটে আমাদের ভবিষ্যৎ
- খামেনির শোক র্যালিতে জনসমুদ্র, প্রতিশোধের লাল পতাকায় মুখর তেহরান
- স্পেন-বেলজিয়াম মহারণ, সেমির টিকিট কার হাতে
- স্বর্ণ কিনতে বাড়তি খরচ, কার্যকর নতুন মূল্যতালিকা
- ৬ জুলাই ২০২৬: শেয়ারবাজারে লাভে থাকা শীর্ষ ১০ শেয়ার
- টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারে ভয়াবহ বিপর্যয়
- নাহিদ, আসিফ ও পাটওয়ারীকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য নুরের
- ‘আমেরিকাই একমাত্র নয়, ভারতের মতো বড় বন্ধু আছে’-ভ্যান্সকে জবাব নেতানিয়াহুর
- ‘আমার সঙ্গে সম্মান দিয়ে কথা বলুন’- রেফারিকে মেসি








